Bartaman Patrika
রঙ্গভূমি
 

দুটি চেয়ার কেন? 

 অগ্রজকে কীভাবে সম্মান জানাতে হয় তা শিখেছিলেন বিভাস চক্রবর্তীর থেকেই। তাঁর আসন্ন জন্মদিন উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করলেন প্রকাশ ভট্টাচার্য।

শম্ভু মিত্র, উৎপল দত্ত, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় … বাংলা থিয়েটারে এই সব দিকপালদের পরে যাদের নাম সগর্বে উচ্চারিত হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম বিভাস চক্রবর্তী। আমার থিয়েটার জীবনের শুরুতে বিভাসদার কী অসাধারণ সব কাজ দেখেছি! মুগ্ধ হয়েছি আর চেষ্টা করেছি শিক্ষিত হতে। ‘রাজরক্ত’, ‘চাকভাঙ্গা মধু’, ‘নাজীর বিচার’, ‘পাঁচু ও মাসী’, ‘নরক গুলজার’ ইত্যাদি। সেসব ছিল শুধু দর্শক হিসাবে দেখা আর দূর থেকে তাঁকে শ্রদ্ধা করা। ‘শোয়াইক গেলো যুদ্ধে’-র সময় আমার সৌভাগ্য হলো বিভাসদার কাছে যাওয়ার। ঐ নাটকে মুখ্য ভুমিকায় অভিনয় করার আমন্ত্রণ পেলেন স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। স্বাতীলেখা নান্দীকারের সদস্য, আর আমি তখন নান্দীকারের সম্পাদক। তখন শোয়াইক-এর রিহার্সালে আমি মাঝে মাঝে স্বাতীদির সঙ্গে যেতাম। কখন যে ঐ বিরাট মানুষটি আমার কাছে শুধুই বিভাসদা হয়ে গেলেন বুঝতেই পারলাম না। সেই থেকে বিভাসদার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা। বিভাসদা মাটির মানুষ, যার সঙ্গে একটু আলাপেই খুব কাছে চলে আসা যায়।
১৯৮৮ সাল। আমি নান্দীকার ছেড়ে দিলাম। আমার সঙ্গে সোমনাথ, বিমল, পাঁচু, দীপঙ্কর, কল্যাণ, রিঙ্কু আরও অনেকে। আমরা নতুন দল তৈরি না করে নীলাভদের নান্দীপটেই যোগ দেওয়া মনস্থ করলাম। নাটক তৈরি হলো, কার্ত্তিক লাহিড়ীর লেখা ‘মঙ্গলসূত্র’। বিমল (চক্রবর্তী) তখন ‘সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি’ থেকে যুব নির্দেশক হিসাবে কিছু টাকা পেয়েছিল নতুন প্রযোজনা করার জন্য। আমরা সবাই খুবই পরিশ্রম করে নাটকটি করলাম। বিভাসদাকে অনুরোধ করলাম নাটকটি দেখার জন্য। গিরিশ মঞ্চে বিভাসদা এলেন, নাটক দেখলেন। নাটক দেখার পর কৌতুহল বশতঃ জিজ্ঞেস করলাম , ‘কেমন লাগল?’ উনি বললেন, ‘তোমাদের অনেকের বেশ ক্ষমতা আছে অভিনয় করার, গান গাওয়ার, শরীরও ভালো। তবে এরকম বাজে নাটক করো কেন? ভালো নাটক করতে পারো না?’ আমরা বললাম ভালো নাটক পাচ্ছি না তো! শুনে উনি বললেন, পড়াশোনা করো না তো। ভালো নাটক পাবে কী করে? আমার কাছে একটা নাটক আছে, কাল এসে নিয়ে যাবে আর পড়বে।’ সেই অনুযায়ী পরেরদিন বিভাসদার বাড়ি গেলাম। উনি নাটক দিলেন ‘শ্বেত সন্ত্রাস’। নাট্যকার ক্যারেল চাপেক, অনুবাদক আসিতবরন দে। আমরা পড়লাম। তারপর বিভাসদা জানতে চাইলেন, ‘পড়েছ’? আমরা বললাম, হ্যাঁ, খুব ভালো লেগেছে। উনি বললেন, তাহলে শুরু করে দাও। আমরা বললাম, আপনি যদি নির্দেশনা দেন তো আমরা করতে পারি। উনি বললেন, এই প্রযোজনা করতে অনেক খরচ হবে, তোমরা পারবে? জানতে চাইলাম, কত খরচ হবে। উনি বললেন তা প্রায় ষাট হাজার টাকা। দলে তখন টাকা নেই। কিন্তু বিভাসদা আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন এই আনন্দে আমরা রাজী হয়ে গেলাম। সবাই টাকা ধার করে নেমে পড়লাম। বিভাসদা নাটকটি সম্পাদনা করলেন, শুরু হলো মহলা। সেই সময় সামনে থেকে দেখলাম একজন বড় মাপের পরিচালকের কাজ। কীভাবে একটু একটু করে একটা প্রযোজনা তৈরি করতে হয়। উনি বললেন, মিউজিক হবে স্টক থেকে। চলো একদিন কল্যাণের বাড়ি যাই। কল্যাণদার (চৌধুরী) কাছে বহু বিদেশী মিউজিকের রেকর্ড ছিল। একদিন রেকর্ড শুনে উনি কিছু রেকর্ড বেছে রাখলেন। বললেন, রেকর্ডিংয়ের দিন এগুলো নিয়ে এস। রেকর্ডিং শুরু হলো মৌলালিতে গোবিন্দবাবুর স্টুডিওতে। মাত্র তিন ঘণ্টায় রেকর্ডিং শেষ। বিভাসদা চলে গেলেন। সেদিন আমাদের খুব মন খারাপ হয়েছিল। কারণ, এর আগে দেখেছি মিউজিক রেকর্ডিং করতে কত সময় লাগে। আজ বলতে বাধা নেই যে সেদিন মনে হয়েছিল, উনি তো আমাদের দলের নন, তাই বেশি সময় দিলেন না। কিন্তু অবিশ্বাস্য ভাবে স্টেজ রিহার্সালে দেখলাম কী সুন্দরভাবে মিউজিক নাটকের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে! সেদিন বুঝেছিলাম বিভাসদার মাথাটা কম্পিউটার। ‘শ্বেতসন্ত্রাস’ নাটকে মুখ্য চরিত্রে কল্যাণ সরখেল। সেই প্রথম ওর বড় চরিত্রে অভিনয়। কিন্তু বিভাসদার হাতে পড়ে কী সুন্দর অভিনয় করল... এবং অভিনেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হলো। শ্বেতসন্ত্রাস নাটক দেখতে শম্ভু মিত্র এলেন রবীন্দ্রসদনে। খুব প্রশংসা করলেন প্রযোজনার। প্রায় আধ ঘণ্টা উনি আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। উনি চলে যাওয়ার পরে, যখন আমরা সেটের সমস্ত মালপত্র তুলে বেরতে যাব, দেখি বাইরে তখনও দাঁড়িয়ে আছেন অসিত মুখোপাধ্যায়, সলিল বন্দ্যোপাধ্যায় আর দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়। ওঁরা অপেক্ষা করছেন আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে। শম্ভুদা ছিলেন বলে এতক্ষণ ভিতরে যাননি। ওঁরা বললেন, তোমরা কী করে এইরকম একটা প্রযোজনা করতে পারলে? আমরা মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি, আর সেটা তোমাদের জানাব বলেই এতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি। নান্দীপটকে তখন তেমন কেউ চিনত না। আমাদেরও তেমন কোনও পরিচয় ছিল না। কিন্তু এতসব দিকপাল মানুষদের প্রশংসায় আমরা বাকরূদ্ধ হয়ে গেলাম। বললাম, সবই বিভাসদার কৃতিত্ব, আমরা শুধু তাঁর আদেশ পালন করেছি। সেই প্রথম নান্দীপট পায়ের তলায় মাটি পেল, বিভাসদার পরিশ্রমে।
এরপর ১৯৯৪ সাল। বাবরি মসজিদ ধ্বংস হলো। বিভাসদা আমাদের ডেকে বললেন, ‘স্যাস’ পত্রিকায় ‘তীর্থযাত্রা’ নাটক ছাপা হয়েছে, সেটা পড়তে। নাটকটা আমরা পড়লাম। সেটাকে নাটক না বলে প্রবন্ধ বলা যায়, লিখেছেও নতুন একটি ছেলে, শেখর সমাদ্দার। উনি বললেন, চলো, এই নাটকটা করব। প্রচুর ছেলেমেয়ে দরকার। বিভাসদার নাম শুনে বহু ছেলেমেয়ে নান্দীপটে আসতে শুরু করল, শুরু হলো ‘তীর্থযাত্রা’ নাটকের রিহার্সাল। একদিন উনি বললেন, শোনো, তোমাদের দেশভাগের ইতিহাসটা জানতে হবে, শুধু সংলাপ বললে হবে না। সময়কে জানতে হবে। উনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষক ডঃ অমলেন্দু দে মহাশয়কে আমাদের দলের ঘরে নিয়ে এলেন। দুদিন উনি আমাদের ক্লাস নিয়েছিলেন। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গার ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশভাগের কথা উনি আমাদের পড়ালেন। তখন যেন নাটকটা অন্য একটা মাত্রা পেয়ে গেল আমাদের কাছে। বুঝলাম, নাটক করতে গেলে পড়াশোনাটা কত জরুরি। খুব সাফল্য পেয়েছিল সেই নাটক। অসিত মুখোপাধ্যায় নাটক দেখে বলেছিলেন, ‘এই প্রযোজনা বিভাসের পক্ষেই করা সম্ভব। আমরা কেউই এটা করতে পারতাম না।’
বেশ কিছু বছর পর আবার বিভাসদার শরণাপন্ন হলাম। নাটক করব, গিরিশ কারনাডের লেখা বিভাসদার অনুবাদ ‘অগ্নিজল’। বিভাসদা বেশ কয়েকটা রিহার্সালে এলেন। তখন আমাদের দলে ছেলেমেয়ে অনেক কমে গিয়েছে। কিছুদিন পর বিভাসদা বললেন, না, তোমাদের দিয়ে ‘অগ্নিজল’ নাটক করা যাবে না। তোমাদের দলে সেই ছেলেমেয়ে নেই। আমরা মাথায় হাত দিয়ে বসলাম। এবার তবে আমরা কী করব? আবার মুশকিল আসান হলেন বিভাসদা স্বয়ং। সাতদিনের মধ্যে উনি ইতালীর নাট্যকার দারিও ফো-র নাটক ‘আক্সিডেন্টাল ডেথ অব অ্যানার্কিস্ট’ রূপান্তর করে নিয়ে এলেন। আমাদের দলের সৌমিত্র , বিভাসদার বাড়ি গিয়ে নাটকটা লিখত। শুরু হলো ‘মৃত্যু না হত্যা’-র মহলা। বিভাসদা যে কী ভীষণ পরিশ্রম করেছিলেন তা বলার নয়। প্রত্যেকটা চরিত্র উনি অভিনয় করে দেখিয়েছিলেন। উনি যা দেখিয়েছিলেন, তার হয়তো ৬০-৭০ ভাগ আমরা করতে পেরেছিলাম আর তাতেই দর্শক মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল। নাটকের রূপসজ্জা, মঞ্চসজ্জা, আলোর ব্যবহার সব উনি নিজে সাজিয়েছিলেন। এমনকি পোশাকের কাপড় কিনতেও আমাদের সঙ্গে দোকানে দোকানে ঘুরেছিলেন। দলে তখন ছেলেমেয়ে বেশি নেই, প্রত্যেকেই অভিনয় করছে। আমার স্ত্রী রিঙ্কু সেই প্রথম বড় চরিত্রে অভিনয় করবে। আমি ভীষণ নার্ভাস। কী করবে? ঠিকমতো করতে পারবে তো? বারবার বলতাম, দেখো, বিভাসদার নাম ডুবিও না যেন। এই কথা আবার বিভাসদাকে বলে দিল রিঙ্কু। উনি খুব বকলেন, বললেন নাটকের নির্দেশক কে? আমি বলছি তুমি পারবে। সত্যিই ঐ নাটকে রিঙ্কু ভালোই অভিনয় করল। নান্দীপটও একজন অভিনেত্রী পেয়ে গেল।
তার বহুদিন পর, আবার বিভাসদা আমাদের দলে নির্দেশনা দিলেন। এবারের নাটক ‘শৃন্বন্তু কমরেডস’। কী পরিশ্রম করে উনি নাটকটার নির্দেশনা দিলেন, তা লিখে বোঝানো যাবে না। সোমনাথ মুখোপাধ্যায় নাটকটি অনুবাদ করেছিলেন। বিভাসদা সম্পাদনা করলেন আর কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে দিয়ে নাটকের গান লেখালেন। আর সেই গানে সুর দিয়ে নিজেই গাইলেন সুমন মুখোপাধ্যায়। ওই সময় এই নাটকটি খুব প্রয়োজনীয় ছিল।
বিভাসদা নান্দীপটের শুধু কয়েকটা নাটকের নির্দেশক ছিলেন না। তিনি কতভাবে যে আমাকে বা নান্দীপটকে সাহায্য করেছেন, তা এই অল্প পরিসরে লিখে শেষ করা যাবে না। ২০০৪ সালে নান্দীপটের রজতজয়ন্তী বর্ষ। আয়োজন করা হলো ‘যুব নাট্য উৎসব’। উদ্বোধন করার কথা ছিলো তাপস সেনের। কিন্তু উদ্বোধনের দিন সকালে জানতে পারলাম যে, তাপসদা অসুস্থ আসতে পারবেন না। অগত্যা আবার শরণাপন্ন হলাম বিভাসদার এবং উনি রাজী হলেন এবং উদ্বোধন করলেন। কিন্তু উদ্বোধক –এর জন্য আমাদের যা যা উপহার সামগ্রী ছিল সব তাপসদার বাড়িতে পৌঁছে দিলেন। বললেন এগুলি সব তাপসদার প্রাপ্য, আমি তো প্রক্সি দিয়েছি। এই হলেন বিভাসদা।
১৯৯২ সালে আমার বন্ধু সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সাহায্যে ‘পদ্মা-গঙ্গা উৎসব’ করার সুযোগ পেল নান্দীপট। সোমনাথ তখন ভি এস টি কোম্পানির অফিসার। প্রচুর সাহায্য করেছিল আমাদের। বিভাসদাই এই উৎসবের নামকরণ করলেন ‘পদ্মা-গঙ্গা উৎসব’। দুই বাংলার নাটক, চলচ্চিত্র, গান নিয়ে হয়েছিল এই উৎসব। উৎসব উদ্বোধন করতে রাজি হলেন স্বয়ং শম্ভু মিত্র। উদ্বোধনের দিন মঞ্চসজ্জার দায়িত্ব ছিল আমাদের দলের সুমনের উপর। অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিভাসদাকে মঞ্চে এনে দেখালাম যে সব ঠিক