Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

বিশ্বাস করুন
জয়ন্ত দে

বাইরে করোনা, ঘরে মরো না।  মোহনবাবুর এখন এই অবস্থা চলেছে। ঘরে-বাইরে কোথাও তার শান্তি নেই। বড্ড অচেনা লাগছে সবকিছু। প্রথমে সংসারের কথাই ধরা যাক। এখানে নিজেকে মনে হচ্ছে বাল্যবিধবা মানদা, অগত্যার গতি ঠাঁই হয়েছে ভাইয়ের বাড়িতে। তিনি আর মোহন নয়, তাই তিনি এখন মানদা। এই সংসার তার নয়। এটা ভাইয়ের সংসার। যে ছেলেটি ঘুরছে ফিরছে, সে-ছেলে তার গোপাল নয়, ভাইয়ের ছেলে, আর সে বিধবা পিসি। তার এখন শুধু দুটোই কাজ— আগলে রাখা আর এগিয়ে দেওয়া।
—ও গোপাল ছাতু খা বাপ, বাইরের ননী খাস না। তোর ছাতুর সরবতে একটু নুন লেবু দিয়ে দিই।
গোপালের মেজাজ খিচড়ে আছে। বাইরে শহরে আলো জ্বলছে, কিন্তু আলোর পোকারা ঘরে!
—আহা রে বাইরের খাবার না খেয়ে খেয়ে বাছার আমার ঠোঁট দুটো কেলে মেরে গেছে।
গোপাল যে ধূমপান করতে করতে ধোঁয়ার চিমনি হয়েছে, সে কথা বলা যাবে না। বাইরের খাবারকেই দুষতে হবে। মানদা তাই করেও মুখ-ঝামটা খেল, —হ্যাঁ, কত আর টাকা দিচ্ছে যে বাইরের খাবার খেয়ে ঠোঁট কেলে হবে! ওটা মাস্ক বেঁধে হয়েছে।
—অ। বলে মানদাকে থামতে হয়।
এখন ধরা নয়, থামাটাই আসল কায়দা। একসময় স্লোগান ছিল না— লড়াই, লড়াই, লড়াই চাই। এখন হচ্ছে— কায়দা, কায়দা, কায়দা চাই। কায়দা করে বাঁচতে চাই।
মোহনবাবু, থুড়ি বাল্যবিধবা মানদা সেই কায়দা করে বাঁচতে চাইছে। মানে এই সংসারে ভেতর ঘাপটি মেরে ঢুকে যেতে চাইছে। যা তার নয়। বড্ড অচেনা। নিজের মেয়ে গোপালীকে এখন ধমক চমক নয়, বিধবা পিসির ভাইঝির মতো করে আগলাতে হচ্ছে।
—রোদে আচার শুকনো হচ্ছে। এই যে পাহারা দিচ্ছি, কাক তাড়াচ্ছি। আমার গোপালীর মুখে ডাল-ভাত রোচে না, একটু আচার মেখে ভাত খাবে।
গোপালী উদাস হয়ে ছাদের সিঁড়িতেই এলিয়ে।
ক’দিন আগে তার একটাই গোঁ ছিল— N95 মাস্ক চাই। N95 ছাড়া চলবে না। জামা কাপড়ে যেমন ব্রান্ড। তেমন মাস্কেও। যা অন্যের কাছে নেই, তা আমার কাছে আছে। টুনটুনির আধুলি। অনেক কষ্ট করেও নিজের যোগ্যতায় তা জোগাড় হল না। ঘরে তখন তাপমান বাড়ছে। অপদার্থ। কোনও কম্মের নয়। সামান্য একটা মাস্ক, সেটাও গোপালী পাবে না। এ তো গুচির ব্যাগ চাইছে না, চাইছে সামান্য মাস্ক। N95-ই চাই।
