Bartaman Patrika
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

বাহন কথা 
রজত চক্রবর্তী

আকাশে সোনার থালার মতো চাঁদ। বাড়িতে বাড়িতে দোরগোড়া থেকে লতানে ধানের শিষ। এঁকে বেঁকে চলে গিয়েছে চৌকাঠ ডিঙিয়ে, ডাইনিংয়ের পাশ দিয়ে প্রতিটি ঘরে ঘরে... এমনকী সিঁড়ির পাশ দিয়েও উঠেছে দোতলায়। ধানের শিষের পাশে পাশে ছোট্ট ছোট্ট সুন্দর পায়ের ছাপ। ছোট্ট ভরাট গোল গোড়ালি ঘিরে কল্কার মতো উঠে যাওয়া পায়ের রেখা। তার উপর আলতো করে মধ্যমা দিয়ে চুঁইয়ে পড়া চালগুঁড়ো গোলার সাদা রঙে পাঁচটি বড় থেকে ছোট একটু চ্যাপ্টা গোল গোল ডট। একদম শেষে ছোট্ট করে আঙুলটা ঠেকাতেই কড়ে আঙুলের ছাপ। ব্যাস, পিসুন অনেক কষ্টে উঠল। কোমরটা ধরে গিয়েছে। ১০ বছরের চৈ উবু হয়ে পাশে বসে। সকাল থেকে নানা প্রশ্ন—ধান গাছ লতানে হয়, পিসুন?
সত্যিই তো! ধান গাছ লতানে হয় না। এই হল কল্পজগতের বাস্তব প্রকাশ। নিরবচ্ছিন্ন সম্পদ তথা শস্যের আগমনির আশায় এই চিত্রকল্প। কী করে বোঝাবে ওইটুকু মেয়েকে? সেই সময়েই ‘ঠাকুর মশাই এসেছে’... ‘ঠাকুর মশাই এসেছে’ বলে ছুট্টে ঘরে ঢুকল ছ’বছরের হৈ। হৈ আর চৈ সকাল থেকেই দিদুনের বাড়িতে। বাবা-মা-পিসুন-পিসাই-মাম্পিদাদা আরও সব। সকাল থেকেই লক্ষ্মীপুজো। নারকোল নাড়ুর গন্ধ... একটা-দুটো গরম নাড়ু দিদুনের থেকে পাওয়া। ভোগের গন্ধ। ফল কাটার গন্ধ। লক্ষ্মীপুজোর একটা আলাদা গন্ধ পাড়ায় পাড়ায়, বাতাসে বাতাসে। এই পুজো খুব কাছের। ঘরের। নিজেদের হাতেই সাজিয়ে তোলা সব আয়োজন। শঙ্খ বেজে ওঠে, উলুধ্বনি শোনা যায় সেই বাড়ি থেকে, যে বাড়িতে পুরোহিত ঢুকেছে। অন্য বাড়ি তখন প্রতীক্ষায় চুপ। ঘোতনের মোবাইল বেজে ওঠে, ‘যাচ্ছি কাকিমা যাচ্ছি, বারোটা পয্যন্ত লগ্ন আছে তো...!’
ঘোতন জিনস আর টিশার্ট ছেড়ে আজ পুরোহিত। ধুতি আর ফতুয়া পরে বাইকে বসেছে। এক গাল হাসি... ‘সবই মা লক্ষ্মীর দান, কাকা!’ হৈ পাশেই ছিল। চিৎকার করে উঠল, ‘আউল আউল বাহন, পেঁচা পেঁচা, না পিসাই?’ হৈ বিকেলবেলা পাড়ার ফাঁকা মণ্ডপে একা লক্ষ্মী ঠাকুরকে কাছ থেকে দেখে এসেছে পিসাইয়ের সঙ্গে। আউলের গায়ে হাত দিয়েছে ভয়ে ভয়ে। ও আউল থেকে পেঁচা জেনেছে, পেঁচা থেকে আউল জানেনি! কিন্তু পেঁচা বা আউল অত কাছ থেকে দেখে, আঙুল ঠেকিয়েও ওর বিহ্বলতা কাটেনি। নানা প্রশ্নে পিসাই নাজেহাল! পেঁচা কেন নিল? লক্ষ্মী তো আরও ভালো কিছু নিতে পারত!
লক্ষ্মী কি পেঁচা সেধে নিয়েছে! ওঁর তো শুধু একা নয়, ফুল ফ্যামিলিতেই বাহন নিয়ে নানা সমস্যা যুগের পর যুগ ধরে চলেছে। মা লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা ফাইনালি সেট্‌ল হয়েছে আধুনিককালে। তার সামাজিক ও ভাবগত নানা কারণ আছে। বাহন হওয়ার যুক্তিগুলি সবই নির্ভর করে আছে পেঁচার গুণগত বৈশিষ্ট্যের উপর। সেক্ষেত্রে মা লক্ষ্মীর পছন্দ হয়েছিল কি না জানা যায় না। তবে ভক্তের পছন্দ মানেই জনগণের পছন্দ। তাই মেনে ও মানিয়ে নিতেই হয়েছে। পেঁচাকে কেন দেওয়া হল লক্ষ্মীর বাহন হিসেবে? পেঁচা রাতে দেখতে পায়। আর রাতেই শস্য ও সম্পদের পাহারায় থাকা জরুরি। সুতরাং রাতের প্রহরী পেঁচা। তার ঘাড় সবদিকে ঘোরে। এমনকী