Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

পিশাচ সাধু

জয়ন্ত দে: পরমেশ্বরের অফিসে শঙ্করের সঙ্গে এক চোট হয়ে গেল সহজের। মজা করতে গিয়েই এই বিপত্তি। সুজি কিছুতেই ক্যাপ্টেনের কথাগুলো ভুলতে পারছে না। এদিকে, পরমেশ্বর বিকেলে সহজকে একজনের বাড়িতে নিয়ে গেল। তারপর... 

 ‘আমার নাম নন্দিনী। আমি শিবশম্ভু দারোগার মেয়ে।’
পরিচয়টা শুনে সহজ ভেতরে ভেতরে চমকে উঠল। কিন্তু যথাসাধ্য চেষ্টা করল স্বাভাবিক থাকার। পরমেশ্বর আগে বললে সহজ আসত না। এ কী বিড়ম্বনা!
কাজের মহিলা এল, সামনে চা আর প্লেট ভরা মিষ্টি রেখে গেল। সহজ বলল, ‘আমি শুধু চা খাব। প্লিজ মিষ্টি নিয়ে যেতে বলুন।’
‘আমি তো আপনাকে মিষ্টি দিইনি। মিষ্টি পাঠিয়েছেন আমার মা। মাকে বলুন। মা আসছেন।’
সহজ ঢোক গিলল। শিবশম্ভু দারোগার ছোটবউ। যাঁকে নিয়ে সহজের গল্প। কী মুশকিল! পরমেশ্বরদা যে এমন অবস্থায় তাকে ফেলে যেতে পারে সহজ কল্পনাতে কোনওদিন ভাবেনি।
‘নিন চা খান।’
সহজ চায়ের প্লেট টানতেই ঘরে একজন বয়স্কা মহিলা ঢুকলেন। সহজের মুখোমুখি সোফায় এসে বসলেন। বললেন, ‘তোমার গল্প আমি পড়েছি। খুব ভালো হয়েছে।’
সহজ হাসল। 
‘আমি শিবশম্ভু দারোগার স্ত্রী। তোমার গল্পের ছোটবউ।’
ভদ্রমহিলা নিজের নাম বললেন না। কিন্তু সহজ ওঁর নাম জানে সনকা। শিবশম্ভু দারোগার ছোটবউ। যাকে নিয়ে অনেক রটনা ওই এলাকায়। সহজ চুপ করে দেখছিল ভদ্রমহিলাকে। মাথার চুল ধবধবে সাদা। ঘাড় পর্যন্ত সেই চুল। বেশ পরিপাটি করে আঁচড়ানো।  হাতের মোটা পেটি সোনার চুড়ি, গলায় সরু হার, লকেটের পাথরগুলো থেকে আলো ঠিকরে বেরচ্ছে। হীরেই হবে। কানেও বসানো দুল। সেটা হীরে। আলোর বিচ্ছুরণ যেন তা জানান দিচ্ছে। 
ভদ্রমহিলা সোফার ওপর গুছিয়ে বসলেন। 
সহজ বেশ কিছুদিন ধরে এই শিবশম্ভু দারোগার বউয়ের কথা শুনে আসছে। সে ভেবেছিল কেমন হবেন, খুব জাঁদরেল টাইপের মহিলা। লম্বা হতে পারেন, অবশ্যই বেশ ভারী চেহারা হবে। বড় বড় চোখ, মোটা ভ্রু, দু’ঠোঁটও বেশ পুরু হবে। দুম দুম করে তার ঠাকুমার মতো হাঁটেন, খুব জোরে জোরে কথা বলেন। এমনই হবে। গায়ের রং খুব ফর্সা নয়, তবে কালো হবে না। কিন্তু এ বাড়িতে এসে তার সমস্ত হিসেবই উল্টে গেল। 
ভদ্রমহিলা খুব ফর্সা, মাঝারি উচ্চতা, রোগা নন রীতিমত সুন্দর চেহারা, স্লিম। এই বয়সেও টানটান। এমনভাবে হাঁটেন, যে পায়ের শব্দ কেউ পাবে না। কথা বলেন নিচু গলায়, কেটে কেটে, খুব স্পষ্ট উচ্চারণ। কথা বলার সময় দাঁত দেখা যায় না। সারা শরীরে ও উপস্থিতির মধ্যে আভিজাত্য আছে। বসে আছেন একটু বাঁ দিকে কাত হয়ে। ঠিক সহজের মুখোমুখি।
