Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

তিথির অতিথি
প্রদীপ আচার্য 

‘বাবা, উনি কাঁদছেন।’ চোখের ইশারায় গোলোকচন্দ্রকে বাইরে ডেকে নিয়ে নিচুস্বরে কথাটা বলল তিথি। গোলোকচন্দ্র আকাশ থেকে সটান মাটিতে পড়লেন। বললেন, ‘ধ্যাৎ, খামোখা কাঁদতে যাবেন কেন?’
‘মনে হয় আমার রান্নার ঢকপদ ওনার পছন্দ হয়নি। তখন কত করে বললাম, বাজার যাও, ট্যাংরা ফ্যাংরা যা পাও ভালো মাছ আর এট্টুস মুরগি নিয়ে এসো। তা আমার কথায় কানে তুললে তুমি?’
‘তুই আমাকে দুষছিস! আরে বেটি, আমি তো যাচ্ছিলাম। উনিই তো যেতে দিলেন না। দেখলি না, উনি থলে টেনে ধরলেন। বললেন, না না, দু’বার করে বাজার যাওয়া চলবে না। সকালে যা বাজার করেছ, তাতেই আমার চলবে।’
‘তোমার জোর করা উচিত ছিল। আর উনিই বা কীরকম লোক? কথা নেই বাত্তা নেই এসে হাজির। একটা ফোন তো করতে পাত্তেন। তা না, হে হে চলে এলাম। বাজারেও যেতে দিলাম না। এখন গেলো পালং শাক, ডাল, আলুর চোখা, পাঁচমেশালি তরকারির ঘ্যাঁট আর বাটা মাছের ঝাল। অত বড়লোক! এসব ছাইভস্ম কি রোচে ওনার মুখে? দেখো এখন খেতে বসে চোখের জল ফেলছেন। গেরস্ত বাড়িতে যত সব অলুক্ষুণে কাণ্ড।’
‘আমার মনে হয়, তুই মাছে বড্ড বেশি ঝাল দিয়েছিস। সবাই কি অত ঝাল খেতে পারে? এখন রাখ এসব কথা। উনি একা বসে খাচ্ছেন। চল কাছে গিয়ে বসি।’
কল্যাণব্রত একমনে খাচ্ছিলেন। চশমার ফ্রেমের নীচ থেকে গড়িয়ে পড়া চোখের জল মুছে নিচ্ছিলেন। বাঁ-হাতের মুঠোয় ধরা আছে সাদা রুমাল। গোলোকচন্দ্রের চোখে চোখ ফেলে তিথি বোঝাতে চাইল, কী? ঠিক বলিনি? গোলোকচন্দ্র খানিক ইতস্তত করে গলা খাকারি দিয়ে বললেন, ‘স্যার, বেটি মনে হয় মাছে বেশি ঝাল দিয়ে ফেলেছে। আলুর চোখাতেও শুকনো লঙ্কার ঝাল।’ কল্যাণব্রত ম্লান হেসে বললেন, ‘হু, তা ঝাল একটু বেশিই। তবে ভালোই হল। মুখটা একটু ছেড়ে গেল। একঘেয়ে কাটাপোনার ঝোল খাওয়া জিভ তো বিদ্রোহ করেছে।’
ঘরে তো মিষ্টিফিস্টি কিছু নেই। চিনি আছে। তা কি দেওয়া যায়? হঠাৎ তিথির মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। লোকটাকে একটা মিষ্টিপান এনে খাওয়ালে কেমন হয়। বেশ হয়। ঝালের মুখে মিষ্টিপান ভালোই হবে। কল্যাণব্রতকে হাত-মুখ ধোয়ার জল এগিয়ে দিয়ে একছুট্টে আলনা থেকে কাচা গামছা এনে দিল। কল্যাণব্রত হাত মুছতে মুছতে বললেন, ‘বাঃ, তুমি তো বেশ ভালোই রেঁধেছ। বড়ি দিয়ে পালং শাক দারুণ রেঁধেছ। মুখে লেগে রয়েছে।’ তিথি ঠোঁট উল্টে বলল, ‘ভালো না ব্যাঙ। মন জুগিয়ে কথা বলবেন না। জিভ বিদ্রোহ করল। ডাইনিং টেবিলে বসে খাওয়া অভ্যেস, এখানে মেঝেতে বসে খেতে হল। আমি কি কিছু বুঝি না? খাওয়া তো হল না। গেলা হল।’