স্থির বসে থেকে পেছন দিকেও ঘাড় ঘোরাতে পারে সে। সর্বদিকে তার নজর দেওয়া সুবিধা। সামান্য শব্দে ঘাড় ঘুরিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখে নিতে পারে, কোনও ইঁদুর গোলাভরা শস্য তথা সম্পদ নষ্ট করছে কি না। তীক্ষ্ণ তার নখ ও চঞ্চু, যা আক্রমণে ছিঁড়েখুঁড়ে দিতে পারে শত্রুকে। দিনে মানুষ যখন জেগে থাকে, তখন পেঁচা বিশ্রাম নেয়। রাতে সে বেড়িয়ে পড়ে পাহারায়। মা লক্ষ্মী যে সম্পদ সবার অজ্ঞাতে রাত্রিবেলা দিয়ে আসেন গৃহস্থের ঘরে ঘরে, তা রক্ষার দায়িত্ব পেঁচার।
অবশ্য হিন্দু শাস্ত্রে কোথাও পেঁচাকে লক্ষ্মীর বাহন হিসেবে বসতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন পুরাণে লক্ষ্মী দেবীর বিভিন্ন রূপের বর্ণনা থাকলেও পেঁচা সম্পর্কে আশ্চর্য নীরব থেকেছেন পুরাণকারেরা। মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত চণ্ডী অনুসারে দেবগণের যে বাহন, তাঁদের শক্তিরুপিণী দেবীগণেরও সেই বাহন। বিষ্ণুর বাহন গরুড়, অতএব লক্ষ্মী দেবীর বাহনও গরুড় হওয়া স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তা হয়নি। কারও কারও মতে, গরুড়ের স্ত্রীরূপ কল্পনা করা পেয়েছে কোনও ‘গোষ্ঠী-প্রতীক’ এই পেচক বা পেঁচার মধ্যে। তাই পেঁচা ঠাঁই পেয়েছে লক্ষ্মীর চরণে।
কিন্তু লক্ষ্মীর প্রথম পছন্দ ছিল সিংহ। বেশ খুশিই ছিলেন এই সিংহ বাহন নিয়ে। ধারেকাছে কেউ আসবে না সিংহের ভয়ে। সেফ ড্রাইভ। প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময়কার স্বর্ণমুদ্রায় লক্ষ্মীর বাহন হিসেবে সিংহকেই দেখা যায়। আবার সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বের প্রথমদিকে সিংহবাহিনী মা লক্ষ্মীকে দেখা যায়। আর্যরা এসে পৌঁছনোর আগে নিরাকার প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানকে প্রতীক হিসেবে পূজাই গোষ্ঠীগুলিতে প্রচলিত ছিল। দেবদেবীর মূর্তি কল্পনা তখন আকার পায়নি। গোষ্ঠী-প্রতীক ধীরে ধীরে মূর্তির অঙ্গ হিসেবে পূজিত হওয়ার বিবর্তনের কথাই বিভিন্ন পুরাণ বা শাস্ত্রে কথিত হয়ে চলেছে। যদি সিংহ নিয়েই আলোচনা হয়, দেখা যাবে সিংহ এদেশেরই নয়। রোমিলা থাপার, বাল্মিকী থাপার ও ইউসুফ আনসারির লেখা, Exotic Aliens: The Lion & the Cheetah in India বইতে রোমিলা থাপার বলছেন, সিংহ আদৌ ভারতবর্ষের নয়; সিংহ আনা হয়েছিল পশ্চিম এশিয়া, ইরান এই অঞ্চল থেকে।
সিন্ধু সভ্যতায় সিংহের দেখা পাওয়া যায়নি। দেবী দুর্গা ছিলেন মহিষমর্দিনী। ভারতে দুর্গার বাহন হিসেবে বাঘের দেখা মিলেছিল প্রাচীন ভাস্কর্যে। শ্রীশ্রী চণ্ডীর ব্যাখ্যায় পাওয়া যায়, দেবতাদের সম্মিলিত তেজঃপুঞ্জ থেকে দেবী দুর্গার উদ্ভব। তারপর বিভিন্ন দেবতা একে একে দিলেন বিভিন্ন সাজপোশাক, অস্ত্র-শস্ত্র। আর হিমালয় দিলেন ‘বাহনকেশরী’, ‘ধূতসট’, মানে সিংহ। কিন্তু হিমাচল প্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীরে দুর্গার বাহন সিংহ নয়, বাঘ। এইসব গোলকধাঁধায় না ঢুকে সমাজবিদদের একটা মতের উল্লেখ করা যায়। তা হল, সিংহ ছিল আর্যদের কোনও এক গোষ্ঠীর ‘টোটেম’। তাই তার রং ফর্সা। আর মহিষ তথা মহিষাসুর হল অনার্যদের গোষ্ঠী-প্রতীক। পুরাণের কথা যেহেতু শুরু হয়েছে ষষ্ঠ শতকে, তাই তখন থেকেই এই দুই খাদ্য-খাদকের সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মূর্তির মাধ্যমে। পূজ্য। সংরক্ষণীয়।
