Bartaman Patrika
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

জল সঙ্কট 

কল্যাণ বসু: দুধ সাদা ধুতি পাঞ্জাবি, মাথায় নেহরু টুপি, গলায় মালা ঝুলিয়ে মন্ত্রী দু’হাত জোড় করে হাসিমুখে মঞ্চের দিকে যাচ্ছেন। চারদিকে জয়ধ্বনি, হাততালি। মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে মন্ত্রী বলতে শুরু করেছেন সবে। ‘আমি অবশ্যই এই গ্রামে জল এনে দেব, এ আমার অঙ্গীকার...’। ঠিক তখনই জনগণের মধ্যে থেকে এক তরুণ পাঁচ বছর আগের নির্বাচনী প্রচারে করা মন্ত্রীর একই প্রতিশ্রুতির রেকর্ডিংটা চালিয়ে দেয়। মঞ্চে নেতার তখন কাঁচুমাচু অবস্থা। রেকর্ডিং বন্ধ করার অনুনয়-বিনয়। ছোকরা তখন বলে ওঠে, ‘মন্ত্রীমশাই, গ্রামে থাকি বলে বুদ্ধু বানাবেন না।’ এরপর মোবাইল রেকর্ডিংটা হাতে নিয়ে মুচকি হেসে সে মাথা দোলাতে থাকে আর ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু হয়ে যায় কোম্পানির সেই বিখ্যাত ব্র্যান্ড স্লোগান—‘নো উল্লু বানাউয়িং, নো উল্লু বানাউয়িং।’
বেশ কয়েক বছর আগে এক বিখ্যাত মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির হয়ে অভিষেক বচ্চনের প্রায় আধ মিনিটের এই বিজ্ঞাপনটি জলকে জড়িয়ে সমাজ-রাজনীতির একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচিত করেছিল। স্বাধীনতার ৭১ বছর পার করেও দেশের অধিকাংশ মানুষ নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত।
তৃষ্ণা মেটাতে ও শারীরবৃত্তীয় আবশ্যকতার বিচারে ‘জলের অপর নাম জীবন’। এই আপ্তবাক্যটির যথার্থতা যেমন তর্কাতীত, তেমনই জলকে কেন্দ্র করেই আবার দুনিয়াজুড়ে দু’ভাবে জীবনসঙ্কট তৈরি হয়েছে। এক, দূষণের কারণে জীবনস্বরূপ জল হয়ে উঠেছে জীবনহানির অন্যতম কারণ। ফি বছর ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ জলঘটিত রোগে বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারায়, যার মধ্যে প্রতি ৮ সেকেন্ডে একজন শিশু। শুধুমাত্র ডায়ারিয়া বা পেট খারাপের কারণে বিশ্বে গড়ে বার্ষিক মৃত্যু প্রায় ৩৩ লক্ষ। দুই, জলের দাবি বা সংগ্রহকে ঘিরে ঘনিয়ে ওঠা যুদ্ধংদেহি পরিস্থিতি। বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটায় পাল্লা দিয়ে জলের চাহিদা বাড়তে শুরু করে। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকল বিবাদের সম্ভাবনাও। বিশ্বব্যাঙ্কের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সেরেজেলডিন শোনালেন চরম আশঙ্কার কথা, ‘পরবর্তী বিশ্বযুদ্ধটি হবে জলকে ঘিরেই।’ জলের জন্য বিশ্বযুদ্ধ! অতিরঞ্জিত মনে হলে জেনে রাখুন, দুনিয়াজুড়ে যাঁরা জলের জন্য বিভিন্ন মাপের লড়াই লড়ছেন তাঁদের জলযোদ্ধা (ওয়াটার ওয়ারিয়রস) বলে অভিহিত করা হচ্ছে। যুদ্ধের মতো সেইসব সংগ্রামের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকছে নানা হানাহানি। এই হানাহানি প্রত্যক্ষ করেছে ভারতও। ২০০৫ সালে। জলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের উপর বিজেপিশাসিত রাজস্থান সরকারের পুলিস গুলি চালিয়েছিল। দু’টি ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়। প্রথমটি ঘটে শ্রীগঙ্গানগর জেলায়। মৃত্যু হয়েছিল ৬ জনের। দ্বিতীয় ঘটনাটি টঙ্ক শহর থেকে ১৪ কিমি দূরে সোহেলা গ্রামে। সেখানে মৃত ৫ জনের মধ্যে অনিতা গুজুর নামে ৪৫ বছরের এক গর্ভবতী মহিলাও ছিলেন। বছর চারেক আগে মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলায় সরকারি কল থেকে জল সংগ্রহের সময় কাড়াকাড়ির কারণে খুন হতে হয় এক মহিলাকে। জলের জন্য এও কি যুদ্ধ নয়?
তবে এই জল সংক্রান্ত লড়াইয়ে মেয়েদের কথা না বললে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। নারীর মর্যাদায়ন ও ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রচুর গালভরা কথা, কুম্ভীরাশ্রু মোচন দেখা গেলেও, জল সংগ্রহকে ঘিরে যে বিপুল নারীশক্তির অপচয় হয়, অমর্যাদা হয় সে দিকটা অন্ধকারেই থাকে। মেয়েদের এই জল সংগ্রহকে প্রথম জীবনে কাব্যিক দৃষ্টিতে (‘দুই বিঘা জমি’র উপেনের চোখ দিয়ে) দেখে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘বুকভরা মধু বঙ্গের বধূ জল লয়ে যায় ঘরে—/ মা বলিতে প্রাণ করে আনচান, চোখে আসে জল ভরে।’ কিন্তু ৪১ বছর বাদে সেই তিনিই রূঢ় গদ্যে জানালেন, ‘যে জলকষ্ট সমস্ত দেশকে অভিভূত করেছে তার সবচেয়ে প্রবল দুঃখ মেয়েদের ভোগ করতে হয়। মাতৃভূমির মাতৃত্ব প্রধানত আছে তার জলে—তাই মন্ত্রে আছে: আপো অস্মান মাতরঃ শুদ্ধয়ন্তু। জল মায়ের মতো আমাদের পবিত্র করুক। জলাভাবে দেশে যেমন মাতৃত্বের ক্ষতি হয়, সেই ক্ষতি মেয়েদের দেয় বেদনা।’ গনগনে রোদ মাথায় নিয়ে তপ্ত বালির উপর দিয়ে বারংবার মাইলের পর মাইল হেঁটে মেয়েদের জল সংগ্রহের দৃশ্য দেখে রবীন্দ্রনাথ এই কষ্টকে এক বক্তৃতায় ‘মরণদশা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তারপর ৮২ বছর অতিক্রান্ত। মেয়েদের এই জলকষ্ট কতটা দূর হল? উত্তর হল, ভারতে জল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে নারী দুর্দশার চিত্র বিশ্বের দরবারে মাথা হেঁট করে দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট। ঘটনাটি হল—মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড এলাকার একাধিক জেলায় পানীয় জলের সঙ্কট বহু বছরের। টিকমগড় জেলার লিধোরা গ্রামে এই সমস্যা নিয়ে বলতে গিয়ে জেলার সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট গ্রামবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ‘জাতারা ব্লকের বায়িরবার গ্রামের মধ্যে দিয়ে যেতে গিয়ে কয়েকদিন আগে দেখলাম রাত দু’টোর সময় মহিলারা উঠে জল আনতে যাচ্ছে। এই সমস্যার সমাধানে তিনটে বিয়ে করা যায়। একটা বউ সন্তান জন্ম দেওয়া ও প্রতিপালনের জন্য আর জল আনার জন্য বাকি দুই বউ। গরিবদের ক্ষেত্রে এটা অসম্ভব হলেও, বড়লোকরা এটা করতেই পারেন।’ শুনতে খারাপ লাগলেও, পরিবারের জল সংগ্রহের জন্য মেয়েদের দুর্ভোগ এমন পর্যায়েই। শুধু মধ্যপ্রদেশ কেন, মহারাষ্ট্রেও এক কাহিনী। মুম্বই থেকে ১৪০ কিমি দূরে দেঙ্গনমাল গ্রামের শ’খানেক পরিবারের অনেকেই একাধিক বউ পালন করেন জল সংগ্রহের জন্য। এরকমই একজন ৬৬ বছর বয়সি সখারাম ভগত। সোজাসাপ্টা মন্তব্য, ‘বউকে বাচ্চা সামলাতে হতো। জল আনতে তো কাউকে দরকার! তাই ফের বিয়ে করলাম। দ্বিতীয় স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় আবার বিয়ে করতে হল।’
