Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

ম্যাজিক
ধ্রুব মুখোপাধ্যায় 

নম্বরগুলো মেলানোর পর যে আনন্দটা হয়েছিল, বিশ্বাস করুন, আমি জীবনে অতটা খুশি কোনওদিনও হয়নি। ‘পঞ্চাশ হাজার’ -না, এমনটা নয় যে আমি কোনওদিনও ভাবিনি। আসলে আমি বিগত কুড়ি বছর ধরে এটাই ভেবে এসেছি। আজকে ভাবনাটা সত্যি হল। আর এরকম খুশির কারণটা আসলে না ভেবে কিছু পাওয়া নয়, বরঞ্চ অনেক ভেবে কিছু পাওয়া। নম্বরগুলো মেলানোর পর এই কয়েক রাত আমি দু’চোখের পাতা এক করতে পারিনি। আর, সারারাত জেগে এই মোটা মোটা লোকেদের কি টানা যায় বলুন! ওঃ, বলাই হয়নি, আমি রিকশ চালাই। নাম সুখেন হলেও জীবনে সুখের অভাব চিরকালীন, তবে শান্তি ছিল। কিন্তু পাইতারা মেরে শান্তিকে বিয়ে করার পর সেটাও গেল। বেশ ছিলাম জানেন, প্রাইমারি স্কুলে পড়তে পড়তেই বাপ একদিন বলল, ‘কাজে চ, আমার সাথে!’ ব্যস দু’-চারটে যাইবা বই ছিল, লোহা ভাঙা-টিন ভাঙাদের বেচে নেমে পড়লাম বাপের সাথে মাটি কাটতে। স্কুলের মাস্টার অনেকবার বলেছিল, পড়াটা চালাতে কিন্তু কে কার কথা শোনে! একবার তো ভয়ও দেখিয়েছিল বাপকে, বলে মাটি কাটা নাকি পাপ। ইন্দ্র ঠাকুরের বরদানে মাটির ক্ষত কোনওদিনও পরে থাকে না, বুজে যায়। কিন্তু ওই, পেটের দায় আর টাকার লোভ কি আর পাপ পুণ্যের হিসাব বোঝে! কিন্তু মাস্টার ঠিক বলেছিল, জানেন! বাপটা মাটি কাটতে গিয়েই মরল! হয়তো ইন্দ্র ঠাকুরই সাপ সেজে সেদিন এসেছিল। তারপর আমি আর কোনওদিনও মাটি কাটিনি। দুপুর হলে ভাত খেয়ে চলে আসি বাঘাযতীন স্টেশনে আর মালিকের রিকশ নিয়ে নেমে পড়ি। রিকশ চলে রাত এগারোটার লোকাল অবধি, তারপর এগারোটা কুড়ির লোকাল ধরে সোজা ঘর।
ভাবনাচিন্তা আমি ছেড়েই দিয়েছিলাম, কিন্তু নম্বরগুলো মিলে যাবার পর আবার ভাবছি, শুধুই ভাবছি। লটারির নেশাটা আমার অনেক দিনের। আগে রোজ বাড়ি ফেরার পথে পুরনো টিকিটগুলোর নম্বর মিলিয়ে যখন মনটা একটু ভারী লাগত, আবার লটারি কাটতাম। আমাদের এক ঘরের সংসার, মানে ওই তক্তার উপরটা শোয়ার ঘর আর তক্তা বাদে বাকিটা সব– রান্না ঘর, বসার ঘর, খাবার ঘর। বাড়ি ঢুকেই শান্তির অভিমান কম, রাগ বেশি মুখটা দেখলেই মাথাটা বিগড়ে যেত, এখন অবশ্য অভ্যাস হয়ে গেছে। ভয়ে, রাগে আর সামান্য হতাশায় আমি রোজ না মেলা পুরনো টিকিটগুলো অজান্তেই ছুড়ে ফেলতাম তক্তার নীচে। বুঝতেই পারছেন, এক ঘরের সংসার, তাই জিনিসপত্র অদল বদল প্রায় হয় না বললেই চলে। কিন্তু সেবার পুজোর সময় শান্তির মাথায় অশান্তির একভূত চাপল! সারা ঘর নাকি পরিষ্কার করা হবে, এবং তাও জিনিসপত্র সরিয়ে। আমি কিচ্ছুটি বলিনি, ওই যে বললাম অভিমান কম, রাগ বেশি মুখটা ভয়, রাগ আর সামান্য হতাশা ছাড়া আমাকে কেবলমাত্র একটি জিনিসই দিয়েছে আর সেটি হল আমার এই পাঁচ বছরের মেয়ে— মায়া।
