Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

যে মেঘ গাভীর মতো চরে
সুতপা বসু 

বেডরুমের লাগোয়া বারান্দায় তখন সিদ্ধার্থ আর বারিষ বৃষ্টির ছাট নিয়ে খেলছে। সিদ্ধার্থ বললো,‘ওই ছড়াটা বল, মনে আছে?’ বারিষ বুঝল তার বাবাই কোন ছড়ার কথা বলছে। সে লাফাতে লাফাতে সুর করে বলল, ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান...’
সিদ্ধার্থ রেশ ধরে বলল, ‘মাটির বুকে বারিষ রাখে মেঘের পিছুটান...’
দুজনের খিলখিলিয়ে ওঠা হাসিতে তখন আকাশ জুড়ে মেঘেদের বড় হিংসে হল। তারা কড়কড় করে ডেকে উঠে বারিষকে ভয় পাওয়াল। ও চমকে উঠে সিদ্ধার্থর পা আঁকড়ে ধরল। বারিষকে কোলে তুলে নিয়ে ঘরে ঢুকে সিদ্ধার্থ বারান্দার দরজা বন্ধ করে দিল। মেয়ে খুব সামান্য ভিজেছে। একটা তোয়ালে দিয়ে ওকে মুছিয়ে দিতে লাগলো সিদ্ধার্থ।
‘মামমাম কি করে মেঘ বানায়, ওই স্টোরিটা পুরোটা বললে না তো।’
‘এখন আর স্টোরি টোরি নয়, এবার ঘুমোনোর সময়। আমার একটু কাজ আছে। তুমি তোমার স্টোরিবুক পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ো।’
‘নাআআ... প্লিজ আজকেই বলো না ওই স্টোরিটা। প্লিইইইজ...’
মুখচোখে আকুল আকুতির এক্সপ্রেশন এনে, মেয়ের ‘প্লিজ’ বলার ধরণ দেখে সিদ্ধার্থ মনে মনে খুব একচোট হাসল। স্কুলের বদান্যতায় আজকাল মেয়ের কথায় কথায় ‘প্লিজ’, ‘সরি’, ‘থ্যাঙ্ক ইউ’য়ের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
সিদ্ধার্থ মুখে যতটা সম্ভব গম্ভীর ভাব এনে বললো, ‘গিয়ে শুয়ে পড়। বাকি গল্পটা বলছি। শুনেই ঘুমিয়ে পড়বি কিন্তু। আর নো বায়না।’
সিদ্ধার্থ খাটের হেডরেস্টে হেলান দিয়ে বসল। মেয়ে বাবার পাশে খাটের ওপর উপুড় হয়ে শুলো।
সিদ্ধার্থ জিজ্ঞেস করলো, ‘কতটা বলেছিলাম?’
বারিষ আগ্রহভরে বলল, ‘মামমাম প্লেনটা নিয়ে মেঘেদের মধ্যে গেল, তারপর ওইগুলো ছড়াল।’
‘কি, ওইগুলো?’
‘সীডসগুলো। কেমিক্যাল এজেন্টস, ড্রাই আইস, সোডিয়াম ক্লোরাইড, সিলভার অক্সাইড।’
ছ’বছরের মেয়েকে এসব বোঝানোর মানে হয় না। তবু, সিদ্ধার্থ হাল ছাড়ার পাত্র নয়। মেয়ে ক্লাউড সীডিং সম্পর্কে জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। সিদ্ধার্থ মেয়েকে সহজভাবেই বুঝিয়েছিল যে তার মামমাম প্লেনে করে অনেক মেঘ নিয়ে গিয়ে আকাশে ছড়িয়ে দেয়। যেখানে এমনি বৃষ্টি হয় না, সেখানে ওই মেঘগুলো দিয়ে বৃষ্টি পড়ে। কিন্তু, মেয়ের এটুকুতে জ্ঞানপিপাসা মেটেনি। অতএব, সরলীকৃত বিস্তারিত বিবরণ।
‘বড় হয়ে যখন কেমিস্ট্রি পড়বি, তখন এগুলো সম্পর্কে জানতে পারবি। এই যেমন সোডিয়াম ক্লোরাইড হচ্ছে নুন, মানে আমরা যে নুন খাই, সল্ট। ড্রাই আইস হচ্ছে কার্বন...’