জানলে হয়তো সহজ আসত না। কোনও না কোনওভাবে এড়িয়ে যেত। ওঁর মনে হতেই পারে সহজ তাঁদের পরিবার নিয়ে কুৎসা করেছে। নাম ধাম সমস্ত পরিচয় বদলে দিলেও যে কেউ বলবে—আরে এটা তো শিবশম্ভু দারোগার গল্প। গল্পে  শিবশম্ভু হয়েছে হরিহর দারোগা। তাঁর ছোটবউয়ের নাম ছিল সনকা। গল্পের চরিত্র হয়েছে রমলা। পরিচারিকার নাম ছিল মেনকা। হয়েছে রমা। ওঁর নিশ্চয়ই এসব পছন্দ হয়নি। না হওয়ারই কথা। কে চায় নিজের পরিবারের কেচ্ছা আর পাঁচজন মানুষ জানুক।
সনকা বললেন, ‘তুমি তো বেশ বাচ্চা ছেলে! তুমি আমাদের ওই বাড়ির কথা বাবা-মায়ের কাছে শুনছ নিশ্চয়ই। ওদিকেই থাক?’
সহজ ঘাড় নাড়ল, ‘হ্যাঁ, আমি ওদিকেই থাকি। কিন্তু বাবা-মায়ের কাছে কিছু শুনিনি। তারা এসব কথা জানেন না।’
‘তবে লোকের মুখে মুখে শুনেছ? পরমেশ্বরের উচিত ছিল তোমাকে আগে আমার কাছে নিয়ে আসা। তাহলে হয়তো—।’
সহজ চায়ের কাপটা টেবিলে রাখল। বলল, ‘পরমেশ্বরদা না এনেছে ভালোই করেছে। এলে গল্পটা হয়তো হতো না।’
‘কেন হতো না? হয়তো আরও ভালো হতো। সত্যিটা জানতে পারতে। ওই যে তুমি লিখছ না, কাজের মেয়ে রমার লাশটা পাওয়া গেল— আর লাশ নিয়ে ধরপাকড় করতে এসে পুলিস কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা উদ্ধার করল। যে টাকার কোনও হিসেব নেই। সত্যিটা কি জানো, মৃত্যুটাকে ধামাচাপা দিতে পুলিসকে ওই টাকার খাজানাটা দেখিয়েছিলেন আমার স্বামীই। আমার স্বামী সারাজীবন টাকা নিয়ে নানা অন্যায় ধামাচাপা দিয়েছেন। সেভাবেই তিনি চেয়েছিলেন বিষয়টা ম্যানেজ করতে।  সেটাই করতে গিয়েছিলেন।  আর তাতেই বিপত্তি। ওদের পুলিসদের মধ্যে থেকেই শত্রুতা হয়েছিল। ওঁর ডিপার্টমেন্টের একজন কলকাঠি নেড়েছিল। নিজেদের মধ্যে পুরনো লড়াই।’ 
সনকা থামেন। বললেন, ‘মিষ্টি খাও।’
‘আমি এত মিষ্টি খাব না।’
‘তা বললে শুনব না। আস্তে আস্তে খাও। আমি তোমাকে কেন ডেকেছি জানো? তোমাকে একটা গল্প বলব। নতুন গল্প।’  
সহজ অবাক হয়ে সনকার দিকে তাকাল, তাকে ডেকেছেন নতুন একটা গল্প বলবেন বলে! 
সনকা বললেন, ‘কী শুনবে তো গল্পটা—তাহলে আমার কথা শুরু করি—।
সহজ হ্যাঁ বা না বলল না। 
