Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

তিথির অতিথি
প্রদীপ আচার্য 

‘বাবা, উনি কাঁদছেন।’ চোখের ইশারায় গোলোকচন্দ্রকে বাইরে ডেকে নিয়ে নিচুস্বরে কথাটা বলল তিথি। গোলোকচন্দ্র আকাশ থেকে সটান মাটিতে পড়লেন। বললেন, ‘ধ্যাৎ, খামোখা কাঁদতে যাবেন কেন?’
‘মনে হয় আমার রান্নার ঢকপদ ওনার পছন্দ হয়নি। তখন কত করে বললাম, বাজার যাও, ট্যাংরা ফ্যাংরা যা পাও ভালো মাছ আর এট্টুস মুরগি নিয়ে এসো। তা আমার কথায় কানে তুললে তুমি?’
‘তুই আমাকে দুষছিস! আরে বেটি, আমি তো যাচ্ছিলাম। উনিই তো যেতে দিলেন না। দেখলি না, উনি থলে টেনে ধরলেন। বললেন, না না, দু’বার করে বাজার যাওয়া চলবে না। সকালে যা বাজার করেছ, তাতেই আমার চলবে।’
‘তোমার জোর করা উচিত ছিল। আর উনিই বা কীরকম লোক? কথা নেই বাত্তা নেই এসে হাজির। একটা ফোন তো করতে পাত্তেন। তা না, হে হে চলে এলাম। বাজারেও যেতে দিলাম না। এখন গেলো পালং শাক, ডাল, আলুর চোখা, পাঁচমেশালি তরকারির ঘ্যাঁট আর বাটা মাছের ঝাল। অত বড়লোক! এসব ছাইভস্ম কি রোচে ওনার মুখে? দেখো এখন খেতে বসে চোখের জল ফেলছেন। গেরস্ত বাড়িতে যত সব অলুক্ষুণে কাণ্ড।’
‘আমার মনে হয়, তুই মাছে বড্ড বেশি ঝাল দিয়েছিস। সবাই কি অত ঝাল খেতে পারে? এখন রাখ এসব কথা। উনি একা বসে খাচ্ছেন। চল কাছে গিয়ে বসি।’
কল্যাণব্রত একমনে খাচ্ছিলেন। চশমার ফ্রেমের নীচ থেকে গড়িয়ে পড়া চোখের জল মুছে নিচ্ছিলেন। বাঁ-হাতের মুঠোয় ধরা আছে সাদা রুমাল। গোলোকচন্দ্রের চোখে চোখ ফেলে তিথি বোঝাতে চাইল, কী? ঠিক বলিনি? গোলোকচন্দ্র খানিক ইতস্তত করে গলা খাকারি দিয়ে বললেন, ‘স্যার, বেটি মনে হয় মাছে বেশি ঝাল দিয়ে ফেলেছে। আলুর চোখাতেও শুকনো লঙ্কার ঝাল।’ কল্যাণব্রত ম্লান হেসে বললেন, ‘হু, তা ঝাল একটু বেশিই। তবে ভালোই হল। মুখটা একটু ছেড়ে গেল। একঘেয়ে কাটাপোনার ঝোল খাওয়া জিভ তো বিদ্রোহ করেছে।’
ঘরে তো মিষ্টিফিস্টি কিছু নেই। চিনি আছে। তা কি দেওয়া যায়? হঠাৎ তিথির মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। লোকটাকে একটা মিষ্টিপান এনে খাওয়ালে কেমন হয়। বেশ হয়। ঝালের মুখে মিষ্টিপান ভালোই হবে। কল্যাণব্রতকে হাত-মুখ ধোয়ার জল এগিয়ে দিয়ে একছুট্টে আলনা থেকে কাচা গামছা এনে দিল। কল্যাণব্রত হাত মুছতে মুছতে বললেন, ‘বাঃ, তুমি তো বেশ ভালোই রেঁধেছ। বড়ি দিয়ে পালং শাক দারুণ রেঁধেছ। মুখে লেগে রয়েছে।’ তিথি ঠোঁট উল্টে বলল, ‘ভালো না ব্যাঙ। মন জুগিয়ে কথা বলবেন না। জিভ বিদ্রোহ করল। ডাইনিং টেবিলে বসে খাওয়া অভ্যেস, এখানে মেঝেতে বসে খেতে হল। আমি কি কিছু বুঝি না? খাওয়া তো হল না। গেলা হল।’