—‘কী বলছ তুমি।’
—‘ঠিকই তো বলছি। পষ্ট কথায়
কষ্ট কী?’
—‘তুমি তো সত্যিই বেশ মুখরা।’
—‘বাবার কাছে শিখেছেন কথাটা।’
—‘কোন কথাটা?’
—‘ওই যে, মুখরা।’
—‘ঠিক বলেছ। তোমার বাবার কাছে তোমার আরও অনেক গল্প শুনেছি। গোলোকচন্দ্রের মুখে তো তুমি ছাড়া অন্য কোনও গল্প নেই। শুধু তিথিমা আর তিথিমা। তাই দেখতে চলে এলাম, সে কেমন তিথিমা।’
—‘বাবার আবার মেয়ে নিয়ে একটু বেশি আদিখ্যেতা। অসহ্য। নিন, আপনি একটু গড়িয়ে নিন।’
খাটের চারপাশের চাদর টানটান করে দিল তিথি। লেপ টেনে দিল। বলল, ‘আমি যাচ্ছি। রাজ্যের কাজ পড়ে আছে।’ শরীর গড়িয়ে দিয়ে কল্যাণব্রত বললেন, ‘গোলোকচন্দ্র গেল কোথায়? ওকে বললাম আমার সঙ্গে তুমিও বসে পড়ো। তা বাড়িতেও গোলোক আমাকে সেই বড়সাহেব বানিয়েই ছাড়ল।’
‘তা না। আসলে ছুটির দিন বাবার খেতে ঢের দেরি হয়। বাবা পুকুরে যাবে। ঘাটে বসে বসে গুড়াকু দিয়ে দাঁত মাজবে একঘণ্টা ধরে। তারপর জলে ঝাঁপাবে। সাঁতার দেবে। অবগাহন চান। নিন, আপনি একটু জিরিয়ে নিন। আমি যাচ্ছি।’
ঘর থেকে বেরিয়ে একছুট্টে উঠোন পেরিয়ে গেল তিথি। উঠোন পেরিয়ে আর এক উঠোন। তিথির লম্বা বিনুনি পিঠের ওপর দুলে দুলে নাচল। তিথি ডাকল, ‘মিষ্টিবউদি।’ দোতলার বারান্দার গ্রিলের ফাঁকে এসে আটকে গেল একটা মিষ্টিমুখ। তিথির মিষ্টিবউদির মিহি গলা। বলল, ‘কীরে? আয় ওপরে আয়।’
‘না তুমি নীচে এসো। শিগগির এসো।’ পায়ের মল বাজিয়ে মিষ্টিবউদি সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে বলল, ‘লোকটা কে রে তিথি? দোতলার জানলা দিয়ে তখন দেখলাম তোদের উঠোনে মস্ত একটা গাড়ি। শিউলি গাছের নীচে চেয়ারে বসে লোকটা সিগারেট খাচ্ছে, রোদ পোহাচ্ছে, কে রে লোকটা?’
‘ওসব পরে হবে। তুমি আগে চট করে একটা মিষ্টিপান সেজে দাও। আর বোলো না। উটকো ঝামেলা। বাবার অফিসের বড়সাহেব। তার বায়না গোলোকচন্দ্রের মেয়েকে দেখবেন। কী আমার রূপ গজাল বলো তো? কথা নেই বার্তা নেই এসে হাজির। কলেজ ছুটি। তবু ভাগ্যিস ভালো সালোয়ারটা পরেছিলাম। আর খেতে দিতে যা লজ্জা করছিল আমার।’
‘তোকে দেখতে এসেছে। বিয়ের সম্বন্ধ?’