‘তুমি নিশ্চয়ই আমার নামটা জানো। তুমি যখন রমলার সঙ্গে রমা করেছ। তখনই আমি বুঝছি, সনকার সঙ্গে তুমি মেনকাকে মিলিয়েছ। তবু বলি আমার নাম সনকা। এই বাড়িটা আমার। বিয়েতে যৌতুক পাওয়া। আমাদের পরিবার এখানে থাকত না। আমরা ছিলাম দ্বারভাঙায়। ওখানেই আমার বড় হয়ে ওঠা। পড়াশোনা করা। আমার বাবা ছিলেন দ্বারভাঙার এক জমিদারের ম্যানেজার। বিয়ের আগে আমি কলকাতায় এসেছি একবার। এলে এই বাড়িতেই উঠতাম। এই বাড়িটা অরিজিনালি ছিল জমিদারের। উনিই আমাকে বিয়েতে যৌতুক দেন। 
এই সময় কলকাতায় একটা খুনের ঘটনা ঘটে। খুন করে খুনি পালিয়ে যায় দ্বারভাঙায়। সেই খুনিকে ধরতে শিবশম্ভু দারোগা দ্বারভাঙায় যান। তিনি উঠেছিলেন ওই জমিদারের গেস্ট হয়ে। সেখানে তাকে পছন্দ হয়ে যায় জমিদারবাবুর। তার ছোটমেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেবেন ঠিক করেন। এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। এরমধ্যে আমাদের পরিবার ছিল না। কিন্তু বিয়ের দিন জমিদারবাবুর ছোটমেয়ে পালিয়ে যায়। এদিকে বরপক্ষের লোকজন ভোররাতে হাজির হয়ে গিয়েছে। কী হবে? তখন জমিদারবাবু আমার সঙ্গে বিয়ের ঠিক করেন। সেই বিয়েতে যৌতুক হিসেবে এই বাড়িটা আমাকে দেন। 
আমরা জানতাম না, আমার স্বামীর আগে একটা বিয়ে ছিল। সেই স্ত্রী মারা গিয়েছেন। এই বাড়িতে আসার কিছুদিন পরে জানতে পারি। কিন্তু সেটা শুনে আমাকে চুপ করেই থাকতে হয়। আমি আর কাকে বলব, আমার বলার কেউ ছিল না। কিন্তু আমার সঙ্গে আমার স্বামীর সম্পর্ক ভালো ছিল না। উনিও আমাকে পছন্দ করতেন না। আমি আমার শাশুড়ির সঙ্গেই ভালো থাকতাম। ততদিনে আমি আমার স্বামীর চরিত্র সম্পর্কে অনেক কথাই শুনে ফেলেছি। সে সময় আমি এক কাজের মহিলার কাছে শুনেছিলাম, আমার স্বামীর প্রথমপক্ষের স্ত্রীকে নাকি আমি শাশুড়ি খুন করেছিলেন। কেন এ কথা রটেছিল আমি জানি না? তবে উনি জানতেন তাঁর নামে এমন একটা রটনা আছে। সে কথা আমি একদিন ওঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। উনি চুপ করে থেকে বলেছিলেন, ঈশ্বর না করুক তোমাকে এমন কোনও পাপের বোঝা ঠেলতে হয়।
কিন্তু অদৃষ্টির কী পরিহাস— সেই পাপের বোঝা আমি এখনও পর্যন্ত ঠেলে যাচ্ছি। 
আমি আগেই বলেছি, আমার সঙ্গে আমার স্বামীর সম্পর্ক ভালো ছিল না। এই সময় আমাদের বাড়িতে কাজ করতে আসে একটি মেয়ে। মেনকা। তার সাতকুলে কেউ ছিল না। খুব শান্ত আর ভালো। কিন্তু তাকে ভালো থাকতে দিলেন না আমার স্বামী। বিষয়টা জানাজানি হতেই আমার শাশুড়ি মেনকাকে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে তার দেশের বাড়ির এক কাকার