Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

দুর্গার দয়ামায়া

প্রদীপ আচার্য : ‘এটা তুমি কী কল্লা দুগ্গা? কোথায় ব্যাকগিয়ার মারবা, তা না, গাড়ি একেবারে টপগিয়ারে! এখন মাঝপথে বেরেক ফেল হলে তুমি পারবা সামলাতে? আমার নিজেরই পান্তায় নুন জোটে না। সেই আমার মা বলে না? আপনা নাই জাগা, কুত্তা আনে বাঘা। জাগা নেই, বাসা নাই। একটা ঘরের মধ্যে শোয়াবো কোথায় আর গেলাবোই বা কী?’
দুর্গা কথা বাড়ায় না। সে জানে, তার সোয়ামি শিবনাথ মানুষটা যেমন ঘাড়তেড়া, তেমনি গোঁয়ার-গোবিন্দ। কিন্তু এখন শিবনাথের রাগের কারণ আছে। রাগ হওয়ারই কথা। দুর্গা তাই শিবনাথের হাত ধরে হেঁচকা টানে নিয়ে গেল তফাতে। চাপা গলায় বলল, ‘দোহাই তোমার, মাথা গরম কোরো না।’ শিবনাথ ঝাঁঝিয়ে উঠল। বলল, ‘মাথা কি আর অমনি গরম হয়? মানছি বাবা তিন ভায়েরই বাবা। তা দুই দাদা, তারা জানে না আমার অবস্থা? জেনেশুনে বাবাকে আমার ঘাড়ে গ্যারেজ করার পেলান করে এসেছে। তাই মোবেলে অত ফোনের ঘটা। তুই একবার দুগ্গাকে নিয়ে অবশ্যই আসবি হাসপাতালে। নাও এখন হাঁড়িকাঠে গলা দাও।’
‘বাবার দায় নেয়া কি হাঁড়িকাঠে গলা দেয়া?’
‘হ্যাঁ তাই। আমার রোজগার কম। একটা ঘর। নিজেরই ভালো মতো চলে না।’
‘দাদারা তো বলল, তারাও মাসে মাসে টাকা দেবে।’
‘আমড়ার আঁটি দেবে, বুঝলে? মাস গেলে দেখবা টাফিক পুলিসের হাতে সেই দু’টাকার কয়েন গুঁজে দিয়ে রং-রুটে ধা হয়ে যাচ্ছে। তোমাকে হাসপাতালে আনাটাই ভুল হয়েছে আমার। এরজন্য আমি কাজে কামাই দিলাম। এমনিতেই একদিনের রোজ কাটা যাবে। তার ওপর আগ বাড়িয়ে বাবার ঝামেলা ঘাড়ে নিয়ে বসলে।’
‘আমি কেন নিলাম, তা তুমি বুঝবে না।’
‘না বুঝবে না। সস্তার পোচার। হুম, বাওয়া, সব বুঝি। যে শুনবে, সে-ই বলবে, দেখো দুগ্গার কত বড় মন।’
‘তা কী কত্তাম?’
‘দেখলে না? দেখে শেখো। বড় বউদি কেমন মাদুরি দিককিতের মতো চোখের জলের বান ডাকাচ্ছিল! দেখো গো, শ্বশুরের জন্য দরদে আমার বুকখান ফেটে যাচ্ছে গো।’
‘তা অন্দবাবা কি তার কান্না দেখতে পেল যে বলছো?’
