Bartaman Patrika
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

নির্মাণশিল্পী বিশ্বকর্মা
সন্দীপন বিশ্বাস

জরাসন্ধ তখন প্রবল প্রতাপান্বিত। বারবার মথুরা আক্রমণ করছিলেন। কিন্তু সপ্তদশ প্রচেষ্টাতেও মথুরা জয় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই ফের তিনি মথুরা আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে লাগলেন। কৃষ্ণ অবশ্য জানতেন জরাসন্ধ কিছুতেই মথুরা জয় করতে পারবেন না। কিন্তু বারবার আক্রমণের ফলে রাজ্যের সুস্থিতি নষ্ট হতে বসল। ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দা ভাব দেখা দিল। বিশেষ করে যাদবরা মনে করতে লাগলেন, যে কোনও দিন জরাসন্ধ মথুরা জয় করতে পারেন। রাজ্যের মানুষের এই অবিশ্বাস ও আশঙ্কা বেড়ে উঠছে দেখে কৃষ্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি তাঁর নতুন রাজধানী স্থাপন করবেন। সেইমতো তিনি বাহন গরুড়ের পিঠে চড়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখছেন। তাঁর বিশেষভাবে পছন্দ হল দ্বারাবতী অঞ্চলটি। তিনি বিশ্বকর্মাকে ডেকে সেখানে একটি প্রাসাদ এবং জনপদ নির্মাণ করতে বললেন।
কিন্তু বিশ্বকর্মা সেখানে গিয়ে দেখলেন জায়গাটি তেমন প্রশস্ত নয়। তাই তিনি কৃষ্ণের কাছে এসে বললেন, ‘আরও একটু জায়গা না হলে বড় জনপদ গড়ে তোলা যাবে না।’ কৃষ্ণ ভাবতে লাগলেন, তাহলে কি অন্য কোথাও তাঁর নতুন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করবেন? এমনসময় বিশ্বকর্মাই তাঁকে পরামর্শ দিয়ে বললেন, ‘আপনি সমুদ্রকে বলুন উনি যদি আরও কিছুটা জায়গা দেন, তবে আমি সেখানে নগরী গড়ে তুলতে পারব।’ বিশ্বকর্মার কথা শুনে কৃষ্ণ বসলেন সমুদ্রদেবতার পুজোয়। সমুদ্রদেবতা তুষ্ট হয়ে উপস্থিত হলেন তাঁর সামনে। কৃষ্ণ তাঁকে বললেন, ‘আমি দ্বারাবতীতে একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তার জন্য ওখানে অনেকটা স্থলভূমি চাই। আপনি যদি আমাকে কিছু জমি দান করেন, তবে আমি বিশ্বকর্মাকে দিয়ে ওখানে একটি নগরী এবং আমার একটি প্রাসাদ নির্মাণ করতে পারি।’ সমুদ্রদেব বললেন, ‘তাই হবে। আপনি বিশ্বকর্মাকে বলে দিন উনি যেন প্রাসাদ এবং নগর পরিকল্পনার কাজ করে ফেলেন।’
এরপর সমুদ্র অনেকটা সরে গিয়ে দ্বাদশ যোজন জমি দান করলেন এবং বিশ্বকর্মা সেখানে দ্বারকা নগরী নির্মাণ করলেন। অসাধারণ শিল্পসুষমা মণ্ডিত প্রাসাদ নির্মাণও করলেন। সেই প্রাসাদ দেখে তাক লেগে গিয়েছিল স্বর্গের দেবতাদেরও। মর্ত্যধামে কি না স্বর্গের থেকেও সুন্দর প্রাসাদ! এই ঈর্ষায় অনেক দেবতাই কাতর হয়েছিলেন।
