Bartaman Patrika
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

রাজ সিংহাসন
প্রণবকুমার মিত্র

দরবারে আসছেন মহারাজ। শিঙে, ঢাক, ঢোল, কাঁসর ঘণ্টার বাদ্যি আর তোপের শব্দ সেটাই জানান দিচ্ছে। তারপর সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে মহারাজ ধীর পায়ে গিয়ে বসলেন রাজ সিংহাসনে। আগেকার দিনে রূপকথার গল্পে এটাই বলা হতো। হীরক রাজার দেশে সিনেমায় রাজার জাঁকজমক দেখে গুপী গেয়ে উঠেছিল—‘দেখে রাজার জমক মোদের মন ভরে গেছে খুশিতে।’ সত্যিই সেকালের রাজাদের জাঁকজমক দেখে তাক লেগে যেত।
মহারাজ যে আসনে বসতেন তাকে বলা হয় ‘সিংহাসন’। স্কুলের ব্যকরণ বই বলছে ‘সিংহ চিহ্নিত বা সিংহপ্রধান আসন সিংহাসন।’ কর্মধারয় সমাস। সিংহ মার্কা হলেও এটি ক্লীবলিঙ্গ। তাহলে ময়ূর সিংহাসন নাম হল কীভাবে? বোধহয় সুকুমার রায়ের লেখা হাঁসজারুর মতো ব্যাপার আর কী!
তবে এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় বোধহয় ছিল না রাজা-মহারাজাদের। বরং নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি জাহির করতেই সিংহাসনকে ব্যবহার করেছেন তাঁরা। সেকালে ব্যাবিলনের রাজা সলোমন নিজের জাঁকজমক প্রকাশ করার জন্য হাতির দাঁতের তৈরি সিংহাসনটিকে মুড়ে দিয়েছিলেন খাঁটি সোনা দিয়ে। সেই সিংহাসনে ছয়টি ধাপ দিয়ে উঠতে হতো। তেজ ও বীরত্বের প্রতীক সিংহের মূর্তি একটা করে প্রতি ধাপের দু’ধারে। মোট ১২টি। আবার মিশরের রাজারা সোনা বা রুপোর সিংহাসনে বসতেন। এর প্রমাণ পাওয়া যায় বালক রাজা তুতেনখামেনের সমাধিক্ষেত্র থেকে। পিরামিডের মধ্যে মিলেছিল রত্ন দিয়ে মোড়া সোনার সিংহাসন আর রুপোয় তৈরি আর একটি সিংহাসন। শুধু প্রাচীনকালে নয়, বর্তমানে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এখনও একটি নির্দিষ্ট দিনে সোনার সিংহাসনে বসেন।
তবে রাজ সিংহাসনের মাহাত্ম্যে পিছিয়ে নেই ভারতবর্ষও। কথিত আছে, ৩২টি পুতুল দিয়ে ঘেরা বহু মণি-মানিক্যখচিত সোনার সিংহাসনে বসতেন মহারাজা বিক্রমাদিত্য। উজ্জয়িনীতে এক ঢিপি খুঁড়ে সেই সিংহাসনটি পেয়েছিলেন রাজা ভোজ। আবার ভারতের মুঘল সম্রাট ও কিছু দেশীয় রাজাদের ছিল সোনার সিংহাসন। তাঁরা নিজেদের ধন-সম্পদ ও শৌখিনতা জাহির করার জন্যই এই বহুমূল্য সিংহাসন তৈরি করাতেন বিদেশি কারিগর ও শিল্পীকে দিয়ে।
সম্রাট জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনী ‘জাহাঙ্গীরনামা’তে লেখা আছে—১৬০৫ খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, দ্বিপ্রহরের সময় আটত্রিশ বৎসর বয়সে আগ্রা নগরীতে যে সিংহাসনে বসেছিলেন সেটি তৈরি হয়েছিল ১৫ কোটি টাকার সোনা ও ১৫০ কোটি টাকার হীরে, মণিমুক্ত ও নানা দামি পাথর দিয়ে। এই সুদৃশ্য সিংহাসনটি এমনভাবে তৈরি হয়, যাতে স্থানান্তরের সময় অনায়াসে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফের তা সহজেই জোড়া লাগানো যায়।
