বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

আজ রাজস্থান ও গুজরাতের আইপিএল ম্যাচ কলকাতায়। সেজে উঠেছে ইডেন গার্ডেন্স। ছবি: দেবাশিস মণ্ডল

কলকাতাকে ট্রানজিট রুট করে
অ্যাভোকাডোর চোরা কারবার
বিমানবন্দরে আটক মায়ানমার
থেকে আসা আড়াই টন ফল

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতাকে ট্রানজিট রুট করে বিদেশ থেকে চোরাপথে আসা দামি ফল অ্যাভাকাডো চলে যাচ্ছে দক্ষিণ ভারত সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বিমানে করেই এই ফল আসছে। বুধবার কলকাতা বিমানবন্দর থেকে আড়াই টন অ্যাভাকাডো ফল বাজেয়াপ্ত করেছে শুল্ক দপ্তর। কোনও কাগজপত্র ছাড়াই এই ফল আনা হয় বলে অভিযোগ। উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে এই ফল কলকাতায় আনা হয়েছিল বেঙ্গালুরুতে পাঠানোর জন্য। এই প্রথম অ্যাভাকাডো ধরা পড়ল কলকাতায়।
এই ফল মূলত আমেরিকায় উৎপাদন হয়। কিছুদিন হল সিঙ্গাপুরে এই ফলের চাষ শুরু করেছে। যার বেশিরভাগটাই করছে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত লোকজন। পশ্চিমী ধারা মেনে গত দু’-তিন বছরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই ফলের চাহিদা তৈরি হয়েছে। যে কারণে চোরাপথে অ্যাভোকাডো আসা শুরু হয়েছে। সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরা কারবারিরা। বিদেশে যারা এই ফলের চোরা কারবারে জড়িত, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে এদেশের চক্রের লোকজন। শুল্ক দপ্তরের অফিসারদের ধারণা, সিঙ্গাপুর থেকে এই ফল কোনও কাগজ ছাড়াই সড়কপথে এসেছে মায়ানমারে। তবে কে বা কারা তা এনেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এরপর তা ট্রাকে তুলে মোর সীমান্ত দিয়ে আনা হয়েছে মণিপুরে। তবে উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে সরাসরি তামিলনাড়ু, কেরল, কর্ণাটক বা মুম্বই, পুনে, দিল্লিতে পাঠানো হচ্ছে না এই ফল। পরিবর্তে বিমানে করে অ্যাভোকাডো আনা হচ্ছে ককাতায়। এখান থেকে বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে তা। এর থেকেই স্পষ্ট, এই শহরই এখন হয়ে উঠেছে অ্যাভোকাডো চোরাচালানের ট্রানজিট রুট।  
কলকাতাকে কেন ব্যবহার করছে অ্যাভাকাডোর চোরা কারবারিরা? শুল্ক দপ্তর সূত্রে খবর, চোরা কারবারিরা বিমানে করে মণিপুর থেকে কলকাতায় নিয়ে আসছে এই ফল। বিমানবন্দরে নামার পর কাছাকাছি কোনও গুদামে তা মজুত করা হয়। তবে যাতে পচে না যায়, তার জন্য একসঙ্গে বেশি ফল আনা হয় না। ভিন রাজ্য থেকে যেটুকু বরাত আসে, সেইমতো অ্যাভাকাডো আনা হচ্ছে শহরে। তারপর বিমানে করেই তা পাঠানো হচ্ছে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে। 
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কোনও চালান বা বৈধ কাগজ ছাড়াই এই ফল এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। কার্গো বিমানে ফল বুক করা হচ্ছে। শুল্ক দপ্তরের অফিসারদের নজরে এসেছে, বিমান সংস্থা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দেখেই সামগ্রী বুকিং করে দিচ্ছে। যদি তারা ঠিকভাবে কাগজপত্র যাচাই করত, তাহলে আগেই ধরা পড়ার কথা। আধিকারিকদের প্রশ্ন, উপযুক্ত কাগজ ছাড়া কীভাবে এই ফল বুক করা হচ্ছে কার্গো বিমানে। এক্ষেত্রে বিমান সংস্থার কোনও কর্মী জড়িত কি না, তা খুঁজে দেখছেন তদন্তকারীরা। কর্মীদের একাংশের মদত ছাড়া এই কাজ করা সম্ভব নয়। 
অফিসাররা জেনেছেন, অ্যাভাকাডো বিক্রির টাকা হাওলার মাধ্যমে এক চোরা কারবারি থেকে অন্য চোরা কারবারির কাছে চলে যাচ্ছে। টাকার হাতবদল হচ্ছে কলকাতার হাওলা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। কোন কোন হাওলা ব্যবসায়ী এই কাজে জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এই সূত্র ধরেই চোরা কারবারিদের টিকি ধরতে চাইছেন অফিসাররা। 

মহার্ঘ অ্যাভোকাডো
পরিচিতি: পেয়ারার মতো দেখতে লম্বাটে এই ফল অত্যন্ত পুষ্টিকর। আদি জন্মস্থান দক্ষিণ মেক্সিকো হলেও আজ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এর ফলন হয়। ওজন ২৫০ থেকে ৭০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।
দাম: পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলের দাম একটু বেশি। ভারতে কেজিপ্রতি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয় অ্যাভোকাডো।
উপকারিতা: হার্ট ভালো রাখতে, দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে, ওজন কমাতে এবং বাতের ব্যথায় অব্যর্থ ওষুধের মতো কাজ করে এই ফল। অ্যাভোকাডোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, ই ও কে, আয়রন, ফাইবার এবং কলার চেয়েও ৬০ শতাংশ বেশি পটাশিয়াম থাকে। ১৮ ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড, ৩৪ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট যা শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে থাকে সাহায্য করে। সেটা আবার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে।
চোরা কারবার: কলকাতাকে ব্যবহার করে মায়ানমার থেকে দক্ষিণ ভারতে অ্যাভোকাডো পাচার করা হচ্ছে। কারণ দক্ষিণ ভারতেই এর চাহিদা বেশি। পেমেন্ট হচ্ছে শহরের হাওলা কারবারিদের মাধ্যমে।

20th     January,   2022
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