Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

কুঞ্জবিহারী
তরুণ চক্রবর্তী 

‘জানো তো হাটতলার কোণে পান-বিড়ির একটা দোকান দিয়েছে কুঞ্জবিহারী?’
গাঁয়ের বাড়িতে গিয়ে কথাটা শুনে প্রথমে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারিনি— অ্যাঁ, ঠিক শুনছি তো?
কথাটা যে ঠিক, এখন দোকানটা থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে স্বচক্ষেই তা দেখছি আর উপভোগ করছি বিস্ময়ের আনন্দ। খদ্দেরদের দিব্যি পান সেজে দিচ্ছে কুঞ্জ, লাল সুতো, কালো সুতোর বিড়ির তাড়া খুলে গুনে গুনে বিড়ি দিচ্ছে, পয়সা নিচ্ছে গুনে, আবার ভাঙানিও দিচ্ছে টাকার হিসেব করে। ছোট একটা কাঠের বাক্সের ওপর চেরা একটু ফাঁক দিয়ে টাকা-পয়সা রাখছে একেবারে পাকা দোকানির মতোই।
অবাক হতেই হয়, সেই আমাদের কুঞ্জ! চেহারাটা আগের চেয়ে একটু চেকনাই হয়েছে, সেই রোগা-পটকা ভাবটা আর নেই। পরনে ডোরাকাটা লুঙ্গি, গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি।
কুঞ্জর চোখ এড়িয়ে গিয়ে বসি মানিকদার মিষ্টির দোকানের বেঞ্চে। এই ক’টা বছরে কী বদলটাই না হয়ে গেল! আমাদের ছোটবেলার রাজবল্লভী মন্দিরের লাগোয়া এই হাটতলায় ছিল দু-তিনটে মাত্র দোকান, মাটির দেওয়াল আর টিন কিংবা খড়ের চালার। মানিকদার জ্ঞাতিরাই আর একটা মিষ্টির দোকান খুলেছে, মুদি দোকানও হয়েছে দুটো, একটা ওষুধের দোকান, চায়ের দোকান, মনিহারি দোকানও শোভা বাড়িয়েছে। সবক’টাই পাকা ঘরের। গুল্টিয়া গ্রামেই বা ক’টা পাকা বাড়ি ছিল তখন? হাতে গুনে বলা যেত। আর এখন একতলা, দোতলা বাড়ির তো ছড়াছড়ি।
বদল তো হবেই, দুনিয়ার নিয়মই যে তাই, বদলেরই শুধু বদল হয় না কখনও। মুড়ি তেলেভাজা খেতে খেতে ছেলেবেলাটার আঘ্রাণ পেতে থাকি মনে মনে। অদ্ভুত এক আমেজ লাগে শীতের সকালে। আগেকার মতোই মাঠের আনাজ-পাতি মাথায় করে এনে চাষিরা এসে বসছে হাটতলায়। কচুপাতায় গেঁড়ি-গুগলি, কুঁচো চিংড়ি আর অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে জ্যান্ত চারাপোনা নিয়ে বসেছে দু-একজন মেছুনি আর জেলে। একে একে আসতে শুরু করেছে ক্রেতারাও।
এককালে কেবল শুক্রবারই নাকি হাট বসত এখানে, তখন থেকেই নাম হয়ে যায় হাটতলা, পরে কবে থেকে যেন প্রতিদিনের বাজার বসতে থাকে। হবে নাই বা কেন, এ তল্লাটে বাজার বলতে তো সেই রাজবলহাটে, মাইলখানেক দূরে।
