Bartaman Patrika
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

জগন্নাথের ভাণ্ডার
মৃন্ময় চন্দ

‘রথে চ বামনং দৃষ্ট, পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে’। অর্থাৎ, রথের রশি একবার ছুঁতে পারলেই কেল্লা ফতে, পুনর্জন্ম থেকে মুক্তি। আসলে সর্বধর্মের সমন্বয়ে বিবিধের মাঝে মিলন মহানের এক মূর্ত প্রতিচ্ছবি এই রথযাত্রা। সেই কারণেই নিউজিল্যান্ডের হট প্যান্টের গা ঘেঁষে সাত হাত কাঞ্চীপূরমীয় ঘোমটা টানা অসূর্যমপশ্যা দ্রাবিড়ীয় গৃহবধূও শামিল হন রথের রশি ধরতে। অর্কক্ষেত্র, শঙ্খক্ষেত্র আর শৈবক্ষেত্রের সমাহারে সেই মিলন মহানের সুরটিই সতত প্রতিধ্বনিত নীলাচলে। তাই নীলাচলপতির দর্শনে অক্ষয় বৈকুণ্ঠ লাভের আশায় ভিড়ের ঠেলায় গুঁতো খেতে খেতে চলেন সংসার-বঞ্চিত বাল্যবিধবারা। একই মনোবাসনা নিয়ে চলেছেন অন্ধ, চলেছেন বধির, চলেছেন অথর্ব। অন্ধ-কানা-খোঁড়া বলে কেউ তাদের উপহাস করছে না! আজ আর কেউ তাঁদের রথের দড়ি ছোঁয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে না। এভাবেই কোটি কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে নিজস্ব মেজাজে স্বকীয় জগন্নাথদেবের রথযাত্রা।



 জগন্নাথের বিষয় আশয়...