সেই ঈর্ষার বশেই দেবরাজ ইন্দ্র চাইলেন তিনিও একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন, যার তুল্য ত্রিলোকে আর কিছুই থাকবে না। অগত্যা তিনি ডাকলেন বিশ্বকর্মাকে। সব কথা বললেন। বিশ্বকর্মা তাঁর জন্য একটি অনিন্দ্যসুন্দর প্রাসাদ নির্মাণ করলেন। কিন্তু তা ইন্দ্রের পছন্দ হল না। তাই সেই প্রাসাদ ভেঙে আবার এক নতুন প্রাসাদ রচনা করেন বিশ্বকর্মা। সেটিও ইন্দ্রের ভালো লাগল না। অতঃপর আবার সেটি ভেঙে তিনি আরও একটি নতুন প্রাসাদ নির্মাণ করেন। এবারও ইন্দ্র বললেন, ‘আমি চাই আরও সুন্দর এক প্রাসাদ, যার তুলনা এই ভূমণ্ডলে নেই।’ একথা শুনে বিপাকে পড়ে গেলেন বিশ্বকর্মা। তিনি বুঝতে পারলেন এভাবে ইন্দ্রকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। তাই তিনি গেলেন ব্রহ্মার কাছে। ব্রহ্মা সব কথা শুনে তাঁকে বিষ্ণুর কাছে যেতে বললেন। তাঁর কাছে গিয়ে সব কথা বললেন বিশ্বকর্মা। বিষ্ণু ভেবে দেখলেন, আসলে ইন্দ্র মোহে এবং ঈর্ষায় ডুবে আছেন। সেটি আগে দূর করা দরকার।
তখন তিনি এক বালকের রূপ ধরে ইন্দ্রের কাছে গেলেন। বিষ্ণুকে ইন্দ্র চিনতে পারলেন না। তিনি বালককে বললেন, ‘এখানে কেন এসেছ?’ বালকরূপী বিষ্ণু বললেন, ‘আপনাকে দেখতে এসেছি এবং আপনার প্রাসাদ কত সুন্দর, তা দেখতে এসেছি।’ ইন্দ্র বললেন, ‘আমি ইন্দ্র। তুমি চেনো আমাকে?’
বিষ্ণু বললেন, ‘হ্যাঁ। আপনি ইন্দ্র, সেটা আমি জানি। আমি অনেক ইন্দ্রকে জানি। আপনার আগে অনেক ইন্দ্র ছিলেন, তাঁদের অনেক সুন্দর প্রাসাদ ছিল। আপনার পরেও অনেক ইন্দ্র আসবেন, তাঁদেরও অনেক সুন্দর প্রাসাদ হবে। সুতরাং এই জগতে অগণ্য ইন্দ্রের সমাহার। তাঁদের অসংখ্য প্রাসাদ। কোন প্রাসাদটা বেশি সুন্দর তার তুলনা কী করে সম্ভব!’
চিন্তায় পড়ে গেলেন ইন্দ্র। সত্যিই তো! তখন বিষ্ণু ইন্দ্রকে তাঁর রূপ দর্শন করালেন। ইন্দ্র বুঝলেন তিনি এক আত্মমোহে এবং ঈর্ষায় ডুবে আছেন। বিষ্ণু তাঁকে বোঝালেন, ‘বিশ্বকর্মা যে প্রাসাদ তৈরি করেন, তার আর দ্বিতীয়টি হয় না। তার তুলনা সে নিজেই। আর আপনি জেনে রাখুন, এ ব্রহ্মাণ্ডে সবই অনিত্য। আজ যা আছে, কাল তা নেই। শত শত ইন্দ্রের মধ্যে আপনি একটি কণামাত্র। একজন ইন্দ্রের চোখের পলকে একজন মানুষের মৃত্যু হয়। ব্রহ্মের একটি চোখের পলকে ইন্দ্রের মৃত্যু হয়। বিষ্ণুর চোখের একটি পলকে ব্রহ্মের মৃত্যু হয়। শিবের চোখের একটি পলকে বিষ্ণুর মৃত্যু হয়।’ ইন্দ্র হাত জোড় করে বললেন, ‘আমি সব বুঝেছি ভগবান। আমায় ক্ষমা করুন। এরপর বিশ্বকর্মা তাঁর জন্য তুলনারহিত এক প্রাসাদ নির্মাণ করে দেন।