চোখ যায় পানের দোকানটার দিকে, বেশ বাহারি করেছে কিন্তু কুঞ্জ। দোকানের মাথায় টিনের পাতে বড় বড় করে লেখা ‘কুঞ্জর পান’। অক্ষরগুলোর ওপর আবার গোল গোল রুপোলি চাকতি সাঁটা, তার নীচে রঙিন কাগজের ঝালর, আলো পড়ায় চিকমিক করছে। দোকানের টিনের গায়ে কোনও হিন্দি সিনেমার নায়িকার হাসিমুখ আর বিলোল চাউনির যুগলবন্দি।
মাথা থেকে জিজ্ঞাসা চিহ্নটা আর সরতে চায় না, সেই কুঞ্জ আমাদের? কখনও কি ভুলতে পারব বাংলার মাস্টার চণ্ডীবাবুর সেই কথাটা?
সেবার ক্লাস ফাইভের হাফ ইয়ারলি পরীক্ষায় ফেল করে গেল কুঞ্জ। ক্লাসে এসে চণ্ডীবাবু বলেছিলেন, ‘তোর দ্বারা আর কিস্যু হবে না রে কুঞ্জ। এক কাজ কর, টিনের চাল থেকে গোলা পায়রা ধরে বাজারে বিক্রি কর, দুটো পয়সা হবে। তোর বাবাকেও টাকা ঢালতে হবে না। সঙ্গে কাউকে নিবি, যে পায়রা বিক্রির টাকাটা গুনে নিয়ে তোকে দেবে।’
চণ্ডীবাবুর আর দোষ কী, কুঞ্জর মতো অমন মোটা মাথার ছাত্র সারাজীবনে দুটি আর তাঁর চোখে পড়েনি।
তখন আমরা আরও নিচু ক্লাসে পড়ি। মাস্টারমশাই একদিন প্রশ্ন করলেন, ‘বল তো কুঞ্জ আম বানান কী?’
কেউ কিছু বলার আগেই উঠে দাঁড়িয়ে জোর গলায় কুঞ্জ বলে দিল ‘ত-এ হ্রস্ব ই দন্ত্য ন’। ওই এক মস্ত দোষ তার। আরে মনে মনে একটু ভেবে নিয়ে তারপর তো বলবি। তা নয়, হুড়মুড় করে তার আগে বলা চাই।
আরেক দিন গৌরমাস্টার প্রথমেই সবাইকে সাবধান করেদিলেন— ‘অ্যাই, সবাই একসঙ্গে বলবি না, যাকে জিগ্যেস করব শুধু সে-ই উত্তর দিবি।’ আমরা সবাই চুপ। তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘আচ্ছা কুঞ্জ, বল তো, রামচন্দ্রের বাবার নাম কী?’
‘আজ্ঞে, মদন।’ চটপট উত্তর তার, কেননা সে তো একশো ভাগ নিশ্চিত যে, রামের বাবার নাম মদন ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।
অনেকদিন পরে কথাটা মনে পড়লে সত্যিই ভাবতে হয়েছে, আচ্ছা, রামের বাবার নাম মদন হলে আদৌ কি অশুদ্ধ হতো রামায়ণ? কুঞ্জর মনে-গড়া রামায়ণে হয়তো সেদিন তিনি মদন নামেই অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁর অযোধ্যা ছিল হয়তো অন্য কোথাও কিংবা লক্ষ্মণ, সীতা— এঁরাও হয়তো অন্য কোনও নামে, চেহারায় কুঞ্জর মানসপটে বিচরণ করতেন। তার সেই মনোজগতে ঢুকতে না পারার অক্ষমতা কি আমাদেরই ছিল না?
আর একদিনের স্মৃতি। ফটিক মাস্টার একদিন ক্লাসে এসেই প্রশ্ন করলেন, ‘তোমরা কেউ তিনজন মহাপুরুষের নাম বলতে পারো?’