বিষয় আশয় থেকে রোজগার কমে যাওয়ায় নীলাচলপতির বিলাস বসনে কিঞ্চিৎ ভাটা পড়েছে। বারো মাসে তেরো পার্বণে তাঁর জমকালো নানাবিধ পোশাকের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের খরচ জোগানোও মুশকিল হয়ে পড়ছে। অনেক ‘বেশ’ কালক্রমে অপ্রচলিত হয়ে পড়ছে। হাতি-ঘোড়া-আসবাব-তৈজসপত্র বাদ দিয়েও প্রভু শ্রীজগন্নাথের রয়েছে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির বিশাল এক মালিকানা। ‘মাদলাপাঁজি’র বর্ণনায় ওড়িশার রাজা অনঙ্গভীমদেব একাই আড়াই লক্ষ সোনার মোহর দান করেছিলেন। সূর্যবংশীয় রাজারাও তাদের আরাধ্য দেবতাকে দানধ্যান করেছিলেন প্রচুর। তবে মুসলিম শাসকরা বারেবারে শ্রীজগন্নাথের রত্নভাণ্ডার লুট করেছে। ১৫৬৮ খ্রিস্টাব্দে ‘কালাপাহাড়’ শ্রীমন্দিরকে ধ্বংস করে, লুট করে রত্নভাণ্ডারের যাবতীয় ধনসম্পত্তি। রাজা পুরুষোত্তম দেবের রাজত্বকালে ‘কেসোদাস মারু’ নামে এক মুঘল সুবেদার লুটপাট চালায় মন্দিরে। যদিও উপহার হিসেবে প্রাপ্ত, ১৪৬৬ খ্রিস্টাব্দের বিভিন্ন অলঙ্কার বর্তমানেও ব্যবহৃত হচ্ছে। সোনা-হীরে-জহরত-নীলকান্তমণি-প্রবাল-মুক্তো ছাড়াও রয়েছে রুপোর নানা দুর্মূল্য অলঙ্কার ও তেজস। ‘রেকর্ড অব রাইটস’-এর চতুর্থ ভাগে দেখা যাচ্ছে রত্নভাণ্ডারের ‘বাহার ভাণ্ডারে’ তিনটে সোনার নেকলেস বা ‘হরিদা খাণ্ডি মালি’ রয়েছে, যার প্রতিটির ওজন ১২০ তোলা বা ১৩৯৯.৬৫৬ ভরির বেশি। জগন্নাথ-বলভদ্রের সোনার শ্রীভুজ আর শ্রীপায়েরার ওজন ৮১৮ (৯৫৪০ ভরি) এবং ৭১০ (৮২৮১ ভরি) তোলা। শ্রী জগন্নাথ, শ্রীবলভদ্র ও সুভদ্রার সোনার মুকুটের ওজন যথাক্রমে ৭১১৪ ভরি, ৫০৬২ ভরি ও ৩২০৭ ভরি। রয়েছে সোনার জপমালা, স্বর্ণপত্র, সোনার ফুলদানি, সোনার কৌটো, সোনার বাটি, সোনার ছাতা, উষ্ণীষ, সোনার গ্লাস, স্বর্ণকলস, সোনার রণভেড়ি, সোনার ছোরার হাতল, স্বর্ণঝাড়ি, সোনার জগ, প্লেট, বাতিদান, সোনার পিকদান-টায়রা-ছোট সোনার ছাতা। রয়েছে রুপোর কলসি-পদ্মফুল-শঙ্খ-তালাচাবি-লাঠি, সাতটা বাতির ঝাড়লণ্ঠন, শাবল, ছোট তরোয়াল, রুপোর গাছে ফুলের মতো ফুটে থাকা শাঁখের গুচ্ছ, সানাই, বাঁশি, চক্র, ঢাল, কোমরবন্ধ প্রভৃতি। রত্নভাণ্ডারের ‘বাহার’ বা ‘বাইরের ভাণ্ডার’ তিনটে তালাচাবি ও ‘ভিতর ভাণ্ডার’ দু’টো তালাচাবিতে সুরক্ষিত। একটি চাবি রাজার কাছে থাকে, অন্য দুটি যথাক্রমে ‘ভাণ্ডার মেকাপ’ ও মন্দির কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকে। রত্নভাণ্ডারের রত্নসামগ্রীকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। ভিতর ভাণ্ডারের (১ নং বিভাগ) রত্ন কখনও ব্যবহার করা হয় না। দ্বিতীয় ভাগের রত্নরাজিকে বিভিন্ন উৎসবে, পার্বণে ব্যবহার করা হয় আর সর্বশেষ ভাগের (৩নং বিভাগ) রত্ন-অলঙ্কার নিত্যদিনের সেবাকাজে ব্যবহৃত হয়। ১৯৭৬—৭৮ সালব্যাপী সরকারি তত্ত্বাবধানে রত্নভাণ্ডারের চুলচেরা হিসেবনিকাশ পর্ব চলে। তারপরে প্রস্তুত করা হয় এক সুবিস্তৃত তালিকা। সেই তালিকা অনুযায়ী ১ নং বিভাগে রয়েছে ৩৬৭ ধরনের সোনার অলঙ্কার/সামগ্রী যা কখনও ব্যবহার করা হয় না। তার ওজন ৪৩৬৪ ভরি। ২ নং বিভাগের ৭৯ ধরনের সোনার গহনা বিভিন্ন পার্বণে ব্যবহৃত হয়, তার ওজন ৮১৭৫ ভরি। আর শেষ বিভাগে ৮ ধরনের নিত্যব্যবহার্য গয়নার ওজন ২৯৯ ভরি। সবমিলিয়ে ৪৫৪ ধরনের সোনার গহনা বা সোনার সামগ্রীর ওজন ১২ হাজার ৮৩৮ ভরি। তেমনই ২৯৩ ধরনের রুপোর গহনা বা অন্যান্য বস্তুর ওজন ২২ হাজার ১৫৩ ভরি। ওড়িশার রাজ্যপালের অনুরোধে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ৪ জন বিখ্যাত স্বর্ণকারকে ওড়িশায় পাঠান। তাঁরাই রত্নরাজির সঠিক মূল্য নির্ধারণ করেন। এছাড়াও শ্রীজগন্নাথদেবের রয়েছে প্রচুর ভূসম্পত্তি। প্রায় নিখরচায় বছরের পর বছর সেখানে বসবাস বা চাষবাস করছেন বহু-মানুষ। ১৯৭৮ সালের জুলাই মাসের হিসেব অনুযায়ী ‘সর্বরাকর’, ‘একহাজারত মহল’ ও ‘সাইতিশহাজারি মহলে’ রাজস্ব বকেয়া ৩০ লাখ টাকার বেশি। মন্দির কর্তৃপক্ষের বয়ানে মামলা চালানোর মতো অর্থনৈতিক সঙ্গতি শ্রীজগন্নাথদেবের নেই। সুতরাং গগনচুম্বী বকেয়া অনাদায়ীই থেকে যাচ্ছে। তাই সরকার এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে ভাবনাচিন্তা চলছে শ্রীজগন্নাথদেবের কিছু অলঙ্কার বন্ধক রেখে যদি মোটা অঙ্কের সুদ মেলে, তাহলে সংসারের হালও ফেরে আর মামলা মোকদ্দমার খরচটাও উঠে আসে।