তখনও তিনি বাবু মোহন ছিলেন। শেষ অস্ত্রটি প্রয়োগ করতে বাধ্য হলেন— পাড়ার হাবলু আর জগাকে শুনিয়ে বললেন, গোপালীর একটা N95 চাই। কোত্থাও পাচ্ছি না। ব্যস। পরের দিনই শহর ঢুঁড়ে এল দু’দুটো N95। যেন AK47 ঢুকল বাড়িতে। কী আদর! কী হাসি! চন্দ্রমুখী তো হতে পারল না, তাই মাস্ক-মুখী হয়ে মা আর মেয়ে অনেক সেলফি দিয়েছে। ঝড়ে আম কুড়নোর মতো লাইক কুড়িয়েছে।
সেই মাস্ক এখন রোদে দোল খাচ্ছে। সেলফি শেষ তো মাস্ক-মায়া খতম।
গোপালী এখন উদাস হয়ে সিঁড়িতে। মানদা পিসি নিজের অজান্তে এক খাবলা আচার নিয়ে মুখে দিল। ছেলেবেলায় তো কত চুরি করে খেয়েছে। মুখে দিতে সারা শরীর ঝমঝম করে উঠল। কী টক রে বাবা! তবু আচার ছেড়ে ওঠা যাবে না। টকের জ্বালা, তবু তেঁতুলতলাতেই যেন বাস। এদিকে টকের জ্বালায় মাঝে মাঝে মুখে দিয়ে টক টক আওয়াজ হচ্ছে।
গোপালী বলল, ‘আইডিয়া! টক টক। এবার টক মুখে নিয়ে টিকটক করব।’
বাবুমোহন এখন মানদা হয়ে ক্যামেরাম্যান। গোপালীর মুখে আচার। ‘আস্তে টিকটক হচ্ছে!’
কাজের বউ এখন এ বাড়িতে পা দেবে না। বিপদ যে কোথা থেকে আসে—মোহন নিজেই সাবধান বাণী দিয়েছিল। হাতে হাতে করে নেব। ওর ছুটি। ঘরে কাজ আমরাই সামলাব। সকালবেলা ঘর ঝাঁট দেওয়া, বাসন মাজা। বাসন তো সিঙ্গল নয়, ডাবল ডাবলে চলছে। একবার মাজলে হচ্ছে না। এতদিন নিজে যে খুঁত ধরতেন, এখন তা বুমেরাং হয়ে ফিরছে।
—উঁহু হয়নি। সাবান লেগে।
মানে আবার মাজো। ঘোষণা একবার। কাজ বার বার। কলম আর কম্পিউটারের আঙুলগুলো বাসনমাজাতে এসে লগবগ করছে। একবার শুনিয়েও গিয়েছে,— সাবান বেশি খরচা হচ্ছে। হাতে জোর নেই না কি, চেপে।
মোহনবাবু বুঝেছেন, চারদিক থেকে চেপে ধরেছেন। কিন্তু এ যে ফসকে যাচ্ছে। পিছলে যাচ্ছে। গলে যাচ্ছে। একটা প্লেট দেহ রেখেছে, দুটো কাপের হাতল ছেড়ে গিয়েছে, একটা কাচের গ্লাসে চিড় ধরেছে। বাতিল, বাতিল আর বাতিল।
তারপর ঘরে এক রেকর্ড শুনতে হচ্ছে, সবার ছুটি আমার নেই।
মাঝে একদিন শখ করে বলেছিল, তুমি রেস্ট নাও, আমি হেঁসেল ঠেলছি। এখন সেই ঠেলার নাম বাবাজি। রসুনের খোসা ছাড়াও বলতে সোজা কিন্তু রগড়াতে রগড়াতে জান কয়লা। এর চেয়ে কালো দাঁত ছাল ছাড়িয়ে ফর্সা করা, দাঁতের স্কেলিং করা সোজা। উরে বাপ রে বাপ!
