Bartaman Patrika
ভ্রমণ
 

নৈঃশব্দ ও কোলাহলের সহাবস্থানে
অভিনন্দন দত্ত 

দীর্ঘ এক বছরের পরিকল্পনার পর অবশেষে বালি যাওয়াটা স্থির করেই ফেললাম। বালি, ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ প্রান্তে সমুদ্র বেষ্টিত এক বিশালাকার দ্বীপ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই ভূভাগকে বলা হয় ‘আইল্যান্ড অব দ্য গডস’। ইন্দোনেশিয়ার সবথেকে বেশি হিন্দুর (৮৩%) ঠিকানাও এই বালি। বালির রাজধানী ডেনপাসার। গত কয়েক বছরে ভারতীয় ট্যুরিস্টদের কাছে বালি জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এর পিছনে অবশ্য বেশকিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, ভারতীয় মুদ্রার বিনিময় মূল্য (ভারতীয় ১ টাকা সমান প্রায় ২০০ ইন্দোনেশিয়ান রুপাইয়া)। দ্বিতীয়ত, বালিতে সব রকমের ট্যুরিস্টদের জন্যই কিছু না কিছু রয়েছে। ভিড়, পার্টি, নাইট লাইফ পছন্দ হলে আপনার গন্তব্য হতে পারে কুটা বা ডেনপাসার অঞ্চল। আবার একটু নিরিবিলিতে থাকতে চাইলে রয়েছে সেমিনইয়্যাক বা উবুদ অঞ্চল। ভারত ও বালির সংস্কৃতির মিল দেখলে অবাক হতে হয়। সমুদ্র সৈকত ও রকমারি ওয়াটার স্পোর্টসের জন্য বালি বিখ্যাত। সারা প্রদেশে ছড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার মন্দির। রাস্তার দুপাশে অসংখ্য সুসজ্জিত দেবদেবীর মূর্তি। অত্যন্ত ট্যুরিস্ট ফ্রেন্ডলি ডেস্টিনেশন।
আমাদের বালি ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য ছিল বা঩লির নববর্ষকে প্রত্যক্ষ করা। আর সত্যিই লেখাটা লিখতে বসে মনে হচ্ছে ভাগ্যিস বছরের অন্য সময় বালি যাওয়ার পরিকল্পনা করিনি। কারণ সেটা করলে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হতাম। নববর্ষ উদ্‌যাপন করা হয় না পৃথিবীতে এরকম দেশ খুঁজে পাওয়া ভার। আর বালির নববর্ষ তাঁর স্বমহিমায় উজ্জ্বল। বালিনিজ ভাষায় নববর্ষকে বলা হয় ‘নেপিই ডে’ (Nyepi Day)। ‘নেপিই’ শব্দের অর্থ-ডে অব সাইলেন্স। অর্থাৎ নীরবতার দিন। আর স্থানীয়রা দিনটিকে পবিত্র হিসেবেই মনে করেন। জন সাধারণ উপবাস, পুজো, ও নীরবতার মাধ্যমে দিনটা উদ্‌যাপন করেন। সরকারি নিয়ম মাফিক সারা শহরে একদিনের ছুটি, কর্মবিরতি। টিভি চ্যানেল, রেডিও, সংবাদপত্র, ইন্টারনেট সব বন্ধ। বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষেধ। এমনকী সন্ধ্যার পর ঘরে আলো জ্বালা নিষেধ। বন্ধ করে দেওয়া হয় রাস্তার আলো। তবে মোমবাতি বা লণ্ঠন চলতে পারে। শুধুমাত্র আপদকালীন স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হয়।