আছে কি না। মঞ্চে মাঝখানে ছিল দুটি বড় বেতের চেয়ার। উনি বললেন দুটি চেয়ার কেন? আমরা বললাম একটি শম্ভুদার আর অন্যটি আপনার। শুনেই উনি প্রচন্ড রেগে গেলেন। বললেন তোমাদের কি বোধবুদ্ধি সব হারিয়েছে? শম্ভুদা আর আমি একই চেয়ারে বসবো!! এখনই একটা চেয়ার সরিয়ে দাও। বলে উনি নিজেই শিশির মঞ্চের গ্রিন রুম থেকে একটা টিনের চেয়ার এনে মঞ্চের এককোণে রাখলেন। এইভাবে উনি অগ্রজকে সম্মান জানালেন আর আমাদেরও বোঝালেন কীভাবে অগ্রজকে সম্মান জানাতে হয়। এই ঘটনার বছর দুয়েক পরের কথা। সেদিন আমাদের দলের ঘরে ‘তীর্থযাত্রা’ নাটকের রিহার্সাল ছিল। উনি আমাকে বললেন, তুমি সাড়ে পাঁচটায় তথ্যকেন্দ্রের দোতলায় চলে আসবে, তুমি এলে আমি চলে আসব। যথারীতি আমি সাড়ে পাঁচটায় গিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। উনি মিটিং থেকে বেরিয়ে আমাকে বললেন, ‘কিছু মনে কোরো না, একটু দাঁড়াও। আমার আরও দশ মিনিট সময় লাগবে’। আমি তো দাঁড়িয়েই থাকতাম। কিন্তু উনি আমার মতো একজন সাধারণ নাট্যকর্মীকে এইভাবে সম্মান জানালেন।
বিভাস চক্রবর্তী যে কত বড় মাপের নির্দেশক, অভিনেতা, নাট্যকার তা আপনারা আমার থেকে অনেক বেশী জানেন। তা নিয়ে আলোচনা করবেন বিদগ্ধ মানুষেরা। বিভাসদা যে কতবড় সংগঠক তার দু-একটা উদাহরণ দিই। তিনি নান্দীকার থেকে বেরিয়ে থিয়েটার ওয়ার্কশপ তৈরি করলেন। আবার থিয়েটার ওয়ার্কশপের চূড়ান্ত সাফল্যের পর তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন ‘অন্য থিয়েটার’। সেখানে শুধু নাট্য প্রযোজনাই নয়, তৈরী করলেন ‘অন্য থিয়াটার ভবন’। খুব বড় মাপের সংগঠক না হলে করা সম্ভব! তিনি শুধু নাট্যদল নয়, তৈরী করলেন ‘বঙ্গ নাট্য সংহতি’। দুঃস্থ, অসুস্থ নাট্যকর্মীদের সাহায্যের জন্য। এই সংস্থা এখনও পর্যন্ত নাট্যকর্মীদের জন্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা সাহায্য করতে পেরেছে। এইসব করা সম্ভব হয়েছে বিভাসদার নেতৃত্বে। এইরকম বহু ঘটনা বলা যায়, যা এই সল্প পরিসরে লেখা গেল না।
এসবই বিভাসদার থেকে শেখা। বিভাসদার থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক কিছু শিখেছি। অনেককিছু পেয়েছে আমার নাট্যদল নান্দীপটও। বিভাসদাকে পাশে না পেলে নান্দীপট আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পারত না। ২৩শে সেপ্টেম্বর বিভাসদার জন্মদিন। জন্মদিনে বিভাসদাকে প্রণাম। আপনি এইভাবে আমাদের পাশে থাকুন, সুস্থ থাকুন, এই কামনা করি।
21st  September, 2019
আরও একটি গ্রিক ট্যাজেডি
হিপ্পোলিটাস