ঝকঝকে ঘরে ঢুকতেই সে রাত্রে মনটা ফুরফুরে হয়ে গেছিল। এমনকী শান্তির অভিমান কম, রাগ বেশি মুখটায় যখন, রাগ, তীব্র অভিমান এবং তার সাথে একটা হিংস্র ঘেন্নাচোখে পড়ল তখনও আমি বুঝিনি। কিন্তু একগুচ্ছ লটারির টিকিট দেখিয়ে যখন শান্তি ঝাঁঝিয়ে বলল, ‘লজ্জা করে না তোর! মরদ হয়েছিস, মেয়েটোর জন্ম দিয়েছিস আর লটারিতে টাকা ওড়াস!’ মাথাটা এক ধাক্কায় গরম হয়ে গেল, একটা চড় কষিয়েই দিতাম যদিও মায়ার মুখটা দেখে পারিনি।
‘লজ্জা কিসের! নিজের পয়সায় কিনি! তোর কী?’ আমিও থেমে থাকিনি। সে রাত্রে ঘরটার মতো আমাদের মনের ভিতরে জমে থাকা ময়লাগুলোও আস্তে আস্তে সাফ হয়ে গেছিল। সারারাত গালিগালাজ আর দোষারোপের পর যখন দুজনেই ক্লান্ত তখন শুরু হল অপরকে ছেড়ে নিজেকে দোষারোপ করা আর সব শেষে, ‘আমার দুষ রে, দুষটো তুর লয়!’ ভোর রাতে, ঘুমে যখন চোখ জ্বলছে, তখন শান্তি বলেছিল, ‘মেয়ের জনম দিয়েছিস, দেখতে তো তুকেই হবে! বাপ বনেছিস, বিয়েটো তো তুকেই দিতে হবে!’ আমি শান্ত মাথায় আশ্বস্ত করে বলেছিলাম, ‘অতো ভাবিস না। মেয়েটা আগে পড়ুক, বিয়ে তো দেরি আছে। আর দেখিস একদিন ওই তক্তার নীচের লটারিগুলো সব টাকা হয়ে যাবে!’
— ‘হবে না রে! সে ভাগ্য নেই আমাদের! আর দেরি! কোনও দেরি লাই। ফুচুত করে উড়ে যাবে দিন। আর তুই কতদিন গতর খাটাবি? পাশের বাড়ির সুমনা রোজ দশ টাকা করে জমাইছে। ওই পাড়ার নাড়ু আছে না! উর কাছে পাঁচ বছর দশ টাকা করে জমাইলে নাকি পঞ্চাশ হাজার হবে।’
— ‘জমাব রে জমাব।’
— ‘একবার ভাব তো, এই লটারির টাকা কটা যদি রাখতিস আজ কত হতো!’
— ‘অতো ভাবিস না রে, দেশটো বদলাচ্ছে। এখন আর মেয়েদের বিয়ে নিয়ে অতো ঝামেলা হয় না।’
— ‘রাখ তোর রিক্সাচরা বাবুদের কথা। এই আমার মাথার দিব্বি দিলাম, আর যদি ওই লটারির টিকিট কেটেছিস, আমার মরা মুখ দেখবি।’
আমি তখন যেন অসহায়। ঘুমে বুজে আসছে চোখ। কিছুটা নিরুপায় হয়েই বললাম, ‘আচ্ছা আর কাটব না। তবে দিব্বি কেন দিস! আমি বলছি দেখিস ওই টিকিটগুলো একদিন টাকা হয়ে যাবে।’মেয়ে মানুষের দিব্বি আর মোটা মানুষের চর্বি চিরকাল অশান্তি দেয়। আমি তাই চোখটা বুজেই নিলাম। কিন্তু শান্তি তখনও থামেনি, ওই পুরনো টিকিটগুলো তক্তার নীচে ছুড়ে দিয়ে বলল, ‘দেখি তোর ম্যাজিক। কতদিনে এই কাগজ টাকা হয়।’ তারপর, কিছুক্ষণ সব চুপচাপ। আমি যেন আর শুনতেই পাচ্ছিলাম না, তবুও শান্তি জোর গলায় বলল, ‘ভালো করে শোন, কাল থেকে রোজ আমাকে দশ টাকা দিবি। আমি নাড়ুকে ডেকে জমাব।’
