বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

অচলাবস্থা কাটাতে এক সাংসদ ও
চার বিধায়ক আসরে, সুরাহা অধরা
আর জি কর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চার বিধায়ক, এক সংসদ। ছিলেন বিধানসভার মুখ্য সচেতক তাপস রায়, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি নির্মল মাজি, পুরসভার অন্যতম কর্তা অতীন ঘোষ, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায় এবং আইএমএর  প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি শান্তনু সেন। কেউ বিনয়ের সঙ্গে জোড়হাতে বলছেন, ‘একমাস সময় দাও মেন্টর গ্রুপকে। তারপরও যদি কোনও প্রতিহিংসামূলক আচরণ দেখো, ফের আন্দোলনে নামবে।’ কেউ বলছেন, ‘আমিও তো আর জি করের প্রাক্তনী। তোমাদের আবেগ বুঝব না?’ কারও বক্তব্য, ‘অধ্যক্ষ প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেবেন, বললেই হল! আমরা কি এত বছর এমনি এমনি রাজনীতি করছি! আমাদের কি চারদিকে চোখ কান খোলা নেই?’ পাঁচ মেন্টর চিকিৎসকের একজন বললেন, ‘পরীক্ষার নম্বর, থিসিসের নম্বর সব তো আমরা দিই। 
অধ্যক্ষ শুধু কাউন্টার সই করেন। তিনি চাইলেই তোমাদের বিরুদ্ধে যা-খুশি ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। রোগীদের কথা ভেবে তোমরা এই কর্মবিরতি তুলে নাও।’ রবিবার দুপুরে রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ মহলের তৎপরতায় এভাবে সিনিয়র বিধায়ক ও সংসদরা ‘বাবা, বাছা’ করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা করলেন। 
তাও রবিবার রাত পর্যন্ত সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই আসতে পারলেন না ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের একাংশ যদিও মনে করছেন, সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট আন্তরিক। যদি আন্দোলনের রাস্তা থেকে সরে সম্মানজনক সন্ধিতে আসতেই হয়, এটাই শ্রেষ্ঠ সময়। আন্দোলনকারীদের অপর অংশ সাড়ে ৫টায় বৈঠক শেষ হওয়ার তিন ঘণ্টা পরও অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে অনড় ছিলেন। মেন্টরদের একাংশের অভিযোগ, ছেলেমেয়েদের সঙ্গে লাগাতার কথা বলার সুফল আমরা অবশ্যই পেতাম। যদি না রাজ্যের এক চিকিৎসক সংগঠনের কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসক কিছু আন্দোলনকারীকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ইন্ধন না দিয়ে যেতেন। ওঁরাই কাঁচা মাথাগুলি চিবোচ্ছেন। পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। 
এদিন দুপুর ৩টে নাগাদ মোহিত মঞ্চে এই চার বিধায়ক, এক সাংসদ ও মেন্টর এবং আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক চলে। সাধারণ মানুষের অসহনীয় ভোগান্তি বন্ধে বারবার ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধ করা হয় আন্দোলন তুলে নেওয়ার জন্য। কিন্তু, রাত ৯টা পর্যন্ত এতেও চিঁড়ে ভেজেনি। বৈঠকের প্রধান আয়োজক আর জি করের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা শ্রীরামপুরের বিধায়ক সুদীপ্তবাবু রাতে বিরক্তির সুরে বলেন, অনেক হয়েছে। সরকার আর কত করবে! এরপরও যদি আন্দোলন না ওঠে, বিষয়টি আমাদের হাতে থাকবে না। মেডিক্যাল কাউন্সিল, রা঩জ্যের সাধারণ বা স্বাস্থ্য প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিলে আমরা আর বাধা দিতে পারব না। দেবও না। মনে রাখতে হবে, এই আন্দোলন তুলতে এনডিএমএ সহ অজস্র কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য আইন আমাদের হাতে রয়েছে। 
তাও সন্তানসম ছেলেমেয়েদের কথা ভেবে তা প্রয়োগ করিনি আমরা। এদিকে লাগাতার আন্দোলনের জেরে হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি বে঩ড়েই চলেছে। দুর্ভোগের আশঙ্কায় অনেকেই আর জি কর ছেড়ে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন এনআরএস, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ বা পিজিতে। রবিবারও ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ মিছিল হয় হাসপাতাল চত্বরে। এই পরিস্থিতিতে আজ সোমবার বিকেল ৪টেয় অনশনস্থলে জমায়েত সফল করার ডাক দিয়েছে রাজ্যের চিকিৎসকদের যৌথ মঞ্চ জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অব ডক্টর্স।  নিজস্ব চিত্র

18th     October,   2021
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021