জাহাঙ্গীরের পুত্র শাহজাহানও নবাবিতে কম যেতেন না। বরং বলা যেতে পারে, মুঘল রাজাদের মধ্যে সবচেয়ে শৌখিন ও বিলাসী সম্রাট ছিলেন তিনি। বিখ্যাত স্বর্ণকারিগর সইদ গিলানির সাত বছর পরিশ্রমের ফল এই ময়ূর সিংহাসন। প্রথমে এর নাম ছিল ‘তখ্‌ত মুরাসা’ বা রত্নসজ্জিত সিংহাসন। সিংহাসনের দুই হাতলে ময়ূরের মূর্তি থাকায় ফারসি শব্দে নামকরণ হয় তখ্ত-ই-তাউস। তখত মানে সিংহাসন আর তাউস হচ্ছে ময়ূর। অনেক পরে এর নাম দেওয়া হয় ‘ময়ূর সিংহাসন’। এই সিংহাসন তৈরিতে সোনা লেগেছিল তখনকার দিনে ৯০ লক্ষ টাকার আর ৮৬ লক্ষ টাকার রত্নাবলী। পর্যটক ট্যাভারনিয়ের মতে, ময়ূর সিংহাসনে ময়ূরের গলায় ভারতের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বল মুক্তো লাগানো হয়েছিল। এই ময়ূর সিংহাসন বানিয়ে সইদ গিলানি সম্রাটের কাছ থেকে বিশেষ উপাধি পেয়েছিলেন। ‘বিবাদাল খান’। এর অর্থ অতুলনীয় পণ্ডিত। তার সঙ্গে পুরস্কার ও সম্রাটের সমান ওজনের স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল তাঁকে। শাহজাহানের রাজকোষে মজুত হয়েছিল দেশীয় নৃপতি ও পাঠান রাজাদের কাছ থেকে লুট করা প্রচুর মণি-রত্ন, বাৎসরিক নজরানা এবং উপঢৌকন পাওয়া রত্নাবলী। আরও সাতটি সুন্দর সিংহাসন গড়িয়ে সেগুলির সদ্ব্যবহার করেছিলেন সম্রাট শাহজাহান।
ভারতের রাজাদের সোনার সিংহাসনের মধ্যে আরও একটি বিখ্যাত হল মহীশূরের ওয়াদিয়র রাজবংশের সিংহাসনটি। কথিত আছে, এটি নাকি হস্তিনাপুরের পাণ্ডবদের সিংহাসন। প্রচুর সোনা ও নানা ধরনের দামি রত্নাবলী দিয়ে সাজানো সিংহাসনটিতে ত্রয়ী দেবতা, হাতি, ঘোড়া এবং নারীমূর্তি কারুকার্য করা। মহীশূরের মহারাজারা দশেরা উৎসবের সময় হাতির পিঠে এই সোনার সিংহাসনে বসে যেতেন। আর তখনই জনসাধারণ এটির দর্শন পেতেন। টিপু সুলতান বসতেন বহু মূল্যবান রত্ন দিয়ে কারুকার্য করা বাঘের আকৃতির সোনার সিংহাসনে। ৮ ফুট লম্বা ও ১১ ফুট চওড়া অপরূপ সিংহাসনটি অবশ্য ধ্বংস হয় ব্রিটিশদের হাতে। আবার এর উলটপুরাণও আছে।
লন্ডনের জাদুঘরে মহারাজা রঞ্জিত সিংহের সোনার পাত দিয়ে মোড়া পদ্মফুল আকৃতির অপূর্ব সিংহাসনটি রাখা আছে এখনও।
এবার আসি রুপোর সিংহাসনের কথায়। ব্রিটিশ সম্রাজ্ঞী মহারানি ভিক্টোরিয়ার কাছ থেকে সুদৃশ্য রুপোর সিংহাসন উপহার পেয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের নবাব নাজিম হুমায়ুন খাঁ। হাজারদুয়ারি প্রাসাদের দোতলায় এটি রাখা আছে। আর ওই প্রাসাদের আর্ট গ্যালারিতে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর মার্বেল পাথরের একটি সুদৃশ্য সিংহাসন আছে। ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে তৈরি আর একটি কালো মার্বেল পাথরের সিংহাসনে বসতেন নবাব নাজিম হুমায়ুন খাঁ। মুর্শিদকুলি খাঁয়ের সময় থেকে মুর্শিদাবাদের নবাবরা এই সিংহাসনেই বসতেন। এই সিংহাসনে বসেছেন মিরজাফর, নজমউদ্দৌলা এমনকী লর্ড কার্জনও। আর একটি সুন্দর মার্বেল পাথরের রাজ সিংহাসন ‘তখ্‌ত-ই-নিশান’ রাখা আছে হায়দরাবাদের চৌমহল্লা রাজপ্রাসাদে। জয়পুরের রাজার ছিল রুপোর সিংহাসন।
