বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

নোদাখালির বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ
ফরেন্সিকের, খোঁজ নিচ্ছে এনআইএ
বিস্ফোরণের ২৪ ঘণ্টা পরেও থমথমে গ্রাম

সংবাদদাতা, বজবজ: বিস্ফোরণের ২৪ ঘণ্টা পরেও থমথম করছে নোদাখালির মোহনপুর গ্রাম। যে বাড়িকে ঘিরে এত কাণ্ড, সেটিকে ব্যারিকেড করে রেখেছে পুলিস। বৃহস্পতিবার ওই বাড়ি তথা বেআইনি বাজি কারখানা ঘুরে দেখেছেন ফরেন্সিক দলের সদস্যরা। তাঁরা বাড়ির বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের সঙ্গেই বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করেন বম্ব স্কোয়াডের সদস্যরা। আশপাশের বাড়ির কৌতূহলী মানুষ মাঝে মধ্যে উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিসের কড়া নজরদারির কারণে ঘেঁষতে পারেননি কেউ। এদিকে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। রাজ্য বিজেপি’র সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এদিনই এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। তারপরই নড়াচড়া শুরু করেছে এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।  
বুধবার সকালে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা নোদাখালি। এই থানা এলাকার মোহনপুর গ্রামে একটি বাড়িতে আচমকা বিস্ফোরণ হলে তিনজনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে বাড়ির মালিকও রয়েছেন। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর তিনবার বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ওই তিনজনের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। উড়ে যায় বাড়ির কংক্রিটের ছাদও। জানা গিয়েছে, ওই বাড়িতেই প্রচুর বারুদ ও বিস্ফোরক মজুত করা ছিল। সেখানে বিনা লাইসেন্সেই চলত বাজি তৈরি।
ওই বাড়িতে সত্যিই কি বাজির মশলা মজুত ছিল, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির হাত রয়েছে, এই প্রশ্নেই দ্বিধাবিভক্ত মোহনপুর। অনেকেই বলছেন, শক্তিশালী বিস্ফোরক না থাকলে ভয়াবহতা এতটা হতো না। দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকেও শোনা গিয়েছে বিস্ফোরণের আওয়াজ। আবার গ্রামবাসীদের একটি অংশ জোরের সঙ্গেই বাজির মশলার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের কথায়, এখানে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বহুদিন ধরেই বাজি তৈরি হতো। সম্ভবত বাজির সেই মশলাই বিস্ফোরণের মূল উৎস। তবে এদিন গ্রামবাসীদের কেউ কেউ মুখ খুললেও তাঁদের চোখেমুখে ছিল আতঙ্ক।
এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ফরেন্সিক দল ও বম্ব স্কোয়াডের সদস্যদের প্রাথমিক অনুমান, শব্দবাজির প্রচুর মশলা মজুত করা হয়েছিল এখানে। সেগুলি ড্রামে ভরেই রাখা হয়েছিল। তবে তার মধ্যে অন্য কোনও বিস্ফোরক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ওই দলের এক সদস্য বলেন, আগুনের কোনও স্ফুলিঙ্গ কোনওভাবে বারুদের ভাণ্ডারে গিয়ে পড়েছিল, আর তা থেকেই এই বিপত্তি। এদিন তদন্তকারী দলের সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। জানার চেষ্টা করেন প্রকৃত ঘটনা। এখানে কী কী ধরনের বাজি তৈরি হতো, তাও জানতে চান তাঁরা। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অঞ্চলে এমন আরও বেআইনি বাজির কারখানা থাকলেও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে ওই সব জায়গায় বাজির আরও মশলা মজুত থাকতে পারে। পুলিস প্রশাসনকে বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই জেলা প্রশাসন, দমকল ও পরিবেশ দপ্তরের আধিকারিকরা ওই এলাকা যৌথ পরিদর্শন করবেন বলে জানা গিয়েছে। এই বিস্ফোরণ নিয়ে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি’র ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুফল ঘাটু বলেন, কলকাতা পুরসভা ভোটের আগে এই বিস্ফোরণ বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখানে তৈরি বোমাই কি পুরভোটে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিল শাসকদল? এই অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন বজবজ ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বুচান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে বিজেপি। ফরেন্সিক দল জানিয়েছে, বাজির মশলা থেকেই এই বিস্ফোরণ হয়েছে।

3rd     December,   2021
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