Bartaman Patrika
রঙ্গভূমি
 

 যাত্রায় এনেছিলেন নতুন যুগের হাওয়া
সন্দীপন বিশ্বাস

১৯৬৮ সাল। নানা পরিস্থিতিতে তখন অস্থির তাঁর জীবন। নিজের দল এলটিজি থেকে তখন তিনি বিতাড়িত। আগের বছরেই তাঁকে রাজনৈতিক কারণে জেলে যেতে হয়েছিল। চারিদিকের চেনা মানুষগুলি কেমন যেন অচেনা হয়ে উঠেছিল। তাঁর নাটক করার জায়গাটা তখন প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তিনি থেমে থাকার পাত্র নন। তাঁকে চলতেই হবে। তাই তিনি অভিনয়ের অন্য মাধ্যম খুঁজছিলেন। ছবিতে অভিনয় চলছিল। কিন্তু পাশাপাশি তিনি যাত্রার দিকে ঝুঁকলেন। খুব ইচ্ছে ছিল যাত্রার মাধ্যমটিকে নিয়ে কিছুটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা। বারবার বলতেন, ‘প্রকৃত, নিয়মনিষ্ঠ শিল্পী যদি খুঁজতেই হয়, তবে যাত্রায় যেতে হবে।’ ততদিনে দেখে ফেলেছেন ফণীভূষণ বিদ্যাবিনোদ, পঞ্চু সেনের অভিনয়। তাঁদের বলিষ্ঠ অভিনয় দেখে ঠিক করলেন যাত্রার জন্য পালা লিখবেন, নির্দেশনা দেবেন। তিনি উৎপল দত্ত। শুধু চলচ্চিত্র বা বাংলা নাট্যমঞ্চেই তাঁর অবদান ছিল তা নয়। অনেকটা অবদান তাঁর যাত্রাতেও রয়েছে।
যোগাযোগ ঘটে গেল। ১৯৬৮ সালে যাত্রার জন্য প্রথম পালা লিখলেন ‘রাইফেল’। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পটভূমিকায় লেখা। নতুন নাটক নয়। তাঁর ‘টোটা’ নাটকটিকেই একটু অদল বদল করেছিলেন। নিউ আর্য অপেরায় সেই নাটক একদিন পড়া হল। কিন্তু পালা শুনেই পঞ্চু সেন বলে দিলেন, ‘এই নাটক যাত্রায় চলবে না। খুব কঠিন হয়ে গিয়েছে। গ্রাম বাংলার দর্শক এই নাটক নেবে না।’
পঞ্চু সেনকে খুবই শ্রদ্ধা করতেন উৎপল দত্ত। তিনিও বুঝতে পারলেন, এই নাটক বদল করা দরকার। তিনি বললেন, ‘আমাকে সাতদিন সময় দিন, আমি একটা নতুন নাটক লিখে দেব।’ কিন্তু ততদিনে ‘রাইফেল’ নাটকের বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে। নাম আর বদল করা যাবে না। তাই নামটি একই রেখে লেখা হল নতুন নাটক। ১৯৩০ সালের স্বাধীনতার লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে লিখলেন নতুন নাটক। এবার পঞ্চু সেন বললেন, ‘শেষ দৃশ্যটা অন্যরকম করা দরকার। ঠিক জমেনি।’ সেই পরামর্শ মেনে উৎপল আবার তাঁর পালার পরিবর্তন করলেন। সেই নাটকে পঞ্চু সেন করেছিলেন ‘রহমৎ’ চরিত্র। রিহার্সালের সময় উৎপল দত্ত সব শিল্পীকে নানা বিষয় নির্দেশ করলেও পঞ্চু সেনকে কিছুই বলছিলেন না। পঞ্চুবাবু তাঁর নিজের মতো করে রিহার্সাল দিচ্ছিলেন। একদিন পঞ্চুবাবু বললেন, ‘আপনি সবাইকে সবকিছু বলে দিচ্ছেন, আমাকে কিছু বলছেন না তো!’ সে কথা শুনে উৎপল দত্ত বললেন, ‘আমি আপনার অভিনয় দেখে কিছু শিখছি।’ এমনই ছিল তাঁর শ্রদ্ধাবোধ।
