Bartaman Patrika
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

সমাপ্তি
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর প্রকাশিত রচনাবলীর খণ্ড সংখ্যা ৯০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এ পর্যন্ত জওহরলাল নেহরুর লেখা নিয়ে প্রকাশিত যত রচনা আছে, তা প্রায় ৫০ খণ্ড অতিক্রান্ত। বাবাসাহেব আম্বেদকরের সারা জীবনের যাবতীয় রচনা সমন্বিত করে এখনও পর্যন্ত ১৬টি খণ্ডসংবলিত রচনাবলী প্রকাশ পেয়েছে। মৌলানা আবুল কালাম আজাদের স্বাধীনতার ক্রান্তিকালকে নিয়ে লিখিত সুপাঠ্য বই ‘ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম’-এর পাতায় পাতায় থাকা কাহিনী-সম্ভারের ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম। সেখানে কোথাও গল্পের মতো করে লেখা আছে, সিমলায় গিয়ে কীভাবে লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে বিকেলের এক আড্ডায় উঠে এসেছিল পার্টিশনের ভালোমন্দ প্রসঙ্গ। অথবা ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া আজাদকে আহমেদনগর থেকে আসনসোলে পাঠানোর পর বাঁকুড়ার পুলিস সুপারিনটেন্ডেন্ট একদিকে তাঁকে বন্দি করার ব্যবস্থা করছেন, আবার সেই পুলিস সুপারেরই সস্ত্রীক আজাদের কাছে এসে তাঁর লেখা বইতে অটোগ্রাফ নেওয়ার মনোগ্রাহী গল্প। ভারতের প্রথম সারির রাজনীতিকদের একটি প্রবণতা ছিলই। লেখার। তাঁদের অনেকেই ছিলেন রাজনীতিবিদ এবং লেখক। নেহরু অথবা গান্ধীজি কী অসম্ভব সংখ্যায় লিখতে পারতেন, তা এক বিস্ময়। তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল প্রবল ব্যস্ততা আর ঝড়ের আবহে। তারপরও তাঁরা চিঠি লিখতেন, প্রবন্ধ লিখতেন, দিনলিপি লিখতেন, দর্শন ও সমাজতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করতেন। এই লেখালেখির অভ্যাসের ফলে প্রভূত উপকৃত হয়েছে ইতিহাস। কারণ ব্রিটিশ ভারতের নানাবিধ ছোটবড় ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায় এই বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের লেখা থেকেই। খুব বেশি পরিশ্রমসাধ্য হয় না তাই ঘটনা পরম্পরাকে জানার জন্য।
পরবর্তী সময়ে এই প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। সবথেকে বেশি কাহিনী যাঁর থেকে পাওয়া সম্ভব ছিল, সেই ইন্দিরা গান্ধী নিজে সেভাবে লেখালেখি করলেন না। তাঁর একাধিক বায়োগ্রাফি প্রকাশিত হল বটে। কিন্তু নিজের লেখার মূল্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যতই নতুন ভারত এসেছে, ততই এই রাজনীতিবিদদের অন্তহীন চিঠি লেখা কিংবা বই প্রকাশ হওয়ার প্রবণতা কমেছে। লালকৃষ্ণ আদবানি এবং প্রণব মুখোপাধ্যায় শেষ এরকম শীর্ষনেতা, যাঁদের গ্রন্থ ইতিহাসকে বুঝতে ও জানতে সাহায্য করে। এছাড়া যশবন্ত সিনহা, যশবন্ত সিং, অরুণ শৌরি, নটবর সিংরাও লিখেছেন আত্মজীবনী। কিন্তু সমকালীন রাজনীতি, সমাজ, কর্পোরেট মহল, ক্রিকেটের অন্দরমহল, হাই প্রোফাইল পার্টির আলাপচারিতার প্রচুর অজানা কাহিনীর ভাণ্ডার যাঁর কাছে পাওয়া সম্ভব ছিল, সেই ভারতীয় রাজনীতির সর্বশেষ কালারফুল ব্যক্তিত্বের এভাবে অসময়ে চলে যাওয়া এক অর্থে ইতিহাস চর্চার ক্ষতি করে দিয়ে গেল। অরুণ জেটলি নিজেও লিখতে ভালোবাসতেন। কিন্তু সমস্যা হল তিনি ব্লগ লিখতেন। এবং সেখানে সিংহভাগ ক্ষেত্রেই স্থান করে নিয়েছিল দলীয় রাজনীতির সমীকরণ। অথচ যাঁরা জেটলিকে চেনেন এবং যে সাংবাদিককুল তাঁর সঙ্গে নিয়মিত দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা‌ই জানেন, তিনি ছিলেন এক অফুরন্ত কাহিনীর উৎস। জেটলি নির্ঘাৎ ভেবে রেখেছিলেন যে, তিনি কখনও না কখনও অবশ্যই আত্মজীবনী কিংবা মেমোয়ার্স লিখবেন। কিন্তু মাত্র ৬৬ বছর বয়সে