সেদিন বাজারে গিয়ে দেখে, সবাই সিঁটকে আছে। সদ্য কোয়ারেন্টাইন থেকে ফিরেছে চেনা এক চপলমতী কন্যা। মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস। পরনে কেপ্রি আর শর্ট টিশার্ট। কিন্তু এখন কারও আর পরনে নজর নেই, সবাই মাস্ক আর গ্লাভসের ধরনে আটকে গিয়েছে। আগে একে বাজারে দেখে যাদের হৃদয়ে কম্প দিত, এখন তারাই থরহরি কম্পমান। কাকে দেখছে— এ যে মূর্তিমান আতঙ্ক!
বাজারিরা কেউ আর ডাকছে না —দিদি এখানে এসো। তোমার জন্য লাল-হলুদ বেলপেপার, কচি এঁচড়, মাচার পটল, লাল টমেটো...
বরং সবাই উদাস, বিষণ্ণ, ভাবটা এমন,—এদিকে এসো না, মুলো আর পেঁপে তোমার চলবেনি। আমার মাল খারাপ। দিদি অন্য দোকানে যাও।
টাকা তো আর ধুতে পারবে না, সাবান জলে হাত ধুয়ে ধুয়ে হাতের সব রেখা চৌপাট হয়ে গিয়েছে। কোন ছেলেবেলায় হাতে টুকলির লেখা লিখেছিল, তা এখন ধুয়ে ধুয়ে বেরুচ্ছে। যেন সুবর্ণরেখা নদীর বালি তুলে ছেঁকে ছেঁকে সোনা।
অথচ কোয়ারেন্টাইন থেকে ফেরা সেই কন্যা সারা বাজার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সে আবার চোদ্দো দিনের বাজার করে হোমে ঢুকে যাবে। এখন তার কী খাই, কী খাই পর্ব। খাই খাই! দু’কিলো গাজর, দু’ ক্রেট ডিম— ইমিউনিটি পাওয়ার বাড়াতে হবে। সতেরো রকম বিস্কুট থেকে চোদ্দো রকম চানাচুর— সময় কাটাতে হবে। রাজ্যের নুডলস থেকে উত্থাপম, ধোঁকা মিক্সড— টেস্ট ফেরাতে হবে।
সে এক এলাহি বাজার। কিন্তু ধরার লোক নেই। আগে সামনে পিছনে ঘোরা নিত্যনতুন দাড়িওয়ালা, ক্লিনসেভ, পিছনে ঝুটিবাঁধা, ক্লিপ চালিয়ে মাথার ছাঁচি বের করা হ্যাংলা থেকে জিমি ছোকরাদের কেউ নেই। তাহলে আজ এত বাজার ধরবে কে?
কন্যা যে এবার হোমে গুম হবে। আগে সরকার টেনে নিয়ে গিয়েছিল, এখন স্বেচ্ছায়। সচেতন নাগরিক। নিজে জ্বলেছে, অন্যকে জ্বালাবে না। নিজে ঘরছাড়া হয়েছে, অন্যকে ঘর ছাড়া করবে না।
কিন্তু ওর দিকে বেশিক্ষণ তাকানো যাবে না। চোখে হাত দেওয়া বারণ। বলা যায় না, একবার যদি এগিয়ে এসে বলে—কাকু এতদিন দেখেছেন, এবার একটু সার্ভিস দিন। প্লিজ!
ফলে বাজারে ব‌্যাজার থাকতে হয়। মেলা সবজি। কিন্তু মাছ বাজার ফর্সা। চারাপোনা আর তেলাপিয়া। মাছেভাতের বাঙালি সবজিকেও মাছ দিয়ে চেনে। এঁচড়ের সঙ্গে চিংড়ি চাই, কচুর সঙ্গে ইলিশের মাথা চাই। গ্রীষ্মের হালকা ঝোলে রুইয়ের পেটি যদি উঁকি মারে, তার সঙ্গে সজনে ডাঁটা আর পটলের দেখা মেলে।
এতকাল সবজির জন্য শনিবারটা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটা লেডিস স্পেশাল ট্রেনের মতো। এসো শনিবার থাকো নিরামিষে। আসছে রোববার যাব— মাটনে, চিকেনে!