‘ধ্যাৎ, অত বড়লোক। জানো? আমার জন্যে দামি দু’টো সালোয়ার, দু’টো দামি শাড়ি নিয়ে এসচে।’ মিষ্টিবউদি টোনা মেরে বলল, ‘তাহলে নির্ঘাত সম্বন্ধের ব্যাপার। ওনার ছেলের বউ করবে তোকে।’
‘ভারী বয়ে গেছে। কত বড়লোক ওরা। গাড়িটা দেখলে তো? ঝাক্কাস। লোকটাকেও হেব্বি দেখতে। আমাকে বউ করতে ভারী বয়ে গেছে ওদের।’
‘তুইও বা কম কী? যে ঘরে যাবি আলোর বন্যা বয়ে যাবে। নে ধর।’ মিষ্টিবউদির হাত থেকে পানটাকে ছিনিয়ে নিয়ে ফের একছুট্টে দু’উঠোন পেরিয়ে এল অতিথি। গলা তুলে বলে এল, ‘দুপুরে ভোঁস ভোঁস করে ঘুমিও না। খাওয়ার পর আসছি। তখন গল্প করব।’
খাওয়া সেরে রান্নাঘর গুছিয়ে শেকল তুলে দিল। নিজের ঘরের পড়ার টেবিল থেকে মোবাইল ফোনটা তুলে নিয়ে গুলতানি করতে চলল মিষ্টিবউদির কাছে। মোবাইলে বাবানের তিনটে মিসড কল দেখে রিং ব্যাক করল তিথি। বাবান ফোন ধরেই সব উদ্ভট প্রশ্ন জুড়ে দিল। ‘তোকে নাকি দেখতে এসেছে? খুব বড়লোক, গাড়ি নিয়ে এসেছে। তুই কি এই বিয়েতে মত দিবি? রাজি হবি তুই? তাহলে আমার সঙ্গে স্রেফ নাটক চালালি এতদিন?’ বাবানের সব উদ্ভট প্রশ্ন শুনে তিরিক্ষে হল তিথির মেজাজ। বলল, ‘তোর সঙ্গে পরে কথা বলছি আমি। এখন রাখ।’ বলে ফোন কেটে দিল তিথি।
মিষ্টিবউদি বলল, ‘আমার দেওর দোকান বন্ধ করে এল খানিক আগে। বলল, লোকটা নাকি হাইওয়ে থেকে নেমে দফায় দফায় একে তাকে জিজ্ঞেস করেছে। ভাই গোলোকচন্দ্রের বাড়িটা কোনদিকে? তোর সমরদাও একটু আগেই ফোন করেছিল। বলল, কী ব্যাপার বলো তো? তিথিদের বাড়িতে পেল্লাই গাড়ি হাঁকিয়ে কে এসছে বলো তো? আমি বলেছি, আমি সঠিক জানি না। যাগগে, মোদ্দা ব্যাপারটা হল, গোটা গ্রামে একেবারে হইচই পড়ে গেছে।’
‘একটু আগে বাবানও ফোন করে বোর কত্তে যাচ্ছিল। লোকটার সত্যিই কোনও কাণ্ডজ্ঞান নেই। আমাদের মতো গরিবের বাড়িতে ওই অত্ত বড় গাড়ি হাঁকিয়ে লোক এলে সবারই তো চোখ টাটাবে বলো। ঠিক আছে, এসেছিস একবেলা ঘুরে চলে যা। তা না, বায়না ধরেছে রাতে দিশি মুরগির ঝোল খাবে। বাবার কাছে শুনেছে, আমি নাকি দারুণ রাঁধি। বিকেলে বেড়াতে বেরবে।’
‘বলিস কীরে? তার মানে রাতে থাকবে? কাল যাবে? না না, এসব অ্যালাউ করিস না তিথি। লোকটা তো চলে যাবে। তারপর গ্রামে ঢি ঢি পড়ে যাবে। না না, একদম না। তুই পোটেস্ট কর। তোর বাবা তো সাদাসিধে ভোলাভালা মানুষ। লোকটা কী মতলবে এসেছে, ধর রাতে যদি লোকটা তোর ঘরে হানা দেয়। বলা তো যায় না। কার মনে হরর বাপ, কার মনে গোখরো সাপ। একটা কেলেঙ্কারি কিছু ঘটে গেলে তখন? কেউ যদি বলে, গোলোকদা টাকার জন্য মেয়ের ঘরে লোক ঢুকিয়েছে, তখন?