কাছে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু আমার স্বামী মেয়েটির কাকাকে চুরির অভিযোগ দিয়ে কলকাতায় টেনে নিয়ে আসেন। মেনকাকে বলেন, যদি কাকাকে বাঁচাতে চাও, আবার কাজ করতে এসো। মেনকা আবার আমাদের বাড়িতে আসে। অসহায় সে। বাপ-মা কেউ নেই। একজন কাকা ছিল, সেও জেলে। সে বাধ্য হয় আবার বাঘের খাঁচায় ঢুকতে। আমরা চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারি না। সে দিনের পর দিন আমার স্বামীর শয্যাসঙ্গিনী হয়। সে আমাদের সঙ্গেই আমাদের বাড়িতে থাকতে শুরু করে। এভাবে বছর খানেক চলে। এক বাড়িতে থাকলেও মেনকার সঙ্গে আমাদের দেখাসাক্ষাৎ কমই হতো। সে সারাদিন নীচের একটা ঘরে পড়ে থাকত। এরমধ্যে একদিন শুনলাম তার শরীর খুব খারাপ। ক্রমশ জানতে পারলাম মেনকা মা হতে চলেছে। আমার স্বামী তাকে গর্ভপাত করানো চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনও ডাক্তার রাজি হচ্ছেন না। মেনকার তখন যে অবস্থা, তখন গর্ভপাত করতে গেলে অবধারিত মৃত্যু। আমার শাশুড়ি তখন ওদের দু’জনের মাঝে আসেন। আমি ও আমার শাশুড়ি পরামর্শ দিই, মেনকাকে বিয়ে করে নিতে। আমার স্বামী রাজি হন না। মেনকাকে আমরা ওপরে তুলে নিয়ে আসি। সেবাশুশ্রূষা করি। তার একটি মেয়ে হয়। মেয়েটি বাঁচে। কিন্তু মেনকা মারা যায়। মেনকা মারা যেতেই পুলিসি হাঙ্গামা শুরু হয়। তাদের টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করতে গিয়ে আমার স্বামী তার খাজানা দেখিয়ে ফেলে। তার অসৎপথে রোজগার নিয়ে আগেই নানা কথা ছিল। এবার কিছু লোক মওকা পায়। মেনকার মৃত্যু কেস ধামাচাপ পড়ে কিন্তু হিসেব বহির্ভূত বিস্তর সম্পত্তির হদিশ পাওয়া যায়।
সেসময় আমার স্বামী চেয়েছিল মেনকার ওই মেয়েকে কোনও অনাথ আশ্রমে দিয়ে দেবে। আর বাড়িতে থাকলে আছাড় মেরে মেরে ফেলবে। আমার স্বামীর প্রথমপক্ষের দু’টি মেয়ে ছিল। তারা থাকত তাদের মামার বাড়িতে। আমার স্বামী তাদের যাবতীয় খরচ দিতেন। কিন্তু আমার কোনও সন্তান ছিল না। আমি ওই মেয়েটিকে নিয়ে এই বাড়িতে পালিয়ে আসি। উনি তখন পাগলা কুকুর। কোর্টঘর করছেন। একদিকে পরিচারিকার অস্বাভাবিক মৃত্যু, অন্যদিকে হিসেববিহীন টাকা, জায়গা জমি। ওর বিরুদ্ধে যারা নেমেছিল, তারা বেশ তৈরি হয়েই নেমেছিল। তখন আমার স্বামীর সঙ্গে আমার একটা চুক্তি হয়— আমি ওর উকিলের কথামত কথা বলে ওকে বাঁচাব। আর উনি কোনওদিন এই মেয়ের দিকে হাত বাড়াবেন না। ওকে নিয়ে আমি এই