Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

ফিরে দেখা
শুচিস্মিতা দেব

গাড়িটা পিজি হাসপাতালের মোড় ঘুরে বিদ্যাসাগর সেতুর দিকে মুখ করে দাঁড়ায়। সামনের সিটে বসা সুমন জানলা দিয়ে ঝুঁকে ফুটপাতের এমাথা থেকে ওমাথা চোখ বুলিয়ে নিরাশভাবে বলে, ‘কই! ব্যাটাকে তো দেখা যাচ্ছে না!’ বলার সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় দেখা গেল ছুটতে ছুটতে আসছে অনীক। চটপট দরজা খুলে উঠে পড়ে পিছনের সিটে, ছুটে আসার পরিশ্রমে বড় বড় শ্বাস ছেড়ে সিটে শরীর এলিয়ে দেয় অনীক, তারপর বলে, ‘উঃ! এক্সাইডের মোড়ে কী জ্যাম মাইরি! রাস্তাই ক্রস করতে পারছিলাম না!’
সুমন এবার ভাড়া গাড়ির চালককে তাড়ার ভঙ্গিতে বলে, ‘ছেড়ে দিন গাড়ি। এখানে দাঁড়ালে পুলিসের নজর পড়তে পারে।’
অনীক তার পাশে বসা প্রণবকে দেখে নিশ্চিন্ত হাসি হাসে, ‘যাক! শেষ অবধি আমাদের বার্ষিক মিলনোৎসবটি বাস্তবায়িত হল! যা গ্যাঁড়াকলে পড়েছিলাম! পরশু থেকে বুক ফেয়ার... অনেকগুলো নতুন বই বেরুবে... ছোটাছুটি চলছে!’
প্রণব বিরক্তভাবে বলে, ‘তার মধ্যে ছোটাছুটি করে আসার কী দরকার ছিল? কতবার বললাম, বাড়ি থেকে তোকে পিক-আপ করে নেব, রাজিই হলি না!’
অনীক আনমনাভাবে বলে, ‘আসলে মেট্রো চড়ার শখ হল, কতদিন চড়িনি।’
সুমন সামনের এগিয়ে আসা সর্পিল ফ্লাই-ওভারের দিকে চোখ রেখে বলল, ‘লোকেরা তোকে চিনতে পারে? নিশ্চয়ই অটোগ্রাফ চায়? সত্যি তোর জন্য গর্বে আমাদের বুক ভরে ওঠে। আমাদের সেই নাকু আজ এত বড় লেখক!’ অনীকের লম্বা নাক আর নামের মিশেলে বন্ধুদের এই দুষ্টুমির নামটি শুনে হেসে ফেলে সকলে। গাড়ি স্পিড তোলে, এবার প্রণব বলে, ‘তাহলে বন্ধুগণ, নিয়মমাফিক আমাদের সেলফোনগুলো আমরা বন্ধ করে দিই?’ প্রণবের কথার লেজ ধরে অনীক কেমন গাঢ় গলায় বলে, ‘ও ইয়েস, লেটস গেট কাট অব ফ্রম দি ওয়ার্ল্ড! তারপর শৈশবের সোনালি দিনগুলোতে ডুব মারব তিনজনে।’ বড্ড গাঢ় হয়ে আসে অনীকের গলা, অন্য দু’জনকেও বুঝি ছুঁয়ে যায় মন কেমন করা মায়া...
একটু যেন আনমনা হয়ে পড়ে তিনজন, নিজেদের ফোনগুলিকে অফ করে দেয় আঙুলের চাপে এক এক করে। ব্রিজের নীচে আলসেমির চাদর মুড়ি দিয়ে পড়ে আছে গঙ্গা, খোলা জানলা পেয়ে হু হু করে বাতাস এসে এলোমেলো ঝাপ্টা মারে তিনজনের চোখে-মুখে, স্মৃতিতে...