‘বাবাকে দেখাতে ভারী বয়ে গেছে। উনি দেখাচ্ছেন আমাদের। আর বাবা তো কানের মাথা খায়নি। বড় বউয়ের নাক ফ্যান্দানি শুনতে তো পেল। ওবিনয়। বুঝলে ওবিনয় জানতে হয়। যাকে বলে অ্যাকটিন। দেখলে না? মেজ বউদির চোখ দুটো? কচলে কচলে কেমন করে রেখেছে? যেন কালোজামে কেউ কামড় বসিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। চোখের সাগর শুকিয়ে গেছে। আর তুমি সেখানে মাদুগ্গা হয়ে সবার দুগগতি নাশ কল্লা। মেজদা যে অন্দবাবাকে ঘাড় থেকে নামাতেই ধরাকরা করে বাবাকে হাসপাতলে ভর্তি করিয়েচে, তা তো পোমান হল। নইলে বাবার এমন মোওয়ামারী জ্বরজারি কিছু হয়নি। ডাক্তার ডেকে বাড়িতেই চিকিৎসে করা যেত।’
দুর্গা এবার শিবনাথের জামার কলার খামচে ধরল। একটা মৃদু হাই তুলে বলল, ‘এই শোন আমাকে এককাপ চা খাওয়াবা লক্ষ্মীটি। সঙ্গে একটা বিশকুটও খাব।’ দুর্গার আদুরে আবদার শুনে শিবনাথের রাগ গলে জল। তার মন বলে ওঠে, ‘লে হালুয়া! এ তো দেখছি, বাস একেবারে বাইপাসে!’ আশ্চর্য! দুর্গা জাদুটোনা জানে।
হাসপাতালের গেটের কাছে একটা চায়ের দোকানের ধারে গিয়ে দাঁড়াল দুর্গা আর শিবনাথ। চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে শিবনাথ বলল, ‘দুগ্গা, আমি ভেবে দেখলাম কাজটা তুমি ঠিকই করেচো। আমিও যখন বাবারই ছেলে, তখন যত কষ্টই হোক, আমার দায় এড়িয়ে যাওয়াটা ঠিক না।’
—‘আম্মো তো তাই বলি। বাবা তো বড়দার কাছেই ছিল। চোখের গোলমাল শুরু হওয়ার পরেই তো মেজদা নিয়ে গেল বাবাকে। এখন তুমি না বললে চলে? লক্ষ্মীটি তুমি ভেবো না। আমি ঠিক চালিয়ে নেবখন।’ শিবনাথ বলল, ‘জানো দুগ্গা, আমিই বাবার সবচে আদরের ছিলাম। পাঁচ বছর বয়স পোজ্জন্ত বাবা আমাকে কোলে কাঁধে নিয়ে ঘুরেছে। মা বলল, ধেড়ে ছেলেকে নামাও কোল থেকে। ছেলেকে বেশি আশকারা দিয়ে মাতায় তুলছো। দেখবে, একদিন এই ছেলেই তোমার মাথায় উটে কেমন নেত্য করে। তা মিত্তে বলব না, মাতায় উটে নেত্য করিনি ঠিকই, কিন্তু বাবাকে আমি শালা কম জ্বালাইনি। বাবার পকেট কেটেছি। গাঁজা, মদ, ভাঙ কী না করেছি। গুন্ডা মাস্তানদের দলে ভিড়ে গেসলাম। থানা, পুলিসের হ্যাপা কম যায়নি বাবার ওপর দে। তবু বাবা আমার তেজ্জো করেনি। বাবা বলত, সময় থাকতে থাকতে ডাইবারের সিটে পেছন ঠেকা। দাদারা ঠেকাল। ডাইবার বনে গেল। আমি শুনলাম না। বেকার বোকাপাঁঠা হয়ে তোমায় বিয়ে করে হলাম বাসের কন্ডাকটার। অল্প রোজগার। বাবা তাও মেনে নিল। শুধু দাদারা পেছন থেকে কাঠি করল। তাই আমাকে বাড়ি ছাড়তে হল। তারপর তো মেজদা সাত্থোপরের মতো কেটে পড়ল বাড়ি থেকে। বাবাকে অবশ্য দু’তিন বছর রেখেছে মেজদা। এখন আমার সাত্থোপর হওয়া সাজে না। বাপের শেষ বয়সে না হয় একটু সেবাযত্ন করলাম। নিজেরই তো বাবা। তাও অন্দ।’