‘অসম্ভব, আমার বাবাকে সেরকম কেউ ভাববে না।’
ভাববে না। ভাবতে কতক্ষণ। তা পরে তুই যখন ওই দামি সালোয়ার আর শাড়িতে সাজবি, কলেজ যাবি, তখন গ্রামের মেয়ে-বউরা ওই যারা তোর এই আগুন রূপে জ্বলেপুড়ে মরে, তারা কি তখন বলতে ছাড়বে যে, বাড়িতে বড়লোকের আনাগোনা, তাই এত ঠাঁট তোর। না না তুই লোকটাকে ভাগিয়ে দে।’
মিষ্টিবউদির কথা শুনে এই মাঘের দুপুরেও তিথির দুধ ফর্সা মুখে হামের মতো ঘাম জমতে থাকে। কপালে ভাঁজ পড়ে। বলে, ‘তুমি কথাটা ঠিক বলেছ মিষ্টিবউদি। দাঁড়াও লোকটাকে আগে বিদেয় করার ব্যবস্থা করি।’
গোলোকচন্দ্র তখন কল্যাণব্রতর সঙ্গে খোশগল্পে মজে রয়েছেন। তিথি পর্দা ফাঁক করে ভেতরে মুখ বাড়াল। বলল, ‘বাবা, একটু শুনে যাও।’ গোলোকচন্দ্র গল্পে গদগদ হয়ে আছেন। বললেন, ‘আয় না ভেতরে।’
‘না তুমি শুনে যাও।’ গোলোকচন্দ্র বাইরে আসতেই তিথি বাবার হাত ধরে হেঁচকা টান দিয়ে টেনে নিয়ে যায় নিজের ঘরে। গোলোকচন্দ্র অবাক হন। বলেন, ‘কীরে, ব্যাপার কী? অত ঘামছিস কেন?’ তিথি চোখ-চিবুক শক্ত করে বলে, ‘বাবা, লোকটাকে বিদেয় করো। রাতে থাকা-টাকা চলবে না। এটা ভদ্রলোকের বাড়ি।’ গোলোকচন্দ্র মেয়ের মুখ চেপে ধরেন। বলেন, ‘আস্তে বল, উনি শুনতে পাবেন।’ এক ঝটকায় বাবার হাত সরিয়ে নিয়ে ঝাঁঝিয়ে ওঠে তিথি। গলার রগ ফুলিয়ে চিৎকার করে বলে, ‘শুনুক, উনি আমাদের আত্মীয় না, কুটুম না, তোমার বন্ধুও না। তোমার অফিসের বড়সাহেব।’
‘আমিই তো ওনাকে আসতে বলেছি। একবার নয়, বহুবার বলেছি। যাকে বলে অনুরোধ করেছি। কীভাবে আসতে হবে, পই পই করে ছবি এঁকে রাস্তা চিনিয়ে দিয়েছি। তাই এসেছেন। আমার সঙ্গে উনি বন্ধুর মতোই মেশেন।’
‘মিশলেও মিল হয় না। বন্ধু হয় সমানে সমানে। একজন অনাত্মীয় অত বড়লোক দুম করে বাড়ি এসে রাত কাটিয়ে গেলে তোমার মেয়ের বদনাম হতে পারে, তা তুমি ভেবে দেখেছ। মা থাকলে তা-ও কথা ছিল।’
‘তোর মা মারা গেল তখন তোর বয়স সাত। আজ বারো বছর তোর কোনও জন্মদিনে আমাকে কেক কেনার টাকা দিতে ভোলেননি উনি। তোর কলেজে ভর্তির ওই অতগুলো টাকা উনিই দিয়েছেন। বলেছেন, এটা তোমার বকশিস। অফিসের কাজের জন্য নয়।
