Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

ম্যাজিক
ধ্রুব মুখোপাধ্যায় 

নম্বরগুলো মেলানোর পর যে আনন্দটা হয়েছিল, বিশ্বাস করুন, আমি জীবনে অতটা খুশি কোনওদিনও হয়নি। ‘পঞ্চাশ হাজার’ -না, এমনটা নয় যে আমি কোনওদিনও ভাবিনি। আসলে আমি বিগত কুড়ি বছর ধরে এটাই ভেবে এসেছি। আজকে ভাবনাটা সত্যি হল। আর এরকম খুশির কারণটা আসলে না ভেবে কিছু পাওয়া নয়, বরঞ্চ অনেক ভেবে কিছু পাওয়া। নম্বরগুলো মেলানোর পর এই কয়েক রাত আমি দু’চোখের পাতা এক করতে পারিনি। আর, সারারাত জেগে এই মোটা মোটা লোকেদের কি টানা যায় বলুন! ওঃ, বলাই হয়নি, আমি রিকশ চালাই। নাম সুখেন হলেও জীবনে সুখের অভাব চিরকালীন, তবে শান্তি ছিল। কিন্তু পাইতারা মেরে শান্তিকে বিয়ে করার পর সেটাও গেল। বেশ ছিলাম জানেন, প্রাইমারি স্কুলে পড়তে পড়তেই বাপ একদিন বলল, ‘কাজে চ, আমার সাথে!’ ব্যস দু’-চারটে যাইবা বই ছিল, লোহা ভাঙা-টিন ভাঙাদের বেচে নেমে পড়লাম বাপের সাথে মাটি কাটতে। স্কুলের মাস্টার অনেকবার বলেছিল, পড়াটা চালাতে কিন্তু কে কার কথা শোনে! একবার তো ভয়ও দেখিয়েছিল বাপকে, বলে মাটি কাটা নাকি পাপ। ইন্দ্র ঠাকুরের বরদানে মাটির ক্ষত কোনওদিনও পরে থাকে না, বুজে যায়। কিন্তু ওই, পেটের দায় আর টাকার লোভ কি আর পাপ পুণ্যের হিসাব বোঝে! কিন্তু মাস্টার ঠিক বলেছিল, জানেন! বাপটা মাটি কাটতে গিয়েই মরল! হয়তো ইন্দ্র ঠাকুরই সাপ সেজে সেদিন এসেছিল। তারপর আমি আর কোনওদিনও মাটি কাটিনি। দুপুর হলে ভাত খেয়ে চলে আসি বাঘাযতীন স্টেশনে আর মালিকের রিকশ নিয়ে নেমে পড়ি। রিকশ চলে রাত এগারোটার লোকাল অবধি, তারপর এগারোটা কুড়ির লোকাল ধরে সোজা ঘর।
ভাবনাচিন্তা আমি ছেড়েই দিয়েছিলাম, কিন্তু নম্বরগুলো মিলে যাবার পর আবার ভাবছি, শুধুই ভাবছি। লটারির নেশাটা আমার অনেক দিনের। আগে রোজ বাড়ি ফেরার পথে পুরনো টিকিটগুলোর নম্বর মিলিয়ে যখন মনটা একটু ভারী লাগত, আবার লটারি কাটতাম। আমাদের এক ঘরের সংসার, মানে ওই তক্তার উপরটা শোয়ার ঘর আর তক্তা বাদে বাকিটা সব– রান্না ঘর, বসার ঘর, খাবার ঘর। বাড়ি ঢুকেই শান্তির অভিমান কম, রাগ বেশি মুখটা দেখলেই মাথাটা বিগড়ে যেত, এখন অবশ্য অভ্যাস হয়ে গেছে। ভয়ে, রাগে আর সামান্য হতাশায় আমি রোজ না মেলা পুরনো টিকিটগুলো অজান্তেই ছুড়ে ফেলতাম তক্তার নীচে। বুঝতেই পারছেন, এক ঘরের সংসার, তাই জিনিসপত্র অদল বদল প্রায় হয় না বললেই চলে। কিন্তু সেবার পুজোর সময় শান্তির মাথায় অশান্তির একভূত চাপল! সারা ঘর নাকি পরিষ্কার করা হবে, এবং তাও জিনিসপত্র সরিয়ে। আমি কিচ্ছুটি বলিনি, ওই যে বললাম অভিমান কম, রাগ বেশি মুখটা ভয়, রাগ আর সামান্য হতাশা ছাড়া আমাকে কেবলমাত্র একটি জিনিসই দিয়েছে আর সেটি হল আমার এই পাঁচ বছরের মেয়ে— মায়া।