—‘কী বলছ তুমি।’
—‘ঠিকই তো বলছি। পষ্ট কথায়
কষ্ট কী?’
—‘তুমি তো সত্যিই বেশ মুখরা।’
—‘বাবার কাছে শিখেছেন কথাটা।’
—‘কোন কথাটা?’
—‘ওই যে, মুখরা।’
—‘ঠিক বলেছ। তোমার বাবার কাছে তোমার আরও অনেক গল্প শুনেছি। গোলোকচন্দ্রের মুখে তো তুমি ছাড়া অন্য কোনও গল্প নেই। শুধু তিথিমা আর তিথিমা। তাই দেখতে চলে এলাম, সে কেমন তিথিমা।’
—‘বাবার আবার মেয়ে নিয়ে একটু বেশি আদিখ্যেতা। অসহ্য। নিন, আপনি একটু গড়িয়ে নিন।’
খাটের চারপাশের চাদর টানটান করে দিল তিথি। লেপ টেনে দিল। বলল, ‘আমি যাচ্ছি। রাজ্যের কাজ পড়ে আছে।’ শরীর গড়িয়ে দিয়ে কল্যাণব্রত বললেন, ‘গোলোকচন্দ্র গেল কোথায়? ওকে বললাম আমার সঙ্গে তুমিও বসে পড়ো। তা বাড়িতেও গোলোক আমাকে সেই বড়সাহেব বানিয়েই ছাড়ল।’
‘তা না। আসলে ছুটির দিন বাবার খেতে ঢের দেরি হয়। বাবা পুকুরে যাবে। ঘাটে বসে বসে গুড়াকু দিয়ে দাঁত মাজবে একঘণ্টা ধরে। তারপর জলে ঝাঁপাবে। সাঁতার দেবে। অবগাহন চান। নিন, আপনি একটু জিরিয়ে নিন। আমি যাচ্ছি।’
ঘর থেকে বেরিয়ে একছুট্টে উঠোন পেরিয়ে গেল তিথি। উঠোন পেরিয়ে আর এক উঠোন। তিথির লম্বা বিনুনি পিঠের ওপর দুলে দুলে নাচল। তিথি ডাকল, ‘মিষ্টিবউদি।’ দোতলার বারান্দার গ্রিলের ফাঁকে এসে আটকে গেল একটা মিষ্টিমুখ। তিথির মিষ্টিবউদির মিহি গলা। বলল, ‘কীরে? আয় ওপরে আয়।’
‘না তুমি নীচে এসো। শিগগির এসো।’ পায়ের মল বাজিয়ে মিষ্টিবউদি সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে বলল, ‘লোকটা কে রে তিথি? দোতলার জানলা দিয়ে তখন দেখলাম তোদের উঠোনে মস্ত একটা গাড়ি। শিউলি গাছের নীচে চেয়ারে বসে লোকটা সিগারেট খাচ্ছে, রোদ পোহাচ্ছে, কে রে লোকটা?’
‘ওসব পরে হবে। তুমি আগে চট করে একটা মিষ্টিপান সেজে দাও। আর বোলো না। উটকো ঝামেলা। বাবার অফিসের বড়সাহেব। তার বায়না গোলোকচন্দ্রের মেয়েকে দেখবেন। কী আমার রূপ গজাল বলো তো? কথা নেই বার্তা নেই এসে হাজির। কলেজ ছুটি। তবু ভাগ্যিস ভালো সালোয়ারটা পরেছিলাম। আর খেতে দিতে যা লজ্জা করছিল আমার।’
‘তোকে দেখতে এসেছে। বিয়ের সম্বন্ধ?’