শুধু কি জল সংগ্রহ করে দেওয়ার জন্য বউ? না। মনে পড়ে মতি নন্দীর লেখা গল্প ‘জলের ঘূর্ণি ও বক বক শব্দ’-এর কথা। বহু পরিবারের বাস এমন বাড়িতে থাকেন বিশ্বনাথ ও তাঁর স্ত্রী পূর্ণিমা। বারোয়ারি টাইম কলে কর্পোরেশনের জল আসা বন্ধ থাকে একদিন। পূর্ণিমা পাশের বস্তিতে জল সংগ্রহ করতে গিয়ে বেইজ্জত হন, বস্তির মহিলারা তাঁকে শাড়ি খুলে, ব্লাউজ ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে হেনস্তা করে। অবশেষে ভাড়া বাড়ির কলে জল এলে পূর্ণিমা পাগলের মতো ঘরের প্রায় সব কিছুতে জল ভরে রাখে ফের জল বন্ধের আশঙ্কায়। কত জলসঞ্চয় দরকার জানতে বিশ্বনাথ প্রায়োন্মাদ স্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, ‘তোমার টার্গেট কত?’ পূর্ণিমা জবাবে বলেন, ‘আমার টার্গেট নেই।’ এই ‘টার্গেট’ শব্দটা গভীর ব্যঞ্জনাময় হয় গল্পের পরিসমাপ্তিতে।
তথ্য বলছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৮ শতাংশ ভারতে। অথচ জলের ব্যবহার মাত্র ৪ শতাংশ। ১০০ কোটি মানুষ এদেশে জলাভাবে আছেন, যার মধ্যে ৬০ কোটির অবস্থা শোচনীয়। জলের গুণমান সূচকের নিরিখে ভারত ১২২টি দেশের মধ্যে ১২০তম অবস্থানে। ২০১৩-২০১৮ সালে এদেশে জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৭ কোটি মানুষ, যা ইংল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় সমান। ওই পাঁচ বছরে মারা গিয়েছিলেন ১০ হাজার ৭৩৮ জন, যার মধ্যে পেট খারাপেই ৬৫১৪ জন! ২০১৬ সালে ইন্ডিয়া স্পেন্ডের রিপোর্ট বলছে, জলবাহিত রোগে ভারতে ৭ কোটি ৩০ লক্ষ কর্মদিবস নষ্ট হয়।
তবে দেশবাসীকে যথেষ্ট পরিমাণে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের লড়াইয়ে ভারত চুপ করে বসে আছে ভাবলে ভুল করা হবে। আমাদের স্বতন্ত্র জলসম্পদ মন্ত্রক আছে, জল কমিশন আছে, একাধিক মন্ত্রী ও সচিব আছেন, জাতীয় জলনীতি আছে, জল নিয়ে বাজেট বরাদ্দ আছে। ছিল ‘হু’-এর মিশন ‘ওয়াটার ফর অল বাই ১৯৯০’, ‘হেল্থ ফর অল বাই ২০০০’, রাষ্ট্রসঙ্ঘের ‘ইন্টারন্যাশনাল ড্রিংকিং ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন ডিকেড’ (১৯৮১-১৯৯০), মিলিয়ন ডেভেলপমেন্ট গোলের অন্তর্গত ‘ওয়াটার ফর লাইফ ডিকেড’ (২০০৫-২০১৫)। সর্বোপরি এবছর বিশ্ব জলদিবস (২২ মার্চ) ২৫ বছর অতিক্রম করেছে। এবছরে দিনটির থিম ছিল ‘সকলের জন্য জল।’ কিন্তু বাস্তবটা কী? বিশ্বখ্যাত সংস্থা ‘ওয়াটার এইড’ তাদের সর্বশেষ সমীক্ষায় জানিয়েছে, ভারত যখন বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের ভোট উৎসবে মেতেছিল, তখন বিশ্বের সবথেকে বেশি সংখ্যক পানীয় জল বঞ্চিত মানুষ (১৬ কোটি ৩১ লক্ষ) এই দেশেই। এহেন কাকতালীয় সমাপতন কপালে ভাঁজ ফেলার মতোই বটে!  
07th  July, 2019
রাজ সিংহাসন
প্রণবকুমার মিত্র

