Bartaman Patrika
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

পুজোর ফুলের যন্ত্রণা
বিশ্বজিৎ মাইতি

হাওড়া‑খড়্গপুর রেলওয়ে শাখার বালিচক স্টেশন। মার্চ মাসের এক শুক্রবারের সকালে বেশ কয়েকজনকে ধরেছেন টিটি। বিনা টিকিটে ট্রেন সফর। তাঁদের মধ্যে এক যুবকের হাতে গোটা চারেক বস্তা। হাতে একগুচ্ছ ব্যাগ। গাল ভর্তি দাড়ি। উসকো-খুসকো চুল। পরনে নানান দাগে ভর্তি জামা ও হাফপ্যান্ট। করুণ চোখে আচমকাই নিজের মানিব্যাগ টিটির মুখের সামনে দেখিয়ে ধরা গলায় বলল, ‘স্যার একটা টাকাও নেই। পুরো শরীর চেক করে দেখুন...। পুরনো টিকিট আছে গোটা কয়েক। জেলে ভরুন, না হয় ক্ষমা করে ছেড়ে দিন।’ থমথমে মুখে কিছু সময় চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলেন টিটি। এরপর ঘাড় নাড়লেন। নিঃশব্দ অনুমতি। স্টেশনের বাইরে বটগাছের তলায় আনমনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সজল জানা... সেই টিকিটহীন যুবক। কিছুক্ষণ পর পাশের দোকান থেকে ৩০ টাকা ধার নিলেন। কৌতূহলবশত জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘দাদা, টিটি কি পরিচিত নাকি? কী করেন? পিক পকেট হয়েছে?’ নানান প্রশ্নে কিছু সময় চুপ করে বললেন, ‘সুদে টাকা ধার নিয়ে ফুল লাগিয়েছিলাম বিঘে দু’য়েক জমিতে। পরপর দু’দিন ফুল বিক্রিই হল না। রূপনারায়ণের জলে ফেলে দিয়ে আসতে বাধ্য হলাম। রাত দেড়টায় বাড়ি থেকে ৬০ কেজি ফুল নিয়ে বেরিয়েছিলাম। বাড়ি ফেরার টাকা পর্যন্ত হল না।’ কিছুক্ষণ চুপ। ফের ধরা গলায় বলেন, ‘এখন ফুল চাষের জন্য কীটনাশক, ছেলের ওষুধ কোথা থেকে নিই বলুন তো? এর থেকে টিটি জেলে ভরে দিলেই শান্তি পেতাম!’
শুধু সজলবাবু নন, পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং, পিংলা, পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার বহু চাষিকেই বছরের বিভিন্ন সময় এমন সঙ্কটের মুখে পড়তে হয়। রাস্তার ধারে, নদী কিংবা খালে এত যত্নের কুইন্টাল কুইন্টাল ফুল ফেলে দিতে হয় বাড়ি ফেরার আগে। একবুক শূন্যতা... পরের দিনের খাবাবের টাকার চিন্তা সঙ্গী হয় নিত্যদিন। অথচ, পাড়ার মোড়ের দোকানে ১০ টাকা দিলে গোটা কয়েক ফুল ও বেলপাতা ধরিয়ে দেয়। গাঁদাফুলের একটা মাঝারি সাইজের মালার দাম নেয় কোথাও দশ টাকা, কোথাও পনেরো টাকা। সামনেই শারদীয়া উৎসব। পদ্ম ছাড়া মায়ের আরাধনার কথা ভাবাই যায় না। পুজোর দিনগুলিতে ওই পদ্ম প্রতি পিস ২০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। ফুল আজ ব্যবসা। বড় ব্যবসা। প্রচুর টাকার লেনদেন। যার কণামাত্র পৌঁছয় না সজল জানাদের কাছে।