যথারীতি কুঞ্জরই গলা শোনা গেল সবচেয়ে আগে— ‘আজ্ঞে তা হলে বাড়ি থেকেই বলি’, বলেই গড়গড় করে সে তার তিন কাকার নাম বলে দিল। আমরা সবাই হতভম্ব। ফটিক মাস্টারের হাতের কঞ্চিটা এবার সশব্দে আছড়ে পড়ল টেবিলের ওপর। দাঁতে দাঁত চেপে তিনি বললেন, ‘তোর ওই মাথাটা বালিশে রাখার নয়, বুঝলি? আজ থেকে মাথার নীচে একখানা থান ইট রেখে শুবি, তবে যদি মাথাটা খোলে। গাধা কোথাকার!’ এক এক সময় ফিচলেমি মনে হলেও সেটা করার মতো পাকোলো বুদ্ধিই তো ছিল না কুঞ্জর। যখন যেমন মাথায় আসত অমনি সে বলে দিত অবলীলাক্রমে। এজন্যে মারও তো কম খায়নি, ইশকুলে, বাড়িতে সর্বত্র। একটু কেমন পাগলাটে আর ন্যালা-ক্যাবলা বলে কেউ কেউ রাস্তায় তার মাথায় চাটি মেরে, ওই যাকে বলে একটু হাতের সুখ করে চলে যেত। কুঞ্জ কিন্তু কিছু বলত না, শুধু অবাক হয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকত, যেন এমনটাই পাওনা ছিল তার। কখনও খুব বেশি পিটুনি না খেলে আমরা তার চোখে অবশ্য জল দেখিনি।
হঠাৎই একদিন ইশকুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল কুঞ্জর। দেখা হতে জিগ্যেস করি, ‘কী রে, ইশকুলে যাবি না?’ মাথা নেড়ে তার সরল স্বীকারোক্তি— ‘মাস্টাররা ঠ্যাঙায় যে।’ হক কথা।
চণ্ডীবাবুর তিন-তিনটে ছড়ি ভেঙেছে হয়তো তাকেই ঠেঙাতে গিয়ে। চতুর্থ ছড়িটা আর তাঁর হাতে ওঠা দেখতে হয়নি কুঞ্জকে, তার আগেই তার বাবা তাকে ছাগল চরানোর কাজে লাগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সেখানেও কি নিস্তার আছে তার, মজা করার জন্যে তাকে খ্যাপাতে ছাড়ত না পাড়ার ছেলেরা।
মাঠ থেকে একদিন তিনটে ছাগলের গলায় বাঁধা দড়ি ধরে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ি নিয়ে আসছে কুঞ্জ। মুকুন্দদা তার পাশে গিয়ে ভালো মানুষের গলায় বললে, ‘কী রে, মাঠ থেকে ফিরছিস এত বেলায়।’
ক্যাবলাকান্ত বলে সচরাচর কেউ তার সঙ্গে ভালো করে দুটো কথাও বলে না, মুকুন্দদার মতো বড়সড় একজন মানুষ যে অমন আদর করে কথা বলেছে, এতেই আনন্দে গলে গেল কুঞ্জ। একগাল হেসে সে উত্তর দিল, ‘হ্যাঁ গো মুকুন্দদা, বেলা হয়ে গেল।’
মুকুন্দদা জিগ্যেস করল, ‘তা তুই একা চার-চারটে ছাগল সামলাতে পারিস?’
ভ্রু কুঁচকে কুঞ্জ বলে, ‘তোমার চোখে কি ন্যাবা হয়েছে, দেক্‌চো না তিনটে ছাগল?’
মোক্ষম খোঁচা এবার মুকুন্দদার, ‘এই তো দেখছি তোর ডানদিকে দুটো কালো, বাঁদিকে পাটকিলেটা আর মাঝখানে তুই, তাহলে মোট চারটে হল না?’
আর যায় কোথায়, কুঞ্জ এবার তার বাপান্ত করে ছাড়লে। কেউ কল্পনা করতে পারবে, সেই কুঞ্জ আজ একটা পানের দোকানের মালিক? হোক না ছোট, দোকান তো বটে।