মেয়েকে মানুষ করার বকশিস। আমি যে রোজ এই তিন ঘণ্টার পথ ট্রেনে করে অফিস যাই, রোজই তো লেট হয়। উনি কোনওদিন লেট মার্ক দিতে দেননি। ছুটির অনেক আগেই অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ি। উনিই বলেন, গোলোক তুমি যাও। বাড়িতে মেয়ে একা। বেরিয়ে পড়ো। সেই মানুষটা নিজে থাকতে চেয়েছে, আর আমি বলব চলে যান। রাতে থাকলে বদনাম হবে? হোক বদনাম। আমি অত পরোয়া করি না। তোদের এত নিচু মন! ছিঃ!’
মেয়ের ঘর থেকে বাইরে এসেই কল্যাণব্রতর মুখোমুখি হলেন গোলোকচন্দ্র। তাঁকে থতমত খেতে দেখে কল্যাণব্রত বললেন, ‘এই যে গোলোক, তোমাকেই খুঁজছিলাম। বুঝলে, আমার রাতে থাকা হবে না। বাড়ি থেকে ফোন এসেছে, আমার মিসেস হঠাৎই অসুস্থ হয়েছে। আমাকে এখনই ফিরে যেতে হবে। কী করব ভাই, ব্যাড লাক। ভেবেছিলাম, বিকেলে তোমাদের গ্রামটাকে ঘুরে দেখব। তোমার মুখে যে ঝিলের গল্প শুনি, যে ঝিলে সাদা বকের হাট বসে যায়, সেই ঝিলটা দেখব। পরিযায়ী পাখিদের দেখব। বিকেল ফুরিয়ে যাওয়ার বেলায় পাখিরা কেমন দল বেঁধে উড়ে গিয়ে নীড়ে ফেরে। খোলা আকাশটাকে দু’চোখ ভরে দেখব। ভেবেছিলাম সূর্যাস্তের সময় নদীর পাড়ে বালুচরে বসে বসে দেখব, সূর্য কেমন একটু একটু করে নদীর জলে ডুবে যায়। তারপর দেখব নদীতে জ্যোৎস্নার ঝিকিমিকি। দেখব, এই শীতের সন্ধেরাতেই তোমাদের গ্রামটা কেমন গুড়িসুড়ি মেরে ঘরের মধ্যে সিঁধিয়ে যায়। ভোরের পাখিরা কেমন সুর করে ডেকে ওঠে। মোরগের ডাক শুনতে শুনতে কুয়াশার চাদর সরিয়ে আলপথ ভেঙে হেঁটে যাব তোমাদের রহমত আলির বাগানে। সদ্য পেড়ে আনা টাটকা খেজুর রস হাড়মাংসে আজও কেমন করে কাঁপন ধরায় দেখব। অনেককাল পরে প্রকৃতিকে একটু ছুঁয়ে দেখার সাধ হয়েছিল। কিন্তু মিসেসের শ্বাসকষ্টটা বেড়েছে। আমি বলেছি, আমি ফিরছি।’ বলেই কল্যাণব্রত দ্রুত পায়ে ঘরে যান। গোলোকচন্দ্র হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। কাঁধে কিড ব্যাগ ঝুলিয়ে বেরিয়ে আসেন কল্যাণব্রত। তিথি ততক্ষণে উঠোনে এসে দাঁড়িয়েছে। কল্যাণব্রত চিবুক ছুঁয়ে বলেন, ‘তোর চোখকে সত্যিই ফাঁকি দিতে পারিনি আমি। তুই ঠিকই ধরেছিস। খেতে বসে আমি সত্যিই কাঁদছিলাম। কিছুতেই চোখের জলকে ধরে রাখতে পারছিলাম না। কেন জানিস? তুই ঠিক আমার মায়ের মতো। বহুযুগ পরে আজ ভাতের মধ্যে মায়ের গন্ধ পেলাম।’
অলংকরণ : সুব্রত মাজী 
01st  September, 2019
মিষ্টু
উৎপল দাস