এই ‘সিংহাসন’-এ বসার জন্য কত রক্তপাত, কত যুদ্ধ হয়েছে! সিংহাসনে বসার সুখ যেমন আছে, তেমন রাজা হওয়ার ঝকমারিও কম পোয়াতে হয় না। সিংহাসনে টিকে থাকার জন্য অদ্ভুত অদ্ভুত কুসংস্কার জন্মাতো তাঁদের মনে। রাজস্থানের মেবারের রণনিপুণ রাণা কুম্ভের অদ্ভুত আচরণ সবাইকে অবাক করে দিয়েছিল। রাণা শত্রুদের পরাস্ত করে ফিরে সিংহাসনে বসার আগে নিজের কোমরে বাঁধা তরোয়াল খাপ থেকে বের করে মাথার উপর তিনবার ঘুরিয়ে নিতেন।
তবে শুধু সিংহাসনে বসলেই হল না। সেটাকে নিজের হাতের মুঠোয় বহুদিন ধরে রাখাটাই আসল বিষয়। তাই বোধহয় সুকুমার রায় ‘বোম্বাগড়ের রাজা’ কবিতায় লিখেছেন— রাজা রাজসভায় এসেই ‘হুক্কা হুয়া’ বলে চ্যাঁচান আর সিংহাসনে ভাঙ্গা শিশি-বোতল ঝুলিয়ে রাখেন, যার কারণ কোন সভাসদই খুঁজে পায় না। এরকম উদাহরণ রয়েছে পুরাণেও। দেবরাজ ইন্দ্র নিজের স্বর্গরাজ্য সামলাতে হিমশিম খেয়ে যেতেন। প্রায়ই অসুররা মেরে দেবতাদের স্বর্গছাড়া করে দিত। রাজা হিসেবে মোটেই ইন্দ্র ওস্তাদ ছিলেন না। এক-একবার নানা উপায়ে স্বর্গরাজ্য ফিরে পেতেন। এমনকী মহিলার (মা দুর্গা) সাহায্য নিয়েও এই সিংহাসন উদ্ধার করেছিলেন তিনি।
রামায়ণ-মহাভারতের সময়ের ইতিহাস ঘেঁটে দেখলেও এই ধরনের উদাহরণ পাওয়া যাবে। রামায়ণে দেখা গিয়েছে, পিতৃসত্য পালনের জন্য রামচন্দ্র বনবাসে যাওয়ায় ভরত বড় দাদার পাদুকা জোড়া (খড়ম) সিংহাসনে রেখে রাজ্য শাসন করেন, যত দিন না লঙ্কাকাণ্ড সেরে শ্রীরামচন্দ্র অযোধ্যায় ফেরেন। আবার মহাভারত বলছে, ভীষ্ম নিজে সিংহাসনে না বসে সৎ ভাই বিচিত্রবীর্যকে রাজ সিংহাসনে বসিয়ে রাজ্যপাট সামলেছেন। ইতিহাসেও এমন উদাহরণ আছে। খুদে আকবর বসেছেন সিংহাসনে, আর সম্রাটের বকলমে শাসন চালিয়েছেন বৈরাম খাঁ। নিজপুত্র দামোদর রাওকে রাজ সিংহাসনে বসিয়ে ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ তরোয়াল হাতে লড়ে গিয়েছেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে।
এই সিংহাসন নিয়ে অজস্র গল্প আছে বিভিন্ন দেশে। সেই আদিকাল থেকে। সিংহাসন বানানোর সময় নানারকম কারিকুরি করতেন দক্ষ শিল্পীরা। গ্রিক পুরাণে অগ্নি দেবতা এবং দেব কারিগর হেফিস্টাফ একবার একটা অদ্ভুত সিংহাসন তৈরি করেন। সিংহাসনটি দেখতে অপূর্ব। দেখলেই বসে পড়তে ইচ্ছে হবে। তবে একবার বসলে আর ওঠা যায় না। সূক্ষ্ম মাকড়সার মতো জালে জড়িয়ে পড়ে মৃত্যু অনিবার্য। আর ওই জাল সরাবার কৌশল একমাত্র জানতেন হেফিস্টাফ।
আর বর্তমানেও সিংহাসনে বসতে গেলে প্রচুর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা, সাহস, প্রজা মনোরঞ্জনকারী নীতি নির্ণয় জরুরি। নইলে, ওই মাকড়সার জাল...
গ্রাফিক্স  সোমনাথ পাল
সহযোগিতায়  স্বাগত মুখোপাধ্যায়
08th  December, 2019
আ ম্মা হী ন তামিল রাজনীতি
রূপাঞ্জনা দত্ত