এখন কিচ্ছু নেই। শুধু সবজি। সবজি চিবতে চিবতে মোহনবাবুর নিজেকে গোরুর মতো মনে হয়। গোরু, তবে শিং নেই। ঢুঁ মারতে জানে না।
কম খাও, বেশি বেশি বাঁচো। ফেসবুক কপচায়।
মোহনবাবুর কপচানোর কিছু নেই। যা বলছে সব টিভিই বলছে। বলুক। ডাক্তারি আর ভালো লাগছে না, ভয় করছে। তবে পুলিস যাদের পেদাচ্ছে সেগুলো বেশ হিট। পুলিসের শাস্তি, আহা টিভির ভেতর শৈশব ফিরছে, কেমন কান ধরে ওঠ-বস হচ্ছে। বেরিয়েছিস কেন ব্যাঙবাজি খেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। চোখ বন্ধ করলে কৈশোর। ময়দান। ঘোড়া নেই। কিন্তু পুলিস আছে। লম্বা লাঠি আছে। পুলিস তো বেমক্কা চালায়, কার কোথায় দাগ পড়ল সে-ই জানে।
তারমাঝেই মাঝে মাঝে হোয়াটসঅ্যাপের টনিক খাওয়া বউয়ের মোক্ষম প্রশ্ন— চীনা মাল যে রদ্দি বলো, তা ভাইরাসটা এত ভালো কী করে বানাল গো?
মোহনবাবু তৈরি যুৎসই উত্তর দিতে হবে। আগে হলে মর্নিংওয়াক থেকে শুরু, সকালে বাজারে গিয়ে চায়ের দোকানে। তারপর নাকে মুখে গুঁজে বাসে তিনি জ্ঞানদা, অফিসে কথকঠাকুর, সন্ধেবেলা বাড়ির লোকজনকে একপ্রস্থ সমঝাতেন। এখন কেউ নেই, কিচ্ছু নেই, ভোঁ ভাঁ। তাই প্রশ্নটা আসতেই তিনি নড়ে বসলেন, গুছিয়ে নিলেন, তখনই শুনলেন প্রশ্নকর্ত্রী ফোঁ ফোঁ শব্দে ঘুমাচ্ছেন। আলত হাতে একবার ডাকার চেষ্টা করেছিলেন, মশারিটা খাটাব? আসলে ওটা ঘুম ভাঙিয়ে উত্তর শোনানোর ফিকির।
এবার সশব্দে নাক ডেকে উঠল—সবার ছুটি আমার নেই। তালটা এমন। নেই তো নেই!
কিন্তু যা আছে, অনেকদিন পরে চাঁদ দেখলেন, গোল! সন্ধেবেলা পেতল, রাতে তাম্রবরণ! এই শহরে ঘুঘু আছে, তারা তার বাড়ির কার্নিশে এসে বসে। বেরিয়ে থাকা লোহার রডকে শুকনো গাছের ডাল ভেবে কাঠবিড়ালি খেলছে। পুকুর নেই, তার ওপরে বড় বড় বাড়ি, কিন্তু একসময় এর নীচে জল ছিল, তার সাক্ষী হয়ে একটা মাছরাঙা ইলেকট্রিক তারে, স্মৃতি রোমন্থন করছে! একটা পুরনো ফোনের ডায়েরি, ঘর পরিষ্কারের গুরুদায়িত্ব নিয়ে খুঁজে পাওয়া গেল। যা দীর্ঘ দীর্ঘদিন হাত পড়েনি। ধুলো ঝেড়ে খুলতেই— বড়মামা, সেজজেঠি, রাঙাকাকি, আরশাদচাচা।
কিন্তু সব নম্বরগুলো ল্যান্ডফোনের।
