বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
কলকাতা
 

‘স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি এখানে দাঁড়ালে হারবেন’
বলছে নবাব ওয়াজেদ আলির ‘শহর’
কেন্দ্র: মেটিয়াবুরুজ

 

সোমনাথ বসু, মেটিয়াবুরুজ: এখানে ভোরের আজানে ঘুম ভাঙে বাসিন্দাদের। সময় এগিয়ে চলে নিজস্ব গতিতে। সকাল, দুপুর, বিকেল গড়িয়ে নামে সন্ধ্যা। বাধাবটতলার হিন্দু গৃহবধূ ঘোমটা টেনে উঠানের তুলসীমঞ্চে প্রদীপ জ্বালান। দুগ্গাপুজো এলে সংখ্যালঘু পরিবারেও আনন্দের লহর ওঠে। উল্টোটাও আছে। রমজান মাসে ইফতারের দাওয়াত থাকে বন্দ্যোপাধ্যায়, ঘোষ, দত্তবাবুদেরও। ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’র অন্যতম উদাহরণ মেটিয়াবুরুজ। বিচালি ঘাটের কাছে সিবতেনাবাদ ইমামবাড়ায় এখনও শায়িত রয়েছেন আওধের নবাব ওয়াজেদ আলি শাহ। মেটিয়াবুরুজের পরতে পরতে তাঁর ছোঁয়া পাওয়া যায় এখনও। ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ ছবিতে যা ব্যবহার করেছেন সত্যজিৎ রায়ের মতো বিশ্ববন্দিত পরিচালক। 
২০১১ সালে বাংলার রাজনীতিতে পট পরিবর্তন হওয়ার আগে তুমুল অশান্ত ছিল সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই অঞ্চল। সিপিএমের হার্মাদবাহিনীর দাপাদাপিতে। বোমা, গুলির আওয়াজ না শুনলে অনেকে চমকে উঠতেন। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স ও রাজাবাগান ডক ইয়ার্ডের ‘বাবরি’র ভাগ নিয়ে দলাদলি ছিল মারাত্মক। এছাড়া শ্রমিক সংগঠন নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি কার হাতে থাকবে, সেই ঝামেলাও চলত সর্বক্ষণ। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বদলেছে চিত্র। গত দশ-এগারো বছরে খবরের শিরোনামে তেমনভাবে উঠে আসেনি মেটিয়াবুরুজের নাম। আর ভোটপ্রচারে এটাই গর্ব করে বলছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আবদুল খালেক মোল্লা। বর্ষীয়ান এই নেতা জানালেন, ‘হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ ঘটানোই বিজেপির লক্ষ্য। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সব ধর্মের লোকেরাই এই দেশে থাকেন। মেটিয়াবুরুজও ঠিক তেমনই অঞ্চল। কায়স্থপাড়ায় হওয়া দুর্গাপুজোর প্রেসিডেন্ট আমি। এটা কিন্তু রাজনীতির জন্য নয়। সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে বলেই।’
এবার কি আপনি জিতছেন? প্রশ্নটা শেষ হওয়ার আগেই ভেসে এল উত্তর, ‘আমি নয়, জিতবে এখানকার মানুষ। রাস্তাঘাট, জলের সমস্যা প্রায় নেই বললেই চলে। তাই কত মার্জিনে জিতব সেটাই শুধু ভাবছি।’
রামনগর, ফতেপুর, ভিলেজ রোড সহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে বোঝা গেল, ঠিকই বলছেন খালেক সাহেব। তৃণমূলের একঝাঁক কর্মী তো দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেই ফেললেন, ‘স্বয়ং নরেন্দ্র মোদিও এখানে দাঁড়ালে হারবেন। পদ্মফুলের কোনও অস্তিত্ব মেটিয়াবুরুজে থাকবে না। ২ মে ফল বেরলেই দেখতে পাবেন।’
আগামী ১০ এপ্রিল মেটিয়াবুরুজে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এলাকার ছবি কিন্তু বলছে, প্রচারেই তৃণমূল দশ গোল মেরেছে বাকিদের। রং-বেরংয়ের কাগজের শিকলি, বিশালাকার ফ্লেক্স কিংবা ফেস্টুনে ঘাসফুলের জুড়ি মেলা ভার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় বড় কাট-আউট চোখ টানতে বাধ্য। কয়েক হাত অন্তর আবদুল খালেক মোল্লারও ছবি। একটু হাওয়া দিলে কাগজের শিকলিরা বেজে উঠছে নহবতখানার সানাইয়ের মতো। 
গত লোকসভা নির্বাচনে মেটিয়াবুরুজ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছিলেন প্রায় ৮০ হাজারের লিড। তবে মহেশতলা কেন্দ্রে তা কমে দাঁড়ায় ৩০ হাজারে। মেটিয়াবুরুজ বিধানসভায় রয়েছে মোট ১৫টি ওয়ার্ড। এর মধ্যে মহেশতলারই ৯টি। অধিকাংশ কাউন্সিলরই তৃণমূল কংগ্রসের। তাই জয়ের ব্যাপারে একশো শতাংশ নিশ্চিত আবদুল খালেক মোল্লা। তবে বিজেপি প্রার্থী রামজিৎ প্রসাদ বললেন, ‘মহেশতলার বেশ কিছু ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট, পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। শাসকদলের প্রতিনিধিরা কাজ করেননি। শুধু পুকুর বুজিয়ে, জমি দখল করে ফ্ল্যাট হয়েছে। তাই আশায় রয়েছি।’ এখানে সংযুক্ত মোর্চার পক্ষে প্রার্থী দিয়েছে আইএসএফ। সেই নুরুজ্জমান মোল্লার দলের নাম রাষ্ট্রীয় সেকুলার মজলিস পার্টি। সিপিএম-কংগ্রেসের কিছু ভোট তিনি পেতে পারেন। তবে তা ফলাফলে প্রভাব ফেলবে না, বলছেন স্থানীয়রাই।
রামজিৎ প্রসাদের সম্ভাবনা কতটা? বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হল, তিনি দিবাস্বপ্ন দেখছেন। মুদিয়ালির এক প্রবীণ নাগরিকের বক্তব্য, ইতিহাসকে অস্বীকার করা যায় না। কলকাতা শহর তৈরির সময়ে ভাগীরথী নদীর দুই তীরে মাটির দু’টি কেল্লা ভেঙে এখানে বসতি গড়ে উঠেছিল। মাটির ঢিপি বা বুরুজের উপরই তৈরি এই অঞ্চল। নাম তাই মেটিয়াবুরুজ। রাজা প্রতাপাদিত্য কিংবা নবাব ওয়াজেদ আলি শাহ, প্রত্যেকেই ধর্মনিরপেক্ষ ছিলেন। তাই তৃণমূলই জিতবে। আর বিজেপি? তাদের অবস্থা হবে মাটির ঢিপির মতোই।

8th     April,   2021
 
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
10th     April,   2021