এটা তিন বন্ধুর একটা খেলা। গত পাঁচ বছর ধরে চলছে। তিন বাল্যবন্ধু বছরে একদিন একসঙ্গে বেরিয়ে পড়ে। সারা দিনটা কাটায় নিজেদের সুখ-দুঃখের রোমন্থনে। বউ-বাচ্চাদের ফেলে, জগৎ-সংসার থেকে বিমুক্ত হয়ে নতুন নতুন ঠিকানায় পৌঁছে যায় ছেলেবেলার একাত্মতায় ভর করে। সুমন লন্ডন থেকে তার কর্পোরেট কর্তার ঝকঝকে পরিচয় ছুঁড়ে ফেলে ছুটে আসে, প্রণব ত্যাগ করে আসে তার ব্যারিস্টারি গাম্ভীর্য। এদের মধ্যে সফলতম অনীক সেনগুপ্ত... বাংলার লোকপ্রিয় লেখক, তার যশের মুকুটটি সেদিন নামিয়ে রেখে খোলা হাওয়ায় ভেসে যায়।
‘আজ আমাদের ঠেকটা কোথায়?’ সুমন জানতে চায়। এই কর্মকাণ্ডের হোতা হল প্রণব। সে তার বিশাল ক্লায়েন্ট গোষ্ঠীর আনুকূল্যে প্রতিবছর বাগানবাড়ি বা রিসর্ট বুক করে রাখে। প্রণব বেশ গর্বভরে বলে, ‘খুব পছন্দ হবে তোদের বাগানবাড়িটা। এক ঘণ্টা বড়জোর লাগবে। মিঃ আগরওয়ালের ব্যবস্থা চমৎকার, কুকটাও নাকি লা জবাব...’
বাংলোটা সত্যিই সুন্দর। পরিপাটি ব্যবস্থা। সাজানো ড্রয়িং রুম, হাত-পা ছড়িয়ে বসতেই গরম গরম ফুলকো লুচি আর আলুর দম হাজির। সুমন তার ঢাউশ ব্যাগটি খুলে স্কচের বোতল বার করতেই সেটির সদ্ব্যবহারে তৎপর হয় তিন বন্ধু। আড্ডা শুরু হয়। এই তিন বন্ধুর শৈশব কেটেছে ভবানীপুরে। পাড়ার রাস্তায় ক্রিকেট বল পেঁদিয়ে... আদি গঙ্গায় ঝাঁপাঝাঁপি করে! স্কুলের বাঁদরামি করে কানমলা খেয়েছে একসঙ্গে... ইন্দিরা সিনেমা হলের লাইনে মেয়েদের পিছনে লেগে তর তর করে বড় হয়েছে তিনজনে। ক্রমশ বেলা গড়ায়... জীবনের খুঁটিনাটি বোঝাপড়া, আনন্দ দুঃখ ফেনিল ধারায় বহমান হতে থাকে। বছরের এই একটা দিন যে কেন আজও এমন অমূল্য রয়ে গেছে তাদের কাছে, আরও একবার সেকথা উপলব্ধি করে তারা। শীতের দুপুর এবার বিদায়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। রোদ ম্লান মেদুর। ওরা বসে আছে লনে, সামনে শান্ত মেয়েটির সৌজন্যে ধীর প্রবাহিতা গঙ্গা। চায়ে চুমুক দেয় সুমন, ‘দারুণ কাটল বল দিনটা?’
নদীটির মতো শান্ত মুখে অনীক হঠাৎ বলে, ‘আজ যাবার আগে তোদের কিছু কথা আমি বলতে চাই।’
কী ছিল অনীকের কথাটিতে? সুমন ও প্রণব কেন যে এমন ত্রস্ত হয়ে ওঠে? বড্ড যেন নিথর দৃষ্টি তাদের লেখক বন্ধুর চোখ দুটিতে... যেন সে তার পারিপার্শ্বিক থেকে চলে গেছে অনেক দূরে।
‘সুমন-প্রণব, তোরা আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলিস, কিংবা বলব, এখনও আছিস। তোরা কী কোনও দিনই টের পাসনি যে আমি তোদের ভালোবাসার পাশাপাশি তোদের হিংসাও করতাম? হয়তো টের পাসনি, কারণ আমি খুব সাবধান ছিলাম সে বিষয়ে। তোদের দু’জনের সঙ্গে আমার অবস্থার আকাশ-পাতাল ফারাক ছিল। আমার বয়স যখন পাঁচ বোন অনিতার বয়স তিন... আমাদের বাবা-মা দু’জনে এক সঙ্গে আত্মহত্যা করেন। সম্ভবত ঋণশোধ করতে না পারার দরুন। মামা বাড়ির হেফাজতে বাচ্চা দুটিকে ফেলে রেখে তারা কেটে পড়লেন। মামারবাড়িতে ফাই-ফরমাস খেটে বড় হতে থাকি আমরা...’
