বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

রঙিন। উত্তর কলকাতার একটি দোকানের বাইরে অভিনব দেওয়াল-চিত্র। -নিজস্ব চিত্র

চাকদহে ছেলের দেহ আগলে ১২ ঘণ্টা
বসে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা, উদ্ধারে পুরকর্মীরা
সাহায্য চাইলেও এগিয়ে আসেনি কেউ

সংবাদদাতা, কল্যাণী: চূড়ান্ত অমানবিকতার সাক্ষী থাকল চাকদহের দেবেন্দ্রপল্লি। ৩ নং ওয়ার্ডের এই এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হয় এক প্রৌঢ়ের। নাম পঞ্চরথী চন্দ (৫৬)। বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গেই তিনি থাকতেন এই বাড়িতে। মা আবার প্রতিবন্ধী। এই বৃদ্ধা ১২ ঘণ্টার উপর ছেলের মৃতদেহ আগলে বসে ছিলেন ঘরে। ছেলের দেহ সৎকারের জন্য অনেক কাকুতি-মিনতি করলেও তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি কেউ। প্রতিবেশীরা তো নয়ই, এমনকী আত্মীয়-স্বজনরা খবর পেলেও করোনা আতঙ্কে ওই বাড়িমুখো হননি কেউ। পুরসভাকে খবর দেওয়া হলেও বেশ কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর শুক্রবার দুপুরে এসে মৃতদেহ নিয়ে যান পুরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।
এই বিষয়ে চাকদহ পুরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুপ্রকাশ বিশ্বাস বলেন, ওই বাড়ির কাছেই হাসপাতাল ছিল। কেন প্রতিবেশীরা কেউ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন না, সেটাই বুঝতে পারছি না। চাকদহ থানার তরফে আমাদের জানানো হয়। এদিন মেডিক্যাল অফিসার আসার পর দেহটি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সম্প্রীতি মঞ্চের কাছেই আভারানি দেবী ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। মায়ের পেনশনের টাকায় সংসার চলত দু’জনের। প্রতিবেশীদের কথায়, ছেলে দিনরাত মদ্যপান করতেন। বৃদ্ধা প্রায় তিন বছর হয়ে গেল কোমর ভেঙে শয্যাশায়ী। তাঁর পায়ের হাড়ও ভাঙা। বৃদ্ধা জানান, বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে ছেলের মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বিছানায় দেহটি পড়ে রয়েছে। আর বৃদ্ধা মা বসে রয়েছেন মাটিতে। নড়াচড়া করার ক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। লোক দেখলেই বলছেন, আমাকে একটু খাটে তুলে দাও। শরীর ভালো নয়। ছেলেটার সৎকারের ব্যবস্থা কর। এর মধ্যেই চাকদহ থানার পুলিস খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে। তারা জানায়, দেহটি দেখে স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই মনে হচ্ছে। তাই পুরসভার কর্মীরা এসে দেহটি নিয়ে যাবেন। পুলিসের তরফ থেকেও পুরসভাকে জানানো হয়। অভিযোগ, এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলও দেখা মেলেনি পুরসভার কর্মীদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওই বৃদ্ধা মাটিতেই বসে থাকেন। অবশেষে বেলা ২টো নাগাদ পুর কর্মীরা এসে দেহটি নিয়ে যান। পুলিস মারফত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন রেড ভলেন্টিয়ার্সরাও। তাঁরাও হাত লাগান দেহ উদ্ধারে। ওই প্রৌঢ়ের করোনা হয়েছিল কি না, তা জানতে পরীক্ষা করা হবে। তাই আপাতত দেহটি মর্গে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃদ্ধাকেও দেখভাল করা হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী অর্চনা চন্দ বলেন, করোনার ভয়ে সবকিছু দেখেও আমরা ভয়ে এগতে পারিনি। পুরসভাকে অনেকবার জানানো হলেও ওরা অনেক দেরি করে এসেছে।

19th     June,   2021
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021