‘ধ্যাৎ, অত বড়লোক। জানো? আমার জন্যে দামি দু’টো সালোয়ার, দু’টো দামি শাড়ি নিয়ে এসচে।’ মিষ্টিবউদি টোনা মেরে বলল, ‘তাহলে নির্ঘাত সম্বন্ধের ব্যাপার। ওনার ছেলের বউ করবে তোকে।’
‘ভারী বয়ে গেছে। কত বড়লোক ওরা। গাড়িটা দেখলে তো? ঝাক্কাস। লোকটাকেও হেব্বি দেখতে। আমাকে বউ করতে ভারী বয়ে গেছে ওদের।’
‘তুইও বা কম কী? যে ঘরে যাবি আলোর বন্যা বয়ে যাবে। নে ধর।’ মিষ্টিবউদির হাত থেকে পানটাকে ছিনিয়ে নিয়ে ফের একছুট্টে দু’উঠোন পেরিয়ে এল অতিথি। গলা তুলে বলে এল, ‘দুপুরে ভোঁস ভোঁস করে ঘুমিও না। খাওয়ার পর আসছি। তখন গল্প করব।’
খাওয়া সেরে রান্নাঘর গুছিয়ে শেকল তুলে দিল। নিজের ঘরের পড়ার টেবিল থেকে মোবাইল ফোনটা তুলে নিয়ে গুলতানি করতে চলল মিষ্টিবউদির কাছে। মোবাইলে বাবানের তিনটে মিসড কল দেখে রিং ব্যাক করল তিথি। বাবান ফোন ধরেই সব উদ্ভট প্রশ্ন জুড়ে দিল। ‘তোকে নাকি দেখতে এসেছে? খুব বড়লোক, গাড়ি নিয়ে এসেছে। তুই কি এই বিয়েতে মত দিবি? রাজি হবি তুই? তাহলে আমার সঙ্গে স্রেফ নাটক চালালি এতদিন?’ বাবানের সব উদ্ভট প্রশ্ন শুনে তিরিক্ষে হল তিথির মেজাজ। বলল, ‘তোর সঙ্গে পরে কথা বলছি আমি। এখন রাখ।’ বলে ফোন কেটে দিল তিথি।
মিষ্টিবউদি বলল, ‘আমার দেওর দোকান বন্ধ করে এল খানিক আগে। বলল, লোকটা নাকি হাইওয়ে থেকে নেমে দফায় দফায় একে তাকে জিজ্ঞেস করেছে। ভাই গোলোকচন্দ্রের বাড়িটা কোনদিকে? তোর সমরদাও একটু আগেই ফোন করেছিল। বলল, কী ব্যাপার বলো তো? তিথিদের বাড়িতে পেল্লাই গাড়ি হাঁকিয়ে কে এসছে বলো তো? আমি বলেছি, আমি সঠিক জানি না। যাগগে, মোদ্দা ব্যাপারটা হল, গোটা গ্রামে একেবারে হইচই পড়ে গেছে।’
‘একটু আগে বাবানও ফোন করে বোর কত্তে যাচ্ছিল। লোকটার সত্যিই কোনও কাণ্ডজ্ঞান নেই। আমাদের মতো গরিবের বাড়িতে ওই অত্ত বড় গাড়ি হাঁকিয়ে লোক এলে সবারই তো চোখ টাটাবে বলো। ঠিক আছে, এসেছিস একবেলা ঘুরে চলে যা। তা না, বায়না ধরেছে রাতে দিশি মুরগির ঝোল খাবে। বাবার কাছে শুনেছে, আমি নাকি দারুণ রাঁধি। বিকেলে বেড়াতে বেরবে।’
‘বলিস কীরে? তার মানে রাতে থাকবে? কাল যাবে? না না, এসব অ্যালাউ করিস না তিথি। লোকটা তো চলে যাবে। তারপর গ্রামে ঢি ঢি পড়ে যাবে। না না, একদম না। তুই পোটেস্ট কর। তোর বাবা তো সাদাসিধে ভোলাভালা মানুষ। লোকটা কী মতলবে এসেছে, ধর রাতে যদি লোকটা তোর ঘরে হানা দেয়। বলা তো যায় না। কার মনে হরর বাপ, কার মনে গোখরো সাপ। একটা কেলেঙ্কারি কিছু ঘটে গেলে তখন? কেউ যদি বলে, গোলোকদা টাকার জন্য মেয়ের ঘরে লোক ঢুকিয়েছে, তখন?
