Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

তিথির অতিথি
প্রদীপ আচার্য 

‘বাবা, উনি কাঁদছেন।’ চোখের ইশারায় গোলোকচন্দ্রকে বাইরে ডেকে নিয়ে নিচুস্বরে কথাটা বলল তিথি। গোলোকচন্দ্র আকাশ থেকে সটান মাটিতে পড়লেন। বললেন, ‘ধ্যাৎ, খামোখা কাঁদতে যাবেন কেন?’
‘মনে হয় আমার রান্নার ঢকপদ ওনার পছন্দ হয়নি। তখন কত করে বললাম, বাজার যাও, ট্যাংরা ফ্যাংরা যা পাও ভালো মাছ আর এট্টুস মুরগি নিয়ে এসো। তা আমার কথায় কানে তুললে তুমি?’
‘তুই আমাকে দুষছিস! আরে বেটি, আমি তো যাচ্ছিলাম। উনিই তো যেতে দিলেন না। দেখলি না, উনি থলে টেনে ধরলেন। বললেন, না না, দু’বার করে বাজার যাওয়া চলবে না। সকালে যা বাজার করেছ, তাতেই আমার চলবে।’
‘তোমার জোর করা উচিত ছিল। আর উনিই বা কীরকম লোক? কথা নেই বাত্তা নেই এসে হাজির। একটা ফোন তো করতে পাত্তেন। তা না, হে হে চলে এলাম। বাজারেও যেতে দিলাম না। এখন গেলো পালং শাক, ডাল, আলুর চোখা, পাঁচমেশালি তরকারির ঘ্যাঁট আর বাটা মাছের ঝাল। অত বড়লোক! এসব ছাইভস্ম কি রোচে ওনার মুখে? দেখো এখন খেতে বসে চোখের জল ফেলছেন। গেরস্ত বাড়িতে যত সব অলুক্ষুণে কাণ্ড।’
‘আমার মনে হয়, তুই মাছে বড্ড বেশি ঝাল দিয়েছিস। সবাই কি অত ঝাল খেতে পারে? এখন রাখ এসব কথা। উনি একা বসে খাচ্ছেন। চল কাছে গিয়ে বসি।’
কল্যাণব্রত একমনে খাচ্ছিলেন। চশমার ফ্রেমের নীচ থেকে গড়িয়ে পড়া চোখের জল মুছে নিচ্ছিলেন। বাঁ-হাতের মুঠোয় ধরা আছে সাদা রুমাল। গোলোকচন্দ্রের চোখে চোখ ফেলে তিথি বোঝাতে চাইল, কী? ঠিক বলিনি? গোলোকচন্দ্র খানিক ইতস্তত করে গলা খাকারি দিয়ে বললেন, ‘স্যার, বেটি মনে হয় মাছে বেশি ঝাল দিয়ে ফেলেছে। আলুর চোখাতেও শুকনো লঙ্কার ঝাল।’ কল্যাণব্রত ম্লান হেসে বললেন, ‘হু, তা ঝাল একটু বেশিই। তবে ভালোই হল। মুখটা একটু ছেড়ে গেল। একঘেয়ে কাটাপোনার ঝোল খাওয়া জিভ তো বিদ্রোহ করেছে।’
ঘরে তো মিষ্টিফিস্টি কিছু নেই। চিনি আছে। তা কি দেওয়া যায়? হঠাৎ তিথির মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। লোকটাকে একটা মিষ্টিপান এনে খাওয়ালে কেমন হয়। বেশ হয়। ঝালের মুখে মিষ্টিপান ভালোই হবে। কল্যাণব্রতকে হাত-মুখ ধোয়ার জল এগিয়ে দিয়ে একছুট্টে আলনা থেকে কাচা গামছা এনে দিল। কল্যাণব্রত হাত মুছতে মুছতে বললেন, ‘বাঃ, তুমি তো বেশ ভালোই রেঁধেছ। বড়ি দিয়ে পালং শাক দারুণ রেঁধেছ। মুখে লেগে রয়েছে।’ তিথি ঠোঁট উল্টে বলল, ‘ভালো না ব্যাঙ। মন জুগিয়ে কথা বলবেন না। জিভ বিদ্রোহ করল। ডাইনিং টেবিলে বসে খাওয়া অভ্যেস, এখানে মেঝেতে বসে খেতে হল। আমি কি কিছু বুঝি না? খাওয়া তো হল না। গেলা হল।’