এই বছর বালিতে নববর্ষ ছিল ৭ মার্চ। সেদিন আমরা সেমিনইয়্যাকে। নিশ্চয়ই ভাবছেন যে ট্যুরিস্টদের এই কড়াকড়ি থেকে ছাড় দেওয়া হয়। ভাবলে ভুল করবেন। কারণ বালিতে এই দিন সকলের জন্য একই নিয়ম। নববর্ষের আগের দিন থেকেই সমস্ত হোটেলে নির্দেশিকা জারি হয়। ভোর ছ’টা থেকে পরদিন ভোর ছ’টা পর্যন্ত হোটেলের বাইরে বেরনো নিষেধ। কার্যত গৃহবন্দি অবস্থা। অনেকটা অঘোষিত কার্ফুর মতো। কিন্তু আমরা বাঙালি। বাড়তি প্রশ্ন বা নিয়ম ভাঙা আমাদের রক্তে! যথারীতি ধরেই নিয়েছিলাম যে এইসব নিয়ম শুধুমাত্র খাতা কলমেই প্রযোজ্য। ভুল ভাঙল নববর্ষের দিন সকালে। সকাল থেকেই টিপটিপ করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। হোটেলের রিসেপশন থেকে জানিয়ে দেওয়া হল দুপুরের পর থেকে কোনওরকম রুম সার্ভিস পাওয়া যাবে না। ঘরে ব্যবস্থা থাকলে ডিনার বানিয়ে নিতে হবে, নাহলে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ছাড়া গতি নেই। আমাদের প্রয়োজন মতো কেনাকাটি করাই ছিল। অগত্যা মেনু সেট করে নিলাম। নুডলস ও চিকেন সালামি। দেখলাম ভাগ্যক্রমে হোটেলের ওয়াইফাই কাজ করছে। বাড়িতে খবর দিয়ে দিলাম। এদিকে ঘুরতে গিয়ে হোটলে চব্বিশ ঘণ্টা বসে থাকাটা মেনে নেওয়া বেশ কষ্টকর। কিছুক্ষণের মধ্যেই মনের কোণে একঘেয়েমি বাসা বাঁধল। অতএব সাংবাদিকের মনে প্রশ্ন জাগল, এখন বাইরের অবস্থা কীরকম? সত্যিই কি রাস্তাঘাট ফাঁকা? ঘরের বাইরে ছাতা রাখাই ছিল। স্ত্রীর কথা একরকম অমান্য করেই হোটেলের বাইরে বড় রাস্তায় এসে দাঁড়ালাম। বেরনোর সময়ে দেখেছিলাম রিসেপশন ফাঁকা। রাস্তায় দাঁড়িয়ে সত্যিই অবাক হওয়ার জোগাড়। শুধুই বৃষ্টির শব্দ, জনমানব শূন্য শহরটাকে মনে হচ্ছিল যেন মৃত্যপুরী বা যুদ্ধ পরবর্তী পরিত্যক্ত জনপদ। লোভ সামলাতে না পেরে মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোবাইলে বেশকিছু ছবিও তুলে ফেললাম। ঘড়িতে তখন দুপুর বারোটা। পাঁচ-সাত মিনিট কেটেছে। মুগ্ধ হয়ে একদিন আগের কোলাহলে ভরপুর শহরটার বদলে যাওয়া রূপটাকে চাক্ষুষ করছি। দূর থেকে দেখলাম পাঁচ-সাতজন লোক হাত ধরে এগিয়ে আসছে। পরনে আমাদের ফতুয়া-লুঙ্গির মতো সাদা-কালো পোশাক। অবাক হলাম। পরক্ষণেই মনের ভেতর থেকে কে যেন বলে উঠল-যাক বাঁচা গেল। ওদের সঙ্গে না হয় কিছুক্ষণ গল্প করা যাবে। নববর্ষ সম্বন্ধে আরও কিছু তথ্য আদায় করা যাবে। হঠাৎ পিছন থেকে কাঁধে একটা হাত এসে চেপে বসল। সঙ্গে গম্ভীর কণ্ঠস্বর, ‘স্যার কী করছেন! আপনি কি পাগল?’ দেখলাম রিসেপশনের বাচ্চা ছেলেটি হাজির হয়েছে। জিজ্ঞাসা করলাম, কেন কী হয়েছে? উত্তর এল, ‘ওরা ধর্মীয় পুলিস, পেকালাং। উৎসব নিয়মমাফিক পালিত হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য আজ সারাদিন ওরা দল বেঁধে শহর পাহারা দেবে। আপনি এক্ষুনি ভেতরে চলুন নাহলে আমরা বিপদে পড়ব। আপনি গ্রেপ্তার পর্যন্ত হতে পারেন!’ আর কথা না বাড়িয়ে সোজা হোটেলের ঘরে ফিরে দম ফেললাম। স্ত্রী রেগে কাঁই। বুঝলাম এ যাত্রায় কান ঘেঁষে বেঁচে গিয়েছি।