রিমা ভিতরে ভিতরে জ্বলে পুড়ে মরে। এ পৃথিবীতে কেউ নেই যে তার অবস্থা বোঝে। মিষ্টুকে বিদায় না করতে পারলে যেন ওর শান্তি নেই।  বিশদ

11th  April, 2021
পিশাচ সাধু
জয়ন্ত দে
ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব   ৮

সহজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় পরমেশ্বর শান্ত গলায় বলেছিল— বিচিত্রদা সেই বিরল মানুষ যারা এখনও মনে করে বিপ্লব হবে। কখন হবে, কীভাবে হবে কেউ জানে না, শুধুমাত্র একটা স্ফুলিঙ্গ। সেই স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল হয়ে যাবে। বিশদ

11th  April, 2021
বিদিশা কি ভানুমতী?
আশিস ঘোষ

বেশি কথা বা শব্দ, আলো এখন ভালো লাগছে না। বিদিশাকে বলতেই, ও টিউব লাইট নিভিয়ে জিরো পাওয়ারের নীল আলো জ্বালিয়ে দিল। জানলার পর্দা হাওয়ায় উড়ছে। বাইরের রাস্তায় গাড়ির শব্দ। বিদিশা আমার দিকে চেয়ে আছে। কিছুই বলছে না। বিশদ

04th  April, 2021
পিশাচ সাধু
ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব   ৭
জয়ন্ত দে

দারোগা বাড়ির নিমন্ত্রণে ক্যাপ্টেন হঠাৎ উদয় হল কেন? এ প্রশ্ন সহজের মনে অবিরাম ঘুরপাক খাচ্ছে। নচের সঙ্গে কথা বলে মনে হল, ক্যাপ্টেনকে সেদিন দারোগা বাড়িতে পাঠিয়েছিল পরমেশ্বরের পার্টনার শঙ্কর। সহজের কাছে আস্তে আস্তে পরিষ্কার হতে থাকে পুরো স্কিমটা। এদিকে, ক্যাপ্টেনের ভবিষ্যদ্বাণীর আতঙ্ক থেকে কিছুতেই বেরিয়ে আসতে পারছে না নচে। তারপর... বিশদ

04th  April, 2021
দহ
হামিরউদ্দিন মিদ্যা

ঘুম-জড়ানো চোখেই ধড়ফড় করে উঠে দাঁড়াল নুরু। মাটি থেকে গামছাটা তুলে, ধুলো ঝেড়ে কোমরে বাঁধল। বাঁ-হাতে নিল পাচন লাঠিটা। গোরু-মোষের দলটা সামনেই চড়ছে। মোষগুলোর দিকে চেয়ে দেখল, নিবারণ ঘোষের লেজকাটা মোষটা নেই। বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল নুরুর। পাগলের মতো ছুটতে লাগল দহের দিকে। বিশদ

28th  March, 2021
পিশাচ সাধু
ধারাবাহিক উপন্যাস  পর্ব   ৬
জয়ন্ত দে

সহজের একটিমাত্র টিউশন টিকে আছে। মনোতোষ স্যারের কোচিং ক্লাস সে ছেড়ে দিয়েছে। সৃজনীকে পড়ানোর সময় মুখ ফস্কে সহজ বলে ফেলে, তার ভাগ্য খুলতে আর ঊনত্রিশ দিন বাকি। অথচ, প্রেমিকা বর্ণিনীকেও সে ক্যাপ্টেনের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে কিছু বলেনি। এদিকে, সহজকে পরমেশ্বর সাবধান করে, ‘পিশাচের ফাঁদের পড়িসনি।’ তারপর... বিশদ

28th  March, 2021
ভুল ফোন
কৌশানী মিত্র

ছেলেটি নরম। মেয়েটি কঠিন। ছেলেটির চোখে সারাক্ষণ জল টলটল করছে। আসলে জন্মানোর পর শুধু লড়াই করতে করতে দু-দণ্ড বসে কাঁদতে পারেনি কোনওদিন। এখন যেটুকু যা আছে তাইই ইমনের সামনে উপুড় করে দিতে পারলে যেন বেঁচে যায়। বিশদ

21st  March, 2021
পিশাচ সাধু
ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব   ৫
জয়ন্ত দে

নচে রেগে গিয়ে ক্যাপ্টেনকে রিকশসুদ্ধু খালে ফেলে দেওয়ার সুপারি দিল নেত্রকে। স্ত্রীকে নিয়ে নেত্রর রিকশয় উঠলেন ক্যাপ্টেন। রিকশ এগতে থাকে আর স্বামীকে একের পর এক অনুযোগ করতে থাকে বঁড়শি। তারপর... বিশদ