শিবনাথ চা শেষ করে ভাঁড়টাকে টিপ করে ছুঁড়ে দিল এঁটো ভাঁড়ের ঝুড়ির ভেতর। নিমপাতা গেলার মতো মুখটাকে বিকৃত করে বলল, ‘একটা ফালতু অ্যাকসিডেনে পাবলিকের পেদানি খেয়ে অন্দই হয়ে গেল বাবা। শালার পাবলিকের কোনও জাত আছে? আম্মো তো শালা পাবলিকের পেদানি খেতে খেতে বেঁচে গেলাম। সেই সেবার, শ্যালদার ফ্লাইওবারের ওপর বাচ্চুদা একটা লোককে ধাক্কা মেরেই ধা। পাবলিক ধরল আমাকে। ধর ধর, মার শালাকে... । আমি কাঁধে পয়সার ব্যাগ নিয়ে ছুটছি। পেছনে ছুটছে পাবলিক। সামনের বাসটায় কোনও মতে উঠে পড়তে পারলে বেঁচে যাব। বাসের পেছন পেছন ছুটছি আমি। সামনের বাসের পাবলিক তখন আমার সাপোটার। তারা চিৎকার করে আমাকে এন্থু দিচ্ছে। জোরে আরও জোরে দাদা... শেষ পোজ্জন্ত ওই বাসের কন্ডাকটার আমায় টেনে তুলে নিল বাসে। আমি বেঁচে গেলাম। কেমন মজা দেখো দুগ্গা, একই পাবলিক একই কেসে কেমন দু’ভাগ হয়ে গেল।’
দুর্গা সালোয়ারের দোপাট্টা দিয়ে কপালের ঘাম মুছে নিয়ে বলল, ‘যাগগে, তুমি ওসব পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটো না। আমি বলি কী, ডাক্তার ভিজিটে এলেই তো বাবাকে ছেড়ে দেবে। তুমি বরং কাজে যাও। হাফ বেলা কাজ করোগে। আমি ঠিক বাবাকে নিয়ে বাড়ি চলে যাব।’ শিবনাথ বলল, ‘কিন্তু, দুগ্গা, আমি ভাবছি অন্য কথা।’
—‘কী কথা?’
—‘বাবাকে না হয় নিয়ে গেলে। কিন্তু বাবাকে শোয়াবা কোথায়? খাট তো আমাদের একটা।’
—‘সে আমি ভেবে রেখেছি। আমাদের বাড়িতে একটা কেমখাট আছে। সেটা নিয়ে আসব।’
—‘এই রোদ্দুরে বাবাকে নিয়ে অদ্দূর ঠ্যাঙাবা নাকি?’
—‘তা কেন? বাবাকে কোথাও ছায়া দেখে বসিয়ে রেখে আমি ভ্যানে চেপে নিয়ে আসব। ও তুমি ভেবো না।’
—‘দেখো, যা ভালো বোঝো, করো। আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না।’
—‘তোমার ভেবে কাজ নেই মোশাই। তুমি বরং কাজে যাও। তোমার দুগ্গার ওপর ভরসা রাখো। ওই যে দাদা-বউদিরা এদিকেই আসছে। তুমি কিন্তু মুখে লাগাম পরাও। আমার আর অশান্তি ভালো লাগে না।’