কত কী যে করত কুঞ্জর বাবা, তার মাথাটা ভালো করার জন্য আরিন্দিপুর থেকে ওঝা ডেকে এনে ঝাড়ফুঁক করানো, কুলেকালের ফকিরের মাদুলি পরানো, মানত করা, রাজবল্লভীর মন্দিরে পুজো দেওয়া— যখন যে যা বলত, তাই করত তার বাবা। রহিমপুরের পার্থ ডাক্তারই শুধু বলেছিল, এতসব করার দরকার নেই, কারও কারও এমন হয়, আবার বড় হলে সব ঠিক হয়ে যায়। সত্যিই কিন্তু পরে একদম স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল কুঞ্জ। আর আজ তো দেখছি, দিব্যি একটা দোকান সামলাচ্ছে। সে তো সত্যি সত্যিই পাগল ছিল না, তাকে পাগল করে দিতে চাইত আর পাঁচজনেই।
একসময় বাপের কাছেই কিছুটা হিসেবপত্তর শিখে গেলে হাটতলায় কুঞ্জকে এই দোকানটা খুলে দেয় তার বাবাই। প্রথম দিকে ছেলেকে নিয়েই বসত, পরে কুঞ্জ একাই সামলাতে শিখে যায়। বেশ ভালোই তো চালাচ্ছে দেখছি। শুনলাম, এই দোকানটা তার প্রাণ একেবারে। সাতসকালে এসে দোকান খোলে, দুপুরে ঝাঁপ বন্ধ করে বাড়ি যায় স্নান-খাওয়া করতে। বিকেল হতে না হতেই আবার এসে বসে দোকানে। টুকটাক বিক্রিবাটা চলে সেই রাত দশটা পর্যন্ত।
কুঞ্জর খদ্দেরদের বেশির ভাগই চাষি, মজুর, রিকশওয়ালা। আবার বাবুদের কেউ কেউ হাওড়া যাবার বাসে ওঠার আগে তার দোকানের একখিলি পান মুখে পুরে নেয়। রোজ সকালে দোকানে পান দিয়ে যায় বাউরি। আর কুঞ্জ মাঝে মাঝে সাইকেলে চড়ে দূরের জাঙ্গিপাড়ার বাজার থেকে পানের মশলাপাতি কিনে আনে। সেখানে এগুলোর দাম একটু সস্তা পড়ে। একসময় ফাঁকা দেখে গিয়ে দাঁড়াই কুঞ্জর দোকানের সামনে। আমার মুখের দিকে খানিক একটু ভ্রু কুঁচকে সে তাকিয়ে থাকে, ঠিক যেন চিনতে পারছে না। স্বাভাবিক। মাঝে গড়িয়ে গেছে অনেকগুলো বছর, কালের পলিও তো কিছু পড়েছে আমার চেহারায়। কুঞ্জকে আর ধন্দে না রেখে বলি, ‘কী রে চেনা যাচ্ছে না, আমি সমীর, একসঙ্গে পড়তুম মনে পড়ে?’ এবার জ্বলজ্বল করে ওঠে ওর চোখ দুটো। এক লাফে দোকানের টাট থেকে নেমেই জড়িয়ে ধরে বলে, ‘কবে এলি? তুই যে এমন ধারা বদলে যাবি, কী করে জানব বল! সেই যে কলকাতায় চলে গেলি আর তো পাত্তাই নেই!’
একথা-সেকথা বিনিময়ের পর জানতে চাই— ‘তা বিয়ে থা করেছিস?’
সলজ্জ উক্তি তার ‘সামনের ফাগুনে সন্তু নেগির মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে মোটামুটি ঠিকই হয়ে গেছে। একদিন পঞ্চানন্দতলায় সাবিত্তিরই তাকে নিকে করবে বলে পাকা কতা দিয়েচে।’