—‘কী বলছ তুমি।’
—‘ঠিকই তো বলছি। পষ্ট কথায়
কষ্ট কী?’
—‘তুমি তো সত্যিই বেশ মুখরা।’
—‘বাবার কাছে শিখেছেন কথাটা।’
—‘কোন কথাটা?’
—‘ওই যে, মুখরা।’
—‘ঠিক বলেছ। তোমার বাবার কাছে তোমার আরও অনেক গল্প শুনেছি। গোলোকচন্দ্রের মুখে তো তুমি ছাড়া অন্য কোনও গল্প নেই। শুধু তিথিমা আর তিথিমা। তাই দেখতে চলে এলাম, সে কেমন তিথিমা।’
—‘বাবার আবার মেয়ে নিয়ে একটু বেশি আদিখ্যেতা। অসহ্য। নিন, আপনি একটু গড়িয়ে নিন।’
খাটের চারপাশের চাদর টানটান করে দিল তিথি। লেপ টেনে দিল। বলল, ‘আমি যাচ্ছি। রাজ্যের কাজ পড়ে আছে।’ শরীর গড়িয়ে দিয়ে কল্যাণব্রত বললেন, ‘গোলোকচন্দ্র গেল কোথায়? ওকে বললাম আমার সঙ্গে তুমিও বসে পড়ো। তা বাড়িতেও গোলোক আমাকে সেই বড়সাহেব বানিয়েই ছাড়ল।’
‘তা না। আসলে ছুটির দিন বাবার খেতে ঢের দেরি হয়। বাবা পুকুরে যাবে। ঘাটে বসে বসে গুড়াকু দিয়ে দাঁত মাজবে একঘণ্টা ধরে। তারপর জলে ঝাঁপাবে। সাঁতার দেবে। অবগাহন চান। নিন, আপনি একটু জিরিয়ে নিন। আমি যাচ্ছি।’
ঘর থেকে বেরিয়ে একছুট্টে উঠোন পেরিয়ে গেল তিথি। উঠোন পেরিয়ে আর এক উঠোন। তিথির লম্বা বিনুনি পিঠের ওপর দুলে দুলে নাচল। তিথি ডাকল, ‘মিষ্টিবউদি।’ দোতলার বারান্দার গ্রিলের ফাঁকে এসে আটকে গেল একটা মিষ্টিমুখ। তিথির মিষ্টিবউদির মিহি গলা। বলল, ‘কীরে? আয় ওপরে আয়।’
‘না তুমি নীচে এসো। শিগগির এসো।’ পায়ের মল বাজিয়ে মিষ্টিবউদি সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে বলল, ‘লোকটা কে রে তিথি? দোতলার জানলা দিয়ে তখন দেখলাম তোদের উঠোনে মস্ত একটা গাড়ি। শিউলি গাছের নীচে চেয়ারে বসে লোকটা সিগারেট খাচ্ছে, রোদ পোহাচ্ছে, কে রে লোকটা?’
‘ওসব পরে হবে। তুমি আগে চট করে একটা মিষ্টিপান সেজে দাও। আর বোলো না। উটকো ঝামেলা। বাবার অফিসের বড়সাহেব। তার বায়না গোলোকচন্দ্রের মেয়েকে দেখবেন। কী আমার রূপ গজাল বলো তো? কথা নেই বার্তা নেই এসে হাজির। কলেজ ছুটি। তবু ভাগ্যিস ভালো সালোয়ারটা পরেছিলাম। আর খেতে দিতে যা লজ্জা করছিল আমার।’
‘তোকে দেখতে এসেছে। বিয়ের সম্বন্ধ?’