১৯৬৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কাশী বিশ্বনাথ মঞ্চে অভিনীত হল ‘রাইফেল’। সারা ফেলে দিল সেই পালা। কিন্তু সেবছরই দলের মালিকের সঙ্গে টাকা পয়সা নিয়ে এমন সব অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেল যে, উৎপল সিদ্ধান্ত নিলেন, যাত্রায় আর নাটক দেবেন না। স্থির হল নিজেরাই যাত্রা দল গড়ে গ্রামগঞ্জে অভিনয় করবেন। তৈরি হল বিবেক যাত্রা সমাজ। দুটি পালা ঠিক হল। একটি ‘রাইফেল’ এবং অন্যটি ‘শোনরে মালিক’। কিন্তু বিবেক যাত্রা সমাজ চালানো গেল না। এর মধ্যেই সত্যম্বর অপেরার শৈলেন মোহান্তি এলেন উৎপল দত্তের কাছে। নতুন নাটক চাই। উৎপল দত্ত রাজি নন। কিন্তু মত বদলাতে হল। লিখলেন ‘জালিয়ানওয়ালাবাগ’। সেই কুখ্যাত হত্যাণ্ডের ঘটনা নিয়ে নাটক। পেলেন একদল ভালো অভিনেতাকে। ভোলা পাল (ছোট), মনোরঞ্জন চক্রবর্তী, শিবদাস মুখোপাধ্যায়, তপনকুমার, মোহন চট্টোপাধ্যায়, জয়শ্রী মুখোপাধ্যায়কে। রিহার্সালে এঁদের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন উৎপল।
পরের বছর পালা লিখলেন লোকনাট্যের জন্য। ‘দিল্লি চলো’। অসাধারণ হয়েছিল সেই পালা। সেখানে পেলেন শেখর গঙ্গোপাধ্যায়কে। সেই বছরেই লোকনাট্যে দিলেন আর একটি পালা ‘সমুদ্রশাসন’। সমুদ্রগুপ্তকে নিয়ে লেখা পালা। আরও দুটি পালা সে বছর হয়েছিল, একটি ‘নীলরক্ত’। অভিনীত হয়েছিল ভারতী অপেরায় এবং অন্যটি ‘ভুলি নাই প্রিয়া’। অভিনীত হয়েছিল শ্রীমা অপেরায়।
যাত্রায় আসার আগে পালার আঙ্গিক নিয়ে তিনি জানতে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। তখন শম্ভু বাগ, ভৈরব গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ পালাকারের প্রকাশিত বেশ কয়েকটি যাত্রার বই পড়ে তিনি পথ খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। জানলেন যাত্রা কী, কেমন তার বৈশিষ্ট্য। কিন্তু তিনি পুরোপুরি সেই পথ অনুসরণ করলেন না। তার সঙ্গে মিশিয়ে দিলেন নিজস্বতা। যাত্রার আঙ্গিকের মধ্যে মিশিয়ে দিলেন নাটকের কম্পোজিশন এবং অভিনয়। বাচিক অভিনয়কেও অনেকটা বদলে দিলেন। শহরকেন্দ্রিক এলাকায় সেই সব পালা তুমুল সাফল্য পেলেও গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে, তা অনেকটাই অধরা থেকে গিয়েছিল। তাই তাঁর সব পালাকে সেই অর্থে হিট