21st  March, 2021
পিশাচ সাধু
জয়ন্ত দে

পিশাচ সাধু ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন সহজের। নচেও তার ভবিষ্যৎ জানতে চায়। সাধু বলেন, ‘তুই অপঘাতে মরবি।’ শুনে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত নচে। তারপর... বিশদ

14th  March, 2021
তন্ত্রমন্ত্র
সৌমিত্র চৌধুরী

ঠক ঠক ঠক। অন্ধকার ঘর। মিনিট পাঁচেক হল কারেন্ট চলে গিয়েছে। নিজের বিছানায় চাদর মুড়ি দিয়ে বসে আছি। তবুও মশার কামড়। স্বস্তিতে বসতেও পারছি না। তার মধ্যে দরজায় টোকা।  বিশদ

14th  March, 2021
পিশাচ সাধু
জয়ন্ত দে 

দারোগাবাড়ির ঠেকে সহজকে দেখে হঠাৎই ক্যাপ্টেন বেমক্কা বলে বসলেন— ‘তুই ভুল করেছিস পরি! এ ছেলে সহজ নয়, এ ছেলে কেন তোর এখানে? বড্ড ভুল করছিস!’ পরমেশ্বর অবাক হয়ে জানতে চাইল, ‘কেন, কী ভুল করলাম ক্যাপ্টেন?’ তারপর... 
বিশদ

07th  March, 2021
পিশাচ সাধু 
জয়ন্ত দে

পরমেশ্বরের সঙ্গে দারোগা বাড়ির ভূতুড়ে ঠেকে এসেছিল সহজ। হুল্লোড়ের মাঝে সেখানে হঠাৎই হাজির হলেন ক্যাপ্টেন। যিনি নিজেকে পিশাচ সাধু বলেন। তিনি সহজকে দেখে বললেন, তুই এখানে কেন? তারপর... 
বিশদ

28th  February, 2021
দেশি ছেলেপুলে 
চন্দন চক্রবর্তী

ব্যানার্জিবাবু প্রচণ্ড উত্তেজিত! ‘তা বলে আমার ফ্ল্যাটের সামনে?’ আবাসনের পার্কে তখন প্রাতঃভ্রমণকারীরা বসে। কেউ রামদেব, কেউ বা ফড়িং-এর মতো ফড়ফড় করে হাত-পা নাড়ানাড়ি করছেন। ব্যানার্জিবাবু রীতিমতো সুদর্শন। ফর্সা রং, চোখে বিদেশি চশমার ফ্রেমে আঁটা দেশি চশমার লেন্স।  
বিশদ

28th  February, 2021
ভাষা ও ভালোবাসা 
ছন্দা বিশ্বাস

অহর্নিশকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দুপুরে খাওয়ার পর দোতলার ঘরে শুয়েছিল অহর্নিশ। শুয়ে শুয়ে একটা কমিক্সের বইয়ের পাতা ওল্টাচ্ছিল। অবন্তিকা দেখে এসেছে। ভেবেছে গল্প পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়বে। ছেলের মাথার হাত বুলিয়ে বলে এসেছে, ‘তাড়াতাড়ি একটু ঘুমিয়ে নাও, চারটের সময়ে কিন্তু আমাদের বেরতে হবে।  
বিশদ

21st  February, 2021
একনজরে
উত্তর মালদহে একইদিনে নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল উভয় শিবিরে সাজো সাজো রব। আগামী বৃহস্পতিবার ওই দুই হেভিওয়েট সভা ...

বি টি রোড, কাশীনাথ দত্ত রোড, গোপাললাল ঠাকুর রোড ঘুরে অক্ষয় মুখার্জি রোড। রাস্তার দু’দিক বরাবর পতপত করে উড়ছে ঘাসফুল, পদ্মফুল আর হাত-কাস্তের পতাকা। দেওয়ালে ...

দেশে মহিলা প্রধান বিচারপতি নিয়োগের সময় এসেছে। বৃহস্পতিবার একথা বলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি আমাদের মাথায় রয়েছে। শুধু উপযুক্ত প্রার্থীর অপেক্ষা। ...