 ইতিহাসের আলপথ বেয়ে...
সত্যযুগে রথযাত্রার অবতারণা ভক্ত প্রহ্লাদের হাত ধরে। ভবগান বিষ্ণুকে রথে উপবেশন করিয়ে তা নিজে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন ভক্ত প্রহ্লাদ। তাঁর হৃদয়-রথে তখন অধিষ্ঠিত স্বয়ং তাঁর ভগবান। বর্তমান যুগের রথযাত্রায় আপামর বিশ্ববাসীর ভগবান জগন্নাথদেব। শ্রীমন্দির থেকে ভাই-বোনকে নিয়ে গুণ্ডিচা মন্দিরে তাঁর আগমনই সাড়ম্বরে পালিত হয় পুরীতে। উৎকলভূমি পেরিয়ে সেই রথযাত্রার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে।
পুরাকালে অবশ্য মোট ছ’টি রথের প্রয়োজন পড়ত। বড়দাণ্ড বা শ্রীমন্দির থেকে গুণ্ডিচা বাড়িতে যেতে সারদা নদী পেরোতে হতো। বর্তমানের বলগন্ডীতে বয়ে যেত সারদা নদী। আদরের মাসি দেবী অর্ধাশনির অবস্থান সেখানেই। রথ নদী পেরোতে পারবে না বলে নদীর অপর পাড়ে রাখা থাকত আরও তিনটি রথ। অর্ধাশনির মন্দিরে চালের পিঠের ভোগ জগন্নাথের খুব প্রিয়। ভোগ খেয়ে মাসির আদর যত্নে কিছুদিন কাটিয়ে আবার সারদা নদীর অপর পাড়ে যাত্রা।
গোটা যাত্রাপথে সপার্ষদ নৃত্যরত চৈতন্য মহাপ্রভু দিনের বেলায় রথের সঙ্গেই থাকতেন। সন্ধ্যা ঘনালে বিশ্রাম নিতেন ‘জগন্নাথবল্লভ উদ্যানে’। মহাপ্রভুর সঙ্গে প্রভু নিত্যানন্দ, নরহরি সরকার, বক্রেশ্বর পণ্ডিত এমনকী শ্রী-অদ্বৈতও উন্মত্তের মতো নেচে চলতেন। ভাবাবেগে বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত সকলের। মহাপ্রভুর দু’চোখ বেয়ে অবিরাম গড়িয়ে পড়ছে অশ্রুধারা। তিনি একবার সামনে একবার পিছনে, এভাবেই সকলকে সঙ্গত করছেন। রথের সামনে করজোড়ে দাঁড়িয়ে শ্রীচৈতন্য, মেঘশ্যামল-দেবকীনন্দনের উদ্দেশ্যে গাইছেন, ‘নাহর বিপ্রো ন চ নরপতির্নাপি বৈশ্য ন শূদ্র....।’ রাজা প্রতাপরুদ্রের চোখের সামনে ঘটে চলেছে মহাজাগতিক দৈবলীলা। শ্রীজগন্নাথ তন্ময় হয়ে মহাপ্রভুর শ্লোক শুনছেন। শুনতে শুনতে বিগলিত তিনি। আরাধ্য আর আরাধ্যা কখন যেন মিলেমিশে এক হয়ে গেলেন। বিষয়ী প্রতাপরুদ্র দেখছেন রথের উপরে আসীন যিনি, রথের সামনেও সেই তিনি। এই মহাভাব প্রত্যক্ষ করে স্বরূপ গেয়ে উঠলেন সেই বিখ্যাত গান, ‘সেই তো প্রাণনাথ পাইলুঁ/ যাহা লাগি মদনদহনে ঝুরি গেলুঁ’। মহাপ্রভু তাঁর গলার গোড়ের মালাটি ছুঁড়ে দিলেন জগন্নাথের দিকে। জগন্নাথের কণ্ঠবেষ্টিত সেই মালা আবার ফিরে এল মহাপ্রভুর কাছে। একের পর এক মালা মহাপ্রভু নিচ্ছেন, তদগতচিত্তে তা ছুঁড়ে দিচ্ছেন ভক্তদের উদ্দেশ্যে। কুসুমে কুসুমে চরণচিহ্ন এঁকে রথ চলেছে নিকুঞ্জে। ভাবলীলার আবেশে থেমে যায় পরমভক্ত নরপতি প্রতাপরুদ্রের হাতের সোনার ঝাড়ু। সম্বিত ফিরলে ফের তিনি চন্দনের জলে ধুইয়ে দিতে শুরু করেন ধূলিমলিন রথের রাস্তা। রাধাস্বরূপে গৌড়ীয় বৈষ্ণবরা রথের ‘দক্ষিণামুখী’ প্রত্যাগমন অর্থাৎ গুণ্ডিচা থেকে শ্রীমন্দিরে আগমনকেই প্রাধান্য দেন বেশি।