একটার পর একটা, তারপর আর একটা। একজনকে পেলে আর একজনের সঙ্গে জুড়ে যাওয়া যেত। মানুষ আছে, নম্বরও আছে, কিন্তু এ নম্বর মজুদ নেই। সবাই ল্যান্ডফোন ত্যাগ দিয়ে যোগাযোগহীন হয়ে গিয়েছে। সবাই মোবাইল ফোনে ঢুকে গিয়েছে? তাহলে তিনি একা। হঠাৎ নিজেকে তাঁর খুব একা লাগে। আর তখনই একটা নম্বর লেগে গেল। হ্যাঁ, ল্যান্ডনম্বর।
—আরে আরশাদচাচা ফোন ছাড়েনি।
আরশাদচাচার সেই আদ্যিকালের ফোন নম্বর বাজছে। এই তো আরশাদচাচাকে পেলেই রাঙাকাকাকে পেয়ে যাব। দু’জনে হরিহর আত্মা। রাঙাকাকা থেকে সেজজেঠি। সেজজেঠির বোনের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে আমার ছোটমামার শালার। পেয়ে যাব। এবার সবাইকে পেয়ে যাব। সুতো পেয়েছি। টানতে টানতে চলে যাব।
ফোন ধরল একটি মেয়ে। মোহনবাবু বললেন, ‘এটা কি আরশাদচাচার বাড়ি?’
মেয়েটি একটু থমকাল, ‘হ্যাঁ, বলুন?’
‘ওনাকে একটু ফোনটা দেবেন?’
তিনি ঢোঁক গিললেন, ‘সরি, ওনাকে আপনি পাবেন না, কী দরকার আমাকে বলুন।’
‘আপনি ওনাকে ফোনটা দিন, ওনাকেই বলব।’
‘আমি ওনার ছেলের বউ, আপনি আমাকেই বলতে পারেন।’ খুব ঠান্ডা গলায় উত্তর এল।
‘আমি ওনাকেই বলব?’
‘আপনি কী বলবেন, আমি জানি? আবারও বলছি, বিশ্বাস করুন। উনি ধর্মভীরু মানুষ। কিন্তু মাস ছয়েকের মধ্যে উনি বাড়ির বাইরে পা দেননি।’
‘না, না, আমি সেটা জানতে চাইছি না।’
‘আপনি ওটাই জানতে চাইছেন। আমি জানি। তাই আমি আপনাকে ওটাই বললাম।’ গলাটা বেশ কঠিন।
‘আমার নাম মন্তু। মোহন মুখার্জি। উনি আমার রাঙাকাকার বন্ধু—।’
‘আপনারা বার বার নাম বদল করে, পরিচয় গোপন করে, ফোন করছেন। আবারও বলছি— বিশ্বাস করুন, উনি কোনও ধর্মীয়সভায় যাননি। ওনার যেটুকু শরীরখারাপ সেটা বয়সজনিত কারণে।’
‘দেখুন, আপনি আমার কথা বুঝতে পারছেন না। আমি—।’
‘দয়া করে আপনি আমার কথা বিশ্বাস করুন। সাত মাস হল উনি স্ট্রোকে শয্যশায়ী। দয়া করে ওনাকে আর বিব্রত করবেন না।’
মোহনবাবু অসহায় গলায় বললেন, ‘আপনি আমার কথা বিশ্বাস করুন।’ ফোনের ওপারে চুপ। মোহনবাবু মরিয়া হয়ে বললেন, ‘দয়া করে বিশ্বাস করুন। আচ্ছা, আপনি আপনার স্বামীকে একটু ফোনটা দিন।’
‘উনি দশদিন বাড়ি আসেননি। কবে আসবেন বলতে পারছি না।’
‘ওনার ফোন নম্বরটা যদি পেতাম—ওনাকে আমি আমার পরিচয় দিয়ে কথা বলে নিতাম।’ মোহনবাবুও নাছোড়।
‘ওনার ফোন নম্বরও আপনাকে আমি দিতে পারব না, উনি এখন খুব ব্যস্ত।’
‘আপনি আমায় বিশ্বাস করুন।’
‘আপনি আমার কথা বিশ্বাস করুন,
উনি এখন খুব ব্যস্ত— উনি একজন ডাক্তার!’
19th  April, 2020
আজও তারা জ্বলে 