বাড়িতেই থাকব। আমি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গোপন জবানবন্দি দিই। আমাকে দিয়ে বলানো হয়েছিল—ওই হিসেব বহির্ভূত টাকা আমার। আমি এই টাকা শরীরবিক্রি করে রোজগার করেছি— যা আমার স্বামী জানতে না। উনি মুক্তি পেয়ে যান। কিছুদিন পরে আমার শাশুড়িও আমার কাছে চলে আসেন। তিনি ছেলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখতেন না। শেষদিন পর্যন্ত। এমনকী, উনি লিখিত রেখেছিলেন, ওঁর মৃত্যুর হলে যেন ওঁর ছেলেকে না জানিয়ে দাহ করা হয়। আমরা তাই করেছিলাম।’
সনকা থামেন। দু’চোখ বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকেন।
বললেন, ‘বেশ কিছুদিন পরে আমি শুনি আমার স্বামী নাকি বলেছেন—মেনকাকে মেরেছি আমি। হয়তো ওঁর প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুটা উনিই ওঁর মায়ের নামে রটিয়েছিলেন। আমার স্বামীর পক্ষে সব সম্ভব। শুনেছি, আমরা চলে আসার পর ওই বাড়িতে যা তা চলত। মদে ডুবে থাকতেন উনি। ওঁর মৃত্যুর খবর পেয়েও আমি যাইনি। শ্রাদ্ধশান্তি করিনি। আত্মীয়স্বজন এসে শ্রাদ্ধের কথা বলেছিল। আমি বলেছিলাম—আমি চাই না উনি মুক্তি পাক। উনি প্রেত হয়ে ওই বাড়িতে থাকুন। হয়তো সেখান থেকেই ভূতের বাড়ির গল্পকথা ছড়ায়। 
তোমার গল্পে তুমি অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান থেকে আমাদের মেনকা মানে রমাকে দেখিয়েছ। আমার বলা কাহিনি কিন্তু একজন পশু-পুরুষের বিপরীতে দাঁড়িয়ে কয়েকজন নারীর লড়াইয়ের গল্প— আমি, আমার শাশুড়ি আর মেনকা। আমরা তিন নারী ওই পশুর বিপরীতে লড়েছি। তুমি তিন নারীর লড়াই নিয়ে একটা নতুন গল্প লিখতে পারো। এ গল্পের আর একটি চরিত্র কিন্তু নন্দিনী, মেনকার মেয়ে। মানে আমারও মেয়ে।’
নন্দিনী এসে সনকাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরল।
সহজ চুপ করে বসেছিল। সনকা বললেন, ‘তোমার মনে হয় কোনও প্রশ্ন আছে, নির্দ্বিধায় করতে পারো।’
সহজ বলল, ‘শুনেছি, ওই বাড়ি নিয়ে মামলা হচ্ছে। যে বাড়ির সঙ্গে আপনাদের এত ঘৃণা জড়িয়ে সেই বাড়ির ভাগ চাইছেন কেন?’
‘নন্দিনী ভাগ চাইনি। আমিও না। এই মামলা মোকদ্দমা হচ্ছে ওঁর প্রথমপক্ষের দুই মেয়ের মধ্যে। তাতেই কীভাবে যেন নন্দিনীর নামও এসেছে।   আমরা কিছু চাই না। এবার তুমি মিষ্টিগুলো খেয়ে নাও।’
(চলবে)
13th  June, 2021
ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ১৫
পিশাচ সাধু
জয়ন্ত দে

