বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

আজ রাজস্থান ও গুজরাতের আইপিএল ম্যাচ কলকাতায়। সেজে উঠেছে ইডেন গার্ডেন্স। ছবি: দেবাশিস মণ্ডল

কর্মহীন বাবা, সংসার চালাতে
গঙ্গাসাগরে কৃষ্ণ সাজে কিশোর

সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বলা হয় কপিলমুনি নাকি সাক্ষাৎ শ্রী বিষ্ণুর অবতার। মকরসংক্রান্তির এই উৎসবের লগ্নে তাঁর আশ্রমে হঠাৎ যদি শ্রীকৃষ্ণ সশরীরে এসে সাক্ষাৎ দেন তাহলে ভক্তদের আবেগ দ্বিগুণ হয়ে উঠে বইকি। ভক্তিভাবের পাতা থেকে বেরিয়ে বাস্তবের গঙ্গাসাগরে এক কিশোর কৃষ্ণকে সত্যি সত্যিই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সমুদ্রতটে দাঁড়িয়ে থাকা এই কৃষ্ণকে ঢেলে প্রণামী দিচ্ছেন মানুষ। কেউ কেউ প্রণাম ঠুকছেন। সব মিলিয়ে উত্তেজনা কম নয়। আর যাকে ঘিরে এত কথা সেই কৃষ্ণ বলছেন, ‘করোনার সময় বাবার কাজ গিয়েছে। খেতে পাচ্ছিলাম না আমরা। কৃষ্ণ সেজে এখন কিছু রোজগার হয়। সেই টাকা দিয়েই সংসার চলছে আমাদের।’ 
গঙ্গাসাগরের কৃষ্ণটির নাম দেব। বাবা মিঠুন দলুইয়ের সঙ্গে এসেছে সাগরে। কৃষ্ণ সেজে দু’পয়সা রোজগার করতেই ডায়মন্ডহারবারের রাধানগর থেকে আসা তার। বাড়িতে মা আছেন, আছে বয়সে অনেকটা ছোট এক বোন। করোনা বাবাকে কর্মহীন করেছে। আর রামকৃষ্ণপুর হাই স্কুলের ক্লাস সিক্সের দেব সংসারের জোয়াল কাঁধে তুলে নিয়েছে। ফলে লেখাপড়া শিকেয়। গঙ্গাসাগর শুধু নয়, রাজ্যের অন্যত্রও মেলা হলে পৌঁছে যায় ছেলেটি। তার সাজপোশাকের সরঞ্জাম নিয়ে সঙ্গে যান মিঠুনবাবু। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, কিশোর এক বহুরূপীর যাত্রাপথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে করোনা। সাগরতটের দু’নম্বর রাস্তা। সেটি সোজা চলে গিয়েছে কপিলমুনির মন্দিরের দিকে। মেঘলা আকাশ. সাগর বয়ে আসা হাওয়া কনকনে, কাঁপুনি ধরানো। সেই ঝোড়ো বাতাসের কামড় উপেক্ষা করে বছর বারোর দেব ছ’ঘণ্টা ধরে ঠায় প্রায় অবিচল দাঁড়িয়ে। পরনে সাদা চকচকে ধুতি। গলার নীল রঙচঙে উড়নি কোমর ছাড়িয়ে নেমেছে। খালি পা। মাথায় সোনালি মুকুট। হাতে বাজুবন্ধ। গলায় ঝুটো মুক্তোর ছড়া। টানা পাঁচ ঘণ্টা ধরে কিশোর ছেলেটি নট নড়নচড়ন অবস্থায় ঠায় দাঁড়িয়ে। আলতামাখা পা ভিজে বালি আঁকড়ে স্থির। চোখ মাটির দিকে নামানো। হাতে বাঁশি। প্রবল শীতেও হাতে কাঁপন দেখা যাচ্ছে না। 
তাকে ঘিরে এক একসময় সেলফি তোলার ভিড় জমছে। কোনও সময় একবারেই ফাঁকা। কেউ এসে বুকে টাকা আটকে চলে যাচ্ছেন। দেবের হেলদোল নেই কোনও কিছুতেই। ও নিষ্কম্প, প্রায় নিথর। বারো বছরে ছেলেটি বিলক্ষণ জানে, ওকে নড়তে নেই। ও নড়ে গেলে সংসারটাও নড়ে যাবে। ছোট বোনটা খেতে পাবে না। না খেয়ে থাকতে হবে মা বাবাকেও। দেব মেলায় মেলায় ঘোরে কৃষ্ণ সেজে। স্কুল এখন বন্ধ। করোনা কাটলে খুলবে একদিন। কিন্তু সেই স্কুলে আর যাওয়া হবে কিনা জানা নেই তার। তথ্য বলছে, করোনার প্রভাব স্কুল ছুটের সংখ্যা বাড়িয়েছে দেশে। দেব সেই তথ্যে সংযোজিত আর একটি সংখ্যা।  নিজস্ব চিত্র

15th     January,   2022
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