Bartaman Patrika
গল্পের পাতা
 

যতীন মাস্টারের পাঠশালা
অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী 

এই বলে দাদু উপর দিকে হাত তুলল অমনি ইস্কুলবাড়ির টালির চাল থেকে শুকনো পাতারা খড়খড় করে চাল বেয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে নীচে পড়তে থাকল। ছাঁচতলা ভরে গেল। মুখ উঁচু করে দেখি, সেই তিনটি শালিক চালের মগডালে বসে আছে। ওদের যাবতীয় ঝগড়া রান্নাঘরের চালে। এখানে ওরা বন্ধু। তাই ওদের লাফানির চোট পাতা গড়ানোর কারণ নয়, আসল হল বাতাসের ঘূর্ণন। হয়তো যতীন্দ্রনাথ এই ঘূর্ণয়মান বাতাসের উদ্গাতা। হয়তো এইভাবেই তিনি তাঁর ইস্কুলবাড়িকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন।
আমরা হাঁটতে থাকি। ইস্কুলমাঠ পেরিয়েই নবীন কলুর মুদি দোকান। মাটির ঘর। টালির চাল। পিছনে লাউ-কুমড়ো গাছ। দোকানের সামনে বাঁশের মাচা। আমরা সেখানে বসলাম। নবীন বলল, ‘কী ঠাকুরমশাই, নাতিকে নিয়ে চললেন কোথায়?’
‘এই বেইরিছি ইস্কুল দেখতে।’
‘ও আবার দেখার কী আছে? ও তো এই ইস্কুলেই পড়ে। রোজকার বাজার যেতে হলি এর সামনে দিই তো যেতে হয়। দু’বেলাই তো ইস্কুলের সঙ্গে দেখা হচ্ছে—এর আবার নতুন কী হল?’
‘সেটাই তো মুশকিল নবীন। ওতে ইস্কুলকে দেখাই যায় কেবল, জানাশোনা হয় না। এই জন্যে ছোট বয়স থেকেই তাদের ইস্কুল চেনাতে হয়। ইস্কুলের কড়ি, বরগা, ইট, দেওয়াল, ধুলোর হিসেব রাখতে হয়। ইস্কুলের প্রতি ভালোবাসা না জন্মালে পড়াশোনায় মন বসবে কী করে?’
‘এলেন যখন, এট্টু বসে যান গল্পগাছা করি দু’চাট্টি। শীতের বেলা, খদ্দেরপাতি নাই কিছু।’
মাচায় বসে পা দোলাই। ইস্কুল এক হপ্তার ছুটি। বড়দিনের। রোদ থাকায় শীতবোধ কম। চাল ছেড়ে শালিকেরা এখন এখানে। দোকানের বাইরে খাবার খুঁজছে। ওরা কি আমাদের সঙ্গে সঙ্গেই চলেছে? কে জানে!
দাদু বলে, ‘এখন ও ফি বচ্ছর একটার পর একটা কেলাস পাশ দিচ্ছে। তোমার ছেলে বিদুর তো শুনি ইস্কুল যায় না। তবে সে করে কী?’
‘কী আবার করবে—চাষির ব্যাটা, মাঠে খাটে। ইস্কুলে যেতেই চায় নে। আমিও আর জোর করি নে। ওই নামটুকুন লিখতে শিখেছে, ওই বেশ। বেশি শিখে হবেটা কী? ও তো আর জজ-বেরিইস্টার হতে যাচ্ছে নে। তার চেয়ে বরং চাষের কাজে মন দিয়ে এই বয়সেই শিখতে পারলে লাভ আছে।’
‘কিন্তু তার সঙ্গে লেখাপড়াও তো দরকার। নইলে যে লাভের খতিয়ান তুমি দিচ্ছ, সেটা যে লোকসান নয়, তা ও বুঝবে কী করে?’