ঝকঝকে ঘরে ঢুকতেই সে রাত্রে মনটা ফুরফুরে হয়ে গেছিল। এমনকী শান্তির অভিমান কম, রাগ বেশি মুখটায় যখন, রাগ, তীব্র অভিমান এবং তার সাথে একটা হিংস্র ঘেন্নাচোখে পড়ল তখনও আমি বুঝিনি। কিন্তু একগুচ্ছ লটারির টিকিট দেখিয়ে যখন শান্তি ঝাঁঝিয়ে বলল, ‘লজ্জা করে না তোর! মরদ হয়েছিস, মেয়েটোর জন্ম দিয়েছিস আর লটারিতে টাকা ওড়াস!’ মাথাটা এক ধাক্কায় গরম হয়ে গেল, একটা চড় কষিয়েই দিতাম যদিও মায়ার মুখটা দেখে পারিনি।
‘লজ্জা কিসের! নিজের পয়সায় কিনি! তোর কী?’ আমিও থেমে থাকিনি। সে রাত্রে ঘরটার মতো আমাদের মনের ভিতরে জমে থাকা ময়লাগুলোও আস্তে আস্তে সাফ হয়ে গেছিল। সারারাত গালিগালাজ আর দোষারোপের পর যখন দুজনেই ক্লান্ত তখন শুরু হল অপরকে ছেড়ে নিজেকে দোষারোপ করা আর সব শেষে, ‘আমার দুষ রে, দুষটো তুর লয়!’ ভোর রাতে, ঘুমে যখন চোখ জ্বলছে, তখন শান্তি বলেছিল, ‘মেয়ের জনম দিয়েছিস, দেখতে তো তুকেই হবে! বাপ বনেছিস, বিয়েটো তো তুকেই দিতে হবে!’ আমি শান্ত মাথায় আশ্বস্ত করে বলেছিলাম, ‘অতো ভাবিস না। মেয়েটা আগে পড়ুক, বিয়ে তো দেরি আছে। আর দেখিস একদিন ওই তক্তার নীচের লটারিগুলো সব টাকা হয়ে যাবে!’
— ‘হবে না রে! সে ভাগ্য নেই আমাদের! আর দেরি! কোনও দেরি লাই। ফুচুত করে উড়ে যাবে দিন। আর তুই কতদিন গতর খাটাবি? পাশের বাড়ির সুমনা রোজ দশ টাকা করে জমাইছে। ওই পাড়ার নাড়ু আছে না! উর কাছে পাঁচ বছর দশ টাকা করে জমাইলে নাকি পঞ্চাশ হাজার হবে।’
— ‘জমাব রে জমাব।’
— ‘একবার ভাব তো, এই লটারির টাকা কটা যদি রাখতিস আজ কত হতো!’
— ‘অতো ভাবিস না রে, দেশটো বদলাচ্ছে। এখন আর মেয়েদের বিয়ে নিয়ে অতো ঝামেলা হয় না।’
— ‘রাখ তোর রিক্সাচরা বাবুদের কথা। এই আমার মাথার দিব্বি দিলাম, আর যদি ওই লটারির টিকিট কেটেছিস, আমার মরা মুখ দেখবি।’
আমি তখন যেন অসহায়। ঘুমে বুজে আসছে চোখ। কিছুটা নিরুপায় হয়েই বললাম, ‘আচ্ছা আর কাটব না। তবে দিব্বি কেন দিস! আমি বলছি দেখিস ওই টিকিটগুলো একদিন টাকা হয়ে যাবে।’মেয়ে মানুষের দিব্বি আর মোটা মানুষের চর্বি চিরকাল অশান্তি দেয়। আমি তাই চোখটা বুজেই নিলাম। কিন্তু শান্তি তখনও থামেনি, ওই পুরনো টিকিটগুলো তক্তার নীচে ছুড়ে দিয়ে বলল, ‘দেখি তোর ম্যাজিক। কতদিনে এই কাগজ টাকা হয়।’ তারপর, কিছুক্ষণ সব চুপচাপ। আমি যেন আর শুনতেই পাচ্ছিলাম না, তবুও শান্তি জোর গলায় বলল, ‘ভালো করে শোন, কাল থেকে রোজ আমাকে দশ টাকা দিবি। আমি নাড়ুকে ডেকে জমাব।’