আরও একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। সন্ধ্যায় তখন শহরের আলো নিভেছে। আবিষ্কার করলাম আমাদের খাওয়ার জল প্রায় শেষ। রিসেপশনে ফোন করতে জানা গেল এখন আর জল পাওয়া যাবে না। মোবাইলে গান চলছে। এদিকে দরজায় টক টক শব্দ। মনে মনে ঠিক করেছি বয়টিকে আচ্ছা বকা দেব। জল চাইলে জল পাওয়া যাবে না! সে আবার হয় নাকি। দরজা খুলতেই চমক। টর্চ হাতে দাঁড়িয়ে এক পেকালাং মানে ধর্মীয় পুলিস! কী বলব বুঝতে পারছি না। ততক্ষণে পিছনে মোবাইলে গানের ভল্যুমটা স্ত্রী কমিয়ে দিয়েছে। লম্বা লোকটির হাতে দুটো জলের বোতল। সে বলে চলল, ‘আপনারা জল চেয়েছিলেন। খবর পেয়ে আমরা দিতে এলাম।’ বুঝলাম হোটেল থেকে পুলিসের কাছে আমাদের সমস্যাটি কেউ জানিয়েছেন। অগত্যা তাঁরা উদ্ধারকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। বিদেশ বিভুঁইয়ে এক অদ্ভুত রাতে পুলিসের এই সাহায্য সত্যিই ভোলার নয়। সেই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে ধন্যবাদ।
এবার একদিন পিছিয়ে যাওয়া যাক। নববর্ষের দিন সারা শহরে ‘কার্ফু’ জারি থাকলেও বালিতে প্রকৃত উৎসবের ছোঁয়া পাওয়া যায় তার আগের দিন। অর্থাৎ বছরের শেষ দিন। সকাল থেকেই সারা শহর উৎসবের স্রোতে গা ভাসায়। ভোর থেকেই শহরের সমস্ত ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ভিড়। স্থানীয়রা পরিবারের জন্য বাজার করতে এসেছেন। আমরাও সময় নিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে ফেললাম। কারণ তখনও জানিনা ‘নেপিই’র দিন ঠিক কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তাই সাবধানের মার নেই। রাস্তায় ধবধবে সাদা পোশাকে স্থানীয় মহিলা-পুরুষরা সারবদ্ধভাবে মিছিল করে চলেছেন। মহিলাদের মাথায় ছোট ছোট টুকরি থেকে ফুল ও সুগন্ধি ধূপ উঁকি দিচ্ছে, পরনে স্কার্টের মতো পোশাক (সারং)। গন্তব্য কাছের মন্দির। দেবতাকে ভোগ নিবেদনের মাধ্যমেই অধিকাংশ বালির মানুষ এই দিনটা শুরু করেন। তবে এখানেই শেষ নয়। শুনলাম উৎসবের আসল ছবি দেখা যাবে সন্ধ্যায়। প্রতিযোগিতা হবে। সমস্ত পাড়াগুলো শোভাযাত্রায় অংশ নেবে। ‘ওগো ওগো’র প্রদর্শন হবে। কয়েকদিন ধরেই চোখে পড়ছিল। এবারে লোকাল গাইডের কল্যাণে তাদের ইতিহাস জানতে পারলাম। আসলে বিশাল বিশাল কাগজের তৈরি রাক্ষসদের বলা হয় ‘ওগো ওগো’। দেখলে মনে হবে যেন কলকাতার কুমোরটুলিতে হাজির হয়েছি। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এইদিন রাক্ষসকে পোড়ানোর মাধ্যমে পরিবেশে ভালো ও খারাপ শক্তির সমতা বজায় থাকবে। তার থেকেও বড় কথা রাক্ষস ও দৈত্যদের তুষ্ট করতে পারলে নাকি বালি দ্বীপের শান্তি বজায় থাকবে। ব্যাপারটা অনেকটা আমাদের দেশের দশেরা বা দোলের আগের দিন ন্যাড়া পোড়ার মতো।
