বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

বৃষ্টিমুখর...। মঙ্গলবার গিরিশ পার্কের কাছে তোলা নিজস্ব চিত্র।

লাভ নয়, ঐতিহ্যকে বাঁচাতে
প্রত্যাবর্তন অজন্তা সার্কাসের
যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছে সিঁথির মোড়ে

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: করোনার সময় ভিড় যে তেমন হবে না তা জানাই ছিল। টিকিট বিক্রি না হলে পারিশ্রমিক দিতে পারা সম্ভব হবেনা, এটাও বিলক্ষণ জানা ছিল। এতসব কিছু মাথায় রেখে তাঁবু না ফেলাটাই বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হত।  তবে বাধ সাধল বাঙালির আবেগ। শীতের কলকাতা তাহলে এবারও সার্কাস দেখা থেকে বঞ্চিত হবে? এই কথা ভেবে, লাভ লোকসানের তোয়াক্কা না করে, বাঙালির আবেগকে সম্মান জানাতে এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে দু’বছর পর তাঁবু ফেলল অজন্তা সার্কাস। আগের মতো সিঁথি মোড়ের সার্কাস ময়দানেই  দুপুরের পর রোজ শো চলছে তিনটি করে।
গ্যালারি ভর্তি ভিড়ের ছবি এখন উধাও। সার্কাসের তাঁবুর ভিতরে হাতে গোনা কয়েকজন দশর্ক। সামান্য সংখ্যায় টিকিট বিক্রি। তা দিয়ে লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, আর্টিস্টদের পারিশ্রমিক দিতেই হিমশিম। করোনার জন্য সার্কাসের কলাকুশলীরা বিভিন্ন পেশায় চলে গিয়েছিলেন। কেউ শ্রমিক, কেউ  রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করছিলেন। তাঁদের সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে আবার ময়দানে তাঁবু ফেলেছে অজন্তা সার্কাস। পুজোর পর থেকে শুরু হয়েছিল অনুশীলন। কয়েক মাস গা ঘামানোর পর আবার ময়দানে নেমেছেন সার্কাস আর্টিস্টরা। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিভিন্ন রাজ্যের ৬০ জন আর্টিস্ট রয়েছেন। করোনার জন্য পেটে টান পড়ায় সকলেই নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন। যে যা কাজ পেয়েছেন, তাই দিয়েই সংসার চালাচ্ছিলেন। এবার শীতে সার্কাসের শো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তারপর সব আর্টিস্টকে হুগলির পাণ্ডুয়ায় জড়ো করে শুরু হয় অনুশীলন। দীর্ঘদিন অনুশীলন না থাকায় অনেকেরই সমস্যা হচ্ছিল। তা ঠিক করতে সময় লেগেছে।
প্রতি বছর শীতে সার্কাস বসে এই মাঠে। এ জন্য সিঁথির মোড়ের এই মাঠের নামই হয়ে গিয়েছে, সার্কাস মাঠ। করোনার আগে সব শো-এ ভিড় উপচে পড়ত। টিকিট কাউন্টারে লম্বা লাইন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শেষবার সার্কাস বসেছিল এখানে। তারপর করোনার জন্য ২০২০ সালে হয়নি। সরকারের অনুমতি নিয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে এখানে সার্কাস বসেছে। প্রথম থেকেই অল্প ভিড় হচ্ছিল। শেষ পেরেকটা ফুটল জানুয়ারির শুরু থেকে জারি হওয়া বিধি-নিষেধ। এর জেরে সেই ভিড়েও ভাটা। গ্যালারি মিলিয়ে সাড়ে তিন হাজার দর্শক বসার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। মোট আসনের তিন থেকে পাঁচ শতাংশের বেশি দশর্ক কোনও দিনই হচ্ছে না। সার্কাসে গিয়ে দেখা গেল, সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে দশর্কদের ভিতরে ঢোকানো হচ্ছে। মাস্ক বাধ্যতামূলক। হাতে দেওয়া হচ্ছে স্যানিটাইজার। কেউ মাস্ক পরে না এলে কর্তৃপক্ষই তাঁদের মাস্ক দিচ্ছে। সেই সঙ্গে কোভিড বিধি মেনে চলার জন্য কর্তৃপক্ষের তরফে ভিতরে নানা সচেনতামূলক পোস্টারও দেওয়া হয়েছে। দশর্করাও অবশ্য বিধি মেনেই ভিতরে ঢুকছেন।
অজন্তা সার্কাসের ম্যানেজার মাইকেল কিশোর দাস বলেন, আমাদের শো করার অনুমতি দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে অনেক ধন্যবাদ। গত দু’বছর সার্কাস বন্ধ ছিল। করোনার জন্য করা যায়নি। আবার অনেক কষ্টে আর্টিস্টদের নিয়ে এসে শুরু করেছি। সার্কাস সবার কাছে একটা নস্টালজিয়া। ছোটবেলার স্মৃতি। তাই অর্থকরী লাভের জন্য শুধু নয়, বাঙালির সার্কাসের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে অনেক কষ্ট করে আবার সিঁথির ময়দানেই সার্কাস করছি। আমরা মানুষের ভালবাসায় এভাবেই সার্কাসকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই।

18th     January,   2022
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