প্রণব হাত তুলে প্রসঙ্গটির সমাপ্তি টানতে চায়, ‘এসবই আমাদের জানা... পাস্ট ইজ পাস্ট... কে এসব মনে রেখেছে বল তো? তুই এখন বাংলাদেশের, আমাদের গর্ব!’
অনীক কেমন তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে, ‘হাঃ! গর্ব! প্রণব তোদের ছিমছাম দোতলা বাড়িটা কী সুন্দর ছিল! তোর বাবা ব্যারিস্টার প্রমথ মুখার্জির সোনালি নেমপ্লেট! তুই ছিলি আদরের ধন কুলপ্রদীপ পুত্র, বাপ-মায়ের বুকের পাঁজর। টলটলে ভালোবাসার সংসার ছিল তোদের। আমার ভীষণ লোভ হতো অমন একটা সংসারের জন্য... বাবা-মায়ের জন্য!’
সুমন বিরক্তভাবে বলে, ‘আজ এত বছর পর কেন যে তুই পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটতে বসলি! এটা স্বাভাবিকই ছিল অনীক, ঈর্ষা হতেই পারে।’ অনীক সুমনের দিকে তাকায়, ‘তোরা তো জমিদার ছিলিস। গঙ্গার গা ঘেঁষে তোদের বাড়িটাকে আমরা বলতাম রাজবাড়ি। ঠাকুর-চাকরে ঠাসা জমজমাট সংসার ছিল তোদের, জন্মদিনে ফ্লুরিসের কেক, রবিবারে পার্ক স্ট্রিটে লাঞ্চ! কিন্তু তোরা দু’জনেই অনাথ হাঘরে আমাকে বুঝতে দিসনি তফাতটা... বিন্দুমাত্র অহংকার ছিল না তোদের!’
রোদে তেজ মরে এল, সুমন উসখুস করে, ‘নে এবার থাম। ফিরতে হবে তো!’
‘হ্যাঁ! ফিরতে হবে, তাই বলতেও হবে। শুনে নে। তখন আমরা ক্লাস টেন, তোরা সাইন্স, আমি আর্টস! আমাদের বাড়ির রকে ক্যারাম খেলার ঠেক ছিল। সেখানে আমার বোন অনিতা আর ওর বন্ধু সুন্দরী মিতাও এসে জুটত। লক্ষ করলাম, তোরা ওদের দেখলে চঞ্চল হয়ে উঠিস... তোদের চারজনের মধ্যে একটা গোপন স্রোত বইতে দেখলাম...’
‘প্লিস, তুই থাম—’ সুমন বাধা দেয়।
অনীক কিন্তু থামে না। ‘আমার হিংসা দাউদাউ করে জ্বলে উঠল জানিস? প্রণব, তোর অনিতাকে পছন্দ করাতে আমার খুশি হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু হইনি। মিতা আর সুমনের দৃষ্টি বিনিময়ের গভীরতা আমাকে জ্বালাত! আমি গরিব, আমি সুন্দর নই, আমার কোনও প্রেমিকা জুটবে না। শালা, ভগবান আবার তোদের জিতিয়ে দেবেন? নো! নেভার!’
অনীক নিজের আঙুলগুলি নিয়ে খেলা করতে করতে স্বগতোক্তির মতো বলে, ‘মিতাকে যে আমারও দারুণ পছন্দ ছিল! সুন্দরী, দারুণ গান গায়। কিন্তু সুমনের মতো শাঁসাল পার্টি ফেলে আমার মতো ফেকলুকে সে কেনই বা পাত্তা দেবে? এইসময়, প্রথমবার ভগবান আমার দিকে মুখ তুলে চাইলেন। সুমন, তোর বাবা লন্ডনে চাকরি সূত্রে সপরিবার চলে যাওয়া মনস্থ করলেন। বন্ধু বিচ্ছেদের বেদনা নয়, প্রবল আনন্দ হল আমার। আমার পথের কাঁটা দূর হবে এবার।’