বলা যায় না। অর্থাৎ ব্রজেন দের ‘সোনাই দীঘি’, শম্ভু বাগের ‘হিটলার’, ‘লেনিন’ বা ভৈরব গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘একটি পয়সা’, ‘পাগলা গারদ’ বা ‘মা-মাটি-মানুষ’ যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, উৎপলের নাটক সেখানে পৌঁছতে পারেনি। এমনকী তরুণ অপেরায় শান্তিগোপাল তাঁর লেখা পালা ‘মাও সে তুং’ করেছিলেন, সেও বেশিদিন চলেনি। তার কারণ অবশ্য অন্য ছিল। উৎপল সেই নাটকে চিয়াং কাই শেকের চরিত্রটি দিয়েছিলেন গৌতম সাধুখাঁকে। কিন্তু সেটা মনঃপুত হয়নি শান্তিগোপালের। কেন না গৌতম তখন যাত্রায় নতুন। সুতরাং কয়েক পালার পর বন্ধ হয়ে যায় ‘মাও সে তুং’।
নির্দেশনার ক্ষেত্রে উৎপল দত্ত ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এটা অবশ্য বলাই যায় যে যাত্রায় তিনি এক ধরনের আধুনিকতার জন্ম দিয়েছিলেন। অবশ্য বিচার করলে বলতেই হয়, তিনি সময়ের চেয়ে একটু বেশি এগিয়ে ছিলেন। নাটকে যেমন একসময় নবনাট্য এসেছিল, চলচ্চিত্রে যেমন একটা নতুন ধারার ছবি তৈরির হাওয়া এসেছিল, উৎপল দত্তও যাত্রায় সেই নতুন যুগের হাওয়া আনার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি। কেন না তাঁর মতো করে যাত্রাসৃষ্টি করার প্রতিভা পরবর্তীকালে পাওয়া যায়নি। তাই শুধু বাণিজ্যের নিরিখে তাঁর পালাকে মাপলে অনেকক্ষেত্রে ভুল হতে পারে।
অনেকে বলেন যাত্রায় রাজনৈতিক নাটকের তিনি ভগীরথ। কথাটা সর্বাংশে ঠিক নয়। তার আগেও যাত্রায় রাজনৈতিক নাটক হয়েছিল। কিন্তু তিনি রাজনৈতিক নাটককে নতুন ভাষ্যে উপস্থাপিত করেছিলেন। বলিষ্ঠ কনটেন্ট আর ফর্মের মধ্য দিয়ে সে সব প্রযোজনা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। যাত্রায় উৎপল দত্ত সব সময় পছন্দ করতেন শেখর গঙ্গোপাধ্যায়, শিবদাস মুখোপাধ্যায়ের মতো বিশেষ কয়েকজন শিল্পীকে। এছাড়া ছিলেন অনাদি চক্রবর্তী, ইন্দ্র লাহিড়ী, নিরঞ্জন ঘোষ, মুকুন্দ দাস, বীণা ঘোষ, বর্ণালী বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। তরুণরা তাঁর ঘরানাতেই গড়ে উঠেছিলেন। আর প্রবীণরা পেয়েছিলেন অভিনয়ের পূর্ণতার স্বাদ। তৈরি হয়েছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটা স্থান।