দূর থেকে বড়দা শম্ভুনাথ গলা তুলে বলল, ‘এই যে শিবে, দুগ্গা আমরা আসছি বুঝলি? আর শিবে, তুই কিচ্ছু ভাবিস না। আমরা তো রয়েছি। বাবার মাসের খরচ বাবদ আমার আর শঙ্করের ভাগের টাকা তুই ঠিকঠাক পেয়ে যাবি।’ বড়বউদি দুর্গার চিবুক ধরে খানিক আদরের সুর টেনে বলল, ‘আর কত সুন্দর হবি তুই দুগ্গা?’ দুর্গা একরত্তি লজ্জা পেল। মেজবউদি সোমা ওদের ছাড়িয়ে একটু তফাতে গিয়ে দাঁড়াল। সে আকাশ দেখছে। সামনের হাসপাতালের বাড়িটা ক’তলা তা গোনার ভান করছে। সোমা চিরকালের অহংকারী। দেমাকে মাটিতে পা পড়ে না। সোয়ামি ভলভো বাস চালায়, সোয়ামির আয় বেশি, সেই দেমাকেই ম’লো। কথাটা দুর্গার নয়। ওদের ননদ রতুই এসব বলে। বিড়বিড় করে। রতু দুর্গাকে সবসময় বলে, যা-ই বলো ছোটবউদি, রূপে তুমি একবারে সবার মাথা কেটে দিয়ে এসেছো।
কথাটা রতু ভুল বলে না। দুর্গার রূপ নিয়ে কোনও কথা হবে না। গরিবের ঘরে গোবরে পদ্মফুল। বড় বড় টানা টানা চোখ। চোখা নাক। পাতলা দুই ঠোঁট। পানের পাতার মতো মুখমণ্ডল। চিবুকের মাঝখানে একসুতো গভীর একটা রেখা। শরীরের আরও সব বৃত্তান্তের মধ্যে গেলে দুর্গা লজ্জা পেয়ে যায়। দুর্গাকে লজ্জা পেতে দেখলে বাসের কন্ডাকটার শিবনাথের মনে কবিত্ব জাগে। তখন সে হিন্দিতে কপচাতে থাকে। বলে, ‘তোমার চেসিসটা উফ! চশমে বদদুর। পিছেসে ভি কোই দেখে তো মৌত করিব আ যায়ে।’ দুর্গা আরও লজ্জা পেয়ে বলে, ‘ধ্যাৎ, অসভ্যের বটগাছ কোথাকার।’
শ্বশুরকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরতে বেরতে প্রায় বেলা বারোটা হল। একটা পুরনো ছাল ছাড়ানো সুটকেসে শ্বশুর সুবলের গুটিকয়েক জামা-কাপড় আছে। দুর্গা একহাতে সুটকেস আর একহাতে শ্বশুরকে জুত করে ধরেছে। শিয়ালদায় এসে একটা বিস্কুটের প্যাকেট কিনল দুর্গা। ট্রেনের সিটে বসে সেই বিস্কুট কুট কুট করে খাচ্ছেন সুবল। শরীরে তাঁর অনেকদিন কোনও পালিশ পড়েনি। মাথায় পাকা চুলের জটলা। মুখের জমিনে বার্ধক্যের বলিরেখার ভিড় ঢেকে দিতে পারেনি গালের খোঁচা খোঁচা দাড়ি। গায়ের জামাটা একসময় সাদা ছিল বোঝা যায়।
সামনের বুক পকেটের একপাশটা সেলাই খুলে লাট খেয়ে ঝুলে পড়েছে। চোখ দুটো স্থির। ঘাড়টাকে ঈষৎ কাত করে স্থবিরের মতো বসে আছেন। দুর্গা একদৃষ্টে শ্বশুরকে দেখতে থাকে। ট্রেনে ভিড়। উল্টোদিকের সিটে বসেছে দুর্গা। সে থেকে থেকেই সুবলের জটধরা চুলের জটলায় আঙুল সিঁধিয়ে গুছিয়ে দিচ্ছে। বলছে, ‘খুব গরম। কষ্ট হচ্ছে তো?’ সুবল ক্ষীণ কণ্ঠে বলেন, ‘না না আমার কষ্ট হচ্ছে না।’ দুর্গা বলে, ‘এই তো, আর মাত্তর চারটে টিশান।’ স্টেশনে নেমে দুর্গা যেন বাঁচল। বলল, ‘বাব্বা, বাঁচা গেল।’ সুবল বললেন, ‘এখন কি অনেকটা রাস্তা মা দুগ্গা?’ দুর্গা ওর সালোয়ারের দোপাট্টা দিয়ে শ্বশুরের মুখের ঘাম মুছিয়ে দিয়ে বলল, ‘টিশানের খুব কাছেই আমাদের বা‌঩ড়ি গো বাবা। চলো, এবার আমার হাত ধরে ধরে সিঁড়ি ভেঙে ওঠো। বিরিজটা পেরিয়ে ওপারে যেতে হবে।’ সিঁড়ি ভেঙে ব্রিজে উঠে দুর্গা বলে, ‘আমাদের ঘরে খাট তো একটা। তোমার শোয়ার জন্য আমার বাপের বাড়ি থেকে একটা কেমখাট নিয়ে আসতে হবে। ভাবছি, তোমাকে আর রোদের মধ্যে অতদূর টানব না।’ সুবল বলেন, ‘আমাকে একটা চা-দোকানে বসায় রেখে যাও। আমি দিব্যি বসে থাকতে পারব।’ দুর্গা বলল, ‘এই ঠা ঠা দুপুরে চা-দোকান কে আর খুলে বসে আছে তোমার জন্নে। তারচে এই বিরিজের ওপরটায় বেশ ছায়া আছে। হাওয়া দিচ্ছে। তুমি বরং এখানটায় বসে থাকো। আমি একটা ভ্যান ধরে নিয়ে যাব আর আসব। কেমখাটটা এনে তোমাকে বিছানা করে দেব। তুমি বিশ্রাম নেবা। আমি চট করে রান্না সেরে নেব।’
দুর্গার যাব আর আসব কথাটা খাটল না। ফিরতে ফিরতে প্রায় ঘণ্টা দু’য়েক দেরি হয়ে গেল। তর তর করে সিঁড়ি ভেঙে এক ছুট্টে শ্বশুরের কাছে পৌঁছে গেল দুর্গা। তার মনে অনেক দুর্ভাবনা ঠাঁই নিচ্ছিল। শ্বশুরের কাছে এসে সেই দুর্ভাবনা দূর হল। দুর্গা দেখল, তার শ্বশুর বাধ্যছেলের মতো চুপ করে বসে আছেন। পাশেই দুর্গার পেতে রাখা জালেও অনেক মাছ উঠেছে। পাঁচটাকা, দশটাকার কয়েনে ভরে গেছে। সতর্ক হাতে দুর্গা সেই জাল গুটিয়ে পুঁটলি বেঁধে নেয়। তারপর বলে, ‘চলো বাবা, এবার বাড়ি চলো। তোমার একা বসে বসে খুব কষ্ট হল না?’ সুবল বলল, ‘না মা দুগ্গা আমার একটুও কষ্ট হয়নি।’
‘কষ্ট হওয়ার কথাও না। এখানে তো বেশ ফুরফুরে হাওয়া। রোজ খাওয়া দাওয়ার পর একটু শুয়ে নেবা। তারপর তোমাকে আমি এখানে বসায়ে রেখে যাব। আমাদের ঘরে তো গুমোট গরম। তারচে এই ভালো।’
দুর্গার হাত ধরে সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে সুবল বললেন, ‘সেই ভলো মা দুগ্গা। তোমার ভাসুরদের বাড়িতে তো বেকার বসে থাকতাম। তোমার কাছে এসে রোজগেরে বনে গেলাম। হ্যাঁ, মা দুগ্গা, তুমি রোজ আমাকে এখানেই বসায়ে রেখে যেও।’ দুর্গার আর কথা বলার শক্তি নেই। সিঁড়ি ভেঙে নীচে নামতে নামতে সে ক্রমশ মাটিতে মিশে যাচ্ছিল।
অলংকরণ : সোমনাথ পাল
23rd  December, 2018
বন্ধুত্ব 
তপনকুমার দাস