সোৎসাহে বলি, ‘বাঃ, খুব ভালো খবর, পরের বারে এসে যাব তোর সংসার দেখতে।’
দু-চারজন খদ্দের ইতিমধ্যে এসে দাঁড়িয়েছে। আমি পা বাড়াই, ‘আবার আসিস’ বলে কুঞ্জ উঠে বসে দোকানের টাটে।
গ্রামে এলেই হুমড়ি খেয়ে ধেয়ে আসে হারানো দিনগুলোর সুখ-স্মৃতি। কলকাতায় ফিরে তার রেশটুকু উপভোগ করতে না করতেই পট যায় ঘুরে। ব্যস্তসমস্ত জীবনে মন খুঁজে পায় না আলসেমি করার সময়।
জমি-জমার নিষ্পত্তির ব্যাপারেই আবার যখন ছুটতে হল গ্রামে, মাঝখানে কেটে গেছে তিন-তিনটে বছর। প্রতিবারের মতো দেখা করতে বেরই এর-তার সঙ্গে। কারও বাড়িতে তেলেভাজা-মুড়ি, কারও নারকেল নাড়ু, কারও বা গাছের পেয়ারা খেতে খেতে বেলা কাটে।
বিকেলের দিকে গিয়ে দাঁড়াই কুঞ্জর দোকানের সামনে, সবে দোকান খুলছে তখন। এবার আর চিনতে ভুল হয়নি তার। প্রথমেই জিগ্যেস করি, ‘কী রে, বিয়ে করেছিস তো শুনেছি, তা কেমন চলছে সংসার? বউকে দেখাবি তো?’
ম্রিয়মাণ হয়ে এদিক-সেদিক তাকিয়ে চাপা গলায় জানাল যে, একটু ঝামেলা হয়ে গেছে। বউ একদিন তাকে না জানিয়ে টকি দেখতে গিয়েছিল। দোকান থেকে ফিরে তাকে দেখতে না পেয়ে প্রতিবেশীদের কাছে খোঁজ নিয়ে যখন একথা সে জানতে পারে, রাগে তার মাথা গরম হয়ে যায়। সাবিত্তিরির সব জামাকাপড় আলনা থেকে টেনে উঠোনে নামিয়ে কেরোসিন তেল ঢেলে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। টকি থেকে ফিরে এসে তার এই কাণ্ড দেখে সাবিত্তিরিও এক কাপড়েই বাপের বাড়ি চলে যায়। আর ফেরেনি। তাকে ফিরিয়ে আনতে দু-তিনবার গিয়েওছিল কুঞ্জ, কিন্তু বউয়ের খুব দেমাক, সে বলেছে, ‘তোমার সঙ্গে ঘর আর করব না, তুমি সব পারো, কোন দিন আমাকে পুড়িয়ে মারবে।’
‘তা বলে মাথা গরম করে এমন কাজ কেউ করে কুঞ্জ?’ বলে তাকাই ওর দিকে। মাথা নিচু করে পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে কুঞ্জর আক্ষেপ— ‘কী করি বল, আমার মাথার দোষ যে। রাগলে আর সামাল দিতে পারি না।’ শুনে খারাপ লাগে। তাকে মাথা ঠান্ডা রাখার উপদেশ দিয়ে ফিরি সেদিনকার মতো।
কলকাতায় ফেরার দিন বাসে পাশের সিটেই পেয়ে গেলাম স্কুলের আর এক সহপাঠীকে। এক সময় কুঞ্জর কথা উঠতেই সে শোনাল আর এক কাহিনী। রাগ করে সাবিত্রীর ঘর ছেড়ে যাওয়াটা নাকি একটা অজুহাত মাত্র। আসলে মাদুলি, তাগা-তাবিজ ধারণ সেও কম করেনি। তারপরেও ছেলেপুলে হল না দেখে সাবিত্রী এখন গেছে অন্য কুঞ্জবনে।
অলংকরণ : সুব্রত মাজী 
25th  August, 2019
মানুষ গড়ার কারিগর
সৌমিত্র চৌধুরী