সন্ধ্যায় হোটেলের নিকটবর্তী রাস্তার চার মাথার মোড়ে হাজির হলাম। ভিড়ে টেকা দায়। অধিকাংশ ট্যুরিস্ট বিদেশি। ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ঝলকানিতে চোখ ঝলসে যাওয়ার উপক্রম। রীতিমতো প্যান্ডেল করে বিচারকরা অপেক্ষা করছেন। মাইকে স্থানীয় ভাষা ও ইংরেজিতে প্রতিটা পাড়ার ওগো ওগোদের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। পুতুলগুলো আকারে একতলা সমান। বীভৎস তাদের রূপ। কারও মাথা কুমিরের মতো তো কারও তিন-চারটে মাথা। দশ থেকে কুড়িজন ভক্তদের এক একটা দল নিজেদের কাঁধে বাঁশের মাচায় ওগো ওগোদের বিচারকদের সামনে হাজির করছেন। সামনে মেয়েদের হাতে মশাল এবং ছেলেদের হাতে মাদল ও খঞ্জনির মতো বাদ্যযন্ত্র। সেই অদ্ভুত মায়াবী সুর এখনও কানে বাজে। অধিকাংশ রাক্ষসের থিম বা নামের সঙ্গে মহিষাসুর বা রাবণের নামের মিল দেখে তখন কলকাতাকে খুব মিস করছিলাম। অপূর্ব শোভাযাত্রা। আমাদের থিমের দুর্গাপুজো বা প্রতিমা নিরঞ্জনের কথা মনে করিয়ে দেয়। জানা গেল প্রদর্শনের পর এই সব রাক্ষস আবার নিজের নিজের এলাকায় ফিরে যাবে। তাদের পোড়ানো হবে। তারপরেই স্থানীয়রা খাওয়াদাওয়া ও হইহুল্লোড়ে মাতবে। শুরু হবে নেপিইর প্রস্তুতি। সেই অভিজ্ঞতা নিবন্ধের শুরুতেই বলেছি।
এতক্ষণ এই লেখা পড়ে মনে হতেই পারে যে বালি ভ্রমণের জন্য ‘অল সোলস ডে’কে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। শুরুতে আমরাও ঠিক তাই ভেবেছিলাম। কিন্তু এই ধর্মীয় আচার উৎসবের আকর্ষণ ও বালির মানুষের আতিথেয়তায় সেই ধারণা এতক্ষণে বদলে গিয়েছে। কোলাহল ও নিস্তবব্ধতায় দুটো দিনের বৈপরীত্য যেন বালিকে আরও বেশি আত্মিক করে তোলে। নিজেকে নতুন করে চিনতে সাহায্য করে। নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর অবকাশ খুঁজে দেয়। বছরের অন্যান্য সময়ের সঙ্গে পার্থক্য গড়ে দেয়। আর অবশ্যই কানে কানে বলে দেয় আসছে বছর আবার হবে, ঠিক এই একই দিনে।
 কী কী দেখবেন: বালিতে অবশ্যই দেখবেন টানা ল মন্দির। কুটার ২০ কিমি উত্তরে সমুদ্র সৈকতে এই শতাব্দী প্রাচীন মন্দির সূর্যাস্তের জন্য বিখ্যাত। দেখবেন সমুদ্র তীরবর্তী বালির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উলুওয়াটু মন্দির। এছাড়াও রয়েছে আগুং পর্বতের পশ্চিম ঢালের মাতৃমন্দির বেসাখি। কিন্তামানি আগ্নেয়গিরি ও পার্শ্ববর্তী বাটুর লেক, উবুদের মাঙ্কি ফরেস্ট ও গোয়া গাহা মন্দির।
 ভিসা: ভারতীয়দের জন্য বালির ভিসা ফ্রি (অন অ্যারাইভাল ভিসা)। ইন্দোনেশিয়া সরকার ভারতীয়দের বালিতে একটানা ৩০ দিন থাকার সুযোগ দেয়। অভিবাসনের জন্য ট্যুরিস্টের কোনও ছবির প্রয়োজন নেই।
 কারেন্সি বিনিময়: বালিতে মার্কিন ডলার নিয়ে যাওয়াই ভালো। রাস্তায় অজস্র মানি এক্সচেঞ্জ কাউন্টার রয়েছে। তবে চেষ্টা করবেন নো কমিশন কাউন্টার থেকে বিনিময় করতে। কারণ এরা রিসিট দেয়। আমাদের তুলনায় ওদের টাকার দাম অনেকটা কম বলে হিসেবে সমস্যা হতে পারে(সর্বোচ্চ নোট ১ লক্ষ ইন্দোনেশিয়ান রুপাইয়া)। মোবাইলে কারেন্সি কনভার্টার অ্যাপ থাকলে সুবিধা হবে। কিছু কিছু জায়গায় ভারতীয় টাকাও বিনিময় করা যায়।
 বিমান: কলকাতা থেকে বালি (গুরা রাই আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর) যাওয়ার জন্য কোনও সরাসরি বিমান নেই। ভায়া কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুর হয়ে যেতে হয়।
 খাওয়াদাওয়া: বালিকে সি ফুডের স্বর্গরাজ্য বলা যায়। রাস্তায় সার দিয়ে পাব ও ক্যাফে। পরিচিত সমস্ত আন্তর্জাতিক রেস্তরাঁর ছড়াছড়ি। তাই খাবার নিয়ে বিশেষ চিন্তা নেই। বাঙালিদের সঙ্গে খাবারের যথেষ্ট মিলও রয়েছে। বিশেষ করে মাছ ও ভাত। অবশ্যই চেখে দেখবেন স্থানীয় নাসিগোরেং (ফ্রায়েড রাইস) ও মি গোরেং (নুডলস)। খেতে পারেন চিকেন স্টিক। খাবারের পরিমাণ একটু কম। তাই বেশি অর্ডার করতে হতে পারে।
 কেনাকাটা: এখানে স্ট্রিট শপিংই সেরা। অবশ্যই কিনবেন বিখ্যাত বালি ব্যাগ। দরাদরি করতে ভুলবেন না। এক ছাদের তলায় রকমারি স্যুভেনির পেতে হলে ঢুঁ মারতে পারেন ‘আগুং বালি’তে।
 ট্যুর অপারেটর: বালিতে অজস্র ট্রাভেল এজেন্সি রয়েছে। দরাদরি করে এদের থেকে সস্তায় বিভিন্ন ট্যুর বা সারাদিনের গাড়ি (২৫-৩০ মার্কিন ডলার) বুক করা যায়। ট্যক্সি ব্যয়বহুল। চালাতে জানলে সারাদিনের জন্য মোটরসাইকেল ভাড়া করে নেওয়া যায়। আরোহীর বিমা আছে কিনা দেখে নেওয়া উচিত।
 ধ্রুপদী নৃত্যনাট্য: বালিতে স্থানীয় ধ্রুপদী নৃত্যনাট্যর অভিজ্ঞতা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করাটা বোকামো। বিভিন্ন নৃত্যশৈলীর মধ্যে বারং (ভালো ও খারাপের লড়াই) কেচাক নাচ জনপ্রিয়। মূলত মহাভারত ও রামায়ণ থেকে নৃত্যনাট্যের কাহিনী ধার করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় টিকিট কেটে এই নৃত্যকলা দেখা যায় (জনপ্রতি ২৫০-৫০০ ভারতীয় টাকা)।
ছবি: লেখক 
21st  July, 2019
টিকটক 

হাওড়া ব্রিজে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড
কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের ১৫০ বছর পূর্তিতে দেশবাসীকে উপহার আলোক ধ্বনিতে সাজানো হাওড়া ব্রিজ।  
বিশদ

19th  January, 2020
পাকদণ্ডী পথ বেয়ে উটি 

সুপ্রিয় নায়েক: পিছনে ধূসর আকাশ। আর সামনে প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর মতো আধশোয়া অলস নীলগিরি। তারই পিঠ আষ্টেপৃষ্ঠে পেঁচিয়ে সাপের মতো উঁচুতে গিয়েছে পাকদণ্ডী পথ। সেই সাপের প্রান্ত পড়ে থাকে বুরলিয়রে। তামিলনাড়ুর নীলগিরি জেলার ছোট্ট গ্রাম। সেখান থেকেই শুরু চড়াই।  
বিশদ

19th  January, 2020
জেমস বন্ড আইল্যান্ড 

অয়ন গঙ্গোপাধ্যায়: দ্বীপের নাম ‘জেমস বন্ড’। নামটা শুনেই মনে হবে এখনই চলে যাই প্রকৃতির অসামান্য সৌন্দর্যে মোড়া অতুলনীয় সেই দ্বীপে। থাইল্যান্ডের দক্ষিণপ্রান্তে আন্দামান সাগরে ভাসমান বিখ্যাত দ্বীপ ফুকেত। 
বিশদ

19th  January, 2020
মোহিনী হিমালয় 

সাতের দশকের শেষের দিকের কথা। সবে মাত্র যৌবনে পা রাখা কিশোরের যেমন সব বাধা অতিক্রম করার স্বপ্ন দু’চোখে থাকে, ঠিক তেমনই কোনও দুঃসাহসের ওপর ভর করে বয়সে কিছুটা বড় বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ি থেকে এক জামাকাপড়ে পালিয়েছিলাম সান্দাকফু থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার লোভ নিয়ে। 
বিশদ

05th  January, 2020
টিকটক 

দীর্ঘতম পাহাড়ি সুরঙ্গ অটল টানেল
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ৯৫ তম জন্মদিনে ঘোষণা করা হয় রোটাং টানেলের নাম হবে অটল টানেল। ৩ হাজার মিটার উচ্চতায় মানালি থেকে লে পর্যন্ত ‘অল ওয়েদার রুট’ খুলে যাবে এবছর। ৮.৮ কিমি দীর্ঘ এই সুরঙ্গ পথ বিশ্বের দীর্ঘতম পাহাড়ি সুরঙ্গের তকমাও পেতে চলেছে। সুরঙ্গের মাধ্যমে মোট পথের দৈর্ঘ্য কমছে ৪৬ কিমি।
বিশদ

05th  January, 2020
অন্য গোয়া

উৎপল দাস: গোয়া বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কিছু অসাধারণ সমুদ্রসৈকত, ধ্যানগম্ভীর পর্তুগিজ স্থাপত্য, মিশনারি চার্চ। বড়জোর অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকের জন্য বন্যপ্রাণী অধ্যুষিত অভয়ারণ্য।  
বিশদ

05th  January, 2020
এ রাজ্যের প্রথম ইয়ুথ হস্টেলের মহিলা শাখা কাদম্বিনী 

১৯০৯ সালে জার্মানিতে প্রথম হস্টেলিং বিষয়টি নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়। জার্মান শিক্ষক রিচার্ড স্কিরম্যান স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের গ্রামের দিকে বেড়াতে গিয়ে থাকা খাওয়ার প্রয়োজনের কথা নিয়ে ভাবেন। এই ভাবনা থেকেই আটলান্টাতে নিজের স্কুলে প্রথম তৈরি করেন ছাত্রছাত্রীদের জন্য হস্টেল। 
বিশদ

05th  January, 2020
টিকটক 

চলবে টাকা 
ভারতীয়দের জন্য সুখবর। দুবাই বিমানবন্দরে ডিউটি ফ্রি শপে কেনাকাটার জন্য ইউরো, ডলারের প্রয়োজন হবে না। টাকাতেই করা যাবে পছন্দের কেনাকাটা। সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  
বিশদ

15th  December, 2019
ভয়ঙ্কর সুন্দর সুন্দরবন 

বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী: জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ আর গাছে সাপ— এমনই যদি হয় পরিবেশ, তাহলে আর দাঁড়ানোর জায়গাটা রইল কোথায়? কিন্তু তা সত্ত্বেও এ হল পর্যটকের এক অত্যন্ত প্রিয় গন্তব্য। হোক না শত বিপদ সঙ্কুল, তবুও সে সুন্দরী। ওই যে কথায় বলে না, ভয়ঙ্কর, সুন্দর...!  
বিশদ

15th  December, 2019
মন্দিরনগরী সিয়েমরিপ 

অয়ন গঙ্গোপাধ্যায়: কম্বোডিয়ার ঐতিহাসিক শহর সিয়েমরিপ। ভুবন বিখ্যাত আঙ্কোরভাট মন্দিরের জন্য এই শহর বিখ্যাত। আঙ্কোরভাট, আঙ্কোর থম মন্দির ছাড়াও সিয়েমরিপের পথে-প্রান্তরে শিল্পময় প্রাচীন মন্দিরের ছড়াছড়ি। ভালোভাবে ঘুরতে এখানে দিনচারেক থাকুন। সিয়েমরিপ বিমানবন্দরে পৌঁছে ডলার ভাঙিয়ে কিনে নিন স্থানীয় মুদ্রা রিয়েল। 
বিশদ

15th  December, 2019
জয়সলমিরের মরু উৎসব 

বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী: রঙের রাজ্য রাজস্থান, উৎসবের রাজ্য রাজস্থান, সারা বছর ধরেই এই রাজ্যের এক এক শহরে পালিত হয় নানা ধরনের অনুষ্ঠান। তারই এক অঙ্গ হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে মরু রাজ্যের জয়সলমির শহরে পালিত হয় এক অসাধারণ সুন্দর, উপভোগ্য আর বর্ণাঢ্য উৎসব ‘মরু উৎসব’ বা ‘ডেজার্ট ফেস্টিভ্যাল’।   বিশদ

01st  December, 2019
বন্য সুন্দর মাধব ন্যাশনাল পার্ক শিবপুরী

সুভাষ বন্দ্যোপাধ্যায়: চারদিকে মধ্যপ্রদেশের ঘেরাটোপের মধ্যে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি। ওখান থেকে সকালবেলা একটা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন ঐতিহাসিক শহর শিবপুরীর উদ্দেশে। ২৫ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে গাড়ি ছুটবে বেশ জোরে।  বিশদ

01st  December, 2019
প্যাংগং লেক 

নবগঠিত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের অন্যতম নিদর্শন নীল জলের প্যাংগং লেক। এটি এশিয়ার বৃহত্তম ইষৎ লোনা হ্রদ। উচ্চতা প্রায় ১৪ হাজার ফুট। দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩৪ কিমি এবং প্রায় ২-৩ কিলোমিটার চওড়া। লাদাখ ভ্রমণের অন্যান্য দ্রষ্টব্য স্থানগুলোর মধ্যে এটি খুবই জনপ্রিয় ও বিস্ময়কর।  
বিশদ

17th  November, 2019
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অপরূপ মালয়েশিয়া 
উত্তরা গঙ্গোপাধ্যায়

থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরের থেকে কোনও অংশে কম নয় মালয়েশিয়া। কিন্তু তবুও যেন এখনও পর্যটক মহলে তেমনভাবে জায়গা করে নিতে পারেনি। তাই সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের সঙ্গে জুড়ে নিতে পারেন এ দেশের রাজধানী শহর কুয়ালালামপুর। বছরের যে কোনও সময় যাওয়া যায়। 
বিশদ

17th  November, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, ইংলিশবাজার: রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়ে প্রচারের হাতিয়ার এখন ছাত্র-যুব উৎসব। জনস্বার্থে রাজ্য সরকার যেসব কর্মসূচি নিয়েছে সেসব নিয়ে অনুষ্ঠান পরিবেশন করে এই উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা। মালদহ জেলাও তার ব্যতিক্রম নয়।  ...