কেন? তাঁর ইনিংস তো আরও লম্বা! সুতরাং পরেই না হয় লেখা হবে! তিনি সেই ল঩ক্ষ্যে মেটেরিয়ালসও সংরক্ষণ করে রাখছিলেন। কিন্তু অকস্মাৎ একটি সাংঘাতিক বিস্ময়কর অসুস্থতা এবং তজ্জনিত মৃত্যু তাঁর পরিবার কিংবা রাজনীতির যে ক্ষতি করেছে, তার থেকে কোনও অংশে কম ক্ষতি হল না ভারতের ইতিহাস চর্চার। কারণ জেটলির সেই সম্ভাব্য বই থেকে ভারতের বদলে যাওয়া সমাজ, নাগরিক সংস্কৃতি, হাই প্রোফাইল জীবন, রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদলের পিছনের আনটোল্ড স্টোরির মোড়কে অসংখ্য আকর্ষণীয় কাহিনী পেতাম আমরা। ভারতীয় ক্রিকেট টিম সিলেকশনের সময় কীভাবে বিভিন্ন জোনের মধ্যে দড়ি টানাটানি হয়, অথবা কোনও একজন প্লেয়ারের ব্যক্তিগত দুর্বলতা কী, বা লন্ডনের কোন পার্টিতে গিয়ে ভারতের এক দাপুটে রাজনীতিক কিংবা কর্পোরেট কর্তা নাস্তানাবুদ হলেন কোনও ইস্যুতে, সুপ্রিম কোর্টের উচ্চকোটির আইনজীবীদের কাদের শখ কেমন, কোন বিচারপতি ভারত কাঁপানো রায় দেওয়ার আগে বা পরে কেমন আচরণ করলেন ইত্যাদি হাজারো গল্প ছিল তাঁর ঝুলিতে। সিনেমা, রাজনীতি, সুপ্রিম কোর্ট, ক্রিকেট, লেটেস্ট ফ্যাশনের ঘড়ি অথবা পেন, দিল্লির চাঁদনি চক কিংবা লখনউতে কাইসারবাগের কোন গলির দোকানে বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম কাবাব পাওয়া যায় ইত্যাদি—জীবনের প্রতিটি মাঠেই অনায়াস বিচরণকারী এরকম এক রাজনীতিবিদ ভারতীয় রাজনীতির জগতে আর একজনও রইলেন না।
অসম্ভব মানুষ চেনার ক্ষমতা ছিল জেটলির। কিলার ইনস্টিঙ্কট বলা যেতে পারে। মনে পড়ছে ২০০৬ সালের এক সন্ধ্যার কথা। ১১ নং অশোক রোডে প্রাত্যহিক সাংবাদিকদের সঙ্গে হাল্কা মেজাজে গল্পগুজবের সময় সদ্য তাঁর সঙ্গে দেখা করে বেরনোর পর একজন তরুণ দিল্লির ক্রিকেটার সম্পর্কে জেটলি বলেছিলেন, ‘ইস লড়কে কে অন্দর দম হ্যায়... ইয়ে অগর থোড়া ডিসিপ্লিনড হো যায়ে, ইসে রোকনা মুশকিল হ্যায়... বহোৎ দূর যায়েগা ইয়ে...।’ সেই তরুণ ক্রিকেটারের নাম বিরাট কোহলি! সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, জেটলি তাঁর জীবনের প্রতিটি প্যাশনকেই একেবারে অন্তর থেকে ভালোবাসতেন। সুপ্রিম কোর্টের বার কাউন্সিল থেকে সংসদের করিডর, ক্রিকেট প্রশাসনের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তগ্রহণের বৈঠক থেকে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে ব্রডওয়ের থিয়েটার দেখতে যাওয়া। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকেই তিনি উপভোগ করতেন প্রাণ থেকে।
২০০২ সালের এপ্রিলে গোয়ায় বিজেপি এগজিকিউটিভ কমিটির বৈঠক। গোটা দেশের মিডিয়া আর রাজনীতির নজর সেদিকে। কারণ একটাই। সেই বৈঠকে গুজরাত দাঙ্গা আলোচিত হয় কি না। আর হলেও কী মনোভাব নেওয়া হবে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে। গোটা ঘটনায় অটলবিহারী বাজপেয়ি ছিলেন অত্যন্ত আপসেট। গোয়া যাওয়া হচ্ছিল এয়ারফোর্সের বিশেষ বিমানে। একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ি এবং উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানি যাচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে একটি আসনে রয়েছেন যশবন্ত সিং এবং অন্য আসনে অরুণ শৌরি। বাজপেয়ি কোনও কথা বলছেন না। চুপ করে জানালার বাইরে তাকিয়ে। আদবানি নীরবতা ভঙ্গ করে বললেন, ‘অটলজি আপনি কী ভাবছেন?’ অটলবিহারী বাজপেয়ি ম্লান হেসে বললেন, ‘কমসে কম ইস্তিফা তো অফার কর সকতে...।’ এটা গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে। দেশজুড়ে গুজরাত দাঙ্গায় মোদিকে টার্গেট করে তীব্র আক্রমণ করা হচ্ছে তখন। স্বয়ং বাজপেয়িই বলেছেন, রাজধর্ম পালন করা উচিত ছিল। আদবানি ওই কথা শুনে বললেন, ‘মোদি ইস্তফা দিলেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? যদি আপনি তা মনে করেন আমি নিজেই মোদিকে বলব ইস্তফা দিতে। যদিও আমি জানি না পার্টির নেতাকর্মীরা এটা মেনে নেবে কি না।’ সেইমতো আদবানি সেদিনই গোয়া পৌঁছে মোদিকে বললেন বিষয়টি। নরেন্দ্র মোদি শুনলেন এবং আলোচনাও করলেন। তাঁকে তাঁর অনেক পুরনো এক সঙ্গী বললেন, এটাই সবথেকে বড় সুযোগ সাধারণ পার্টিকর্মী বা নেতাদের মধ্যে আপনার কতটা জনপ্রিয়তা, সেটা জনসমক্ষে প্রমাণ করার। আর আপনি যে ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া নয়, বরং গুজরাতই চায় আপনাকে—এই বার্তাও দেওয়া দরকার। মোদি ন্যাশনাল এগজিকিউটিভ বৈঠকে ঘোষণা করলেন তিনি ইস্তফা দিতে চান। আর তৎক্ষণাৎ গোটা সভা তুমুলভাবে চিৎকার করে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। ‘ইস্তফা মাত দো... ইস্তফা মাত দো...।’ প্রমোদ মহাজন উঠে গিয়ে মাইক টেনে নিয়ে বললেন, ‘আপনার ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ এই স্লোগানে গোটা শীর্ষ নেতৃত্ব তখন বসে বসে দেখছেন, পার্টির অন্দরে মোদির জনপ্রিয়তা কতটা। সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ দেওয়া সেই সঙ্গীর নাম অরুণ জেটলি। তিনি তখনই বুঝেছিলেন যে গোটা দেশে একজন নতুন নেতা আসতে চলেছেন। এবং সঠিকই বুঝেছিলেন। কারণ মোদির জনপ্রিয়তা তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উদীয়মান। মোদিও জেটলিকে সম্মান করতেন। প্রথমত ১৯৮৬ সালে লালকৃষ্ণ আদবানি যখন প্রথম বিজেপির সভাপতি হলেন, তিনি এসেই ঠিক করেছিলেন, একঝাঁক তরুণ রক্ত আনবেন দলে। সেইমতো তিনি বাছাই করে বিজেপির অন্দরে এনেছিলেন একটি স্বপ্নের টিম। সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলি, নরেন্দ্র মোদি, বেঙ্কাইয়া নাইডু, রাজনাথ সিং, কে এন গোবিন্দাচারিয়া। প্রত্যেকেই যুবক। প্রত্যেকেই দুর্দান্ত বাগ্মী এবং জনপ্রিয়। সেই টিম কতটা শক্তিশালী তা পরবর্তী ভারত দেখেছে। সুতরাং সেই তখন থেকেই গোটা টিমের মধ্যে মোদি লক্ষ্য করে এসেছেন দিল্লির সেন্ট জেভিয়ার্স, শ্রীরাম কলেজ অব কমার্স, দিল্লি ইউনিভার্সিটি হয়ে সুপ্রিম কোর্টের করিডরে ঘোরাফেরা করা জেটলি বাকি সকলের থেকে আলাদা। ধীরস্থির, ঠান্ডা মাথা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা অসাধারণ। সুতরাং একইসঙ্গে রাজনীতিতে উঠে এলেও জেটলি প্রথম থেকেই হয়ে উঠলেন মোদির অন্যতম পরামর্শদাতা। সেই প্রবণতা ছিল ২০১৪ সালে মোদির ক্ষমতায় আরোহণ পর্যন্ত। এবং ঠিক ওই ইনস্কিঙ্কট এসেছিল ২০০৯ সালের পর। যখন দ্বিতীয়বারও ইউপিএর কাছে পরাজিত হল বিজেপি। অরুণ জেটলি সম্ভবত প্রথম ও দ্রুত উপলব্ধি করেছিলেন যে, লালকৃষ্ণ আদবানি ডঃ মনমোহন সিংয়ের বিকল্প হিসেবে দেশজুড়ে জনমনের আগ্রহে পরিণত হতে পারবেন না। এবং ডঃ মনমোহন সিংয়ের সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী কোনও স্ট্রং লিডার হয়তো একমাত্র ট্রাম্প কার্ড হতে পারেন। কারণ কংগ্রেসের সবথেকে বড় সঙ্কট আগামীদিনে যে লিডারশিপই হতে চলেছে, সেটা বুঝতে পেরেছিলেন তিনি। আর এখানেই এক বিস্ময়কর কাজ করলেন জেটলি। তিনি নিজেকে সরিয়ে নিলেন বিজেপির পরবর্তী প্রজন্মের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড় থেকে। জেটলি সর্বদাই কিং মেকার হওয়ায় আগ্রহী ছিলেন। নিজে কিং হতে চাননি। কারণ তিনি নিজের ওই সামগ্রিক এনজয়েবল জগৎটিকে তাহলে মিস করতেন। এবং অঙ্ক কষে দেখলেন যে, একমাত্র এক শক্তিশালী দেশনায়কের মেন্টর তথা গাইড হওয়া অনেক ভালো। তাই তাঁর মনে ফের এল একটি নাম। যাঁকে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা যায়। ২০১৩ সালেই বিজেপি ন্যাশনাল এগজিকিউটিভ বৈঠকে সামনে এল সেই নাম। মাস্টারস্ট্রোক। গোটা পার্টির সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে যেন ইলেকট্রিকের চমক লাগল। আলোড়ন পড়ে গেল দলে এবং গোটা দেশে। অরুণ জেটলির স্ট্র্যাটেজি আবার নিখুঁত প্রমাণ হল। আদবানি সমাপ্ত। বিজেপি প্রবেশ করল মোদিযুগে!