সমুদ্রগুপ্তের জমানার শেষদিকে কিছু কিছু মুদ্রায় দেখা গেল ময়ূরকে বাহন করে আবির্ভূতা মা লক্ষ্মী। কুমারগুপ্তের সময়ের মুদ্রায় দেখা যায়, লক্ষ্মীদেবী একটি ময়ূরকে খাওয়াচ্ছেন। এই লক্ষ্মীমূর্তি আজও দক্ষিণ ভারতের অনেক জায়গায় পুজো হয়। পরবর্তীকালে ময়ূর চলে গেল পেখম নাচিয়ে কার্তিকের সঙ্গে। দেখা গেল, লক্ষ্মী তখন হাঁস নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সপ্তম শতাব্দী অর্থাৎ যখন গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক... সেই সময়কার মুদ্রায় দেখা গিয়েছে লক্ষ্মীর এই হাঁস বাহনকে। সেই মুদ্রায় দেখা যায়—মা লক্ষ্মী দাঁড়িয়ে আছেন, ডান হাতে পদ্ম। পদ্মলতা ছড়িয়ে আছে পশ্চাতপটে, আর পায়ের কাছে শ্বেতশুভ্র হংস বা সাদা হাঁস। পরবর্তী কালে হাঁস চলে গেল বোন সরস্বতীর কাছে। প্রথমে কিন্তু জ্ঞান ও সম্পদের দেবী আলাদাভাবে পূজিত হতেন না! একসঙ্গেই হতো তাঁদের আরাধনা। পরে আলাদা হল। তখন বোন সরস্বতীর বায়নায় লক্ষ্মী মায়া ত্যাগ করলেন হাঁসের। মা দুর্গার কাছে সিংহের যাত্রা তো এই সেদিনের কথা! ভাই কার্তিকের কাছে চলে গেল ময়ূর। সেও তো নানা গণ্ডগোল।
পশ্চিম ভারতে বিশেষ করে বোম্বাই অঞ্চলে সরস্বতী আবার ময়ূরবাহিনী। পুরাতত্ত্ববিদ জেনারেল কানিংহাম বলেন, সরস্বতী নদীর তীরে ময়ূরের প্রাচুর্যের কারণে দেবী সরস্বতীর বাহন ময়ূর কল্পনা করা হয়েছে। আবার কোনও কোনও সমাজবিদ বলেন, প্রাচীন ভারতবর্ষের মৌর্য বংশের রাজত্বের সময়কালে উত্তর-পশ্চিম ভারতের হরিয়ানা সংলগ্ন অঞ্চলে ‘যৌধেয়’ নামে এক কার্তিক উপাসক গোষ্ঠী বসবাস করত। যাদের গোষ্ঠী-প্রতীক ছিল ময়ূর। সে হিসেবে ময়ূর কালক্রমে দুই বোন লক্ষ্মী আর সরস্বতীর হাত ঘুরে চলে এসেছে শেষ পর্যন্ত যোদ্ধা কার্তিকের কাছে। শুধু কি ময়ূর! শ্রী শ্রী চণ্ডীর বিখ্যাত টীকাকার গোপাল ভট্ট বলছেন, ‘কুক্কুটোহপি কার্ত্তিকেয়স্য বাহনম্’। তাহলে কুক্কুট অর্থাৎ মোরগও কোথাও না কোথাও কার্তিকের বাহন ছিল। বঙ্গদেশে তথা গৌড়বঙ্গে ছিল না ময়ূর। ছিল কুক্কুট, মানে মোরগ। তাই কি শাস্ত্রকারেরা মোরগকে ময়ূরের পরিবর্ত হিসেবে দেখার বিধান দিয়েছেন! মহাভারতে আছে অগ্নিদেব কুমারকে দিয়েছিলেন কুক্কুট; আবার মৎস্যপুরাণে আছে, বিশ্বকর্মা দিয়েছিলেন কুক্কুট। যদিও স্বভাবে মোরগ ও ময়ূরের সাদৃশ্য দেখিয়েছেন পণ্ডিতেরা—যুদ্ধ, প্রাতরুত্থান, ভোজন ও স্ত্রীরক্ষা। এই স্বভাব এবং সৌন্দর্য কার্তিকের সঙ্গেই মানানসই। সিংহ, হাঁস, পেঁচা, ময়ূর নিয়ে ভাইবোনেদের টানাটানির মধ্যে গণেশ কিন্তু নিজের বাহন নিয়ে কোনওদিনই কোনও ওজর আপত্তি তোলেননি। গণেশ পূজায়—‘মোক্ষার্থী লভতে গতিম্’ সবার জানা। জ্ঞান মোক্ষ লাভ করলে অষ্টপাশ ছিন্ন করে অগ্রসর হওয়ার কল্পরূপে প্রকাশ পায়। ঘৃণা, অপমান, লজ্জা, মান, মোহ, দম্ভ, দ্বেষ, বৈগুণ্য—অষ্টপাশ। এই ফাঁস কেটে মানুষকে