শালিক তিনটে এই ফাঁকে উড়ে গেল। দাদু উঠে পড়ল মাচা থেকে। দাদু চায় গ্রামের সব ছেলেই এখানে পড়ুক। কিছুটা তো লেখাপড়া শিখুক। যে গ্রামে যতীন্দ্রনাথ জন্মেছেন, গড়ে তুলেছেন এই বিদ্যালয়, সেখানের ছেলেরা যদি মুখ্যু হয়ে থাকে, গাঁয়ের মান কী থাকল আর।
আমরা আবার ইস্কুল ধারে ফিরে আসি। এই কয়দিন দাদু কেবল ইস্কুলবাড়ির সামনে ঘুরঘুর করছে। কখনও হাঁ করে তাকিয়ে থাকছে। ১৯১৭ সালে যতীন্দ্রনাথ নিজের হাতে কাদা গেঁথে এই বিদ্যালয় স্থাপন করেন। সেই বছর ইন্দিরা জন্মান। আর ১৯১৯-এ দাদু জন্মান। ইস্কুল ব্রিটিশ সরকারের খাতায় নথিভুক্ত হয় ১৯২১ সালে। যতীন্দ্রনাথ মাসোহারা পেতেন পঁচিশ পয়সা।
ইস্কুলের সামনে যে খেলার মাঠ, সেখানে এখন রাশি রাশি ধুলো! বিদুর সেই শীতের ধুলো দিয়ে সারামাঠ জুড়ে আলপনা দেবার মতো দেশের ম্যাপ বানায়। আমরা দেশ আঁকি খাতার পাতায়, সে একমনে দেশকে আঁকে মাটিতে, ধুলোতে। ধুলোর দেশ। ধূলিময় দেশ আমার। এটা তার পুরনো খেয়াল। আমরা ইস্কুল আসতে আসতে দেখি, সে মাঠের একদিকে ধুলো নিয়ে বর্ডার করে ম্যাপ আঁকছে। কখন যে সে এই আঁকা শুরু করেছে কে জানে! মাস্টার আসার আগেই সে সরে যেত। ততক্ষণে তার আঁকা শেষ। আবার কোনওদিন আঁকত বিকেলের দিকে, মাস্টারেরা চলে যাবার পর। ও কারও সঙ্গে খেলত না, কথা বলত না। বিদুরের আজও কোনও বন্ধু নেই।
আমি বললাম, ‘বিদুর, দাদু তোকে ডাকছে।’
‘কেন?’
‘দাদু তোকে ইস্কুল চেনাবে।’
বিদুর আর কোনও সাড়া দিল না। একবার আমার দিকে চোখ তুলে তাকাল কেবল। তারপর গোঁজ হয়ে একমনে কাজ করতে লাগল। এবার দাদু এগিয়ে এল। বলল, ‘আয় না রে বিদুর। আমার বাপের নিজের হাতে তৈরি ইস্কুলটা দেখে যা। আর ক’দিন বাদেই তো ভেঙে ফেলে এখানে কোটা বাড়ি উঠবে। সেখানে কী আর এমনি গন্ধ পাবি? আয়, আয়।’ বিদুর তবু নড়ে না। মন দিয়ে ধুলোর দেশ গড়ে যাচ্ছে। মুখই তোলে না সে। দাদু আরও কয়েকবার কথাটা বলে। বিদুর কোনও শব্দ করে না। তিনটি শালিক তার আশপাশে ঘুরঘুর করে।
আমরা ইস্কুলের ভেতর প্রবেশ করি। একমাত্র ক্লাস ফোরের ঘরেই দরজা-জানালা আছে। দরজায় তালা মারা থাকে। সেখানে একটা বড় ট্রাঙ্ক আছে। ইস্কুলের যাবতীয় খাতাপত্তর থাকে তার ভেতরে। বাকি এই লম্বা হলঘর। ক্লাস ওয়ান থেকে থ্রি অবধি এখানেই ভাগ ভাগ করে বসে। জানালায় মোটা কাঠের শিক, পাল্লা নেই। দেওয়ালে বোর্ড টাঙানো থাকে। চার ক্লাস পড়াতে তিনটি মাস্টার লাগে। যতীন্দ্রনাথ তখন একাই সব দেখতেন।