* * *
প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্করের ফোন বাজছে রাত ১২টায়। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ। ২০১৪। দিল্লিতে প্রবল শীত। মনোহর পারিক্করের ফোন তাঁর পুত্র ধরেছেন। বললেন, ‘বাবা তো ঘুমিয়ে পড়েছে।’ ‘আমি সুষমা আন্টি বলছি বেটা! মনোহর ভাইকে একটু ডাকতেই হবে। ইটস আর্জেন্ট!’ ঘুম চোখে উঠে ফোন ধরলেন মনোহর পারিক্কর। ‘সুষমাজি বলুন! সব ঠিক আছে তো!’ উদ্বেগ তাঁর কণ্ঠে। বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বললেন, ‘মনোহর ভাই শুনিয়ে! জরুরি কথা। আমার এয়ারফোর্সের একসঙ্গে বেশ কয়েকটা কার্গো এয়ারক্র্যাফট চাই। ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাই করতে হবে।’ মনোহর পারিক্কর বিস্মিত! ‘কেন?’ সুষমা জানালেন একটু আগেই মালদ্বীপের হাইকমিশনার ফোন করে জানালেন, মালের সেন্ট্রাল ওয়াটার রিজার্ভার বার্স্ট করেছে। গোটা মালে জলহীন। ওরা ইন্ডিয়ার হেল্প চাইছে। ‘ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড মনোহর! উই মাস্ট রিচ দেয়ার বিফোর চায়না!’ এবার নড়েচড়ে বসলেন পারিক্কর। এটা একটা সাংঘাতিক পয়েন্ট। চীন নিশ্চয়ই ঝাঁপিয়ে পড়বে মালদ্বীপকে খুশি করতে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বললেন, ‘সুষমাজি আমরা আগে রিচ করবই।’ ব্যস! সারারাত ধরে গোটা ভারত যখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন, ভারত সরকারের বিদেশ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রক অপারেশন শুরু করল। যার নাম অপারেশন নীর। ৪০ টন পানীয় জল নিয়ে প্রথম এয়ারফোর্স কার্গো ফ্লাইট উড়ে গেল ভোর পাঁচটায়। দুপুরে আরও একটি। সন্ধ্যার মধ্যে মালদ্বীপে ৪০০ টন জল ভারত। আর চীনের থেকে প্রথম ফ্লাইট জল নিয়ে মালদ্বীপে ল্যান্ড করেছিল ৭ ডিসেম্বর। ভারত অনেক আগেই জিতে গিয়েছিল ওই কূটনীতির লড়াইয়ে। সুষমা স্বরাজের মধ্যে ছিল এই বিরল প্রতিভা। তিনি একদিকে ছিলেন দক্ষ প্রশাসক, সফল এক কূটনীতিক। আবার একইসঙ্গে ছিলেন শিক্ষিত স্মার্ট আধুনিক সনাতন ভারতীয় নারীর এক কপিবুক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। সনাতন, আধুনিক, স্মার্ট এসব শব্দকে যদি পরস্পরবিরোধী মনে হয়, তাহলে লক্ষ্য করতে হবে সুষমা স্বরাজের জার্নিকে। কারণ তাঁর এই ভারসাম্য রক্ষা কি রাজনীতির ময়দানে পা রাখার পর থেকে? একদমই নয়। এই ভাবমূর্তি যেন ছিল সহজাত। তাই স্কুল শেষ করে কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরে তিনি যখন পড়তে গেলেন, তখন একইসঙ্গে পড়লেন সংস্কৃত আর পলিটিক্যাল সায়েন্স। সুষমা শর্মা কবে ফ্রি থাকবে, সেটা দেখেই ইন্টার কলেজ ডিবেট কম্পিটিশনের তারিখ ধার্য করা হতো সেই সময়। কারণ সুষমা শর্মা যে বিতর্কসভায় থাকবে না, সেই বিতর্কসভা ম্লান। এহেন এক দুর্ধর্ষ বক্তা তরুণীর মধ্যে আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখলেন জয়প্রকাশ নারায়ণ। সুষমা শর্মার পিতা আরএসএসের কর্মী। সুতরাং ওই আবহেই তাঁর বড় হওয়া। জয়প্রকাশ নারায়ণ লালকৃষ্ণ আদবানিকে বলেছিলেন, ‘আদবানিজি ওই যে হরিয়ানার মেয়েটি প্রচার করেছিল, ওকে আপনারা প্রোমোট করুন। মেয়েটি কিন্তু আগামীদিনের লিডার। আর ওঁকেই আপনারা প্রার্থী করুন হরিয়ানায়। কারণ রাজ্যে রাজ্যে ভালো নেতানেত্রী থাকা দরকার।’ জয়প্রকাশ নারায়ণের সেই উপদেশ মেনে নিয়েছিলেন আদবানি। সুষমা হরিয়ানার সবথেকে কমবয়সি মন্ত্রী হয়ে গেলেন চৌধুরী দেবীলালের সরকারে। সেই শুরু। আদবানির টিমে চলে আসা সুষমা স্বরাজ কেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠলেন? কারণ তাঁর মধ্যে একজন স্টেটসম্যান হয়ে ওঠার সমস্ত গুণ ছিল। একেবারে তরুণ বয়স থেকেই প্রশাসন সামলেছেন। তাই ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হওয়া কিংবা বিদেশমন্ত্রীর পদ সামলানো তাঁর কাছে কোনও ব্যাপারই নয়। সবথেকে বড় কথা হল বিদেশমন্ত্রী হিসেবে তিনি বেমানান, এই ভাবমূর্তি তাঁর ছিল না। যেটা আজকের ভারত সরকারের অনেককে পর্যবেক্ষণ করে অথবা তাঁদের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করে মনে হয় যে সঠিক মানুষ বোধহয় সঠিক আসনে নেই। অরুণ জেটলি অথবা সুষমা স্বরাজরা নিজেদের রাজনৈতিক স্কুলিং এতটাই উঁচু তারে বেঁধেছিলেন যে, তাঁরা যখন লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা ও দলনেত্রী হয়েছিলেন, কয়েকমাসের মধ্যেই গোটা দেশের রাজনৈতিক শক্তি বুঝে গিয়েছিল, বিজেপির এই দুই শক্তিশালী তারকার কাছে ইউপিএ সরকারের রাজনৈতিক ম্যানেজাররা মোটেই টেক্কা দিতে পারছেন না। এর কারণ একটাই। অরুণ জেটলি ও সুষমা স্বরাজ দুজনেই ছিলেন অসামান্য বক্তা।
নেতানেত্রীদের বয়সের কারণে কিংবা অবসরের পর একটি দল সামান্য হলেও দুর্বল হয়ে যায় এটা নিয়ে সংশয় নেই। সব দলের ক্ষে঩ত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু অরুণ জেটলি আর সুষমা স্বরাজের চলে যাওয়ার পর বিজেপির ইমেজের যে অভাববোধ হবে সেটা অপূরণীয়। সুষমা ও জেটলি দু’জনের সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য, তাঁরা ছিলেন বিপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের সেতু। এমন কোনও নেতানেত্রী ভারতীয় রাজনীতিতে নেই, যাঁদের সঙ্গে এই দু’জনের সুসম্পর্ক ছিল না। প্রতিপক্ষকে সম্মান করে, তাঁদের কথা শোনা এবং যথাযোগ্য শ্রদ্ধা সমীহ করেই আলোচনার রাস্তা খোলায় এই দু’জনের কোনও বিকল্প নেই। বিজেপির মতো একটি হিন্দুত্ববাদী দলের শীর্ষ স্তরে থেকেও এই দু’জন কোনওদিন হিন্দু নেতানেত্রী হয়ে উঠলেন না। অরুণ জেটলির মধ্যে নরেন্দ্র মোদির ছায়া পড়ল না। সুষমা স্বরাজের মধ্যে ছিল না উমা ভারতীর প্রতিফলন! এমন এক বিস্ময়কর ব্যক্তিগত ব্যক্তিত্বময়তায় তাঁরা বাস করতেন যেন মনে হতো যে, কোনও দলেই তাঁদের অবস্থান মানিয়ে যাবে। অটলবিহারী বাজপেয়ি মৃত্যুর বহুদিন আগেই জনসমক্ষ থেকে সরে গিয়েছিলেন। অসুস্থ হয়ে ঘরবন্দি ছিলেন। বিজেপির অন্দরে তাঁর কোনও প্রভাবই আর ছিল না। কিন্তু বাজপেয়ি প্রবলভাবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর দুই শিষ্যের মধ্যে। অপ্রত্যক্ষ হয়েও বাজপেয়ি যেন বিজেপির অন্দরে দীপ্যমান ছিলেন অরুণ জেটলি ও সুষমা স্বরাজের ভাবমূর্তি ও রাজনৈতিক অ্যাপ্রোচের মধ্যে দিয়ে। অর্থাৎ সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার রাজনীতি। এই দু’জন অকালে চলে যাওয়ায় প্রকৃতই শুরু হল এক নতুন অধ্যায়। বিজেপির ভাবমূর্তি থেকে অবশেষে অন্তর্হিত হল বাজপেয়ি ঘরানার শেষ প্রতীকদ্বয়! এখন নতুন বিজেপি। যেখানে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সেতুবন্ধনের প্রয়োজন নেই! কারণ নতুন বিজেপির গুপ্ত ধ্রুবপদ—ওয়ান নেশন, ওয়ান পার্টি!
.............................................
 ছবি : এএফপি, পি টি আই
 গ্রাফিক্স : সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায় : উজ্জ্বল দাস 
01st  September, 2019
আরাধনা ৫০
সমৃদ্ধ দত্ত