বিজন মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে তাঁর একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল। ‘দিল্লি চলো’ পালায় বিজনবাবু অভিনয় করতেন ইংরেজ কর্নেল ব্রেনানের ভূমিকায়। রিহার্সালের আগে উৎপল দত্ত যখন তাঁকে দেখেন তখন তিনি লুঙ্গি পরা। বিড়ি টানছিলেন। এই মানুষটি সাহেবের ভূমিকায় অভিনয় করবেন, ভাবতে কেমন সঙ্কোচ হচ্ছিল উৎপলের। কিন্তু মঞ্চে তাঁর অভিনয় দেখে তিনি চমকে গিয়েছিলেন। পরে তিনি বলেছিলেন, ‘ইংরেজের ভূমিকায় এত ভালো অভিনয় তিনি আগে দেখেননি।’ মঞ্চে একটা দৃশ্য ছিল ব্রেনান বিপ্লবী প্রদ্যোতের চোখ উপড়ে নিচ্ছে। প্রদ্যোতের ভূমিকায় ছিলেন শেখর গঙ্গোপাধ্যায়। সেই দৃশ্যে ব্রেনানের নিষ্ঠুরতার অভিনয় দেখে মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে মঞ্চে উঠে পড়তেন ব্রেনানকে মারতে।
এরপর একে একে ‘সন্ন্যাসীর তরবারি’, ‘ঝড়’, ‘বৈশাখী মেঘ’, ‘সীমান্ত’, ‘তুরুপের তাস’, ‘সাদা পোশাক’, ‘দামামা ঐ বাজে’ ইত্যাদি পালা অভিনীত হল। কুড়ি বছর তিনি যাত্রার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে তিনি লিখেছিলেন বাইশটি পালা। সব পালা তেমন দাগ কাটেনি। হিট এবং ফ্লপ মিশিয়েই তিনি রাজত্ব করেছেন।
যাত্রায় উৎপল দত্তের কেরিয়ার নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যাত্রা গবেষক দিবাকর ভৌমিক বলেন, ‘উৎপল দত্ত মঞ্চরীতির একজন দক্ষ নির্দেশক। সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে পালাকার রূপে তাঁর সম্পর্কে অভিযোগ আছে, যা মামুলি নয়। যাত্রাপালার যে সাধারণ বৈশিষ্ট্য, তা তাঁর কোনও পালাতেই নেই। সত্যি কথা বলতে কী এগুলিকে পালা না বলে নাটক বলাই শ্রেয়। তাঁর নাটকগুলির মধ্যে দু’চারটি জনসমাদর পেলেও কয়েকটি তো দারুণভাবে ব্যর্থ। গ্রামবাংলায় তাঁর নাটকগুলি জনপ্রিয়তায় ব্রাত্য।’
এই মত মেনে নিলেও বলতে হয়, উৎপল দত্ত যাত্রায় একটা যুগ। উৎপল দত্ত যাত্রায় এক নতুন ভাষ্যের রূপকার। অসীম শ্রদ্ধা ছিল তাঁর যাত্রার প্রতি। একবার তাঁর সঙ্গে একটি ছবির শ্যুটিংয়ের অবসরে নানা বিষয়ে কথা হয়েছিল। বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে যাত্রা প্রসঙ্গও এসেছিল। সেদিনই বুঝেছিলাম যাত্রা এবং যাত্রাশিল্পীদের প্রতি কতটা তাঁর শ্রদ্ধাবোধ। বলেছিলেন, ‘যাত্রায় যুক্ত হয়ে বুঝেছি এখানে কত শক্তিশালী শিল্পীরা আছেন। প্রফেশনালিজম শিখতে হলে যাত্রার শিল্পীদের থেকেই শেখা উচিত। দেখেছি তাঁদের কাছে যাত্রা একটা ধর্মের মতো। শিল্পকে প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছে যাত্রা। সেটা নাটক পারেনি।’
ছবি: সংশ্লিষ্ট সংস্থার সৌজন্যে
13th  July, 2019
সালকিয়া আগন্তুকের নাট্যোৎসব 