‘অসম্ভব, আমার বাবাকে সেরকম কেউ ভাববে না।’
ভাববে না। ভাবতে কতক্ষণ। তা পরে তুই যখন ওই দামি সালোয়ার আর শাড়িতে সাজবি, কলেজ যাবি, তখন গ্রামের মেয়ে-বউরা ওই যারা তোর এই আগুন রূপে জ্বলেপুড়ে মরে, তারা কি তখন বলতে ছাড়বে যে, বাড়িতে বড়লোকের আনাগোনা, তাই এত ঠাঁট তোর। না না তুই লোকটাকে ভাগিয়ে দে।’
মিষ্টিবউদির কথা শুনে এই মাঘের দুপুরেও তিথির দুধ ফর্সা মুখে হামের মতো ঘাম জমতে থাকে। কপালে ভাঁজ পড়ে। বলে, ‘তুমি কথাটা ঠিক বলেছ মিষ্টিবউদি। দাঁড়াও লোকটাকে আগে বিদেয় করার ব্যবস্থা করি।’
গোলোকচন্দ্র তখন কল্যাণব্রতর সঙ্গে খোশগল্পে মজে রয়েছেন। তিথি পর্দা ফাঁক করে ভেতরে মুখ বাড়াল। বলল, ‘বাবা, একটু শুনে যাও।’ গোলোকচন্দ্র গল্পে গদগদ হয়ে আছেন। বললেন, ‘আয় না ভেতরে।’
‘না তুমি শুনে যাও।’ গোলোকচন্দ্র বাইরে আসতেই তিথি বাবার হাত ধরে হেঁচকা টান দিয়ে টেনে নিয়ে যায় নিজের ঘরে। গোলোকচন্দ্র অবাক হন। বলেন, ‘কীরে, ব্যাপার কী? অত ঘামছিস কেন?’ তিথি চোখ-চিবুক শক্ত করে বলে, ‘বাবা, লোকটাকে বিদেয় করো। রাতে থাকা-টাকা চলবে না। এটা ভদ্রলোকের বাড়ি।’ গোলোকচন্দ্র মেয়ের মুখ চেপে ধরেন। বলেন, ‘আস্তে বল, উনি শুনতে পাবেন।’ এক ঝটকায় বাবার হাত সরিয়ে নিয়ে ঝাঁঝিয়ে ওঠে তিথি। গলার রগ ফুলিয়ে চিৎকার করে বলে, ‘শুনুক, উনি আমাদের আত্মীয় না, কুটুম না, তোমার বন্ধুও না। তোমার অফিসের বড়সাহেব।’
‘আমিই তো ওনাকে আসতে বলেছি। একবার নয়, বহুবার বলেছি। যাকে বলে অনুরোধ করেছি। কীভাবে আসতে হবে, পই পই করে ছবি এঁকে রাস্তা চিনিয়ে দিয়েছি। তাই এসেছেন। আমার সঙ্গে উনি বন্ধুর মতোই মেশেন।’
‘মিশলেও মিল হয় না। বন্ধু হয় সমানে সমানে। একজন অনাত্মীয় অত বড়লোক দুম করে বাড়ি এসে রাত কাটিয়ে গেলে তোমার মেয়ের বদনাম হতে পারে, তা তুমি ভেবে দেখেছ। মা থাকলে তা-ও কথা ছিল।’
‘তোর মা মারা গেল তখন তোর বয়স সাত। আজ বারো বছর তোর কোনও জন্মদিনে আমাকে কেক কেনার টাকা দিতে ভোলেননি উনি। তোর কলেজে ভর্তির ওই অতগুলো টাকা উনিই দিয়েছেন। বলেছেন, এটা তোমার বকশিস। অফিসের কাজের জন্য নয়।