নিচু হয়ে মেঝে থেকে ভাঙা চক কুড়িয়ে নিতে থাকি। গোলক মাস্টার যখন অর্ধেক লেখা চক আমাদের দিকে ছুঁড়ে দেয়, তা নেবার জন্য কত বাচ্চার যে হুড়োহুড়ি লেগে থাকে! যারা পায় না তারা বিকেলে ইস্কুল মাঠে খেলতে এসে চকের টুকরো কুড়িয়ে নেয়।
দাদু আমাকে মাটির স্তর চেনায়। কত মোটা দেওয়াল! কতদিন এমন হয়েছে যতীন্দ্রনাথ জ্বর গায়ে খড় মেশানো মাটি মেখেছেন, দেওয়াল গেঁথে তুলেছেন। ইস্কুল গড়ার কাজ আগে শেষ করতে হবে। মার্টিন রেলের টরেটক্কার কাজ তাঁর ভালো লাগে না। সেই ছেড়ে তিনি গ্রামের শিশুদের শিক্ষিত করতে চান, দেশ গড়তে চান। যত তাড়াতাড়ি এই পাঠশালা তিনি গড়ে তুলতে পারবেন, তত তাড়াতাড়ি গ্রামের বাচ্চারা শুভংকরীর বই হাতে পাবে।
শহরে থাকাকালীন ‘দৈনিক বসুমতী’ পড়ার অভ্যেস গড়ে তুলেছিলেন। গ্রামে ফিরে এসে কাগজ বুক করে দিলেন। সেই কাগজ আসবে ডাকে। তিন দিন পর পর। তিনি নিজে পড়বেন আর তার থেকে দেশের সেরা খবর পাঠ করে ছাত্রদের শোনাবেন। পরে তাঁর এক ছাত্র, ‘ক্যাম্বেল মেডিক্যাল ইস্কুল’ থেকে পড়ে ডাক্তার হবে।
বিদুর দেশ আঁকে। সে ইস্কুল চিনতে চায় না। একদিন সে আমাকে একান্তে বলেছিল, পড়তে তার ভালো লাগে না। সে ঘুরে বেড়িয়েই মজা পায়। আর এই ধুলো দিয়ে আঁকাআঁকি তার পছন্দের খুব। বড় হলে সে কেবল ছবি আঁকবে। ধুলোর ছবি। এই হলঘরের জানালা দিয়ে তাকে বেশ দেখা যায়। এখনও সে এঁকে যাচ্ছে। বিদুরের দেশ কত বড়?
‘এই দেশটা দেখছিস, এইটে’ বলে দাদু মাথার উপরের দেওয়ালে লেংচে হাত তুলল, ‘তখন প্রবল পূর্ণিমা চলছে, সেই আলোতেই পালপাড়ার কিছু লোককে নিয়ে বাবা দেওয়াল দিচ্ছেন, ভাবতে পারিস? তখনকার লোকে বলত ভূতেরাও নাকি সেই কাজে সাহায্য করত। নইলে এত বড় হলঘর যতীন মাস্টার বানায় কী করে? আর এখন? এই মাটির বাড়ি টালির চালের পাঠশালা আর থাকবে না, হয়ে উঠবে স্কুল! আমার বাবার নাম কোথাও লেখা থাকবে না। বাবার স্পর্শ, গন্ধ থাকবে না। বাবা ছাড়া এই পাঠশালা—বাঁচবে? ইট-কাঠ-পাথরে শিক্ষা চাপা পড়বে না কী? এই যে তিন শালিক ইস্কুলের ভেতর মুড়ি, গুড়কাঠি, বাদামভাজা খুঁটে নিচ্ছে, তখন কি আর তাদের প্রবেশাধিকার থাকবে? চারদিক এঁটে বসে থাকবে স্কুল। বাইরের বাতাস সেখানে ঢুকবে কী করে?
একটানা কথাগুলি বলে দাদু হাঁপায়।
