বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

গোসাবায় লড়াই শুরুর আগেই কাঁধ
ঝুলে গিয়েছে বিজেপি নেতা-কর্মীদের
জয়ের ব্যবধান ৭০ হাজারে নিয়ে যেতে চায় তৃণমূল

স্বস্তিনাথ শাস্ত্রী, ক্যানিং : গোসাবায় বিডিও অফিসে ঢোকার মুখেই একটা জমজমাট চায়ের দোকান। জনা কয়েক যুবক সেখানে ব্যস্ত আড্ডায়। তাঁদের বেশিরভাগই ম্যাজিক ভ্যানের চালক। কথায় কথায় আসন্ন উপ নির্বাচনের কথা উঠলে তাঁদেরই একজন শম্ভু মণ্ডল বললেন, চারদিকে যা হাওয়া, তাতে বিজেপি’র যে জেতার কোনও আশা নেই, তা জলের মতো পরিষ্কার। তাছাড়া জয়ন্তবাবু (প্রয়াত বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর) যা কাজ করেছেন, তাতে তৃণমূল অবশ্যই এগিয়ে। এবার মার্জিন বাড়বে বই কমবে না। 
শুধু শম্ভুই নন, গোসাবা বাজারে দোকানদার থেকে শুরু করে পথচলতি মানুষ যাঁর সঙ্গেই কথা হয়েছে, প্রত্যেকের মুখে একই সুর শোনা গিয়েছে। বস্তুত বিজেপি’র হার এখানে সময়ের অপেক্ষা মাত্র। পুজো শুরুর দিন দশেক আগেই উপ নির্বাচনের ডঙ্কা বেজে গিয়েছে। ৮ অক্টোবর ছিল মনোনয়নপত্র পেশের শেষ দিন। পরের দিন অর্থাৎ চতুর্থীতে বিজেপির কর্মিসভা ছিল রাঙাবেলিয়ায়। কিন্তু সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ গোসাবার বিজেপি পার্টি অফিসে পৌঁছে দেখা গেল জনা চারেক স্থানীয় নেতা ছাড়া আর কেউ হাজির নেই। রাজ্যস্তরের নেতারা কখন আসবেন, প্রার্থী কখন এসে পৌঁছবেন, কেউ জানেন না। ফেরিঘাট থেকে তাঁরা রাঙাবেলিয়ায় যাবেন কী করে, সেই গাড়ির ব্যবস্থাও হয়নি তখনও। সবাই হতোদ্যম। বিজেপি’র পার্টি অফিসটি কর্মীদের মানসিক অবস্থারই সাক্ষী দিচ্ছিল যেন। অপরিষ্কার, বিদ্যুৎহীন একটি ঘর। সেখানে দিনের বেলাতেও আধো অন্ধকার। বিজেপির জেলা সম্পাদক সৌমেন কামিলাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, নির্বাচনোত্তর হিংসা কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। ২ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরনোর পর থেকে দলের কর্মীরা বেশিরভাগই ঘরছাড়া। প্রশাসন হিংসা থামাতে কোনও সদর্থক ভূমিকা নেয়নি। কুমিরমারি, কচুখালি, লাহিড়ীপুর, শম্ভুনগর, বালি প্রভৃতি এলাকায় ব্যাপক হিংসা চালিয়েছে তৃণমূল। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সুব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, জনগণ ওদের ‘রিজেক্ট’ করেছে। স্থানীয় কাউকে কেন প্রার্থী করা হল না, তা নিয়ে ওদের নিজেদের মধ্যেই কোন্দল শুরু হয়েছে। এখন সেসব ধামাচাপা দিতে আমাদের বিরুদ্ধে আঙুল তুলছে।
প্রার্থী নির্বাচনের ব্যাপারে তৃণমূল বিজেপিকে দশ গোল দিয়েছে। গোসাবা বিধানসভার অন্তর্গত বালি ১ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান সুব্রত মণ্ডলকে প্রার্থী করাটাই তৃণমূলের মাস্টার স্ট্রোক। নেতা হিসেবে সুব্রতর গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বালি ছাড়িয়ে গোটা গোসাবায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে রায়দিঘির পলাশ রাণাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। গোসাবায় তাঁকে কেউ চেনেন না, এমনকী বিজেপির স্থানীয় কর্মীরাও না। এ বিষয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি সুনীপ দাসের জবাব, আমরা সর্বভারতীয় দল। প্রার্থী ঠিক করা হয় সর্বভারতীয় স্তরে। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই।গোসাবায় ফেরিঘাটের পাশেই এক স্টেশনারি দোকানের মালিক বললেন, স্থানীয় কেউ প্রার্থী হলে বিপদের দিনে ছুটে তাঁর বাড়িতে গিয়ে উঠতে পারতাম। এখানে তো সেই সুযোগও নেই। বিজেপি প্রার্থীর বাড়ি রায়দিঘিতে। ভোট দিয়েই বা কী করব! গোটা গোসাবার মানুষের ভাবনা এখন ঠিক এই খাতেই বইছে। নির্বাচনের ফলাফল কী হতে পারে, জিজ্ঞাসা করায় বিজেপির জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে প্রার্থী, সবার একই জবাব, তৃণমূল চাপা সন্ত্রাস চালাচ্ছে। সন্ত্রাসমুক্ত ভোট হলে জিতব। প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী করেছিল প্রয়াত তৃণমূল বিধায়ক জয়ন্ত নস্করের এক সময়ের ডানহাত হিসেবে পরিচিত চিত্ত প্রামাণিককে। তা সত্ত্বেও জয়ন্তবাবুর সঙ্গে চিত্তবাবুর ভোটের ফারাক ছিল ২৩ হাজারেরও বেশি। ফল বেরনোর পর চিত্তবাবু ফিরে গিয়েছেন তৃণমূলে। তাঁর এলাকা শম্ভুনগরে সেবার বিজেপি ভালো লিড পেয়েছিল। চিত্ত প্রামাণিক ফিরে যাওয়ায় সেই লিড কমবে কি না, প্রশ্ন করায় সুনীপবাবু বললেন, মানুষ চিত্ত প্রামাণিককে ভোট দেয়নি, দিয়েছিল বিজেপিকে। আমাদের ভোট আমাদেরই থাকবে।  উল্টোদিকে তৃণমূল প্রার্থী এবার জয়ের ব্যবধানকে ৭০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। 

19th     October,   2021
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021