 রবি শর্মার বাড়িতে গুরু দত্ত এসেছেন। প্রায় মধ্যরাত। এত রাতে কী ব্যাপার? রবি শর্মা চোখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি। গুরু দত্ত বললেন, ‘রবি আমি একটা গান চা‌ই। একটি মানুষ অনেক রাত পর্যন্ত মুশায়রার আসর থেকে বাড়ি ফিরেছে। তার সবেমাত্র বিয়ে হয়েছে। অপূর্ব সুন্দরী স্ত্রী। সেই মেয়েটি স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে করে একসময় ঘুমিয়ে পড়েছে। স্বামী ভদ্রলোক বাড়ি ফিরে দেখছেন স্ত্রী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
বিশদ

03rd  November, 2019
ডাকাত কালী
সুভাষচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

 কয়েকশো বছর আগের কাহিনী। তখন এখানে চারপাশে ঘন জঙ্গল। বহু জায়গায় সূর্যালোক পর্যন্ত পৌঁছত না। ছিল একাধিক হিংস্র পশুও। পাশেই সরস্বতী নদীর অববাহিকা। সেখানে বহু ডাকাতের বসবাস ছিল। বাংলার বিখ্যাত রঘু ও গগন ডাকাতও এই পথ দিয়ে ডাকাতি করতে যেতেন।
বিশদ

27th  October, 2019
মননে, শিক্ষায় পুরোপুরি বাঙালি

সুইডিশ অ্যাকাডেমি ঘোষণাটা করার পর কিছু সময়ের অপেক্ষা। আগুনের মতো খবরটা ছড়িয়ে গিয়েছিল গোটা দেশে... একজন বাঙালি, একজন ভারতীয় আরও একবার জগৎসভায় দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। অমর্ত্য সেনের পর অর্থনীতিতে নোবেল পাচ্ছেন তিনি। বিশদ

20th  October, 2019
অর্থনীতিতে নীতি
অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়

 লেখাটা শুরু করা যেতে পারে আমার ছাত্রজীবনে রাশিবিজ্ঞানের ক্লাসে শোনা একটা গল্প দিয়ে। কোনও একসময় ইংল্যান্ডের স্কুলশিক্ষা দপ্তর ঠিক করেছিল, স্কুলের বাচ্চাদের দুধ খাইয়ে দেখবে তাদের স্বাস্থ্যের উপর তার কোনও সুপ্রভাব পড়ে কি না। সেইমতো স্কুলগুলিতে কোনও একটি ক্লাসের অর্ধেক বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো হয় এবং বাকিদের তা দেওয়া হয়নি। বিশদ

20th  October, 2019
বাহন কথা 
রজত চক্রবর্তী

আকাশে সোনার থালার মতো চাঁদ। বাড়িতে বাড়িতে দোরগোড়া থেকে লতানে ধানের শিষ। এঁকে বেঁকে চলে গিয়েছে চৌকাঠ ডিঙিয়ে, ডাইনিংয়ের পাশ দিয়ে প্রতিটি ঘরে ঘরে... এমনকী সিঁড়ির পাশ দিয়েও উঠেছে দোতলায়। ধানের শিষের পাশে পাশে ছোট্ট ছোট্ট সুন্দর পায়ের ছাপ।  
বিশদ

13th  October, 2019
প্র তি মা র বি ব র্ত ন
সোমনাথ দাস

বর্ষা আর শরৎ এখন মিলেমিশে একাকার। বিশ্ব উষ্ণায়নের কৃপাদৃষ্টিতে শহরবাসীর পক্ষে আর এই দু’টি ঋতুকে আলাদা করা সম্ভব নয়। তবে ভাদ্রের সমাপ্তি এবং আশ্বিনের সূচনা বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে এক অনাবিল আনন্দ। মা দুর্গার আগমনবার্তায় আমাদের হৃদয় নেচে ওঠে।   বিশদ

29th  September, 2019
পুজোর ফুলের যন্ত্রণা
বিশ্বজিৎ মাইতি

 বিশ্বজিৎ মাইতি: হাওড়া‑খড়্গপুর রেলওয়ে শাখার বালিচক স্টেশন। মার্চ মাসের এক শুক্রবারের সকালে বেশ কয়েকজনকে ধরেছেন টিটি। বিনা টিকিটে ট্রেন সফর। তাঁদের মধ্যে এক যুবকের হাতে গোটা চারেক বস্তা। হাতে একগুচ্ছ ব্যাগ। গাল ভর্তি দাড়ি। উসকো-খুসকো চুল। পরনে নানান দাগে ভর্তি জামা ও হাফপ্যান্ট। করুণ চোখে আচমকাই নিজের মানিব্যাগ টিটির মুখের সামনে দেখিয়ে ধরা গলায় বলল, ‘স্যার একটা টাকাও নেই। পুরো শরীর চেক করে দেখুন...।
বিশদ