  আজ থেকে বহু হাজার শতাব্দী আগে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিস (এখনকার নাম) দেশে এক নাটক রচনা হয় ইউরিপিডিস। নাম হিপলিটাস। এই নাটকের নিরূপ রায় কৃত বাংলা রূপান্তর থেকে নাটকটি মঞ্চস্থ করলেন নির্দেশক সুরজিৎ ঘোষ। সম্প্রতি এটি উপস্থাপিত হয় গিরিশ মঞ্চে। এই নাটকের কোরিওগ্রাফ করেছেন স্টেলা।
বিশদ

18th  January, 2020
 মঞ্চে বুদ্ধদেব গুহর মাধুকরী

  অনেক বছর আগে মরমী কথাকার বুদ্ধদেব গুহর একটি ধারাবাহিক উপন্যাস পাঠকদের মধ্যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। ‘মাধুকরী’ নামের বিশাল, বর্ণময়, বেগবান এই উপন্যাসের পটভূমি জঙ্গলমহল। কেন্দ্রীয় চরিত্র পৃথু ঘোষ, যে চেয়েছিল বড় এক বাঘের মতো বাঁচবে। কারও ওপর নির্ভরশীল না হয়ে। বিশদ

18th  January, 2020
গোবরডাঙায় স্টুডিও থিয়েটার শিল্পায়নের উদ্যোগ

  উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা, শিল্প-সংস্কৃতির এক উৎকৃষ্ট কেন্দ্র। গোবরডাঙার এই ঐতিহ্য অতি প্রাচীন। বর্তমানে গোবরডাঙাকে কেন্দ্র করে রয়েছে ২৫টি নাট্যদল। যাদের নতুন ভাবনার নতুন নতুন প্রযোজনা, শুধু বাংলাতেই নয়, সমগ্র দেশের থিয়েটার প্রেমী মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে।
বিশদ

18th  January, 2020
 দি বয়েজ ওন লাইব্রেরির
শিশু-কিশোর নাট্য প্রশিক্ষণ শিবির

  আজকের দিনে শিশু-কিশোররা কেউই কেবলমাত্র পড়াশোনার মধ্যে নিজেদের গণ্ডিবদ্ধ করে রাখে না। অনেকের পছন্দ নৃত্য, গীত, অঙ্কন, খেলাধূলা আবার অনেকেই মঞ্চে অভিনয় করতে আগ্রহী হয়। মঞ্চে অভিনয় করতে হলে শিক্ষা নেওয়াটা জরুরি। বিশদ

18th  January, 2020
পূর্বরঙ্গ নাট্যোৎসব

  পূর্বরঙ্গ গঙ্গা পদ্মা নাট্যোৎসব শুরু হয়েছিল ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ মধ্যমগ্ৰামে। আটদিনের ওই উৎসবের শুরুতে ছিল ক্যালকাটা পাপেট থিয়েটারের পুতুল নাটক আলাদীন। ওইদিন সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয় রোকেয়া রায় পরিচালিত পূর্বরঙ্গের নতুন নাটক পাঁচ অধ্যায় ।
বিশদ

18th  January, 2020
গল্পই মূল চালিকাশক্তি
প্রস্তর যুগ

মফসস্‌লের স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক রবিকান্ত চৌধুরী তাঁর শিক্ষক রথীনবাবুর প্রেরণায় শিক্ষকতাকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন। রথীনবাবুর একটি কথা তার মনকে আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে থাকে, ‘একটি প্রদীপ শত প্রদীপকে প্রজ্বলিত করে।’
বিশদ

18th  January, 2020
কথায় গানে সময়ের প্রতিচ্ছবি 

বাদল সরকারের ‘ভুল রাস্তা’ নাটকটি পুনর্নির্মাণ করে ‘রাজ কাহানী’ নাম দিয়ে মঞ্চস্থ করল আসানসোলের চর্যাপদ। রুদ্রপ্রসাদ চক্রবর্তী নির্দেশিত এই নাটকটি সম্প্রতি মিনার্ভা থিয়েটারে পরিবেশিত হল। ১৯৮৮ সালে বাদল সরকার এই নাটকটি লিখেছিলেন।  বিশদ

11th  January, 2020
উদীয়মান নারীর মঞ্চ ২০১৯ 

সম্প্রতি গোবরডাঙায় হয়ে গেল মানিকতলা দলছুট আয়োজিত নাট্যোৎসব ‘উদীয়মান নারীর মঞ্চ’। ‘দলছুট’, এই শব্দটির মধ্যে লেগে রয়েছে অদ্ভুত এক প্রতিষ্ঠান বিরোধী গন্ধ। আর দলের তরফেও লেখা হয়, ‘...থিয়েটারকে অভিজাত শ্রেণীর দখলদারি থেকে মুক্ত করে সর্বজনীন করার লক্ষ্যে মানিকতলা দলছুটের জন্ম...।’  বিশদ

11th  January, 2020
দেবতা না‌ই ঘরে... 