নিজের মনেই হেসে উঠে অনীক বলে, ‘কিন্তু কী কপাল! সুমন চলে যাবে জেনে মিতা ভেঙে পড়ল খুব। সুমনকে চিঠি লিখল একটা। অনিতা সেই চিঠি সুমনের কাছে পৌঁছবার ভার দিল আমায়।’ সুমন চমকে যায়। ‘মিতা আমাকে চিঠি লিখেছিল?’
‘লিখেছিল, কিন্তু তোর কাছে পৌঁছল না। আমি সেটা কুটি কুটি করে ছিঁড়ে গঙ্গার জলে ভাসিয়ে দিলাম তো! মিতা জানল, সুমনই চিঠিটা ফেলে দিয়েছে। সুমনের এই প্রেমের খেলা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে অন্তরায়!
‘আমাদের হায়ার সেকেন্ডারি তখন শিয়রে, রকের আড্ডা ভেঙে দিলাম। সুমন তুই মিতার কথা মাঝে মাঝে তুলতিস, আমি তোকে বলেছিলাম মিতাদের রক্ষণশীল পরিবারের বিধি-নিষেধের কথা। ফোনও ছিল না ওদের, আর তুই মানুষটা তো চিরকাল ভদ্র আর মুখচোরা!’
সুমন এখন সিগারেট খায় না, ফস করে সে প্রণবের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট তুলে ধরায়। ‘তার মানে মিতা সারাজীবন আমাকে একটা ফ্লাট ভাবল?’ ‘চিন্তা করিস না। সুমনদার প্রতি অবিচল আস্থায় বড় একটা ছেদ বোধহয় পড়েনি মিতার। তোর চিরকুমার স্টেটাসটাও ওকে গভীরে কোথাও সান্ত্বনা জুগিয়েছে।’
বলে চলে অনীক, ‘মিতাকে কায়দা করে অজগরের মতো পাকে পাকে জড়িয়ে ধরলাম, ক্ষতস্থানে প্রলেপ লাগিয়ে যখন বেশ বশ করে আনছি, তখন দেখি অনিতা আর প্রণব গল্পে মশগুল রাস্তার ধারে। অনিতা জানে মিতার প্রেমপত্রের কথা, ভবিষ্যতে প্রণবকে যদি বলে দেয় সে কথা? শয়তানের মগজ বলল, অনিতার সঙ্গে প্রণবের প্রেম-বিয়ে আমার ভবিষ্যতের জন্য ডেঞ্জারাস। আমি সিধা চলে গেলাম প্রণবের মায়ের কাছে।’
প্রণব এবার অঙ্ক মেলানোর ভঙ্গিতে বলে, ‘তুই মাকে বলেছিলিস অনিতার শরীরে বড় রকম মেয়েলি প্রবলেম আছে, ও কোনও দিন মা হতে পারবে না। মায়ের সে কী কান্না, বংশলোপের আশঙ্কা! শেষ পর্যন্ত মাকে আমি কথা দিলাম, অনিতার সঙ্গে আর দেখা করিনি।’
অনীক মাথা নাড়ে। ‘হ্যাঁ! অনিতা আর মিতাকে আমি শান্তিনিকেতনে পড়তে রাজি করালাম। মামাবাড়ি ছেড়ে কলেজ স্ট্রিটের মেসে চলে গেলাম। অনিতা বিএ পাশ করে একটি জাপানি ক্লাসমেটকে বিয়ে করে চলে গেল জাপানে। দুটি মেয়ে নিয়ে সুখেই আছে।’
প্রণব বিষণ্ণ দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে বলে, ‘মাকে তুই মিথ্যে বলেছিলি!’