‘আচ্ছা তাই হবে’, বলে সেদিনের মতো মুক্তি পেয়ে গেছিলাম কিন্তু শান্তি মুক্তি পায়নি। রোজ সকালে উঠে তক্তার নীচটা দেখত। প্রথমটাই আমি বুঝতে পারিনি কিন্তু টানা দু বছর ওই দশ টাকা রোজ দেবার পর যেদিন খবর এলো নাড়ু গলায় দড়ি দিয়েছে, সেদিন বেশ বুঝেছিলাম, শান্তির মাথাটা গেছে। আপনারা ভাবছেন দু’বছর কেন? আরে এঁটো পাতা কি আর স্বর্গে যায়? দু’বছর গড়াতেই নাড়ুর টাকা জমানোর কোম্পানিটা উঠে গেল। হয়ে গেল আমার পাঁচ বছরের পঞ্চাশ হাজার! নাড়ু মরার পর মাঝে মাঝেই শান্তি তক্তার নীচটা দেখত। ডাক্তারও দেখিয়েছিলাম কিন্তু গরিব মানুষের কি মনের রোগ মানায়? তাছাড়া ওই তক্তার নীচ দেখাটা বাদে বাকি সবই ঠিকঠাক ছিল। খালি মাঝে মাঝে বলে, নাড়ু নাকি স্বপ্নে এসেছিল ওর। বলেছে, সুদটা না পারলেও আসলটা ফেরত দিয়ে দেবে। খাটের নীচের টিকিটগুলো সব টাকা করে দেবে। আমি অনেক করে বুঝিয়েছি, ‘কাগজ কি কোনওদিনও টাকা হয়! তাছাড়া মরা মানুষ ফেরে না।’ আসলে আজও ও বুঝতে পারে না কে ঠকল! শান্তি নিজে নাকি আমি! সে যাই হোক টাকাগুলো যাবার পর থেকে আমি আর অতো ভাবি না, চুপচাপ রোজ একটা করে টিকিট কাটি। তবে ভুল করেও আর ওই তক্তার নীচে ফেলি না। ডাক্তারও বারণ করেছে।
রিকশ মালিকেরই লটারির দোকান। রোজ রাতে রিকশ জমা দিয়ে দশ টাকার লটারি কিনে দৌড়ে আসি স্টেশনে। স্টেশনের শেষের দিকে একটা সিমেন্টের চেয়ার আছে, তার ঠিক নীচে একটা কোলঙ্গায় রেখে দিই টিকিট। কেউ জানে না। জানে শুধু একটা কুকুর, যে ওই নীচটাই শোয়। নম্বরগুলো মেলার পরদিন আমি সকালে উঠেই বেরিয়ে পড়েছি, শান্তি তখন তক্তার নীচটা দেখছিল, হুট করে আমার মুখটা দেখে বেশ ঘাবড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘এই সকাল সকাল কুথা চল্লি রে?’ আমি খুশিটা একটু চেপে বলেছিলাম, ‘মালিকের বাড়ি ভোজ আছে। কিছু কাজ করে দিতে হবে।’ শান্তি হাসি মুখে বলেছিল, ‘তাহলে মেয়েটুর লেগে কিছু খাবার আনিস। আর পারলে আমার লেগেও। আজ আর রাঁধব না রেতে।’ সেদিন ওই রেশন কার্ডের জেরক্স আর দুটো ফোটো তোলার পর খুব হায়রানি হয়েছিল, ভোজ বাড়ির খাবার খুঁজতে। পরে অবশ্য হোটেলের মাংস-ভাত আর দুটো রসগোল্লা কিনে বাঁচিয়ে দিয়েছিলাম নিজেকে। কিন্তু টাকা! ভেবেছিলাম টাকাটা সাথে সাথ পেয়ে যাব, কিন্তু মালিক আরও চারদিনের হিসাব দিল। পরের দু দিন আমি রিকশ টানলেও, শুধুই ভেবেছি। শান্তিকে কী বলা যেতে পারে! ‘তোর বিগড়ানো মাথার দিব্বির থেকে আমার লটারির নেশা অনেক ভালো’ – বলতে ইচ্ছে করলেও বলা তো আর যায় না! লটারি ছাড়া একটা রিকশওয়ালা হুট করে কোথা থেকে পঞ্চাশ হাজার পেতে পারে! ধার করলে, কেন করেছি? চুরি তো করতে পারি না আমি, এসব ভাবতে ভাবতেই মাথায় এল