আচ্ছা দেবতার বাস কোথায়? মন্দিরে কি? যেখানে ফুল, ফল, দুধ, ভোগ্য সামগ্রী দিয়ে মহা সমারোহে, আড়ম্বরে পুজোর নাম দিয়ে প্রচুর অর্থব্যয়ে রাজসূয় যজ্ঞ হয় প্রতিদিন, সেইখানে? নাকি সেই বাচ্চাটা, যার দুটো হাত নেই, মন্দিরে আসে ভোগ-প্রসাদের আশায়, তার মধ্যে?  বিশদ

11th  January, 2020
থিয়েটার পাড়ার গপ্পো
সাংবাদিক সম্মেলন করে অবসর
নিয়েছিলেন অভিনয় জীবন থেকে

বড়পর্দা জুড়ে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করলেও, পেশাদারি রঙ্গমঞ্চে তাঁর আবির্ভাব হয়েছিল দেরিতে। অভিনেতা বিকাশ রায়ের মঞ্চাভিনয় সম্পর্কে লিখেছেন ড. শঙ্কর ঘোষ। বিশদ

04th  January, 2020
কথায় গানে সময়ের প্রতিচ্ছবি
রাজকাহিনী

বাদল সরকারের ‘ভুল রাস্তা’ নাটকটি পুনর্নির্মাণ করে ‘রাজকাহিনী’ নাম দিয়ে মঞ্চস্থ করল আসানসোলের চর্যাপদ। রুদ্রপ্রসাদ চক্রবর্তী নির্দেশিত এই নাটকটি সম্প্রতি মিনার্ভা থিয়েটারে পরিবেশিত হল। ১৯৮৮ সালে বাদল সরকার এই নাটকটি লিখেছিলেন। তারপর অনেকগুলো বছর কেটে গিয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতিরও অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
বিশদ

04th  January, 2020
 অঙ্গন নাট্য সংস্থার পরিযায়ী

 সম্প্রতি অঙ্গন নাট্য সংস্থার নিবেদনে শিশিরমঞ্চে অনুষ্ঠিত হল এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল এক সুন্দর আলেখ্য ‘প্রাণের পরে’। সঙ্গীত ও ভাষ্যপাঠের মাধ্যমে সাত্যকি সরকারের ভাবনা ও পরিকল্পনায় এই আলেখ্যটিতে প্রাণসঞ্চার করেছেন শিল্পীরা।
বিশদ

04th  January, 2020
বিরহ বড় ভালো লাগে
প্রসঙ্গ: দেবদাস

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস’ উপন্যাস নিয়ে ঠিক ক’টা সিনেমা হয়েছে? একটা আনুমানিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে কমপক্ষে ১৬টা। তারমধ্যে চারটি হয়েছে ভারতের বাইরে। দুটি পাকিস্তানে, দুটি বাংলাদেশে। সঠিক হিসেবে এর থেকে বেশি সংখ্যকও হতে পারে।  
বিশদ

28th  December, 2019
মতিলাল পাদরি 

কমলকুমার মজুমদারের সাহিত্য নিয়ে চলচিত্র হলেও বাংলা রঙ্গমঞ্চে কোনও কাজ হয়েছে কি? জানা যায় না। তবে এবার কলকাতার নাট্যপ্রেমীদের জন্য এই দুরূহ কাজটি করেছেন মাঙ্গলিক ও তার পরিচালক সমীর বিশ্বাস। 
বিশদ

28th  December, 2019
একনজরে
অরূপ বিশ্বাস: আমার বাবা বরিশালের মানুষ। মামার বাড়িও বরিশালে। তাই শরীরে খাঁটি বাঙালের রক্তই বইছে। কিন্তু আমি মোহন বাগানের সমর্থক। শুনে চমকে ওঠার কিছু নেই। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিনেমা তৈরি করতে আগ্রহীদের জন্য সুখবর। এবার বিনামূল্যে ফিল্মমেকিং শেখাবে রামোজি ফাউন্ডেশন। হায়দরাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটিতে এই কোর্সের সুযোগ দিচ্ছে সংস্থার রামোজি অ্যাকাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন। ৩ মাসের এই ফ্রি কোর্সে মূলত চারটি বিষয় শেখানো হবে।  ...