‘ধ্যাৎ, অত বড়লোক। জানো? আমার জন্যে দামি দু’টো সালোয়ার, দু’টো দামি শাড়ি নিয়ে এসচে।’ মিষ্টিবউদি টোনা মেরে বলল, ‘তাহলে নির্ঘাত সম্বন্ধের ব্যাপার। ওনার ছেলের বউ করবে তোকে।’
‘ভারী বয়ে গেছে। কত বড়লোক ওরা। গাড়িটা দেখলে তো? ঝাক্কাস। লোকটাকেও হেব্বি দেখতে। আমাকে বউ করতে ভারী বয়ে গেছে ওদের।’
‘তুইও বা কম কী? যে ঘরে যাবি আলোর বন্যা বয়ে যাবে। নে ধর।’ মিষ্টিবউদির হাত থেকে পানটাকে ছিনিয়ে নিয়ে ফের একছুট্টে দু’উঠোন পেরিয়ে এল অতিথি। গলা তুলে বলে এল, ‘দুপুরে ভোঁস ভোঁস করে ঘুমিও না। খাওয়ার পর আসছি। তখন গল্প করব।’
খাওয়া সেরে রান্নাঘর গুছিয়ে শেকল তুলে দিল। নিজের ঘরের পড়ার টেবিল থেকে মোবাইল ফোনটা তুলে নিয়ে গুলতানি করতে চলল মিষ্টিবউদির কাছে। মোবাইলে বাবানের তিনটে মিসড কল দেখে রিং ব্যাক করল তিথি। বাবান ফোন ধরেই সব উদ্ভট প্রশ্ন জুড়ে দিল। ‘তোকে নাকি দেখতে এসেছে? খুব বড়লোক, গাড়ি নিয়ে এসেছে। তুই কি এই বিয়েতে মত দিবি? রাজি হবি তুই? তাহলে আমার সঙ্গে স্রেফ নাটক চালালি এতদিন?’ বাবানের সব উদ্ভট প্রশ্ন শুনে তিরিক্ষে হল তিথির মেজাজ। বলল, ‘তোর সঙ্গে পরে কথা বলছি আমি। এখন রাখ।’ বলে ফোন কেটে দিল তিথি।
মিষ্টিবউদি বলল, ‘আমার দেওর দোকান বন্ধ করে এল খানিক আগে। বলল, লোকটা নাকি হাইওয়ে থেকে নেমে দফায় দফায় একে তাকে জিজ্ঞেস করেছে। ভাই গোলোকচন্দ্রের বাড়িটা কোনদিকে? তোর সমরদাও একটু আগেই ফোন করেছিল। বলল, কী ব্যাপার বলো তো? তিথিদের বাড়িতে পেল্লাই গাড়ি হাঁকিয়ে কে এসছে বলো তো? আমি বলেছি, আমি সঠিক জানি না। যাগগে, মোদ্দা ব্যাপারটা হল, গোটা গ্রামে একেবারে হইচই পড়ে গেছে।’
‘একটু আগে বাবানও ফোন করে বোর কত্তে যাচ্ছিল। লোকটার সত্যিই কোনও কাণ্ডজ্ঞান নেই। আমাদের মতো গরিবের বাড়িতে ওই অত্ত বড় গাড়ি হাঁকিয়ে লোক এলে সবারই তো চোখ টাটাবে বলো। ঠিক আছে, এসেছিস একবেলা ঘুরে চলে যা। তা না, বায়না ধরেছে রাতে দিশি মুরগির ঝোল খাবে। বাবার কাছে শুনেছে, আমি নাকি দারুণ রাঁধি। বিকেলে বেড়াতে বেরবে।’
‘বলিস কীরে? তার মানে রাতে থাকবে? কাল যাবে? না না, এসব অ্যালাউ করিস না তিথি। লোকটা তো চলে যাবে। তারপর গ্রামে ঢি ঢি পড়ে যাবে। না না, একদম না। তুই পোটেস্ট কর। তোর বাবা তো সাদাসিধে ভোলাভালা মানুষ। লোকটা কী মতলবে এসেছে, ধর রাতে যদি লোকটা তোর ঘরে হানা দেয়। বলা তো যায় না। কার মনে হরর বাপ, কার মনে গোখরো সাপ। একটা কেলেঙ্কারি কিছু ঘটে গেলে তখন? কেউ যদি বলে, গোলোকদা টাকার জন্য মেয়ের ঘরে লোক ঢুকিয়েছে, তখন?
