বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

কোথাও যেন বাড়িতে দেহ পড়ে না থাকে, 
কো-অর্ডিনেটরদের সতর্কবাণী ফিরহাদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘটনা ১: সপ্তাহ তিনেক আগের ঘটনা। ভবানীপুর অঞ্চলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান এক ব্যক্তি। বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। স্থানীয় চিকিৎসক ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার পর বাড়ির লোকজন সেই দেহ দাহ করার জন্য কেওড়াতলায় নিয়ে গেলে গোল বাঁধে। ওখানে করোনা আক্রান্তদের দেহ পোড়ানোর নিয়ম নেই। ফলে শেষকৃত্য করতে অস্বীকার করে কেওড়াতলা শ্মশান কর্তৃপক্ষ। হয় তুমুল গণ্ডগোল। সারা রাত সেই দেহ পড়ে থাকার পর অবশেষে পুরসভার তৎপরতায় পরের দিন সকালে নিমতলায় দাহকার্য হয়।
ঘটনা ২: একই ঘটনার সাক্ষী কসবা। সেখানে করোনা আক্রান্তের মরদেহ ২৪ ঘণ্টা বাড়িতে পড়ে থাকার পর সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে পুরসভা লোক পাঠিয়ে তড়িঘড়ি তুলে নিয়ে যায় এবং ধাপায় মৃতদেহ পোড়ানোর ব্যবস্থা করে।
ঘটনা ৩: দিন দুয়েক আগে বেহালার সখেরবাজার অঞ্চলে করোনায় আক্রান্ত ছেলের মরদেহ আগলে বসেছিলেন অশীতিপর বাবা। ২১ ঘণ্টা এভাবেই পড়ে ছিল দেহ। পরে পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দাহ করার ব্যবস্থা করা হয়।
মাস খানেক ধরে শহরে এমন একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। কখনও সঠিকভাবে যোগাযোগ করতে না পারা, কখনও আবার শববাহী গাড়ির অভাব, পুরসভায় যোগাযোগ করলেও সাহায্য না পাওয়ার অভিযোগ—এমন বহু ঘটনায় চিন্তিত প্রশাসন। মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার পুরনো প্রশাসক বোর্ডকেই ফের নিযুক্ত করেছে নবান্ন। আবারও মুখ্য প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এদিন বিকেলে ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটরদের সঙ্গে রক্সি সিনেমা হলে বৈঠক করেন তিনি। সেখানেই দীর্ঘক্ষণ বাড়িতে মৃতদেহ পড়ে থাকার বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিন ফিরহাদ হাকিম বলেন, প্রশাসকমণ্ডলী গঠন করে সব কো-অর্ডিনেটরকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাতে লাগাতার সচেতনতার প্রচার চালানো যায়। কোথায়ও যেন মৃতদেহ পড়ে না থাকে, সেটা খোঁজ রাখতে হবে। চিকিৎসকের সার্টিফিকেট না থাকলে তার ব্যবস্থা করতে হবে। অ্যাম্বুলেন্স না পেলে পুরসভাকে বলে তার  ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এই কাজ কো-অর্ডিনেটররা না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে। প্রচারের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। 
ঠিক হয়েছে, বাড়িতে মরদেহ পড়ে থাকার মতো ঘটনা বন্ধ করতে হবে। খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বা বরো কো-অর্ডিনেটর পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই মরদেহ তোলার ব্যবস্থা করবেন। সেটা পাঠানো হবে পিস ওয়ার্ল্ডে। করা হবে করোনা টেস্ট। পজিটিভ হলে নিয়মমতো পুরসভাই শেষকৃত্য সম্পন্ন করবে। আর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ হলে স্থানীয় ডাক্তারকে দিয়ে মৃত্যু শংসাপত্র বানিয়ে পরিবারের হাতে মরদেহ তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বাড়িতে মরদেহ পড়ে থাকার অভিযোগ যেন আর না ওঠে সেই ব্যাপারে কো-অর্ডিনেটরদের সতর্ক করে দিয়েছেন ফিরহাদ। জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া হচ্ছে তিনটি বিশেষ নম্বর। বেড, অক্সিজেন ও মরদেহ তোলার ব্যবস্থা— তিনটি পৃথক নম্বরে ফোন করে এই কাজ করা হবে। 
কো-অর্ডিনেটরদের সঙ্গে বৈঠকের আগে কলকাতা পুরসভায় বসেছিল প্রশাসকমণ্ডলীর বৈঠক। ভোট পর্বে লাগামহীন সংক্রমণ ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যেই। কলকাতাও তার বাইরে নয়। প্রতিদিনই লেগে রয়েছে মৃত্যু মিছিল। শহরের একাধিক শ্মশানে অধিকাংশ চুল্লি দিনরাত 
চলছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে রাশ টানাই এখন পুরসভার লক্ষ্য। 

5th     May,   2021
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
9th     May,   2021