এর ক’দিন পরেই মাটির বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়ে গেল। একটু একটু করে গড়ে উঠতে থাকল কোটা বাড়ির ভিটে। দাদু ইস্কুলমাঠে আসা বন্ধ করে দিল। এখন বাড়িতেই থাকে। একটা ক্লাব ঘরে আমাদের ইস্কুল বসে। বাকিরা গাছের নীচে ক্লাস করে। একদিন বিকেলে ইস্কুলমাঠে খেলতে গিয়ে দেখি এক অদ্ভুত দৃশ্য। বিদুর ধুলোয় আঁকছে ঠিকই, তবে সেটি একটি মাটির বাড়ির। লম্বা হলঘরের সেই ইস্কুল, টালির চাল, পিছনে আকাশ। ধুলো দিয়ে সে এঁকে যায় মাটির স্তর। এত সুন্দর হাতের কাজ তার, মনে হবে ওই যে সামনেই খাড়া রয়েছে যতীন্দ্রনাথের নিজ হাতে গড়া সেই মাটির ইস্কুলবাড়ি, এই ধুলোর ছবিটি তার ছায়া। এতদিন জানতুম জলে জিনিসের ছায়া পড়ে, এখন জানলুম ধুলোর কাজও কম নয়। স্মৃতির ছায়া ধরে রাখে সে।
মনে আছে, সেদিন একছুট্টে বাড়ি গিয়ে দাদুকে ডেকে এনেছিলুম। ধুতির কোঁচা গুঁজতে গুঁজতে দাদু এসেছিল। খেয়াল কারে দেখেছি, একবারও গড়ে উঠতে থাকা কোটাবাড়ির দিকে তাকায়নি দাদু। সেদিকে পিছন করে বসে অপলক দেখে গেছে বিদুরের হাতের ধুলোমাটির দারুণ কারুকাজ। দাদু উবু হয়ে বসে বিদুরের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে অতি উৎসাহের সঙ্গে বারংবার বলে গেছে, ‘এখানটা এরকম কর বিদুর। হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক ঠিক—। আগে এখানটা এমন ছিল না, জানিস তো! আমি যখন জন্মালুম, বাবার মনে হল, ইস্কুলের এখানটা এমন করে গড়া প্রয়োজন। নতুন করে। তাই তো ক্লাস ফোরের ঘরটা আলাদা করে হল। তালা হল অনেক পরে। নইলে খাতাপত্তর সব কিছু তো আমাদের ঘরেই থাকত! খাগড়ার কলম, তালপাতার লেখা, লালমুখো সাহেবের ভিজিটিরস বুক। আঁক, আঁক, বেশ করে আঁক—সব কিছু এঁকে ফেল।’
আমার মনে হল, ওই ব্যক্তি আমার দাদু নন, উনি আসলে যতীন্দ্রনাথ স্বয়ং। তিনি নেমে এসেছেন তাঁর পাঠশালার সংস্কারের কাজ ঠিকঠিক ভাবে কতদূর করতে পারল বিদুর, তা দেখার জন্য। তখনই আমি মনে মনে সংকল্প করে ফেলি, বড় হয়ে আমি যতীন্দ্রনাথের মতন করে লম্বা, মাটির হলঘর গড়ে একটা ইস্কুলবাড়ি গড়ে তুলব। সেখানে থাকবে এমনই বিরাট এক শতাব্দী-প্রাচীন বটগাছ। দাদুকে দেখাতে হবে তো!
আজ যখন শহরের ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বছরে দু’একবার আসি নব্বই বছরের অথর্ব ঠাকুমাকে দেখতে; বাস থেকে নেমে ইস্কুলমাঠ দিয়েই পায়ে হেঁটে বাড়ির দিকে যেতে হয়। ছেলে দেখে ঝকঝকে কোটা বাড়ির একটি ইস্কুল। তার মাথায় বড় করে বাংলায় লেখা ইস্কুলের নাম। আর দেওয়ালগাত্রে পাথরের ফলকে লেখা পাকা ইস্কুল নিজের খরচে গড়ে দেবার মালিকের নাম ও উৎসর্গপত্র, সন। আমার ছেলে সারা দেওয়াল খুঁজেও যতীন্দ্রনাথের নাম কোথাও পায় না। সে বলে, ‘তোমার দাদুর বাবার নাম তো কোথাও নেই! এ তো সরকারি স্কুল। তুমি আমাকে গল্প বললে না তো? যেমন শিয়ালের গল্প, এই খাল দিয়ে নৌকা চলার গল্প বল। তেমনি এ হল গল্পের স্কুল। গল্পে গল্পে স্কুল গড়ে ওঠে।’ আমি বিড়বিড় করে বলি, ‘হ্যাঁ রে, এই ইস্কুল গড়ার কাহিনী তো এখন রূপকথার গল্পই!’
