শরীর ও স্বাস্থ্য

আইসিইউ-এর পরের জীবন...

বিস্তারিত আলোচনায় জানিয়েছেন আমরি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডাঃ চন্দ্রাশিস চক্রবর্তী।

ঘটনা-১: আইসিইউতে টানা ৬ মাস যমে-মানুষে টানাটানির পর সুস্থ হল তিয়াষার ৭ বছরের মেয়ে। ডাক্তাররা পই পই করে বলে দিলেন— একেবারে আইসিইউয়ের মতোই সতর্কতায় বাড়িতে রাখতে হবে তাকে। কিন্তু ‘সিঙ্গল মাদার’ তিয়াষা কীভাবে সামলাবেন এমন পরিস্থিতি! 
ঘটনা-২: মাঝ রাতে ছেলের অফিস থেকে ফোন এল রূপকবাবুর কাছে! বাড়ি ফেরার পথে অ্যাক্সিডেন্টে গুরুতর জখম হয়ে বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছেলে। অবস্থা গুরুতর। আইসিইউতে পাঠাতে হয়েছে। ১ মাস বাদে বাড়ি ফিরল ছেলে। কিন্তু আইসিইউতে যে যত্ন বা নজরদারিতে এতদিন কাটিয়েছে ছেলে, সেভাবে বাড়িতে রাখা আদৌ সম্ভব? বুঝে উঠতে পারছেন না বৃদ্ধ দম্পতি।  
আমাদের আজকের আলোচনায় আমরা সেইসব প্রশ্নেরই জবাব খুঁজব—

পোস্ট ইনটেনসিভ কেয়ার সিনড্রোম কী?
আইসিইউ ফেরত রোগীরা মূলত তিন ধরনের সমস্যার মধ্যে দিয়ে যান। শারীরিক, মানসিক এবং মস্তিষ্কজনিত সমস্যা। আইসিইউতে থাকাকালীন দিনরাতের হিসেব গুলিয়ে যায় অনেকের। ফলে অনিদ্রা দেখা যায়। অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ হলেও অনেকরকম সমস্যা দেখা যায়। নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা যায়। হাত-পা স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া না করাতে পারায় স্নায়ু-পেশির সমস্যাও দেখা যায়। অস্ত্রোপচারের পর আবার অনেকেই ক্যাথিটারের মতো চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে বাড়ি ফেরেন। তা থেকেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। মানসিক সমস্যার মধ্যে মূলত অবসন্নতা, ভয়, ক্লান্তি, দিনরাতের হিসেব গুলিয়ে ফেলার মতো সমস্যাও দেখা যায়। মস্তিষ্কজনিত সমস্যার মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক সমস্যাই প্রধান। দীর্ঘদিন এখানে থাকার ফলে কোনও জটিল বিষয় বোঝার ক্ষমতা কমে যায়। কোনও কিছু শুনলে বা পড়লে আত্মস্থ করার ক্ষমতাও কমে। এগুলিকেই পোস্ট ইনটেনসিভ কেয়ার সিনড্রোম  বা পিআইসিএস বলে ধরা হয়।

আইসিইউ ফেরত রোগীরা কি সম্পূর্ণ সুস্থ?
আইসিইউ ফেরত রোগী মানেই তিনি আগের মতো সুস্থ নন। বরং তাঁর সুস্থ জীবনে ফিরতে কয়েক মাস থেকে বছর ঘুরতে পারে। শুধু রোগী নয়, তার সঙ্গে রোগী আইইসিইউতে থাকাকালীন সময়ে তাঁর পরিবারের উপর দিয়েও যায় মানসিক ও আর্থিক ধকল! এই সমস্যারও চিকিৎসা প্রয়োজন। এছাড়া রোগীর সুষম আহার, ওষুধপত্র সবকিছু একেবারে নিয়ম মেনেই চালিয়ে যাওয়া উচিত। আর এখান থেকেই উঠে আসে পোস্ট ইনটেনসিভ ফলো আপ ক্লিনিকের কথা। 

পোস্ট ইনটেনসিভ ফলো আপ ক্লিনিক কী? 
আইসিইউ ফেরত রোগীদের প্রথম কয়েক মাস আগের মতোই যত্নে রাখতে হবে। রোগী আইসিইউতে যে যে বিশেষজ্ঞের অধীনে ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে সংযোগ রেখে চলতে হবে। নার্স থেকে শুরু করে খাবার-ওষুধপত্র দেওয়া সবটাই নিয়ম মেনে করা উচিত। সেক্ষেত্রে রোগীর পরিবার এবং চিকিৎসকদের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করে এই ক্লিনিক। 

পোস্ট ইনটেনসিভ কেয়ার সিনড্রোম কমানো সম্ভব? 
আইসিইউতে ভর্তি থাকাকালীনই রোগীকে ফিজিওথেরাপি, হাঁটাচলা, হাল্কা ব্রিদিং এক্সারসাইজ করানো যেতে পারে। পাশাপাশি, মনোবিদের পরামর্শ মেনে চললে ধীরে ধীরে আইসিইউ জনিত ধকল অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। 

পুষ্টিকর খাবার
সবশেষে বলতে হবে পুষ্টির কথা। আইসিইউয়ে থাকাকালীন রোগীর পেশির ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়। তাই খাদ্যতালিকায় প্রোটিনযুক্ত খাদ্য রাখা জরুরি। তবে পরিস্থিতি বুঝে সেই খাবার খাওয়ানো উচিত। 
লিখেছেন যুবনাশ্ব ভট্টাচার্য
4Months ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

পড়ে গিয়ে দেহে আঘাত লাগতে পারে। নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি। আয় যোগ শুভ।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮২.৭২ টাকা৮৪.৪৬ টাকা
পাউন্ড১০৬.৬৭ টাকা১১০.১৯ টাকা
ইউরো৮৯.৪৯ টাকা৯২.৬৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা