Bartaman Patrika
বিনোদন
 
 নব্বই নট আউট

 করণ জোহরের কাছে এটাই আজকের ব্রেকিং নিউজ। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবির চরিত্রগুলোকে নতুনভাবে ফিরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে গৌরী খান টিনা আর করণ নিজে হয়েছেন রাহুল। ওদিকে কাজল আনন্দ হয়েছেন অঞ্জলি। আর শাহরুখের অবস্থা দেখুন। তাঁর তো মাথায় হাত!

পিকচার আভি বাকি হ্যায় 

চোখের নিমেষে ফুরিয়ে গেল চারটি দিন। মর্তবাসীর মন খারাপ করে দিয়ে কৈলাসের উদ্দেশে রওনা গেলেন মা দুর্গা। কিন্তু, দুর্গোৎসবের আমেজ তো এখনও ভরপুর। ফেস্টিভ মুডে চেটেপুটে খাওয়া বাঙালির কি আর চার দিনে হয়! কী করা যায়! কালীপুজো আসতে এখনও বেশ দেরি। এদিকে মনটা এখনও এদিক সেদিক করে যাচ্ছে। তাই কিছু তো একটা করতেই হবে। পুজো শেষ হয়ে গেলেও এই মরশুমে মুক্তি পাওয়া চারটি বাংলা, একটি হিন্দি ও একটি ইংরেজি ছবি কিন্তু এখনও সিনেমা হলে চলছে। পুজোর প্যান্ডেল হপিং সারা হয়ে যাওয়ার পর এবার নয় সিনেমা হল হপিং হয়ে যাক। তার আগে অ্যাপেটাইজার হিসেবে তুলে দেওয়া হল ওই পাঁচটি ছবির সমলোচনা। পড়ে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলুন কোনটা বা কোনটা কোনটা দেখবেন।
গুমনামি
প্রাইমারি অবৈতনিক স্কুল। ক্লাস থ্রি। বাংলা পরীক্ষা। রচনা লিখতে হতো, তোমার প্রিয় দেশনায়ক। সিংহভাগ বাঙালি ছেলেমেয়ে চোখ বুঁজে লিখে ফেলতো ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু’। রচনা লিখতে গিয়েই প্রথম পরিচয় ঘটত নেতাজির সঙ্গে। তাঁর ছদ্মবেশে গৃহত্যাগ, সাবমেরিনে করে জাপানে যাওয়া, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি গঠন, তাঁর বীরত্ব, অত্যাচারী ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়ের গল্প মুখস্থ করতে গিয়ে কখন যেন রক্ত ফুটতে শুরু করত টগবগিয়ে! নিজের অজান্তে কচি মন হয়ে উঠত খুদে নেতাজি! দমাস দমাস করে আছাড় দিত গোরা সাহেবদের। স্কুলের মাঠে, টিফিন পিরিয়ডে কতশত স্বাধীনতার লড়াই-লড়াই খেলায় সবাই হয়ে উঠত ‘সুভাষ’! মাঠের ওপারে তখন কল্পনায় ব্রিটিশ সেনা!
রচনার শেষ লাইনটা বলা হল না। বাঁধা গতে লেখা হতো— ‘শোনা যায়, ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে, তাইহোকু বিমানবন্দরে এক বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়। অবশ্য এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে অনেক সংশয় রয়েছে। তবে যাই হয়ে থাকুক না কেন, সুভাষচন্দ্র বসুর মতো নেতার মৃত্যু হয় না। নেতাজি বেঁচে থাকেন তাঁর স্বাধীনতা সংগ্রামের গল্পে।’
ঠিক তাই। আমাদের মধ্যবিত্ত জীবনচর্চায়, প্রিয় দেশনায়ক রচনায়, তেইশে জানুয়ারিতে, পনেরোই আগস্টে, দূরে বেজে ওঠা হঠাৎ জাতীয় সঙ্গীতে, দেশাত্মবোধক গানে বুকের ভিতর নেতাজির ঘোড়া ক্ষুর ঠোকে। কে যেন আঙুল তুলে বলে ‘দিল্লি চলো’।
নেতাজির মৃত্যু হয় না।
ছোটবেলায় ‘নেতাজি জীবিত, শীঘ্রই দেশে ফিরবেন’— দেওয়াল লিখন দেখে, সম্ভবত অনেকেই বাবাকে প্রশ্ন করে থাকবেন, ‘নেতাজি কি সত্যিই বেঁচে আছেন? ফিরে আসবেন?’
সম্ভবত প্রত্যেক পিতাই বলেছিলেন,‘এখন তো অনেক বয়স হয়ে যাওয়ার কথা। তবে ফিরে আসতেও পারেন।’
পরের প্রশ্ন ছিল নির্ঘাৎ— ‘এলে কী হবে?’
এই প্রশ্নের উত্তরে সম্ভবত কারও বাবাই মুখে কিছু বলতে পারেননি। কিন্তু, আমরা জানতাম, বাবা মনে মনে উত্তর দিচ্ছেন, ‘রক্ত দেব, নেতাজি তুমি স্বাধীনতা দাও।’
১৯৪৫ এর পর তিয়াত্তর বছর অতিক্রান্ত। আজকাল দেওয়ালে ‘নেতাজি জীবিত...’ লেখা দেখে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে। কে যেন কানের কাছে সহসা বলে নেতাজি মারা যাননি...! নেতাজির বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়নি, তাঁর রাশিয়ায় মৃত্যু হয়নি, তাঁর সাধু বেশেও মৃত্যু হয়নি। তিনি জীবিত...ফিরে আসবেন। কোনও কমিশন, কোনও গবেষক, লেখকের বই তাঁর মৃত্যু হয়েছে প্রমাণ করতে পারবে না! তাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম, দেওয়াল লিখনের দিকে তাকিয়ে প্রতিটি পিতা তাঁর সন্তানকে বলবে— ‘নেতাজি ফিরে আসতেও পারেন।’ কারণ নেতাজির মৃত্যুর চাইতেও তাঁর আদর্শ, তাঁর দেখানো পথ অনেক বড়! সে পথে নেতাজি হাঁটেন সামরিক পোশাক পরে, আজও হাঁটেন। আমরা তাঁকে অনুসরণ করতে পারি মাত্র।
পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সবথেকে বড় কৃতিত্ব হল, তিনি বাঙালির ভাবনায়, নেতাজির অমরত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন! ছবির থেকেও যেন ‘গুমনামি’ হয়ে উঠেছে ডকুফিচার। যেখানে এক গবেষকের চোখ দিয়ে পরিচালক দেখিয়েছেন, নেতাজিও মরণশীল!
দর্শকের ইচ্ছে হলে ‘গুমনামি’ দেখবেন। দেখে নিজেরাই বিচার করবেন— কোনটা বেশি বড়? একটা মানুষের ‘আদর্শ’ নাকি তিনি ‘নশ্বর’ তা প্রমাণ হওয়ার!
অনির্বাণ ভট্টাচার্য, আপনার অভিনয় সত্যিই ভালো। নেতাজি সম্পর্কিত যে কোনও বই, লেখা, গবেষণা পড়তে শুরু করলেই পাঠকের শিরায় শিরায় রক্তপ্রবাহ বাড়ে। বেড়ে যায় হৃদস্পন্দন। অস্থির, উত্তেজিত হয়ে পড়ে মস্তিষ্ক। কিন্তু বাইরে থেকে সেসব দেখা যায় না। অথচ চন্দ্রচূড় ধরের চরিত্রে আপনার অভিব্যক্তিতে, চোখের ভাষায় তা দেখা যাচ্ছিল! ছোঁয়া যাচ্ছিল। তনুশ্রী চক্রবর্তীকে বেশ গ্ল্যামারাস মনে হয়েছে। আর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এমনিতেই বলিষ্ঠ অভিনেতা। তাঁর সম্পর্কে আলাদা করে আর কী বলব!
এই ছবির সম্পদ আসলে গান আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। সোনু নিগমের কণ্ঠে ‘সুভাষজি’ বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়। ‘ধন ধান্য পুষ্পে ভরা...’ গানের ব্যবহার যথাযথ। জন গণ মন অধিনায়কের হিন্দি তর্জমা ‘শুভ সুখ চ্যায়েন’ চমৎকৃত করে। এই গানের রেশ থেকে যায় দীর্ঘসময় ধরে, যতক্ষণ না মনে পড়ে, ফৈজাবাদের এক সাধুকে অনেকে নেতাজি মনে করতো, আবার কেউ কেউ তাকে খুনের আসামি বলেও সন্দেহ করতো! আকিরা কুরোসাওয়া কি সত্যকে নানা দৃষ্টিকোণে দেখাতে গিয়ে এই খুনের অভিযোগটি এড়িয়ে যেতেন?
পাসওয়ার্ড
বার্তা প্রেরক ‘পাসওয়ার্ড’। প্রাপক দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি। দারুণ অ্যাকশন, মন মাতানো সঙ্গীত- এই রেসিপিতেই গোটা দেশকে মাত করে এসেছে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি। এবার তাদের একটু দেখার পালা। কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘পাসওয়ার্ড’ আক্ষরিক অর্থেই ছকভাঙা কমার্শিয়াল বাংলা ছবি। ভাবনা, অ্যাকশন, ভিএফএক্স সবক্ষেত্রেই এই ছবি দশে বারো পাওয়ার যোগ্য। এক্ষেত্রে পাঠককে মনে রাখতে হবে, তিনি পুরোদস্তুর একটি কমার্শিয়াল ছবি দেখতে যাচ্ছেন। আল্লু অর্জুনদের ছবি দেখার সময় যেমন যুক্তিকে কুলুঙ্গিতে তুলতে হয়, এক্ষেত্রেও তা বাঞ্ছনীয়। দক্ষিণী ছবির অ্যাকশন দৃশ্যের গুণ গেয়ে যদি দর্শক ‘পাসওয়ার্ড’ দেখে নাক সিঁটকান তবে তা নিছকই ভণ্ডামি। ‘পাসওয়ার্ড’ বাংলা ছবির বাঁক বদল করবে না, কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিকে কাঁধের বাঁকে নিয়ে এগবে নিঃসন্দেহে।
বাংলা ইন্ডাস্ট্রি যে ভেন্টিলেশনে দর্শক মাত্রেই জানেন। মূল ধারার বাণিজ্যিক ছবি চলছে না। প্যারালাল ছবি তৈরি হওয়াও প্রায় বন্ধ। মধ্যপন্থী ছবিগুলিই ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দেব-কমলেশ্বর জুটির থেকে মাস্টারপিস আশা করা মূর্খামি। কিন্তু এই ভিন্নধর্মী চেষ্টার জন্য সাধুবাদ দিতেই হবে। তাঁদের ‘পাসওয়ার্ড’ স্মার্ট, নিউ এজ কমার্শিয়াল ছবি, যা এই মুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রির জন্য জরুরি। গল্পকে বারবার খাবি খাইয়ে বাংলার প্রথম সাইবার ক্রাইম থ্রিলার ‘পাসওয়ার্ড’ শুরু থেকে ফোর জি স্পিডে ছুটেছে। তবে মজুত রেখেছে ভরপুর বিনোদনের মশলা। ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিটের ছবিটি এতই গতিশীল যে দর্শক গল্পের ফাঁক খুঁজে যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করার সময়ই পাবেন না। যদিও বারবার ফ্ল্যাশব্যাক আর বর্তমানের ওভারল্যাপিং সমস্যার উদ্রেক করতে পারে।
পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও পাওলি দাম জুটিকে দেখে অনেকের ‘কালবেলা’ ছবির কেমিস্ট্রি মনে পড়তে পারে। পরমের চোস্ত উর্দু শায়েরি ও হিমশীতল আচরণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে পাওলিকে আর একটু জায়গা দেওয়াই যেত। পুলিস আধিকারিকের ভূমিকায় দেব মানানসই। তবে কিছু ক্ষেত্রে তাঁর উচ্চারণ ফের ভুগিয়েছে। রুক্মিনী মৈত্র হতাশ করেননি কিন্তু ‘কবীর’-এর চরিত্রই যেন নতুন মোড়কে চালিয়ে দিলেন। ছবির সবথেকে বড় চমক আদৃত রায়। চকোলেট বয় ইমেজের সঙ্গে ভিলেনি বদমাইশি মিশিয়ে তিনি এই ছবির ‘মনস্টার’।
সঙ্গীত ছবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সম্পাদক রবিরঞ্জন মৈত্র আরও কড়া হলে এলোপাথাড়ি জাম্প কাটগুলি এড়ানো যেত। অভীক মুখোপাধ্যায়ের সিগনেচার ফোটোগ্রাফি ছবিতে অনুপস্থিত। শেষে পরিচালকের কাছে একটা অভিযোগ জানাতেই হচ্ছে। ক্লাউড সার্ভারের যুগে বিশ্বের পয়লা নম্বর হ্যাকার সার্ভার সঙ্গে করে ঘোরে, পুলিস কমিশনার র’-এর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধানকে থার্ড ডিগ্রি নিয়ে জ্ঞান দেয়, এসব হজম হওয়া মুশকিল। তবে বাংলার রোহিত শেট্টি আগামী ছবিতে আক্ষেপ মিটিয়ে দেবেন বলেই আশা।
মিতিন মাসি
প্রথমেই বলে রাখা ভালো, আপনারা যাঁরা সুচিত্রা ভট্টাচার্যের মিতিন মাসি পড়েছেন তাঁরা এই ছবি দেখে একটু ভ্রু কুঁচকোতেই পারেন। পরিচালক অরিন্দম শীল ছবির স্বার্থে কিছু কিছু জায়গা বদলে দিয়েছেন। ‘হাতে মাত্র তিনটি দিন’ গল্প অবলম্বনে তৈরি এই ছবি। এখানে মিতিন, মানে প্রজ্ঞাপারমিতা মুখার্জি (কোয়েল মল্লিক) যেমন শাড়ি পরে, তেমনই আবার শার্ট-প্যান্টও পরে। সে তার পেশীর জোরে খারাপ লোকেদের ঘায়েল করতে পারে। স্নিকার পরা পায়ের এক টোকাতে গাড়ির দরজা বন্ধ করে দিতে পারে। যাই হোক! ক্যামেরার সামনে মেকআপ করে দাঁড়ালেই তো বেশি ভালো দেখায়। এই পরিবর্তনগুলো সেই মেকআপের সমান হিসেবে ধরা যেতেই পারে। কলকাতা নিবাসী পার্সি ব্যবসায়ী রুস্তমজি জরিওয়ালার (বিনয় পাঠক) আট বছরের ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। সেই কারণেই মিতিনের শরণাপন্ন হয়েছে রুস্তমজি।
মিতিন এবং তার সহকারী বোনঝি টুপুর (রিয়া বণিক) আঁকা বাঁকা পথ দিয়ে হেঁটে অপরাধী পর্যন্ত পৌঁছনোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। মাঝেমধ্যে তার স্বামী পার্থও (শুভ্রজিত্ দত্ত) তাদের কাজে মগজ লাগায়। গল্প তার নিজের ঢঙে এগতে থাকে। কখনও রহস্যের পোড়া গন্ধ আবার কখনও গল্পের মধ্যে ঝাঁঝালো বাক্যালাপ আসতে থাকে। যেমন, পরিচালক গল্পের মাঝে মিতিন আর পার্থর ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যাও ছুঁয়ে গিয়েছেন আবার কিছু সামাজিক বদ্ধমূল ভুল ধারণাকেও কাউন্টার করেছেন। সব মিলিয়ে পরিচালক দর্শকদের সিটে বসিয়ে গল্পের পুরো বাগানটি ঘুরে ঘুরে দেখিয়েছেন। পুজোর ছুটিতে ভিড় ঠেলে প্যান্ডেল ঘোরার চেয়ে সপরিবারে এই ছবির গল্পের বাগান ঘুরে দেখা অনেক ভালো এবং আরামদায়ক। স্কুলে পড়া বাচ্চা থেকে শুরু করে তাদের বাড়ির লোক, সবারই সরু চোখে মিতিনের কিডন্যাপার ধরার গল্প পর্দায় দেখতে মন্দ লাগবে না। একটা সময় সঙ্গীত পরিচালক বিক্রম ঘোষের মিউজিক পরিচালক এবং দর্শকদের মাঝে জোরালোভাবে যোগদান করে। এর ফলে স্লগওভারে ঢাকের বাদ্যির সঙ্গে কাঁসর ঘণ্টার আওয়াজও যোগ হয়ে যায়। পাশে বসে থাকা ক্লাস ফাইভের দুরন্ত ছেলে হয়তো তখন মায়ের হাতটা শক্ত করে ধরে ফেলে।
অভিনয়ের ক্ষেত্রে, কোয়েলকে মিতিন মাসি রূপে মেনে নিতে অসুবিধা হয় না। পার্সি ব্যবসায়ীর চরিত্রে বিনয় পাঠক বেশ ভালো, তার স্ত্রীয়ের চরিত্রে জুন মালিয়াও মন্দ নয়। পার্থর চরিত্রে শুভ্রজিত্ দত্ত যথাযথ। টুপুরের চরিত্রে রিয়া বণিক বেশ সপ্রতিভ। শুভঙ্কর ভরের ক্যামেরাও বেশ ভালো। সবশেষে যে কথাটা বলতেই হয়, বাঙালিকে গোয়েন্দা দিয়ে বশ করার এক অদৃশ্য চাবিকাঠি এবারও অরিন্দম শীলের পকেটেই বহাল তবিয়তে গচ্ছিত থাকল।
সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ
সাহিত্যের কোনও কোনও চরিত্র কখনও-সখনও রক্তমাংসের হয়ে ওঠে। পাঠক তার বাস্তবিক উপস্থিতি উপলব্ধি করতে শুরু করেন। সে রামায়ণের রামই হোক বা সাহিত্যিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অমরসৃষ্টি ব্যোমকেশ বক্সী— বাঙালির কাছে এই সত্যান্বেষীর উপস্থিতি প্রবল। আর সাহিত্য যখন সেলুলয়েডে রূপ নেয় তখন পরিবর্তন-পরিবর্ধন-পরিমার্জন অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু সেই পরিবর্তন কতটা সিনেম্যাটিক ও যুক্তিযুক্ত হল সেটাই বড়সড় প্রশ্ন।
পুজোর ছবির বাজারে আবারও পদচারণা করলেন বাঙালির প্রিয় গোয়েন্দা ব্যোমকেশ। এবারে নতুন পরিচালক— সায়ন্তন ঘোষাল। স্বভাবতই কাস্টিংয়ে বড়সড় রদবদল। ‘ব্যোমকেশ’ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ‘অজিত’ রুদ্রনীল ঘোষ। ছবির নাম ‘সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’। যেটি ‘মগ্ন মৈনাক’ গল্প অবলম্বনে তৈরি।
যাঁরা ব্যোমকেশের একনিষ্ঠ পাঠক, তাঁদের গল্পটি জানা। আর যাঁরা গল্পটি পড়েননি, তাঁদের উদ্দেশে বলতে হয় গোয়েন্দা ছবির গল্প বলতে নেই, তাতে রসভঙ্গ হয়। তবে, পরিবর্তনটা অবশ্যই আলোচনাযোগ্য। ‘স্বাধীনতা লাভের পর পনেরো বছর অতীত হইয়াছে...’ লাইনটি দিয়ে ‘মগ্ন মৈনাক’ গল্পটির শুরু। অর্থাৎ শরদিন্দুর এই গল্পটির প্রেক্ষাপট ১৯৬২ সাল। তবে, ‘যকের ধন’, ‘আলিনগরের গোলকধাঁধা’র পরিচালক তাঁর ‘সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’ ছবিতে গল্পটি ১৯৭১ সালে নিয়ে গিয়ে ফেঁদেছেন। এনেছেন এপার বাংলার নকশাল আন্দোলন এবং ওপার বাংলার মুক্তিযুদ্ধের অনুষঙ্গ। মূল গল্পে কংগ্রেসী নেতা (দলের নাম উল্লেখ না থাকলেও ইঙ্গিতে বোঝা যায়) সন্তোষ সমাদ্দার পরিবর্তিত হয়ে ছবিতে হয়েছে যুক্তফ্রন্ট সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী সন্তোষ দত্ত (সুমন্ত্র মুখোপাধ্যায়)। গল্পের পরিণতি মোটামুটি একই রাখলেও শিল্পীর স্বাধীনতা নিয়েছেন চিত্রনাট্যকার।
তবে, যেহেতু একটি বিশেষ সময়কে প্রেক্ষাপট করে গল্পটি এগিয়েছে তাই ইতিহাস রক্ষার দায়বদ্ধতা অবশ্যই পরিচালকের ছিল। ’৬৭ ও ’৬৯ সালে এ রাজ্যে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয়েছিল। ’৭১ সালে মাস তিনেকের জন্য অজয় মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন একটি জোট সরকার গঠিত হয়েছিল। যেহেতু ছবির গল্পে সন্তোষ দত্তকে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী দেখানো হয়েছে, তাই ধরে নিতে হয় ’৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে গল্পটি দেখানো হচ্ছে। সন্তোষ দত্ত বার বার সামনে ভোটের কথা বলছেন। অথচ, ইতিহাস বলছে, ওই সরকারের পতন হয়েছিল রাষ্ট্রপতি শাসনের মাধ্যমে। এ রাজ্যে ১৯৭১ সালের ২৯ জুন থেকে ’৭২-এর ২০ মার্চ পর্যন্ত চলেছিল রাষ্ট্রপতিশাসন। আবার মন্ত্রীমশাইয়ের বাড়ির ছাদ থেকে গঙ্গা আর বালির ব্রিজ দেখা যায়। গঙ্গার ওপারে দক্ষিণেশ্বর মন্দির থেকে ভেসে আসে ঘণ্টাধ্বনি। তাহলে ধরে নিতে হয় সন্তোষ দত্তের বাড়ি হাওড়ার বালি অঞ্চলে। অথচ, এই বাড়ির নেংটি দত্ত নামে কিশোর মাঝে মধ্যে সিগারেট আর বইয়ের লোভে দক্ষিণ কলকাতার কেয়াতলায় ব্যোমকেশের বাড়িতে ঢুঁ মারতে যায়! এককথায় বললে ‘টাইম অ্যান্ড স্পেস’ বেশ গুলিয়েছে। আবার চোখের সামনে পড়ে থাকা গুলিবিদ্ধ আইবি অফিসারকে একবারও বাঁচানোর চেষ্টা হল না— এটাও ঠিক ব্যোমকেশসুলভ আচরণ নয়।
প্যান্ট-শার্ট পরা দৃশ্যগুলিতে পরমব্রতকে একটু কমবয়সি মনে হলেও ধুতি-পাঞ্জাবিতে তাঁকে ব্যোমকেশ চরিত্রে বেশ মানিয়েছে। রুদ্রনীলও যথাসাধ্য অজিত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই জুটির ভবিষ্যৎ কী হয় দর্শক বলবেন। মন্ত্রীর সেক্রেটারি রবি বর্মার চরিত্রে অঞ্জন দত্ত যথাযথ। মন্ত্রীর চরিত্রে সুমন্ত্রও ভালো কাজ করেছেন। আবহসঙ্গীত ও সম্পাদনাও ঠিকঠাক। তবে, পুরো ছবিতে আগাগোড়া একটা সিফিয়া টোন রাখা হয়েছে। টাইটেল কার্ডও বেশ চমকপ্রদ। তবে, নতুন ‘টিম ব্যোমকেশ’ বক্সঅফিসের রহস্যভেদ করতে পারবেন কিনা, সেটা জনতা জনার্দনই বলবেন।
ওয়ার
গত কয়েকদিন ধরেই রীতিমতো বাংলা ছবির দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছিল ‘ওয়ার’। পুজোর আগে এই ছবির চাপে প্রেক্ষাগৃহে বাংলা ছবি কোণঠাসা! কিন্তু যুদ্ধের ভয়ে বাংলা ছবির আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হবে কি? মনে হয় না। ধুন্ধুমার অ্যাকশন, বিদেশের অসাধারণ সব লোকেশন। তার থেকেও বড় কথা বড়পর্দায় বলিউডের দুই স্টাইল আইকনের ডুয়েল— ‘ওয়ার’ এর মধ্যে একটা স্মার্ট অ্যাকশন ছবির সব মশলাই উপস্থিত। অর্থাৎ বক্সঅফিসে রেকর্ড রোখে সাধ্যি কার। কিন্তু রকমারি মশলা থাকলেও পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের রান্নায় অতিরিক্ত নুন ঢেলেছে ছবির গল্প। ভারতের এক ইন্টালিজেন্স সংস্থার অফিসার কবীর (হৃতিক রোশন) হঠাৎই সংস্থার বিরোধিতা শুরু করে। সহকর্মী ও সেনার এক অফিসারকে খুনও করে সে। কিন্তু কেন? কবীরকে গ্রেপ্তার করতেই সংস্থা নিয়োগ করে একসময়ে কবীরেরই ছাত্র খালিদকে (টাইগার শ্রফ)। এরপর আড়াই ঘণ্টা পর্দা জুড়ে শুধু গুরু-শিষ্যর লড়াই।
হৃতিক ও টাইগার দু’জনকেই পছন্দ হবে দর্শকের। অ্যাকশন, বুদ্ধিমত্তা, নাচ—সবেতেই তাঁরা যেন একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছেন। কিন্তু স্টাইল, স্মার্টনেস বা কমিক টাইমিংয়ে টাইগারকে টেক্কা দিয়েছেন হৃতিক। পরিচালকও হয়তো সেটাই চেয়েছিলেন। আর কাঁচাপাকা চুল ও রকমারি সানগ্লাসে হৃতিক যদি এই ছবির স্টাইল কোশেন্ট হন,তাহলে বলতে হয় টাইগার তাঁর ঘাম ঝড়ানো স্টান্টে নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করে নিতে পেরেছেন। কিন্তু ছবির প্রথমার্ধ যে কৌতূহল তৈরি করে তা দ্বিতীয়ার্ধের ‘বড় বড়’ ট্যুইস্ট সামনে আসতেই উবে যায়। তাছাড়া ছবির বেশকিছু ঘটনাই যুক্তিহীন। একাধিকবার গুলি খেয়েও নায়ক বেঁচে যাচ্ছে। মিসাইলের টাইমার শূন্য হতে মাত্র পাঁচ সেকেন্ড, অথচ নায়ক দামী গাড়ি নিয়ে পালাতে সক্ষম! এই যথেষ্ট। কারণ আর বললে সমস্ত চমকই নষ্ট হতে পারে। ‘ওয়ার’ এর থিম যদি ‘দ্য নভেম্বর ম্যান’ ছবির কথা মনে করায়, তাহলে বলতে হবে পরিচালক এই অ্যাকশন থ্রিলারকে হলিউড ধাঁচে গড়ে তুলতে কোনও কসুর করেননি। অ্যাকশন ও চেজ সিকোয়েন্সগুলো দেখার সময় ‘মিশন ইমপসিবল’, ডার্ক নাইট সিরিজ বা ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস সিরিজের মতো বিখ্যাত ছবিগুলোর কথাও মনে পড়ে!
বাণী কাপুরকে (নয়না) এই ছবিতে ক্যামিও চরিত্রে কেন রাখা হয়েছে তা বোঝা মুশকিল। মেরেকেটে পর্দায় তাঁর দশ মিনিটের উপস্থিতি। ইন্টালিজেন্স সংস্থার চিফ কর্নেল লুথরার চরিত্রে আশুতোষ রানা যথাযথ। সোনি রাজদানকে পরিচালক ব্যবহারই করেননি। ছবির গানগুলো পছন্দ হলেও চিত্রনাট্যে তাদের গ্রহণযোগত্য নিয়ে দর্শকদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে। তবে ছবির আবহসঙ্গীত বেশ ভালো। আসলে বলিউডের নিরিখে ‘ওয়ার’ নির্মাতাদের উচ্চাকাঙ্খা মাত্র। যাঁরা এর আগে আন্তর্জাতিক স্পাই থ্রিলার সেইভাবে দেখেননি তাঁদেরকেই টার্গেট করতে চেয়েছিলেন পরিচালক। তাঁর প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানানো উচিত। কিন্তু আজকে ইন্টারনেটের কল্যাণে বিদেশি অ্যাকশন থ্রিলারের ভক্তদের কাছে এই ছবি কতটা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অগত্যা ভরসা সেই হৃতিক-টাইগারের ফ্যানমহল।
জোকার
গথাম শহর জ্বলছে। দাঙ্গা লেগেছে শহর জুড়ে। দুর্ঘটনায় ক্ষত বিক্ষত পুলিস গাড়ির বনেটের উপর দাঁড়িয়ে আহত আর্থার ফ্লেক (মুখে জোকারের মেকআপ), দুলছে এক আশ্চর্য নাচের ভঙ্গিমায়। মুখের রক্ত মেখে নিচ্ছে ঠোঁটে, তাই দিয়ে চওড়া করে নিচ্ছে তার হাসি। জেগে উঠছে আরও শয়ে শয়ে জোকার। গথাম শহরে কি তবে জোকার মুভমেন্টের শুরু?
টড ফিলিপসের হাত ধরে সেলুলয়েডে ‘ব্যাটম্যান ব্যাডি’ জোকার। ডি সি স্ট্যান্ড অ্যালোন সিরিজের প্রথম ছবি। এই প্রথম শুধু জোকারকে নিয়ে এক আদ্যোপান্ত গল্প বুনেছেন টড ফিলিপস আর স্কট সিলভার।
ছবির শুরুতে ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’-এর রেট্রো লোগো দেখলেই এই ছবির সময়কাল বুঝতে বাকি থাকে না কারও। আটের দশকের গথাম শহর। ময়লাকুড়ুনিরা ধর্মঘট ডেকেছে। সারা শহরে ময়লার স্তূপ। ধেড়ে ইঁদুরের আনাগোনা। এমনই হাল যে থমাস ওয়েন (গথামের সম্ভাব্য মেয়র) পারলে হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা খুঁজে ধরে আনবেন। শহর জুড়ে এই আবর্জনার স্তূপ যতটা আক্ষরিক ততটাই রূপক। যে শহর জুড়ে ইমার্জেন্সি, যেখানে মানুষ দিনরাত চাকরির জন্য হন্যে সেই শহরে আর্থার ফ্লেক (জোয়াকিন ফিনিক্স) এক পার্টি ক্লাউন। মানুষের দুঃখকে সাময়িক দূর করতে যার চেষ্টা সেই ক্লাউনের মুখে হাসি কিন্তু চোখ দুটো বিষাদে ভরপুর।
এ ছবি ফ্লেকের সাধারণ মানুষ থেকে গথামের ক্লাউন প্রিন্স হয়ে ওঠার গল্প বলে। যে গল্পের পরতে পরতে বিষাদ। যে গল্পের পরতে পরতে মাখানো ফ্লেকের আর্তনাদ মেশানো হাসি, যা কানে বাজে। এ হাসি প্রাণখোলা হাসি নয়। এ হাসি হৃদয় নিংড়ানো দুঃখের হাসি। ছবি শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও যে হাসির রেশ থেকে যায় সারা শরীর হিম করা এক শিরশিরানি অনুভূতির মতো। সাত রকমের ওষুধ খেয়েও আর্থার যখন বলে ‘আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু ফিল ব্যাড এনিমোর’ তখন তার আর্তিতে এই অভিব্যক্তি স্পষ্ট যে সমাজ থেকে ভালো থাকার আর কোন রসদই খুঁজে পাচ্ছে না সে। টড ফিলিপসের পরিচালনায় ‘জোকার’ দেখতে দেখতে একটা কথাই মনে পড়বে বারবার – ‘অল ইট টেকস ইজ ওয়ান ব্যাড ডে টু রিডিউস দ্য সেনেস্ট ম্যান অ্যালাইভ টু লুন্যাসি।’
আটের দশকের ভিন্টেজ গথাম যেন মার্টিন স্করসিসির ছবি থেকে উঠে আসা কোনও দৃশ্য। এ ছবি দেখে বোঝা যায় যে, স্করসিসির ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ কতটা অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে পরিচালককে। আর এই ভিন্টেজ গথামের বুকে দাঁড়িয়ে একটু একটু করে প্রতিনিয়ত বিষাদে তলিয়ে যাওয়া ফ্লেকের গল্প জোয়াকিনের ছোঁয়ায় এক আশ্চর্য মানবিকতার গল্প হয়ে উঠতে থাকে। এত দুঃখের মধ্যে দাঁড়িয়েও সে হাসে। হাসতেই থাকে। চাকরি চলে যাওয়ার পর দেওয়ালে লেখা ‘নেভার ফরগেট টু লাফ’ এর ফরগেট টু অংশটুকু কালো কালি দিয়ে ঢেকে দিতে দিতে সে হাসে। ট্রেনে তিন পুরুষ যখন এক মহিলাকে উত্যক্ত করে, তখনও সে হাসে। মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে দর্শককে জোক বলার আগেই জোরে জোরে চিৎকার করে হাসতে থাকে জোকার। একাই হাসে সে। আর কেউ হাসে না। পরিচালক এই গল্পে আর্থারকে এক আজব অসুখ দিয়েছেন। ‘প্যাথলজিক্যাল লাফটার’। সে এক দম বন্ধ হয়ে আসা হাসি। আর্ত চিৎকার মেশানো হাসি।
এই ‘জোকার’এর সঙ্গে হিথ লেজার অভিনীত জোকারের কোনও তুলনা চলে না। বরং জ্যাক নিকলসনের জোকারের চরিত্রায়নের সঙ্গে কিছু মিল পাওয়া যায়। সিনেমা জগতে জোয়াকিন ফিনিক্সের মাস্টারপিস অভিনয় হয়ে থেকে যাবে এই ফ্লেক থেকে জোকার হয়ে ওঠার গল্প। ফ্লেকের অসহায়তা থেকে ক্লাউন প্রিন্স হয়ে ওঠার কনফিডেন্স জোয়াকিনের প্রতিটি শারীরিক ভঙ্গিমায় ফুটে উঠেছে পরিষ্কার।
এই চরিত্রে অভিনয় করার জন্য প্রায় ২৫ কেজি ওজন কমিয়েছেন তিনি। খালি গায়ে পাঁজরের হাড় স্পষ্ট। চোখে বিষাদ, দম বন্ধ করা হাসি, হঠাৎ নাচের ভঙ্গিমা আর সবকিছু ছাপিয়ে সেই সিগনেচার জোকার ওয়াক—প্রতি দৃশ্যে তিনি বুঝিয়ে দেবেন যে এ ছবি তাঁকে ছাড়া প্রায় অসম্ভব ছিল। জোয়াকিন ছাড়া এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে হিলদুর গুয়ানাদতিরের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, যার রেশ হল থেকে বেরিয়েও থেকে যাবে।
টক শো হোস্ট মারে ফ্র্যাঙ্কলিনের চরিত্রে রবার্ট ডি নিরোকে যথাযথ ব্যবহার করেছেন পরিচালক। এমনকী, আর্থারের মা পেনি ফ্লেকের চরিত্রে ফ্রান্সেস কনরয়কেও ভালো লাগবে। লরেন্স শেরের সিনেমাটোগ্রাফি ও জেফ গ্রথের সম্পাদনা ছবিকে যোগ্য সঙ্গত করেছে।
এই ছবি বিষন্নতার প্রতীক। তাই ছবির নামও প্রতীকী। ‘দ্য রিচ আর টেরিবল অ্যান্ড দ্য পুওর আর মিজারেবল’ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা কোথাও কোথাও। আর তাই এই সামাজিক, মানসিক উত্তাল সময়ে দাঁড়িয়ে এই ছবি শুধু সিনেম্যাটিক ভিশনে আটকে থাকে না। ছবির টাইমিং হয়ে ওঠে অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ।
টড ফিলিপসের জোকার এক মানসিক অবস্থানের গল্প বলে। এমন এক অবস্থানের কথা বলে যা আপাতভাবে মানসিক ভ্রম মনে হলেও চকচকে মোড়কের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কঠিন বাস্তব। ছবিতে ফিলিপস তাঁর জোকারের চরিত্রকে বিচার করার চেষ্টা করেননি। বরং তাকে সহানুভূতির চোখে দেখার চেষ্টা করেছেন। আবার সহানুভূতির চোখে দেখতে গিয়ে তাকে আইডলাইজও করে ফেলেননি। আর সবকিছু ছাপিয়ে তিনি এই ছবিতে জোকারের যে পোর্ট্রেট আঁকতে চেষ্টা করেছেন সেটাই দেখার। সেখানেই এই ছবির ম্যাজিক লুকিয়ে।
09th  October, 2019
ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতায়
বর্ষযাপন বিরুষ্কার

দেখতে দেখতে বছর দুই কেটে গেল। ২০১৭ সালে এরকম এক ১১ ডিসেম্বর সুদূর ইতালিতে বিরাট কোহলি এবং অনুষ্কা শর্মা সারাজীবন একসঙ্গে থাকার শপথ নিয়েছিলেন। তাঁরা হয়ে উঠেছেন বলিউডের হ্যাপেনিং কাপলদের মধ্যে অন্যতম। একজন ব্যস্ততম ক্রিকেটার, ভারতীয় দলের অধিনায়ক।
বিশদ

সেরা অভিনেত্রীর শিরোপা পেলেন শেফালী

 সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অ্যানুয়াল আশিয়ান অ্যাকাডেমি ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডে রিচি মেহেতা পরিচালিত ‘দিল্লি ক্রাইম’ ওয়েব সিরিজটির জয়জয়কার। মুখ্য চরিত্রের অভিনেত্রী শেফালী শাহ সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন।
বিশদ

 অসুস্থ শাহিদ, পিছিয়ে গেল শ্যুটিং

  বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে রয়েছেন শাহিদ কাপুর। চিকিত্সকরা তাঁকে এই মুহূর্তে সমস্ত কাজ স্থগিত রেখে সম্পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু কাজ বড় বালাই! সম্প্রতি একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাঁকে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কাজও করতে হয়েছে। সূত্রের খবর, শাহিদ তাঁর কাজের বিষয়ে অত্যন্ত পেশাদার।
বিশদ

 যশরাজ ক্যাম্পে শালিনী পাণ্ডে

 রণবীর সিং অভিনীত ‘জয়েশভাই জোরদার’ ছবিতে অভিনয় করতে চলেছেন শালিনী পাণ্ডে। জনপ্রিয় তেলুগু ছবি ‘অর্জুন রেড্ডি’ ছবি দিয়ে তাঁর পথ চলা শুরু হয়েছিল। ‘জয়েশভাই জোরদার’ ছবির হাত ধরে তিনি বলিউডে যাত্রা শুরু করতে চলেছেন।
বিশদ

ওয়েব সিরিজে মহেশ ভাট

  মহেশ ভাট এই মুহূর্তে ‘সড়ক’ ছবির দ্বিতীয় কিস্তি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। ছবির সিক্যুয়েলে আলিয়া ভাট এবং আদিত্য রায় কাপুর অভিনয় করছেন। শ্যুটিং চলছে জোরকদমে। এখন খবর পাওয়া যাচ্ছে, মহেশ ভাটের বিশেষ ফিল্মস নাকি খুব তাড়াতাড়ি জিও স্টুডিওর সঙ্গে গাঁটছড়া না বেঁধে একটি ওয়েব সিরিজ তৈরি করতে চলেছেন।
বিশদ

 ফের নাগিনের ছোবল!

 সুপ্রিয় নায়েক: কথায় আছে, রাত্রি হলে তাদের নাম করতে নেই। বলতে হয় ‘লতা’। তবে শীতকালে নাকি অত ভয় থাকে না! সাপেরা চলে যায় শীতঘুমে! তবে নাগিনদের ক্ষেত্রে কি সেসব তত্ত্ব খাটে? বিশদ

 ত্রিকোণ প্রেম

  সান বাংলার ‘বেদের মেয়ে জোৎস্না’ ধারাবাহিকে নতুন মোড়। গল্পে ত্রিকোণ প্রেমের ছোঁয়া। কীভাবে? আসলে গল্পে রোহিণী ও অগ্নি নামে দুই চরিত্রের প্রবেশ ঘটছে। এই দুই চরিত্রে অভিনয় করছেন যথাক্রমে শ্রীমা ভট্টাচার্য ও অর্কজ্যোতি পাল। বিজয়নগরের এক মেলায় রোহিণী, অগ্নি ও মোহিনীর দেখা হয়।
বিশদ

সুপারহিরো নাগরাজের চরিত্রে রণবীর?

মাত্র কয়েকদিন আগে রণবীর সিং বলিউডে তাঁর কেরিয়ারের ৯ বছর পূর্ণ করলেন। ২০১০ সালে ‘ব্যান্ড বাজা বারাত’ ছবির মাধ্যমে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল। তারপর থেকে পুরোটাই ইতিহাস। এখন শোনা যাচ্ছে, রণবীরের কাছে নাকি সুপারহিরো নাগরাজের চরিত্রে অভিনয় করার অফার এসেছে। বিশদ

কন্যাসন্তানের পিতা হলেন কপিল শর্মা 

গত বছর ডিসেম্বর মাসে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন কমেডিয়ান কপিল শর্মা। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই কন্যা সন্তানের বাবা হলেন কপিল। তিনি নিজেই মঙ্গলবার সকালে ট্যুইট করে এই কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি সদ্যোজাতর জন্য সকলের আশীর্বাদ কামনা করেছেন। অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কপিলকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন।
বিশদ

11th  December, 2019
আইনি জটিলতায় মর্দানি ২ 

কোটা শহরের এক জনৈক ব্যক্তি রানি মুখোপাধ্যায়ের ‘মর্দানি ২’ মুক্তির উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে রাজস্থান হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেছেন। তসলিম আহমেদ নামক ওই ব্যক্তির মতে টিজার দেখে ছবির যা বিষয়বস্তু বোঝা যাচ্ছে, সেটি খুবই আপত্তিকর। কোটা শহরের প্রেক্ষাপটেই ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।  
বিশদ