 চোখের জল মুছে বাবা বলল, ‘ঠিক আছে স্যার, আপনার কথা রাখলাম। তবে ঋণ বাড়াব না। ফেল করলে ওর কিন্তু পড়া বন্ধ।’ এত দূর বলে আমাদের পিসিএম থামল। আমার চোখে বিস্ময়। জম স্যার নিজে গেল হাটখোলায়? একটু অবাক হয়েছিলাম সেদিন। কিন্তু কয়েকমাস পরে ক্লাসের সবাইকে, এমনকী গোটা স্কুলকে অবাক করে দেবার মতো ঘটনা ঘটল। অঙ্কে আশি নম্বর পেয়ে বার্ষিক পরীক্ষায় চার নম্বর স্থানটা দখল করেছে প্রদীপ। বিশদ

08th  December, 2019
অথৈ সাগর

 আগামী বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। তার প্রাক্কালে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি। বিশদ

08th  December, 2019
আজও তারা জ্বলে
ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়
সন্দীপ রায়চৌধুরী

 ওপার বাংলা থেকে আসা ‘বাঙাল’ ভানুকে শুধু চেহারা দেখেই নাকি ‘জাগরণ’ ছবির জন্য নির্বাচন করেছিলেন বিভূতি চক্রবর্তী। কারণ হিসেবে বলেছিলেন, ‘আমার ছবিতে দুর্ভিক্ষপীড়িত চিমসে চেহারার একটা চরিত্র আছে, সেটা তুমি করবে।’ বিশদ

08th  December, 2019
ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় পর্ব * ১
সন্দীপ রায়চৌধুরী

উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের দ্যুতিতে ভাস্বর। এই লাইনটা বললে হয়তো এক রকম অপমানই করা হয় তাঁদের। কারণ অন্যের আলোয় আলোকিত হওয়ার প্রয়োজন এঁদের কারও কখনও হয়নি। এঁরা নিজেরাই এক একজন কিংবদন্তি।   বিশদ

01st  December, 2019
অথৈ সাগর
বারিদবরণ ঘোষ

আগামী বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। তার প্রাক্কালে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি। 
বিশদ

01st  December, 2019
ফেসবুকে বনলতা
শুচিস্মিতা দেব 

আমি তপেন বাগচি। পেশাহীন এবং নেশাহীন ছাপোষা মানুষ। পেশার অভাবে নেশা করার হিম্মত হয়নি কখনও। অভিজাত পাড়ায় ঠাকুরদার আমলের দোতলা বাড়িতে বিনা পয়সার বাসস্থান। বাবা ছিলেন ব্যারিস্টার ঠাকুরদার ল ফার্মের যোগ্য উত্তরাধিকারী।   বিশদ

01st  December, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
মহাকালীর কালীমঠ
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়  

পর্ব-৩৭

হিমালয়ের পবিত্র দেবস্থানগুলি বারে বারে পরিব্রজন করলেও গুপ্তকাশীর অদূরে কালীমঠে আর যাওয়াই হয় না। তাই সেবার গৌরীকুণ্ডের পথে ত্রিযুগীনায়ারণ হয়ে গুপ্তকাশীতে এসে রাত্রিবাস করলাম। 
বিশদ

24th  November, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়  

৩৭

ছিলেন বিজ্ঞানের ছাত্র, বিষয় ছিল রসায়ন। তিনি নিজের সম্পর্কে বলতেন, ‘আমি বিজ্ঞানের ছাত্র। আচারে-ব্যবহারে, ভ্রমণে-পর্যটনে, খাদ্যে-পানীয়ে কালাপাহাড় বলিয়া পরিচিত মহলে আমার অখ্যাতি আছে; তবু আজ অস্বীকার করিতে পারি না, অলৌকিক শ্রেণীর দুইটি ঘটনার আমি সাক্ষী হইয়া আছি। 
বিশদ

