বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

পেল্লাই বাড়ি ছেড়ে হোটেলের
ঘুপচি ঘরে দম আটকে আসে
‘কবে মিলবে বাড়ি, খোলসা করুক মেট্রো’

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর কলকাতায় ১৭০ বছরের তিনতলা বাড়ি। পেল্লাই ইমারত। লম্বা বারান্দার একধারে সারি দেওয়া পরপর ঘর। পরিবার-পরিজন, ভাড়াটিয়া মিলিয়ে সারদিনই গমগম পরিবেশ। সেখান থেকে উঠে এসে ঠাঁই হয়েছে দশ ফুট বাই দশ ফুটে। ছোট-মাঝারি হোটেলের ঘরগুলি এর চাইতে আর কতই বা বড় হবে! এমনই এক ঘরে এখন দিন কাটছে সাউ পরিবারের। তাঁদের জন্য দু’টি ঘর বরাদ্দ হয়েছে। একটিতে থাকছেন বৃদ্ধ দম্পতি রতনলাল সাউ ও ছবি সাউ। অন্য ঘরে দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকছেন সন্দীপ সাউ। এভাবে আর কতদিন? ‘ঘুপচি’ ঘরে দমবন্ধ পরিবেশ থেকে ‘মুক্তি’ চান তাঁরা। তাঁদের দাবি, বড় ঘরের ব্যবস্থা করুক মেট্রো। এভাবে চলতে পারে না।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে যখন প্রথম ফাটল ধরা পড়ল দুর্গা পিতুরি লেনে, তখন একবার ঘরছাড়া হয়েছিল ১৯ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা সাউ পরিবার। টানা তিন মাস হোটেলের ঘরই হয়ে উঠেছিল তাঁদের ‘গৃহকোণ’। ফাটল মেরামতের পর বাড়িতে ফেরার সুযোগ হয়েছিল বটে, কিন্তু আড়াই বছরের মাথায় ফের ঘরছাড়া। আবার ফাটল ঘরের দেওয়ালে। কাঠগড়ায় সেই মেট্রো রেল। সাউ পরিবারের এখন দিন কাটছে ক্রিক রো’র একটি হোটেলে। সত্তর পার করা রতনবাবু সুগারে আক্রান্ত। নিয়মিত ওষুধ খান রক্তচাপের। সমস্যা রয়েছে পায়েও। কথা প্রসঙ্গে বললেন, ‘ঘরে একটা জানলাও নেই। অথচ বাড়িতে পাঁচটা ঘর ছিল। ১৩টা পাখা চলত। এদিক-ওদিক হাঁটাহাঁটি করতাম। এখানে তো হাঁটারও জায়গা নেই। সারাক্ষণ খাটে বসে টিভি’র দিকে তাকিয়ে থাকি। এছাড়া আর উপায় কী?’ খাওয়াদাওয়া নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই তাঁর। বললেন, ‘তিন বেলা খাবার দিচ্ছে ওরা। কিন্তু ওই খাবার কি মুখে তোলা যায়? কতবার বলেছি, একটু নরম ভাত দিও। কথা শোনে না। সবার রান্না একসঙ্গে হয় এখানে। আমাদের জন্য কী ওরা আলাদা করে রান্না করবে নাকি? এসব খেয়ে শরীর আরও খারাপ হচ্ছে।’ একই বক্তব্য ছবিদেবীর গলায়। তাঁর কথায়, ‘শান্তি মতো নিঃশ্বাসটুকু নিতে পারি না। ঘরে নড়াচড়ার বেশি জায়গা নেই। কেমন যেন পায়রার খোপে বাস করছি!’ 
কথা বলতে বলতে সন্দীপবাবু নিয়ে গেলেন পাশের ঘরে। এটাই তাঁর বসার ঘর, ছেলেদের পড়ার ঘর, শোয়ার ঘর। সন্দীপবাবুর স্ত্রী অনিতা সাউ বললেন, ‘ঘরটার অবস্থা দেখুন। হাঁটাচলার জায়গা নেই।’ সন্দীপবাবুর কথায়, এখানে কতদিন থাকতে হবে, জানি না। কবে বাড়ি গড়ে দেবে মেট্রো, তাও কেউ জানে না। এই ঘুপচি ঘরে দুই ছেলের পড়াশোনা করতে সমস্যা হয়। রোজ রোজ হোটেলের খাবার খেয়ে পেট খারাপ হচ্ছে মাঝেমধ্যেই। আরও ঘরের দরকার। কিন্তু কাকে বলব? মেট্রোর লোকেদের তো পাত্তাই মেলে না। কবে বাড়ি ফেরত পাব, স্পষ্ট করে জানাক মেট্রো।’

25th     May,   2022
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