মেয়ে অধৈর্য হয়ে কেমিস্ট্রির লেকচার মাঝপথে থামিয়ে দিল, ‘তারপর কি হবে?’
‘তারপর, সেই পার্টিকলগুলো তো মেঘের মধ্যে ছড়িয়ে গেল। সেইগুলো মেঘের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে মামমাম প্লেন নিয়ে ফিরে আসবে।’ ‘তারপর?’
‘পার্টিকলগুলো মেঘের মধ্যে ভাসতে ভাসতে যত জলের কণা আছে সবার সাথে বন্ধু পাতাবে। সব জলের কণাদের নিজের গায়ে জড়িয়ে নেবে। একটা করে জলের কণা জড়িয়ে নিচ্ছে, আবার ভাসছে, আবার আরেকটা কণা জড়িয়ে নিচ্ছে, আবার ভাসছে। এরম করতে করতে একসময় খুব ভারী হয়ে যাবে, পিঠে অনেক জলের বোঝা। আর নড়তে চড়তে পারে না, ভেসেও থাকতে পারেনা।’
‘তখন কি করবে? পড়ে যাবে?’
‘ইয়েস। তখন ওরা বারিষ হয়ে ঝরে পড়বে।’ সিদ্ধার্থ হেসে মেয়ের গালদুটো নিজের দুহাতে ধরে আদর করে।
বারিষের হাবভাব বলে দিচ্ছে সে নিজের মতো করে এক রকম কিছু একটা বুঝল। যতটাই বুঝে থাক বৃত্তান্তটি তার বেশ মনঃপুত হয়েছে। বাবার পেটের ওপর চড়ে বুকের ওপর মাথা দিয়ে শুলো। সিদ্ধার্থ জানে ঘুম পেলে মেয়ে এ রকমই করে। রাত প্রায় বারোটা। সিদ্ধার্থ মনে মনে ভাবল, যাক, তার মানে ম্যাডাম এতক্ষনে ক্লান্ত হয়েছে, এবার ঘুমিয়ে পড়বে।
মেয়ে তখনও কী সব ভেবে চলেছে। একটু ভাবুক, একটু ঘুমঘুম স্বরে একটা প্রশ্ন নিক্ষেপ করল বাবার দিকে। ‘বাবাই! আমার নাম বারিষ কেন?’
সিদ্ধার্থ দুহাতে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে বললো, ‘তোর মামমামের আর আমার তো বৃষ্টি খুব প্রিয়। তাই ভাবলাম সবচেয়ে প্রিয় জিনিসের নামেই তোর নাম রাখব।’
‘আমি কি এমনি ক্লাউডের বারিষ না ওই ক্লাউ...’ প্রশ্নটা শেষ হল না। মেয়ে ঘুমিয়েছে। সিদ্ধার্থ আলতো আলতো করে মেয়ের পিঠে চাপড় দিচ্ছিল। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তারপর সাবধানে মেয়েকে পাশে শুইয়ে দিল।
বেডসাইড টেবিলে রাখা সিদ্ধার্থর ফোনটা বেজে উঠল। মেঘনার ফোন। পেশায় পাইলট মেঘনা সিঙ্গাপুরের একটা বড় রিসার্চ অরগ্যানাইজেশনে চাকরি করে। কোম্পানির চার্টার্ড এয়ারক্রাফট ফ্লাই করে। বছর দুয়েক হল এই চাকরিটা নিয়ে দিল্লি থেকে সিঙ্গাপুরে শিফট করে গেছে। সিদ্ধার্থর দিল্লিতে মোটামুটি থিতু এক প্রফেসারের জীবন। অতএব মেয়ে ওর কাছেই থাকবে মনস্থ হয়েছে।
সিদ্ধার্থ ফোনটা নিয়ে পাশের ঘরে গেল।
‘হ্যাঁ বলো। কেমন আছো?’
‘তোমরা কেমন আছো? বারিষ ঠিক আছে?’
‘হ্যাঁ, এদিকে সব ঠিক আছে। তুমি কেমন আছো?’
‘আমি ঠিক আছি, জাস্ট আ বিট আপসেট।’
‘কেন? কী হয়েছে?’