মেয়েকে মানুষ করার বকশিস। আমি যে রোজ এই তিন ঘণ্টার পথ ট্রেনে করে অফিস যাই, রোজই তো লেট হয়। উনি কোনওদিন লেট মার্ক দিতে দেননি। ছুটির অনেক আগেই অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ি। উনিই বলেন, গোলোক তুমি যাও। বাড়িতে মেয়ে একা। বেরিয়ে পড়ো। সেই মানুষটা নিজে থাকতে চেয়েছে, আর আমি বলব চলে যান। রাতে থাকলে বদনাম হবে? হোক বদনাম। আমি অত পরোয়া করি না। তোদের এত নিচু মন! ছিঃ!’
মেয়ের ঘর থেকে বাইরে এসেই কল্যাণব্রতর মুখোমুখি হলেন গোলোকচন্দ্র। তাঁকে থতমত খেতে দেখে কল্যাণব্রত বললেন, ‘এই যে গোলোক, তোমাকেই খুঁজছিলাম। বুঝলে, আমার রাতে থাকা হবে না। বাড়ি থেকে ফোন এসেছে, আমার মিসেস হঠাৎই অসুস্থ হয়েছে। আমাকে এখনই ফিরে যেতে হবে। কী করব ভাই, ব্যাড লাক। ভেবেছিলাম, বিকেলে তোমাদের গ্রামটাকে ঘুরে দেখব। তোমার মুখে যে ঝিলের গল্প শুনি, যে ঝিলে সাদা বকের হাট বসে যায়, সেই ঝিলটা দেখব। পরিযায়ী পাখিদের দেখব। বিকেল ফুরিয়ে যাওয়ার বেলায় পাখিরা কেমন দল বেঁধে উড়ে গিয়ে নীড়ে ফেরে। খোলা আকাশটাকে দু’চোখ ভরে দেখব। ভেবেছিলাম সূর্যাস্তের সময় নদীর পাড়ে বালুচরে বসে বসে দেখব, সূর্য কেমন একটু একটু করে নদীর জলে ডুবে যায়। তারপর দেখব নদীতে জ্যোৎস্নার ঝিকিমিকি। দেখব, এই শীতের সন্ধেরাতেই তোমাদের গ্রামটা কেমন গুড়িসুড়ি মেরে ঘরের মধ্যে সিঁধিয়ে যায়। ভোরের পাখিরা কেমন সুর করে ডেকে ওঠে। মোরগের ডাক শুনতে শুনতে কুয়াশার চাদর সরিয়ে আলপথ ভেঙে হেঁটে যাব তোমাদের রহমত আলির বাগানে। সদ্য পেড়ে আনা টাটকা খেজুর রস হাড়মাংসে আজও কেমন করে কাঁপন ধরায় দেখব। অনেককাল পরে প্রকৃতিকে একটু ছুঁয়ে দেখার সাধ হয়েছিল। কিন্তু মিসেসের শ্বাসকষ্টটা বেড়েছে। আমি বলেছি, আমি ফিরছি।’ বলেই কল্যাণব্রত দ্রুত পায়ে ঘরে যান। গোলোকচন্দ্র হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। কাঁধে কিড ব্যাগ ঝুলিয়ে বেরিয়ে আসেন কল্যাণব্রত। তিথি ততক্ষণে উঠোনে এসে দাঁড়িয়েছে। কল্যাণব্রত চিবুক ছুঁয়ে বলেন, ‘তোর চোখকে সত্যিই ফাঁকি দিতে পারিনি আমি। তুই ঠিকই ধরেছিস। খেতে বসে আমি সত্যিই কাঁদছিলাম। কিছুতেই চোখের জলকে ধরে রাখতে পারছিলাম না। কেন জানিস? তুই ঠিক আমার মায়ের মতো। বহুযুগ পরে আজ ভাতের মধ্যে মায়ের গন্ধ পেলাম।’
অলংকরণ : সুব্রত মাজী 
01st  September, 2019
আজও তারা জ্বলে 