কুড়িয়ে পাবার কথা। কিন্তু টাকাটা পুলিসে জমা দিলে সব শেষ হয়ে যাবে। সবশেষে ভাবনাটা মাথায় এল, নতুন রিকশ। এর থেকে ভালো কিছু আর হতে পারে না। মালিকের গ্যারেজেই না হয় রেখে দেবো, না হয় ভাড়া খাটাব। দৌড়ে গেলাম মালিকের কাছে কিন্তু ওই, ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে পঞ্চাশ হাজার পেলেও কাঁথাটা ছেঁড়াই থাকে! মালিক হেসে উড়িয়ে দিল। বলে, হাতে নাকি পাব কুড়ি থেকে তিরিশ হাজার। আর ওই টাকায় রিকশ কেনার থেকে না কেনাই ভালো। আমি জানি মালিক মিথ্যে বলেছে তবুও মিথ্যেটা মনটাকে কেমন যেন দমিয়ে দিল। তবে এসবে আমি অভ্যস্ত। রিকশ কেনাটাই সব থেকে ভালো হবে! এসব ভাবতে ভাবতেই সেদিন সকালে গিয়ে টাকাটা নিলাম। একটা খয়েরি খাম হাতে দিয়ে মালিক একটা ছবি তুলল আমার সাথে। লটারির দোকানটা সেদিন যেন বড়লোকদের ফুলশয্যার খাট। সেই ফুলের গন্ধেরমাঝেই খামটা খুলতে গেলে মালিক বলল, ‘পঁইত্রিশ হাজার! বাড়ি গিয়ে গুনিস। আর এই টাকায় একটা রিকশ কিনে নিস।’ তারপরই পিঠটা চাপড়ে দিয়ে বলল, ‘মিষ্টি কই!’ আমি দৌড়ে গিয়ে এক ভাঁড় মিষ্টি দিয়ে বেরিয়ে পরলাম মালিকের রিকশ নিয়ে। সবাই অবাক হলেও আমার তখন খুব ইচ্ছে করছিল রিকশ চালাতে। রিকশ নিয়েই গেলাম রিকশর দোকানে কিন্তু কি জানি কেন, মনটা মানতে চাইল না। মনে হল এই তো পেলাম টাকাগুলো, কিছুদিন তো সাথে রাখি। সে রাতে স্টেশনে এসে আর কুলুঙ্গিতে টিকিট রাখিনি। কুকুরটাকে হোটেল থেকে মাংস ভাত কিনে খাওয়াতে খাওয়াতে মনে হল টাকাগুলো এখানেই রেখে দিই কিন্তু রাখতে পারলাম না। বাড়ি ফেরার ট্রেনটা সে রাতে একদম খালি, মনে মনে সারা জীবনে কাটা টিকিটের দাম হিসাব করতে করতে হঠাৎ বিরক্ত লাগল। তাই দরজার কাছটাই দাঁড়িয়ে একটু ঠান্ডা হাওয়া খেলাম। তারপর বাড়ি ফিরে শান্তি, মায়া সব ঘুমিয়ে গেলে কি জানি কি মনে হল টাকাগুলো ছুঁড়ে ফেললাম তক্তার নীচে, ঠিক যেমন করে অতদিন ধরে ছুঁড়ে এসেছিলাম নম্বর না মেলা টিকিটগুলো। একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল। ‘ম্যাজিক তো মানুষেই করে, আমিও না হয় করলাম!’ কিন্তু শরীরটা আর দিচ্ছিল না। আমার ছেঁড়া কাঁথা তখন যেন অনেক দাম দিয়ে কেনা গদি। ফুরফুরে মনে শান্তির পাশটাই শুতেই শান্তি স্পষ্ট গলায় জিজ্ঞেস করল, ‘কি করছিলি রে এতো রেতে।’ আমি ‘কিছু না’ বলে ঘুমালেও ঘুমটা ভেঙে গেছিল খুব ভোরে তবুও চুপচাপ শুয়েছিলাম অনেকক্ষণ। কিন্তু ভীষণ অবাক লাগছিল,অভ্যাস মত শান্তি অনেক বার দেখল তক্তার নীচটা কিন্তু একবারও চিৎকার করে বলল না ‘ম্যাজিক!’
অলংকরণ : সুব্রত মাজী 
22nd  September, 2019
মানুষ গড়ার কারিগর
সৌমিত্র চৌধুরী