‘উপায় ছিল না যে! ভগবানের অবিচারের সঙ্গে লড়াই চলছে! নিজের ভাগ্য নিজে গড়ব। মিতা কলাভবনেই পড়াত। বাড়ির অমতে আমায় বিয়ে করল বলে বাপের বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক থাকল না। আমি লেখালেখির জগতে পা দিলাম, একটু একটু করে নাম হল, তোদের সঙ্গে আবার যোগাযোগও হল, মনে হল এবার আমি জিতে গেছি।’
শীতের কুয়াশা কেমন অস্পষ্ট করে দিচ্ছে তিন বন্ধুকে। তারা বসে আছে তিনটি স্থির মূর্তি! ‘ভেবেছিলাম জিতে গেছি, কিন্তু নাঃ! জিতলাম কোথায়?
শান্তিই তো পেলাম না। বিবেকের কাছে জবাবদিহি চলছে সারাজীবন। মিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিলনের মুহূর্তে মনে হতো আমাদের মধ্যে সুমন রয়ে গেছে। বাচ্চাও হল না একটা! হিংসার জ্বালায় যাদের এত ভালোবাসি তাদের সকলকে কষ্ট দিলাম। তোরা আমায় ক্ষমা করে দিস প্লিস—’ নিজের হাতের পাতায় মুখ ঢাকে অনীক। ফেরার পথে তিন বন্ধুই গাড়িতে বসে আছে নির্বাক। তিনজনই ডুবে আছে নিজেদের ভাবনায়। সুমন আর প্রণবের মনে হচ্ছে, সন্দেহের জট খুলে গেল এতদিনে! এবারের মেমরি ট্রিপটায় জীবনটাকে আগাগোড়া অন্যভাবে ফিরে দেখা হল যেন!
গাড়িটা রবীন্দ্র সদনকে সামনে রেখে দাঁড়ায়। অনীক নেমে বলে, ‘আজ বড় শান্তি হল রে। এবার মোবাইলগুলো অন করে দে। চলি।’ হাত নেড়ে ভিড়ের মধ্যে চকিতে অদৃশ্য হল অনীক।
সত্যিই তো! মোবাইলগুলোও অফ রয়ে গেছে। গাড়িটা ডানদিকে মোড় নেয়। অন্যমনস্কভাবে মোবাইল অন করে চমকে যায় প্রণব! প্রচুর মিসড কল! বউ চুমকিরই বেশি! বুকটা কেঁপে ওঠে প্রণবের। তাড়াতাড়ি চুমকিকে ফোন লাগায়। ফোনে শোনে চুমকির কান্না, ‘কতবার বলেছি ফোন অফ করে এভাবে যেও না তোমরা। একবার খোঁজও নিলে না সে কেন এল না? কেমন মানুষ তোমরা?’
‘কার কথা বলছ চুমকি?’
‘অনীকদা সকালে তোমাদের মিট করতে রাস্তা পার হতে গিয়ে এক্সাইডের মোড়ে বাসের চাকায় পিষে স্পটডেড... সারাদিন কলকাতা তোলপাড়... লোকেরা বাস পুড়িয়ে দিয়েছে... পোস্টমর্টেম হল... নন্দনে খানিকক্ষণ বডি ছিল... আমি মিতার সঙ্গে আছি। এখন আমরা পিজি হাসপাতালের সামনে দিয়ে ক্যাওড়াতলা শ্মশানের দিকে যাচ্ছি... তোমরা কোথায়?’
প্রণবের হাত থেকে সেলফোনটা খসে পড়ে। জ্ঞান হারাবার আগের মুহূর্তে সে দেখতে পায় কাচে মোড়া ফুলে ঢাকা শববাহী গাড়িটা চলেছে ঠিক তাদের সামনে সামনে।
অলংকরণ : সুব্রত মাজী
24th  February, 2019
পুণ্য ভূমির পুণ্য ধুলোয়
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