২৪ ফেব্রুয়ারি। তামিলনাড়ুর কাছে এটা একটা বিশেষ দিন। মন্দিরে মন্দিরে উপচে পড়ত ভিড়। সবার একটাই প্রার্থনা, ‘আম্মা নাল্লামাগা ইরঙ্গ’। ‘আপনি ভালো থাকুন’। ওইদিন তিনিও যেতেন মন্দিরে। নিজের জন্মদিনে ভক্তদের ভালোবাসা বিলোতে। সেটাকে অবশ্য ‘পুরাচি থালাইভি’র আশীর্বাদ বলেই গণ্য করত সবাই।   বিশদ

01st  December, 2019
অর্ধশতবর্ষে শ্বেত বিপ্লব 
কল্যাণ বসু

‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে...’
রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে ঈশ্বরী পাটনীর কালজয়ী বর প্রার্থনা ছিল এটাই। ‘অন্নপূর্ণা ও ঈশ্বরী পাটনী’র এই অবিস্মরণীয় পংক্তিতে সন্তানের মঙ্গলচিন্তা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে সন্তানের মঙ্গলার্যে বিরাট কোনও লোভ না দেখিয়ে শুধুমাত্র দুধ-ভাতের আজীবন জোগান প্রার্থনা করা। সুস্থ-সবল সন্তানের জন্য ভাতের সঙ্গে দুধের অপরিহার্যতার কথাও আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রয়েছে এই প্রার্থনায়।  
বিশদ

24th  November, 2019
অচেনা অযোধ্যা
সমৃদ্ধ দত্ত

 সরযূ নদীর নয়াঘাটে মাঝেমধ্যেই দেখা যাবে এক টানাপোড়েনের দৃশ্য। গোন্দা জেলার মানকপুর গ্রামের রমাদেবী নিজের মেয়ের সামনে হাতজোড় করে বলছেন, ‘আমাকে ছেড়ে দে রে..আমি কয়েকদিন পর আবার চলে যাব..সত্যি বলছি যাব।’ মেয়ে জানে মায়ের কথার ঠিক নেই। আজ বিশ্বাস করে ছেড়ে দিলে, সত্যিই কবে যাবে, কোনও ঠিক নেই।
বিশদ