‘পরশুদিন নিশান্ত যোগাযোগ করেছিল আজ এত বছর পর। ওর গ্রিনকার্ড হয়ে গেছে। কিছু প্রপার্টি রিলেটেড ফাইনাল সেটলমেন্টের জন্য এখন দিল্লিতে আছে কিছুদিন। এরপর পার্মানেন্টলি ইউএস শিফট করে যাবে। ভেবেছিল আমি দিল্লিতে আছি। তাই অনেক কষ্টে আমার ফোন নম্বর জোগাড় করে ফোন করেছিল। সামনের সপ্তাহে আমি বাড়ি আসছি শুনে বলল একদিন দেখা করতে আসতে চায়। হ্যালো... সিড... হ্যালো...’
‘হ্যাঁ শুনছি, বলো।’
‘আই ট্রায়েড টু অ্যাভয়েড। কিন্তু, এমন জোর করল। বলল আর হয়তো দেশে ফিরবে না কখনও। আর হয়তো দেখা হবে না, তাই।’
‘বেশ তো।’
‘তুমি রেগে গেলে সিড? ট্রাস্ট মি, আই ট্রায়েড টু...’
‘প্লিজ মেঘা। আমরা ঠিক করেছিলাম যে, এই নিয়ে কখনও আমাদের মধ্যে কোনও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করব না। ইফ হি ওয়ান্টস টু কাম, লেট হিম কাম...অ্যান্ড গো। উই নিড নট টু ডিসকাস মাচ অ্যাবাউট ইট।’
মেঘনা বিকেলে গা ধুয়ে আজ শাড়ি পরেছে। শ্যাওলা রঙের শিফন শাড়ি। স্লিভলেস ডার্ক ব্রাউন ব্লাউজ। আয়নার সামনে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছে মেঘনা। সিদ্ধার্থ দেখে বলল, ‘বেশ লাগছে।’ মেঘনা হাল্কা লাজুক হাসল। আজ এক স্পেশাল গেস্ট আসছে বাড়িতে। স্পেশাল? আজ এই নিয়ে সিদ্ধার্থ কি কোথাও একটু অভিমানী? নিশান্তের আসার ব্যাপারটা ওকে কেমন আড়ষ্ট করে দিয়েছে। এত বছর পরেও বুকের ভেতর কোথায় এত অস্বস্তি লুকিয়ে ছিল সিদ্ধার্থ বুঝতে পারেনি। মেঘনা কি চাইলে সত্যিই নিশান্তের এই আসাটা আটকাতে পারত না? ওর কি এখনও নিশান্তের প্রতি কোনও টান অবশিষ্ট আছে যা উপেক্ষা করে নিশান্তের যেচে অতিথি হওয়ার আবদারকে অগ্রাহ্য করতে পারল না মেঘনা?
মেঘনা মারাঠি। বাংলা পড়তে পারে না। কবিতা খুব একটা বোঝে না, তবে সিদ্ধার্থর বলা শুনতে ভালোবাসে। সিদ্ধার্থ আপন মনেই বলল, ‘বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস, এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে...’
‘যে মেঘগুলো গাভীর মতো চরে, ওদের গলায় ঘণ্টা বেঁধে দিলে, সারাদিন আকাশে টুং টাং আওয়াজ হবে।’
বারিষের কথায় যারপরনাই চমকে গিয়ে মেঘনা আর সিদ্ধার্থ হেসে মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। বারিষ খাটে বসে ছবি আঁকছে। সিদ্ধার্থ বারিষকে বলল, ‘গাভী মানে কী, জানিস তুই!’
‘হ্যাঁ, গরু। তুমিই তো বলেছিলে।’
‘অ..বলেছিলাম বুঝি! তা তোর কান তো এদিকে, কি আঁকছিস দেখি।’
‘আমি তো মন দিয়ে আঁকছি।’
সিদ্ধার্থ হেসে ফেলল, ‘হ্যাঁ, তাই দেখা কি আঁকছিস!’
সিদ্ধার্থর কথা শেষ হতে না হতেই ডোরবেল বাজল।