ব্রিটিশ আমলে এখানকার শিংরৌলিতে ক্যান্টনমেন্ট হলে এর নাম হয় বেনারস ক্যান্টনমেন্ট। তবে বর্তমানে এটি স্বনামে মহিমান্বিত। ১৯৫৬ সালের ২৪ মে থেকে সরকারি আদেশ বলে বেনারস আবার বারাণসী হয়ে যায়।
বিশদ

24th  February, 2019
ছায়া আছে কায়া নেই
অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

 বহু কাল আগে সপার্ষদ মহাপ্রভু চৈতন্যদেব গঙ্গাবক্ষে নৌকাযোগে পুরী যাচ্ছিলেন। তাঁরা গঙ্গার ধারে ছোট্ট একটি চালা দেখে সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবেন বলে ঠিক করেন। ওই চালাটি ছিল ভক্ত এক ব্রাহ্মণের। গৃহকর্তার আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে মহাপ্রভু বিদায় নেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গের কাঁথাটি ব্রাহ্মণের গায়ে জড়িয়ে দেন। সেই কাঁথা আজও রয়েছে বর্তমান মঠে।
বিশদ

24th  February, 2019
বীরবল
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

এক মধ্যরাতে রাজপুতকন্যা ঘুম ভেঙে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, জাঁহাপনা, রূপমতী কে? আপনি নিদের ঘোরে ‘রূপমতী, রূপমতী’ বলে ডাকছিলেন।পাঁচ সাল হয়ে গেল বাদশা আকবরের রাজত্বকাল, হিন্দুস্থানের হরেক ভাষার সঙ্গে তাঁর পহচানা ঘটছে রোজ।
বিশদ

17th  February, 2019
ফেসবুকের ফাঁস
রমলা মুখোপাধ্যায়

 —‘জানি রে ল্যাপটপ ছাড়া জীবন একেবারে অচল, কিন্তু কী করবি বল? এখন তো বাবা-মায়ের থেকে দূরে থেকেও জীবন চালানো সম্ভব, কিন্তু ল্যাপটপ-মোবাইল ছাড়া তো ভাবাই যায় না বল!’
—‘ল্যাপটপের প্রসেসরটাই তো খারাপ হয়ে গেছে! সেটার তো অনেক দাম। মাসের মধ্যিখানে হাতে তেমন টাকাও নেই। আর এদিকে আমার তো ভালো মোবাইল সেটও নেই। নেট, ফেসবুক ছাড়া কি একটা দিনও কাটানো যায়?’ বিশদ

17th  February, 2019
বন্ধুত্ব 
তপনকুমার দাস

দীনবন্ধুর যে ক’জন বন্ধু ছিল, তাদের সবাই প্রায় হারিয়ে গেছে। কলেজবেলার পর চাকরিবেলার শুরুতেই হারানোর পালা শুরু হতে হতে সংসারবেলায় পৌঁছে একেবারে ফেড আউট হয়ে গেছিল যাবতীয় বন্ধুত্ব। একে অপরকে ভুলে যেতে যেতে একসময় গল্পের উঠোনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল সব বন্ধুত্ব।  বিশদ

10th  February, 2019
বীরবল 
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

দাসোয়ান খুদকুশি করেছেন শুনে ‌কেল্লার বাইরে বিশাল জমায়েত। মাসুদ খাঁ বলল, হুজুর, দাওনা হয়ে গিয়েছিল তসবিরওয়ালা।
দাওনা, মানে পাগল! দাসোয়ানের কথা কিছু কানে এসেছিল বীরবরের।  বিশদ

10th  February, 2019
বীরবল
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

 বাদশাহের মর্জিতেই তাকে নামানো হয়েছে লড়াইতে, কিন্তু তাকে কিছুতেই বাগ মানাতে পারছে না তার পিলবান। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে প্রতিদ্বন্দ্বী হাতিকে ছেড়ে তাড়া করল এক জওয়ান লেড়কা দর্শককে, সেই লেড়কা দ্রুত পালিয়ে ঢুকে গেল আম-আদমির ভিড়ের মধ্যে। হাতিটা তখন দূর থেকে দেখছে বীরবরের লাল বেনিয়ান পরা চেহারাটা।
বিশদ

03rd  February, 2019
বন্ধুত্ব
তপনকুমার দাস 

দীনবন্ধুর যে ক’জন বন্ধু ছিল, তাদের সবাই প্রায় হারিয়ে গেছে। কলেজবেলার পর চাকরিবেলার শুরুতেই হারানোর পালা শুরু হতে হতে সংসারবেলায় পৌঁছে একেবারে ফেড আউট হয়ে গেছিল যাবতীয় বন্ধুত্ব। একে অপরকে ভুলে যেতে যেতে একসময় গল্পের উঠোনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল সব বন্ধুত্ব।
বিশদ