যে ছেলে পঁচিশ পয়সাই চোখে দেখেনি কোনওদিন, সে কেন বিশ্বাস করবে আজ থেকে একশো বছর আগে এই ‘মাত্র পঁচিশ পয়সায়’ আর ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি থেকে আসা কলাটা-মুলোটায় সংসার চলত তার পূর্বপুরুষের? চাঁদনি রাতে তাঁর ইস্কুল গড়ার কাহিনী, ইস্কুল চলাকালীন পিছনের বন থেকে বেজি, সাপ, ভাম, বড় ইঁদুর ঢুকে পড়ার কথা, গরমের দিনের সন্ধেতে ইস্কুলের এই বটগাছ থেকে যে আমরা জোনাকি ধরতে আসতুম—এ সব তার কাছে রূপকথার গল্পমাত্র, আর কিছু নয়।
কেবলমাত্র আমাদের মতো বছর চল্লিশের কিছু লোকের কাছে স্বপ্নের ভেতরে সেই ইস্কুল রয়ে যায়। টিফিনের সময় খেলাধুলো, মদন মাস্টার, বর্ষার দিনের জলছুটি, টানা বৃষ্টিতে মাঠের জমা কাদাজলে ভুটাইয়ের শুয়ে শুয়ে সাঁতার কাটা। সেই আমরা হয়তো এখনও মনে মনে সেই ইস্কুলেই পড়ি। আমি, লক্ষ্মী, শৈলেন, শম্ভু।
বিদুরও আজ আর দেশ আঁকে না। কেউই আর সেখানে আঁকে না। দেশ থেকে দেশ আঁকা উঠে গেছে সেই কবে! স্থানীয় বাজারে সে সাইকেল সারানোর দোকান দিয়েছে। কাটখোট্টা, গোমড়ামুখো বিদুরকে দেখে সে বিশ্বাসই করে না, এই লোকটা ধুলো দিয়ে দেশ গড়ত একদিন। তার পিছনে থাকত অনেকটা আকাশ। আজ আর গ্রামে ছেলে নেই, পড়াশুনো করার লোক নেই, একটু বয়স হলেই তারা দলে দলে পাড়ি জমায় দিল্লি-মুম্বই-হায়দ্রাবাদ। জুয়েলারি কাজে। গ্রামে আজ মাটির বাড়ি খুঁজে পাওয়া ভার।
এই তিনটি শালিক চলেছে আমাদেরই পথে পথে। ছেলের তাড়ায় তারা উড়ে গিয়ে বসল ইস্কুলের টঙের মাথায়। ছেলে দেখে, সেখানে রঙিন শব্দে বড় বড় করে লেখা আছে, ছোট চৌপ্রহর প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থাপিত ১৯২১ সাল। ছেলে বিড়বিড় করে আওড়ায়। আর আমি যেন চোখ বুজে দেখি সেই টালির চালের বাড়ি, সেই ইস্কুল মাঠের ধুলো, মাঠের আনাচ-কানাচ। সেখানে একটুকরো নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর হলুদ রোদ্দুরকে নিয়ে এক বিশাল ক্যানভাস বানিয়ে বিদুর যেন স্মৃতির ধুলো দিয়ে নিজের মনে এঁকে যাচ্ছে সেই ছবি। যতীন মাস্টারের পাঠশালা।
অলংকরণ : সোমনাথ পাল 
16th  December, 2018
বন্ধুত্ব 
তপনকুমার দাস