‘অসম্ভব, আমার বাবাকে সেরকম কেউ ভাববে না।’
ভাববে না। ভাবতে কতক্ষণ। তা পরে তুই যখন ওই দামি সালোয়ার আর শাড়িতে সাজবি, কলেজ যাবি, তখন গ্রামের মেয়ে-বউরা ওই যারা তোর এই আগুন রূপে জ্বলেপুড়ে মরে, তারা কি তখন বলতে ছাড়বে যে, বাড়িতে বড়লোকের আনাগোনা, তাই এত ঠাঁট তোর। না না তুই লোকটাকে ভাগিয়ে দে।’
মিষ্টিবউদির কথা শুনে এই মাঘের দুপুরেও তিথির দুধ ফর্সা মুখে হামের মতো ঘাম জমতে থাকে। কপালে ভাঁজ পড়ে। বলে, ‘তুমি কথাটা ঠিক বলেছ মিষ্টিবউদি। দাঁড়াও লোকটাকে আগে বিদেয় করার ব্যবস্থা করি।’
গোলোকচন্দ্র তখন কল্যাণব্রতর সঙ্গে খোশগল্পে মজে রয়েছেন। তিথি পর্দা ফাঁক করে ভেতরে মুখ বাড়াল। বলল, ‘বাবা, একটু শুনে যাও।’ গোলোকচন্দ্র গল্পে গদগদ হয়ে আছেন। বললেন, ‘আয় না ভেতরে।’
‘না তুমি শুনে যাও।’ গোলোকচন্দ্র বাইরে আসতেই তিথি বাবার হাত ধরে হেঁচকা টান দিয়ে টেনে নিয়ে যায় নিজের ঘরে। গোলোকচন্দ্র অবাক হন। বলেন, ‘কীরে, ব্যাপার কী? অত ঘামছিস কেন?’ তিথি চোখ-চিবুক শক্ত করে বলে, ‘বাবা, লোকটাকে বিদেয় করো। রাতে থাকা-টাকা চলবে না। এটা ভদ্রলোকের বাড়ি।’ গোলোকচন্দ্র মেয়ের মুখ চেপে ধরেন। বলেন, ‘আস্তে বল, উনি শুনতে পাবেন।’ এক ঝটকায় বাবার হাত সরিয়ে নিয়ে ঝাঁঝিয়ে ওঠে তিথি। গলার রগ ফুলিয়ে চিৎকার করে বলে, ‘শুনুক, উনি আমাদের আত্মীয় না, কুটুম না, তোমার বন্ধুও না। তোমার অফিসের বড়সাহেব।’
‘আমিই তো ওনাকে আসতে বলেছি। একবার নয়, বহুবার বলেছি। যাকে বলে অনুরোধ করেছি। কীভাবে আসতে হবে, পই পই করে ছবি এঁকে রাস্তা চিনিয়ে দিয়েছি। তাই এসেছেন। আমার সঙ্গে উনি বন্ধুর মতোই মেশেন।’
‘মিশলেও মিল হয় না। বন্ধু হয় সমানে সমানে। একজন অনাত্মীয় অত বড়লোক দুম করে বাড়ি এসে রাত কাটিয়ে গেলে তোমার মেয়ের বদনাম হতে পারে, তা তুমি ভেবে দেখেছ। মা থাকলে তা-ও কথা ছিল।’
‘তোর মা মারা গেল তখন তোর বয়স সাত। আজ বারো বছর তোর কোনও জন্মদিনে আমাকে কেক কেনার টাকা দিতে ভোলেননি উনি। তোর কলেজে ভর্তির ওই অতগুলো টাকা উনিই দিয়েছেন। বলেছেন, এটা তোমার বকশিস। অফিসের কাজের জন্য নয়।