বিশ্বকর্মা শিবের জন্যও প্রাসাদ নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। শিবের সঙ্গে পার্বতীর বিয়ের পর বিশ্বকর্মা এক স্বর্ণপ্রাসাদ নির্মাণ করেন। সেই প্রাসাদের গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিবভক্ত লঙ্কেশ্বর রাবণ। রাবণ সেই প্রাসাদ দেখে চমৎকৃত। তিনি শিবকে বললেন, ‘আমিও একটি এমন প্রাসাদ নির্মাণ করতে চাই।’ শিব তাঁকে বললেন, ‘তুমি গিয়ে বিশ্বকর্মাকে অনুরোধ কর।’ তখন রাবণের অনুরোধে এবং শিবের সুপারিশে বিশ্বকর্মা লঙ্কায় রাবণের জন্য স্বর্ণপুরী নির্মাণ করেন। সেই প্রাসাদের একটি গৃহ এতই সুন্দর যা মেঘের মতো উন্নত, কাঞ্চনে ভূষিত, মনোহর এবং রাক্ষসাধিপতির প্রতাপের অনুরূপ।
বিশ্বকর্মা পঞ্চপাণ্ডবের জন্য নির্মাণ করেছিলেন ইন্দ্রপ্রস্থ। খাণ্ডবপ্রস্থে ধৃতরাষ্ট্র পাণ্ডবদের যে এক টুকরো জমি দিয়েছিলেন সেখানে কৃষ্ণের অনুরোধে বিশ্বকর্মা ইন্দ্রপ্রস্থ নির্মাণ করেন। বলা হয়, এই ইন্দ্রপ্রস্থই পরবর্তীকালে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করেছিল।
ইন্দ্রপ্রস্থ ছিল এক মায়ানগরী। দেখে মনে হতো সর্বত্রই টলটলে জল। ভূমি এবং জলাশয়ের পার্থক্য বোঝাই যেত না। পাণ্ডবদের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে সেই মায়ানগরীতে এসে অভিভূত কৌরবরা। ভূমি আর জলের মায়া বুঝতে না পেরে জলাশয়ে পড়ে যান দুর্যোধন। তাই দেখে হেসে উঠেছিলেন দ্রৌপদী। এতে রুষ্ট হয়ে দুর্যোধন প্রতিজ্ঞা করেন, এই অপমানের প্রতিশোধ তিনি নেবেনই। সেই প্রতিজ্ঞাই দুর্যোধনকে রাজসভায় দ্রৌপদীকে অপমান করতে উৎসাহ দিয়েছিল। আর সেটাই কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের কারণ হয়ে উঠেছিল।
রামচন্দ্র যখন লঙ্কায় রাবণকে বধ করতে যাওয়ার জন্য সমুদ্রবন্ধন করছিলেন, তখন বারবার তিনি ব্যর্থ হচ্ছিলেন। এতে কুপিত হয়ে রাম সমুদ্রকে বান মারতে গেলে তিনি উঠে এসে রামচন্দ্রকে হাত জোড় করে বলেন, ‘রক্ষা করুন। আমাকে মারবেন না। আপনার সঙ্গেই আছেন বিশ্বকর্মার পুত্র নল। তিনিও একজন শিল্পী। তিনি আপনাকে সমুদ্রবন্ধনে সাহায্য করতে পারেন।’ এরপর বিশ্বকর্মার পরামর্শে নল সেতুবন্ধন করেন।
