Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

কাশ্মীর দখলের নতুন চক্রান্ত!
মৃণালকান্তি দাস

জম্মুতে জয়ধ্বনি। কাশ্মীর থমথমে। দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবল প্রকোপে যখন ভারতীয় উপমহাদেশীয় ভূখণ্ড ভেঙে দু’টুকরো হচ্ছিল, সেই সময় ‘দুই জাতি’র কাল্পনিক দ্বন্দ্বের জাঁতাকলের মাঝখানে পড়ে গিয়েছিল যে কয়েকটি অঞ্চল, তার মধ্যে কাশ্মীরের পরিস্থিতিই ছিল সবচেয়ে জটিল। একদিকে দেশভাগ, অন্যদিকে কাশ্মীর— ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতের সন্তানরা যাই ভাবুন না কেন, ভাগ্যের সঙ্গে সেই রাতের গাঁটছড়াটি ছিল বিষকণ্টকে আবৃত। এ রাজ্যের রাজনীতি মানে এক বিচিত্র ত্রিভুজ। ত্রিভুজের প্রথম বিন্দু: দিল্লি-শ্রীনগর সম্পর্ক। দ্বিতীয় বিন্দু: জম্মু-কাশ্মীর সম্পর্ক। আর তৃতীয় বিন্দু: ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক। একটা প্রশ্নের সমাধান করতে গেলে অন্য বিন্দুগুলিতেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। ভারত-পাকিস্তানের যৌথ রাষ্ট্রিক চাপের মাঝখানে শ্বাসরুদ্ধ হওয়ার জোগাড় কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের। সাড়ে সাত দশক ধরে ওই উপত্যকার প্রায় প্রতিটি পরিবার একদিকে জঙ্গিবাদ, অন্যদিকে দমননীতির আসুরিক চাপের মধ্যে বাস করছে।  
অটলবিহারি বাজপেয়ি তাঁর জমানায় এই কাশ্মীর সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে ‘কাশ্মীরিয়ত-জামহুরিয়ত-ইনসানিয়ত’-এর কথা বলেছিলেন। তখন কি জানা ছিল, ১৯ বছর পরে ওই একইদিনে বাজপেয়িজির ‘ভাবশিষ্য’ নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি তাঁর রাজনৈতিক গুরুর উল্টো পথে হাঁটবেন? বাতিল করবেন সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫(ক) ধারা। কাশ্মীরিত্ব, গণতন্ত্র ও মানবতা— এই ত্রয়ী ধারণার কোনওটাই মোদি-শাহ জমানায় রক্ষিত হয়নি। কাশ্মীরিয়াৎ-এর কথা তোলায় স্বয়ং রাজনাথ সিংকেও বিজেপি-আরএসএস সাইবার আর্মির আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। জম্মুতে ভোটব্যাঙ্ক অক্ষুণ্ণ থাকায় কাশ্মীর উপত্যকায় বিজেপির জনভিত্তি হারানোর বিশেষ ভয় নেই। বরং অশান্ত কাশ্মীরকে দেখিয়ে সে অবশিষ্ট ভারতে এক ধরনের জনসমর্থন আদায় করতে চায়। এর ফলে সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসা দূরে থাক, জটিলতা বেড়েছে এবং কাশ্মীর উপত্যকার সাধারণ মানুষও ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠেছেন। প্রশ্ন ওঠে, একটা গোটা রাজ্যের সবাই জঙ্গি?
ইতিহাস বলে, ১৯৪৭-এর ২৬ অক্টোবর বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে এই কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। ওই বিশেষ শর্তে ১৯২৭ সালের একটি আইনকে ভারত সরকার মান্যতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ওই আইনে মহারাজ হরি সিং জম্মু-কাশ্মীরে অ-কাশ্মীরিদের জমি কেনা এবং চাকরি করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। অ-কাশ্মীরিরা তখন থেকেই সেখানে স্থায়ী নাগরিকত্বের অধিকার পেতেন না। আমরা জানি, ১৯৪৭-এ হরি সিংকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিরই ফল সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫(ক) ধারা। আরএসএস তথা সঙ্ঘ পরিবার বরাবরই ওই দুই ধারার বিরোধী। জম্মু-কাশ্মীর হাইকোর্টে ওই আইন বাতিলের জন্য তারা দাবিও জানিয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট সেই দাবি খারিজ করে দেয়। সুপ্রিমকোর্টও হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানায়। সাময়িকভাবে সঙ্ঘ পরিবার পিছু হটে। কিন্তু ২০১৯-এর লোকসভায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নরেন্দ্র মোদি নিজেই সুপ্রিম কোর্ট! নিজেই সংবিধান! ফলে মোদি-শাহ সেই বছরের ৫ আগস্ট ওই দুই আইন বাতিল করে দিয়েছিলেন। কারণ একটাই, ভোটের অঙ্ক!