 চোখের জল মুছে বাবা বলল, ‘ঠিক আছে স্যার, আপনার কথা রাখলাম। তবে ঋণ বাড়াব না। ফেল করলে ওর কিন্তু পড়া বন্ধ।’ এত দূর বলে আমাদের পিসিএম থামল। আমার চোখে বিস্ময়। জম স্যার নিজে গেল হাটখোলায়? একটু অবাক হয়েছিলাম সেদিন। কিন্তু কয়েকমাস পরে ক্লাসের সবাইকে, এমনকী গোটা স্কুলকে অবাক করে দেবার মতো ঘটনা ঘটল। অঙ্কে আশি নম্বর পেয়ে বার্ষিক পরীক্ষায় চার নম্বর স্থানটা দখল করেছে প্রদীপ। বিশদ

08th  December, 2019
অথৈ সাগর

 আগামী বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। তার প্রাক্কালে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি। বিশদ

08th  December, 2019
আজও তারা জ্বলে
ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়
সন্দীপ রায়চৌধুরী

 ওপার বাংলা থেকে আসা ‘বাঙাল’ ভানুকে শুধু চেহারা দেখেই নাকি ‘জাগরণ’ ছবির জন্য নির্বাচন করেছিলেন বিভূতি চক্রবর্তী। কারণ হিসেবে বলেছিলেন, ‘আমার ছবিতে দুর্ভিক্ষপীড়িত চিমসে চেহারার একটা চরিত্র আছে, সেটা তুমি করবে।’ বিশদ

08th  December, 2019
ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় পর্ব * ১
সন্দীপ রায়চৌধুরী

উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের দ্যুতিতে ভাস্বর। এই লাইনটা বললে হয়তো এক রকম অপমানই করা হয় তাঁদের। কারণ অন্যের আলোয় আলোকিত হওয়ার প্রয়োজন এঁদের কারও কখনও হয়নি। এঁরা নিজেরাই এক একজন কিংবদন্তি।   বিশদ

01st  December, 2019
অথৈ সাগর
বারিদবরণ ঘোষ

আগামী বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। তার প্রাক্কালে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি। 
বিশদ

01st  December, 2019
ফেসবুকে বনলতা
শুচিস্মিতা দেব 

আমি তপেন বাগচি। পেশাহীন এবং নেশাহীন ছাপোষা মানুষ। পেশার অভাবে নেশা করার হিম্মত হয়নি কখনও। অভিজাত পাড়ায় ঠাকুরদার আমলের দোতলা বাড়িতে বিনা পয়সার বাসস্থান। বাবা ছিলেন ব্যারিস্টার ঠাকুরদার ল ফার্মের যোগ্য উত্তরাধিকারী।   বিশদ

01st  December, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
মহাকালীর কালীমঠ
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়  

পর্ব-৩৭

হিমালয়ের পবিত্র দেবস্থানগুলি বারে বারে পরিব্রজন করলেও গুপ্তকাশীর অদূরে কালীমঠে আর যাওয়াই হয় না। তাই সেবার গৌরীকুণ্ডের পথে ত্রিযুগীনায়ারণ হয়ে গুপ্তকাশীতে এসে রাত্রিবাস করলাম। 
বিশদ