বাংলা ছবির দিকপাল চরিত্রাভিনেতারা একেকটা শৈল্পিক আঁচড়ে বঙ্গজীবনে নিজেদের অমর করে রেখেছেন। অভিনয় ছিল তাঁদের শরীরে, মননে, আত্মায়। তাঁদের জীবনেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক অমূল্য রতন। তাঁরই খোঁজে সন্দীপ রায়চৌধুরী। আজ তুলসী চক্রবর্তী। ষষ্ঠ কিস্তি।
বিশদ

05th  July, 2020
দু’জন  

জীবনের প্রধান ও মুখ্য ঘটনাগুলিই কেবল মনে থাকার কথা। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায় স্মৃতির অতলে অনেক তুচ্ছ ক্ষুদ্র ঘটনাও কেমন করে বেশ বড় হয়ে জাঁকিয়ে বসে রয়েছে। সাহিত্যিকদের ‘ভবঘুরে’ জীবনের তেমনই নানা ঘটনা উঠে এল কলমের আঁচড়ে। আজ লিখছেন ভগীরথ মিশ্র।
বিশদ

05th  July, 2020
সিনেমার মতো
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়

শিলিগুড়িতে সেটল করতে একটু সময় লাগছে শাশ্বতর। শাশ্বত মুখার্জি। কলকাতার বনেদি বাড়ির পরিবেশে মানুষ হওয়াটা কোথাও কোথাও একটু অসুবিধাজনকও বটে। মজ্জায় মজ্জায় মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা।  বিশদ

05th  July, 2020
ফেয়ার-ওয়েল
অঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়
(১)

 নাইন-বি এর ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে ধীরপায়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে চললেন অলকানন্দা রায়চৌধুরী, ছাত্রীদের প্রিয় শিক্ষিকা ‘অলকা দি’। গতকাল রাত থেকেই হাঁটুর ব্যথাটা আবার চাগাড় দিয়েছে, পা মুড়তে বেশ কষ্ট হচ্ছে। তবে গত কয়েকদিন ধরে মনের ভিতর যে ব্যথাটা জমে রয়েছে তার কাছে এই হাঁটুর ব্যথাটা তো একেবারেই তুচ্ছ। রেলিং ধরে ধীরে ধীরে একতলার দিকে নামতে শুরু করলেন অলকা।
বিশদ

28th  June, 2020
চলার পথে
ফ্রেদরিকের চিঠি

 জীবনের প্রধান ও মুখ্য ঘটনাগুলিই কেবল মনে থাকার কথা। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায় স্মৃতির অতলে অনেক তুচ্ছ ক্ষুদ্র ঘটনাও কেমন করে বেশ বড় হয়ে জাঁকিয়ে বসে রয়েছে। সাহিত্যিকদের ‘ভবঘুরে’ জীবনের তেমনই নানা ঘটনা উঠে এল কলমের আঁচড়ে। আজ লিখছেন অমর মিত্র। বিশদ

28th  June, 2020
আজও তারা জ্বলে
পর্ব- ২৯

 বাংলা ছবির দিকপাল চরিত্রাভিনেতারা একেকটা শৈল্পিক আঁচড়ে বঙ্গজীবনে নিজেদের অমর করে রেখেছেন। অভিনয় ছিল তাঁদের শরীরে, মননে, আত্মায়। তাঁদের জীবনেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক অমূল্য রতন। তাঁরই খোঁজে সন্দীপ রায়চৌধুরী। আজ তুলসী চক্রবর্তী। পঞ্চম কিস্তি। বিশদ

28th  June, 2020
আজও তারা জ্বলে
পর্ব- ২৮

বাংলা ছবির দিকপাল চরিত্রাভিনেতারা একেকটা শৈল্পিক আঁচড়ে বঙ্গজীবনে নিজেদের অমর করে রেখেছেন। অভিনয় ছিল তাঁদের শরীরে, মননে, আত্মায়। তাঁদের জীবনেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক অমূল্য রতন। তাঁরই খোঁজে সন্দীপ রায়চৌধুরী। আজ তুলসী চক্রবর্তী। চতুর্থ কিস্তি।
বিশদ

14th  June, 2020
নিলডাউন

জীবনের প্রধান ও মুখ্য ঘটনাগুলিই কেবল মনে থাকার কথা। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায় স্মৃতির অতলে অনেক তুচ্ছ ক্ষুদ্র ঘটনাও কেমন করে বেশ বড় হয়ে জাঁকিয়ে বসে রয়েছে। সাহিত্যিকদের ‘ভবঘুরে’ জীবনের তেমনই নানা ঘটনা উঠে এল কলমের আঁচড়ে। আজ লিখছেন সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়।  বিশদ

14th  June, 2020
আজও তারা জ্বলে 

বাংলা ছবির দিকপাল চরিত্রাভিনেতারা একেকটা শৈল্পিক আঁচড়ে বঙ্গজীবনে নিজেদের অমর করে রেখেছেন। অভিনয় ছিল তাঁদের শরীরে, মননে, আত্মায়। তাঁদের জীবনেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক অমূল্য রতন। তাঁরই খোঁজে সন্দীপ রায়চৌধুরী। আজ তুলসী চক্রবর্তী। তৃতীয় কিস্তি। 
বিশদ