কেউ কিছু বলার আগেই বারিষ ছুটে গিয়ে দরজা খুলল। নিশান্ত পাঞ্জাবি। মেঘনা নিশান্তের সঙ্গে হিন্দিতেই কথা বলছে। বারিষ প্রথমে কিছুক্ষণ নিশান্তকে অবজার্ভ করল। তারপর ওর হাবভাবে মনে হল নিশান্তকে ওর ভালোই লেগেছে।
সিদ্ধার্থ, নিশান্তের সঙ্গে কিছুক্ষণ টুকটাক কথা বলল। তারপর একসময় মেঘনা আর নিশান্ত ওদের পুরনো চেনা জগতের নানা পরিচিতদের নিয়ে গল্পে মেতে উঠল। হয়তো একটা নস্ট্যালজিয়ায় ভাসছিল দুজনেই।
কিছুক্ষণের মধ্যে বারিষও খুব সহজেই মিশে গেল নিশান্তের সঙ্গে। মেঘনা, নিশান্ত গল্প করছে এখন। বারিষ ওদেরকে ঘিরে প্রজাপতির মতো উড়ছে। ক্রমে নিজেকে ব্রাত্য মনে হতে লাগল সিদ্ধার্থর। চরতে চরতে হারিয়ে যাওয়া, বৃষ্টি না দিতে পারা একটা মেঘের মতো একা মনে হল নিজেকে।
মেঘনা মাঝে মাঝেই চলে আসছে কিচেনে। হয়তো একটু নিঃশ্বাস নিতে। দর্শনে, অর্থকৌলিন্যে, ব্যবহারে নিশান্ত বরাবরই একজন ঝাঁ-চকচকে মানুষ। এই ক’বছরে বয়সও বেড়েছে, জেল্লাও বেড়েছে।
জীবনে কোনওদিন আর নিশান্তের সঙ্গে দেখা না হলে কোনও আফসোসই থাকত না মেঘনার। তবু আজ এত বছর পর নিশান্তকে দেখে কি এতটুকু উত্তেজনা নেই ওর মধ্যে? না, নেই। হঠাৎ নিজের চোয়াল শক্ত করল মেঘনা। নিশান্তের সঙ্গে যৌবনের হঠকারিতার যে মাশুল দিতে হয়েছে মেঘনাকে, তার বিন্দুবিসর্গও তো নিশান্ত জানে না। মেঘনার কোনও কথা শোনার বা বোঝার চেষ্টা না করেই দায়িত্বজ্ঞানহীন, স্বার্থপরের মতো নিজের জীবন গোছাতে বিদেশে চলে গিয়েছিল নিশান্ত। আর কোনও যোগাযোগ রাখেনি। চলে যাবার সময় বলেছিল, ‘ইট ওয়াস নাইস অ্যান্ড ফান টু হ্যাভ নোন ইউ। উইশ ইউ অল দ্য বেস্ট ফর ইওর ফিউচার। বি ইন টাচ।’
বছর দুয়েকের সম্পর্কে টাচ, ফান, সবই হয়েছিল। এমনকি নেশার ঘোরে শরীরের আকর্ষণে ভেসেও গিয়েছিল দুজনে। মেঘনা, নিশান্ত দুজনের কাছেই এসবই ছিল খুব স্বাভাবিক, অতিরিক্ত কিছু নয়। ওরা কেউই হয়তো সেভাবে প্রেমেও পড়েনি। তবু নিশান্তের হঠাৎ চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ও নিজের জীবনে মেঘনাকে একেবারে অবিশেষ করে দেওয়াটা মেঘনা মেনে নিতে পারেনি। বলতে গিয়ে বার বার বাধা পেয়ে আর বলাও হয়ে ওঠেনি যে ও সন্তানসম্ভবা। ভেবে নিয়েছিল সন্তানের জন্ম দেবে ও একাই মানুষ করবে তাকে। কিন্তু, একটা সিনেম্যাটিক মোড় নিয়ে জীবন সিদ্ধার্থকে এনে হাজির করেছিল মেঘনার জীবনে। তখন ও দু মাসের প্রেগন্যান্ট। সিদ্ধার্থর সাথে পরিচয়, আলাপে পরিণত হওয়ার সময়েই মেঘনা সিদ্ধার্থকে জানিয়ে ছিল সব। সিদ্ধার্থ একটুও হোঁচট খায়নি। তারপর থেকে আজ অবধি মেঘনা প্রতিদিন নিজেকে সৌভাগ্যবতী ভেবেছে। তবু, মাঝে মাঝে কেন মনে হয়, যদি নিশান্তকে ও সবটা জানাতে পারত, তবে কি কিছু অন্যরকম হতো? যে নিশান্তকে ও এতদিন চিনেছে, তার ভেতরে কি অন্য এক নিশান্তকে খুঁজে পেত মেঘনা?