 দরবারে আসছেন মহারাজ। শিঙে, ঢাক, ঢোল, কাঁসর ঘণ্টার বাদ্যি আর তোপের শব্দ সেটাই জানান দিচ্ছে। তারপর সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে মহারাজ ধীর পায়ে গিয়ে বসলেন রাজ সিংহাসনে। আগেকার দিনে রূপকথার গল্পে এটাই বলা হতো।
বিশদ

08th  December, 2019
আ ম্মা হী ন তামিল রাজনীতি
রূপাঞ্জনা দত্ত

২৪ ফেব্রুয়ারি। তামিলনাড়ুর কাছে এটা একটা বিশেষ দিন। মন্দিরে মন্দিরে উপচে পড়ত ভিড়। সবার একটাই প্রার্থনা, ‘আম্মা নাল্লামাগা ইরঙ্গ’। ‘আপনি ভালো থাকুন’। ওইদিন তিনিও যেতেন মন্দিরে। নিজের জন্মদিনে ভক্তদের ভালোবাসা বিলোতে। সেটাকে অবশ্য ‘পুরাচি থালাইভি’র আশীর্বাদ বলেই গণ্য করত সবাই।   বিশদ

01st  December, 2019
অর্ধশতবর্ষে শ্বেত বিপ্লব 
কল্যাণ বসু

‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে...’
রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে ঈশ্বরী পাটনীর কালজয়ী বর প্রার্থনা ছিল এটাই। ‘অন্নপূর্ণা ও ঈশ্বরী পাটনী’র এই অবিস্মরণীয় পংক্তিতে সন্তানের মঙ্গলচিন্তা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে সন্তানের মঙ্গলার্যে বিরাট কোনও লোভ না দেখিয়ে শুধুমাত্র দুধ-ভাতের আজীবন জোগান প্রার্থনা করা। সুস্থ-সবল সন্তানের জন্য ভাতের সঙ্গে দুধের অপরিহার্যতার কথাও আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রয়েছে এই প্রার্থনায়।  
বিশদ

24th  November, 2019
অচেনা অযোধ্যা
সমৃদ্ধ দত্ত

 সরযূ নদীর নয়াঘাটে মাঝেমধ্যেই দেখা যাবে এক টানাপোড়েনের দৃশ্য। গোন্দা জেলার মানকপুর গ্রামের রমাদেবী নিজের মেয়ের সামনে হাতজোড় করে বলছেন, ‘আমাকে ছেড়ে দে রে..আমি কয়েকদিন পর আবার চলে যাব..সত্যি বলছি যাব।’ মেয়ে জানে মায়ের কথার ঠিক নেই। আজ বিশ্বাস করে ছেড়ে দিলে, সত্যিই কবে যাবে, কোনও ঠিক নেই।
বিশদ