17th  November, 2019
বিস্মৃতপ্রায় সুরেন্দ্রনাথ
রজত চক্রবর্তী

কালো পুলিস ভ্যানটা ঢুকতেই উত্তেজিত জনতা যেন তাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে। আন্দোলনের নেতৃত্বে স্বয়ং ‘বাংলার বাঘ’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। হবে নাই বা কেন! বাংলার জাত্যাভিমানকে পরিচিতি দিয়েছিলেন পুলিস ভ্যানের ভিতরে বসে থাকা ব্যক্তিটিই। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তাঁর জন্মদিন। বিশদ

10th  November, 2019
সুরেন্দ্রনাথের সাংবাদিক সত্ত্বা 
ডাঃ শঙ্করকুমার নাথ

১৮৮৩ সালে কলকাতা হাইকোর্ট ‘The Bengalee’ পত্রিকার সম্পাদক সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুদ্রাকার-প্রকাশক রামকুমার দে’র নামে রুল জারি করার নির্দেশ দিল এবং পরের দিন তা কার্যে পরিণত হল। বলা হল— ‘আদালত অবমাননা করার অপরাধে কেন জেলে যাইবেন না, তাহার কারণ প্রদর্শন করুন।’ 
বিশদ

10th  November, 2019
আরাধনা ৫০
সমৃদ্ধ দত্ত

 রবি শর্মার বাড়িতে গুরু দত্ত এসেছেন। প্রায় মধ্যরাত। এত রাতে কী ব্যাপার? রবি শর্মা চোখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি। গুরু দত্ত বললেন, ‘রবি আমি একটা গান চা‌ই। একটি মানুষ অনেক রাত পর্যন্ত মুশায়রার আসর থেকে বাড়ি ফিরেছে। তার সবেমাত্র বিয়ে হয়েছে। অপূর্ব সুন্দরী স্ত্রী। সেই মেয়েটি স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে করে একসময় ঘুমিয়ে পড়েছে। স্বামী ভদ্রলোক বাড়ি ফিরে দেখছেন স্ত্রী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
বিশদ

03rd  November, 2019
ডাকাত কালী
সুভাষচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

 কয়েকশো বছর আগের কাহিনী। তখন এখানে চারপাশে ঘন জঙ্গল। বহু জায়গায় সূর্যালোক পর্যন্ত পৌঁছত না। ছিল একাধিক হিংস্র পশুও। পাশেই সরস্বতী নদীর অববাহিকা। সেখানে বহু ডাকাতের বসবাস ছিল। বাংলার বিখ্যাত রঘু ও গগন ডাকাতও এই পথ দিয়ে ডাকাতি করতে যেতেন।
বিশদ

27th  October, 2019
মননে, শিক্ষায় পুরোপুরি বাঙালি

সুইডিশ অ্যাকাডেমি ঘোষণাটা করার পর কিছু সময়ের অপেক্ষা। আগুনের মতো খবরটা ছড়িয়ে গিয়েছিল গোটা দেশে... একজন বাঙালি, একজন ভারতীয় আরও একবার জগৎসভায় দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। অমর্ত্য সেনের পর অর্থনীতিতে নোবেল পাচ্ছেন তিনি। বিশদ

20th  October, 2019
অর্থনীতিতে নীতি
অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়

 লেখাটা শুরু করা যেতে পারে আমার ছাত্রজীবনে রাশিবিজ্ঞানের ক্লাসে শোনা একটা গল্প দিয়ে। কোনও একসময় ইংল্যান্ডের স্কুলশিক্ষা দপ্তর ঠিক করেছিল, স্কুলের বাচ্চাদের দুধ খাইয়ে দেখবে তাদের স্বাস্থ্যের উপর তার কোনও সুপ্রভাব পড়ে কি না। সেইমতো স্কুলগুলিতে কোনও একটি ক্লাসের অর্ধেক বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো হয় এবং বাকিদের তা দেওয়া হয়নি। বিশদ