সালকিয়া আগন্তুক নাট্য সংস্থার পরিচালনায় উজ্জ্বল ঘোষ স্মরণে দুদিনব্যাপী একটি নাট্যোৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল হাওড়ার রামগোপাল মঞ্চে।  বিশদ

অশনি নাট্যমের নাট্যোৎসব 

অবরুদ্ধ কাশ্মীর, এনআরসি, ডিটেনশন ক্যাম্প, নয়া ইউএপিএ আইন, অর্থনৈতিক মন্থরতা এসব নিয়ে দেশের মানুষের যখন উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা তখনই ধর্ম ও মেকী জাতীয়তাবাদের মোড়ক দিয়ে দেশের নাগরিকদের ভুলিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চোখে পড়ছে।  
বিশদ

উদীয়মান নারীর মঞ্চ 

গত বছরের মতো এবছরও মানিকতলা দলছুট নাট্য সংস্থা আয়োজন করেছে তাদের ‘উদীয়মান নারীর মঞ্চ’। আগামী ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত গোবরডাঙা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে চলবে এই উৎসব। প্রতিদিন চারটি করে নাটক মঞ্চস্থ হবে। বেশিরভাগ নাটকের পরিচালকই নারী।
বিশদ

অন্য চুপকথার নবম নাট্য উৎসব

প্রতিবছরের মতো এবছরও চাকদহ অন্য চুপকথার নাট্য উৎসব শুরু হয়েছে চাকদহের সম্প্রীতি মঞ্চে। চলেবে আগামী ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবারের উৎসবে মোটা ছ’টি নাটক প্রদর্শিত হবে। প্রথমদিন অর্থাৎ ১৩ ডিসেম্বর ছিল ইন্দ্ররঙ্গ প্রযোজিত নাটক অদ্য শেষ রজনী। পরদিন ১৪ ডিসেম্বর দমদম শ্রুতিরঙ্গমের দুটি ছোট নাটক সত্য ডিরে এসো ও প্রমীলা পিয়াজি।  
বিশদ

গঙ্গা যমুনা নাট্য উৎসব 

আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘অনীকের গঙ্গ যমুনা নাট্য উৎসব’। এই উৎসব এবার ২২ বছরে পড়ল। এবছর তপন থিয়েটারে এই নাট্য উৎসবের সূচনা ডলস থিয়েটারের পুতুল নাটক দিয়ে। সেদিনই থাকবে দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের আবাসিকদের নাটক ‘রক্তকরবী’।
বিশদ

নটসেনার সরোজ নাট্যমেলা 

নটসেনা তাদের প্রয়াত পরিচালক সরোজ রায়কে স্মরণ করে আয়োজন করেছিল একটি নাট্যমেলার, যার শিরোনাম ‘সরোজ নাট্যমেলা’। গত ৮ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কলকাতার তপন থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হল এই নাট্যমেলা। প্রথমদিন ছিল একটি নাট্য বিষয়ক আলোচনা—বিদ্যালয় পাঠ্যসূচীতে থিয়েটার সংযুক্তিকরণ। 
বিশদ

মাঙ্গলিকের পরিবর্তন 

আমাদের চারধারে চলছে নানা বুজরুকির ব্যবসা। প্রচুর মানুষ নিয়মিত ঠকছেন। ঠকে শিখছেন। এক শ্রেণীর কর্মবিমুখ অলস মানুষ যারা অল্প আয়াসেই ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখে তারাই মূলত এই ধরনের ব্যবসার সফল উদ্যোগপতি। নারান এইরকমই এক লোক। সে মানুষকে নেশার কবল থেকে মুক্ত করার নামে এক বুজরুকির ব্যবসা চালায়। 
বিশদ

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাসঙ্গিক এক নাট্য 

নবম বর্ষে তিলজলা ঋতুর নবতম প্রযোজনা ‘তরবারি সুমঙ্গল’ নাটকটি মঞ্চস্থ হল মধুসূদন মঞ্চে। গত ২৯শে অক্টোবর এই নাটকটির প্রথম উপস্থাপনা ছিল। নাটকটি লিখেছেন অশোক মুখোপাধ্যায়, নির্দেশনায় জয়ন্ত দীপ চক্রবর্তী। এর কাহিনী বর্তমানে ভারতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রসঙ্গিক। 
বিশদ