অর্থাৎ, প্রাসাদ, নগরী, জনপদ এমনকী সেতু পর্যন্ত নির্মাণ করেছিলেন বিশ্বকর্মা। পাশাপাশি আধুনিক অস্ত্রভাবনার প্রকাশও আমরা পাই বিশ্বকর্মার মধ্যে। তিনি যেমন বাস্তুবিজ্ঞানে দক্ষ ছিলেন, তেমনই অস্ত্রবিজ্ঞানে ছিলেন অদ্বিতীয়। নানা অস্ত্রে তিনি দেবতাদের শক্তিশালী করে তুলেছিলেন। যথার্থই তিনি ছিলেন আয়ুধ-প্রজ্ঞ।
একবার দুই অসুর ভাই সুন্দ এবং উপসুন্দের অত্যাচারে দেবতারা কাতর হয়ে উঠলেন। তাঁরা তখন দিশাহারা হয়ে ব্রহ্মার শরণাপন্ন হলেন। ব্রহ্মা অনেক ভেবে দেখলেন, বিশ্বকর্মা ছাড়া এই সংকট থেকে দেবতাদের কেউই উদ্ধার করতে পারবেন না। তাই তিনি বিশ্বকর্মার কাছে গিয়ে বললেন, ‘আপনি এমন এক শক্তির প্রকাশ ঘটান, যে শক্তি সুন্দ-উপসুন্দকে বধ করে দেবলোককে রক্ষা করতে পারবে।’ বিশ্বকর্মা অনেক চিন্তা করে দেখলেন কোনও একক শক্তি ওই অসুর ভ্রাতৃদ্বয়কে হত্যা করতে অপারগ। তখন তিনি ব্রহ্মাণ্ডের সর্ববস্তুর অন্তঃস্থ কণা শক্তি নিয়ে তিলে তিলে গড়ে তুললেন এক নারী শক্তি। তিনিই তিলোত্তমা। তাঁর এই সৃষ্টি যেন আজকের পরমাণু শক্তির নির্মাণকেই মনে করিয়ে দেয়।
বিশ্বকর্মার কন্যা সংজ্ঞা বিয়ে করেন সূর্যদেবকে। কিন্তু সূর্যের তাপে কিছুতেই তাঁর কাছে যেতে পারছিলেন না। একথা জানতে পেরে বিশ্বকর্মা সূর্যের মোট তাপকে সমান আটটি ভাগে ভাগ করেন। তার মধ্য থেকে একটি দান করেন সূর্যকে। বাকিগুলির তেজ থেকে বিভিন্ন অস্ত্র নির্মাণ করে। সেগুলি হল বিষ্ণুর চক্র, মহাদেবের ত্রিশূল এবং কার্তিকের তির ধনুক এবং অন্যান্য দেবতাদের নানা অস্ত্র। এছাড়া তিনি দুটি মহাধনুও নির্মাণ করেন। একটি তিনি দেন শিবকে এবং অন্যটি দেন বিষ্ণুকে। শিবকে তিনি যে ধনুটি দিয়েছিলেন, সেটিই হরধনু নামে খ্যাত। সেই হরধনু ভেঙে রামচন্দ্র সীতাকে বিয়ে করেছিলেন। আর বিষ্ণু তাঁর ধনুটি দিয়েছিলেন পরশুরামকে। সেটি দিয়ে তিনি এ বিশ্বকে একুশবার নিঃক্ষত্রিয় করেন। পরে সেই ধনু দিয়েই বিষ্ণু পরশুরামের গর্বকে সংহার করেন। দেবী দুর্গা যখন অসুর বধের জন্য যাত্রা করেছিলেন, তখন তিনি দেবীকে দিয়েছিলেন তাঁর কুঠার এবং তাঁর মহাশক্তিশালী কবচ।
আবার তিনি এক বিমানও নির্মাণ করেছিলেন। কুবেরকে ব্রহ্মা যে পুষ্পক রথ প্রদান করেছিলেন সেটি নির্মাণ করেন বিশ্বকর্মাই। এই রথ নির্মাণের মধ্যেই আছে আজকের বিমান ভাবনার প্রকাশ। কুবেরকে পরাস্ত করে রাবণ সেই রথ হস্তগত করেছিলেন।