মেয়েকে মানুষ করার বকশিস। আমি যে রোজ এই তিন ঘণ্টার পথ ট্রেনে করে অফিস যাই, রোজই তো লেট হয়। উনি কোনওদিন লেট মার্ক দিতে দেননি। ছুটির অনেক আগেই অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ি। উনিই বলেন, গোলোক তুমি যাও। বাড়িতে মেয়ে একা। বেরিয়ে পড়ো। সেই মানুষটা নিজে থাকতে চেয়েছে, আর আমি বলব চলে যান। রাতে থাকলে বদনাম হবে? হোক বদনাম। আমি অত পরোয়া করি না। তোদের এত নিচু মন! ছিঃ!’
মেয়ের ঘর থেকে বাইরে এসেই কল্যাণব্রতর মুখোমুখি হলেন গোলোকচন্দ্র। তাঁকে থতমত খেতে দেখে কল্যাণব্রত বললেন, ‘এই যে গোলোক, তোমাকেই খুঁজছিলাম। বুঝলে, আমার রাতে থাকা হবে না। বাড়ি থেকে ফোন এসেছে, আমার মিসেস হঠাৎই অসুস্থ হয়েছে। আমাকে এখনই ফিরে যেতে হবে। কী করব ভাই, ব্যাড লাক। ভেবেছিলাম, বিকেলে তোমাদের গ্রামটাকে ঘুরে দেখব। তোমার মুখে যে ঝিলের গল্প শুনি, যে ঝিলে সাদা বকের হাট বসে যায়, সেই ঝিলটা দেখব। পরিযায়ী পাখিদের দেখব। বিকেল ফুরিয়ে যাওয়ার বেলায় পাখিরা কেমন দল বেঁধে উড়ে গিয়ে নীড়ে ফেরে। খোলা আকাশটাকে দু’চোখ ভরে দেখব। ভেবেছিলাম সূর্যাস্তের সময় নদীর পাড়ে বালুচরে বসে বসে দেখব, সূর্য কেমন একটু একটু করে নদীর জলে ডুবে যায়। তারপর দেখব নদীতে জ্যোৎস্নার ঝিকিমিকি। দেখব, এই শীতের সন্ধেরাতেই তোমাদের গ্রামটা কেমন গুড়িসুড়ি মেরে ঘরের মধ্যে সিঁধিয়ে যায়। ভোরের পাখিরা কেমন সুর করে ডেকে ওঠে। মোরগের ডাক শুনতে শুনতে কুয়াশার চাদর সরিয়ে আলপথ ভেঙে হেঁটে যাব তোমাদের রহমত আলির বাগানে। সদ্য পেড়ে আনা টাটকা খেজুর রস হাড়মাংসে আজও কেমন করে কাঁপন ধরায় দেখব। অনেককাল পরে প্রকৃতিকে একটু ছুঁয়ে দেখার সাধ হয়েছিল। কিন্তু মিসেসের শ্বাসকষ্টটা বেড়েছে। আমি বলেছি, আমি ফিরছি।’ বলেই কল্যাণব্রত দ্রুত পায়ে ঘরে যান। গোলোকচন্দ্র হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। কাঁধে কিড ব্যাগ ঝুলিয়ে বেরিয়ে আসেন কল্যাণব্রত। তিথি ততক্ষণে উঠোনে এসে দাঁড়িয়েছে। কল্যাণব্রত চিবুক ছুঁয়ে বলেন, ‘তোর চোখকে সত্যিই ফাঁকি দিতে পারিনি আমি। তুই ঠিকই ধরেছিস। খেতে বসে আমি সত্যিই কাঁদছিলাম। কিছুতেই চোখের জলকে ধরে রাখতে পারছিলাম না। কেন জানিস? তুই ঠিক আমার মায়ের মতো। বহুযুগ পরে আজ ভাতের মধ্যে মায়ের গন্ধ পেলাম।’
অলংকরণ : সুব্রত মাজী 
01st  September, 2019
পিশাচ সাধু