প্রতাপরুদ্রের রাজত্বের শেষদিকে রথ বিধিমাফিক পথে নামল। ডাহুক আর কলাবৈঠিয়ারা রথ টানতে উদ্যোগী হল। কিন্তু রথের চাকা নড়ে না। এল হস্তীযূথ। তাদের প্রবল পরাক্রমেও রথ নট নড়নচড়ন। আশঙ্কিত রাজা ভাবলেন নিশ্চয়ই নিয়ম পালনে নিষ্ঠার অভাব হয়েছে। কুপিত ও রুষ্ট হয়েছেন প্রভু। দৌড়ে গেলেন মহাপ্রভুর কাছে। রাজার মিনতিতে ধীরেসুস্থে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য এলেন রথের কাছে। প্রথমেই হস্তি-ডাহুক-কলাবৈঠিয়া থেকে মুক্ত করলেন রথকে। তারপর রথের রজ্জু ভক্তদের হাতে তুলে দিয়ে পরম মমতায় স্পর্শ করলেন রথ। গড়গড়িয়ে এগিয়ে চলল রথ। রজ্জুর টানে নয়, ভক্তিসুধারসের প্রাবল্যে রথ যেন উড়ে চলল। রাজা প্রতাপরুদ্র মহাপ্রভুর পায়ে লুটিয়ে পড়েছেন, চোখের জলে ধুয়ে গেল দুই কোমল শ্রীচরণ। পার্থিব জগতের মায়া কাটিয়ে মহাপ্রভু যখন বিষ্ণুলোকে, প্রতাপরুদ্রের মনে হচ্ছে এই বিশ্বসংসার ফাঁকা, অর্থহীন এক প্রলাপ। সর্বহারা প্রতাপরুদ্রের অবস্থা বোধহয় সম্যক উপলব্ধি করেছিলেন রবি-বাউল। তাই তিনি গাইলেন ‘সে যে মনের মানুষ/ কেন তারে বসিয়ে রাখিস নয়নদ্বারে?/ ডাক না রে তোর বুকের ভিতর,/ নয়ন ভাসুক নয়নধারে’।
রথের পনেরো দিন আগে অনরবাহ প্রথায় ‘স্নানযাত্রা’ সমাপ্ত হয়। ১০৮ ঘড়া বদ্ধ কুয়োর জলে অবগাহনের ফলে জগন্নাথদেবের জ্বর হয়। ‘চাহনি মণ্ডপ’ থেকে গোটা স্নানযাত্রা প্রত্যক্ষ করেন শ্রীলক্ষ্মী। অন্ত্যজ দয়িতাপতিরা মা লক্ষ্মীর সঙ্গে যৌথভাবে সেবা-শুশ্রূষায় সারিয়ে তোলেন জগন্নাথকে। শ্রীঅঙ্গ নতুন করে চন্দন চর্চিত হয়। এই ১৫ দিন জগতপতি থাকেন অন্তরালে।
স্নানযাত্রার সময় শ্রীজগন্নাথ ‘গণেশ বেশ’ ধারণ করেন। গণপতি বেশেরও রয়েছে ঐতিহাসিক তাৎপর্য। কর্কট দেশের ‘কানিয়ারি’ গ্রামে বাস করতেন সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণ গণপতি ভট্ট। ‘ব্রহ্মপুরাণ’-এর একটি শ্লোকে তিনি দেখলেন, স্বয়ং বিষ্ণু স্থূল শরীরে নীলাচলে বিরাজমান। তাঁর দর্শনেই জন্মমৃত্যুর অমোঘ কালচক্র থেকে জীবকুলের মুক্তি। যাত্রা শুরু হল নীলাচল অর্থাৎ পুরী অভিমুখে। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে গণপতি পৌঁছলেন পুরীর সিংহদ্বার ‘আঠারো নালায়’। প্রতি বছর বন্যায় উৎকলে প্রচুর ফসল নষ্ট হতো। তাই প্রজাদের দুর্গতির দিকে তাকিয়ে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন ‘মুটিয়া’ নদীর উপর আঠারোটি নালার সমাহারে এক সেতুবন্ধন করলেন। আঠারো নালার স্থাপত্য আজও বিস্ময়। কথিত আছে, আঠারো নালাতে উপস্থিত হয়েই নাকি শ্রীজগন্নাথ দর্শনের আনন্দে মহাপ্রভু মহাভাবে নিমজ্জিত হন। যাই হোক, গণপতির সামনে দিয়ে কয়েকজন লোক তখন নীলাচলনাথের দর্শন সেরে হাসিঠাট্টায় মশগুল হয়ে আঠারো নালা পেরচ্ছিল। গণপতি ভাবলেন, এরা তাহলে মুক্তিলাভে অসমর্থ। কারণ, ব্রহ্মস্বরূপে পরমাত্মার সঙ্গে মিলনে তো নশ্বর দেহ থাকারই কথা নয়। দ্বিধাগ্রস্ত ব্রাহ্মণ! তবে ব্রহ্মপুরাণ কি ভুল? গণপতির সংশয়ের অবসানে সৌম্য বৃদ্ধের বেশে হাজির হলেন স্বয়ং মদনমোহন। গণপতির সংশয় নিরসন করলেন। পরমব্রহ্ম সত্যিই নীলাচলে উপস্থিত, কিন্তু তিনি যে বাঞ্ছাকল্পতরু। যে ভক্ত তাঁর কাছে যা চায় তিনি সেভাবেই তার বাসনার