এর শিকড়টা রয়েছে খানিকটা অতীতের পথে। আসলে কয়েক দশক আগেও বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ আমাদের রাজ্যে সেইভাবে হতো না। বাড়ির সামনের বাগানে লাগানো গাছের ফুল দিয়েই হতো দেবসেবা। ভোররাতে ওই ফুল তুলে কিছু মানুষ শহরের বিভিন্ন বাজারে বসতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎসব-অনুষ্ঠানে ফুলের ব্যবহার বাড়তে শুরু করে গ্রাম থেকে শহরে। আর সেই বাজার ধরতেই ব্যবসায়ীদের উৎসাহে ছয়ের দশক থেকে গ্রাম বাংলার উঁচু ধানের জমিতে ফুলচাষের সূত্রপাত। বর্তমানে গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, অপরাজিতা, দোপাটি, চন্দ্রমল্লিক, জবা, গ্ল্যাডিওলাস, করণ, জারবেরাল আস্টার, ডালিয়া, বেল, জুঁই চাষ হচ্ছে। এছাড়া হচ্ছে অ্যাসপেরাস, বটলব্রাস, ঘোড়াপামের মতো নানান বাহারি পাতাও। এক সময় অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলা ফুলচাষে রাজ্যে প্রথম ছিল। এখন রাজ্যে প্রথম নদীয়া, দ্বিতীয় পূর্ব মেদিনীপুর, তৃতীয় পশ্চিম মেদিনীপুর, চতুর্থ স্থানে হাওড়া জেলা। পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট স্টেশন সংলগ্ন ফুলবাজার, ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দেউলিয়া ফুল বাজার ও পাঁশকুড়ার সরকারি ফুল বাজার ছাড়াও ছোটখাটো বেশ কয়েকটি ফুল বাজার রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর বা হাওড়ায় তেমন কোনও ফুলের বাজার নেই। এছাড়া নদীয়ার বীরনগর, তাহেরপুর, বাদকুল্লা, মাঝেরগ্রামে বড় ফুল বাজার বসে। রাতভর জেগে প্রথমে সাইকেল, তারপর বাস ও ট্রেনে চেপে বাজারে ফুল আনেন চাষিরা। এইসব বাজার থেকে ফুলের বড় অংশ আসে কলকাতার মল্লিকঘাট ফুল বাজারে। মল্লিকঘাট থেকে একাধিক হাত হয়ে ওই ফুল পাড়ার বাজারে পৌঁছয়। ফুলের দামের বিষয়টি ঠিক হয় অন্যান্য কৃষিপণ্যের মতোই। বিয়ে বা পুজোর মরশুম ছাড়া চাষিকে চোখের জল ফেলে ফুল বেচতে হয়। এ বছর বৃষ্টির জন্য সিংহভাগ চাষির ফুল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেই ক্ষত মেরামতের আগেই এসেছে পুজোর মরশুম। সেকারণে কোলাঘাট ও পাঁশকুড়ার ফুল বাজারে এখন কেজিপ্রতি গাঁদা বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। তিন ফুট লম্বা ২০টি গাঁদার মালার দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। কেজি প্রতি রজনীগন্ধা ৩০০ টাকা, বেল ৩২০ টাকা, জুঁই ৪০০ টাকা, দোপাটি ৩০ টাকা, অপরাজিতা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক হাজার জবা ফুলের দাম ২৫ টাকা, প্রতি পিস গোলাপ ২ টাকা। আর পদ্ম এখন বিকোচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা প্রতি পিস।
দেবদেবীর পুজোর দিন বিশেষে ফুলের চাহিদা বাড়ে-কমে। কালীপুজোয় জবা ফুল, শনি পুজোয় নীল অপরাজিতা, মহাদেবের পুজোয় আকন্দ, সাদা ধুতরা ফুল ও ফল, সরস্বতী পুজোয় গাঁদা সহ বিভিন্ন ধরনের হলুদ ফুল, দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোয় পদ্ম। চাষিরাও এই সমীকরণ মাথায় রেখেই চাষ করেন। ফুলের চাষ অন্য যে কোনও চাষের তুলনায় অনেক কঠিন। আমরা কথায় কথায় বলি, ফুলের মতো জীবন। সত্যিই তাই। সামান্য জল জমলেই বেশিরভাগ ফুল গাছ নষ্ট হয়ে যায়। পোকা ও রোগের উপদ্রব থেকে গাছকে বাঁচাতে দিনভর ফুল জমিতে পড়ে থাকতে হয়। গাঁদার