বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

জলমগ্ন... ১) ভিআইপি রোড ২) মধ্য হাওড়ার রাস্তা ৩) মুক্তারামবাবু স্ট্রিট ৪) বরানগর। ছবিগুলি তুলেছেন অতূণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দীপ্যমান সরকার এবং কুমার বসু। 

অক্সিজেন প্রেশারের যন্ত্রে বিভ্রাট
আন্তরিক প্রচেষ্টায় ৩৩ জন করোনা
রোগীকে বাঁচালেন ডাক্তার-কর্মীরা
বেলেঘাটা আইডি

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: যান্ত্রিক বিভ্রাট ছিল মাত্র ১০ মিনিটের। তাতেই প্রাণ চলে যেতে পারত ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি ৩৩ জন রোগীর। অক্সিজেন ম্যানিফোল্ডের বিভ্রাটের জন্য হুড়মুড় করে জীবনদায়ী অক্সিজেনের চাপ কমে গিয়েছিল সিসিইউতে। সেখানে তখন করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলছে। কারও ক্ষেত্রে ভেন্টিলেশন, কারও ক্ষেত্রে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানুলা, কারও আবার বাইপ্যাপের মাধ্যমে অক্সিজেন চলছে। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখারই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এমন পরিস্থিতিতে অক্সিজেনের চাপ কমে যাওয়ায় রোগীদের শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণও কমতে থাকে। এই যায়, সেই যায় অবস্থা! মাথায় হাত পড়ে হাসপাতাল কর্তাদের। কী না কী হয়ে যায়, এই আশঙ্কায় স্বাস্থ্যভবনে ফোন করেন সুপার। তখনই হাসপাতালে আসার তলব পড়ে ইঞ্জিনিয়ারেরও। জীবনমৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চলছে, অবিলম্বে এই ৩৩ জনের প্রাণ বাঁচানো জরুরি—খবর যায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে ডিউটিরত ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছেও। চলে আসেন অনেকেই। আশপাশের ওয়ার্ড থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার টেনে নিয়ে যান ডাক্তার-কর্মীরা। দেওয়া শুরু হয় রোগীদের। প্রাণ বাঁচে তাঁদের। কিছুদিন আগে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। 
হাসপাতাল সূত্রের খবর, এখানকার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে মাঝেমধ্যেই অক্সিজেনের প্রেসার কাঙ্খিত মাত্রার তুলনায় কমে যাচ্ছে। কপালে ভাঁজ পড়ছে চিকিৎসকদের। বিষয়টির রহস্য উদ্ধারে বিশেষজ্ঞরা দু’টি মত জানিয়ে গিয়েছেন আইডি কর্তৃপক্ষকে। একটি হল অক্সি঩জেন ম্যানিফোল্ডের ভালভের সমস্যা। কিছুদিন বাদে এসে তাঁরা আবার জানান, আসলে এখানকার সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপ লাইনের পাইপগুলি সরু। সে কারণে চাহিদামতো অক্সিজেন প্রেসার থাকছে না। ইমার্জেন্সিতে পরিস্থিতিতে কত দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তার মহড়াও হয়েছে। এরই মধ্যে লিকুইড অক্সিজেনের ট্যাঙ্কে অক্সিজেন জমে বরফ হয়ে যাওয়া নিয়ে আর এক প্রস্থ সমস্যা তৈরি হয়েছে এখানে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের ডেকে দিনভর সেই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা চলে শনিবার। বিষয়টি জানানো হয় স্বাস্থ্যভবনেও। শীর্ষকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল এসে পরিস্থিতি খতিয়েও দেখে যান। 
হাসপাতালের সুপার ডাঃ আশিস মান্না ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, সামগ্রিক প্রচেষ্টায় সম্প্রতি বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। চিকিৎসক-কর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে তখনকার বিপদ কাটিয়েছেন। কেন অক্সিজেন প্রেশার কমল, আমরা পরে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, সিসিইউতে এত রোগীর চাপ এবং এত ধরনের যন্ত্রপাতি চলছে, এখন সেখানে অক্সিজেনের এতটাই চাহিদা, মাঝেমধ্যে প্রেশারের সমস্যা হচ্ছে। তবে সমস্যা কাটানোর চেষ্টাও চলছে। অক্সিজেন প্ল্যান্টে বরফ জমার প্রসঙ্গেও একই সুরে আইডি সুপার বলেন, চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় পাইপলাইনের মধ্য দিয়ে অতিরিক্ত অক্সিজেন যাচ্ছে। সেই কারণেই এই সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা চলছে। আইডি অধ্যক্ষা ডাঃ অণিমা হালদার বলেন, ঠিক কী কারণে অক্সিজেন প্রেশার কমছে, কোম্পানির লোকজন আমাদের দু’টি ভিন্নমত দিয়েছেন। আমরা স্বাস্থ্যভবনে জানিয়ে বলেছি, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার দরকার। তাঁকে দিয়ে তদন্ত করিয়ে দেখা 
দরকার, ঠিক কী এই রহস্য। অন্যদিকে, আইডি হাসপাতালে অক্সিজেন প্লান্টে বরফ জমে যাওয়ার সমস্যা মেটাতে সোমবার হাসপাতাল কর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। 

5th     May,   2021
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
12th     May,   2021