পরমেশ্বরের অফিসে শঙ্করের সঙ্গে এক চোট হয়ে গেল সহজের। মজা করতে গিয়েই এই বিপত্তি। সুজি কিছুতেই ক্যাপ্টেনের কথাগুলো ভুলতে পারছে না। এদিকে, পরমেশ্বর বিকেলে সহজকে একজনের বাড়িতে নিয়ে গেল। তারপর... 
বিশদ

13th  June, 2021
ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ১৫
পিশাচ সাধু
জয়ন্ত দে

শঙ্কর বলল, ‘তুমি চান্স নাও। সব পাখি মাছ খায় দোষ হয় মাছরাঙার! আমার দরকার নেই। আমার অনেক আছে।’ বিশদ

06th  June, 2021
ছাতা হারানোর পর
রিমি মুৎসুদ্দি

কলি জানত, মম্পা নিজে পড়াশোনা বিশেষ করে না। সারাক্ষণ মিটিং মিছিল নিয়েই ওর সময় কাটে। এমন মিটিং মিছিল করা ছেলের সঙ্গে কী করেই বা ও জড়াত নিজেকে? আর তাও যদি মম্পার রেজাল্টটা তেমন কিছু হতো তাহলেও কিঞ্চিৎ বিবেচনায় ওকে রাখতে পারত।  বিশদ

30th  May, 2021
ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব  ১৪
পিশাচ সাধু
জয়ন্ত দে

বিচিত্রদাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে গিয়ে একপ্রস্থ নাটক হল। যদিও শেষপর্যন্ত বিচিত্রদার কপালে বেড জুটল। নচের নানা মজার কীর্তি বর্ণিনীকে শোনাল গৌর। এদিকে, ক্যাপ্টেনের অলৌকিক শক্তি যে কমেনি, তা সহজের গল্প প্রকাশের সুবাদে আরও একবার পরমেশ্বরের গ্রুপে প্রমাণ হয়ে গেল। তারপর... বিশদ

30th  May, 2021
কালা চশমা 
শুচিস্মিতা দেব

সুমিতাকে প্রবাস জীবনের শুরুতে সংসারের বাঙালি স্বাদগন্ধ বজায় রাখতে কম মেহনত করতে হয়নি! কোথায় মেলে বাঙালি পুরুতঠাকুর... শুক্তো-মুড়িঘণ্ট, স্পেশালিস্ট বঙ্গ ক্যাটারার... গাওয়া ঘি-গোবিন্দভোগ চাল অথবা শারদীয় পত্রপত্রিকা! কর্তাটি তার নির্ভেজাল খাঁটি বাঙাল ফলে দীর্ঘ দিল্লিবাসে যাবতীয় বঙ্গসমাচার এখন সুমিতার নখদর্পণে। 
বিশদ

23rd  May, 2021
পিশাচ সাধু 
জয়ন্ত দে

ক্যাপ্টেনকে গালমন্দ করতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনল সুজি। ‘কাক হয়ে কোকিলের বাচ্চা মানুষ করবি সুজি,’ পিশাচ সাধুর মুখ থেকে বেরিয়ে এল কয়েকটি ভয়ঙ্কর শব্দ। যা তাকে সারা জীবন কুড়ে কুড়ে খাবে। এদিকে, বর্ণিনীর ফোন এল সহজের মোবাইলে বিচিত্রদার অবস্থা ভালো নয়।  
বিশদ

23rd  May, 2021
পিশাচ সাধু
জয়ন্ত দে 

সহজের কাছে চিঠিটি এসেছে ‘স্বদেশ’ পত্রিকা থেকে। সেখানে তার গল্প ছাপা হবে। এদিকে, ক্যাপ্টেনের ভবিষ্যদ্বাণী ব্যর্থ হয়েছে শুনে বেজায় খুশি সুজি। পিশাচ সাধুর শক্তি সম্বন্ধে তার বক্তব্য, ‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর’। পরের দিন সহজকে নিয়ে ক্যাপ্টেনের বাড়ি যাবে ঠিক করে সুজি।  
বিশদ

16th  May, 2021
ছোঁয়া
বিতস্তা ঘোষাল
 

অফিস থেকে বেরিয়ে নীচে বেশ খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে পর্ণা। এই দাঁড়িয়ে থাকাটা কোনও কিছুর অপেক্ষায় নয়। এটা তার অভ্যাস। আসলে একটানা চার দেওয়ালের ঘেরাটোপে কাজ করতে করতে ভীষণ হাঁফ ধরে যায়। গুমোট লাগে ঘরটা। বিশদ

09th  May, 2021
পিশাচ সাধু
ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব  ১১
জয়ন্ত দে

 

সহজের ফোনটা পেয়ে কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেলেন পিশাচ সাধু। তাহলে তাঁর খারাপ কথাগুলো মিলে গেলেও কারও ভালো ভবিষ্যদ্বাণী করলে, তা মেলে না! বঁড়শি বারবার জানতে চায় তার কী হয়েছে। অনুমান করে ফেলে ফোন করেছিল সহজ। সে স্বামীকে বোঝায়, না মিলুক, তবুও তিনি যেন মানুষকে ভালো কথাই বলেন। বিশদ