মতো বেশ কিছু ফুল প্রতিদিন তুলতে হয়। ফুলের দাম থাকুক বা না থাকুক...। কারণ, ফুল না তুললে নতুন কুঁড়ি আসে না। অথচ সম্পূর্ণভাবে ব্যবসায়ী নিয়ন্ত্রিত বাজারে দাম ওঠাপড়ার কোনও স্থিরতাই নেই। গতকাল যে ফুল ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, আজ তা ২ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হতে পারে। এই ফাটকা কাঁধে নিয়েই চাষজমিতে যেতে হয় তাঁদের।
কথা হচ্ছিল নারায়ণচন্দ্র নায়কের সঙ্গে। সারা বাংলা ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। বললেন, ‘রাজ্যের ফুল চাষ আজও ফুল ব্যবসায়ী ও ওষুধ ব্যবসায়ীরা কন্ট্রোল করে। ঢাল তরোয়ালহীন হর্টিকালচার দপ্তরের কর্মকাণ্ডের সুফল সিংহভাগ চাষিই পায় না। রাজ্যের শতকরা ৯৮ ভাগ বাজারের কোনও পরিকাঠামো নেই। বর্ষায় গোড়ালি সমান জল ও কাদার উপর ফুল রেখে বিক্রি করতে হয় চাষিদের। চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকা চাষিদের জন্য কারও কোনও ভাবনা নেই। ফুল থেকে উপজাত সামগ্রী তৈরির কোনও ব্যবস্থা নেই। রজনীগন্ধা থেকে সুগন্ধি তৈরি হলে, গাঁদা থেকে আবির ও রং হলে প্রতিদিন বাজারের ফুলের দাম ওঠা‑পড়ার কেরামতি আটকে যেত। বিকল্প ব্যবস্থা নেই বলেই বছরের বিভিন্ন সময় ফুল ফেলে দিতে বাধ্য হন চাষিরা। কয়েক দশক আগে ইংল্যান্ড সহ বিদেশে ফুল পাঠানোর ব্যবস্থা ছিল। এখন সব বন্ধ। কেন্দ্রীয় সরকার কৃষি পণ্য হিসেবে ফুলকে স্বীকৃতি না দেওয়ায় কৃষিবিমার সুযোগ নেই। ক্ষতিপূরণও জোটে না চাষিদের। চাষের জন্য কৃষি ঋণও মেলে না। আসলে ফুল চাষ ও চাষিদের উন্নয়ন নিয়ে পরিকল্পনা নেওয়ার সময় বোধহয় কোনও শাসকেরই নেই।’
ফুলের দামই একমাত্র সমস্যা নয়। গোলাপের সৌরভে বিমোহিত হলেও, আমরা অনেকেই জানি না গোলাপের কাঁটায় চাষির রক্তাক্ত হওয়ার কাহিনী। দেবী দুর্গার পায়ে পদ্ম অঞ্জলি দিই ঠিকই, কিন্তু আমরা জানতে পারি না পদ্ম পুকুর বা নয়ানজুলিতে থাকা পদ্ম তুলতে গিয়ে খরিশের ছোবলে কতজন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। আমরা জানতেই পারি না, প্রতিদিন ভোররাতে জাতীয় সড়কের উপরে বসা ফুল বাজারে ফুল আনার সময় কত চাষি ট্রাকের ধাক্কায় মারা গিয়েছেন, স্টেশন লাগোয়া ফুল বাজারে ফুলের বস্তা নিয়ে লাইন পারাপারের সময় কতজন ফুলচাষি ট্রেনে কাটা পড়েছেন। কত রঙিন স্বপ্ন প্রতিদিন ট্রাকের তলায় ও ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ছে, পিষে যাচ্ছে... তার কোনও ইয়ত্তা নেই। তারপরও তাঁরা স্বপ্ন দেখেন ফুলচাষের সঠিক দামটা অন্তত পাওয়ার। সারা বছর চোখের জল ফেলার পর পুজোর মরশুমে অন্তত একটু বেশি টাকায় বিক্রির... যা অন্তত বাজার দরের ধারেকাছে থাকে। তাহলে ছেলেমেয়েগুলোর জন্য হয়তো একটা নতুন জামা হবে। হয়তো মায়ের জন্য একটা শাড়ি হবে...। সাপ‑লুডোর মারপ্যাঁচ খেলতে খেলতে ক্লান্ত চাষি প্রায়শই প্রশ্ন তোলেন, কবে এই স্বপ্ন সত্যি হবে!
22nd  September, 2019
ভো-কাট্টা

বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোটা সমার্থক হয়ে গিয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজো মানেই আকাশজোড়া ঘুড়ির আলপনা। অসংখ্য ঘুড়ির ভেলায় যেন স্বপ্ন ভাসে। বহু কৈশোর আর যৌবনের মাঞ্জায় লেগে আছে ঘুড়ি ওড়ানোর স্মৃতি। যে ছেলেটা কোনওদিন সকাল দেখেনি, সেও বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে সূর্য ওঠার আগেই ঘুড়ি-লাটাই নিয়ে ছাদে উঠে যায়।  
বিশদ

15th  September, 2019
নির্মাণশিল্পী বিশ্বকর্মা
সন্দীপন বিশ্বাস

জরাসন্ধ তখন প্রবল প্রতাপান্বিত। বারবার মথুরা আক্রমণ করছিলেন। কিন্তু সপ্তদশ প্রচেষ্টাতেও মথুরা জয় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই ফের তিনি মথুরা আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে লাগলেন। কৃষ্ণ অবশ্য জানতেন জরাসন্ধ কিছুতেই মথুরা জয় করতে পারবেন না।
বিশদ

15th  September, 2019
আগুন বাজার
বীরেশ্বর বেরা

 ‘কেন? আপনি যে পটল বেচছেন, এমন পটল তো আমরা ৩০-৩২ টাকায় কিনছি!’ গ্রাম্য যুবক তাঁর আপাত-কাঠিন্যের খোলস ছেড়ে সহজ হয়ে গেলেন হঠাৎ। তেলের টিনের উপর চটের বস্তা বেঁধে টুলের মতো বসার জায়গাটা এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘বসুন তাহলে, বলি। বিশদ

08th  September, 2019
সমাপ্তি
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর প্রকাশিত রচনাবলীর খণ্ড সংখ্যা ৯০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এ পর্যন্ত জওহরলাল নেহরুর লেখা নিয়ে প্রকাশিত যত রচনা আছে, তা প্রায় ৫০ খণ্ড অতিক্রান্ত। বাবাসাহেব আম্বেদকরের সারা জীবনের যাবতীয় রচনা সমন্বিত করে এখনও পর্যন্ত ১৬টি খণ্ডসংবলিত রচনাবলী প্রকাশ পেয়েছে। 
বিশদ

01st  September, 2019
রাজীব ৭৫
মণিশঙ্কর আইয়ার

 ছিয়াশি সালের ডিসেম্বর। অঝোরে তুষারপাত হচ্ছে। আমরা যাচ্ছি কাশ্মীর। কিন্তু একটা সময় আর্মি জানাল, আর যাওয়া সম্ভব নয়। এত তুষারপাতে হেলিকপ্টার ওড়ানো যাবে না। তাহলে? যাব কী করে? বাকিরাও বলল, দিল্লি ফিরে চলুন। কিন্তু প্রধাননমন্ত্রী বললেন, তা হয় না। যাব যখন বলেছি যেতে হবে। লোকেরা অপেক্ষা করে থাকবে যে!
বিশদ