11th  December, 2019
ট্রেলার লঞ্চে এসে কেঁদে ফেললেন দীপিকা 

দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ‘ছপাক’ ছবির ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে উত্সাহর সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে নেটিজেনরা ছবিটি নিয়ে রীতিমতো উত্তেজিত। ছবিতে দীপিকার চরিত্রের নাম মালতী। ছবির ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠানে চরিত্রে নিয়ে কথা বলার সময় দীপিকার চোখ চিকচিক করে উঠল। 
বিশদ

11th  December, 2019
পরমব্রত পরিচালিত বায়োপিকে নিজে অভিনয় করছেন না সৌমিত্র 

বলিউডের মতো টলিউডেও এখন বায়োপিক তৈরির ধুম। বিনয়-বাদল-দীনেশ,পদ্মশ্রী সুভাষিণী মিস্ত্রির ওপর বায়োপিক তৈরি হচ্ছে। এবার শোনা যাচ্ছে, বাংলা ছবির জীবন্ত কিংবদন্তি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বায়োপিক তৈরি হবে। এই ছবিটি পরিচালনা করছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।
বিশদ

11th  December, 2019
একটা দৃশ্যের জন্য কেরিয়ারে অর্জিত সম্মান নষ্ট করতে পারব না! 

২০১৯ সালটা বেশ ব্যস্ততার মধ্যে দিয়েই কাটল তাঁর। এক বছরে পাঁচটা ছবি মুখের কথা নয়। উপরি পাওনা আরও একটাতে গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স। ভাইজানকে সঙ্গে নিয়ে এবার আসছেন ‘দাবাং ৩’তে। তার আগে আমাদের প্রতিনিধি শামা ভগতের সঙ্গে কথা বললেন সোনাক্ষী সিনহা। 
বিশদ

11th  December, 2019
তিক্ত সম্পর্কের জেরে সারার সঙ্গে শ্যুটিং করবেন না কার্তিক 

কার্তিক আরিয়ান এবং সারা আলি খানের প্রণয়ের সম্পর্ক নিয়ে একটা সময় মিডিয়া উত্তাল হয়েছিল। ইমতিয়াজ আলির ‘লাভ আজ কাল’-এর সিক্যুয়েল ছবির শ্যুটিংয়ের সময় তাঁদের বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। তাঁরা তাঁদের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতেন। সব ঠিকঠাকই ছিল। হঠাত্ করেই কোথায় যেন তাল কাটল। 
বিশদ

10th  December, 2019
একনজরে
 রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ১১ ডিসেম্বর (পিটিআই): রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রধান অ্যান্তোনিও গুতেইরেস চান, কোনও দেশের সরকারই যেন বিভেদমূলক আইন কার্যকর না করে। তবে, ভারতের লোকসভায় পাশ হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সম্পর্কে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। ...

বিএনএ, রায়গঞ্জ: কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে বিপর্যয়ের পর উত্তর দিনাজপুরে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে সাংগঠনিক দুর্বলতা, দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব, লোকসভা নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের সমর্থন কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটা হারিয়ে ফেলায় কার্যত দিশেহারা গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্ব।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া হতে দেরি হওয়ার অভিযোগে বুধবার বিকেলে ফুলেশ্বরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভাঙচুর চালাল রোগীর আত্মীয়রা। এই ঘটনাকে ...

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা ক্রীড়াঙ্গণে অস্থায়ীভাবে ক্রিকেট পিচ করা হল। শহরের ক্রিকেট খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্যই অস্থায়ীভাবে এই পিচ করেছে শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদ। স্টেডিয়াম থেকে ক্রিকেট খেলা চাঁদমনির মাঠে স্থানান্তর করার পর অনেক অসুবিধায় পড়তে হয় শিলিগুড়ি ক্রিকেট খেলোয়াড়দের।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

আত্মবিশ্বাস এত বৃদ্ধি পাবে যে, কোনও কাজই কঠিন মনে হবে না। সঞ্চয় বেশ ভালো হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯১১: রদ হল বঙ্গভঙ্গ
১৯১১: নতুন রাজ্য হল বিহার ও ওড়িশা
১৯১১: কলকাতা থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত হল দিল্লিতে
১৯৫০: অভিনেতা রজনীকান্তের জন্ম
১৯৫৭: পূর্ব রেলে ইএমইউ ট্রেনযাত্রা চালু
২০০৫: পরিচালক রামানন্দ সাগরের মূত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৪ টাকা ৭১.৭৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৪৭ টাকা ৯৪.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৫ টাকা ৮০.১৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/১৯ দিবা ১০/৪২। রোহিণী ০/২৮ দিবা ৬/২২। সূ উ ৬/১০/৪৫, অ ৪/৪৯/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১/১৬ গতে ২/৪১ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৯/১৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৬ গতে ৩/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/২৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/১০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/২৯ গতে ১/৯ মধ্যে।
২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/৫৬/৫১ দিবা ১০/৫৯/৫। রোহিণী ২/৩৮/১৪ দিবা ৭/১৫/৩৯, সূ উ ৬/১২/২১, অ ৪/৪৯/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১/২৩ গতে ২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৯/২৩ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ৩/৩৯ মধ্যে ও ৪/৩৩ গতে ৬/১৩ মধ্যে, কালবেলা ২/১০/২১ গতে ৩/৩০/১ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩১/১ গতে ১/১১/২১ মধ্যে।
১৪ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
তৃতীয় টি-২০: ৬৭ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজ জয় ভারতের 

11-12-2019 - 10:43:00 PM

তৃতীয় টি-২০: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪১/৬ (১৫ ওভার) 

11-12-2019 - 10:23:54 PM

তৃতীয় টি-২০: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯৭/৪ (১০ ওভার)

11-12-2019 - 09:54:00 PM

 তৃতীয় টি-২০: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪১/৩ (৬ ওভার)

11-12-2019 - 09:34:43 PM

 রাজ্যসভায় পাস হয়ে গেল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল
রাজ্যসভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়ে গেল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। আজ ...বিশদ

11-12-2019 - 09:24:00 PM

তৃতীয় টি-২০: ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪১ রানের টার্গেট দিল ভারত 

11-12-2019 - 08:50:10 PM