দৈর্ঘ্যে স্বল্প কিন্তু গভীরতায় সাগর 

সম্প্রতি ‘ভাণ’ প্রযোজিত দুটি স্বল্প দৈর্ঘের নাটক পরপর মঞ্চস্থ হল— ‘বিষদিগ্ধা’ এবং ‘বিদ্যার সাগরেরা’। দুটি নাটকের নাটককার এবং নির্দেশক গৌরাঙ্গ দন্ডপাট। বিষয়গত দিক থেকে ‘বিষদিগ্ধা’ বেশ পরিচিত। দাম্পত্য অস্থিরতা এবং ব্যক্তিত্বের সংঘাত। স্বামী সফল নাট্যকার। 
বিশদ

বিষের রং নীল

একফোঁটা গরল যেমন মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে শেষ করে দিতে পারে প্রাণ, তেমনিই অপরাধ ও অপরাধী মানসিকতা সমাজের ভীতে ধরিয়ে দিতে পারে ঘুণ। সেই ঘুণ ধীরে ধীরে ফোঁপড়া করে দেয় সমাজকে। ভেঙে পড়ে সমাজ ব্যবস্থা। শুরু হয় অরাজকতা। কিন্তু কীভাবে এর প্রতিরোধ করা যায়?  
বিশদ

নান্দীকারের গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজো 

এ যেন গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজো। যে প্রতিষ্ঠানটিকে বুকে আগলে সন্তানসম মমতায় লালন পালন করেছেন, সেই প্রতিষ্ঠানটিই যখন পালককে মহাসমারোহে সম্মান জানাতে চায় তখন কেমন লাগে? রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত অর্থাৎ যাঁর সম্বন্ধে এই ভণিতা তিনি বললেন, আমার খুব বিচ্ছিরি লাগছে। কেন? ফোনে পাল্টা প্রশ্ন, লাগবে না? 
বিশদ

অন্য থিয়েটারের নাট্যস্বপ্নকল্প ২০১৯ 

এবার একটু অন্যরকম, অন্য তরঙ্গ নিয়ে হাজির হচ্ছে অন্য থিয়েটারের বার্ষিক অনুষ্ঠান ‘নাট্যস্বপ্নকল্প’। বর্ষশেষ আর বর্ষশুরুর সন্ধিক্ষণে নাটক নিয়ে সরারাতব্যাপী অন্যরকম কিছু করার অভিপ্রায় নিয়ে বিভাস চক্রবর্তী শুরু করেছিলেন নাট্যস্বপ্নকল্প। রবীন্দ্রসদনে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধে থেকে শুরু হতো এই উৎসব, চলত পরদিন ভোর পর্যন্ত।  
বিশদ

সালকিয়া আগন্তুকের নাট্যোৎসব 

সালকিয়া আগন্তুক নাট্য সংস্থার পরিচালনায় উজ্জ্বল ঘোষ স্মরণে দুদিনব্যাপী একটি নাট্যোৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল হাওড়ার রামগোপাল মঞ্চে।   বিশদ

07th  December, 2019
অশনি নাট্যমের নাট্যোৎসব 

অবরুদ্ধ কাশ্মীর, এনআরসি, ডিটেনশন ক্যাম্প, নয়া ইউএপিএ আইন, অর্থনৈতিক মন্থরতা এসব নিয়ে দেশের মানুষের যখন উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা তখনই ধর্ম ও মেকী জাতীয়তাবাদের মোড়ক দিয়ে দেশের নাগরিকদের ভুলিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চোখে পড়ছে।  বিশদ

07th  December, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডেঙ্গু মোকাবিলায় রাজ্য সরকার শুধুমাত্র ২০১৯ সালেই ৪৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে এর মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা থেকে পরিকাঠামোগত ব্যাপক পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে।  ...

ওয়াশিংটন, ১৩ ডিসেম্বর (পিটিআই): ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই অসমে তিনজনের প্রাণ গিয়েছে। অসম ছাড়াও দেশের নানা রাজ্যে সাধারণ মানুষ ওই আইনের বিরোধিতায় রাস্তায় নেমে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর ফের চাপ বাড়াল আমেরিকা।   ...