09th  May, 2021
ছোট গল্প
সম্ভবামি যুগে যুগে

 

মহাপ্রস্থানের পথে অর্জুনের পতনের পর ভীম ও যুধিষ্ঠির আরও উত্তরদিকে এগিয়ে গেলেন। সেই বরফে ঢাকা শ্বেত প্রান্তরে মৃত্যুর অপেক্ষা করতে করতে অর্জুনের মন আসন্ন স্বর্গ না নরক এই দুর্ভাবনার  থেকেও শেষজীবনের পরাজয় ও হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে রইল। তিনি চিরকালের শৌর্যাভিমানী। বিশদ

25th  April, 2021
পিশাচ সাধু
পর্ব  ১০

তেত্রিশ দিন হয়ে গেল অথচ সহজের জীবনে ক্যাপ্টেনের করা ভবিষ্যদ্বাণী মিলল না। পরমেশ্বরের কথা শুনে ক্যাপ্টেনকে ফোন করে সহজ বলে দিল, ‘আপনি ফ্লপ! আপনার ভবিষ্যদ্বাণী ফ্লপ!’ সেদিন রাতেই বাড়ি ফিরে বাবার কাছ থেকে সহজ জানতে পারল, তার নামে একটি অফিসিয়াল চিঠি এসেছে। তারপর... বিশদ

25th  April, 2021
পিশাচ সাধু

 

হঠাৎ বর্ণিনীর সঙ্গে রাস্তায় দেখা হয়ে যায় সহজের। বনির গন্তব্য বিচিত্রদার বাড়ি। সহজকে সঙ্গী করে বনি। জনগণের স্বার্থে লড়াই করতে গিয়ে বহুবার পেটানি খাওয়া বিচিত্র ঘোষাল বিশ্বাস করে, এ দেশে একদিন বিপ্লব হবেই। কথায় কথায় বিচিত্রদাও সহজকে সাবধান করে দেয়, সে যেন পিশাচ সাধুর পাল্লায় না পড়ে। বিশদ

18th  April, 2021
মিষ্টু
উৎপল দাস

রিমা ভিতরে ভিতরে জ্বলে পুড়ে মরে। এ পৃথিবীতে কেউ নেই যে তার অবস্থা বোঝে। মিষ্টুকে বিদায় না করতে পারলে যেন ওর শান্তি নেই।  বিশদ

11th  April, 2021
পিশাচ সাধু
জয়ন্ত দে
ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব   ৮

সহজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় পরমেশ্বর শান্ত গলায় বলেছিল— বিচিত্রদা সেই বিরল মানুষ যারা এখনও মনে করে বিপ্লব হবে। কখন হবে, কীভাবে হবে কেউ জানে না, শুধুমাত্র একটা স্ফুলিঙ্গ। সেই স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল হয়ে যাবে। বিশদ

11th  April, 2021
একনজরে
ঘাটাল মহকুমায় ঝুমি নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে থাকায় শুক্রবার নতুন করে বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে ঘাটাল ব্লকের মনশুকা-১ এবং ...

বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের প্রথম দিনের খেলা। তবে এমটা যে হতে পারে, তার পূর্বাভাস ছিলই। তাই এমন মেগা ম্যাচের ভেন্যু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ...

জমিতে মাটি কাটা নিয়ে বিবাদকে কেন্দ্র করে মারামারির জেরে দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন জখম হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের বলরামপুরের সরেয়ারপাড় গ্রামে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ...