নিবৃত্তি ঘটান। যে পথিকদল হাসতে হাসতে সংসারে ফিরে গেল, তারা তো সংসারে ফিরতেই উন্মুখ। আর যে মুক্তি চায় মুরলীধর তাকে মুক্তি দেন। গণপতি বৃদ্ধের কথা শুনে উপস্থিত হলেন শ্রীমন্দিরে। সেদিন ছিল স্নানযাত্রা। গণপতি ভট্টের দৃষ্টি চুম্বকের মতো স্থির শ্রীবিগ্রহের বিশাল নির্লিপ্ত দুই নয়নে। পরমব্রহ্মের এরকম মানুষী চোখ কেন? এ দারুমূর্তি কখনওই সচ্চিদানন্দ নন! তার এত পথ আসাটাই বৃথা। মনোবাসনা পূর্ণ না হওয়ায় গণপতি ভট্ট আবার ফিরে যেতে উদ্যত! ভক্ত আহতচিত্তে ফিরে যাচ্ছে দেখে জগন্নাথের হৃদয় আলোড়িত হল! জগমোহনে গতকালের প্রবল খাটাখাটনিতে সেবক বিষ্ণুশর্মা মুদিরথ পান্ডা তখন তন্দ্রাচ্ছন্ন। প্রভুর স্বপ্নাদেশে ঘুম ভেঙে তড়িঘড়ি মূল ফটকের দিকে ছুটে ধরে আনলেন গণপতি ভট্টকে। স্তম্ভিত গণপতি অতিপ্রাকৃতের আশায় আবারও চললেন বিগ্রহ সমীপে। কিন্তু তাঁর আরাধ্যকে তো সেই ঠুঁটো বিগ্রহ-মূর্তিতে কোথাও খুঁজে পাচ্ছেন না! হঠাৎ কে যেন কানে কানে গণপতি ভট্টকে বলল, ‘মনকে স্থির সংযমী করে অবলোকন কর দারুমূর্তিকে।’ দু’বার চোখ কচলে গণপতি ভট্ট দেখলেন শুঁড়দোলানো একদন্ত গণেশ তাঁর দিকে চেয়ে ফিকফিক করে হাসছে। স্বয়ং শ্রীহরি হাত বাড়িয়ে গণপতিকে ডাকছেন, ‘এসো, আমার কাছে এসো, পরমভক্ত আমার, আমার হৃদয়ে লীন হয়ে যাও’। গণপতি তখন প্রাণের ঠাকুর শ্রীজগন্নাথকে অনুরোধ করলেন, ‘করুণাসাগর, তুমি যদি ভক্তবাঞ্ছায় কল্পতরু হও, তাহলে তোমার এই অধম ভক্তের ইচ্ছাপূরণে প্রত্যেক স্নানযাত্রায় গণপতি বেশ ধারণ করবে!’ তারপর সমবেত জনতা চোখের সামনে দেখল গণপতি ভট্টের দেহ থেকে এক আঙুল সমান দিব্য জ্যোতির্ময় এক পুরুষ পরমাত্মার শরীরে লীন হয়ে গেল! গণপতির নিথর শরীর ভূপতিত পাথরের পাষাণ মেঝেতে। সেই থেকে স্নানযাত্রার দিন, ‘গণেশ বেশে’ সাজিয়ে তোলা হয় জগন্নাথদেবকে। স্মরণ করা হয় পরম ভক্ত গণপতি ভট্টকে।
বৌদ্ধধর্মের আচার বিচারের কিছু ছাপ বিদ্যমান জগন্নাথ তর্পণে। শ্রীমূর্তির শরীরে ব্রহ্মমণি বা শ্রীকৃষ্ণের অস্থির সংস্থাপন হয় নবকলেবরে। হিন্দুধর্মে মৃতদেহের দাঁত-নখ-অস্থি-চুল অপবিত্র, তার সংরক্ষণ শাস্ত্রসম্মত নয়। কিন্তু বৌদ্ধরা মৃতদেহের দাঁত-নখ-চুল সংরক্ষণ করে তার উপর স্তূপ নির্মাণ করেন। শ্রীকৃষ্ণের অস্থি সংরক্ষণ, নবকলেবরে তা পুনঃস্থাপন স্পষ্টতই বৌদ্ধপ্রভাব। বহুকাল পরে দাক্ষিণাত্যের সুদূর কেরলের পাণ্ড্যপ্রদেশে থেকে পাণ্ডাবিজয় নামে এক পরাক্রমী রাজা উৎকলরাজ্যে আসেন। সঙ্গে ছিলেন বিষ্ণু অন্তপ্রাণ মন্ত্রী দেবেশ্বর। রাজা-মন্ত্রী সদলে উদ্ধার করেন দারুমূর্তিকে। গুণ্ডিচামন্দিরের মহাবেদিপিঠ, যেখানে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন সহস্র অশ্বমেধযজ্ঞ সমাধা করেন, সেখানে তিনটি দারুমূর্তির অভিষেক পর্ব সম্পন্ন করান তিনি। পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন ত্রিমূর্তিকে। রথযাত্রার সময় ত্রিমূর্তির শ্রীমন্দির থেকে গুণ্ডিচামন্দিরে আগমন ঘটে। তাই রথযাত্রা ‘পাণ্ড্যবিজয়’ বা ‘পহণ্ডিবিজয়’ নামেও পরিচিত।