জম্মু-কাশ্মীরে ২০১৪-র বিধানসভা ভোটে মোট প্রদত্ত ভোটের মাত্র ২৩ শতাংশ পেয়ে বিজেপি পেয়েছিল ২৫টি আসন। আর মুসলিম প্রধান কাশ্মীরে পেয়েছিল মাত্র ২.২ শতাংশ ভোট! ফলে মিশন ৪৪+ স্লোগান তুলে যে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন অমিত শাহরা, তা অধরাই থেকে গিয়েছিল। তখনকার জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় মোট আসন ছিল ৮৭টি। কাশ্মীরে ৪৬, জম্মুতে ৩৭ এবং লাদাখে ৪। অমিত শাহরা বুঝে গিয়েছিলেন, জম্মু-কাশ্মীরকে দখল করতে হলে ভূস্বর্গকে কব্জা করা জরুরি। আর সেই উদ্দেশ্যেই সেখানকার জনবিন্যাসকে ঘেঁটে দেওয়া খুব প্রয়োজন। তাই, সংবিধানের ৩৫-এ ধারা বাতিল করে দিয়ে তামাম ভারতের সামনে কাশ্মীর উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। এখন যে কেউ সেখানে জমি কিনতে পারেন। যে কেউ সেখানকার স্থায়ীবাসিন্দা হতে পারেন। আর স্থায়ীবাসিন্দা মানেই ভোটার। এখানেই শেষ নয়...।
শুরু হয়েছে কাশ্মীর দখলের নতুন চক্রান্ত!
ডিলিমিটেশন তথা বিধানসভা ক্ষেত্রের সীমানা পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব তারই সর্বশেষ পদক্ষেপ। ডিলিমিটেশন কমিশনের প্রধান করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইকে। ডিলিমিটেশনের ক্ষেত্রে সারা দেশে এতকাল যে বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো এবং যে অভিজ্ঞতা ও বোঝাপড়াকে মান্যতা দেওয়া হতো জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষেত্রে তার সবগুলিকেই কার্যত অস্বীকার করা হয়েছে। বদলে মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে জনবিন্যাসের চরিত্র বদল করে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল। এই কৌশল একসময় নিয়েছিল মুসলিম মৌলবাদীরাও। তারা কাশ্মীর থেকে পণ্ডিতদের উচ্ছেদ করে জনবিন্যাসের চরিত্র বদল করার চেষ্টা করেছিল।
আসন পুনর্বিন্যাসের অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় মাথায় রাখা হয় ঠিকই, কিন্তু সর্বাধিক গুরুত্ব পায় জনসংখ্যা। এক্ষেত্রে জনসংখ্যাকে পাশে সরিয়ে সেই আনুষঙ্গিক বিষয়গুলিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী নির্বাচনে জম্মু- কাশ্মীরের অধিবাসীদের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটতে না পারে। ডিলিমিটেশন কমিশন যে সুপারিশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, যেখানে জনসংখ্যা কম সেখানে আসন সংখ্যা বেড়েছে। আর যেখানে জনসংখ্যা বেশি সেখানে আসন বাড়েনি বললেই চলে। জম্মুতে ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী জনসংখ্যা ৫৩.৫ লক্ষ, সেখানে আসন বেড়েছে ৬টি। অথচ কাশ্মীর, যেখানে জনসংখ্যা ৬৮.৮ লক্ষ সেখানে বেড়েছে মাত্র একটি। লাদাখের চারটি আসন বাদ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে কাশ্মীরে ৪৬টি এবং জম্মুতে ৩৭টি আসন রয়েছে। আসনের পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী বিধানসভা ভোটে জম্মু অংশের আসনসংখ্যা ৬টি বেড়ে হবে ৪৩ আর কাশ্মীর অংশে মাত্র ১টি বেড়ে হবে ৪৭! তাছাড়া পূর্বের জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় ২৪টি আসন ফাঁকা থাকত পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জন্য। তা এবারও অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ জম্মু-কাশ্মীরের জন্য মোট আসন সংখ্যা হবে ১১৪টি।