পানাজি, ১৩ ডিসেম্বর (পিটিআই): গোয়ায় বসবাসকারী পর্তুগিজ পাসপোর্টধারীদের উপর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের কোনও প্রভাব পড়বে না। শুক্রবার গোয়ার এনআরআই কমিশনের পক্ষ থেকে এই কথা জানানো হয়েছে।  ...

সংবাদদাতা, পূর্বস্থলী: পূর্বস্থলীর বাঁশদহ বিলেও এবার পরিযায়ী পাখিদের আগমন শুরু হয়েছে। ওই বিলের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কচুরিপানার উপর পরিযায়ী পাখিদের বিচরণ করতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চার থেকে পাঁচটি প্রজাতির পরিযায়ী পাখি এখানে এসেছে।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

বিদ্যার্থীদের অধিক পরিশ্রম করতে হবে। অন্যথায় পরীক্ষার ফল ভালো হবে না। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২৪: অভিনেতা ও পরিচালক রাজ কাপুরের জন্ম
১৯৩১: কুমিল্লায় বিপ্লবী শান্তি ঘোষ ও সুনীতি চৌধুরি ম্যাজিস্ট্রেট স্টিভেনসকে হত্যা করেন
১৯৩৪: পরিচালক শ্যাম বেনেগালের জন্ম
১৯৫৩: ভারতীয় টেনিস খেলোয়াড় বিজয় অমৃতরাজের জন্ম
১৯৫৭: হাওড়া এবং ব্যান্ডেলের মধ্যে প্রথম চালু হল বৈদ্যুতিক ট্রেন 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৮০ টাকা ৭১.৪৯ টাকা
পাউন্ড ৯৩.৪৩ টাকা ৯৬.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.৪৪ টাকা ৮০.৪৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, দ্বিতীয়া ৬/২৯ দিবা ৮/৪৭। পুনর্বসু ৫৭/৮ শেষরাত্রি ৫/৩। সূ উ ৬/১১/৫৯, অ ৪/৪৯/৫৩, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৬ গতে ৯/৪৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৫২ গতে ২/৪২ মধ্যে পুনঃ ৩/২৫ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৫১ গতে ২/৩৮ মধ্যে, বারবেলা ৭/৩২ মধ্যে পুনঃ ১২/৫১ গতে ২/৩৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/৩২ গতে উদয়াবধি। 
২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, দ্বিতীয়া ৮/৪৯/১৯ দিবা ৯/৪৫/২৯। আর্দ্রা ২/৫১/২২ দিবা ৭/২২/১৮, সূ উ ৬/১৩/৪৫, অ ৪/৫০/১০, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩ মধ্যে ও ৭/৪৫ গতে ৯/৫২ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৪৯ মধ্যে ও ৩/৩১ গতে ৪/৫০ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/৪৬ মধ্যে, কালবেলা ৭/৩৩/১৮ মধ্যে ও ৩/৩০/৩৭ গতে ৪/৫০/১০ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৩০/৩৭ মধ্যে ও ৪/৩৩/১৮ গতে ৬/১৪/২৯ মধ্যে। 
১৬ রবিয়স সানি  

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বাউড়িয়ায় রেল লাইনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ 

01:07:15 PM

কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে বিক্ষোভকারীদের হটাতে লাঠিচার্জ পুলিসের, ফাটানো হল টিয়ার গ্যাসের শেল 

12:02:07 PM

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের একাধিক জায়গায় পথ অবরোধ  

11:58:00 AM

কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে বিক্ষোভকারীদের ইটের ঘায়ে জখম হাওড়া সিটি পুলিসের ডিসি সাউথ জোন 

11:38:53 AM

মুরারইতে রেল অবরোধের জেরে বাঁশলৈ স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়েছে ডাউন শতাব্দী এক্সপ্রেস 

11:26:10 AM

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে মুরারইতে রেল ও পথ অবরোধ

10:59:00 AM