‘আচ্ছা তাই হবে’, বলে সেদিনের মতো মুক্তি পেয়ে গেছিলাম কিন্তু শান্তি মুক্তি পায়নি। রোজ সকালে উঠে তক্তার নীচটা দেখত। প্রথমটাই আমি বুঝতে পারিনি কিন্তু টানা দু বছর ওই দশ টাকা রোজ দেবার পর যেদিন খবর এলো নাড়ু গলায় দড়ি দিয়েছে, সেদিন বেশ বুঝেছিলাম, শান্তির মাথাটা গেছে। আপনারা ভাবছেন দু’বছর কেন? আরে এঁটো পাতা কি আর স্বর্গে যায়? দু’বছর গড়াতেই নাড়ুর টাকা জমানোর কোম্পানিটা উঠে গেল। হয়ে গেল আমার পাঁচ বছরের পঞ্চাশ হাজার! নাড়ু মরার পর মাঝে মাঝেই শান্তি তক্তার নীচটা দেখত। ডাক্তারও দেখিয়েছিলাম কিন্তু গরিব মানুষের কি মনের রোগ মানায়? তাছাড়া ওই তক্তার নীচ দেখাটা বাদে বাকি সবই ঠিকঠাক ছিল। খালি মাঝে মাঝে বলে, নাড়ু নাকি স্বপ্নে এসেছিল ওর। বলেছে, সুদটা না পারলেও আসলটা ফেরত দিয়ে দেবে। খাটের নীচের টিকিটগুলো সব টাকা করে দেবে। আমি অনেক করে বুঝিয়েছি, ‘কাগজ কি কোনওদিনও টাকা হয়! তাছাড়া মরা মানুষ ফেরে না।’ আসলে আজও ও বুঝতে পারে না কে ঠকল! শান্তি নিজে নাকি আমি! সে যাই হোক টাকাগুলো যাবার পর থেকে আমি আর অতো ভাবি না, চুপচাপ রোজ একটা করে টিকিট কাটি। তবে ভুল করেও আর ওই তক্তার নীচে ফেলি না। ডাক্তারও বারণ করেছে।
রিকশ মালিকেরই লটারির দোকান। রোজ রাতে রিকশ জমা দিয়ে দশ টাকার লটারি কিনে দৌড়ে আসি স্টেশনে। স্টেশনের শেষের দিকে একটা সিমেন্টের চেয়ার আছে, তার ঠিক নীচে একটা কোলঙ্গায় রেখে দিই টিকিট। কেউ জানে না। জানে শুধু একটা কুকুর, যে ওই নীচটাই শোয়। নম্বরগুলো মেলার পরদিন আমি সকালে উঠেই বেরিয়ে পড়েছি, শান্তি তখন তক্তার নীচটা দেখছিল, হুট করে আমার মুখটা দেখে বেশ ঘাবড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘এই সকাল সকাল কুথা চল্লি রে?’ আমি খুশিটা একটু চেপে বলেছিলাম, ‘মালিকের বাড়ি ভোজ আছে। কিছু কাজ করে দিতে হবে।’ শান্তি হাসি মুখে বলেছিল, ‘তাহলে মেয়েটুর লেগে কিছু খাবার আনিস। আর পারলে আমার লেগেও। আজ আর রাঁধব না রেতে।’ সেদিন ওই রেশন কার্ডের জেরক্স আর দুটো ফোটো তোলার পর খুব হায়রানি হয়েছিল, ভোজ বাড়ির খাবার খুঁজতে। পরে অবশ্য হোটেলের মাংস-ভাত আর দুটো রসগোল্লা কিনে বাঁচিয়ে দিয়েছিলাম নিজেকে। কিন্তু টাকা! ভেবেছিলাম টাকাটা সাথে সাথ পেয়ে যাব, কিন্তু মালিক আরও চারদিনের হিসাব দিল। পরের দু দিন আমি রিকশ টানলেও, শুধুই ভেবেছি। শান্তিকে কী বলা যেতে পারে! ‘তোর বিগড়ানো মাথার দিব্বির থেকে আমার লটারির নেশা অনেক ভালো’ – বলতে ইচ্ছে করলেও বলা তো আর যায় না! লটারি ছাড়া একটা রিকশওয়ালা হুট করে কোথা থেকে পঞ্চাশ হাজার পেতে পারে! ধার করলে, কেন করেছি? চুরি তো করতে পারি না আমি, এসব ভাবতে ভাবতেই মাথায় এল কুড়িয়ে পাবার কথা। কিন্তু টাকাটা পুলিসে জমা দিলে সব শেষ হয়ে