মোক্ষের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বাহন হল মূষিক। সবার অলক্ষ্যে ক্ষুদ্র এই প্রাণী কুট কুট করে একটি একটি ফাঁস, তথা সংসারের মায়াজাল কেটে সিদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। কুমেরু ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র ইঁদুরের অস্তিত্ব। ইঁদুরকে আসলে অনার্যকৃষ্টি, কৃষিকৃষ্টি, রাত্রির প্রতীক রূপে ব্যাখ্যা করা হয়। আবার হাতির সঙ্গে ইঁদুরের সম্পর্ক বেশ গভীর। পৃথিবী গণেশকে মূষিক উপহার দিয়েছিলেন—‘পৃথ্বী মূষিকবাহনম্’ (বৃহদ্ধর্মপুরাণ)। তবে মূষিক বা ইঁদুর নিয়ে টানাটানি খুব একটা হয়নি।
আর এক বাহন নিয়েও খুব একটা সমস্যা হয়নি... তা হল, শিবের বাহন বৃষভ। মহাভারতের সেই উপাখ্যান... দক্ষ-প্রজাপতি ক্ষিপ্ত রুদ্র তথা শিবকে দান করেছিলেন গাভী সহ বৃষ। শিব বৃষভকে বাহন রূপে গ্রহণ করে ঘুরে বেড়ালেন। বৈদিকে যিনি রুদ্র, পুরাণে তিনিই শিব। ঋগ্বেদে রুদ্রকে বলা হয়েছে ‘বৃষভ’, সেই ‘বৃষভ’ পুরাণে হয়েছে শিবের বাহন। ‘বৃষভ’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ, বলবান ও শুক্রল। অসীম শক্তিধর শিবের যথোপযুক্ত বাহন... যাঁর শক্তিময় কর্ষণে পৃথিবী শস্যবতী হয়ে ওঠে।
আসলে দুর্গা পরিবারের এই বাহন-সমস্যাটা খুব প্রাচীন নয়। সব গণ্ডগোল চতুর্থ শতাব্দী থেকে সপ্তম-অষ্টম শতাব্দী পর্যন্ত। এখন মা দুর্গা পূজিত হচ্ছেন নানা পশুপাখির সমাহারে—সিংহ, মহিষ, ময়ূর, পেঁচা, হাঁস, ইঁদুর, আর আছে সাপ। একদম প্রাথমিক পর্যায়ে মা কিন্তু একাই আসতেন। সমষ্টিগত এই পুজোয় একটা সম্পূর্ণ ইকো-সিস্টেম মাতৃ আরাধনার মধ্য দিয়ে মানুষের সামনে হাজির করার এক চিরন্তন বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ হয় পুরাণকালে। দেব-দেবী পুজোর মধ্য দিয়ে তাঁদের বাহনকেও পূজ্য করে তোলা, রক্ষা করার ব্রত পালন। এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করার জন্য এত সুন্দর ও সহজ করে সেই সময়কার শাস্ত্রকারেররা বিষয়টি ভেবেছেন যে, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভাবলে অবাক হতে হয়। পূজার ছলেই রক্ষার নিয়ম। সংরক্ষণের বীজ বপন হয়েছিল তখনই। আসলে দেবী দুর্গা যেভাবে, যে যে উপাচারে পূজিত হন, তার প্রতিটি পর্যায়ে আছে প্রকৃতির প্রতীক। যা চলে এসেছে সেই গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষের সময়কাল থেকে। এক এক গোষ্ঠীর প্রতীক এক একটি পশু বা পাখি। যা হয়তো ওই গোষ্ঠীর এলাকায় বেশি ছিল। কিন্তু খাওয়া বা স্রেফ আনন্দের তাগিদে মেরে ফেলার জন্য হয় সংখ্যায় কমে যাচ্ছিল, কিংবা বিলুপ্ত হতে বসেছিল। তাই সেই পশু-পক্ষী তথা জীবকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হল পুরাণকালে। এক এক গোষ্ঠীর প্রতীক আলাদা আলাদা। সুতরাং দেব-দেবীর এই বাহন কল্পনা আসলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর টোটেমকে স্বীকৃতি দেওয়া। এই স্বীকৃতি দেওয়ার মূল উদ্দেশ্যই ছিল প্রাণীগুলিকে প্রণাম ও ভক্তির মধ্য দিয়ে বাঁচানো এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখা। এই যে দুর্গামণ্ডপে