17th  November, 2019
বিস্মৃতপ্রায় সুরেন্দ্রনাথ
রজত চক্রবর্তী

কালো পুলিস ভ্যানটা ঢুকতেই উত্তেজিত জনতা যেন তাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে। আন্দোলনের নেতৃত্বে স্বয়ং ‘বাংলার বাঘ’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। হবে নাই বা কেন! বাংলার জাত্যাভিমানকে পরিচিতি দিয়েছিলেন পুলিস ভ্যানের ভিতরে বসে থাকা ব্যক্তিটিই। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তাঁর জন্মদিন। বিশদ

10th  November, 2019
সুরেন্দ্রনাথের সাংবাদিক সত্ত্বা 
ডাঃ শঙ্করকুমার নাথ

১৮৮৩ সালে কলকাতা হাইকোর্ট ‘The Bengalee’ পত্রিকার সম্পাদক সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুদ্রাকার-প্রকাশক রামকুমার দে’র নামে রুল জারি করার নির্দেশ দিল এবং পরের দিন তা কার্যে পরিণত হল। বলা হল— ‘আদালত অবমাননা করার অপরাধে কেন জেলে যাইবেন না, তাহার কারণ প্রদর্শন করুন।’ 
বিশদ

10th  November, 2019
আরাধনা ৫০
সমৃদ্ধ দত্ত

 রবি শর্মার বাড়িতে গুরু দত্ত এসেছেন। প্রায় মধ্যরাত। এত রাতে কী ব্যাপার? রবি শর্মা চোখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি। গুরু দত্ত বললেন, ‘রবি আমি একটা গান চা‌ই। একটি মানুষ অনেক রাত পর্যন্ত মুশায়রার আসর থেকে বাড়ি ফিরেছে। তার সবেমাত্র বিয়ে হয়েছে। অপূর্ব সুন্দরী স্ত্রী। সেই মেয়েটি স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে করে একসময় ঘুমিয়ে পড়েছে। স্বামী ভদ্রলোক বাড়ি ফিরে দেখছেন স্ত্রী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
বিশদ

03rd  November, 2019
ডাকাত কালী
সুভাষচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

 কয়েকশো বছর আগের কাহিনী। তখন এখানে চারপাশে ঘন জঙ্গল। বহু জায়গায় সূর্যালোক পর্যন্ত পৌঁছত না। ছিল একাধিক হিংস্র পশুও। পাশেই সরস্বতী নদীর অববাহিকা। সেখানে বহু ডাকাতের বসবাস ছিল। বাংলার বিখ্যাত রঘু ও গগন ডাকাতও এই পথ দিয়ে ডাকাতি করতে যেতেন।
বিশদ

27th  October, 2019
মননে, শিক্ষায় পুরোপুরি বাঙালি

সুইডিশ অ্যাকাডেমি ঘোষণাটা করার পর কিছু সময়ের অপেক্ষা। আগুনের মতো খবরটা ছড়িয়ে গিয়েছিল গোটা দেশে... একজন বাঙালি, একজন ভারতীয় আরও একবার জগৎসভায় দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। অমর্ত্য সেনের পর অর্থনীতিতে নোবেল পাচ্ছেন তিনি। বিশদ

20th  October, 2019
অর্থনীতিতে নীতি
অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়

 লেখাটা শুরু করা যেতে পারে আমার ছাত্রজীবনে রাশিবিজ্ঞানের ক্লাসে শোনা একটা গল্প দিয়ে। কোনও একসময় ইংল্যান্ডের স্কুলশিক্ষা দপ্তর ঠিক করেছিল, স্কুলের বাচ্চাদের দুধ খাইয়ে দেখবে তাদের স্বাস্থ্যের উপর তার কোনও সুপ্রভাব পড়ে কি না। সেইমতো স্কুলগুলিতে কোনও একটি ক্লাসের অর্ধেক বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো হয় এবং বাকিদের তা দেওয়া হয়নি। বিশদ

