বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

মেলা শেষে সাগরে শুরু হল স্যানিটাইজেশন 

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মেলা শেষ হতেই মন্দির চত্বর সহ অন্যান্য জায়গা জীবাণুমুক্ত করতে নেমে পড়ল জেলা প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকেই মন্দির, বাজার, বাসস্ট্যান্ড সহ পুণ্যার্থীদের আশ্রয় নেওয়া বিভিন্ন জায়গা স্যানিটাইজ করা হয়। রবিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলা শেষের ঘোষণা করা হয়েছে। তারপর আর সময় নষ্ট না করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফাই কাজ শুরু করে দেওয়া হয়। জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে জেটিঘাট, পর্যটকদের থাকার লজ, হোটেল ইত্যাদিও। করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখেই এই অভিযান, জানিয়েছেন আধিকারিকরা। এদিনও সকালে মেলা প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের অল্প বিস্তর ভিড় দেখা যায়। মেলা চলাকালে বৃষ্টির কারণে হরেকরকমের সামগ্রী নিয়ে বসা হকারদের ব্যবসা এবার বেশ মার খেয়েছে। তাই বাড়তি কয়েকটা দিন থেকে লোকসানের পরিমাণ কমানোর মরিয়া চেষ্টা করছেন তাঁরা।

অবহেলায় পড়ে অনন্যার দোলনা-খেলনা,
অবলা জীবদের ভরসা এখন প্রতিবেশীরাই

সংবাদদাতা, বনগাঁ: বাড়ির উঠোনে আম গাছে বাঁধা দোলনাটি এখনও ঝুলছে। বন্ধ ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে খেলনা। শোকার্ত পরিবারের অ্যাকুইরিয়ামে রঙিন মাছের দিন কেটেছে উপোষে। কে দেবে তাদের খাবার? তারাও যেন শোকে পাথর। অথচ দু’দিন আগেও খেলার সাথীকে পেয়ে কত আনন্দে ছিল ওরা। অনন্যা নেই। শনিবার রাতে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ছোট্ট অনন্যা। মারা গিয়েছেন অনন্যার মা অনিতা মুহুরি ও পরিবারের আরও অনেকের। ওইদিন প্রিয় বড়মার (বাবার ঠাকুমা) শেষযাত্রায় মা, বাবা, ঠাকুমা, ঠাকুরদা, পিসির সঙ্গে শামিল হয়েছিল ছোট্ট অনন্যা। নদীয়ার হাঁসখালিতে দুর্ঘটনায় পড়ে তাদের গাড়ি। এই ঘটনায় মোট ১৭ জনের মৃত্যু হয়। একরত্তি মেয়ের আদরের পিসি কলেজ পড়ুয়া শ্রাবণী মুহুরিও চলে গিয়েছে না ফেরার দেশে। ঠাকুমা ও ঠাকুরদা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। স্ত্রী, সন্তান, বোনকে হারিয়ে শোকে পাথর অনন্যার বাবা অমিত মুহুরি।
ছোট্ট অনন্যাকে ঘিরেই প্রাণচঞ্চল ছিল মুহুরি বাড়ি। আশপাশের বাড়ির কচিকাঁচারা খেলতে এই বাড়িতেই আসত। খেলার সাথী আর নেই। তাই এদিন আর এই বাড়ির চৌহদ্দি মারায়নি তারা। বাড়ির সামনে দিয়ে কেউ গেলে আদো আদো গলায় ডাকত অনন্যা। মিশুকে মনের হওয়ায় গ্রামের সকলের কাছেই প্রিয় ছিল সে। সোমবার একথাই বলছিলেন প্রতিবেশী আভা দাস। তাঁর কথায়, প্রতিদিন ওদের বাড়িতে যেতাম। আমার ছোট ছেলের খেলার সঙ্গী ছিল অনন্যা। এখন আর ওই বাড়ির সামনে যেতে পারছি না। কী করে যাব! বলতে বলতে চোখ ভিজে এল তাঁর।
বাগদার পারমদন গ্রামের বৃদ্ধা শিবানী মুহুরির মৃতদেহ সৎকার করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় জখম হন বৃদ্ধার ছোট ছেলে স্বপন মুহুরি। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। কোলাহল মুখর বাড়ি একদিনেই পরিণত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে। বাড়িতে লোক বলতে কেউ নেই আর। দু’দিন ধরে উঠোনের ধারে বাঁধা রয়েছে পোষা গোরু দু’টি। খাবার জোটেনি তাদের। সোমবার দুপুরে প্রতিবেশীরাই ভাতের ফ্যান ও সব্জির খোসা নিয়ে আসেন পশু দু’টিকে খাওয়াতে। আভাদেবীই বিচালি মেখে দেন। দু’দিন ধরে খাবার জোটেনি কাঠের কুঠুরিতে থাকা মুরগিগুলির। জলের জন্য ছটফট করছিল ওরা। শেষে এক প্রতিবেশীই জল এগিয়ে দেন ওদের। খাবারও প্রায় শেষ। এই বাড়িতে আবার কবে লোকজন আসবে, কেউ জানে না। এখন অবলা জীবগুলির ভরসা প্রতিবেশীরাই।
অনন্যার আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে প্রতিবেশী বান্ধবী। -নিজস্ব চিত্র

30th     November,   2021
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021