সিদ্ধার্থ এমনিতেই খুব মিশুকে নয়। আজ বোধহয় আরও কম কথা বলছে। নিশান্ত আর বারিষের সখ্যতা দেখছে চুপচাপ। কি একটা নিয়ে বারিষ জেদ করছিল নিশান্তের কাছে। সিদ্ধার্থ বারিষকে বকল। নিশান্ত বলল, ‘আরে ছোড়িয়ে না, বচ্চি হ্যায়। মুঝসে হি তো জিদ কি হ্যায়। মুঝে কোই প্রবলেম নেহি।’
কাল মেঘনাকেও বোঝাতে গিয়েছিল সিদ্ধার্থ। অল্প সময়ের জন্য দেখা হয় বলেই মেয়েকে মাত্রাতিরিক্ত আদর না দিতে। মেয়ের জেদ, আবদার বেড়ে যাচ্ছে। উত্তরে মেঘনাও এরকমভাবেই বলেছিল, ‘আচ্ছা, মেয়েটা তো আমার। আমার সাথেই তো জেদ করছে। ছাড়ো না। ওর ভালো মন্দ তো আমিও একটু বুঝি, নাকি?’
নিজেকে বড় রিক্ত মনে হচ্ছে সিদ্ধার্থর। কেমন গলা শুকিয়ে আসছে। ও কি ওই মেঘগুলোর মতো, যাদের বুকে ঝরিয়ে দেবার মতো যথেষ্ট বৃষ্টি নেই! সিদ্ধার্থ যেন মনে মনে মেঘনার কাছে মিনতি করলো, ‘তুমি পারো না মেঘনা! ওই মেঘগুলোর মতো আমার বুকেও কিছু রাসায়নিক গেঁথে দিতে যাতে পৃথিবীর সব অপত্য স্নেহ এই বুকে জমা হয়! যে স্নেহের বাঁধন পৃথিবীর কোনও কিছু কাটতে না পারে?’
নিশান্তের ডাকে চমক ভাঙল সিদ্ধার্থর। ও চলে যেতে চাইছে। মেঘনা অনুরোধ করছে রাত্রে খেয়ে যেতে। কিন্তু, ওর অন্য কমিটমেন্ট আছে, তাই থাকতে পারবে না। নিশান্ত নিজের কার্ড দিয়ে গেল মেঘনা ও সিদ্ধার্থকে। বলল যোগাযোগ রাখতে। ওও রাখবে। মেঘনা নিশান্তকে দরজা অবধি এগিয়ে দিতে গেল। সিদ্ধার্থ একটু দূরে, পেছনে। দরজা দিয়ে বেরোনোর সময় নিশান্ত বারিষকে কোলে তুলে নিয়ে বলল, ‘অব সবকো বাই বাই কর দো। চলো, তুম মেরে সাথ। হাম বহত ঘুমেঙ্গে, ডিসনিল্যান্ড চলেঙ্গে, বহত মজা হোগা।’ বারিষের মুখে যেন হঠাৎ একরাশ বৃষ্টির মেঘ দেখল সিদ্ধার্থ। যতটা সম্ভব ঝুঁকে, হাত বাড়িয়ে ‘বাবাই’ বলে পৌঁছতে চাইল সিদ্ধার্থর বুকে। সিদ্ধার্থ এগিয়ে গিয়ে হাত বাড়াতেই বাবার গলা জড়িয়ে মেয়ে মাথা রাখল বাবার কাঁধে। সিদ্ধার্থর চোখ ঝাপসা হয়ে এল। বুকের মধ্যে বৃষ্টি পড়লে বোধহয় এমনই হয়। ঝাপসা চোখে মেয়েকে বুকে চেপে দেখল, মেঘা নিশান্তকে সী অফ করে দরজা বন্ধ করল।
রাত হয়েছে। বাইরে ঝির ঝির বৃষ্টি পড়ছে। মেঘনা যেন কেমন আনমনা। টেবিলে ডিনার সার্ভ করে খেতে ডাকছে। সিদ্ধার্থ আর বারিষ তখন বারিষের আঁকা ছবি, যেটা ফেলে ছুট্টে দরজা খুলতে গিয়েছিল, সেটা নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনায় মগ্ন।
অলংকরণ : সুব্রত মাজী 
04th  August, 2019
আজও তারা জ্বলে
পর্ব-১৩

