বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

জল যন্ত্রনা

মঙ্গলবারও জলমগ্ন গল্ফগ্রিন রোড। ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ের তোলা ছবি।

লুটের সোনা ডি কোম্পানির
নেপালি এজেন্টদের হাতে

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: এ রাজ্য সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বর্ণঋণদানকারী সংস্থা থেকে  লুট হওয়া সোনা যাচ্ছে দাউদ ইব্রাহিমের ‘ডি’ কোম্পানির নেপালের সিন্ডিকেটের হাতে। নেপাল. থেকে এই সোনা চলে যাচ্ছে বাংলাদেশ, ভুটান সহ বিভিন্ন দেশে। স্বর্ণ ঋণদানকারী বিভিন্ন সংস্থায় হওয়া সাম্প্রতিক ডাকাতি ও লুটের ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। দেশ জোড়া স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় লুটেরা চক্রের মূল পাণ্ডা জেলবন্দি সুবোধ সিংয়ের সঙ্গে ডি কোম্পানির যোগযোগ ঠিক কতটা, তা জানতে এবার তদন্ত শুরু করেছে বিহার পুলিস। এর পাশাপাশি নেপালে লুটের সোনা যাওয়া নিয়ে আলাদা করে খোঁজখবর শুরু করেছে সিআইডিও।
দেশ জুড়ে স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায়.ডাকাতি বা লুটের ঘটনা বাড়ছে। ২০১৯ থেকে ২০২০’র মধ্যে দেশ জুড়ে আটটি স্বর্ণঋণদানকারী সংস্থায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এই রাজ্যের দুটি জায়গায় লুটের ঘটনা ঘটেছে। বাকিগুলি হয়েছে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব মহারাষ্ট্র ও ওড়িশায়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই লুটেরাদের এই গ্যাং অন্ততপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ কেজি সোনা লুট করেছে।  খোয়া গিয়েছে ১৫ থেকে ২০কোটি টাকা মূল্যের সোনা। বিগত পাঁচ বছরে এই লুটের সংখ্যা ২০’ র বেশি। এর বাইরে বেশ কয়েকটি সংস্থায় ডাকাতির চেষ্টা করেছে এই গ্যাং।
এই রাজ্য সহ দেশের অন্যান্য প্রান্তে স্বর্ণ ঋণদানকারী সংস্থায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে। চক্রের মূল পান্ডা বিহারে জেল বন্দি সুবোধ সিং। সে জেলে বসেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় অপারেশন চালাচ্ছে। কোথায় কীভাবে অপারেশন হবে, কতজন থাকবে, কাদের নিয়ে টিম তৈরি হবে, সমস্ত কিছুই সে ঠিক করছে। সেইমতো দেশের বিভিন্নপ্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এজেন্টরা অপারেশনের আগে ছেলে নিয়োগ করছে। যেখানে অপারেশন চালাবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে সেখানে আগেভাবে পৌঁছে যাচ্ছে টিমের সদস্যরা। অপারেশনের দশ মিনিট আগে নির্দিষ্ট জায়গাটি জানিয়ে দিচ্ছে সুবোধ। লুট করা সোনা জমা করা হতো তার কাছেই।
কিন্তু এই সোনা যাচ্ছে কোথায়? কয়েকদিন আগে বিহার পুলিসের হাতে পাকড়াও হয় এ রাজু নামে সুবোধের গ্যাংয়ের এক সদস্য। যাকে পরে নিজেদের হেফাজতে নেয় সিআইডি। এই রাজ্যে বর্ধমান ও শিলিগুড়িতে স্বর্ণ ঋনদানকারী সংস্থায় ডাকাতির ঘটনায় সে জড়িত ছিল। সুবোধের ডান হাত বলে পরিচিত রাজুই তদন্তকারী অফিসারদের কাছে জানিয়েছে, লুটের পর তারা সমস্ত সোনা জমা করে সুবোধের ঘনিষ্ঠ শাগরেদদের হাতে। শাগরেদরাই জেলে সুবোধের কাছে সেগুলি পৌঁছে দেয়। তবে এই সোনা সুবোধ নিজেদের কাছে বেশি দিন রাখে না। 
তদন্তকারীরা বলছেন, নেপালের পোখরা হল ডাকাতি করা সোনা কেনাবেচার মূল কেন্দ্রস্থল। সেই অবৈধ কারবারে জড়িত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুবোধের যোগাযোগ রয়েছে। বিহার সীমান্ত দিয়ে ডাকাতি করা সোনা যাচ্ছে পোখরাতে। তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সুবোধের আলাদা টিম রয়েছে। এই সোনা বিক্রি করে আসা নগদে বা ডলারে পৌঁছে যাচ্ছে মূল পাণ্ডা সুবোধে কাছে।  এভাবেই চলছে গোটা কারবার।
তদন্তে উঠে আসছে, সুবোধের সোনা যারা কিনছে, তারা দাউদের গ্যাংয়ের লোক। এই সোনা নেপালের বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে যাচ্ছে। যেগুলির মালিক বকলমে ডি কোম্পানির লোকজন। তারাই লুট হওয়া সোনার লেনদেনের কাগজপত্র তৈরি করে পাঠিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ বা ভুটানে। তা থেকেই গোয়েন্দারা প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন, সুবোধের সঙ্গে ডি কোম্পানির গ্যাংয়ের যোগ রয়েছে। পাশাপাশি এই সোনা বিক্রি করে দাউদ গ্যাং যে অর্থ রোজগার করছে তা অন্য ব্যবসায় খাটানো হচ্ছে বলে অনুমান করছেন অফিসাররা। কারবারের এই অর্থ কোনওভাবে জঙ্গিদের তহবিলে যাচ্ছে কি না, সেটাও খুঁজে দেখছেন তদন্তকারীরা। 

1st     August,   2021
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021