22nd  September, 2019
ভো-কাট্টা

বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোটা সমার্থক হয়ে গিয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজো মানেই আকাশজোড়া ঘুড়ির আলপনা। অসংখ্য ঘুড়ির ভেলায় যেন স্বপ্ন ভাসে। বহু কৈশোর আর যৌবনের মাঞ্জায় লেগে আছে ঘুড়ি ওড়ানোর স্মৃতি। যে ছেলেটা কোনওদিন সকাল দেখেনি, সেও বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে সূর্য ওঠার আগেই ঘুড়ি-লাটাই নিয়ে ছাদে উঠে যায়।  
বিশদ

15th  September, 2019
নির্মাণশিল্পী বিশ্বকর্মা
সন্দীপন বিশ্বাস

জরাসন্ধ তখন প্রবল প্রতাপান্বিত। বারবার মথুরা আক্রমণ করছিলেন। কিন্তু সপ্তদশ প্রচেষ্টাতেও মথুরা জয় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই ফের তিনি মথুরা আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে লাগলেন। কৃষ্ণ অবশ্য জানতেন জরাসন্ধ কিছুতেই মথুরা জয় করতে পারবেন না।
বিশদ

15th  September, 2019
আগুন বাজার
বীরেশ্বর বেরা

 ‘কেন? আপনি যে পটল বেচছেন, এমন পটল তো আমরা ৩০-৩২ টাকায় কিনছি!’ গ্রাম্য যুবক তাঁর আপাত-কাঠিন্যের খোলস ছেড়ে সহজ হয়ে গেলেন হঠাৎ। তেলের টিনের উপর চটের বস্তা বেঁধে টুলের মতো বসার জায়গাটা এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘বসুন তাহলে, বলি। বিশদ

08th  September, 2019
রাজীব ৭৫
মণিশঙ্কর আইয়ার

 ছিয়াশি সালের ডিসেম্বর। অঝোরে তুষারপাত হচ্ছে। আমরা যাচ্ছি কাশ্মীর। কিন্তু একটা সময় আর্মি জানাল, আর যাওয়া সম্ভব নয়। এত তুষারপাতে হেলিকপ্টার ওড়ানো যাবে না। তাহলে? যাব কী করে? বাকিরাও বলল, দিল্লি ফিরে চলুন। কিন্তু প্রধাননমন্ত্রী বললেন, তা হয় না। যাব যখন বলেছি যেতে হবে। লোকেরা অপেক্ষা করে থাকবে যে!
বিশদ

25th  August, 2019
শতবর্ষে  সারাভাই
মৃন্ময় চন্দ

চন্দ্রযান-২’র সাফল্যে গর্বিত ভারত। অভিজাত মহাকাশ ক্লাবের সদস্যদেশগুলির সঙ্গে ভারত আজ এক পংক্তিতে। মহাকাশ গবেষণায় ভারতের ঈর্ষণীয় সাফল্যের রূপকার নিঃসন্দেহে ক্ষণজন্মা বিরল প্রতিভাধর মিতভাষী এক বিজ্ঞানী—বিক্রম সারাভাই। একার হাতে যিনি গড়ে দিয়ে গেছেন ভারতের বিপুলা মহাকাশ সাম্রাজ্য। ১২ই আগস্ট ছিল তাঁর জন্মশতবার্ষিকী। বিশদ

18th  August, 2019
জয় জওয়ান

ঝুঁকি শব্দটি যখনই উল্লেখ করা হয়, তখনই তার সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যুদ্ধের বিষয়টি এসে পড়ে। কিন্তু শুধু যুদ্ধে নয়, ঝুঁকি রয়েছে প্রশিক্ষণ পর্বেও। একজন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে নানাভাবে তৈরি হতে হয়। আকাশপথে সেই প্রশিক্ষণ যখন শুরু হয়, তখন প্রতিটি স্তরেই ঝুঁকি থাকে। সেগুলো অতিক্রম করে সাফল্য পাওয়াই একজন পাইলটের কাছে চ্যালেঞ্জ। বিশদ

11th  August, 2019
জাতীয়তাবাদ ও রবিঠাকুর 
সমৃদ্ধ দত্ত

জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা তাঁর কাছে আলাদা। বিশ্বাস করতেন, গ্রামই ভারতের চেতনা। সম্পদ। তাই শুধু ইংরেজ বিরোধিতা নয়, রবিঠাকুরের লক্ষ্য ছিল ভারতের উন্নয়ন। ভারতবাসীর উন্নয়ন। তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলা। অন্যরকম তাঁর স্বদেশপ্রেম। আরও এক ২২ শ্রাবণের আগে স্মরণ এই অন্য রবীন্দ্রনাথকে। 
বিশদ

04th  August, 2019
একনজরে
সংবাদদতা, আলিপুরদুয়ার: ২০২১ সালে বিধানসভা ভোট। তার আগেই রয়েছে আলিপুরদুয়ার পুরসভার ভোট। এই জোড়া নির্বাচনকে পাখির চোখ করে জেলায় বন্ধ চা বাগানের ইস্যুকে হাতিয়ার করে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমে পড়েছে গেরুয়া বাহিনী। অন্যদিকে বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল শিবিরে ...