শঙ্কর বলল, ‘তুমি চান্স নাও। সব পাখি মাছ খায় দোষ হয় মাছরাঙার! আমার দরকার নেই। আমার অনেক আছে।’ বিশদ

06th  June, 2021
ছাতা হারানোর পর
রিমি মুৎসুদ্দি

কলি জানত, মম্পা নিজে পড়াশোনা বিশেষ করে না। সারাক্ষণ মিটিং মিছিল নিয়েই ওর সময় কাটে। এমন মিটিং মিছিল করা ছেলের সঙ্গে কী করেই বা ও জড়াত নিজেকে? আর তাও যদি মম্পার রেজাল্টটা তেমন কিছু হতো তাহলেও কিঞ্চিৎ বিবেচনায় ওকে রাখতে পারত।  বিশদ

30th  May, 2021
ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব  ১৪
পিশাচ সাধু
জয়ন্ত দে

বিচিত্রদাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে গিয়ে একপ্রস্থ নাটক হল। যদিও শেষপর্যন্ত বিচিত্রদার কপালে বেড জুটল। নচের নানা মজার কীর্তি বর্ণিনীকে শোনাল গৌর। এদিকে, ক্যাপ্টেনের অলৌকিক শক্তি যে কমেনি, তা সহজের গল্প প্রকাশের সুবাদে আরও একবার পরমেশ্বরের গ্রুপে প্রমাণ হয়ে গেল। তারপর... বিশদ

30th  May, 2021
কালা চশমা 
শুচিস্মিতা দেব

সুমিতাকে প্রবাস জীবনের শুরুতে সংসারের বাঙালি স্বাদগন্ধ বজায় রাখতে কম মেহনত করতে হয়নি! কোথায় মেলে বাঙালি পুরুতঠাকুর... শুক্তো-মুড়িঘণ্ট, স্পেশালিস্ট বঙ্গ ক্যাটারার... গাওয়া ঘি-গোবিন্দভোগ চাল অথবা শারদীয় পত্রপত্রিকা! কর্তাটি তার নির্ভেজাল খাঁটি বাঙাল ফলে দীর্ঘ দিল্লিবাসে যাবতীয় বঙ্গসমাচার এখন সুমিতার নখদর্পণে। 
বিশদ

23rd  May, 2021
পিশাচ সাধু 
জয়ন্ত দে

ক্যাপ্টেনকে গালমন্দ করতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনল সুজি। ‘কাক হয়ে কোকিলের বাচ্চা মানুষ করবি সুজি,’ পিশাচ সাধুর মুখ থেকে বেরিয়ে এল কয়েকটি ভয়ঙ্কর শব্দ। যা তাকে সারা জীবন কুড়ে কুড়ে খাবে। এদিকে, বর্ণিনীর ফোন এল সহজের মোবাইলে বিচিত্রদার অবস্থা ভালো নয়।  
বিশদ

23rd  May, 2021
পিশাচ সাধু
জয়ন্ত দে 

সহজের কাছে চিঠিটি এসেছে ‘স্বদেশ’ পত্রিকা থেকে। সেখানে তার গল্প ছাপা হবে। এদিকে, ক্যাপ্টেনের ভবিষ্যদ্বাণী ব্যর্থ হয়েছে শুনে বেজায় খুশি সুজি। পিশাচ সাধুর শক্তি সম্বন্ধে তার বক্তব্য, ‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর’। পরের দিন সহজকে নিয়ে ক্যাপ্টেনের বাড়ি যাবে ঠিক করে সুজি।  
বিশদ

16th  May, 2021
ছোঁয়া
বিতস্তা ঘোষাল
 

অফিস থেকে বেরিয়ে নীচে বেশ খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে পর্ণা। এই দাঁড়িয়ে থাকাটা কোনও কিছুর অপেক্ষায় নয়। এটা তার অভ্যাস। আসলে একটানা চার দেওয়ালের ঘেরাটোপে কাজ করতে করতে ভীষণ হাঁফ ধরে যায়। গুমোট লাগে ঘরটা। বিশদ

09th  May, 2021
পিশাচ সাধু
ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব  ১১
জয়ন্ত দে

 

সহজের ফোনটা পেয়ে কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেলেন পিশাচ সাধু। তাহলে তাঁর খারাপ কথাগুলো মিলে গেলেও কারও ভালো ভবিষ্যদ্বাণী করলে, তা মেলে না! বঁড়শি বারবার জানতে চায় তার কী হয়েছে। অনুমান করে ফেলে ফোন করেছিল সহজ। সে স্বামীকে বোঝায়, না মিলুক, তবুও তিনি যেন মানুষকে ভালো কথাই বলেন। বিশদ