বাংলা ছবির দিকপাল চরিত্রাভিনেতারা একেকটা শৈল্পিক আঁচড়ে বঙ্গজীবনে নিজেদের অমর করে রেখেছেন। অভিনয় ছিল তাঁদের শরীরে, মননে, আত্মায়। তাঁদের জীবনেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক অমূল্য রতন। তাঁরই খোঁজে সন্দীপ রায়চৌধুরী। আজ জহর রায়- দ্বিতীয় কিস্তি। 
বিশদ

23rd  February, 2020
অথৈ সাগর
পর্ব- ১৩
বারিদবরণ ঘোষ

চলতি বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। সেই উপলক্ষে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি। 
বিশদ

23rd  February, 2020
গায়ক চারা
সসীমকুমার বাড়ৈ

—স্যার, ও এসেছে।
—কে? মন্দার ফাইল থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করল।  বিশদ

23rd  February, 2020
আজও তারা জ্বলে
পর্ব-১২ 

বাংলা ছবির দিকপাল চরিত্রাভিনেতারা একেকটা শৈল্পিক আঁচড়ে বঙ্গজীবনে নিজেদের অমর করে রেখেছেন। অভিনয় ছিল তাঁদের শরীরে, মননে, আত্মায়। তাঁদের জীবনেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক অমূল্য রতন। তাঁরই খোঁজে সন্দীপ রায়চৌধুরী। আজ জহর রায়- প্রথম কিস্তি।
বিশদ

16th  February, 2020
অথৈ সাগর
পর্ব- ১২
বারিদবরণ ঘোষ

চলতি বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। সেই উপলক্ষে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি। 
বিশদ

16th  February, 2020
একাকী ভোরের খোঁজে
কমলেশ রায়

দিন চলে যায় হিসেব মতন, ভোর-দুপুর-বিকেল। কেমন করে ভোর নামে আকাশের ঝাঁক তারা থেকে বা কোথাও অদৃশ্য জ্যোৎস্নায় উঁকিঝুঁকি দিয়ে বা ভোর বলে কিছু নেই। শুধুই দিন গুটোনো একটা অংশের নাম ভোর। গত চার-পাঁচ বছরে কিছুই জানে না দিব্যেন্দু। 
বিশদ