দেবতারা একবার অসুরদের অত্যাচারে কাতর। তাদের নেতা বৃত্রাসুর। তাদের আক্রমণে পরাজিত দেবরাজ ইন্দ্র স্বর্গচ্যুত হলেন। অসুররা দেবলোক অধিকার করে সেখানে অনাচার সৃষ্টি করল। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? বিষ্ণুর কাছ থেকে জানা গেল নৈমিষারণ্যে ধ্যানরত মহামুনি দধীচি যদি তাঁর অস্থি দান করেন, তবে সেই অস্থি দিয়ে নির্মিত অস্ত্রেই অসুরদের বিনাশ হবে। ইন্দ্র গিয়ে দধীচিকে সে কথা বলতেই তিনি যোগবলে দেহত্যাগ করলেন। সেই দেহ থেকে অস্থি এনে ইন্দ্র বিশ্বকর্মাকে দিলেন। বিশ্বকর্মা সেই অস্থি দিয়ে দুটি বজ্র বানালেন। একটির নাম শোভনকর্মা এবং অপরটির নাম সুপ্রেরণীয়। সেই দুটি বজ্র দিয়ে ইন্দ্র বৃত্রাসুর এবং অন্যান্য অসুরদের বধ করলেন।
দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা হলেন ‘দেবানাং কার্য্যসাধক’। অর্থাৎ দেবতার সকল কর্মের সাধক ঩তিনিই। এখানে কর্ম মানে শিল্প বা সৃষ্টিকে বোঝানো হয়েছে। একই সঙ্গে বোঝানো হয়েছে, তাঁকে ব্যতীত দেবতাদের কোনও কর্ম সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়। তিনি শিল্পের দেবতা। তিনি কর্মের দেবতা। দেবলোকে বা মর্ত্যলোকে তিনি বহু কিছু নির্মাণ করেছেন, যা পরে আর কখনও তৈরি হয়নি। মূলত বিশ্বকর্মা ছাড়া দেবতাদের কোনও শক্তির কথা ভাবাই যায় না। কিংবা তাঁদের বিলাসব্যসনের কথাও ভাবা যায় না।
বিশ্বকর্মার হাতে আমরা দেখি হাতুড়ি, ছেনি, আবার কখনও তুলাদণ্ড। এগুলি একদিকে যেমন নির্মাণের প্রতীক, তেমনই আবার শিল্পসৃষ্টির ক্ষেত্রে পরিমাপের হিসেবটিকেও মুখ্য হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। তুলাদণ্ডের একটি হল জ্ঞানের প্রতীক এবং অন্যটি হল কর্মের প্রতীক। জ্ঞান এবং কর্মের মিশ্রণেই আসে সাফল্য।
শতপথ ব্রাহ্মণ থেকে জানা যায়, বিশ্বকর্মা মাঝেমাঝেই সর্বমেধ যজ্ঞ করতেন। সেই যজ্ঞে তিনি বিশ্বের সবকিছুকে আহুতি দিতেন। সমস্ত জীবকূলকেও তিনি আহুতি দিতেন। সবশেষে সেই যজ্ঞে তিনি নিজেকেও আহুতি দিতেন। এইভাবেই বিশ্ব ধ্বংস হয়ে যেত। আর সেই যজ্ঞের আগুন থেকেই জেগে উঠতেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা। আবার তিনি নতুন করে জীব ও জগতের সৃষ্টি করতেন। নতুন প্রাণ, নতুন জগৎ। এভাবেই ধ্বংসের পরে সৃষ্টি, আর সৃষ্টির পরে ধ্বংস আসে। আর বিশ্বকর্মা আমগ্ন থাকেন সৃষ্টির বিরচনে। কাল, যুগ, পর্ব সব এভাবেই তাঁর হাত ধরেই এগিয়ে চলে। আর তিনি থেকে যান সমস্ত সৃষ্টির অগোচরে। মানুষের মধ্য দিয়ে তিনি আজও নতুন জগৎ, শহর, নগর, জনপদ, বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কার করে চলেছেন। মানুষ এবং বিশ্বকর্মা যেন কোথাও গিয়ে একাকার হয়ে যান।