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে সংক্রমণ। সংক্রমণের নিরিখে রাজ্যে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে এই জেলা। যা সবার কপালেই দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা। গুপ্ত শত্রুতার মোকাবিলায় সতর্কতা প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় বিলম্বিত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

 
১৫৯৫ - ষষ্ঠ শিখ গুরু  গুরু হরগোবিন্দের জন্ম
১৯০৭ - শিক্ষাবিদ ও নারী শিক্ষা প্রচারক উমেশচন্দ্র দত্তের মৃত্যু
১৯৪৭- লেখক সলমন রুশদির জন্ম
১৯৬২ - অভিনেতা আশিষ বিদ্যার্থীর জন্ম
১৯৭০- রাজনীতিক রাহুল গান্ধীর জন্ম
১৯৮১- ভারতে টেস্ট টিউব বেবির জনক সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯৮৫ - অভিনেত্রী কাজল আগরওয়ালের জন্ম
২০০৮- বর্তমানের প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক বরুণ সেনগুপ্তের মৃত্যু 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৪৬ টাকা ৭৫.৭৪ টাকা
পাউন্ড ১০০.৮০ টাকা ১০৫.৬৮ টাকা
ইউরো ৮৬.২৭ টাকা ৯০.৪৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৮,০০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৫,৫৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৬,২৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৭০,৬৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৭০,৭৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ আষাঢ় ১৪২৮, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১। নবমী ৩৪/৩৪ রাত্রি ৬/৪৬। হস্তা নক্ষত্র ৩৮/৫০ রাত্রি ৮/২৮। সূর্যোদয় ৪/৫৬/১৬, সূর্যাস্ত ৬/১৯/২৮। অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৮ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/২ গতে ৭/৪৪ মধ্যে পুনঃ ১১/১৬ গতে ১/২৪ মধ্যে পুনঃ ২/৪৯ গতে উদয়াবধি। মাহেন্দ্রযোগ প্রাতঃ ৫/৫০ মধ্যে পুনঃ ৯/২৪ গতে ১২/৪ মধ্যে। বারবেলা দিবা ৬/৩৭ মধ্যে পুনঃ ১/১৮ গতে ২/৫৮ মধ্যে পুনঃ ৪/৩৯ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি রাত্রি ৭/৩৯ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৭ গতে উদয়াবধি। 
৪ আষাঢ় ১৪২৮, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১। নবমী দিবা ২/৩০।  হস্তা নক্ষত্র অপরাহ্ন ৫/১। সূর্যোদয় ৪/৫৫, সূর্যাস্ত ৬/২২। অমৃতযোগ দিবা ৩/৪২ গতে ৬/২২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ গতে ৭/৪৭ মধ্যে ও ১১/২০ গতে ১/২৮ মধ্যে ও ২/৫৩ গতে ৪/৫৫ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৫/৫৪ মধ্যে ও ৯/২৮ গতে ১২/৮ মধ্যে। কালবেলা ৬/৩৬ মধ্যে ও ১/২০ গতে ৩/০ মধ্যে ও ৪/৪১ গতে ৬/২২ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/৪১ মধ্যে ও ৩/৪৬ গতে ৪/৫৫ মধ্যে।  
৮ জেল্কদ।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পরিবারের চারজনকে খুন করে পুঁতে রাখার অভিযোগ, ধৃত যুবক
উদয়নকাণ্ডের ছায়া এবার মালদহের কালিয়াচকে। মা-বাবা সহ পরিবারের ৪ জনকে নৃশংসভাবে ...বিশদ

08:59:00 AM

উরুগুয়েকে হারিয়ে কষ্টার্জিত জয় আর্জেন্তিনার
উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে এবারের কোপা আমেরিকায় প্রথম জয় পেল ...বিশদ

08:51:33 AM

ইউরোয় আজ
হাঙ্গেরি : ফ্রান্স (সন্ধ্যা ৬-৩০ মিনিটে) পর্তুগাল : জার্মানি (রাত ৯-৩০ ...বিশদ

08:32:20 AM

বারাকপুরে ৮০ ঊর্ধ্বদের বাড়িতে গিয়ে টিকাকরণ করবে পুরসভা
টিকাকরণে আরও সক্রিয় প্রশাসন। ষাটোর্ধ্বদের জন্য শুক্রবার বারাকপুর শহরে শুরু ...বিশদ

08:30:00 AM

শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর
জীবন দৌড় থেমে গেল ৪ বারের সোনাজয়ী কিংবদন্তি অ্যাথলিট মিলখা ...বিশদ

08:17:48 AM

বাংলা ভাষায় এবার পেশাগত কোর্সের বই আনছে ম্যাকাউট
সংবাদদাতা, কল্যাণী: বাংলা ভাষায় পেশাগত কোর্সের বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিল ...বিশদ

08:15:00 AM