25th  August, 2019
শতবর্ষে  সারাভাই
মৃন্ময় চন্দ

চন্দ্রযান-২’র সাফল্যে গর্বিত ভারত। অভিজাত মহাকাশ ক্লাবের সদস্যদেশগুলির সঙ্গে ভারত আজ এক পংক্তিতে। মহাকাশ গবেষণায় ভারতের ঈর্ষণীয় সাফল্যের রূপকার নিঃসন্দেহে ক্ষণজন্মা বিরল প্রতিভাধর মিতভাষী এক বিজ্ঞানী—বিক্রম সারাভাই। একার হাতে যিনি গড়ে দিয়ে গেছেন ভারতের বিপুলা মহাকাশ সাম্রাজ্য। ১২ই আগস্ট ছিল তাঁর জন্মশতবার্ষিকী। বিশদ

18th  August, 2019
জয় জওয়ান

ঝুঁকি শব্দটি যখনই উল্লেখ করা হয়, তখনই তার সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যুদ্ধের বিষয়টি এসে পড়ে। কিন্তু শুধু যুদ্ধে নয়, ঝুঁকি রয়েছে প্রশিক্ষণ পর্বেও। একজন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে নানাভাবে তৈরি হতে হয়। আকাশপথে সেই প্রশিক্ষণ যখন শুরু হয়, তখন প্রতিটি স্তরেই ঝুঁকি থাকে। সেগুলো অতিক্রম করে সাফল্য পাওয়াই একজন পাইলটের কাছে চ্যালেঞ্জ। বিশদ

11th  August, 2019
জাতীয়তাবাদ ও রবিঠাকুর 
সমৃদ্ধ দত্ত

জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা তাঁর কাছে আলাদা। বিশ্বাস করতেন, গ্রামই ভারতের চেতনা। সম্পদ। তাই শুধু ইংরেজ বিরোধিতা নয়, রবিঠাকুরের লক্ষ্য ছিল ভারতের উন্নয়ন। ভারতবাসীর উন্নয়ন। তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলা। অন্যরকম তাঁর স্বদেশপ্রেম। আরও এক ২২ শ্রাবণের আগে স্মরণ এই অন্য রবীন্দ্রনাথকে। 
বিশদ

04th  August, 2019
গণহত্যার সাক্ষী
মৃণালকান্তি দাস

এ এক হিবাকুশার গল্প। পারমাণবিক বোমা হামলার পর হিরোশিমা ও নাগাসাকির যারা বেঁচে গিয়েছিলেন, তাদের বলা হয় হিবাকুশা। তাঁরা কেউই হিবাকুশা হতে চাননি, চেয়েছিলেন আর দশজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই সুন্দর একটা জীবন কাটাতে। কিন্তু ‘ফ্যাট ম্যান’ ও ‘লিটল বয়’ নামে দুটি অভিশাপ তছনছ করে দিয়েছিল তাঁদের সাজানো সংসার, সাজানো স্বপ্ন সহ সবকিছু। তেমনই একজন হিবাকুশা সাচিকো ইয়াসুই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কেড়ে নিয়েছিল তার সর্বস্ব...।
বিশদ

28th  July, 2019
বদলের একুশ
জয়ন্ত চৌধুরী

 একুশে জুলাই। শহিদ স্মরণ। তৃণমূলের বাৎসরিক শহিদ তর্পণ। গত আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে এটাই চল। ঝড়-জল-বৃষ্টি-বন্যা সবই অপ্রতিরোধ্য একুশের আবেগের কাছে। তাই কেন একুশ, এই প্রশ্নের চাইতে অনেক বেশি জায়গা দখল করে রয়েছে এই দিনকে ঘিরে বাঁধনহারা উচ্ছ্বাস।
বিশদ

21st  July, 2019
অচেনা কাশ্মীর
ফিরদৌস হাসান

 ২০১৪ সালের পর এই প্রথম এত তুষারপাত হয়েছে উপত্যকায়। সাদায় মুখ ঢেকেছিল ভূস্বর্গ। আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাল্লা দিয়েছিল পর্যটনও। বরফঢাকা উপত্যকার নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ কে-ই বা হাতছাড়া করতে চায়! তাই তো জানুয়ারিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কোলাহলে উপত্যকা গমগম করছিল।
বিশদ