গ্রাফিক্স সোমনাথ পাল
সহযোগিতায় উজ্জ্বল দাস 
15th  September, 2019
দেশবন্ধু
সমৃদ্ধ দত্ত

গান্ধীজির একের পর এক অনুগামীকে নিজের দিকে টেনে আনতে সক্ষম হলেও, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়নি একবিন্দুও। আবার তাঁকেই দীক্ষাগুরু হিসেবে স্থির করেছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। জন্মের সার্ধশতবর্ষে ফিরে দেখা সেই চিত্তরঞ্জন দাশকে। বিশদ

23rd  February, 2020
পথদ্রষ্টা ফালকে
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

‘রাজা হরিশ্চন্দ্র’-এর হাত ধরে পথচলা শুরু হয় প্রথম ভারতীয় পূর্ণাঙ্গ কাহিনীচিত্রের। ভারতীয় জাতীয়তাবাদের সঙ্গেও ফালকের নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এ দেশের সিনেমার পথদ্রষ্টাকে ফিরে দেখা। 
বিশদ

16th  February, 2020
ইতিহাসে টালা
দেবাশিস বসু

 ‘টালা’ কলকাতার অন্যতম প্রাচীন উপকণ্ঠ। ১৬৯০ সালের ২৪ আগস্ট জব চার্নক নেমেছিলেন সুতানুটিতে। ১৬৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি মারা যান। অর্থাৎ তিনি সুতানুটিতে ছিলেন জীবনের শেষ আড়াই বছর। তাঁর মৃত্যুর প্রায় পাঁচ বছর পরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সাবর্ণ চৌধুরীদের কাছ থেকে গোবিন্দপুর, কলকাতা ও সুতানুটি গ্রাম তিনটির জমিদারি স্বত্ব কিনে নেয়।
বিশদ

09th  February, 2020
মহাশ্বেতা 

সন্দীপন বিশ্বাস: ‘সরস্বতী পুজো।’ শব্দ দুটো লিখে ল্যাপটপের কি-বোর্ড থেকে হাতটা সরিয়ে নিল শুভব্রত। চেয়ারে হেলান দিয়ে বাইরে চোখ। রাত এখন গভীর। আর কয়েকদিন পরেই সরস্বতী পুজো। এডিটর একটা লেখা চেয়েছেন। পুজো নিয়ে স্পেশাল এডিশনে ছাপা হবে। সাহিত্যিক হিসেবে শুভর একটা খ্যাতি আছে। 
বিশদ

02nd  February, 2020
শতবর্ষে জনসংযোগ
সমীর গোস্বামী

অনেকে মজা করে বলেন, সেলুনে যিনি হেয়ার স্টাইল ঠিক করেন, তিনি অনেক সময় বিশিষ্ট মানুষের কানেও হাত দিতে পারেন। জনসংযোগ আধিকারিক বা পিআরও’রাও খানিকটা তেমনই। প্রচারের স্বার্থে তাঁরা কেবল সাহসের উপর ভর করে অনেক কিছু করতে পারেন। মনে পড়ছে, বহু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা গণ্যমান্য ব্যক্তিকে কোনও কিছু উদ্বোধনের সময় ফিতে কাটতে দিতাম না। 
বিশদ

26th  January, 2020
অনন্য বিকাশ 

পাহাড়ী স্যান্যাল থেকে উত্তমকুমার সবাই ছিলেন তাঁর অভিনয়ের গুণমুগ্ধ ভক্ত। হেমেন গুপ্তের ‘৪২’ ছবিতে এক অত্যাচারী পুলিস অফিসারের ভূমিকায় এমন অভিনয় করেছিলেন যে দর্শকাসন থেকে জুতো ছোঁড়া হয়েছিল পর্দা লক্ষ্য করে। এই ঘটনাকে অভিনন্দন হিসেবেই গ্রহণ করেছিলেন তিনি। সেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেতা বিকাশ রায়কে নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু সিনেমায় তাঁর সহ অভিনেতা ও মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান অধ্যাপক ডঃ শঙ্কর ঘোষ।  
বিশদ

19th  January, 2020
যদি এমন হতো! 
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

যদি এমন হতো? সিমুলিয়ার দত্ত পরিবারে নরেন্দ্রনাথ এসেছেন, ধনীর আদরের সন্তান; কিন্তু শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব পৃথিবীতে আসেননি। তাহলে নরেন্দ্রনাথ কি স্বামী বিবেকানন্দ হতেন! মেধাবী, সাহসী, শ্রুতিধর এই সুন্দর যুবকটি পিতাকে অনুসরণ করে হয়তো আরও শ্রেষ্ঠ এক আইনজীবী হতেন, ডাকসাইটে ব্যারিস্টার, অথবা সেই ইংরেজযুগের সর্বোচ্চ পদাধিকারী, ঘোড়ায় চাপা ব্রাউন সাহেব— আইসিএস। ক্ষমতা হতো, সমৃদ্ধি হতো।
বিশদ