নবপত্রিকা পুজো... গণেশ ঠাকুরের পাশে লালপাড় শাড়ি পরে ঘোমটা মাথায় লজ্জাবনত। নবপত্রিকা পুজোর মধ্য দিয়ে উদ্ভিজ্জ প্রকৃতিকে রক্ষা করা তথা পূজার বার্তা। নবপত্রিকায় থাকে কলা, কাঁচা হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মান, কচু, এবং ধান। একটি কলাগাছকে স্নান করিয়ে একজোড়া বেল সাদা অপরাজিত লতা দিয়ে বেঁধে লালপাড় শাড়ি পরিয়ে ঘোমটা দিয়ে রাখা হয় এবং পুজো করা হয়। পুজো করা হয় আসলে উদ্ভিদ সম্পদকে। প্রাণী ও উদ্ভিদ রক্ষা করার এবং তার ভারসাম্য রক্ষা করার এক সুন্দর উপায় এই পূজা পদ্ধতি। সুন্দর এক সামাজিক মেলবন্ধন উৎসবের মোড়কে ছড়িয়ে দিয়েছে ‘ইকো সিস্টেম’-এর এক মহান ব্রতকথা। সংরক্ষণের ব্রতপালন। কত কত বছর আগে আজকের ভয়ঙ্কর পৃথিবীর অবস্থার কথা কি ভেবেছিলেন তাঁরা! নিশ্চয়ই ভেবেছিলেন। এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা ফুটোফাটা ফুসফুসে বিষাক্ত বায়ু নিয়ে শুকনো জমির নীচে শেষ হয়ে যাওয়া জলের দিকে তৃষ্ণার্ত তাকিয়ে আছি। অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে আজ পৃথিবীর বুকে। সংরক্ষণ দরকার এই পৃথিবীর উদ্ভিদ ও প্রাণীকূলের। চারিদিকে হাহাকার। আর কোজাগরী পূর্ণিমার ছড়িয়ে পড়া দুধেল চাদরের জোৎস্নায় সারারাত লক্ষ্মী উড়ে চলেন, এক বসত থেকে অন্য বসতে। লক্ষ্মীপেঁচা ঘোলাটে এই নগরের আকাশে উড়ে চলে অতীব কষ্টে। তার সবুজ বসত, সোনালি ফসল, শস্যভরা এই দেশ খাঁ খাঁ করছে। কোথায় নামবে! কোনখানে জুড়োবে তার ডানা!
এত বলি লক্ষ্মী দেবী ভাবে মনে মনে।
মর্ত্যের এ দুঃখ নাশ করিব কেমনে।।
চিন্তান্বিত হয় কন নারায়ণ প্রতি।
কিরূপে নাশিব বল নরের দুর্গতি।।
চৈ হাত জোড় করে শুনছে দিদুনের পাশে বসে। পিসুন আছে, রাঙা কাকি আছে। আশপাশে আরও কয়েকজন আছেন দিদারা। তাঁদের ঠিক চেনে না সে। হাতে দূর্বা আর আতপ চাল নিয়েছে সবার মতো। বেশ ইন্টারেস্টিং লাগছে গল্পের মতো ব্রতকথা শুনতে। ছড়ায় ছড়ায় কথাবার্তা চলছে। দিদুন সুর করে দুলে দুলে পড়ছে। চৈ মন দিয়ে শুনছে সব কথাগুলো। লক্ষ্মী ভাবছে কী করে এই দুর্গতি থেকে মানুষকে রক্ষা করা যায়। চারিপাশে হিংসা, দ্বেষ, অপমান আর ক্লেদ। ঘুমিয়ে আছে সবার চেতনা। জ্ঞান। অন্ধের মতো চলেছে মৃত্যুর দিকে, ধ্বংসের ধ্বজা নিয়ে। কোজাগরী পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে। আজকের রাত অনেক অনেক বেশি স্বচ্ছ। সাদা ডানা মেলে লক্ষ্মীপেঁচা আকাশে। ধান্য কলস নিয়ে বরদা লক্ষ্মী। ‘নিশীথে বরদা লক্ষ্মী কো জগর্তীতি ভাষিনী’। কে জেগে আছ! উনি লক্ষ রাখছেন। কে জেগে আছ? কোঃ জাগরী। জেগে থাক। জেগে থাকাটাই আজ ধর্ম। ‘জাগ্রত যে ভালো’। দিকে দিকে শঙ্খধ্বনি শোনা গেল। উলুধ্বনি আকাশে বাতাসে। সারা প্রকৃতি জেগে ওঠার জয়গান গেয়ে উঠছে। কোঃ জাগরী! সমস্ত জীবজগৎ জেগে উঠুক।
দিদুন গলায় আঁচল জড়িয়ে উবু হয়ে নমস্কার করল। সবার দেখাদেখি নমো করল চৈ আর হৈ। দিদুন আজ জেগে থাকবে? দিদুন কোলে টেনে নেয়, দিদিভাই সবসময়েই জেগে থাকতে হয়। সেটা মনে মনে... জেগে থাকাটাই জ্ঞান অর্জন... তোমরাও জেগে থেকো, আশীর্বাদ করি...।