চলতি মাসে একদিনের জন্য ভারত সফরে যাচ্ছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। প্রাথমিকভাবে চারদিনের জন্য ভারতে আসার কথা থাকলেও, করোনার জন্য সফর কাটছাঁট করে একদিন হচ্ছে। ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে জোর দিয়েছে জনসন প্রশাসন। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রেম-প্রণয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকবে। কারও কথায় মর্মাহত হতে হবে। ব্যবসায় যুক্ত হওয়া যেতে পারে। কর্মে সুনাম ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব কণ্ঠ দিবস
১৮৫০:  মাদাম তুসো জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ম্যারি তুসোর মৃত্যু
১৮৫৩: প্রথম ট্রেন চলল সাবেক বোম্বাইয়ের ভিক্টোরিয়া থেকে থানে পর্যন্ত
১৮৬৭: উড়োজাহাজের আবিষ্কারক উইলবার রাইটের জন্ম
১৮৮৯: অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের জন্ম
১৯১৬ - রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন
১৯৫১: লেখক অদ্বৈত মল্লবর্মণের মৃত্যু
১৯৬৬: শিল্পী নন্দলাল বসুর মৃত্যু
১৯৭৮: অভিনেত্রী লারা দত্তর জন্ম  



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৪৪ টাকা ৭৬.১৬ টাকা
পাউন্ড ১০১.৯৫ টাকা ১০৫.৪৪ টাকা
ইউরো ৮৮.৫৮ টাকা ৯১.৭৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৭,৫০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৫,০৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৫,৭৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৮,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৮,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২ বৈশাখ ১৪২৮, শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১। চতুর্থী ৩১/৫৬ সন্ধ্যা ৬/৬। রোহিণী নক্ষত্র ৪৫/৪৮ রাত্রি ১১/৪০। সূর্যোদয় ৫/১৯/৩৮, সূর্যাস্ত ৫/৫৩/২৬। অমৃতযোগ দিবা ৭/১ মধ্যে পুনঃ ৭/৫১ গতে ১০/২২ মধ্যে পুনঃ ১২/৫২ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৪/১৩ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/২৪ গতে ৮/৫৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৩ গতে ৩/৪৯ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ রাত্রি ১০/২৮ গতে ১১/১৩ মধ্যে। পুনঃ ৩/৪৯ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/২৮ গতে ১১/৩৭ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৪৫ গতে ১০/১০ মধ্যে। 
২ বৈশাখ ১৪২৮, শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১। চতুর্থী দিবা ৩/২। রোহিণী নক্ষত্র রাত্রি ৮/৫৫। সূর্যোদয় ৫/২০, সূর্যাস্ত ৫/৫৫। অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৮ মধ্যে ও ৭/৪০ গতে ১০/১৬ মধ্যে ও ১২/৫২ গতে ২/৩৪ মধ্যে ও ৪/১৮ গতে ৫/৫৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩০ মধ্যে ৮/৫৮ মধ্যে ও ২/৫৩ গতে ৩/৩৭ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ রাত্রি ১০/২৭ গতে ১১/১১ মধ্যে ও ৩/৩৭ গতে ৫/১৯ মধ্যে। বারবেলা ৮/২৯ গতে ১১/৩৭ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৪৬ গতে ১০/১২ মধ্যে। 
৩ রমজান।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
করোনার কারণে আগামী ১৫মে পর্যন্ত বন্ধ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, যাদুঘর

02:07:03 PM

বালিগঞ্জের বেদীভবনে নির্বাচন কমিশনের ডাকে সর্বদলীয় বৈঠক শুরু হল

02:05:03 PM

বাংলায় মেরুদণ্ড ভাঙার ক্ষমতা বিজেপির নেই : মমতা

01:59:33 PM

বিনামূল্যে টিকার অনুমতি দেয়নি কেন্দ্র : মমতা

01:59:10 PM

তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এলে দুয়ারে রেশন : মমতা

01:58:46 PM

বাংলায় কারও নাগরিকত্ব যাবে না : মমতা
 

01:45:43 PM