14th  July, 2019
জল সঙ্কট 

কল্যাণ বসু: দুধ সাদা ধুতি পাঞ্জাবি, মাথায় নেহরু টুপি, গলায় মালা ঝুলিয়ে মন্ত্রী দু’হাত জোড় করে হাসিমুখে মঞ্চের দিকে যাচ্ছেন। চারদিকে জয়ধ্বনি, হাততালি। মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে মন্ত্রী বলতে শুরু করেছেন সবে।  বিশদ

07th  July, 2019
জগন্নাথের ভাণ্ডার
মৃন্ময় চন্দ

‘রথে চ বামনং দৃষ্ট, পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে’। অর্থাৎ, রথের রশি একবার ছুঁতে পারলেই কেল্লা ফতে, পুনর্জন্ম থেকে মুক্তি। আসলে সর্বধর্মের সমন্বয়ে বিবিধের মাঝে মিলন মহানের এক মূর্ত প্রতিচ্ছবি এই রথযাত্রা। সেই কারণেই নিউজিল্যান্ডের হট প্যান্টের গা ঘেঁষে সাত হাত কাঞ্চীপূরমীয় ঘোমটা টানা অসূর্যমপশ্যা দ্রাবিড়ীয় গৃহবধূও শামিল হন রথের রশি ধরতে। অর্কক্ষেত্র, শঙ্খক্ষেত্র আর শৈবক্ষেত্রের সমাহারে সেই মিলন মহানের সুরটিই সতত প্রতিধ্বনিত নীলাচলে। তাই নীলাচলপতির দর্শনে অক্ষয় বৈকুণ্ঠ লাভের আশায় ভিড়ের ঠেলায় গুঁতো খেতে খেতে চলেন সংসার-বঞ্চিত বাল্যবিধবারা। একই মনোবাসনা নিয়ে চলেছেন অন্ধ, চলেছেন বধির, চলেছেন অথর্ব।
বিশদ

30th  June, 2019
স্টেফির হাফ সেঞ্চুরি
প্রীতম দাশগুপ্ত

 মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা, ক্রিস এভার্টরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই শুরু করেছেন তখন। ঠিক একই সময়ে জার্মানির অখ্যাত শহর ব্রুয়ে বেড়ে উঠছিল স্টিফানি মারিয়া গ্রাফ। ১৯৬৯ সালের ১৪ জুন জার্মানির ম্যানহাইনে জন্ম স্টিফানির। মেয়ের দুষ্টুমি বন্ধের দাওয়াই হিসেবে স্টিফানির বাবা পিটার তার হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলেন একটা পুরনো টেনিস র‌্যাকেট।
বিশদ

23rd  June, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলি টাকা খরচ করেও তার শংসাপত্র জমা দিচ্ছে না। এ নিয়ে কারিগরি শিক্ষা ডিরেক্টরেটের তরফে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কোনও কোনও প্রশিক্ষণকেন্দ্র চিঠি পেয়েও সাড়া দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। এবার কড়া চিঠি দিল ভোকেশনাল এডুকেশন ও ...

সংবাদদাতা, মালদহ: ইংলিশবাজার শহরে চলাচলের অনুমতি দিতে শুরু হয়েছে টোটো বা ই-রিকশর নিবন্ধীকরণ কর্মসূচি। এই সুযোগে শহর জুড়ে পুজোর মুখে ফের হুহু করে বাড়ছে টোটো’র সংখ্যা।  ...