বাংলা ছবির দিকপাল চরিত্রাভিনেতারা একেকটা শৈল্পিক আঁচড়ে বঙ্গজীবনে নিজেদের অমর করে রেখেছেন। অভিনয় ছিল তাঁদের শরীরে, মননে, আত্মায়। তাঁদের জীবনেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক অমূল্য রতন। তাঁরই খোঁজে সন্দীপ রায়চৌধুরী। আজ জহর রায়- শেষ কিস্তি। 
বিশদ

17th  May, 2020
অথৈ সাগর 
বারিদবরণ ঘোষ

চলতি বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। সেই উপলক্ষে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি। 
বিশদ

17th  May, 2020
ঠুলি 

শুচিস্মিতা দেব: বসন্তের সকাল। আলো-ছায়া মাখা গাছেদের কচি পাতায় সবুজাভা। দোতলার বারান্দা থেকে পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অবশিষ্ট দু’চার পিস করবীফুল, ডাল টেনে টেনে সফলভাবে পেড়ে ফেলে নিজের কৃতিত্বে বেশ ডগমগ হয়ে উঠলেন নীপা।  
বিশদ

17th  May, 2020
আজও তারা জ্বলে 
পর্ব-২৩

বাংলা ছবির দিকপাল চরিত্রাভিনেতারা একেকটা শৈল্পিক আঁচড়ে বঙ্গজীবনে নিজেদের অমর করে রেখেছেন। অভিনয় ছিল তাঁদের শরীরে, মননে, আত্মায়। তাঁদের জীবনেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক অমূল্য রতন। তাঁরই খোঁজে সন্দীপ রায়চৌধুরী। আজ জহর রায়- দ্বাদশ কিস্তি। 
বিশদ

10th  May, 2020
অথৈ সাগর 

চলতি বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। সেই উপলক্ষে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি। 
বিশদ

10th  May, 2020
সুখ চাই 
চিরঞ্জয় চক্রবর্তী 

সুমন আর ভারতীর বিয়ের আজ সাতান্ন বছর পূর্তি। যখন বিয়ে হয়েছিল সুমনের বয়স সাতাশ, ভারতী তেইশ। দেখতে দেখতে ভারতীর আশি, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই দীর্ঘদিন সরকারি ভাষায় বরিষ্ঠ নাগরিক।  
বিশদ

10th  May, 2020
আজও তারা জ্বলে
পর্ব-২২ 

বাংলা ছবির দিকপাল চরিত্রাভিনেতারা একেকটা শৈল্পিক আঁচড়ে বঙ্গজীবনে নিজেদের অমর করে রেখেছেন। অভিনয় ছিল তাঁদের শরীরে, মননে, আত্মায়। তাঁদের জীবনেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক অমূল্য রতন। তাঁরই খোঁজে সন্দীপ রায়চৌধুরী। আজ জহর রায়- একাদশ কিস্তি। 
বিশদ

03rd  May, 2020
জিরাফের গলা 

রজত ঘোষ: দু’দিন হল পঞ্চায়েত ভোটের রেজাল্ট বেরিয়েছে। আজ একটু পরে তাই বিজয় মিছিল বের করবে বিজয়ী দল। টেবিলের মাঝখানে দিস্তাখানেক লিফলেট। তার ওপর একটা পেপার ওয়েট। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে গণেশ এতক্ষণ আঙুলের কায়দায় পেপারওয়েটটাকে ঘোরাচ্ছিল।  
বিশদ

03rd  May, 2020
অথৈ সাগর 

চলতি বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। সেই উপলক্ষে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি। 
বিশদ

03rd  May, 2020
মাছভাজা
শ্যামলী আচার্য

হিতেন্দ্রনাথ সান্যালের কথা শেষ হল না। হয় না। ওঁর সাতচল্লিশ বছরের প্রাচীন জীবনসঙ্গিনী আজ অবধি কোনও বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহার করতে দেননি। একজন সিনিয়র সিটিজেনের বুকে ব্যথার সামান্য আভাসও তাঁকে বিচলিত করল বলে মনে হল না।
বিশদ

26th  April, 2020
 অথৈ সাগর
পর্ব ২১

 চলতি বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। সেই উপলক্ষে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি। বিশদ

26th  April, 2020
আজও তারা জ্বলে
পর্ব-২১

জহর রায়ের কৌতুক নকশার রেকর্ড করত মূলত মেগাফোন কোম্পানি। পরে পলিডোর কোম্পানি কিছু নকশা রেকর্ড করেছিল। ওদের কোম্পানি থেকে ১৯৭২ সালে বেরয় ‘ফাংশন থেকে শ্মশান’। পরের বছর কেতকী দত্তের সঙ্গে ‘সধবার একাদশী’।
বিশদ

26th  April, 2020
আজও তারা জ্বলে
পর্ব ২০

বাংলা ছবির দিকপাল চরিত্রাভিনেতারা একেকটা শৈল্পিক আঁচড়ে বঙ্গজীবনে নিজেদের অমর করে রেখেছেন। অভিনয় ছিল তাঁদের শরীরে, মননে, আত্মায়। তাঁদের জীবনেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক অমূল্য রতন। তাঁরই খোঁজে সন্দীপ রায়চৌধুরী। আজ জহর রায়- নবম কিস্তি।
বিশদ

19th  April, 2020
অথৈ সাগর
পর্ব ২০

 চলতি বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। সেই উপলক্ষে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি। বিশদ

19th  April, 2020
একনজরে
  মুম্বই, ২২ মে (পিটিআই): কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি এবং চ্যারিটেবল হাসপাতালের শয্যার ভাড়ার তিনটি ধাপে বেঁধে দিল মহারাষ্ট্র সরকার। একইসঙ্গে সরকার ঠিক করেছে, এই স্ল্যাবের মধ্যে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য মোট বেডের ৮০ শতাংশ ধরে রাখতে হবে। ...