03rd  February, 2019
মাঠরাখা
হামিরউদ্দিন মিদ্যা 

আলোটা ভাসতে ভাসতে আঁকড়গোড়ে, ভাড়ালগোড়ে, জিওল নালার মাঠ ঘুরে চক্কর দিয়ে মাঝের-দাঁড়ার মাঠে এসে মিলিয়ে গেল। মেঘগুলোকে নীচে ফেলে চাঁদটা অনেকটা ওপরে উঠে এসেছিল। 
বিশদ

20th  January, 2019
বীরবল
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

পর্ব ৫৪

সন্ধের নিরিবিলি সময়ে তসবিরখানা থেকে বেরিয়ে দাসোয়ান কোথায় চলেছেন কীরকম আলুথালু মুখে দেখে ধন্দে পড়লেন বীরবর।
বেশ কয়েকদিন ধরে খুব বেতাব দেখাচ্ছে তসবিওয়ালাকে। তসবিরখানায় বসে থাকেন চুপচাপ, তুলিতে রং মাখিয়েও তা খাগের কাগজে মাখাতে ভুলে যাচ্ছেন, কেউ গায়ে হাত দিয়ে নাড়া দিলে থতমত খেয়ে ঝুঁকে পড়ছেন কাগজের উপর। 
বিশদ

20th  January, 2019
কাকের বাসায় ভালোবাসা 
অমিত ভট্টাচার্য

যদিও গল্পটা পুষ্পদির মুখ থেকে পুরোপুরি শোনা হয়নি, তবে কিছুটা চাক্ষুষ দেখার সুযোগ হয়েছিল।
একদিন হঠাৎ সে হাজির হয়েছিল আমার বাড়ি। আমি তখন বাইরে।
স্ত্রীকে জিগ্যেস করে, ‘আচ্ছা বউদি, দাদা নাকি গপ্প নেকে?’
 
বিশদ

13th  January, 2019
বীরবল
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

পর্ব ৫৩

ফতেপুর সিক্রির কেল্লার উপর শামের অন্ধকার নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গেল মগরিবের নামাজ-আস্‌সালাতো খয়রুম মিনন্‌ নওম— বীরবর যাচ্ছিলেন অনুপ তালাওয়ের দিকে, নামাজের আওয়াজ কানে আসার মুহূর্তে থেমে রইলেন যেখানে ছিলেন।  
বিশদ

13th  January, 2019
ছবি ও অস্কার গল্প
ঋষি গৌতম

ছবি ও অস্কা দুই বন্ধু। অস্কা ভাবুক। সে আকাশ-পাতাল অনেক কিছু ভেবে দেখে। ছবি অতশত ভাবে না। কী নিয়ে যে ভাববে সেটাই ভেবে পায় না। কিন্তু অস্কা ভাবে। অনেক রাতে আকাশে চাঁদ দেখলে অস্কার মনে হয় একখানা জিরো পাওয়ারের টুনিবাল্ব জ্বলছে। ভগবান সেই টুনিবাল্ব জ্বেলে ঘুমোচ্ছে।  
বিশদ

06th  January, 2019
বীরবল 
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

পর্ব ৫২

সুবাহ্‌ কাল বাদশা আকবরের পছন্দের সময়। ফজরের আলো ফোটার আগে তিনি অলিন্দে গিয়ে ইন্তেজার করেন কখন আসমানের পুব কোণে উদয় হবে সূর্যের। আজও অপেক্ষা করছিলেন, অপেক্ষার শেষে চোখ মেলে দেখলেন লাল সূর্যের লাফিয়ে দিগন্তের সীমানা পার হয়ে উঠে আসা।
বিশদ

06th  January, 2019
একনজরে
 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

 দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, হাওড়া: আমতা ব্রিজ থেকে ঝিকিরা পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগ নিল পূর্ত দপ্তর। এখন এই রাস্তাটি অত্যন্ত অপরিসর ও খারাপ অবস্থায় আছে। ফলে লোকজনের যথেষ্ট ভোগান্তি হচ্ছে। এই অবস্থায় এই রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য পূর্ত দপ্তরের কাছে ...

 আবুজা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (এএফপি): নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন চলাকালীন হিংসায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৩৯ জন। সোমবার এমনই দাবি করল নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সামাজিক সংগঠন, ‘দ্য সিচ্যুয়েশন রুম’। এর অধীনে ৭০টিও বেশি সংস্থা কাজ করে। ...

