বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকার রঙের আলোয় সেজেছে জিপিও। ছবি: সায়ন চক্রবর্তী

পুরভোটের তাপে ফুটছে
রাজেন্দ্রর ‘দুয়ারে চা’

স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: দুয়ারে সরকার, দুয়ারে রেশন থেকে এবার দুয়ারে চা! না, নতুন কোনও সরকারি প্রকল্প নয়। বরং এক সাধারণ চা বিক্রেতার ব্যবসায়িক বুদ্ধির সুচারু প্রয়োগ বলা যেতে পারে। রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে ‘দুয়ারে’ নাম দিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। মানুষের মধ্যে প্রবলভাবে আলোচিত হচ্ছে এই প্রকল্পগুলি। কলকাতা পুরভোটের প্রচার এখন তুঙ্গে। সরকারি প্রকল্পগুলির সাফল্য দাবি করে ভোটভিক্ষা করছেন শাসক দলের প্রার্থীরা। এমন সময়েই দক্ষিণ কলকাতার একাংশে পাল্লা দিয়ে সুপারহিট ‘দুয়ারে চা’। 
সাইকেলে চেপে চলেছেন বছর ২৯-এর এক যুবক। তাঁর গায়ে সাদা একটি টি-শার্ট। তাতে লেখা রয়েছে ‘দুয়ারে চা’। সঙ্গে দেওয়া রয়েছে ফোন নম্বর। ৯০৭৩৫৪১২৪৫ নম্বরে ফোন করলেই মিলবে গরম গরম চা। সাইকেলের হাতলের দু’দিকে ঝুলছে চা তৈরির উপকরণ, কাপ, ফ্লাস্ক ইত্যাদি। এভাবেই রবীন্দ্রসদন, এক্সাইড, বিড়লা তারামণ্ডল, শেকসপিয়ার সরণি এলাকায় ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করেন রাজেন্দ্র নায়েক। ইতিমধ্যেই তিনি এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা থেকে শুরু করে অফিস-কাছারির বড়বাবু থেকে সাধারণ কর্মচারী মহলে রাজেন্দ্রর ‘দুয়ারে চা’ এখন একটি জনপ্রিয় ‘সার্ভিস’। ‘অর্ডার’ এলেই প্যাডেলে চাপ দিয়ে গ্রাহকের দুয়ারে হাজির হচ্ছেন যুবক। এই বিশেষ পরিষেবার জন্য চায়ের দাম যে খুব বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তাও নয়। ৬ টাকাতেই মিলবে এক কাপ চা। কথায় কথায় রাজেন্দ্র বলেন, আমার কিন্তু কোনও ‘ডেলিভারি চার্জ’ নেই। আবার চা খেয়ে ভালো না লাগলে দাম দিতে হবে না বলেও জানিয়ে দিই। 
দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হয়ে হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়ার ইচ্ছে ছিল আদতে ওড়িশার বাসিন্দা রাজেন্দ্রর। সেইমতো বাবাকে রাজিও করান। আর্থিক অনটন থাকলেও কোনওরকমে কিছু টাকা জোগাড় করে কাঙ্খিত কোর্সেই ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। তবে অর্থের অভাবেই পড়াশুনো শেষ করতে পারেননি। তাতে দমে না গিয়ে তিনি উপার্জনের রাস্তা ভাবতে থাকেন। রান্নাবান্না তাঁর অন্যতম ভালো লাগার কাজ। তাই এই লাইনেই কিছু করার চেষ্টা করেন তিনি।  শেকসপিয়ার সরণি থানার পুলিস ক্যান্টিনে একটা কাজ জুটে যায়। সেখানেই চা বানানো শেখেন তিনি। 
রাজেন্দ্রর কথায়, লকডাউনের জেরে সেই কাজেও কোপ পড়ে। কর্মহীন হয়ে পড়ি। রোজগারে টান পড়ায় অবসাদ গ্রাস করে। একটা কাজের জন্য কয়েকজন নেতার কাছেও হন্যে হয়ে দৌড়েছি। কিন্তু কেউ কিছু করে দেননি। এমন অবস্থায় শেকসপিয়ার সরণি থানার এক অফিসার আমাকে সাইকেলে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রির পরামর্শ দেন। আগের মতো না হলেও খুব সামান্য উপার্জন হচ্ছিল তাতে। এমন সময় মুখ্যমন্ত্রীর ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প নিয়ে সংবাদমাধ্যমে, মানুষের মুখে জোর চর্চা শুরু হয়। বাড়িতে বা অফিসে গিয়ে চা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি তখনই আমার মাথায় আসে। 
যেই ভাবা, সেই কাজ। টি-শার্টে ‘দুয়ারে চা’ লেখা ছাপিয়ে ফেলেন তিনি। সঙ্গে ফোন নম্বর দিয়ে তা ছড়িয়ে দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। রাতারাতি এলাকায় জনপ্রিয়তা অর্জন করে ‘দুয়ারে চা’। এখন প্রতিদিন গড়ে ২০০ কাপ চা বিক্রি করেন রাজেন্দ্র। শীতের প্রকোপ আর আসন্ন পুরভোটের উত্তাপ যত বাড়বে, ‘দুয়ারে চা’-এর চাহিদাও পাল্লা দিয়ে বাড়বে বলে আশাবাদী তিনি।
 রাজেন্দ্র নায়েক। -নিজস্ব চিত্র 

30th     November,   2021
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021