07th  June, 2020
অথৈ সাগর 

চলতি বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। সেই উপলক্ষে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি। 
বিশদ

07th  June, 2020
স্বপ্নসঙ্গী 

উদয়চাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায়: ট্রেনটা প্রায় আড়াই ঘণ্টা দেরি করে ঢুকল গোমো স্টেশনে। বাতানুকূল কামরা থেকে নেমে আসে তন্বী পিয়ালি। ভিড় এড়িয়ে, সঙ্গের চাকা লাগানো ব্যাগটা নিয়ে একটু সরে এসে, উদ্বিগ্ন চোখে দু’দিকে তাকায়। একটা সাধারণ পোশাক পরা যুবক পিয়ালির সামনে এসে বলে, আপনি মুখার্জি স্যারের ফরেস্ট বাংলোয় যাবেন তো?
পিয়ালি ভ্রু কুঁচকে বলে, কে তুমি?  বিশদ

31st  May, 2020
আজও তারা জ্বলে
তুলসী চক্রবর্তী

পথে চলতে চলতে বহু মানুষের সঙ্গে আলাপ হয়েছে তুলসীর। বহু পেশার মানুষ দেখেছেন। তাই যে কোনও চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে অভিজ্ঞতার ঝাঁপি উপুড় করে দিতেন। নিজের দেখা মানুষের ছাঁচে ফেলে গড়ে তুলতেন চরিত্রটি। তাই তাঁর অভিনয় ওরকম স্বাভাবিক মনে হতো।
বিশদ

31st  May, 2020
ভৈরবী মা
সঙ্গীতা দাশগুপ্ত রায়

 ‘নিজে রান্নাবান্না পারেন?’ ‘নাহ, একদম আনাড়ি,’ অর্জুন হাসে। ‘তবে তো এ ব্যবস্থাই বেশ। ওনার ফেরার কোনও ঠিক থাকে না। আপনাকে ন’টায় খেতে দেব তো? আর হ্যাঁ, কোনও অসুবিধা হলে বউদি বলে ডাক দেবেন ভাই।’ একটু আন্তরিকতা ছুঁইয়ে দিয়ে যান মহিলা। বিশদ

24th  May, 2020
আজও তারা জ্বলে
তুলসী চক্রবর্তী

‘ওরে, আমি হলাম গিয়ে হেঁশেলবাড়ির হলুদ। ঝালে-ঝোলে-অম্বলে সবেতেই আছি। হাসতে বললে হাসব, কাঁদতে বললে কাঁদব, নাচতে বললে নাচব, দু’কলি গান গেয়ে দিতে বললে তাও পারব। হলুদ যেমন সব ব্যঞ্জনেই লাগে তেমনই আর কী! কিন্তু হলুদের কি নিজস্ব কোনও স্বাদ আছে? তাই আমার এই অভিনয়কে আমি অভিনয় বলি না গো!
বিশদ

24th  May, 2020
একনজরে
বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: শত্রু যখন প্রবল পরাক্রমী, অস্ত্রও দরকার তেমনি আধুনিক। করোনার সঙ্গে যুদ্ধে সরকারি হাসপাতালগুলির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে হাইটেক সব ‘অস্ত্র’। ভয়ঙ্কর সংক্রামক করোনা ছড়ায় ড্রপলেটের মাধ্যমে।   ...

সংবাদদাতা, গুসকরা: শনিবার রাতে আউশগ্রামের বড়াচৌমাথার কাছে জাতীয় সড়কে ডাকাত সন্দেহে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। একটি মারুতি গাড়িও আটক করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম খোকন মাল ও অনিমেষ সমাদ্দার।   ...