রত্নভাণ্ডারের অদ্যাবধি অপ্রকাশিত, যাবতীয় গোপন সরকারি তথ্য, পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের ভূতপূর্ব প্রশাসক ও বর্তমান লিয়াঁজ অফিসার ডঃ ভাস্কর মিশ্রের সৌজন্যে প্রাপ্ত।
 
ছবি : অতূণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও লেখক
30th  June, 2019
বাহন কথা 
রজত চক্রবর্তী

আকাশে সোনার থালার মতো চাঁদ। বাড়িতে বাড়িতে দোরগোড়া থেকে লতানে ধানের শিষ। এঁকে বেঁকে চলে গিয়েছে চৌকাঠ ডিঙিয়ে, ডাইনিংয়ের পাশ দিয়ে প্রতিটি ঘরে ঘরে... এমনকী সিঁড়ির পাশ দিয়েও উঠেছে দোতলায়। ধানের শিষের পাশে পাশে ছোট্ট ছোট্ট সুন্দর পায়ের ছাপ।  
বিশদ

13th  October, 2019
প্র তি মা র বি ব র্ত ন
সোমনাথ দাস

বর্ষা আর শরৎ এখন মিলেমিশে একাকার। বিশ্ব উষ্ণায়নের কৃপাদৃষ্টিতে শহরবাসীর পক্ষে আর এই দু’টি ঋতুকে আলাদা করা সম্ভব নয়। তবে ভাদ্রের সমাপ্তি এবং আশ্বিনের সূচনা বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে এক অনাবিল আনন্দ। মা দুর্গার আগমনবার্তায় আমাদের হৃদয় নেচে ওঠে।   বিশদ

29th  September, 2019
পুজোর ফুলের যন্ত্রণা
বিশ্বজিৎ মাইতি

 বিশ্বজিৎ মাইতি: হাওড়া‑খড়্গপুর রেলওয়ে শাখার বালিচক স্টেশন। মার্চ মাসের এক শুক্রবারের সকালে বেশ কয়েকজনকে ধরেছেন টিটি। বিনা টিকিটে ট্রেন সফর। তাঁদের মধ্যে এক যুবকের হাতে গোটা চারেক বস্তা। হাতে একগুচ্ছ ব্যাগ। গাল ভর্তি দাড়ি। উসকো-খুসকো চুল। পরনে নানান দাগে ভর্তি জামা ও হাফপ্যান্ট। করুণ চোখে আচমকাই নিজের মানিব্যাগ টিটির মুখের সামনে দেখিয়ে ধরা গলায় বলল, ‘স্যার একটা টাকাও নেই। পুরো শরীর চেক করে দেখুন...।
বিশদ

22nd  September, 2019
ভো-কাট্টা

বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোটা সমার্থক হয়ে গিয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজো মানেই আকাশজোড়া ঘুড়ির আলপনা। অসংখ্য ঘুড়ির ভেলায় যেন স্বপ্ন ভাসে। বহু কৈশোর আর যৌবনের মাঞ্জায় লেগে আছে ঘুড়ি ওড়ানোর স্মৃতি। যে ছেলেটা কোনওদিন সকাল দেখেনি, সেও বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে সূর্য ওঠার আগেই ঘুড়ি-লাটাই নিয়ে ছাদে উঠে যায়।  
বিশদ

15th  September, 2019
নির্মাণশিল্পী বিশ্বকর্মা
সন্দীপন বিশ্বাস

জরাসন্ধ তখন প্রবল প্রতাপান্বিত। বারবার মথুরা আক্রমণ করছিলেন। কিন্তু সপ্তদশ প্রচেষ্টাতেও মথুরা জয় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই ফের তিনি মথুরা আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে লাগলেন। কৃষ্ণ অবশ্য জানতেন জরাসন্ধ কিছুতেই মথুরা জয় করতে পারবেন না।
বিশদ

15th  September, 2019
আগুন বাজার
বীরেশ্বর বেরা

 ‘কেন? আপনি যে পটল বেচছেন, এমন পটল তো আমরা ৩০-৩২ টাকায় কিনছি!’ গ্রাম্য যুবক তাঁর আপাত-কাঠিন্যের খোলস ছেড়ে সহজ হয়ে গেলেন হঠাৎ। তেলের টিনের উপর চটের বস্তা বেঁধে টুলের মতো বসার জায়গাটা এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘বসুন তাহলে, বলি। বিশদ

08th  September, 2019
সমাপ্তি
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর প্রকাশিত রচনাবলীর খণ্ড সংখ্যা ৯০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এ পর্যন্ত জওহরলাল নেহরুর লেখা নিয়ে প্রকাশিত যত রচনা আছে, তা প্রায় ৫০ খণ্ড অতিক্রান্ত। বাবাসাহেব আম্বেদকরের সারা জীবনের যাবতীয় রচনা সমন্বিত করে এখনও পর্যন্ত ১৬টি খণ্ডসংবলিত রচনাবলী প্রকাশ পেয়েছে। 
বিশদ