দীনবন্ধুর যে ক’জন বন্ধু ছিল, তাদের সবাই প্রায় হারিয়ে গেছে। কলেজবেলার পর চাকরিবেলার শুরুতেই হারানোর পালা শুরু হতে হতে সংসারবেলায় পৌঁছে একেবারে ফেড আউট হয়ে গেছিল যাবতীয় বন্ধুত্ব। একে অপরকে ভুলে যেতে যেতে একসময় গল্পের উঠোনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল সব বন্ধুত্ব।  বিশদ

10th  February, 2019
বীরবল 
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

দাসোয়ান খুদকুশি করেছেন শুনে ‌কেল্লার বাইরে বিশাল জমায়েত। মাসুদ খাঁ বলল, হুজুর, দাওনা হয়ে গিয়েছিল তসবিরওয়ালা।
দাওনা, মানে পাগল! দাসোয়ানের কথা কিছু কানে এসেছিল বীরবরের।  বিশদ

10th  February, 2019
বীরবল
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

 বাদশাহের মর্জিতেই তাকে নামানো হয়েছে লড়াইতে, কিন্তু তাকে কিছুতেই বাগ মানাতে পারছে না তার পিলবান। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে প্রতিদ্বন্দ্বী হাতিকে ছেড়ে তাড়া করল এক জওয়ান লেড়কা দর্শককে, সেই লেড়কা দ্রুত পালিয়ে ঢুকে গেল আম-আদমির ভিড়ের মধ্যে। হাতিটা তখন দূর থেকে দেখছে বীরবরের লাল বেনিয়ান পরা চেহারাটা।
বিশদ

03rd  February, 2019
বন্ধুত্ব
তপনকুমার দাস 

দীনবন্ধুর যে ক’জন বন্ধু ছিল, তাদের সবাই প্রায় হারিয়ে গেছে। কলেজবেলার পর চাকরিবেলার শুরুতেই হারানোর পালা শুরু হতে হতে সংসারবেলায় পৌঁছে একেবারে ফেড আউট হয়ে গেছিল যাবতীয় বন্ধুত্ব। একে অপরকে ভুলে যেতে যেতে একসময় গল্পের উঠোনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল সব বন্ধুত্ব।
বিশদ

03rd  February, 2019
মাঠরাখা
হামিরউদ্দিন মিদ্যা 

আলোটা ভাসতে ভাসতে আঁকড়গোড়ে, ভাড়ালগোড়ে, জিওল নালার মাঠ ঘুরে চক্কর দিয়ে মাঝের-দাঁড়ার মাঠে এসে মিলিয়ে গেল। মেঘগুলোকে নীচে ফেলে চাঁদটা অনেকটা ওপরে উঠে এসেছিল। 
বিশদ

20th  January, 2019
বীরবল
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

পর্ব ৫৪

সন্ধের নিরিবিলি সময়ে তসবিরখানা থেকে বেরিয়ে দাসোয়ান কোথায় চলেছেন কীরকম আলুথালু মুখে দেখে ধন্দে পড়লেন বীরবর।
বেশ কয়েকদিন ধরে খুব বেতাব দেখাচ্ছে তসবিওয়ালাকে। তসবিরখানায় বসে থাকেন চুপচাপ, তুলিতে রং মাখিয়েও তা খাগের কাগজে মাখাতে ভুলে যাচ্ছেন, কেউ গায়ে হাত দিয়ে নাড়া দিলে থতমত খেয়ে ঝুঁকে পড়ছেন কাগজের উপর। 
বিশদ

20th  January, 2019
কাকের বাসায় ভালোবাসা 
অমিত ভট্টাচার্য

যদিও গল্পটা পুষ্পদির মুখ থেকে পুরোপুরি শোনা হয়নি, তবে কিছুটা চাক্ষুষ দেখার সুযোগ হয়েছিল।
একদিন হঠাৎ সে হাজির হয়েছিল আমার বাড়ি। আমি তখন বাইরে।
স্ত্রীকে জিগ্যেস করে, ‘আচ্ছা বউদি, দাদা নাকি গপ্প নেকে?’
 
বিশদ

13th  January, 2019
বীরবল
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

পর্ব ৫৩

ফতেপুর সিক্রির কেল্লার উপর শামের অন্ধকার নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গেল মগরিবের নামাজ-আস্‌সালাতো খয়রুম মিনন্‌ নওম— বীরবর যাচ্ছিলেন অনুপ তালাওয়ের দিকে, নামাজের আওয়াজ কানে আসার মুহূর্তে থেমে রইলেন যেখানে ছিলেন।  
বিশদ

13th  January, 2019
ছবি ও অস্কার গল্প
ঋষি গৌতম

ছবি ও অস্কা দুই বন্ধু। অস্কা ভাবুক। সে আকাশ-পাতাল অনেক কিছু ভেবে দেখে। ছবি অতশত ভাবে না। কী নিয়ে যে ভাববে সেটাই ভেবে পায় না। কিন্তু অস্কা ভাবে। অনেক রাতে আকাশে চাঁদ দেখলে অস্কার মনে হয় একখানা জিরো পাওয়ারের টুনিবাল্ব জ্বলছে। ভগবান সেই টুনিবাল্ব জ্বেলে ঘুমোচ্ছে।  
বিশদ