যাবে। সবশেষে ভাবনাটা মাথায় এল, নতুন রিকশ। এর থেকে ভালো কিছু আর হতে পারে না। মালিকের গ্যারেজেই না হয় রেখে দেবো, না হয় ভাড়া খাটাব। দৌড়ে গেলাম মালিকের কাছে কিন্তু ওই, ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে পঞ্চাশ হাজার পেলেও কাঁথাটা ছেঁড়াই থাকে! মালিক হেসে উড়িয়ে দিল। বলে, হাতে নাকি পাব কুড়ি থেকে তিরিশ হাজার। আর ওই টাকায় রিকশ কেনার থেকে না কেনাই ভালো। আমি জানি মালিক মিথ্যে বলেছে তবুও মিথ্যেটা মনটাকে কেমন যেন দমিয়ে দিল। তবে এসবে আমি অভ্যস্ত। রিকশ কেনাটাই সব থেকে ভালো হবে! এসব ভাবতে ভাবতেই সেদিন সকালে গিয়ে টাকাটা নিলাম। একটা খয়েরি খাম হাতে দিয়ে মালিক একটা ছবি তুলল আমার সাথে। লটারির দোকানটা সেদিন যেন বড়লোকদের ফুলশয্যার খাট। সেই ফুলের গন্ধেরমাঝেই খামটা খুলতে গেলে মালিক বলল, ‘পঁইত্রিশ হাজার! বাড়ি গিয়ে গুনিস। আর এই টাকায় একটা রিকশ কিনে নিস।’ তারপরই পিঠটা চাপড়ে দিয়ে বলল, ‘মিষ্টি কই!’ আমি দৌড়ে গিয়ে এক ভাঁড় মিষ্টি দিয়ে বেরিয়ে পরলাম মালিকের রিকশ নিয়ে। সবাই অবাক হলেও আমার তখন খুব ইচ্ছে করছিল রিকশ চালাতে। রিকশ নিয়েই গেলাম রিকশর দোকানে কিন্তু কি জানি কেন, মনটা মানতে চাইল না। মনে হল এই তো পেলাম টাকাগুলো, কিছুদিন তো সাথে রাখি। সে রাতে স্টেশনে এসে আর কুলুঙ্গিতে টিকিট রাখিনি। কুকুরটাকে হোটেল থেকে মাংস ভাত কিনে খাওয়াতে খাওয়াতে মনে হল টাকাগুলো এখানেই রেখে দিই কিন্তু রাখতে পারলাম না। বাড়ি ফেরার ট্রেনটা সে রাতে একদম খালি, মনে মনে সারা জীবনে কাটা টিকিটের দাম হিসাব করতে করতে হঠাৎ বিরক্ত লাগল। তাই দরজার কাছটাই দাঁড়িয়ে একটু ঠান্ডা হাওয়া খেলাম। তারপর বাড়ি ফিরে শান্তি, মায়া সব ঘুমিয়ে গেলে কি জানি কি মনে হল টাকাগুলো ছুঁড়ে ফেললাম তক্তার নীচে, ঠিক যেমন করে অতদিন ধরে ছুঁড়ে এসেছিলাম নম্বর না মেলা টিকিটগুলো। একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল। ‘ম্যাজিক তো মানুষেই করে, আমিও না হয় করলাম!’ কিন্তু শরীরটা আর দিচ্ছিল না। আমার ছেঁড়া কাঁথা তখন যেন অনেক দাম দিয়ে কেনা গদি। ফুরফুরে মনে শান্তির পাশটাই শুতেই শান্তি স্পষ্ট গলায় জিজ্ঞেস করল, ‘কি করছিলি রে এতো রেতে।’ আমি ‘কিছু না’ বলে ঘুমালেও ঘুমটা ভেঙে গেছিল খুব ভোরে তবুও চুপচাপ শুয়েছিলাম অনেকক্ষণ। কিন্তু ভীষণ অবাক লাগছিল,অভ্যাস মত শান্তি অনেক বার দেখল তক্তার নীচটা কিন্তু একবারও চিৎকার করে বলল না ‘ম্যাজিক!’
অলংকরণ : সুব্রত মাজী 
22nd  September, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
দেশনোকের করণীমাতা
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

