বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

২৪ ঘণ্টা পরেও জল-যন্ত্রণা
অব্যাহত শহর, শহরতলিতে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃষ্টি থামলেও জলমগ্ন শহরের একাধিক অঞ্চল। দক্ষিণ ও সংযুক্ত কলকাতা থেকে শুরু করে বিধাননগর, নিউটাউন, দক্ষিণ দমদমের বিস্তীর্ণ এলাকার জল থইথই ছবিটা মঙ্গলবারও খুব একটা বদলায়নি।  কোথাও কোমর, কোথাও আবার হাঁটু সমান জল ঠেলে মানুষকে চলাচল করতে হয়েছে। জল জমা রাস্তায় তাই ঠিকমতো চলল না অটো, টোটো কিংবা রিকশ। যা চলেছে, তারাও যথেষ্ট দর হাঁকিয়েছে। নিউটাউন, সেক্টর ফাইভে কর্মসূত্রে বেরিয়ে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন আমজনতা। ২১ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ ফেরে পূর্ব কলকাতার কোনও কোনও এলাকায়। জমা জলে ঠাহর করতে না পেরে পুকুরে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটল শহরে।
সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে শহর ও শহরতলিতে। যদিও, সকাল থেকে খুব একটা ভেজেনি শহর। উত্তর ও পূর্ব কলকাতায় জল প্রায় নেমে গেলেও কলকাতা পুরসভাকে ভুগিয়েছে দক্ষিণ, পূর্ব ও সংযুক্ত এলাকার ওয়ার্ডগুলি। যাদবপুর, প্রিন্স আনোয়ার শাহ, গল্ফগ্রিন, টালিগঞ্জ, কুঁদঘাট, গড়িয়া, মুকুন্দপুর, সন্তোষপুর, পাটুলি, গড়ফা, নয়াবাঁধ, গার্ডেনরিচ, আলিপুর বডিগার্ড লাইন, খিদিরপুর, বেহালার একাধিক এলাকায় মানুষকে এদিন যথেষ্ট ভুগতে হয়েছে। পাম্প চালিয়েও দ্রুত জল নামানো যায়নি। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন জলমগ্ন এলাকা ঘুরেছেন কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের আধিকারিকরা। পুরসভার দাবি, শহরকে ঘিরে ও অভ্যন্তরে সেচদপ্তরের হাতে থাকা নিকাশি খালগুলির নাব্যতা না থাকাতেই জল নামানো যায়নি। 
এই যন্ত্রণার মধ্যেই মাঝরাত থেকেই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় হিমশিম খেতে হয়েছে পূর্ব কলকাতার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াবাঁধের একাধিক এলাকার বাসিন্দাদের। সেখানকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সোমবার রাত পৌনে একটা থেকে এলাকা বিদ্যুৎহীন ছিল। বিভিন্ন আবাসনে পাম্প চালিয়ে জল তোলা যায়নি। সারাদিনের দৈনন্দিন কাজের জন্য ঠিকমতো জল মেলেনি। এই এলাকাতেই রয়েছে বেশ কয়েকটি নামী বেসরকারি হাসপাতালও। অটো-টোটো না চলায় হাসপাতালে আসা রোগী পরিবারগুলিকেও সমস্যা পোহাতে হয়েছে। সিইএসসি’র তরফ থেকে জানানো হয়েছে, জলমগ্ন এলাকায় কিছু জায়গায় ‘ফল্ট’ থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখতে হয়েছে। জল বিপদসীমার নীচে নামলেই বিদ্যুৎ সংযোগ ফের চালু করা হবে। পুরসভাও জানিয়েছে, শহরের জলমগ্ন বিভিন্ন এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ত্রিফলা বাতিগুলি বন্ধ রাখা হয়েছে। জলে অবরুদ্ধ শহরে যাদবপুর-টালিগঞ্জ, আনোয়ার শাহ রুটের একাধিক অটোতে ইচ্ছামতো অধিক ভাড়াও গুনতে হয়েছে যাত্রীদের।  
বৃষ্টির জলে কোথাও কোথাও রাস্তা ও পুকুর সমান হয়ে গিয়েছে। রাতের অন্ধকারে তা ঠাওর করতে না পেরে পুকুরে ডুবে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। সোমবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ সল্টলেকের দত্তাবাদ এলাকার ঘটনাটি ঘটে। মৃতের নাম স্বপন মণ্ডল। স্থানীয়দের মতে, মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন ওই ব্যক্তি। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিস।  
সল্টলেকের ছবিটাও ব্যতিক্রম নয়। একাধিক এলাকার জল এখনও নামেনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেক্টর ফাইভে প্রায় হাঁটুজল ছিল। পরপর দু’দিন জল পেরিয়ে অফিস আসতে নাকাল হতে হয়েছে অফিসযাত্রীদের। পাশাপাশি, এদিন সকালের পর বৃষ্টি কমে গেলেও জলস্তর না নামায় রীতিমত ক্ষোভে ফেটে পড়েন আইটি কর্মীরা। কলেজ মোড়ে কয়েকজন বললেন, সকালে বৃষ্টি থামলেও সন্ধ্যাবেলাতেও জল ঠেলে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এনডিআইটিএ-র দাবি, সমস্ত পাম্প চালিয়ে জল বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। বেশ কিছু ম্যানহোলও খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি বলেই ক্ষোভ নিত্যযাত্রীদের। একইসঙ্গে, এদিনও লেকটাউন, পাতিপুকুর আন্ডারপাস, কালিন্দী, বেদিয়াপাড়া সহ দক্ষিণ দমদম পুরসভার একাধিক এলাকা জলের তলায় ছিল। চিনার পার্ক, হলদিরামের একাংশও জলমগ্ন ছিল। 

22nd     September,   2021
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021