06th  January, 2019
বীরবল 
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

পর্ব ৫২

সুবাহ্‌ কাল বাদশা আকবরের পছন্দের সময়। ফজরের আলো ফোটার আগে তিনি অলিন্দে গিয়ে ইন্তেজার করেন কখন আসমানের পুব কোণে উদয় হবে সূর্যের। আজও অপেক্ষা করছিলেন, অপেক্ষার শেষে চোখ মেলে দেখলেন লাল সূর্যের লাফিয়ে দিগন্তের সীমানা পার হয়ে উঠে আসা।
বিশদ

06th  January, 2019
ছায়া
সৌরভ মিত্র 

‘বসে বসে মরবে। ছুটে ছুটে মরবে। ধুঁকতে ধুঁকতে মরবে। লাফিয়ে লাফিয়ে মরবে।...মাত্র দু’টাকা প্যাকেট! ইঁদুরের বংশ নির্বংশ করুন...’
সাইকেলে বাঁধা করুণ লাউডস্পিকার থেকে করুণতর ভাষার বিজ্ঞাপন কানে আসে মনসুরের। 
বিশদ

30th  December, 2018
বীরবল
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

পর্ব ৫১

কাল অনেক রাত পর্যন্ত গানের মজলিশ বসেছিল অনুপ তালাওয়ে। শেষরাতে ঘুমোতে গিয়ে সকালে উঠতে বেশ দেরি করে ফেলেছেন বাদশাহ আকবর। এমনকী তখন শেষ হয়ে গেছে জোহরের নামাজও। দু-দুটো নামাজের সময় পেরিয়ে গেছে দেখে খুব আপশোস হল, চবুতরায় বেরিয়ে দেখলেন যোধাবাঈয়ের মহল থেকে ধীরপায়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ফৈজি। 
বিশদ

30th  December, 2018
বীরবল

তপন বন্দ্যোপাধ্যায় : কেল্লার ভিতরে গড়ে ওঠা দোতলা হাভেলিটির শানশওকত নিরিখ করছিলেন বীরবর। চবুতরার অনেক কোঠি আর হাভেলির মধ্যে এই হাভেলির যেন অন্য এক জেল্লা। সম্রাট আকবর এই হাভেলিটি তৈয়ার করেছেন বীরবরের জন্য। তার বাইরের ও ভিতরের কারুকাজ চোখ জুড়িয়ে দেয়।
বিশদ

23rd  December, 2018
যতীন মাস্টারের পাঠশালা
অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী 

এই বলে দাদু উপর দিকে হাত তুলল অমনি ইস্কুলবাড়ির টালির চাল থেকে শুকনো পাতারা খড়খড় করে চাল বেয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে নীচে পড়তে থাকল। ছাঁচতলা ভরে গেল। মুখ উঁচু করে দেখি, সেই তিনটি শালিক চালের মগডালে বসে আছে। ওদের যাবতীয় ঝগড়া রান্নাঘরের চালে। এখানে ওরা বন্ধু। 
বিশদ

16th  December, 2018
একনজরে
 বেজিং, ১১ ফেব্রুয়ারি (এএফপি): চীন এবং আমেরিকার বাণিজ্য বিরোধ না মিটলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ঝড় বয়ে যাবে বলে রবিবারই সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (আইএমএফ)। এরপরেই চীনের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা শুরু করল আমেরিকা। ...

 লখনউ, ১১ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা ‘চৌকিদারে’র জন্যই উপেক্ষিত হচ্ছে। রাফাল ইস্যুতে সোমবার প্রধানমন্ত্রীকে এভাবেই নিশানা করলেন বসপা সুপ্রিমো মায়াবতী। এক সর্বভারতীয় দৈনিকের রিপোর্টে ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রাফাল চুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের হস্তক্ষেপের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লোকসভা ভোটের মুখে শাসক আর বিরোধীদের মধ্যে এবার ঢুকে পড়ল ‘মেট্রো চ্যানেল’ রাজনীতি। বিজেপির বক্তব্য, ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ...