সুকান্ত বসু, কলকাতা: জেলে অসাধু উপায়ে মোবাইল এবং সিম কার্ডের অনুপ্রবেশ রুখতে এবার কারারক্ষীদেরই একটি বিশেষ টিমকে সংশোধনাগারের বাইরে তিনটি শিফটে নজরদারি চালানোর কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। কারা দপ্তর সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রতিটি সংশোধনাগারে একই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। প্রয়োজনে স্থানীয় ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শিক্ষার জন্য দূরে কোথাও যেতে পারেন। প্রেম-প্রণয়ে নতুন যোগাযোগ হবে। বিবাহের কথাবার্তাও পাকা হতে পারে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮০২: ফরাসি লেখক ভিক্টর হুগোর জন্ম
১৯০৮: লেখিকা লীলা মজুমদারের জন্ম
১৯৩৬: চিত্র পরিচালক মনমোহন দেশাইয়ের জন্ম 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.১৯ টাকা ৭১.৮৯ টাকা
পাউন্ড ৯১.২৫ টাকা ৯৪.৫৪ টাকা
ইউরো ৭৯.১৪ টাকা ৮২.১৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৮৯০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩২,১৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,৬৩৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৩ ফাল্গুন ১৪২৫, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার, অষ্টমী ৫৮/১০ শেষ রাত্রি ৫/২১। অনুরাধা নক্ষত্র ৪২/২৬ রাত্রি ১১/৩। সূ উ ৬/৪/৫০, অ ৫/৩৪/৪০, অমৃতযোগ দিবা ৮/২২ গতে ১০/৪২ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৮ গতে ২/২৯ মধ্যে পুনঃ ৩/১৫ গতে ৪/৪৭ মধ্যে। রাত্রি ৬/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৪ গতে ১১/২৫ মধ্যে পুনঃ ১/৫৫ গতে ৩/৩৫ মধ্যে, বারবেলা ৭/৩২ গতে ৮/৫৮ মধ্যে পুনঃ ১/১৬ গতে ২/৪২ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৮ গতে ৮/৪২ মধ্যে।
১৩ ফাল্গুন ১৪২৫, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার, সপ্তমী ১০/১৪/২৯। অনুরাধানক্ষত্র রাত্রি ৩/৫৪/২৩, সূ উ ৬/৬/৫, অ ৫/৩৩/১, অমৃতযোগ দিবা ৮/২৩/৫৮ থেকে ১০/৪০/৫১ মধ্যে ও ১২/৫৪/১৫ থেকে ২/২৯/৫০ মধ্যে ও ৩/১৫/৩৮ থেকে ৪/৪৭/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/২৩/১৩ মধ্যে ও ৮/৫৩/৫০ থেকে ১১/২৪/২৭ মধ্যে ও ১/৪৫/৪ থেকে ৩/৩৫/২৮ মধ্যে, বারবেলা ৭/৩১/৫৭ থেকে ৮/৫৭/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ১/১৫/২৫ থেকে ২/৪১/১৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৭/৯ থেকে ৮/৪১/১৭ মধ্যে। 
২০ জমাদিয়স সানি
এই মুহূর্তে
আজকের রাশিফল  
মেষ: প্রেম-প্রণয়ে নতুন যোগাযোগ হবে। বৃষ: মামলা-মোকদ্দমায় জয় লাভ। মিথুন: বয়স্ক ...বিশদ

07:11:04 PM

ইতিহাসে আজকের দিন  
১৮০২: ফরাসি লেখক ভিক্টর হুগোর জন্ম১৯০৮: লেখিকা লীলা মজুমদারের জন্ম১৯৩৬: ...বিশদ

07:03:20 PM

ফের সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন পাকিস্তানের  
আজ বিকাল ৫.৩০টা নাগাদ জম্মু ও কাশ্মীরের নৌসেরা, কৃষ্ণঘাঁটি ও ...বিশদ

06:26:29 PM

উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম দিনেই মোবাইল সহ ধরা পড়ল ৫ জন, বাতিল রেজিস্ট্রেশন 

05:04:13 PM

২৪০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:51:20 PM

যে কোনও পরিস্থিতির জন্য সেনা এবং দেশবাসীকে তৈরি থাকতে বললেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান  

03:45:06 PM