ছবি ও গ্রাফিক্স  সোমনাথ পাল
সহযোগিতায়  অভিষেক গোস্বামী 
13th  October, 2019
আরাধনা ৫০
সমৃদ্ধ দত্ত

 রবি শর্মার বাড়িতে গুরু দত্ত এসেছেন। প্রায় মধ্যরাত। এত রাতে কী ব্যাপার? রবি শর্মা চোখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি। গুরু দত্ত বললেন, ‘রবি আমি একটা গান চা‌ই। একটি মানুষ অনেক রাত পর্যন্ত মুশায়রার আসর থেকে বাড়ি ফিরেছে। তার সবেমাত্র বিয়ে হয়েছে। অপূর্ব সুন্দরী স্ত্রী। সেই মেয়েটি স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে করে একসময় ঘুমিয়ে পড়েছে। স্বামী ভদ্রলোক বাড়ি ফিরে দেখছেন স্ত্রী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
বিশদ

03rd  November, 2019
ডাকাত কালী
সুভাষচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

 কয়েকশো বছর আগের কাহিনী। তখন এখানে চারপাশে ঘন জঙ্গল। বহু জায়গায় সূর্যালোক পর্যন্ত পৌঁছত না। ছিল একাধিক হিংস্র পশুও। পাশেই সরস্বতী নদীর অববাহিকা। সেখানে বহু ডাকাতের বসবাস ছিল। বাংলার বিখ্যাত রঘু ও গগন ডাকাতও এই পথ দিয়ে ডাকাতি করতে যেতেন।
বিশদ

27th  October, 2019
মননে, শিক্ষায় পুরোপুরি বাঙালি

সুইডিশ অ্যাকাডেমি ঘোষণাটা করার পর কিছু সময়ের অপেক্ষা। আগুনের মতো খবরটা ছড়িয়ে গিয়েছিল গোটা দেশে... একজন বাঙালি, একজন ভারতীয় আরও একবার জগৎসভায় দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। অমর্ত্য সেনের পর অর্থনীতিতে নোবেল পাচ্ছেন তিনি। বিশদ

20th  October, 2019
অর্থনীতিতে নীতি
অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়

 লেখাটা শুরু করা যেতে পারে আমার ছাত্রজীবনে রাশিবিজ্ঞানের ক্লাসে শোনা একটা গল্প দিয়ে। কোনও একসময় ইংল্যান্ডের স্কুলশিক্ষা দপ্তর ঠিক করেছিল, স্কুলের বাচ্চাদের দুধ খাইয়ে দেখবে তাদের স্বাস্থ্যের উপর তার কোনও সুপ্রভাব পড়ে কি না। সেইমতো স্কুলগুলিতে কোনও একটি ক্লাসের অর্ধেক বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো হয় এবং বাকিদের তা দেওয়া হয়নি। বিশদ

20th  October, 2019
প্র তি মা র বি ব র্ত ন
সোমনাথ দাস

বর্ষা আর শরৎ এখন মিলেমিশে একাকার। বিশ্ব উষ্ণায়নের কৃপাদৃষ্টিতে শহরবাসীর পক্ষে আর এই দু’টি ঋতুকে আলাদা করা সম্ভব নয়। তবে ভাদ্রের সমাপ্তি এবং আশ্বিনের সূচনা বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে এক অনাবিল আনন্দ। মা দুর্গার আগমনবার্তায় আমাদের হৃদয় নেচে ওঠে।   বিশদ

29th  September, 2019
পুজোর ফুলের যন্ত্রণা
বিশ্বজিৎ মাইতি

 বিশ্বজিৎ মাইতি: হাওড়া‑খড়্গপুর রেলওয়ে শাখার বালিচক স্টেশন। মার্চ মাসের এক শুক্রবারের সকালে বেশ কয়েকজনকে ধরেছেন টিটি। বিনা টিকিটে ট্রেন সফর। তাঁদের মধ্যে এক যুবকের হাতে গোটা চারেক বস্তা। হাতে একগুচ্ছ ব্যাগ। গাল ভর্তি দাড়ি। উসকো-খুসকো চুল। পরনে নানান দাগে ভর্তি জামা ও হাফপ্যান্ট। করুণ চোখে আচমকাই নিজের মানিব্যাগ টিটির মুখের সামনে দেখিয়ে ধরা গলায় বলল, ‘স্যার একটা টাকাও নেই। পুরো শরীর চেক করে দেখুন...।
বিশদ

22nd  September, 2019
ভো-কাট্টা

বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোটা সমার্থক হয়ে গিয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজো মানেই আকাশজোড়া ঘুড়ির আলপনা। অসংখ্য ঘুড়ির ভেলায় যেন স্বপ্ন ভাসে। বহু কৈশোর আর যৌবনের মাঞ্জায় লেগে আছে ঘুড়ি ওড়ানোর স্মৃতি। যে ছেলেটা কোনওদিন সকাল দেখেনি, সেও বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে সূর্য ওঠার আগেই ঘুড়ি-লাটাই নিয়ে ছাদে উঠে যায়।  
বিশদ