দীনবন্ধুর যে ক’জন বন্ধু ছিল, তাদের সবাই প্রায় হারিয়ে গেছে। কলেজবেলার পর চাকরিবেলার শুরুতেই হারানোর পালা শুরু হতে হতে সংসারবেলায় পৌঁছে একেবারে ফেড আউট হয়ে গেছিল যাবতীয় বন্ধুত্ব। একে অপরকে ভুলে যেতে যেতে একসময় গল্পের উঠোনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল সব বন্ধুত্ব।  বিশদ

10th  February, 2019
বীরবল 
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

দাসোয়ান খুদকুশি করেছেন শুনে ‌কেল্লার বাইরে বিশাল জমায়েত। মাসুদ খাঁ বলল, হুজুর, দাওনা হয়ে গিয়েছিল তসবিরওয়ালা।
দাওনা, মানে পাগল! দাসোয়ানের কথা কিছু কানে এসেছিল বীরবরের।  বিশদ

10th  February, 2019
বীরবল
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

 বাদশাহের মর্জিতেই তাকে নামানো হয়েছে লড়াইতে, কিন্তু তাকে কিছুতেই বাগ মানাতে পারছে না তার পিলবান। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে প্রতিদ্বন্দ্বী হাতিকে ছেড়ে তাড়া করল এক জওয়ান লেড়কা দর্শককে, সেই লেড়কা দ্রুত পালিয়ে ঢুকে গেল আম-আদমির ভিড়ের মধ্যে। হাতিটা তখন দূর থেকে দেখছে বীরবরের লাল বেনিয়ান পরা চেহারাটা।
বিশদ

03rd  February, 2019
বন্ধুত্ব
তপনকুমার দাস 

দীনবন্ধুর যে ক’জন বন্ধু ছিল, তাদের সবাই প্রায় হারিয়ে গেছে। কলেজবেলার পর চাকরিবেলার শুরুতেই হারানোর পালা শুরু হতে হতে সংসারবেলায় পৌঁছে একেবারে ফেড আউট হয়ে গেছিল যাবতীয় বন্ধুত্ব। একে অপরকে ভুলে যেতে যেতে একসময় গল্পের উঠোনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল সব বন্ধুত্ব।
বিশদ

03rd  February, 2019
মাঠরাখা
হামিরউদ্দিন মিদ্যা 

আলোটা ভাসতে ভাসতে আঁকড়গোড়ে, ভাড়ালগোড়ে, জিওল নালার মাঠ ঘুরে চক্কর দিয়ে মাঝের-দাঁড়ার মাঠে এসে মিলিয়ে গেল। মেঘগুলোকে নীচে ফেলে চাঁদটা অনেকটা ওপরে উঠে এসেছিল। 
বিশদ

20th  January, 2019
বীরবল
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

পর্ব ৫৪

সন্ধের নিরিবিলি সময়ে তসবিরখানা থেকে বেরিয়ে দাসোয়ান কোথায় চলেছেন কীরকম আলুথালু মুখে দেখে ধন্দে পড়লেন বীরবর।
বেশ কয়েকদিন ধরে খুব বেতাব দেখাচ্ছে তসবিওয়ালাকে। তসবিরখানায় বসে থাকেন চুপচাপ, তুলিতে রং মাখিয়েও তা খাগের কাগজে মাখাতে ভুলে যাচ্ছেন, কেউ গায়ে হাত দিয়ে নাড়া দিলে থতমত খেয়ে ঝুঁকে পড়ছেন কাগজের উপর। 
বিশদ

20th  January, 2019
কাকের বাসায় ভালোবাসা 
অমিত ভট্টাচার্য

যদিও গল্পটা পুষ্পদির মুখ থেকে পুরোপুরি শোনা হয়নি, তবে কিছুটা চাক্ষুষ দেখার সুযোগ হয়েছিল।
একদিন হঠাৎ সে হাজির হয়েছিল আমার বাড়ি। আমি তখন বাইরে।
স্ত্রীকে জিগ্যেস করে, ‘আচ্ছা বউদি, দাদা নাকি গপ্প নেকে?’
 
বিশদ

13th  January, 2019
বীরবল
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

পর্ব ৫৩

ফতেপুর সিক্রির কেল্লার উপর শামের অন্ধকার নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গেল মগরিবের নামাজ-আস্‌সালাতো খয়রুম মিনন্‌ নওম— বীরবর যাচ্ছিলেন অনুপ তালাওয়ের দিকে, নামাজের আওয়াজ কানে আসার মুহূর্তে থেমে রইলেন যেখানে ছিলেন।  
বিশদ

13th  January, 2019
ছবি ও অস্কার গল্প
ঋষি গৌতম

ছবি ও অস্কা দুই বন্ধু। অস্কা ভাবুক। সে আকাশ-পাতাল অনেক কিছু ভেবে দেখে। ছবি অতশত ভাবে না। কী নিয়ে যে ভাববে সেটাই ভেবে পায় না। কিন্তু অস্কা ভাবে। অনেক রাতে আকাশে চাঁদ দেখলে অস্কার মনে হয় একখানা জিরো পাওয়ারের টুনিবাল্ব জ্বলছে। ভগবান সেই টুনিবাল্ব জ্বেলে ঘুমোচ্ছে।  
বিশদ