20th  October, 2019
বাহন কথা 
রজত চক্রবর্তী

আকাশে সোনার থালার মতো চাঁদ। বাড়িতে বাড়িতে দোরগোড়া থেকে লতানে ধানের শিষ। এঁকে বেঁকে চলে গিয়েছে চৌকাঠ ডিঙিয়ে, ডাইনিংয়ের পাশ দিয়ে প্রতিটি ঘরে ঘরে... এমনকী সিঁড়ির পাশ দিয়েও উঠেছে দোতলায়। ধানের শিষের পাশে পাশে ছোট্ট ছোট্ট সুন্দর পায়ের ছাপ।  
বিশদ

13th  October, 2019
প্র তি মা র বি ব র্ত ন
সোমনাথ দাস

বর্ষা আর শরৎ এখন মিলেমিশে একাকার। বিশ্ব উষ্ণায়নের কৃপাদৃষ্টিতে শহরবাসীর পক্ষে আর এই দু’টি ঋতুকে আলাদা করা সম্ভব নয়। তবে ভাদ্রের সমাপ্তি এবং আশ্বিনের সূচনা বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে এক অনাবিল আনন্দ। মা দুর্গার আগমনবার্তায় আমাদের হৃদয় নেচে ওঠে।   বিশদ

29th  September, 2019
পুজোর ফুলের যন্ত্রণা
বিশ্বজিৎ মাইতি

 বিশ্বজিৎ মাইতি: হাওড়া‑খড়্গপুর রেলওয়ে শাখার বালিচক স্টেশন। মার্চ মাসের এক শুক্রবারের সকালে বেশ কয়েকজনকে ধরেছেন টিটি। বিনা টিকিটে ট্রেন সফর। তাঁদের মধ্যে এক যুবকের হাতে গোটা চারেক বস্তা। হাতে একগুচ্ছ ব্যাগ। গাল ভর্তি দাড়ি। উসকো-খুসকো চুল। পরনে নানান দাগে ভর্তি জামা ও হাফপ্যান্ট। করুণ চোখে আচমকাই নিজের মানিব্যাগ টিটির মুখের সামনে দেখিয়ে ধরা গলায় বলল, ‘স্যার একটা টাকাও নেই। পুরো শরীর চেক করে দেখুন...।
বিশদ

22nd  September, 2019
ভো-কাট্টা

বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোটা সমার্থক হয়ে গিয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজো মানেই আকাশজোড়া ঘুড়ির আলপনা। অসংখ্য ঘুড়ির ভেলায় যেন স্বপ্ন ভাসে। বহু কৈশোর আর যৌবনের মাঞ্জায় লেগে আছে ঘুড়ি ওড়ানোর স্মৃতি। যে ছেলেটা কোনওদিন সকাল দেখেনি, সেও বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে সূর্য ওঠার আগেই ঘুড়ি-লাটাই নিয়ে ছাদে উঠে যায়।  
বিশদ

15th  September, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ : যে আমবাগান থেকে দিন তিনেক আগে উদ্ধার করা হয়েছে দগ্ধ মহিলার দেহ, তার এক প্রান্তে রয়েছে আড়াপুর জোত টিপাজানি আহ্লাদমণি ঘোষ ...

বিএনএ, চুঁচুড়া: খো খো প্রতিযোগিতায় দেশকে জিতিয়ে ঘরে ফিরলেন চুঁচুড়ার সোনার মেয়ে ঈশিতা। ঈশিতা বিশ্বাস সাউথ এশিয়ান গেমসের সোনাজয়ী ভারতীয় খো খো দলের সদস্য ছিলেন। ...