পর্ব-৩৪

দেশনোকের করণীমাতার প্রসঙ্গে এবার আসা যাক। ইনি রাজস্থানের মরু অঞ্চলে রাজ পরিবারের আরাধ্যা দেবী। করণীমাতার মন্দির হচ্ছে পৃথিবীবিখ্যাত মন্দির, অসংখ্য ইঁদুরের জন্য এই মন্দির ‘চুহা মন্দির’ নামে প্রসিদ্ধ। সেবার রাজস্থান ভ্রমণের সময় মুলতানি ঘাঁটির কোলায়েতে গিয়েছিলাম কপিলমুনির মন্দির ও পবিত্র সরোবর দেখতে।  
বিশদ

03rd  November, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় 

৩৪

সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে। জমে উঠল বন্দ্যোপাধ্যায় দম্পতির সুখের সংসার। আর সেই দৃশ্য দেখে বিধাতা বোধহয় একটু মুচকি হেসেছিলেন, হয়তো মনে মনে বলেছিলেন, বিভূতিভূষণ, সুখ নয় , তোমাকে আমি পৃথিবীতে পাঠিয়েছি সৃষ্টি করার জন্য, সুখভোগের অধিকারী তুমি নও!  
বিশদ

03rd  November, 2019
পরম্পরা
বিনতা রায়চৌধুরী 

প্রাণগোপাল সরকার জমিদার না হলেও গ্রামের একজন অত্যন্ত সম্পন্ন গৃহস্থ। বিঘের পর বিঘে জমিতে তাঁর ধান চাষ হয়। ধান-চালের ব্যবসায়ে প্রাণগোপাল সবদিক থেকেই সার্থক। তারসঙ্গে সে সৎ-ও। তাঁর অধীনস্থ কোনও কর্মচারীকে সে ঠকায় না।  
বিশদ

03rd  November, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
সিদ্ধপীঠ রাজরপ্পা
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

 এবার ছিন্নমস্তা দেবীর কথা বলি। দশমহাবিদ্যার ভয়ঙ্করী রূপের প্রকাশ ছিন্নমস্তায়। এটি হল মহাদেবীর অন্তর্মুখী রূপ। এঁর স্বরূপ অনুধাবন করার শক্তি একমাত্র সাধকের পক্ষেই সম্ভব। ছিন্নশির হয়েও ইনি জীবিত থাকেন। চতুর্দিকে এঁর বসন। অর্থাৎ ইনি দিগবসনা। বিশদ

27th  October, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

 কিন্তু সুখ দীর্ঘস্থায়ী নয়। পঞ্চাননবাবু মারা যাওয়ার আগে জাহ্নবীদেবী এক কন্যা সন্তানের মাতা হন। কিন্তু পিতার অকাল মৃত্যুর দায় বহন করতে হয়েছিল সদ্যোজাত সেই কন্যা সন্তানকে। তাকে চট পেতে শুইয়ে রাখা হতো বাড়ির বাইরের নারকেল গাছের তলায়। স্বভাব কবি বিভূতিভূষণকে নাড়িয়ে দিয়েছিল এই দৃশ্য। বিশদ

27th  October, 2019
ঝাঁপ
পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়

 বাবলু তিনতলার ছাদ থেকে দূরের চার্চের ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে আছে। ঘড়ির কাঁটা ঘুরে চলেছে। সেকেন্ডের কাঁটা ঘুরে ঘুরে বারোটার কাছে যাচ্ছে। আর কয়েকটা মুহূর্ত। তারপর-ই বাবলু ঝাঁপ দেবে। নিজেকে ছিন্নভিন্ন করে শেষ করে দেবে। এখন ছাদের এক কোণায় এসে ও দাঁড়িয়েছে। এখানটাতে রেলিং নেই।
বিশদ

20th  October, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

 নদীর বালুচরে পথ চলতে চলতে হঠাৎই একটি বালি সংগ্রহকারী লরি এসে পড়ায় আমরা তারই সাহায্যে এগিয়ে গেলাম অনেকটা পথ। এইভাবে বিশেষ একটি জায়গায় যাওয়ার পর যেখানে লরি থেকে নামলাম সেখান থেকে একই নদী-কাঠের গুঁড়ির সাঁকোয় কতবার যে পার হলাম তার ঠিক নেই। বিশদ