সংবাদদাতা, মালবাজার: তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি পাথর তোলার ফলে বিপন্ন বন্যপ্রাণ। পরিবেশ প্রেমীদের দাবি, বন্যপ্রাণ রক্ষার স্বার্থে দ্রুত তিস্তা নদী থেকে বালি পাথর তোলা বন্ধ করতে হবে। যদিও প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে। প্রসঙ্গত, ডুয়ার্সের তিস্তা ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার জন্য স্থান পরিবর্তন হতে পারে। গবেষণামূলক কাজে সাফল্য আসবে। কর্মপ্রার্থীরা কোনও শুভ সংবাদ পেতে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস
১৮০৯: বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের জন্ম
১৮০৯: আব্রাহাম লিংকনের জন্ম
১৮৭১: ভারতবন্ধু দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজের জন্ম
১৯১৯: কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯২০: অভিনেতা প্রাণের জন্ম
১৯৬১ - বাঙালি সাহিত্যিক এবং বিশিষ্ট আইনজীবী অতুলচন্দ্র গুপ্তর মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৪ টাকা ৭২.১৪ টাকা
পাউন্ড ৯০.৫২ টাকা ৯৩.৭৮ টাকা
ইউরো ৭৯.২৫ টাকা ৮২.২৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৪৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৭৬০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,২৩৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ মাঘ ১৪২৫, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার, সপ্তমী ২৪/১১, দিবা ৩/৫৫। ভরণী ৩৯/৫০ রাত্রি ১০/১১। সূ উ ৬/১৪/৩৬, অ ৫/২৭/১৮, অমৃতযোগ দিবা, ৮/২৯ গতে ১০/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৮ গতে ২/২৭ মধ্যে পুনঃ ৩/১২ গতে ৪/৪২ মধ্যে। রাত্রি ৬/১৮ মধ্যে পুনঃ ৮/৫১ গতে ১১/২৫  মধ্যে পুনঃ ১/৫৮ গতে ৩/৪২  মধ্যে। বারবেলা ৭/৩৮ গতে ৯/২  মধ্যে পুনঃ ১/১৫ গতে ২/৩৯, মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩ গতে ৮/৩৯ মধ্যে।
২৮ মাঘ ১৪২৫, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার, সপ্তমী ১১/১৩/৪৭। ভরণীনক্ষত্র সন্ধ্যা ৫/৫৫/২৩, সূ উ ৬/১৬/১, অ ৫/২৫/৩৪, অমৃতযোগ দিবা ৮/২৯/৫৬ থেকে ১০/৪৩/৫০ মধ্যে ও ১২/৫৭/৪৫ থেকে ২/২৭/১ মধ্যে ও ৩/১১/৩৯ থেকে ৪/৪০/৫৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১৬/৫৬ মধ্যে ও ৮/৫১/১ থেকে ১১/২৫/৭ মধ্যে ও ১/৫৯/১২ থেকে ৩/৪১/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ৭/৩৯/৪৩ থেকে ৯/৩/২৪ মধ্যে, কালবেলা ১/১৪/২৯ থেকে ২/৩৮/১১ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/১/৫২ থেকে ৮/৩৮/১১ মধ্যে।
৬ জমাদিয়স সানি
এই মুহূর্তে
চ্যানেল বাছাই: সময় বাড়ল ৩১ মার্চ পর্যন্ত
নতুন নিয়মে চ্যানেল বাছাইয়ের প্রক্রিয়া যাঁদের সম্পূর্ণ হয়নি, সেই দর্শকদের ...বিশদ

10:15:02 PM

পোখরানের কাছে ভেঙে পড়ল বায়ুসেনার প্রশিক্ষণ প্রদানকারী মিগ-২৭ বিমান, অক্ষত পাইলট 

07:30:55 PM

নিউ টাউনে নাবালকের বিরুদ্ধে মাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ
নাবালক ছেলের বিরুদ্ধে মাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল। গতকাল ...বিশদ

04:49:00 PM

বিজেপি অগণতান্ত্রিক দল: মমতা 
এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির ...বিশদ

04:34:14 PM

২৪১ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:53:39 PM

প্রয়াত ইংল্যান্ডের কিংবদন্তী গোলকিপার গর্ডন ব্যাঙ্কস 

03:51:00 PM