রাঁচি, ৭ নভেম্বর (পিটিআই): ঝাড়খণ্ডের গিরিডিতে এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারের দাবি, না খেতে পেয়ে তিনি মারা গিয়েছেন। যদিও রাজ্য প্রশাসনের তরফে অনাহারে মৃত্যুর ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণীর আসা বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে। সরকারের এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে স্কুলগুলিতে যে অতিরিক্ত ক্লাসরুমের বন্দোবস্ত করতে হবে, তার ...

 বিএনএ, বারাকপুর: বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের গড় ভাটপাড়া পুরসভার আরও পাঁচ বিজেপি কাউন্সিলার তৃণমূলের দিকে পা বাড়িয়ে রাখলেন। তাঁরা যে কোনও দিন ঘরে ফিরতে পারেন ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যবসা সূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬২- সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি পুরুষ ওস্তাদ আলাউদিন খাঁর জন্ম।
১৮৯৫- জার্মান পর্দাথবিদ উইলিয়াম কনরাড রঞ্জন এক্স রে আবিষ্কার করেন।
১৯১০ - ওয়াশিংটনের নির্বাচনে প্রথম কোনও মহিলা ভোট দেন।
১৯২৭- রাজনীতিক লালকৃষ্ণ আদবানির জন্ম
১৯৩৬ - প্রখ্যাত হিন্দী কথাসাহিত্যিক মুনশি প্রেমচাঁদের মৃত্যু
১৯৪৭ – সঙ্গীতশিল্পী ঊষা উত্থুপের জন্ম
১৯৭৬ - ক্রিকেটার ব্রেট লি’র জন্ম
২০১৭ – ভারতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল হয়





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৪৮ টাকা ৭২.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৯.১২ টাকা ৯৩.৪৫ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৪ টাকা ৮০.৪৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৮২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৮৩৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,৭৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,৮৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২১ কার্তিক ১৪২৬, ৮ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, একাদশী ১৬/৩০ দিবা ১২/২৫। পূর্বভাদ্রপদ ১৫/৫৯ দিবা ১২/১২। সূ উ ৫/৪৮/২৭, অ ৪/৫২/২১, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৩ মধ্যে পুনঃ ৭/১৭ গতে ৯/৩০ মধ্যে পুনঃ ১১/৪২ গতে ২/৩৯ মধ্যে পুনঃ ৩/২৩ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৫/৪৪ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৬ গতে ৩/১৩ মধ্যে পুনঃ ৪/৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/৩৫ গতে ১১/২১ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৬ গতে ৯/৪৩ মধ্যে। 
২১ কার্তিক ১৪২৬, ৮ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, একাদশী ১৫/৫৮/১৯ দিবা ১২/১২/৪৩। পূর্বভাদ্রপদ ১৭/৫৮/২৫ দিবা ১/০/৪৫, সূ উ ৫/৪৯/২৩, অ ৪/৫৩/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৪ মধ্যে ও ৭/২৭ গতে ৯/৩৬ মধ্যে ও ১১/৪৫ গতে ২/৩৭ মধ্যে ও ৩/২০ গতে ৪/৫৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৩৯ গতে ৯/১১ মধ্যে ও ১১/৫০ গতে ৩/২২ মধ্যে ও ৪/১৫ গতে ৫/৫০ মধ্যে, বারবেলা ৮/৩৫/২১ গতে ৯/৫৮/২০ মধ্যে, কালবেলা ৯/৫৮/২০ গতে ১১/২১/১৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৭/১৬ গতে ৯/৪৪/১৭ মধ্যে। 
১০ রবিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আগামীকাল অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করবে সুপ্রিম কোর্ট

09:17:50 PM

এবার হকি বিশ্বকাপ ভারতে
২০২৩ সালে পুরুষদের এফআইএইচ হকি বিশ্বকাপ আয়োজন করবে ভারত। ...বিশদ

05:08:38 PM

পদত্যাগ করলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী
 মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। সরকার গড়ার ...বিশদ

05:01:39 PM

আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হল এবছরের আন্তর্জাতিক কলকাতা ফিল্ম উৎসবের

05:01:00 PM

বর্ধমান স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে জখম বহু
বর্ধমান স্টেশনে ৪ ও ৫ নম্বর প্লাটফর্মের মাঝে ফুটওভারব্রিজে ওঠানামা ...বিশদ

04:54:00 PM

গান্ধী পরিবারের এসপিজি নিরাপত্তা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের: সূত্র 

03:53:10 PM