বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

‘ঘরের মেয়ে’ হতে চান লাভলি, অঞ্জনা
দু’জনেই, ভোট বাড়ানোর লক্ষ্য শুভমের
কেন্দ্র: সোনারপুর দক্ষিণ

সৌম্যজিৎ সাহা, সোনারপুর: সন্ধ্যা নামলেই চোখ চলে যায় টিভির পর্দায়। চলতে থাকে একের পর এক সিরিয়াল। ঘরে ঘরে যেন পৌঁছে যান টেলি তারকারা। তাঁদের নাম মুখে মুখে ঘোরে মহিলাদের মধ্যে। তাঁদেরই দু’জন এবার সম্মুখ সমরে সোনারপুর দক্ষিণে। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের লাভলি মৈত্র এবং বিজেপির অঞ্জনা বসু মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমেছেন। প্রথমজন ঘাসফুলের প্রতীকে, দ্বিতীয়জন পদ্মে।  ‘বহিরাগত’ তকমা ঘোচানোই দু’জনের লক্ষ্য। তাই ভোটারদের মন জয় করতে দুই প্রার্থীই সোনারপুরের ‘ঘরের মেয়ে’ হয়ে থাকতে চান। ভোটারদের অনেকেরই ধারণা, তারকারা ভোটে জেতার পর আর কেন্দ্রমুখী হন না। তবে যেই জিতুন, বিধায়ককে দরকারে পাওয়া যাবে তো? ভোটের মুখে এই শঙ্কা দূর করাই এখন দুই বিবদমান প্রার্থীর কাছে চ্যালেঞ্জ। সব ভেবেই এই দুই টেলি তারকারা ‘ঘরের মেয়ে’ প্রমাণ করতে সোনারপুরে বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন।
এদিকে, বাইরের প্রার্থী হলেও আগের বারের থেকে ভোটের হার বাড়াতে মরিয়া বামেরা। মোর্চার সমর্থনে এখানে প্রার্থী হয়েছেন সিপিআই’র শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়। অপেক্ষাকৃত তরুণ মুখ। তাঁকে সামনে রেখেই তারকা প্রার্থীদের দিকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ছে তারা।
গত ১০ বছর এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন অধ্যাপক জীবন মুখোপাধ্যায়। এবার তাঁকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। তারকা প্রার্থীর উপর ভর করেই এবার তারা ভোট বৈতরণী পার হতে চায়। একই অস্ত্রে বাজিমাত করতে চায় গেরুয়া শিবিরও। বলা ভালো, এই প্রথম এই কেন্দ্রে তারকার লড়াই দেখছেন সাধারণ মানুষ। সাংগঠনিক দিক দিয়ে এই কেন্দ্রে দু’দলেরই বেশ খামতি আছে। তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়কের সময় থেকেই একাধিক গোষ্ঠী গজিয়ে উঠেছে এই অঞ্চলে। সাধারণ মানুষের কথায়, ভোটের মুখেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি ধীরে ধীরে সংগঠন গড়ে তুললেও বহু জায়গায় তারা পিছিয়ে রয়েছে। এসব খামতি ঢাকা দিতেই কি তারকা প্রার্থী, প্রশ্ন করছেন সাধারণ মানুষ। তবে এই ভোটে কোন তারকা কতটা জনপ্রিয়, তার ভিত্তিতে যে ভোট হচ্ছে না, তা স্পষ্ট।
সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে ছ’টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ড রয়েছে। এই কেন্দ্রে পঞ্চায়েত এবং পুরসভার একাংশ যা কাজ করেছে, তাতে সন্তুষ্ট অনেকেই। তবে আরও কিছু কাজ হলে ভালো হতো, বলছেন তাঁরা। এক প্রবীণ তৃণমূল নেতার কথায়, কাজের নিরিখে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। অন্যদিকে, বিজেপি হাজারো প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রার্থীর মুখেও সেসব শোনা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখানে সভা করে গিয়েছেন। এই প্রথম কোনও প্রধানমন্ত্রী সোনারপুরের মাটিতে পা রেখেছেন। এই বিষয়টিকে নিয়েও এলাকায় জোরদার প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। তাছাড়া প্রচারে বেরিয়ে যেভাবে একেবারে হাঁড়ির খবর নিতে গৃহস্থের ঘরে ঢুকে পড়ছেন অঞ্জনাদেবী, তাতে ‘আমি তোমাদেরই একজন’ হয়ে ওঠার মরিয়া প্রয়াস বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রচারে বেরিয়ে অবশ্য সাংগঠনিক দুর্বলতার অংশ অনেকটাই ঢেকে ফেলেছেন লাভলি মৈত্র। মিশে গিয়েছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে।
এদিকে, এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন সিপিআই প্রার্থী শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি যে শুধু প্রচারে আছেন তা নয়, সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। এক সময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা এলাকা। পালাবদলের পর থেকে শক্তিক্ষয় হয় তাদের। কিন্তু আজও একটা ভালো সংখ্যক ভোট বামেদের আছে। তবে সেই ভোট যাতে পদ্মে যায়, তার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। ঘাসিয়াড়া এলাকায় এমন কিছু পুরনো বাম কর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। এই বাম ভোট যাতে রামে না যায়, তার জন্য এলাকায় জোর প্রচার করেছেন শুভম।
তবে প্রচারে তৃণমূলের ভরসা সেই উন্নয়ন। অন্যদিকে, এলাকায় কোথায় কী অনুন্নয়ন রয়েছে, তা তুলে ধরে পূরণের আশ্বাস দিচ্ছেন অঞ্জনাদেবী। তিনি বলেন, পানীয় জল, রাস্তাঘাট ইত্যাদির সমস্যা আছে। মানুষ নানা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিজেপি সরকারে সেই ঘাটতি পূরণ করা হবে। তৃণমূল প্রার্থীর বক্তব্য, উন্নয়ন যথেষ্ট হয়েছে, আগামীদিনে আরও হবে। বিদেশের চাকরি ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে নেমে মানুষের জন্য কাজ করতে চান শুভম।

8th     April,   2021
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
10th     April,   2021