24th  November, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়  

৩৭

ছিলেন বিজ্ঞানের ছাত্র, বিষয় ছিল রসায়ন। তিনি নিজের সম্পর্কে বলতেন, ‘আমি বিজ্ঞানের ছাত্র। আচারে-ব্যবহারে, ভ্রমণে-পর্যটনে, খাদ্যে-পানীয়ে কালাপাহাড় বলিয়া পরিচিত মহলে আমার অখ্যাতি আছে; তবু আজ অস্বীকার করিতে পারি না, অলৌকিক শ্রেণীর দুইটি ঘটনার আমি সাক্ষী হইয়া আছি। 
বিশদ

24th  November, 2019
বীরবল
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

 বাদশাহের মর্জিতেই তাকে নামানো হয়েছে লড়াইতে, কিন্তু তাকে কিছুতেই বাগ মানাতে পারছে না তার পিলবান। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে প্রতিদ্বন্দ্বী হাতিকে ছেড়ে তাড়া করল এক জওয়ান লেড়কা দর্শককে, সেই লেড়কা দ্রুত পালিয়ে ঢুকে গেল আম-আদমির ভিড়ের মধ্যে। হাতিটা তখন দূর থেকে দেখছে বীরবরের লাল বেনিয়ান পরা চেহারাটা। বিশদ

17th  November, 2019
 বন্ধুত্ব
তপনকুমার দাস

দীনবন্ধুর যে ক’জন বন্ধু ছিল, তাদের সবাই প্রায় হারিয়ে গেছে। কলেজবেলার পর চাকরিবেলার শুরুতেই হারানোর পালা শুরু হতে হতে সংসারবেলায় পৌঁছে একেবারে ফেড আউট হয়ে গেছিল যাবতীয় বন্ধুত্ব। একে অপরকে ভুলে যেতে যেতে একসময় গল্পের উঠোনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল সব বন্ধুত্ব।
বিশদ

17th  November, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
পুষ্করের সাবিত্রী মা
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় 

পর্ব-৩৫

রাজস্থান ভ্রমণে এসে পুষ্কর তীর্থে স্নান করে ভারতের একমাত্র ব্রহ্মা মন্দিরে পুজো দিয়ে সাবিত্রী পাহাড়ে সাবিত্রী মাতাকে দর্শন করেন না এমন যাত্রী নেই বললেই চলে।
আজমির থেকে পুষ্করের দূরত্ব ১১ কিমি।  
বিশদ

10th  November, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়  

৩৫

ঔপন্যাসিক উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে ‘বিচিত্রা’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল এক নতুন যুগের। জন্ম হল উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানের। সম্পর্কে তিনি ছিলেন কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মামা।   বিশদ

10th  November, 2019
সম্পর্ক
সম্পন্ন চৌধুরী 

রাত প্রায় বারোটা
মুষলধারে বৃষ্টি হয়েই চলেছে। থামার কোনও লক্ষণই যেন নেই। কিন্তু গরমটা কিছুতেই যেন কমছে না। মানে বৃষ্টিটা আরও হবে। গোটা বাড়িটাই প্রায় জলে ভরে গেছে। ঘরের ভিতরেও জল ঢুকবে ঢুকবে করছে। 
বিশদ

10th  November, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
দেশনোকের করণীমাতা
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

পর্ব-৩৪

দেশনোকের করণীমাতার প্রসঙ্গে এবার আসা যাক। ইনি রাজস্থানের মরু অঞ্চলে রাজ পরিবারের আরাধ্যা দেবী। করণীমাতার মন্দির হচ্ছে পৃথিবীবিখ্যাত মন্দির, অসংখ্য ইঁদুরের জন্য এই মন্দির ‘চুহা মন্দির’ নামে প্রসিদ্ধ। সেবার রাজস্থান ভ্রমণের সময় মুলতানি ঘাঁটির কোলায়েতে গিয়েছিলাম কপিলমুনির মন্দির ও পবিত্র সরোবর দেখতে।  
বিশদ

03rd  November, 2019
একনজরে
বিএনএ, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন: লাভপুরে একই পরিবারের তিন ভাইয়ের হত্যা মামলায় নতুন করে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিল পুলিস। নতুন করে চার্জশিটে নাম জুড়ল বিজেপি নেতা মনিরুল ইসলামের।  ...

