বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

বিরিয়ানির একটি হাঁড়ির জন্য অপহরণ?
অবশেষে রহস্যের জট ছাড়াল পুলিস

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একটি বিরিয়ানির হাঁড়ি। সেটি ঘিরে বচসা। তা থেকে হাতাহাতি। তারপর অপহরণ। এই ঘটনা ঘিরে টানটান উত্তেজনা। পরতে পরতে রহস্য। কলকাতা পুলিসের কন্ট্রোল রুম, গরফা থানা, ট্রাফিক গার্ড, নাকা চেকিং পয়েন্টগুলিতে বেজে গেল ফোন। অপহৃতের খোঁজে গাড়ির নম্বর ধরে ধরে চলল তল্লাশি। শেষে মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে উদ্ধার অপহৃত। ধরা হল অপহরণকারীকেও। প্রায় দিনভর একটি বিরিয়ানির হাঁড়ি নাকানিচোবানি খাওয়াল সকলকে। 
‘হাঁড়ি নিয়ে হুলস্থুল মশাই। লালমোহনবাবুর রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজ একেবারে’-সব মিটে যাওয়ার পর বললেন এক পুলিসকর্মী। এই কাণ্ডের পিছনে কিন্তু ঘটনাটা বেশ মজাদার, বক্তব্য আর একজনের। কী হয়েছিল?
বন্ধু রোশন সিংকে বিরিয়ানির হাঁড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন গরফা এলাকার এক ডেকরেটর। তাঁর নাম বাবু। এই হাঁড়িটি আবার অন্য একজনকে ভাড়ায় দিয়ে দেন রোশন। বন্ধুর কাছ থেকে বারবার নিজের হাঁড়িটি ফেরত  চাইছিলেন বাবু। কিন্তু কিছুতেই ফেরত পাচ্ছিলেন না।  শুক্রবার বিকেলে রোশন এর কাছে চলে আসেন তিনি।  জানতে চান, হাঁড়ি কোথায়। কথায় কথায় রোশন বলে ফেলেন, এই হাঁড়ি তিনি অন্য একজনকে ভাড়া দিয়ে দিয়েছেন।  যিনি ভাড়া নিয়েছেন তিনিও ডেকরেটর এর ব্যবসা করেন। ওই ব্যক্তি এখন হাঁড়ি ফেরত দিচ্ছেন না। একথা শোনার পর মেজাজ হারান বাবু। তাঁর  হাঁড়ি অন্য কাউকে কি করে ভাড়া দিল রোশন? কৈফিয়ত চান। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসা বেধে যায়। এরপর বন্ধুটিকে বাড়ি থেকে একপ্রকার টেনে বের করে নিজের গাড়িতে তুলে  হাঁড়ি খুঁজতে বের হন। 
ওইদিনই রোশনের এক দাদা বিহার থেকে কলকাতায় আসেন। তিনি ভাইয়ের বাড়িতে ছিলেন।  ঝামেলার পর ভাইকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটির পুরোটা তিনি জানলা দিয়ে দেখেন। তাঁর নিশ্চিত ধারণা হয়, রোশনকে গাড়িতে তুলে অপহরণ করেছে ভয়ঙ্কর অপরাধীরা। তিনি ১০০ ডায়ালে ফোন করেন।  পুলিসকে ভয়াবহ ঘটনাটির বিবরণ দেন। কন্ট্রোল রুম তাঁর লোকশেন জেনে গরফা থানায় যোগাযোগ করে। শুরু হয় অপহৃতকে উদ্ধার করার অপারেশন। 
প্রথমেই অপহরণকারীর গাড়ির নম্বর পাঠানো হয় ট্রাফিক গার্ডগুলিতে। রাস্তায় নাকা চেকিং এর দায়িত্বে থাকা অফিসারদের কাছেও নম্বর পাঠিয়ে চোখে পড়লেই গাড়িটি ধরার ইনস্ট্রাকশন দেওয়া হয়। অন্যদিকে রোশনের ফোন নম্বর তাঁর দাদার কাছ থেকে নেয় পুলিস। টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে তাঁর খোঁজ মেলে। রোশনকে ফোন করে পুলিস। সে ধরেও নেয়। তার অবস্থান জেনে এরপর যোগাযোগ শুরু করা হয় অপহরণকারী সঙ্গে। পুলিসের ফোন আসার পর বিষয়টা গোলমেলে হয়ে গিয়েছে বুঝতে পেরে কপালে ঘাম জমে যায় বাবুর। কালবিলম্ব না করে গাড়ি নিয়ে সটান হাজির হন থানায়। সঙ্গে রোশন।
এরপর অবশ্য অপহরণের রুদ্ধশ্বাস কাহিনিতে দাঁড়ি। পুলিস কথা বলে বুঝতে পারে তাঁরা দুজনেই বন্ধু। কেউ কাউকে অপহরণ করেননি। নিখোঁজ একটি বিরিয়ানির হাঁড়ি খুঁজতে তাঁরা বেরিয়েছিলেন। রোশনের দাদা ভয় পেয়ে গিয়ে ফোন করেছেন। যা ঘিরে দিনভর টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। রোশন 
পুলিসকে জানান, বাবু তাঁকে অপহরণ করেননি। বাবুও জানিয়ে দেন, রোশন এর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগই নেই। এরপর পুলিস একটি জেনারেল ডায়েরি করে দু’জনকে ছেড়ে দেয়।  তাঁর বিরিয়ানির হাঁড়িটার একটা গতি করে দেওয়ার জন্য পুলিসকে বারবার অনুরোধ করেছেন বাবু। সেটি যে অন্য একজনকে ভাড়া দিয়ে রোশন ঠিক কাজ করেন নি, এই অভিযোগও মৃদু স্বরে জানিয়ে এসেছেন।

17th     January,   2022
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