12th  January, 2020
সেলুলয়েডের শতবর্ষে হিচকক 
মৃন্ময় চন্দ

‘Thank you, ….very much indeed’
শতাব্দীর হ্রস্বতম অস্কার বক্তৃতা। আবার এটাও বলা যেতে পারে, মাত্র পাঁচটি শব্দ খরচ করে ‘ধন্যবাদজ্ঞাপন’।
হ্যাঁ, হয়তো অভিমানই রয়েছে এর পিছনে।
বিশদ

05th  January, 2020
ফিরে দেখা
খেলা

আর তিনদিন পরেই নতুন বছর। স্বাগত ২০২০। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে পুরনো বছরকেও। তাই ২০১৯ সালের বেশকিছু স্মরণীয় ঘটনার সংকলন নিয়ে চলতি বছরের সালতামামি। 
বিশদ

29th  December, 2019
ফিরে দেখা
বিনোদন

আর তিনদিন পরেই নতুন বছর। স্বাগত ২০২০। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে পুরনো বছরকেও। তাই ২০১৯ সালের বেশকিছু স্মরণীয় ঘটনার সংকলন নিয়ে চলতি বছরের সালতামামি।  
বিশদ

29th  December, 2019
ফিরে দেখা
রাজ্য 

আর তিনদিন পরেই নতুন বছর। স্বাগত ২০২০। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে পুরনো বছরকেও। তাই ২০১৯ সালের বেশকিছু স্মরণীয় ঘটনার সংকলন নিয়ে চলতি বছরের সালতামামি।   বিশদ

29th  December, 2019
ফিরে দেখা
দেশ-বিদেশ 

আর তিনদিন পরেই নতুন বছর। স্বাগত ২০২০। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে পুরনো বছরকেও। তাই ২০১৯ সালের বেশকিছু স্মরণীয় ঘটনার সংকলন নিয়ে চলতি বছরের সালতামামি।  
বিশদ

29th  December, 2019
বঙ্গ মিষ্টিকথা 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মিষ্টান্ন ভোজন। যার সঙ্গে জড়িয়ে বাঙালির আবেগ, অনুভূতি, অ্যাডভেঞ্চার। ডায়েটিংয়ের যুগে আজও বহু বাঙালি ক্যালরির তোয়াক্কা করে না। খাওয়া যতই আজব হোক, মিষ্টি না হলে ভোজ সম্পূর্ণ হয় না যে! 
বিশদ

22nd  December, 2019
সংবিধানের ৭০
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত এবং বিশেষ করে আগামীদিনের শাসক কংগ্রেসের সঙ্গে এভাবে চরম তিক্ততার সম্পর্ক করে রেখে পৃথক পাকিস্তান পাওয়ার পর, সেই নতুন দেশের নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত? কীভাবে সম্ভাব্য পাকিস্তানের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করা যাবে? কী কী সমস্যা আসতে পারে?  
বিশদ

15th  December, 2019
একনজরে
 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে সেগুলির মধ্যে কয়েকটির বাজার বন্ধকালীন দর। ...

 বিএনএ, চুঁচুড়া: সম্পত্তি বিবাদে ছোট ভাইকে খুনের ঘটনায় বড় ভাইকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিলেন চুঁচুড়ার ফাস্ট ট্র্যাক (প্রথম) আদালতের বিচারক শুভেন্দু সাহা। গত বৃহস্পতিবার বিচারক বিশ্বনাথ মালিক নামে ওই বিচারাধীন বন্দিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। ...