16th  February, 2020
 সোহিনী
আইভি চট্টোপাধ্যায়

এমারজেন্সির ডিউটি ডক্টর ফোন করেছিল, ‘ম্যাম, একবার আসতে হবে।’ এই মুশকিল। ওপিডি করে ওয়ার্ডে রাউন্ডে যাওয়ার কথা। এইসময় আবার এমারজেন্সি? কনসাল্টেশন রুমের বাইরেই অভীক। পেশেন্ট অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা, সিরিয়াল নম্বর অনুযায়ী পেশেন্ট পাঠানো এসব ওর কাজ। অভীককে ডেকে নিল সোহিনী, ‘আর ক’জন আছে?’
বিশদ

09th  February, 2020
অথৈ সাগর
পর্ব- ১১
বারিদবরণ ঘোষ

 চলতি বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। সেই উপলক্ষে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি।
বিশদ

09th  February, 2020
আজও তারা জ্বলে
পর্ব-১১

বাংলা ছবির দিকপাল চরিত্রাভিনেতারা একেকটা শৈল্পিক আঁচড়ে বঙ্গজীবনে নিজেদের অমর করে রেখেছেন। অভিনয় ছিল তাঁদের শরীরে, মননে, আত্মায়। তাঁদের জীবনেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক অমূল্য রতন। তাঁরই খোঁজে সন্দীপ রায়চৌধুরী। আজ ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়- শেষ কিস্তি।
বিশদ

09th  February, 2020
আজও তারা জ্বলে 

পর্ব-১০

এছাড়াও বেশ কিছু ছবি ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতাছাড়া হয়েছে। তারমধ্যে কয়েকটি মন্দ ভাগ্যের দরুন। যেমন— নীহাররঞ্জন গুপ্তর একটি গল্প নিয়ে ছবি করা তাঁর বহুদিনের ইচ্ছে ছিল। কিরীটী রায়ের ভূমিকায় প্রদীপ কুমার, নায়িকা সুচিত্রা সেন। ভানুর এই ছবি করা হয়নি। 
বিশদ

02nd  February, 2020
অথৈ সাগর
বারিদবরণ ঘোষ 

চলতি বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। সেই উপলক্ষে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি। 
বিশদ

02nd  February, 2020
নতুন মানুষ
বিভাসকুমার সরকার 

অনন্তরামের আজ বড় আনন্দ। কর্তামশাই আসছেন তার বাড়িতে। আবার একা নন, মেয়ে জামাই সুদ্ধ। সকাল থেকে তার ব্যস্ততার অন্ত নেই। এটা আনছে, ওটা সরাচ্ছে। তার সঙ্গে হাঁকডাক। পাড়ার লোকের চোখ ছানাবড়া। সাদাসিধা, শান্তশিষ্ট, লোকটার হল কী! 
বিশদ

02nd  February, 2020
 

বাংলা ছবির দিকপাল চরিত্রাভিনেতারা একেকটা শৈল্পিক আঁচড়ে বঙ্গজীবনে নিজেদের অমর করে রেখেছেন। অভিনয় ছিল তাঁদের শরীরে, মননে, আত্মায়। তাঁদের জীবনেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক অমূল্য রতন। তাঁরই খোঁজে সন্দীপ রায়চৌধুরী। আজ ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়- নবম কিস্তি। 
বিশদ

26th  January, 2020
 

চলতি বছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ। সেই উপলক্ষে মাইলফলক দেখে ইংরেজি সংখ্যা শেখাই হোক বা বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য তীব্র লড়াই— বিদ্যাসাগরের জীবনের এমনই নানা জানা-অজানা কাহিনী দিয়ে সাজানো এ ধারাবাহিকের ডালি। 
বিশদ

26th  January, 2020
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী আর্থিক বছর থেকে বিভিন্ন প্রশাসনিক খরচের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে দপ্তরগুলিকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে না। তাই দপ্তরগুলিকে বরাদ্দ টাকা যথাযথভাবে ও নিয়ম মেনে খরচ করার পরামর্শ দিয়েছে অর্থদপ্তর। দপ্তরগুলির আর্থিক পরামর্শদাতাদের সঙ্গে অর্থদপ্তরের বৈঠকের পর এই ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে, সেগুলির কয়েকটির বাজার বন্ধকালীন দর। ...