15th  September, 2019
নির্মাণশিল্পী বিশ্বকর্মা
সন্দীপন বিশ্বাস

জরাসন্ধ তখন প্রবল প্রতাপান্বিত। বারবার মথুরা আক্রমণ করছিলেন। কিন্তু সপ্তদশ প্রচেষ্টাতেও মথুরা জয় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই ফের তিনি মথুরা আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে লাগলেন। কৃষ্ণ অবশ্য জানতেন জরাসন্ধ কিছুতেই মথুরা জয় করতে পারবেন না।
বিশদ

15th  September, 2019
আগুন বাজার
বীরেশ্বর বেরা

 ‘কেন? আপনি যে পটল বেচছেন, এমন পটল তো আমরা ৩০-৩২ টাকায় কিনছি!’ গ্রাম্য যুবক তাঁর আপাত-কাঠিন্যের খোলস ছেড়ে সহজ হয়ে গেলেন হঠাৎ। তেলের টিনের উপর চটের বস্তা বেঁধে টুলের মতো বসার জায়গাটা এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘বসুন তাহলে, বলি। বিশদ

08th  September, 2019
সমাপ্তি
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর প্রকাশিত রচনাবলীর খণ্ড সংখ্যা ৯০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এ পর্যন্ত জওহরলাল নেহরুর লেখা নিয়ে প্রকাশিত যত রচনা আছে, তা প্রায় ৫০ খণ্ড অতিক্রান্ত। বাবাসাহেব আম্বেদকরের সারা জীবনের যাবতীয় রচনা সমন্বিত করে এখনও পর্যন্ত ১৬টি খণ্ডসংবলিত রচনাবলী প্রকাশ পেয়েছে। 
বিশদ

01st  September, 2019
রাজীব ৭৫
মণিশঙ্কর আইয়ার

 ছিয়াশি সালের ডিসেম্বর। অঝোরে তুষারপাত হচ্ছে। আমরা যাচ্ছি কাশ্মীর। কিন্তু একটা সময় আর্মি জানাল, আর যাওয়া সম্ভব নয়। এত তুষারপাতে হেলিকপ্টার ওড়ানো যাবে না। তাহলে? যাব কী করে? বাকিরাও বলল, দিল্লি ফিরে চলুন। কিন্তু প্রধাননমন্ত্রী বললেন, তা হয় না। যাব যখন বলেছি যেতে হবে। লোকেরা অপেক্ষা করে থাকবে যে!
বিশদ

25th  August, 2019
শতবর্ষে  সারাভাই
মৃন্ময় চন্দ

চন্দ্রযান-২’র সাফল্যে গর্বিত ভারত। অভিজাত মহাকাশ ক্লাবের সদস্যদেশগুলির সঙ্গে ভারত আজ এক পংক্তিতে। মহাকাশ গবেষণায় ভারতের ঈর্ষণীয় সাফল্যের রূপকার নিঃসন্দেহে ক্ষণজন্মা বিরল প্রতিভাধর মিতভাষী এক বিজ্ঞানী—বিক্রম সারাভাই। একার হাতে যিনি গড়ে দিয়ে গেছেন ভারতের বিপুলা মহাকাশ সাম্রাজ্য। ১২ই আগস্ট ছিল তাঁর জন্মশতবার্ষিকী। বিশদ

18th  August, 2019
জয় জওয়ান

ঝুঁকি শব্দটি যখনই উল্লেখ করা হয়, তখনই তার সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যুদ্ধের বিষয়টি এসে পড়ে। কিন্তু শুধু যুদ্ধে নয়, ঝুঁকি রয়েছে প্রশিক্ষণ পর্বেও। একজন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে নানাভাবে তৈরি হতে হয়। আকাশপথে সেই প্রশিক্ষণ যখন শুরু হয়, তখন প্রতিটি স্তরেই ঝুঁকি থাকে। সেগুলো অতিক্রম করে সাফল্য পাওয়াই একজন পাইলটের কাছে চ্যালেঞ্জ। বিশদ

11th  August, 2019
জাতীয়তাবাদ ও রবিঠাকুর 
সমৃদ্ধ দত্ত

জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা তাঁর কাছে আলাদা। বিশ্বাস করতেন, গ্রামই ভারতের চেতনা। সম্পদ। তাই শুধু ইংরেজ বিরোধিতা নয়, রবিঠাকুরের লক্ষ্য ছিল ভারতের উন্নয়ন। ভারতবাসীর উন্নয়ন। তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলা। অন্যরকম তাঁর স্বদেশপ্রেম। আরও এক ২২ শ্রাবণের আগে স্মরণ এই অন্য রবীন্দ্রনাথকে। 
বিশদ

04th  August, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: আগামী ২২ থেকে ২৬ নভেম্বর কলকাতায় হবে টাটা স্টিল র‌্যাপিড - ব্লিৎজ টুর্নামেন্ট। এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের প্রথম ১৫ জন গ্র্যান্ডমাস্টারের মধ্যে দশজন যোগ ...