01st  September, 2019
রাজীব ৭৫
মণিশঙ্কর আইয়ার

 ছিয়াশি সালের ডিসেম্বর। অঝোরে তুষারপাত হচ্ছে। আমরা যাচ্ছি কাশ্মীর। কিন্তু একটা সময় আর্মি জানাল, আর যাওয়া সম্ভব নয়। এত তুষারপাতে হেলিকপ্টার ওড়ানো যাবে না। তাহলে? যাব কী করে? বাকিরাও বলল, দিল্লি ফিরে চলুন। কিন্তু প্রধাননমন্ত্রী বললেন, তা হয় না। যাব যখন বলেছি যেতে হবে। লোকেরা অপেক্ষা করে থাকবে যে!
বিশদ

25th  August, 2019
শতবর্ষে  সারাভাই
মৃন্ময় চন্দ

চন্দ্রযান-২’র সাফল্যে গর্বিত ভারত। অভিজাত মহাকাশ ক্লাবের সদস্যদেশগুলির সঙ্গে ভারত আজ এক পংক্তিতে। মহাকাশ গবেষণায় ভারতের ঈর্ষণীয় সাফল্যের রূপকার নিঃসন্দেহে ক্ষণজন্মা বিরল প্রতিভাধর মিতভাষী এক বিজ্ঞানী—বিক্রম সারাভাই। একার হাতে যিনি গড়ে দিয়ে গেছেন ভারতের বিপুলা মহাকাশ সাম্রাজ্য। ১২ই আগস্ট ছিল তাঁর জন্মশতবার্ষিকী। বিশদ

18th  August, 2019
জয় জওয়ান

ঝুঁকি শব্দটি যখনই উল্লেখ করা হয়, তখনই তার সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যুদ্ধের বিষয়টি এসে পড়ে। কিন্তু শুধু যুদ্ধে নয়, ঝুঁকি রয়েছে প্রশিক্ষণ পর্বেও। একজন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে নানাভাবে তৈরি হতে হয়। আকাশপথে সেই প্রশিক্ষণ যখন শুরু হয়, তখন প্রতিটি স্তরেই ঝুঁকি থাকে। সেগুলো অতিক্রম করে সাফল্য পাওয়াই একজন পাইলটের কাছে চ্যালেঞ্জ। বিশদ

11th  August, 2019
জাতীয়তাবাদ ও রবিঠাকুর 
সমৃদ্ধ দত্ত

জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা তাঁর কাছে আলাদা। বিশ্বাস করতেন, গ্রামই ভারতের চেতনা। সম্পদ। তাই শুধু ইংরেজ বিরোধিতা নয়, রবিঠাকুরের লক্ষ্য ছিল ভারতের উন্নয়ন। ভারতবাসীর উন্নয়ন। তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলা। অন্যরকম তাঁর স্বদেশপ্রেম। আরও এক ২২ শ্রাবণের আগে স্মরণ এই অন্য রবীন্দ্রনাথকে। 
বিশদ

04th  August, 2019
গণহত্যার সাক্ষী
মৃণালকান্তি দাস

এ এক হিবাকুশার গল্প। পারমাণবিক বোমা হামলার পর হিরোশিমা ও নাগাসাকির যারা বেঁচে গিয়েছিলেন, তাদের বলা হয় হিবাকুশা। তাঁরা কেউই হিবাকুশা হতে চাননি, চেয়েছিলেন আর দশজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই সুন্দর একটা জীবন কাটাতে। কিন্তু ‘ফ্যাট ম্যান’ ও ‘লিটল বয়’ নামে দুটি অভিশাপ তছনছ করে দিয়েছিল তাঁদের সাজানো সংসার, সাজানো স্বপ্ন সহ সবকিছু। তেমনই একজন হিবাকুশা সাচিকো ইয়াসুই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কেড়ে নিয়েছিল তার সর্বস্ব...।
বিশদ

28th  July, 2019
বদলের একুশ
জয়ন্ত চৌধুরী

 একুশে জুলাই। শহিদ স্মরণ। তৃণমূলের বাৎসরিক শহিদ তর্পণ। গত আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে এটাই চল। ঝড়-জল-বৃষ্টি-বন্যা সবই অপ্রতিরোধ্য একুশের আবেগের কাছে। তাই কেন একুশ, এই প্রশ্নের চাইতে অনেক বেশি জায়গা দখল করে রয়েছে এই দিনকে ঘিরে বাঁধনহারা উচ্ছ্বাস।
বিশদ

21st  July, 2019
অচেনা কাশ্মীর
ফিরদৌস হাসান

 ২০১৪ সালের পর এই প্রথম এত তুষারপাত হয়েছে উপত্যকায়। সাদায় মুখ ঢেকেছিল ভূস্বর্গ। আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাল্লা দিয়েছিল পর্যটনও। বরফঢাকা উপত্যকার নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ কে-ই বা হাতছাড়া করতে চায়! তাই তো জানুয়ারিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কোলাহলে উপত্যকা গমগম করছিল।
বিশদ

14th  July, 2019
একনজরে
 সৌম্যজিৎ সাহা, কলকাতা: পড়াশোনা চলাকালীন পড়ুয়াদের হাতে-কলমে কাজ শেখার জন্য ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করেছে এআইসিটিই। তবে দেখা যাচ্ছে, নিজেদের উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে আগ্রহ কম পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের। অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অব টেকনিক্যাল এডুকেশনের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই তথ্য। ...