সংবাদদাতা, দিনহাটা: কমল গুহর ৯২ তম জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার থেকে দিনহাটায় দু’দিনব্যাপী স্বাস্থ্যমেলা শুরু হল। দিনহাটা সংহতি ময়দানে দুঃস্থ মহিলা ও শিশুকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে এবং ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যমেলা শেষ হবে আজ, রবিবার।  ...

ইসলামাবাদ, ১৮ জানুয়ারি (পিটিআই): মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান পারভেজ মোশারফের আবেদন ফিরিয়ে দিল পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের তরফে বলা হয়েছে, আগে মোশারফকে আত্মসমর্পণ করতে হবে, তারপর আদালত তাঁর কোনও আবেদন শুনবে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

বেশি বন্ধু-বান্ধব রাখা ঠিক হবে না। প্রেম-ভালোবাসায় সাফল্য আসবে। বিবাহযোগ আছে। কর্ম পরিবেশ পরিবর্তন হতে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৭: সঙ্গীতশিল্পী কে এল সায়গলের মৃত্যু
১৯৭২: ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলির জন্ম
১৯৯৬: রাজনীতিক ও অভিনেতা এন টি রামারাওয়ের মৃত্যু
২০০৩: কবি হরিবংশ রাই বচ্চনের মৃত্যু
২০১৮ – বিশিষ্ট বাঙালি সাংবাদিক ও কার্টুনিস্ট চন্ডী লাহিড়ীর মৃত্যু

18th  January, 2020




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.১৭ টাকা ৭১.৮৭ টাকা
পাউন্ড ৯১.২২ টাকা ৯৪.৫১ টাকা
ইউরো ৭৭.৬১ টাকা ৮০.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  January, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৫৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৫০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ মাঘ ১৪২৬, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, দশমী ৫১/১১ রাত্রি ২/৫২। বিশাখা ৪৩/১৫ রাত্রি ১১/৪১। সূ উ ৬/২৩/১, অ ৫/১১/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৬ গতে ৯/৫৮ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫৫ গতে ৮/৪১ মধ্যে। বারবেলা ১০/৩৬ গতে ১/৮ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৭ গতে ৩/৬ মধ্যে। 
৪ মাঘ ১৪২৬, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, নবমী ১/২৯/১৮ প্রাতঃ ৭/১/৩৬ পরে দশমী ৫৭/৪/৫ শেষরাত্রি ৫/১৫/৩১। বিশাখা ৪৯/৫১/৯ রাত্রি ২/২২/২১। সূ উ ৬/২৫/৫৩, অ ৫/১০/৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩ গতে ১০/০ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪ গতে ৮/৪৮ মধ্যে। কালবেলা ১১/৪৭/৫৮ গতে ১/৮/৩০ মধ্যে, কালরাত্রি ১/২৭/২৭ গতে ৩/৬/৫৫ মধ্যে। 
মোসলেম: ২৩ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
অস্ট্রেলিয়া ৫৬/২ (১০ ওভার) 

02:30:25 PM

বিশ্বভারতীর ছাত্রাবাসে পড়ুয়াদের মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ১ 
বিশ্বভারতীর বিদ্যাভবন ছাত্রাবাসে বাম সমর্থিত পড়ুয়াদের মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা ...বিশদ

01:43:56 PM

রায়গঞ্জে তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজির অভিযোগ 
রায়গঞ্জের গৌরী গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির বাড়ি লক্ষ্য করে ...বিশদ

01:34:06 PM

তৃতীয় ওয়ান ডে: টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের 

01:18:24 PM

কোচবিহারে দুর্ঘটনার কবলে মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের গাড়ি
 

রবিবার সকালে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ কোচবিহার থেকে তুফানগঞ্জ পুলিসের ...বিশদ

01:12:33 PM

মধ্যমগ্রামে শুরু হল বিজেপির মিছিল 

01:09:00 PM