 পাপ্পা গুহ, উলুবেড়িয়া: মানবধর্ম সবথেকে বড় ধর্ম। আপনারা যদি মানুষকে সঠিকভাবে সেবা করতে পারেন, তাহলে এর থেকে বড় কাজ আর হবে না। মঙ্গলবার সকালে উলুবেড়িয়া ...

 রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ২১ জানুয়ারি (পিটিআই): শুধু ভারত নয়, বেকারত্ব বাড়ছে গোটা বিশ্বেই। এদেশে বেকারত্বের হার বৃদ্ধির অভিযোগকে মান্যতা দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু বিশ্বে বেকারদের সংখ্যা যে ...

 সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ‘দলের লোকেরা দাদাকে মেরেছে, শিবু ফোন করে দাদাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পনা করে খুন করেছে।’ মঙ্গলবার সকালে এই দাবি করলেন বাগনানের বাইনানের তৃণমূলের ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মরতদের সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা ও ব্যবহারে সংযত থাকা দরকার। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৬৬৬: মুঘল সম্রাট শাহজাহানের মৃত্যু
১৯০০ - টেলিপ্রিন্টার ও মাইক্রোফেনের উদ্ভাবক ডেভিট এ্যাডওয়ার্ড হিউজ।
১৯০১: রানি ভিক্টোরিয়ার মৃত্যু
১৯২৭ - প্রথমবারের মতো বেতারে ফুটবল খেলার ধারাবিবরণী প্রচার।
১৯৭২: অভিনেত্রী নম্রতা শিরোদকরের জন্ম





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৩৬ টাকা ৭২.০৬ টাকা
পাউন্ড ৯০.৯৮ টাকা ৯৪.২৫ টাকা
ইউরো ৭৭.৫৪ টাকা ৮০.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৫৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৪৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,০৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৬৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৭৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৭ মাঘ ১৪২৬, ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ত্রয়োদশী ৪৮/৩৬ রাত্রি ১/৪৯। মূলা ৪৪/৫৩ রাত্রি ১২/২০। সূ উ ৬/২২/৩৮, অ ৫/১৩/২৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ মধ্যে পুনঃ ১০/০ গতে ১১/২৬ মধ্যে পুনঃ ৩/২ গতে ৪/২৮ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫ গতে ৮/৪৩ মধ্যে পুনঃ ২/০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৯/৫ গতে ১০/২৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৭ গতে ১/৯ মধ্যে। কালরাত্রি ৩/৬ গতে ৪/৪৪ মধ্যে।
৭ মাঘ ১৪২৬, ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ত্রয়োদশী ৮৯/২৭/৪৪ রাত্রী ২/১৩/৯। মূলা ৪৬/৪২/৪৪ রাত্রি ১/৭/৯। সূ উ ৬/২৬/৩, অ ৫/১১/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১০/০ গতে ৪/৩৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১৫ গতে ৮/৫০ মধ্যে ও ২/০ গতে ৬/২৬ মধ্যে। কালবেলা ৯/৭/২৭ গতে ১০/২৮/৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৩/৭/২৭ গতে ৪/৪৬/৪৫ মধ্যে।
 ২৬ জমাদিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য জবরদখল উচ্ছেদ, গায়ে আগুন লাগালেন মহিলা 
রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য জবর দখল উচ্ছেদের চেষ্টা পুলিস ও প্রশাসনের। ...বিশদ

04:27:00 PM

কলকাতা বইমেলার জন্য শুরু হল অ্যাপ, রয়েছে স্টল খুঁজে পাওয়ার সুবিধাও 

04:13:45 PM

কৃষ্ণনগরে এনআরসি বিরোধিতায় শুরু হল মিছিল, রয়েছেন রাজীব বন্দ্যেপাধ্যায় এবং মহুয়া মৈত্র 

04:02:00 PM

২০৮ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:58:42 PM

ইটাহারে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ 
ইটাহারের জয়হাট চেকপোষ্টে আদিবাসীদের জমি দখলের প্রতিবাদে পথ অবরোধ চলছে ...বিশদ

03:48:00 PM

বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না: মমতা 

03:43:31 PM