বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

বনগাঁ মহকুমার ৪টি আসনেই তৃণমূলের হার কি অন্তর্ঘাতেই, খতিয়ে দেখবে জেলা নেতৃত্ব
সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট পাঠানো হবে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বনগাঁ মহকুমায় দলীয় বিপর্যয় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে বিস্মিত করেছে। রাজ্য তথা জেলাজুড়ে তৃণমূলের অশ্বমেধের ঘোড়া ছুটলেও বনগাঁ মহকুমায় তা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। লোকসভা ভোটের তুলনায় এবার বনগাঁ মহকুমার ফল ভালো হলেও, কেন কাঙ্ক্ষিত জয় এল না, তা নিয়ে সর্বত্র তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। এই বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে জেলার ছয় বর্ষীয়ান নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের এলাকায় গিয়ে সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি করে জেলা নেতৃত্বের কাছে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। সেটা আবার রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হবে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাগরিকত্ব ইস্যুতে গত লোকসভা ভোটে বনগাঁ মহকুমায় বাজিমাত করেছিল গেরুয়া শিবির। এখানকার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে স্বরূপনগর ছাড়া বাকি ছ’টি কেন্দ্রে তৃণমূল বিপুল ভোটে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু নাগরিকত্ব এখনও কার্যকর না হওয়ায় ভোটের আগে মতুয়া সমাজের বড় অংশ ক্ষুব্ধ হয়। তার উপর প্রার্থী নিয়ে বিজেপির অন্দরে গৃহযুদ্ধ মারাত্মক আকার নেয়। আদি বিজেপি কর্মীরা কার্যত ঘরে বসে যান। এই পরিস্থিতিতে বনগাঁ মহকুমায় দলের ভালো ফলের আশা করেছিল জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তার উপর ভোটের ফলাফলে দেখা গিয়েছে, বারাকপুর মহকুমা সহ বিভিন্ন প্রান্তের গেরুয়া শিবিরের শক্ত ঘাঁটিতেও তৃণমূলের জয়জয়কার। হাবড়া ও অশোকনগরেও জয় এসেছে তৃণমূলের। কিন্তু বনগাঁ মহকুমার চার কেন্দ্রে তৃণমূল হেরেছে। হারের প্রাথমিক কারণ হিসেবে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও এক শ্রেণির নেতার অন্তর্ঘাতকে দায়ী করছেন বনগাঁর নিচুতলার কর্মীরা। বাগদার তৃণমূল প্রার্থীর অনুগামীরা দলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী  শ্যামল রায়ের ভাবমূর্তি অত্যন্ত স্বচ্ছ। জেলা নেতৃত্বের বড় অংশের ধারণা ছিল শ্যামলবাবু এবার জয়ী হবেন। কিন্তু তিনি  ১০ হাজার ৪৮৮ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। শ্যামলবাবু বলেন, পুরসভা এলাকায় প্রচারে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। অন্তর্ঘাতের অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছি না। বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে মাত্র দু’হাজার ভোটে তৃণমূল প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। সেখানেও একই অভিযোগ রয়েছে। গা‌ইঘাটাতেও দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চার কেন্দ্রে পরাজয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ কারণ খতিয়ে দেখতে চাইছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। বাগদা কেন্দ্রে হারের কারণ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর গোপাল শেঠকে। গাইঘাটা কেন্দ্রের হারের কারণ খুঁজবেন গোবিন্দ দাস, শঙ্কর দত্ত ও গোপাল শেঠ। বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রের দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে সুরজিৎ বিশ্বাস ও গোবিন্দ দাসের হাতে। বনগাঁ উত্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ নেতা নির্মল ঘোষ ও কৃষ্ণগোপাল বন্দ্যোপাধ্যায়কে। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, আমি হাবড়ার প্রার্থী হওয়ায় বনগাঁ মহকুমার বেশি সময় দিতে পারিনি। এই চার কেন্দ্রের হার নিয়ে দলের মধ্যে নানান প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অন্তর্ঘাতেরও অভিযোগ উঠছে। তাই কারণ খুঁজতে দলীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা পড়লে তা সুব্রত বক্সি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠানো হবে। কোনও অন্তর্ঘাতের সূত্র মিললে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

5th     May,   2021
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
9th     May,   2021