সংবাদদতা, আলিপুরদুয়ার: ২০২১ সালে বিধানসভা ভোট। তার আগেই রয়েছে আলিপুরদুয়ার পুরসভার ভোট। এই জোড়া নির্বাচনকে পাখির চোখ করে জেলায় বন্ধ চা বাগানের ইস্যুকে হাতিয়ার করে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমে পড়েছে গেরুয়া বাহিনী। অন্যদিকে বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল শিবিরে ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণীর আসা বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে। সরকারের এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে স্কুলগুলিতে যে অতিরিক্ত ক্লাসরুমের বন্দোবস্ত করতে হবে, তার ...

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রাস উৎসবকে সামনে রেখে নবদ্বীপে ফেরিঘাটগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হল। রাসের দিনগুলিতে ফেরিঘাট দিয়ে কয়েক লক্ষ মানুষের আনাগোনা লেগে থাকে। ফলে তাদের পারাপার ও নিরাপত্তা নিয়ে নবদ্বীপের ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হয়েছেন। পাশাপাশি নবদ্বীপ পুরসভা ও ব্লক প্রশাসনও এনিয়ে তৎপর। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যবসা সূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬২- সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি পুরুষ ওস্তাদ আলাউদিন খাঁর জন্ম।
১৮৯৫- জার্মান পর্দাথবিদ উইলিয়াম কনরাড রঞ্জন এক্স রে আবিষ্কার করেন।
১৯১০ - ওয়াশিংটনের নির্বাচনে প্রথম কোনও মহিলা ভোট দেন।
১৯২৭- রাজনীতিক লালকৃষ্ণ আদবানির জন্ম
১৯৩৬ - প্রখ্যাত হিন্দী কথাসাহিত্যিক মুনশি প্রেমচাঁদের মৃত্যু
১৯৪৭ – সঙ্গীতশিল্পী ঊষা উত্থুপের জন্ম
১৯৭৬ - ক্রিকেটার ব্রেট লি’র জন্ম
২০১৭ – ভারতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল হয়





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৪৮ টাকা ৭২.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৯.১২ টাকা ৯৩.৪৫ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৪ টাকা ৮০.৪৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৮২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৮৩৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,৭৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,৮৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২১ কার্তিক ১৪২৬, ৮ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, একাদশী ১৬/৩০ দিবা ১২/২৫। পূর্বভাদ্রপদ ১৫/৫৯ দিবা ১২/১২। সূ উ ৫/৪৮/২৭, অ ৪/৫২/২১, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৩ মধ্যে পুনঃ ৭/১৭ গতে ৯/৩০ মধ্যে পুনঃ ১১/৪২ গতে ২/৩৯ মধ্যে পুনঃ ৩/২৩ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৫/৪৪ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৬ গতে ৩/১৩ মধ্যে পুনঃ ৪/৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/৩৫ গতে ১১/২১ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৬ গতে ৯/৪৩ মধ্যে। 
২১ কার্তিক ১৪২৬, ৮ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, একাদশী ১৫/৫৮/১৯ দিবা ১২/১২/৪৩। পূর্বভাদ্রপদ ১৭/৫৮/২৫ দিবা ১/০/৪৫, সূ উ ৫/৪৯/২৩, অ ৪/৫৩/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৪ মধ্যে ও ৭/২৭ গতে ৯/৩৬ মধ্যে ও ১১/৪৫ গতে ২/৩৭ মধ্যে ও ৩/২০ গতে ৪/৫৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৩৯ গতে ৯/১১ মধ্যে ও ১১/৫০ গতে ৩/২২ মধ্যে ও ৪/১৫ গতে ৫/৫০ মধ্যে, বারবেলা ৮/৩৫/২১ গতে ৯/৫৮/২০ মধ্যে, কালবেলা ৯/৫৮/২০ গতে ১১/২১/১৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৭/১৬ গতে ৯/৪৪/১৭ মধ্যে। 
১০ রবিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আগামীকাল অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করবে সুপ্রিম কোর্ট

09:17:50 PM

এবার হকি বিশ্বকাপ ভারতে
২০২৩ সালে পুরুষদের এফআইএইচ হকি বিশ্বকাপ আয়োজন করবে ভারত। ...বিশদ

05:08:38 PM

পদত্যাগ করলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী
 মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। সরকার গড়ার ...বিশদ

05:01:39 PM

আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হল এবছরের আন্তর্জাতিক কলকাতা ফিল্ম উৎসবের

05:01:00 PM

বর্ধমান স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে জখম বহু
বর্ধমান স্টেশনে ৪ ও ৫ নম্বর প্লাটফর্মের মাঝে ফুটওভারব্রিজে ওঠানামা ...বিশদ

04:54:00 PM

গান্ধী পরিবারের এসপিজি নিরাপত্তা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের: সূত্র 

03:53:10 PM