20th  October, 2019
বাহন কথা 
রজত চক্রবর্তী

আকাশে সোনার থালার মতো চাঁদ। বাড়িতে বাড়িতে দোরগোড়া থেকে লতানে ধানের শিষ। এঁকে বেঁকে চলে গিয়েছে চৌকাঠ ডিঙিয়ে, ডাইনিংয়ের পাশ দিয়ে প্রতিটি ঘরে ঘরে... এমনকী সিঁড়ির পাশ দিয়েও উঠেছে দোতলায়। ধানের শিষের পাশে পাশে ছোট্ট ছোট্ট সুন্দর পায়ের ছাপ।  
বিশদ

13th  October, 2019
প্র তি মা র বি ব র্ত ন
সোমনাথ দাস

বর্ষা আর শরৎ এখন মিলেমিশে একাকার। বিশ্ব উষ্ণায়নের কৃপাদৃষ্টিতে শহরবাসীর পক্ষে আর এই দু’টি ঋতুকে আলাদা করা সম্ভব নয়। তবে ভাদ্রের সমাপ্তি এবং আশ্বিনের সূচনা বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে এক অনাবিল আনন্দ। মা দুর্গার আগমনবার্তায় আমাদের হৃদয় নেচে ওঠে।   বিশদ

29th  September, 2019
পুজোর ফুলের যন্ত্রণা
বিশ্বজিৎ মাইতি

 বিশ্বজিৎ মাইতি: হাওড়া‑খড়্গপুর রেলওয়ে শাখার বালিচক স্টেশন। মার্চ মাসের এক শুক্রবারের সকালে বেশ কয়েকজনকে ধরেছেন টিটি। বিনা টিকিটে ট্রেন সফর। তাঁদের মধ্যে এক যুবকের হাতে গোটা চারেক বস্তা। হাতে একগুচ্ছ ব্যাগ। গাল ভর্তি দাড়ি। উসকো-খুসকো চুল। পরনে নানান দাগে ভর্তি জামা ও হাফপ্যান্ট। করুণ চোখে আচমকাই নিজের মানিব্যাগ টিটির মুখের সামনে দেখিয়ে ধরা গলায় বলল, ‘স্যার একটা টাকাও নেই। পুরো শরীর চেক করে দেখুন...।
বিশদ

22nd  September, 2019
ভো-কাট্টা

বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোটা সমার্থক হয়ে গিয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজো মানেই আকাশজোড়া ঘুড়ির আলপনা। অসংখ্য ঘুড়ির ভেলায় যেন স্বপ্ন ভাসে। বহু কৈশোর আর যৌবনের মাঞ্জায় লেগে আছে ঘুড়ি ওড়ানোর স্মৃতি। যে ছেলেটা কোনওদিন সকাল দেখেনি, সেও বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে সূর্য ওঠার আগেই ঘুড়ি-লাটাই নিয়ে ছাদে উঠে যায়।  
বিশদ

15th  September, 2019
নির্মাণশিল্পী বিশ্বকর্মা
সন্দীপন বিশ্বাস

জরাসন্ধ তখন প্রবল প্রতাপান্বিত। বারবার মথুরা আক্রমণ করছিলেন। কিন্তু সপ্তদশ প্রচেষ্টাতেও মথুরা জয় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই ফের তিনি মথুরা আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে লাগলেন। কৃষ্ণ অবশ্য জানতেন জরাসন্ধ কিছুতেই মথুরা জয় করতে পারবেন না।
বিশদ

15th  September, 2019
একনজরে
অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: স্কুলের কাছে ‘প্রায়র পারমিশন’ (পিপি) এসে পৌঁছনোর আগেই শিক্ষক পদপ্রার্থীদের হাতে তা চলে আসছে। আর তার প্রতিলিপি নিয়েই স্কুলে যোগ দিতে চলে আসছেন শিক্ষকরা। রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে এই ঘটনা ঘটছে। বদলির আবেদন করা শিক্ষকদের হাতে এই পিপি ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, ১০ ডিসেম্বর থেকে নিজেদের মার্জিনাল কস্ট অব ফান্ডস বেসড লেন্ডিং রেট বা এমসিএলআর কমাল স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই)। এক প্রেস বিবৃতিতে তারা একথা জানিয়ে বলেছে, আগে তাদের বার্ষিক এমসিএলআর ছিল আট শতাংশ। ...