শ্রীনগর, ২২ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করার পর কেটে গিয়েছে টানা ৪৯ দিন। এখনও থমথমে উপত্যকা। স্বাভাবিক হয়নি মানুষের জীবনযাত্রা। এই পরিস্থিতিতে অস্থায়ীভাবে সাপ্তাহিক বাজার বসল শ্রীনগরের রাস্তায়।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। এবার তার থিম পর্যটন এবং চাকরি। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই পর্যটন শিল্পে চাকরির পরিসর বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কলকাতায় আজ, সোমবার থেকে চাকরির মেলা শুরু করছে পর্যটন মন্ত্রক। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সম্পত্তিজনিত মামলা-মোকদ্দমায় জটিলতা বৃদ্ধি। শরীর-স্বাস্থ্য দুর্বল হতে পারে। বিদ্যাশিক্ষায় বাধা-বিঘ্ন। হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য আফশোস বাড়তে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৪৭: বাংলার প্রথম র‌্যাংলার ও সমাজ সংস্কারক আনন্দমোহন বসুর জন্ম
১৯৩২: চট্টগ্রাম আন্দোলনের নেত্রী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মৃত্যু
১৯৩৫: অভিনেতা প্রেম চোপড়ার জন্ম
১৯৪৩: অভিনেত্রী তনুজার জন্ম
১৯৫৭: গায়ক কুমার শানুর জন্ম 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.১৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৪৪ টাকা ৯১.১২ টাকা
ইউরো ৭৬.২৬ টাকা ৮০.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
21st  September, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৩৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯১৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬, ১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬, ২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  September, 2019

দিন পঞ্জিকা

৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, নবমী ৩২/৫১ রাত্রি ৬/৩৭। আর্দ্রা ১৫/১ দিবা ১১/২৯। সূ উ ৫/২৮/৫৭, অ ৫/২৯/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪ মধ্যে পুনঃ ৮/৪১ গতে ১১/৫ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫২ গতে ১১/৫ মধ্যে পুনঃ ২/১৭ গতে ৩/৫ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৯ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৩০ গতে ৪/০ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/০ গতে ১১/৩০ মধ্যে। 
৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, নবমী ১৯/৪৮/৫৫ দিবা ১/২৪/১৪। আর্দ্রা ৫/৩৮/১৫ দিবা ৭/৪৪/৮, সূ উ ৫/২৮/৫০, অ ৫/৩১/৩০, অমৃতযোগ দিবা ৭/৭ মধ্যে ও ৮/৪১ গতে ১১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪২ গতে ১০/৫৯ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৩/৬ মধ্যে, বারবেলা ২/৩০/৫০ গতে ৪/১/১০ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৯/১০ গতে ৮/১৯/৩০ মধ্যে, কালরাত্রি ১/০/৩০ গতে ১১/৩০/১০ মধ্যে। 
২৩ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আজকের রাশিফল 
মেষ: শরীর-স্বাস্থ্য দুর্বল হতে পারে। বৃষ: কর্মে উন্নতি। মিথুন: কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি প্রাপ্তি। কর্কট:  ...বিশদ

07:11:04 PM

ইতিহাসে আজকের দিনে 
১৮৪৭: বাংলার প্রথম র‌্যাংলার ও সমাজ সংস্কারক আনন্দমোহন বসুর জন্ম১৯৩২: ...বিশদ

07:03:20 PM

নদীয়ার কলেজে বোমাবাজি, জখম ২
নদীয়ার মাজদিয়া কলেজে বোমাবাজির ঘটনা ঘটল। টিএমসিপি-এবিভিপি একে অন্যের বিরুদ্ধে ...বিশদ

06:28:00 PM

গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা চন্দননগরে
এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল হুগলী-চুঁচুড়া পৌরসভার ...বিশদ

06:23:18 PM

ষষ্ঠ বেতন কমিশন অনুযায়ী কেমন হচ্ছে কর্মচারীদের বেতন
ক্যাবিনেটেও অনুমোদিত হয়ে গেল ষষ্ঠ বেতন কমিশন । নতুন এই ...বিশদ

05:49:00 PM

ফায়ার লাইসেন্স ফি কমাল রাজ্য
ফায়ার লাইসেন্স ফি ৯২ শতাংশ কমিয়ে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। ...বিশদ

04:54:52 PM