 দুবাই, ২৬ ফেব্রুয়ারি: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়েলিংটন টেস্টে ব্যর্থতার জেরে স্টিভ স্মিথের কাছে মসনদ খোয়ালেন বিরাট কোহলি। আইসিসি’র টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে দু’নম্বরে নেমে গেলেন ভারত অধিনায়ক। তাঁর জায়গায় শীর্ষস্থানে অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটসম্যান স্মিথ। ...

বিএনএ, আসানসোল: বেসরকারি গ্যাস কোম্পানির নিরাপত্তারক্ষী ছাঁটাই নিয়ে ক্রমশ জটিলতা বাড়ছে আসানসোলে। কোম্পানি থেকে ২৯জনকে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকে অনশন শুরু করেছেন ছাঁটাই হওয়া নিরাপত্তারক্ষীরা।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের ক্ষেত্রে আজকের দিনটা শুভ। কর্মক্ষেত্রে আজ শুভ। শরীর-স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। লটারি, শেয়ার ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮০২- ফরাসি লেখক ভিক্টর হুগোর জন্ম
১৯০৮- লেখিকা লীলা মজুমদারের জন্ম
১৯৩১- স্বাধীনতা সংগ্রামী চন্দ্রশেখর আজাদের মৃত্যু
১৯৩৬- চিত্র পরিচালক মনমোহন দেশাইয়ের জন্ম
২০১২- কিংবদন্তি ফুটবলার শৈলেন মান্নার মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৮৯ টাকা ৭২.৫৯ টাকা
পাউন্ড ৯১.৫৯ টাকা ৯৪.৮৮ টাকা
ইউরো ৭৬.৪৯ টাকা ৭৯.৪১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৩,১৬০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪০,৯৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪১,৫৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৭,৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, (ফাল্গুন শুক্লপক্ষ) চতুর্থী অহোরাত্র। রেবতী ৪৭/৪০ রাত্রি ১/৮। সূ উ ৬/৪/১৪, অ ৫/৩৫/২, অমৃতযোগ রাত্রি ১/৫ গতে ৩/৩৫ বারবেলা ২/৪২ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৪৯ গতে ১/৩৫ মধ্যে। 
১৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, চতুর্থী, রেবতী ৪২/২৩/২২ রাত্রি ১১/৪/৩৪। সূ উ ৬/৭/১৩, অ ৫/৩৪/৯। অমৃতযোগ দিবা ১/০ গতে ৩/২৮ মধ্যে। কালবেলা ২/৪২/২৫ গতে ৪/৮/১৭ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৫০/৪১ গতে ১/২৪/৪৯ মধ্যে। 
২ রজব 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এসএসকেএম থেকে ছাড়া পেল পোলবা দুর্ঘটনায় জখম দিব্যাংশ ভকত 

07:08:00 PM

দিল্লি হিংসার ঘটনায় দুটি সিট গঠন করল ক্রাইম ব্রাঞ্চ 

06:49:02 PM

১৪৩ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

04:08:26 PM

জলপাইগুড়িতে ২১০ কেজি গাঁজা সহ ধৃত ৩ 

03:39:45 PM

পুরভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে হবে, রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে নির্দেশ রাজ্যপাল 
পুরভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। এরমধ্যেই রাজ্য ...বিশদ

01:25:00 PM

লেকটাউনে নির্মীয়মাণ বিল্ডিং থেকে পড়ে মৃত শ্রমিক 

01:10:00 PM