24th  November, 2019
বীরবল
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

 বাদশাহের মর্জিতেই তাকে নামানো হয়েছে লড়াইতে, কিন্তু তাকে কিছুতেই বাগ মানাতে পারছে না তার পিলবান। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে প্রতিদ্বন্দ্বী হাতিকে ছেড়ে তাড়া করল এক জওয়ান লেড়কা দর্শককে, সেই লেড়কা দ্রুত পালিয়ে ঢুকে গেল আম-আদমির ভিড়ের মধ্যে। হাতিটা তখন দূর থেকে দেখছে বীরবরের লাল বেনিয়ান পরা চেহারাটা। বিশদ

17th  November, 2019
 বন্ধুত্ব
তপনকুমার দাস

দীনবন্ধুর যে ক’জন বন্ধু ছিল, তাদের সবাই প্রায় হারিয়ে গেছে। কলেজবেলার পর চাকরিবেলার শুরুতেই হারানোর পালা শুরু হতে হতে সংসারবেলায় পৌঁছে একেবারে ফেড আউট হয়ে গেছিল যাবতীয় বন্ধুত্ব। একে অপরকে ভুলে যেতে যেতে একসময় গল্পের উঠোনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল সব বন্ধুত্ব।
বিশদ

17th  November, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
পুষ্করের সাবিত্রী মা
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় 

পর্ব-৩৫

রাজস্থান ভ্রমণে এসে পুষ্কর তীর্থে স্নান করে ভারতের একমাত্র ব্রহ্মা মন্দিরে পুজো দিয়ে সাবিত্রী পাহাড়ে সাবিত্রী মাতাকে দর্শন করেন না এমন যাত্রী নেই বললেই চলে।
আজমির থেকে পুষ্করের দূরত্ব ১১ কিমি।  
বিশদ

10th  November, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়  

৩৫

ঔপন্যাসিক উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে ‘বিচিত্রা’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল এক নতুন যুগের। জন্ম হল উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানের। সম্পর্কে তিনি ছিলেন কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মামা।   বিশদ

10th  November, 2019
সম্পর্ক
সম্পন্ন চৌধুরী 

রাত প্রায় বারোটা
মুষলধারে বৃষ্টি হয়েই চলেছে। থামার কোনও লক্ষণই যেন নেই। কিন্তু গরমটা কিছুতেই যেন কমছে না। মানে বৃষ্টিটা আরও হবে। গোটা বাড়িটাই প্রায় জলে ভরে গেছে। ঘরের ভিতরেও জল ঢুকবে ঢুকবে করছে। 
বিশদ

10th  November, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
দেশনোকের করণীমাতা
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

পর্ব-৩৪

দেশনোকের করণীমাতার প্রসঙ্গে এবার আসা যাক। ইনি রাজস্থানের মরু অঞ্চলে রাজ পরিবারের আরাধ্যা দেবী। করণীমাতার মন্দির হচ্ছে পৃথিবীবিখ্যাত মন্দির, অসংখ্য ইঁদুরের জন্য এই মন্দির ‘চুহা মন্দির’ নামে প্রসিদ্ধ। সেবার রাজস্থান ভ্রমণের সময় মুলতানি ঘাঁটির কোলায়েতে গিয়েছিলাম কপিলমুনির মন্দির ও পবিত্র সরোবর দেখতে।  
বিশদ

03rd  November, 2019
একনজরে
ওয়েলিংটন, ৯ ডিসেম্বর (এএফপি): ছবির মতো সুন্দর হোয়াইট আইল্যান্ড। ভ্রমণের আনন্দে মশগুল পর্যটকের দল। ভরদুপুরে হঠাৎ করে জেগে উঠল আগ্নেয়গিরি। সোমবার নিউজিল্যান্ডের এই ঘটনায় মৃত্যু হল অন্তত পাঁচজনের। জখম ১৮ জন। সরকারি সূত্রে খবর, আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। তাঁদের উদ্ধারের ...