09th  May, 2021
ছোট গল্প
সম্ভবামি যুগে যুগে

 

মহাপ্রস্থানের পথে অর্জুনের পতনের পর ভীম ও যুধিষ্ঠির আরও উত্তরদিকে এগিয়ে গেলেন। সেই বরফে ঢাকা শ্বেত প্রান্তরে মৃত্যুর অপেক্ষা করতে করতে অর্জুনের মন আসন্ন স্বর্গ না নরক এই দুর্ভাবনার  থেকেও শেষজীবনের পরাজয় ও হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে রইল। তিনি চিরকালের শৌর্যাভিমানী। বিশদ

25th  April, 2021
পিশাচ সাধু
পর্ব  ১০

তেত্রিশ দিন হয়ে গেল অথচ সহজের জীবনে ক্যাপ্টেনের করা ভবিষ্যদ্বাণী মিলল না। পরমেশ্বরের কথা শুনে ক্যাপ্টেনকে ফোন করে সহজ বলে দিল, ‘আপনি ফ্লপ! আপনার ভবিষ্যদ্বাণী ফ্লপ!’ সেদিন রাতেই বাড়ি ফিরে বাবার কাছ থেকে সহজ জানতে পারল, তার নামে একটি অফিসিয়াল চিঠি এসেছে। তারপর... বিশদ

25th  April, 2021
পিশাচ সাধু

 

হঠাৎ বর্ণিনীর সঙ্গে রাস্তায় দেখা হয়ে যায় সহজের। বনির গন্তব্য বিচিত্রদার বাড়ি। সহজকে সঙ্গী করে বনি। জনগণের স্বার্থে লড়াই করতে গিয়ে বহুবার পেটানি খাওয়া বিচিত্র ঘোষাল বিশ্বাস করে, এ দেশে একদিন বিপ্লব হবেই। কথায় কথায় বিচিত্রদাও সহজকে সাবধান করে দেয়, সে যেন পিশাচ সাধুর পাল্লায় না পড়ে। বিশদ

18th  April, 2021
মিষ্টু
উৎপল দাস

রিমা ভিতরে ভিতরে জ্বলে পুড়ে মরে। এ পৃথিবীতে কেউ নেই যে তার অবস্থা বোঝে। মিষ্টুকে বিদায় না করতে পারলে যেন ওর শান্তি নেই।  বিশদ

11th  April, 2021
পিশাচ সাধু
জয়ন্ত দে
ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব   ৮

সহজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় পরমেশ্বর শান্ত গলায় বলেছিল— বিচিত্রদা সেই বিরল মানুষ যারা এখনও মনে করে বিপ্লব হবে। কখন হবে, কীভাবে হবে কেউ জানে না, শুধুমাত্র একটা স্ফুলিঙ্গ। সেই স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল হয়ে যাবে। বিশদ

11th  April, 2021
বিদিশা কি ভানুমতী?
আশিস ঘোষ

বেশি কথা বা শব্দ, আলো এখন ভালো লাগছে না। বিদিশাকে বলতেই, ও টিউব লাইট নিভিয়ে জিরো পাওয়ারের নীল আলো জ্বালিয়ে দিল। জানলার পর্দা হাওয়ায় উড়ছে। বাইরের রাস্তায় গাড়ির শব্দ। বিদিশা আমার দিকে চেয়ে আছে। কিছুই বলছে না। বিশদ

04th  April, 2021
একনজরে
নন্দীগ্রামের গঙ্গামেলার মাঠে হলদি নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ তিনজনের দেহ উদ্ধার হল সোমবার। এদিন ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কাঁটাখালি ও ১০কিলোমিটার দূরে জেলিংহাম এলাকায় ...

আগামী পয়লা জুলাই পর্যন্ত রাজ্য সরকারি অফিসে ২৫ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ চালানো হবে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অফিস কর্তৃপক্ষ কর্মীদের রোস্টার তৈরি করে তাঁদের আসার জন্য পরিবহণের ব্যবস্থা করবে। ...