20th  October, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

 এই দাম্পত্য জীবন কিন্তু মোটেই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ঠিক ষোলো মাসের মাথায় পুজোর পর পরই একই দিনে আগে মা কামিনী দেবী এবং তার কিছুক্ষণ পরেই চলে গেলেন মেয়ে গৌরী দেবী। মহামারীর আকারে সেবার বাংলায় প্রবেশ করেছিল ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো এক জ্বর। সেই জ্বরে কিছুক্ষণের তফাতে একই পরিবার থেকে অকালে ঝরে গেল দুটি প্রাণ। বিশদ

20th  October, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
মণিকূটের বিগ্রহ, পর্ব-৩১
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় 

তিব্বতের লোহিত সরোবর থেকে বয়ে আসা সাংমা (ব্রহ্মপুত্র) নদের তীরে পাহাড় নদী ও নানা দেব-দেবীর মন্দিরে ভরা এক অন্য তীর্থভূমির কথা এবার বলব। তার কারণ স্থানটি গুয়াহাটি শহর থেকে মাত্র ৩২ কিমি দূরে— হাজো। এটি হল নানা ধর্মসমন্বয়ের ক্ষেত্র। অনেকেই কিন্তু এই স্থানটির সম্বন্ধে পরিচিত নন। 
বিশদ

13th  October, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় 

৩১

‘মরণ রে,
তুঁহুঁ মম শ্যাম সমান ।
মেঘবরণ তুঝ, মেঘজটাজুট,
রক্ত কমলকর, রক্ত অধরপুট, 
তাপবিমোচন করুণ কোর তব বিশদ

13th  October, 2019
সাত বছরের ফাঁদে
ভগীরথ মিশ্র 

ভর-দুপুরে সদর বাজার দিয়ে হাঁটছিল শুখা।
পান্তু নাগের গোপন ডেরায় যাচ্ছে সে। কেন জানি, খুব জরুরি তলব দিয়েছে পান্তু।
এলাকার মুকুটহীন-সম্রাট রামতনু শিকদারের বাঁ হাত হল পান্তু নাগ। মানুষজন জলশৌচ জাতীয় যাবতীয় নোংরা-ঘাঁটা কাজগুলো তো বাঁ হাত দিয়েই করে। সেই হিসেবে পান্তু রামতনুর বাঁ হাতই।  
বিশদ

13th  October, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই 
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

সুকুমার রায়। শিশুসাহিত্যিক ও ভারতীয় সাহিত্যে ‘ননসেন্স রাইম’-এর প্রবর্তক। তিনি একাধারে লেখক, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও সম্পাদক। তিনি ছিলেন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পুত্র।  বিশদ

29th  September, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয় 
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

একান্ন মহাপীঠের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাপীঠ হল কামাখ্যা। এই মহাতীর্থে সতীর মহামুদ্রা অর্থাৎ যোনিদেশ পতিত হয়েছিল। দেবীর গুপ্ত অঙ্গ পতিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, পর্বতটি নীলবর্ণ ধারণ করে এবং শত যোজন উচ্চ পর্বত ক্রমশ ভূগর্ভে নেমে যেতে থাকে।   বিশদ

29th  September, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধূলোয়
চন্দ্রগুট্টির দেবী গুত্তেভারা, পর্ব-২৯
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়  

সেবার কোলহাপুর থেকে সৌন্দত্তি গিয়েছিলাম দেবদাসী তীর্থের ইয়েলাম্মাকে দেখতে। ঠিক তার পরের বছরই ওই একই তিথিতে অর্থাৎ মাঘী পূর্ণিমায় কর্ণাটকেরই আর এক দেবী চন্দ্রগুট্টির গুত্তেভারা দেবীকে দর্শন করতে গেলাম। কিন্তু কেন এত জায়গা থাকতে এই সুদূর দেবীতীর্থে আসা? কারণটা বলছি। 
বিশদ

22nd  September, 2019
একনজরে
সংবাদদতা, আলিপুরদুয়ার: ২০২১ সালে বিধানসভা ভোট। তার আগেই রয়েছে আলিপুরদুয়ার পুরসভার ভোট। এই জোড়া নির্বাচনকে পাখির চোখ করে জেলায় বন্ধ চা বাগানের ইস্যুকে হাতিয়ার করে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমে পড়েছে গেরুয়া বাহিনী। অন্যদিকে বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল শিবিরে ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

 বিএনএ, বারাকপুর: বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের গড় ভাটপাড়া পুরসভার আরও পাঁচ বিজেপি কাউন্সিলার তৃণমূলের দিকে পা বাড়িয়ে রাখলেন। তাঁরা যে কোনও দিন ঘরে ফিরতে পারেন ...