সংবাদদাতা, ইসলামপুর: জোর নেই সংগঠনের। ইসলামপুর পুরসভার বিরুদ্ধে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব তাই এখনও পর্যন্ত কোনও আন্দোলনই সংগঠিত করতে পারল না। এদিকে দোরগোড়ায় পুরভোট।   ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটের একমাত্র বিনোদনের জায়গা গান্ধীপার্কে অসামাজিক কাজকর্ম বন্ধের দাবিতে শুক্রবার পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল গণতান্ত্রিক নাগরিক মঞ্চ। যদিও স্মারকলিপিতে যাঁরা সই করেছেন তাঁদের অধিকাংশই কংগ্রেস ও সিপিএমের সঙ্গে জড়িত।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যায় মাঝেমধ্যে উদ্বেগ দেখা দেবে। প্রেম-প্রণয়ে শুভাশুভ মিশ্র, মাঝেমধ্যে মতান্তর ঘটবে। বুঝেশুনে চলা দরকার। কর্মে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৪৬৮ - পোপ দ্বিতীয় পলের জন্ম
১৭১২ - সুইডেনে ২৯ ফেব্রুয়ারির পর ৩০ ফেব্রুয়ারি পালনের সিদ্বান্ত হয়। এর কারণ তারা আগের নিয়মে ফিরতে চেয়েছিল।
১৮৯৬ - ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেসাইয়ের জন্ম





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭১.২৯ টাকা ৭৩.০০ টাকা
পাউন্ড ৯১.৩৬ টাকা ৯৪.৬৮ টাকা
ইউরো ৭৭.৮৮ টাকা ৮০.৮৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪২,৯৬৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪০,৭৬৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪১,৩৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৬ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার, (ফাল্গুন শুক্লপক্ষ)পঞ্চমী। ভরণী অহোরাত্র ৭/৪৮ দিবা ৯/১০। সূ উ ৬/২/৩৭, অ ৫/৩৫/৫৭, অমৃতযোগ দিবা ৯/৫৩ গতে ১২/৫৮ মধ্যে। রাত্রি ৮/৫ গতে ১০/৩৪ মধ্যে পুনঃ ১২/১৩ গতে ১/৫৩ মধ্যে পুনঃ ২/৪৩ গতে ৪/২২ মধ্যে। বারবেলা ৭/৩০ মধ্যে পুনঃ ১/১৬ গতে ২/৪২ মধ্যে পুনঃ ৪/৮ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৭/৯ মধ্যে পুনঃ ৪/২৯ গতে উদয়াবধি।
১৬ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার, ষষ্ঠী, ভরণী ৫৩/২৫/৩২ রাত্রি ৩/২৭/৪৩। সূ উ ৬/৫/৩০, অ ৫/৩৫/১১। অমৃতযোগ দিবা ৯/৪৯ গতে ১২/৫৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/৬ গতে ১০/৩৩ মধ্যে ও ১২/১১ গতে ১/৪৯ মধ্যে ও ২/৩৮ গতে ৪/১৭ মধ্যে। কালবেলা ৭/৩১/৪৩ মধ্যে ও ৪/৮/৫৯ গতে ৫/৩৫/১১ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/৮/৫৮ মধ্যে ও ৪/৩১/৪২ গতে ৬/৪/৩৭ মধ্যে।
৪ রজব

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
মালদহের ইংলিশবাজারে বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে ছুরি তিন দুষ্কৃতীর, চাঞ্চল্য 

04:04:32 PM

বাঁকুড়ার জয়পুরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু, মৃতদেহ আটকে চলছে বিক্ষোভ 

01:45:04 PM

চার নম্বর ব্রিজে স্কুটিতে ধাক্কা গাড়ির, জখম চালক 

01:19:00 PM

কামারহাটির প্রান্তিক নগরে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে আগুন, দমকলের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে 

12:07:00 PM

ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, ধৃত ১ 
ঋণ দেওয়া ও তামাদি হওয়া বিমা পুনর্জীবিত করার নাম করে ...বিশদ

11:32:51 AM

মুর অ্যাভেনিউতে বাড়িতে চুরি, ধৃত ১ 
মুর অ্যাভেনিউতে এক আইনজীবীর বাড়িতে চুরির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার ...বিশদ

10:57:03 AM