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণিকে ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতের নাম নাসির মেহমুদ। ...

কোচবিহার পুরসভায় দু’শোরও বেশি ‘ভূতুড়ে’ শ্রমিক! বাস্তবে যাদের কোনও হদিশ মিলছে না। অথচ বেশ কয়েকমাস ধরে প্রতিমাসে ১৪ লক্ষ টাকা করে তাদের বেতন দেওয়া হয়েছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর ভালো যাবে না। সাংসারিক কলহ বৃদ্ধি। প্রেমে সফলতা। শত্রুর সঙ্গে সন্তোষজনক সমঝোতা। সন্তানের সাফল্যে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৯৬: জাপানে সুনামিতে ২২ হাজার মানুষের মৃত্যু
১৯৫০: শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তালের জন্ম
১৯৫৩: চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের জন্ম
১৯৬০: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়
১৯৬৯: জার্মানির গোলকিপার অলিভার কানের জন্ম 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৪৩ টাকা ৭৪.১৪ টাকা
পাউন্ড ১০১.৬৬ টাকা ১০৫.১৭ টাকা
ইউরো ৮৭.০৬ টাকা ৯০.২৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
14th  June, 2021
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৯, ১০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৬, ৬০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৭, ৩০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৭২, ০০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৭২, ১০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
14th  June, 2021

দিন পঞ্জিকা

৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১। পঞ্চমী ৪৫/৪ রাত্রি ১০/৫৭। অশ্লেষা নক্ষত্র ৪১/৫৬ রাত্রি ৯/৪২। সূর্যোদয় ৪/৫৫/৩৮, সূর্যাস্ত ৬/১৮/১২। অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৯/২৩ গতে ১২/৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৭ গতে ৪/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/০ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৭ গতে ২/৫ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ২/৪৪ গতে ৩/৩৭ মধ্যে পুনঃ ৪/৩১ গতে ৫/২৪ মধ্যে। রাত্রি ৮/২৫ গতে ৯/৫০ মধ্যে। বারবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৬ মধ্যে পুনঃ ১/১৭ গতে ২/৫৭ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/৩৮ গতে ৮/৫৮ মধ্যে। 
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১। পঞ্চমী রাত্রি ৭/৩৬। অশ্লেষা নক্ষত্র রাত্রি ৭/৭। সূর্যোদয় ৪/৫৫, সূর্যাস্ত ৬/২০।  অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ মধ্যে ও ৯/২৭ গতে ১২/৮ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৪/৩৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৯ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ২/৪৮ গতে ৩/৪২ মধ্যে ও ৪/৩৫ গতে ৫/২৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/৩০ গতে ৯/৫৫ মধ্যে। বারবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৭ মধ্যে ও ১/১৮ গতে ২/৫৯ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/৪০ গতে ৮/৫৯ মধ্যে। 
৪ জেল্কদ।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ইউরো কাপ: হাঙ্গেরি ০ পর্তুগাল ৩ (ফুলটাইম)

11:28:00 PM

ইউরো কাপ: হাঙ্গেরি ০ পর্তুগাল ০ (হাফটাইম)

10:28:19 PM

যে এলাকায় সংক্রমণ বেশি সেখানে কড়াকড়ি করতে হবে, নির্দেশ রাজ্য প্রশাসনের 
যে এলাকায় সংক্রমণ বেশি সেখানে কড়াকড়ি করতে হবে। আজ, মঙ্গলবার ...বিশদ

07:51:00 PM

করোনা: গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরপ্রদেশে আক্রান্ত ৩৪০, মৃত ৫৭ 

07:39:36 PM

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতীয় দলে কে কে রয়েছেন, জানুন 
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের জন্য আজ, মঙ্গলবার ভারতীয় দল ঘোষণা ...বিশদ

07:23:31 PM

করোনা: গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাখণ্ডে আক্রান্ত ২৭৪, মৃত ১৮ 

07:22:21 PM