হায়দরাবাদ, ৮ ডিসেম্বর (পিটিআই): তেলেঙ্গানায় পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারায় অভিযুক্ত চারজনের পুলিসি এনকাউন্টার নিয়ে রবিবারও পুরোদস্তর তদন্তের প্রক্রিয়া চালাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। শনিবার থেকে এই তদন্ত শুরু হয়েছে।  ...

নয়াদিল্লি, ৮ ডিসেম্বর: চলতি বছরের নভেম্বর মাসে গাড়ির উৎপাদন ৪.৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি করল মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া (এমএসআই)। বাজারে চাহিদা না থাকায় টানা ন’মাস ধরে গাড়ির উৎপাদন কমিয়ে এনেছিল সংস্থাটি। মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া তরফে জানানো হয়েছে, নভেম্বর মাসে ১ লক্ষ ৪১ ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

মাঝে মধ্যে মানসিক উদ্বেগের জন্য শিক্ষায় অমনোযোগী হয়ে পড়বে। গবেষণায় আগ্রহ বাড়বে। কর্মপ্রার্থীদের নানা সুযো ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৪৮৩: অন্ধকবি সুরদাসের জন্ম
১৮৯৮: বেলুড় মঠ প্রতিষ্ঠিত হল
১৬০৮: ইংরেজ কবি জন মিলটনের জন্ম
১৯৪৬: কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর জন্ম
১৯৪৬: অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার জন্ম
২০১১: আমরি হাসপাতালে আগুন 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৯ টাকা ৭২.১৯ টাকা
পাউন্ড ৯২.২০ টাকা ৯৫.৫৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৭৫ টাকা ৮০.৭৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
07th  December, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৪২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩, ৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩, ৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
08th  December, 2019

দিন পঞ্জিকা

২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, দ্বাদশী ৯/২৩ দিবা ৯/৫৪। ভরণী ৫৭/৯ শেষ রাত্রি ৫/০। সূ উ ৬/৮/৫৩, অ ৪/৪৮/২৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৮ গতে ১১/৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৮ গতে ১১/২ মধ্যে পুনঃ ২/৩৫ গতে ৩/৩০ মধ্যে, বারবেলা ৭/২৭ গতে ৮/৪৮ মধ্যে পুনঃ ২/৮ গতে ৩/২৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৮ গতে ১১/২৮ মধ্যে। 
২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, দ্বাদশী ৭/১০/১১ দিবা ৯/২/২২। ভরণী ৫৭/৩১/১০ শেষরাত্রি ৫/১০/২৬, সূ উ ৬/১০/১৮, অ ৪/৪৯/১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৯ মধ্যে ও ৯/৪ গতে ১১/১১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩১ গতে ১১/৫ মধ্যে ও ২/৪০ গতে ৩/৩৪ মধ্যে, কালবেলা ৭/৩০/৮ গতে ৮/৪৯/৫৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৯/৩০ গতে ১১/২৯/৪০ মধ্যে।
১১ রবিয়স সানি 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
দ্বিতীয় টি২০: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতের বিরুদ্ধে ৮ উইকেটে জিতল

08-12-2019 - 10:32:44 PM

দ্বিতীয় টি২০: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৩/১ (১০ ওভার) 

08-12-2019 - 09:47:37 PM

দ্বিতীয় টি২০: ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭১ রানের টার্গেট দিল ভারত 

08-12-2019 - 08:47:23 PM

কোচবিহারে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ, জখম ২ 
কোচবিহারে ফের বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ। বোমার ঘায়ে জখম দুই তৃণমূল সমর্থক। ...বিশদ

08-12-2019 - 08:23:24 PM

দ্বিতীয় টি২০: ভারত ১৩২/৪ (১৫ ওভার) 

08-12-2019 - 08:19:18 PM

দ্বিতীয় টি২০: ভারত ১১২/৩ (১২ ওভার) 

08-12-2019 - 08:06:46 PM