জোহানেসবার্গ: দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মান পেলেন কুইন্টন ডি’কক। করোনা ভাইরাসের জেরে এবছর এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়।   ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: রবিবার মাদারিহাট ব্লকে বিরোধী বিভিন্ন দলের নীচুতলার ২০০ জন কর্মী-সমর্থক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। এদিন ব্লকের শিশুঝুমড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপি, আরএসপি ও সিপিএম এই তিন দলের কর্মী-সমর্থকরা তৃণমূলে যোগ দেন।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে বাধার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হবে। কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে শুভ যোগ। ব্যবসায় যুক্ত হলে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৮৫- জোসেফ মেইস্টারের উপর জলাতঙ্ক রোগের টিকা সফলভাবে পরীক্ষা করলেন লুই পাস্তুর
১৮৯২- ব্রিটেন পার্লামেন্টে প্রথম ভারতীয় হিসাবে নির্বাচিত হলেন দাদাভাই নওরোজি
১৯০১- শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৪৬- আমেরিকার ৪৩তম প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লু বুশের জন্ম
১৯৪৬- মার্কিন অভিনেতা সিলভেস্টার স্ট্যালোনের জন্ম
১৯৮৫- অভিনেতা রণবীর সিংয়ের জন্ম
১৯৮৬- রাজনীতিবিদ জগজীবন রামের মৃত্যু
২০০২- রিলায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ধীরুভাই আম্বানির মৃত্যু 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৩.৮৯ টাকা ৭৫.৬১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭০ টাকা ৯৪.৯৭ টাকা
ইউরো ৮২.৫৭ টাকা ৮৫.৬৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
05th  July, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৮, ৯৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৬, ৪৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৭, ১৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৯, ২৭০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৯, ৩৭০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
05th  July, 2020

দিন পঞ্জিকা

২২ আষাঢ় ১৪২৭, ৬ জুলাই ২০২০, সোমবার, প্রতিপদ ১০/৫৩ দিবা ৯/২৩। উত্তরাষাঢ়া ৪৫/২৭ রাত্রি ১১/১২৷ সূর্যোদয় ৫/১/১২, সূর্যাস্ত ৬/২১/২০৷ অমৃতযোগ দিবা ৮/৩৪ গতে ১০/২০ মধ্যে। রাত্রি ৯/৪২ গতে ১২/২ মধ্যে পুনঃ ১/২৭ গতে ২/৫৩ মধ্যে। বারবেলা ৬/৪১ গতে ৮/২১ মধ্যে পুনঃ ৩/১ গতে ৪/৪১ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/২১ গতে ১১/৪১ মধ্যে।  
২১ আষাঢ় ১৪২৭, ৬ জুলাই ২০২০, সোমবার, প্রতিপদ দিবা ৯/২২। উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্র রাত্রি ১২/০। সূযোদয় ৫/১, সূর্যাস্ত ৬/২৩। অমৃতযোগ দিবা ৮/৩৫ গতে ১০/২২ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/১৩ গতে ১২/৩ মধ্যে ও ১/২৮ গতে ২/৫৪ মধ্যে। কালবেলা ৬/৪১ গতে ৮/২২ মধ্যে ও ৩/৩ গতে ৪/৪৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/২২ গতে ১১/৪২ মধ্যে।  
১৪ জেল্কদ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
করোনা: রাশিয়াকে টপকে তৃতীয় স্থানে ভারত 
বিশ্বে করোনা আক্রান্ত হওয়ার নিরিখে রাশিয়াকে টপকে তৃতীয় স্থানে উঠে ...বিশদ

05-07-2020 - 09:32:25 PM

হালিশহরে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ 
তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার ...বিশদ

05-07-2020 - 09:28:41 PM

কর্ণাটকে করোনা পজিটিভ আরও ১,৯২৫, মোট আক্রান্ত ২৩,৪৭৪ 

05-07-2020 - 09:06:12 PM

জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ সীমান্তে পাক সেনার গোলাগুলি 

05-07-2020 - 08:37:27 PM

করোনা: মহারাষ্ট্রে নতুন করে আক্রান্ত হলেন ৬৫৫৫, মোট আক্রান্ত ২ লক্ষ ৬ হাজার ৬১৯ 

05-07-2020 - 08:04:07 PM

করোনা: ফের একদিনে রাজ্যে রেকর্ড সংক্রমণ 
পর পর দু’দিন। নতুন সংক্রমণের নিরিখে ফের রেকর্ড রাজ্যে। গত ...বিশদ

05-07-2020 - 08:02:02 PM