বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়লেও ৫টি ভেন্টিলেটর নষ্ট হচ্ছে বনগাঁ হাসপাতালে

সংবাদদাতা, বনগাঁ: রাজ্যে সংক্রমণের হার সামান্য কমলেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে লাগাম টানতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। সবচেয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা। কলকাতাকে ছাড়িয়ে জেলার মধ্যে শীর্ষে উঠে এসেছে এই জেলা। একই সঙ্গে বাড়ছে করোনায় মৃত্যুর বহর। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজারের কাছে পৌঁছেছে। মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিন। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ শহরের পরিস্থিতিও ক্রমশ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। শুধুমাত্র বনগাঁ পুরসভা এলাকাতেই করোনা আক্রান্ত ২৭২ জন। গতকাল পর্যন্ত শহরে অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ২০২ জন। করোনার  দ্বিতীয় ঢেউয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে রাজ্যে কয়েকটি কোভিড হাসপাতাল চালু হয়েছে। বনগাঁ হাসপাতালে ৫০ শয্যার একটি করোনা ওয়ার্ড চালু হয়। বর্তমানে কোনও বেড খালি নেই সেখানে। করোনা ওয়ার্ডে বেড খালি না-থাকায় আরও কয়েকজন করোনা রোগীকে হাসপাতালেরই অন্যত্র পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। প্রতিদিন হাসপাতালে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। তবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে মৃতের সঠিক সংখ্যা জানানো হয়নি।
বনগাঁবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে করোনা ওয়ার্ড চালু হলেও নেই কোনও ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা। ফলে সঙ্কটজনক রোগীকে অন্যত্র পাঠানো ছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও উপায় থাকে না। ভেন্টিলেশন ওয়ার্ডের অভাবে বহু রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। অথচ হাসপাতালেই পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে ৫টি ভেন্টিলেটর। হাসপাতালে আনার পর থেকে আজও চালু করা যায়নি সেগুলি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গতবছর করোনার সময় স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে বনগাঁ হাসপাতালে ৫টি ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়। কিন্তু একবছরেরও বেশি সময় ধরে তালা বন্দি হয়ে হাসপাতালে পড়ে আছে সেগুলো। এ বিষয়ে হাসপাতাল সুপার শঙ্করপ্রসাদ মাহাতো বলেন, গতবছর করোনা ওয়ার্ড চালু না-হওয়ায় ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন হয়নি। এবছর প্রয়োজন হলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে তা চালু করা যায়নি। হাসপাতাল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অনেকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে টেকনিশিয়ানের জন্য আবেদন জানিয়েও জবাব মেলেনি। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত এক রোগীর আত্মীয় বলেন, তীব্র শ্বাসকষ্ট হওয়ায় রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। অক্সিজেন দেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাকে। ভেন্টিলেশন থাকলে হয়তো মরতে হতো না তাকে। হাসপাতালে একবছরেরও বেশি সময় ৫টি ভেন্টিলেটর পড়ে থাকলেও তা চালু না-হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহরের অনেকেই। শহরের এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বেসরকারি ক্ষেত্রে ব্যবসা চালু রাখার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই সেগুলি চালু করা হয়নি। তাঁর আরও অভিযোগ, মাঝেমধ্যে ইসিজি মেশিন, অল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন খারাপ হয়ে পড়ে থাকে দীর্ঘদিন। এক্ষেত্রেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেগুলি ফেলে রাখা হয় বলে দাবি ওই বাসিন্দার। যদিও এবিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। 

5th     May,   2021
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
9th     May,   2021