 তাল তামর (সিরিয়া) ও ওয়াশিংটন, ১৫ অক্টোবর (এএফপি ও পিটিআই): সিরিয়ার উত্তরপূর্ব প্রান্তে তুরস্কের সামরিক বাহিনীর আগ্রাসনে বেশ খানিকটা জমি হারাতে হয়েছে কুর্দদের। এর পাল্টা আঙ্কারার বিরুদ্ধে বেশ কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল আমেরিকা। ...

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: মঙ্গলবার দুপুরে সূতি থানার সাজুরমোড়ে একটি বেসরকারি স্কুলের উদ্বোধনে আসেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহম্মদ আজহারউদ্দিন। আজাহার বলেন, ওঁর যথেষ্ট যোগ্যতা রয়েছে। আশা করি সৌরভ ভারতীয় ক্রিকেটকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন।  ...

বিএনএ, সিউড়ি: বিজেপি নেতা ধ্রুব সাহা ও অতনু চট্টোপাধ্যায়কে ফের সিউড়ি আদালতে তোলা হল। পুরনো মামলায় তাঁরা মাসখানেক ধরে সংশোধনাগারেই ছিলেন। এদিন তাঁদের ফের সিউড়ি আদালতে তোলা হয়।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যায় ভালো ফল হবে। কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে সুযোগ আসবে। কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। ব্যবসায় যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব খাদ্য দিবস
১৯০৫: বঙ্গভঙ্গ হয়
১৯২৩: দি ওয়াল্ট ডিজনি সংস্থা প্রতিষ্ঠা হয়
১৯২৭: নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান সাহিত্যিক, চিত্রকর, ভাস্কর এবং নাট্যকার গুন্টার গ্রাসের জন্ম
১৯৪৮: অভিনেত্রী হেমা মালিনীর জন্ম
১৯৫১: রাওয়ালপিন্ডিতে খুন হন পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান
১৯৬৪: প্রথম পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটাল চীন





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৬ টাকা ৭২.১৬ টাকা
পাউন্ড ৮৮.৩২ টাকা ৯১.৬১ টাকা
ইউরো ৭৭.১৯ টাকা ৮০.১৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৯,১৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৭,১৬৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৭২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, দ্বিতীয়া ০/২১ প্রাতঃ ৫/৪৫। ভরণী ২১/৫১ দিবা ২/২১। সূ উ ৫/৩৬/৫৪, অ ৫/৭/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৩ মধ্যে পুনঃ ৭/৯ গতে ৭/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১০/১৩ গতে ১২/৩২ মধ্যে। রাত্রি ৫/৫৯ গতে ৬/৪৯ মধ্যে পুনঃ ৮/২৯ গতে ৩/৭ মধ্যে, বারবেলা ৮/৩০ গতে ৯/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১১/২৩ গতে ১২/৪৯ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩০ গতে ৪/৪ মধ্যে।
২৮ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, তৃতীয়া ৫৯/১০/৩৯ শেষরাত্রি ৫/১৭/৩৫। ভরণী ২১/৩৭/১৬ দিবা ২/১৬/১৩, সূ উ ৫/৩৭/১৯, অ ৫/৯/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩০ মধ্যে ও ৭/১৫ গতে ৭/৫৯ মধ্যে ও ১০/১৩ গতে ১২/২৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৭ গতে ৬/৪৮ মধ্যে ও ৮/২১ গতে ৩/১১ মধ্যে, বারবেলা ১১/২৩/১৯ গতে ১২/৪৯/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ৮/৩০/১৯ গতে ৯/৫৬/৪৯ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩০/১৯ গতে ৪/৩/৪৯ মধ্যে।
১৬ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করা নিয়ে মায়াবতীর কড়া সমালোচনায় সরব বিজেপি
সঠিক সময়ে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছিলেন মায়াবতী। মহারাষ্ট্রে নির্বাচনী ...বিশদ

09:57:06 AM

আলিপুরের সৌজন্য ভবনে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠক
আজ, বুধবার রাজ্য সরকারের অতিথিশালা আলিপুরের ‘সৌজন্য ভবন’-এ রাজ্য মন্ত্রিসভার ...বিশদ

09:56:13 AM

সংখ্যালঘু মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ কোচিং রাজ্যের
প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির প্রস্তুতিতে মেধাবী সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ...বিশদ

09:43:20 AM

ক্ষতিপূরণ দেওয়া শেষ বউবাজারে
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেলের কাজের জন্য বউবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ...বিশদ

09:31:43 AM

আজ অযোধ্যা মামলার শুনানি শেষ
বুধবার শেষ হচ্ছে অযোধ্যা মামলার শুনানি। এদিন সুপ্রিম কোর্টে শুনানি ...বিশদ

09:24:28 AM

 প্রেসিডেন্সি জেলেও জোরদার তল্লাশি অভিযান
দমদম জেল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রেসিডেন্সি জেলেও বিভিন্ন সেলে ...বিশদ

09:15:29 AM