অমিত চৌধুরী, হরিপাল: হরিপাল থানার কৈকালা গ্রাম পঞ্চায়েতের বলদবাঁধ গ্রামে প্রতিবছর শীতের সময় ভিড় করে পরিযায়ী পাখি। বিদেশি পাখির আগমনকে ঘিরে একসময় এলাকায় পিকনিকের আসর বসলেও স্থানীয় মানুষ উদ্যোগ নিয়ে পাখিদের নিশ্চিন্তে অস্থায়ী ঠিকানায় বাস করতে বন্ধ করে দিয়েছেন পিকনিক। ...

জম্মু, ৯ ডিসেম্বর (পিটিআই): কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর ফের সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গুলি চালাল পাক সেনা। সোমবার ভোর পৌনে চারটে নাগাদ জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরে ভারতীয় সেনার চৌকি লক্ষ্য করে তারা গুলি চালায়। ...

তিরুবনন্তপুরম, ৯ ডিসেম্বর: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বিরাট কোহলি নিজের ব্যাটিং পজিশন ছেড়ে দিয়েছিলেন শিবম দুবেকে। তিন নম্বরে ব্যাট করার সুযোগটা দারুণভাবে কাজে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে শুভ। সরকারি ক্ষেত্রে কর্মলাভের সম্ভাবনা। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-ভালোবাসায় মানসিক অস্থিরতা থাকবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস,
১৮৭০- ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকারের জন্ম,
১৮৮৮- শহিদ প্রফুল্ল চাকীর জন্ম,
২০০১- অভিনেতা অশোককুমারের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৪ টাকা ৭২.১৪ টাকা
পাউন্ড ৯২.০৭ টাকা ৯৫.৩৭ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৪ টাকা ৮০.২৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ত্রয়োদশী ১১/২৬ দিবা ১০/৪৪। কৃত্তিকা ৫৯/২৯ শেষ রাত্রি ৫/৫৭। সূ উ ৬/৯/৩১, অ ৪/৪৮/৪৩, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৫ গতে ১১/৮ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৯ গতে ৮/২২ মধ্যে পুনঃ ৯/১৬ গতে ১১/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১/৪৩ গতে ৩/৩০ মধ্যে পুনঃ ৫/১৭ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৭/২৮ গতে ৮/৪৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৮ গতে ২/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/২৮ গতে ৮/৮ মধ্যে। 
২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ত্রয়োদশী ১০/২/৪৮ দিবা ১০/১২/৫। কৃত্তিকা ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৬/১০/৫৮, অ ৪/৪৯/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩ মধ্যে ও ৭/৪৫ গতে ১১/৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩৫ গতে ৮/২৯ মধ্যে ও ৯/২৩ গতে ১২/৪ মধ্যে ও ১/৫২ গতে ৩/৩৯ মধ্যে ও ৫/২৭ গতে ৬/১২ মধ্যে, কালবেলা ১২/৪৯/৫৩ গতে ২/৯/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/২৯/২৬ গতে ৮/৯/৩৯ মধ্যে।
 
মোসলেম: ১২ রবিয়স সানি 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
২৫০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:36:09 PM

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রারকে হেনস্তার অভিযোগ 
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিপ্লব গিরিকে হেনস্তার অভিযোগ উঠল। আজ, মঙ্গলবার ...বিশদ

03:30:27 PM

দক্ষিণদাঁড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধৃত ৩ দুষ্কৃতী

03:30:00 PM

আজ থেকে ৬ দিন বন্ধ মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি পরিষেবা 
আজ, মঙ্গলবার থেকে আগামী রবিবার পর্যন্ত দেশজুড়ে বন্ধ থাকবে মোবাইল ...বিশদ

03:22:06 PM

বয়স ভাঁড়িয়ে বিপাকে ইস্ট বেঙ্গল  
বেশি বয়সের ফুটবলার খেলানোর অভিযোগে অনূর্ধ্ব ১৫ আই লিগ থেকে ...বিশদ

03:05:11 PM

মন্তেশ্বরে স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী 

03:04:00 PM