নয়াদিল্লি, ৮ ডিসেম্বর: চলতি বছরের নভেম্বর মাসে গাড়ির উৎপাদন ৪.৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি করল মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া (এমএসআই)। বাজারে চাহিদা না থাকায় টানা ন’মাস ধরে গাড়ির উৎপাদন কমিয়ে এনেছিল সংস্থাটি। মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া তরফে জানানো হয়েছে, নভেম্বর মাসে ১ লক্ষ ৪১ ...

বিএনএ, চুঁচুড়া: খো খো প্রতিযোগিতায় দেশকে জিতিয়ে ঘরে ফিরলেন চুঁচুড়ার সোনার মেয়ে ঈশিতা। ঈশিতা বিশ্বাস সাউথ এশিয়ান গেমসের সোনাজয়ী ভারতীয় খো খো দলের সদস্য ছিলেন। ...

সিওল, ৮ ডিসেম্বর (এএফপি): পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে আমেরিকার উপর চাপ বাড়াল উত্তর কোরিয়া। ফের শক্তিশালী অস্ত্রের পরীক্ষা করল কিম জং উনের দেশ। শনিবার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ এই পরীক্ষাটি চালায় পিয়ংইয়ং।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

মাঝে মধ্যে মানসিক উদ্বেগের জন্য শিক্ষায় অমনোযোগী হয়ে পড়বে। গবেষণায় আগ্রহ বাড়বে। কর্মপ্রার্থীদের নানা সুযো ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৪৮৩: অন্ধকবি সুরদাসের জন্ম
১৮৯৮: বেলুড় মঠ প্রতিষ্ঠিত হল
১৬০৮: ইংরেজ কবি জন মিলটনের জন্ম
১৯৪৬: কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর জন্ম
১৯৪৬: অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার জন্ম
২০১১: আমরি হাসপাতালে আগুন 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৯ টাকা ৭২.১৯ টাকা
পাউন্ড ৯২.২০ টাকা ৯৫.৫৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৭৫ টাকা ৮০.৭৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
07th  December, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৪২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩, ৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩, ৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
08th  December, 2019

দিন পঞ্জিকা

২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, দ্বাদশী ৯/২৩ দিবা ৯/৫৪। ভরণী ৫৭/৯ শেষ রাত্রি ৫/০। সূ উ ৬/৮/৫৩, অ ৪/৪৮/২৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৮ গতে ১১/৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৮ গতে ১১/২ মধ্যে পুনঃ ২/৩৫ গতে ৩/৩০ মধ্যে, বারবেলা ৭/২৭ গতে ৮/৪৮ মধ্যে পুনঃ ২/৮ গতে ৩/২৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৮ গতে ১১/২৮ মধ্যে। 
২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, দ্বাদশী ৭/১০/১১ দিবা ৯/২/২২। ভরণী ৫৭/৩১/১০ শেষরাত্রি ৫/১০/২৬, সূ উ ৬/১০/১৮, অ ৪/৪৯/১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৯ মধ্যে ও ৯/৪ গতে ১১/১১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩১ গতে ১১/৫ মধ্যে ও ২/৪০ গতে ৩/৩৪ মধ্যে, কালবেলা ৭/৩০/৮ গতে ৮/৪৯/৫৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৯/৩০ গতে ১১/২৯/৪০ মধ্যে।
১১ রবিয়স সানি 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কর্ণাটক বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেসের হার, পরিষদীয় দলনেতার পদ থেকে পদত্যাগ সিদ্দারামাইয়ার

03:56:19 PM

৪২ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

03:50:07 PM

পানিপথ: জয়পুরে সিনেমা হলে ভাঙচুর 
হিন্দি ছবি পানিপথে মহারাজ সূরজমলের চরিত্র বিকৃত করা হয়েছে, এই ...বিশদ

03:32:17 PM

মালদহে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ভাঙচুর 
আধার কার্ডের জন্য রাত থেকে লাইন দিয়েছিলেন আবেদনকারীরা। সকাল ১০টার ...বিশদ

01:57:25 PM

নদীয়ায় বাবাকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে 
নদীয়ার কালীগঞ্জে বাবাকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে। আজ সকালে ...বিশদ

01:45:00 PM

বীরভূমের কাঁকড়তলায় মাটির নীচ থেকে ৪ ড্রাম বোমা উদ্ধার 

01:44:00 PM