অমিত চৌধুরী, হরিপাল: হরিপাল থানার কৈকালা গ্রাম পঞ্চায়েতের বলদবাঁধ গ্রামে প্রতিবছর শীতের সময় ভিড় করে পরিযায়ী পাখি। বিদেশি পাখির আগমনকে ঘিরে একসময় এলাকায় পিকনিকের আসর বসলেও স্থানীয় মানুষ উদ্যোগ নিয়ে পাখিদের নিশ্চিন্তে অস্থায়ী ঠিকানায় বাস করতে বন্ধ করে দিয়েছেন পিকনিক। ...

সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে চাঁচলে। এই সপ্তাহেই চাঁচলের খরবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। কলকাতার একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় তাঁর।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে শুভ। সরকারি ক্ষেত্রে কর্মলাভের সম্ভাবনা। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-ভালোবাসায় মানসিক অস্থিরতা থাকবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস,
১৮৭০- ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকারের জন্ম,
১৮৮৮- শহিদ প্রফুল্ল চাকীর জন্ম,
২০০১- অভিনেতা অশোককুমারের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৪ টাকা ৭২.১৪ টাকা
পাউন্ড ৯২.০৭ টাকা ৯৫.৩৭ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৪ টাকা ৮০.২৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ত্রয়োদশী ১১/২৬ দিবা ১০/৪৪। কৃত্তিকা ৫৯/২৯ শেষ রাত্রি ৫/৫৭। সূ উ ৬/৯/৩১, অ ৪/৪৮/৪৩, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৫ গতে ১১/৮ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৯ গতে ৮/২২ মধ্যে পুনঃ ৯/১৬ গতে ১১/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১/৪৩ গতে ৩/৩০ মধ্যে পুনঃ ৫/১৭ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৭/২৮ গতে ৮/৪৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৮ গতে ২/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/২৮ গতে ৮/৮ মধ্যে। 
২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ত্রয়োদশী ১০/২/৪৮ দিবা ১০/১২/৫। কৃত্তিকা ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৬/১০/৫৮, অ ৪/৪৯/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩ মধ্যে ও ৭/৪৫ গতে ১১/৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩৫ গতে ৮/২৯ মধ্যে ও ৯/২৩ গতে ১২/৪ মধ্যে ও ১/৫২ গতে ৩/৩৯ মধ্যে ও ৫/২৭ গতে ৬/১২ মধ্যে, কালবেলা ১২/৪৯/৫৩ গতে ২/৯/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/২৯/২৬ গতে ৮/৯/৩৯ মধ্যে।
 
মোসলেম: ১২ রবিয়স সানি 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ঘুড়ির সুতোয় গলা কেটে মৃত স্কুলছাত্র 
চিনা মাঞ্জার বলি স্কুলছাত্র। সুতোর ধারে গলা কেটে মৃত্যু হল ...বিশদ

06:20:33 PM

২৪৮ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

04:02:02 PM

আইলিগ: ইস্ট বেঙ্গল ৪-১ গোলে হারাল নেরোকাকে 

04:01:36 PM

২৫০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:36:09 PM

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রারকে হেনস্তার অভিযোগ 
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিপ্লব গিরিকে হেনস্তার অভিযোগ উঠল। আজ, মঙ্গলবার ...বিশদ

03:30:27 PM

দক্ষিণদাঁড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধৃত ৩ দুষ্কৃতী

03:30:00 PM