 ইস্তানবুল, ৭ নভেম্বর (এএফপি): ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর অনেক ‘হাঁড়ির খবর’ ফাঁস করে দিয়েছে নিহত জঙ্গিনেতা আবু বকর আল বাগদাদির স্ত্রী রানিয়া মাহমুদ। এমনটাই দাবি ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

ব্যবসা সূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬২- সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি পুরুষ ওস্তাদ আলাউদিন খাঁর জন্ম।
১৮৯৫- জার্মান পর্দাথবিদ উইলিয়াম কনরাড রঞ্জন এক্স রে আবিষ্কার করেন।
১৯১০ - ওয়াশিংটনের নির্বাচনে প্রথম কোনও মহিলা ভোট দেন।
১৯২৭- রাজনীতিক লালকৃষ্ণ আদবানির জন্ম
১৯৩৬ - প্রখ্যাত হিন্দী কথাসাহিত্যিক মুনশি প্রেমচাঁদের মৃত্যু
১৯৪৭ – সঙ্গীতশিল্পী ঊষা উত্থুপের জন্ম
১৯৭৬ - ক্রিকেটার ব্রেট লি’র জন্ম
২০১৭ – ভারতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল হয়





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৪৮ টাকা ৭২.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৯.১২ টাকা ৯৩.৪৫ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৪ টাকা ৮০.৪৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৮২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৮৩৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,৭৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,৮৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২১ কার্তিক ১৪২৬, ৮ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, একাদশী ১৬/৩০ দিবা ১২/২৫। পূর্বভাদ্রপদ ১৫/৫৯ দিবা ১২/১২। সূ উ ৫/৪৮/২৭, অ ৪/৫২/২১, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৩ মধ্যে পুনঃ ৭/১৭ গতে ৯/৩০ মধ্যে পুনঃ ১১/৪২ গতে ২/৩৯ মধ্যে পুনঃ ৩/২৩ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৫/৪৪ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৬ গতে ৩/১৩ মধ্যে পুনঃ ৪/৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/৩৫ গতে ১১/২১ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৬ গতে ৯/৪৩ মধ্যে। 
২১ কার্তিক ১৪২৬, ৮ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, একাদশী ১৫/৫৮/১৯ দিবা ১২/১২/৪৩। পূর্বভাদ্রপদ ১৭/৫৮/২৫ দিবা ১/০/৪৫, সূ উ ৫/৪৯/২৩, অ ৪/৫৩/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৪ মধ্যে ও ৭/২৭ গতে ৯/৩৬ মধ্যে ও ১১/৪৫ গতে ২/৩৭ মধ্যে ও ৩/২০ গতে ৪/৫৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৩৯ গতে ৯/১১ মধ্যে ও ১১/৫০ গতে ৩/২২ মধ্যে ও ৪/১৫ গতে ৫/৫০ মধ্যে, বারবেলা ৮/৩৫/২১ গতে ৯/৫৮/২০ মধ্যে, কালবেলা ৯/৫৮/২০ গতে ১১/২১/১৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৭/১৬ গতে ৯/৪৪/১৭ মধ্যে। 
১০ রবিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আগামীকাল অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করবে সুপ্রিম কোর্ট

09:17:50 PM

এবার হকি বিশ্বকাপ ভারতে
২০২৩ সালে পুরুষদের এফআইএইচ হকি বিশ্বকাপ আয়োজন করবে ভারত। ...বিশদ

05:08:38 PM

পদত্যাগ করলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী
 মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। সরকার গড়ার ...বিশদ

05:01:39 PM

আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হল এবছরের আন্তর্জাতিক কলকাতা ফিল্ম উৎসবের

05:01:00 PM

বর্ধমান স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে জখম বহু
বর্ধমান স্টেশনে ৪ ও ৫ নম্বর প্লাটফর্মের মাঝে ফুটওভারব্রিজে ওঠানামা ...বিশদ

04:54:00 PM

গান্ধী পরিবারের এসপিজি নিরাপত্তা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের: সূত্র 

03:53:10 PM