 টোকিও, ২২ মে: আগামী বছর টোকিও ওলিম্পিকস আয়োজন নিয়ে প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ওলিম্পিক কমিটির (আইওসি) শীর্ষ কর্তা জন কোটস পরিষ্কার জানিয়েছেন, 'আগামী বছর ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উম-পুনের আঘাতে রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মোকাবিলায় এক হাজার কোটি টাকা অনুদান সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণাকে স্বাগত জানাল বাম ও কংগ্রেস। ...

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পঁচা ভাত দেওয়ার অভিযোগে তুলে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে শামিল হলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুরে।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর ঈর্ষার কারণে সম্মানহানি হবে। ব্যবসায়ীদের আশানুরূপ লাভ না হলেও মন্দ হবে না। দীর্ঘ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০৬-নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের মৃত্যু
১৯১৮: ইংরেজ ক্রিকেটার ডেনিস কম্পটনের জন্ম
১৯১৯-জয়পুরের রাজমাতা গায়ত্রী দেবীর জন্ম
১৯৫১-বিশিষ্ট দাবাড়ু আনাতোলি কারাপোভের জন্ম



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৮৯ টাকা ৭৪.৮৯ টাকা
পাউন্ড ৯০.৮৮ টাকা ৯০.৮৮ টাকা
ইউরো ৯০.৮৮ টাকা ৮৪.৩৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৩ মে ২০২০, শনিবার, প্রতিপদ ৪৮/২০ রাত্রি ১২/১৮। রোহিণীনক্ষত্র ৫৯/৪৬ রাত্রি ৪/৫২। সূর্যোদয় ৪/৫৭/২৯, সূর্যাস্ত ৬/৯/৫। অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১১/১২ গতে ১/২১ মধ্যে পুনঃ ২/৪৭ গতে অস্তাবধি। বারবেলা ৬/৩৭ মধ্যে পুনঃ ১/১২ গতে ২/৫১ মধ্যে পুনঃ ৪/৩০ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৭/৩০ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৭ গতে উদয়াবধি।
৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৩ মে ২০২০, শনিবার, প্রতিপদ রাত্রি ১১/৪২। সূর্যোদয় ৪/৫৭, সূর্যাস্ত ৬/১২। রোহিণীনক্ষত্র শেষরাত্রি ৪/৩৪। অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৬ গতে ৬/১২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/০ গতে ৭/৪২ মধ্যে ও ১১/১৬ গতে ১/২২ মধ্যে ও ২/৪৮ গতে ৪/৫৭ মধ্যে। কালবেলা ৬/৩৬ মধ্যে ও ১/১৩ গতে ২/৫৩ মধ্যে ও ৪/৩২ গতে ৬/১২ মধ্যে কালরাত্রি ৭/৩২ মধ্যে ও ৩/৩৬ গতে ৪/৫৭ মধ্যে।
 ২৯ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
গুজরাতে কোভিড-১৯ পজিটিভ আরও ৩৯৬ জন, মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩,৬৬৯ 

08:26:36 PM

ইদ পালিত হবে ২৫ মে
আগামী ২৫ মে ইদ পালিত হবে। আজ চাঁদ দেখা যায়নি। ...বিশদ

08:05:14 PM

মহারাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হলেন ২,৬০৮ জন, মৃত ৬০ 

08:01:30 PM

সিকিমে প্রথম করোনা রোগীর সন্ধান মিলল 
প্রথম করোনা রোগীর সন্ধান মিলল সিকিমে। দিল্লি থেকে ফেরা এক ...বিশদ

07:54:38 PM

রাজ্যে করোনা আক্রান্ত আরও ১২৭ জন 
রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২৭ জনের শরীরে মিলল করোনা ...বিশদ

07:43:40 PM

 উপসর্গ না থাকলে এবার ১০ দিনেই ছুটি করোনা রোগীর
এবার থেকে মৃদু উপসর্গ বা উপসর্গ না থাকা করোনা ...বিশদ

07:34:00 PM