06th  January, 2019
বীরবল 
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

পর্ব ৫২

সুবাহ্‌ কাল বাদশা আকবরের পছন্দের সময়। ফজরের আলো ফোটার আগে তিনি অলিন্দে গিয়ে ইন্তেজার করেন কখন আসমানের পুব কোণে উদয় হবে সূর্যের। আজও অপেক্ষা করছিলেন, অপেক্ষার শেষে চোখ মেলে দেখলেন লাল সূর্যের লাফিয়ে দিগন্তের সীমানা পার হয়ে উঠে আসা।
বিশদ

06th  January, 2019
ছায়া
সৌরভ মিত্র 

‘বসে বসে মরবে। ছুটে ছুটে মরবে। ধুঁকতে ধুঁকতে মরবে। লাফিয়ে লাফিয়ে মরবে।...মাত্র দু’টাকা প্যাকেট! ইঁদুরের বংশ নির্বংশ করুন...’
সাইকেলে বাঁধা করুণ লাউডস্পিকার থেকে করুণতর ভাষার বিজ্ঞাপন কানে আসে মনসুরের। 
বিশদ

30th  December, 2018
বীরবল
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

পর্ব ৫১

কাল অনেক রাত পর্যন্ত গানের মজলিশ বসেছিল অনুপ তালাওয়ে। শেষরাতে ঘুমোতে গিয়ে সকালে উঠতে বেশ দেরি করে ফেলেছেন বাদশাহ আকবর। এমনকী তখন শেষ হয়ে গেছে জোহরের নামাজও। দু-দুটো নামাজের সময় পেরিয়ে গেছে দেখে খুব আপশোস হল, চবুতরায় বেরিয়ে দেখলেন যোধাবাঈয়ের মহল থেকে ধীরপায়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ফৈজি। 
বিশদ

30th  December, 2018
দুর্গার দয়ামায়া

প্রদীপ আচার্য : ‘এটা তুমি কী কল্লা দুগ্গা? কোথায় ব্যাকগিয়ার মারবা, তা না, গাড়ি একেবারে টপগিয়ারে! এখন মাঝপথে বেরেক ফেল হলে তুমি পারবা সামলাতে? আমার নিজেরই পান্তায় নুন জোটে না। সেই আমার মা বলে না? আপনা নাই জাগা, কুত্তা আনে বাঘা। জাগা নেই, বাসা নাই। একটা ঘরের মধ্যে শোয়াবো কোথায় আর গেলাবোই বা কী?’
বিশদ

23rd  December, 2018
বীরবল

তপন বন্দ্যোপাধ্যায় : কেল্লার ভিতরে গড়ে ওঠা দোতলা হাভেলিটির শানশওকত নিরিখ করছিলেন বীরবর। চবুতরার অনেক কোঠি আর হাভেলির মধ্যে এই হাভেলির যেন অন্য এক জেল্লা। সম্রাট আকবর এই হাভেলিটি তৈয়ার করেছেন বীরবরের জন্য। তার বাইরের ও ভিতরের কারুকাজ চোখ জুড়িয়ে দেয়।
বিশদ

23rd  December, 2018
একনজরে
 বেজিং, ১১ ফেব্রুয়ারি (এএফপি): চীন এবং আমেরিকার বাণিজ্য বিরোধ না মিটলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ঝড় বয়ে যাবে বলে রবিবারই সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (আইএমএফ)। এরপরেই চীনের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা শুরু করল আমেরিকা। ...

সংবাদদাতা, মালবাজার: তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি পাথর তোলার ফলে বিপন্ন বন্যপ্রাণ। পরিবেশ প্রেমীদের দাবি, বন্যপ্রাণ রক্ষার স্বার্থে দ্রুত তিস্তা নদী থেকে বালি পাথর তোলা বন্ধ করতে হবে। যদিও প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে। প্রসঙ্গত, ডুয়ার্সের তিস্তা ...

 লখনউ, ১১ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা ‘চৌকিদারে’র জন্যই উপেক্ষিত হচ্ছে। রাফাল ইস্যুতে সোমবার প্রধানমন্ত্রীকে এভাবেই নিশানা করলেন বসপা সুপ্রিমো মায়াবতী। এক সর্বভারতীয় দৈনিকের রিপোর্টে ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রাফাল চুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের হস্তক্ষেপের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। ...

 বিএনএ, বহরমপুর: এবার মুর্শিদাবাদ জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮২হাজার ২২৮জন। এরমধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। আজ, মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা নির্বিঘ্নে করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা পুলিস ও প্রশাসন। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার জন্য স্থান পরিবর্তন হতে পারে। গবেষণামূলক কাজে সাফল্য আসবে। কর্মপ্রার্থীরা কোনও শুভ সংবাদ পেতে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক ডারউইন দিবস
১৮০৯: বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের জন্ম
১৮০৯: আব্রাহাম লিংকনের জন্ম
১৮৭১: ভারতবন্ধু দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজের জন্ম
১৯১৯: কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯২০: অভিনেতা প্রাণের জন্ম
১৯৬১ - বাঙালি সাহিত্যিক এবং বিশিষ্ট আইনজীবী অতুলচন্দ্র গুপ্তর মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৪ টাকা ৭২.১৪ টাকা
পাউন্ড ৯০.৫২ টাকা ৯৩.৭৮ টাকা
ইউরো ৭৯.২৫ টাকা ৮২.২৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৪৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৭৬০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,২৩৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ মাঘ ১৪২৫, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার, সপ্তমী ২৪/১১, দিবা ৩/৫৫। ভরণী ৩৯/৫০ রাত্রি ১০/১১। সূ উ ৬/১৪/৩৬, অ ৫/২৭/১৮, অমৃতযোগ দিবা, ৮/২৯ গতে ১০/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৮ গতে ২/২৭ মধ্যে পুনঃ ৩/১২ গতে ৪/৪২ মধ্যে। রাত্রি ৬/১৮ মধ্যে পুনঃ ৮/৫১ গতে ১১/২৫  মধ্যে পুনঃ ১/৫৮ গতে ৩/৪২  মধ্যে। বারবেলা ৭/৩৮ গতে ৯/২  মধ্যে পুনঃ ১/১৫ গতে ২/৩৯, মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩ গতে ৮/৩৯ মধ্যে।
২৮ মাঘ ১৪২৫, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার, সপ্তমী ১১/১৩/৪৭। ভরণীনক্ষত্র সন্ধ্যা ৫/৫৫/২৩, সূ উ ৬/১৬/১, অ ৫/২৫/৩৪, অমৃতযোগ দিবা ৮/২৯/৫৬ থেকে ১০/৪৩/৫০ মধ্যে ও ১২/৫৭/৪৫ থেকে ২/২৭/১ মধ্যে ও ৩/১১/৩৯ থেকে ৪/৪০/৫৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১৬/৫৬ মধ্যে ও ৮/৫১/১ থেকে ১১/২৫/৭ মধ্যে ও ১/৫৯/১২ থেকে ৩/৪১/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ৭/৩৯/৪৩ থেকে ৯/৩/২৪ মধ্যে, কালবেলা ১/১৪/২৯ থেকে ২/৩৮/১১ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/১/৫২ থেকে ৮/৩৮/১১ মধ্যে।
৬ জমাদিয়স সানি
এই মুহূর্তে
চ্যানেল বাছাই: সময় বাড়ল ৩১ মার্চ পর্যন্ত
নতুন নিয়মে চ্যানেল বাছাইয়ের প্রক্রিয়া যাঁদের সম্পূর্ণ হয়নি, সেই দর্শকদের ...বিশদ

10:15:02 PM

পোখরানের কাছে ভেঙে পড়ল বায়ুসেনার প্রশিক্ষণ প্রদানকারী মিগ-২৭ বিমান, অক্ষত পাইলট 

07:30:55 PM

নিউ টাউনে নাবালকের বিরুদ্ধে মাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ
নাবালক ছেলের বিরুদ্ধে মাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল। গতকাল ...বিশদ

04:49:00 PM

বিজেপি অগণতান্ত্রিক দল: মমতা 
এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির ...বিশদ

04:34:14 PM

২৪১ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:53:39 PM

প্রয়াত ইংল্যান্ডের কিংবদন্তী গোলকিপার গর্ডন ব্যাঙ্কস 

03:51:00 PM