যদি ন্যায়সঙ্গতভাবে পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ হতো তাহলে কাশ্মীরের আসন ৪৬ থেকে বেড়ে হতো ৫১টি। আর জম্মুর আসন ৩৭ থেকে বেড়ে হতো ৩৯টি। কিন্তু তা করা হয়নি। বিজেপির লক্ষ্য, জম্মুতে বেশি আসনে জিতে কাশ্মীরের ঘাটতি পূরণ করে ক্ষমতা দখল করা। তাই আসনসংখ্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের প্রায় সমান করে দেওয়া হচ্ছে সংখ্যালঘু জম্মুকে! এই গোটা ষড়যন্ত্রটাই মানুষের কাছে আজ পরিষ্কার। কাশ্মীরের আসন বাড়লে গেরুয়া শিবিরের ভয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাস প্রস্তাবের পর কাশ্মীর উপত্যকার রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও জোটবদ্ধ হওয়ার আরও এক সুযোগ করে দিয়েছে মোদি সরকার। তারই ছায়া দেখা গিয়েছে সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত আবাসন সম্মেলনেও। এই সম্মেলনের বিরোধিতায় জোটবদ্ধ উপত্যকার প্রতিটি রাজনৈতিক দল। এমনকী বিচ্ছিন্নতাবাদী দল হুরিয়ত কনফারেন্সও এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
জম্মুতে সম্প্রতি এই আবাসন সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা। সরকারিভাবে বলা হয়, ওই সম্মেলনে স্বাক্ষরিত হয়েছে ৩৯টি অনুচুক্তি। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ১৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা লগ্নি হবে বিভিন্ন ধরনের আবাসন প্রকল্পে। এগুলোর মধ্যে ১৯টি নাগরিক আবাসন–সংক্রান্ত, ৮টি বাণিজ্যিক এবং ৪টি হোটেল প্রকল্প। বাকি প্রকল্পগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পরিকাঠামো ছাড়া গড়ে তোলা হবে সিনেমা ও বিনোদনকেন্দ্র। উপরাজ্যপাল জানিয়েছেন, যেভাবে সরকার এগচ্ছে, তাতে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৪৪ হাজার কোটি টাকার লগ্নির প্রস্তাব পাওয়া গিয়েছে।
উপত্যকার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সরকারি উদ্যোগের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তারা মনে করছে, এভাবে জনবিন্যাসে বদল ঘটিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের চরিত্র বদলে বিজেপির মতো হিন্দুত্ববাদী দল ক্ষমতাসীন হবে। বিরোধীরা বলছে, আবাসন সম্মেলনের নামে শুরু হচ্ছে জমি লুট। লুট হতে চলেছে জম্মু-কাশ্মীরের এতকালের স্বতন্ত্র পরিচয়। এভাবেই দেশের একমাত্র মুসলিমপ্রধান রাজ্যকে শেষ করে দিতে সরকার কদম কদম এগচ্ছে। জমির চরিত্র বদলানো হয়েছে। চাষের জমিও বিক্রির বন্দোবস্ত করা হয়েছে। জনবিন্যাসে পরিবর্তন ঘটিয়ে সম্পদ লুট করাই এই সম্মেলনের একমাত্র উদ্দেশ্য। রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর উপত্যকার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতার জন্য বিজেপির মদতে জন্ম হয়েছিল জম্মু-কাশ্মীর আপনি পার্টির। পিডিপির একসময়ের শীর্ষ নেতা আলতাফ বুখারিকে করা হয় আপনি পার্টির নেতা। বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে জেলা উন্নয়ন পর্ষদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তারা শ্রীনগর উন্নয়ন পর্ষদের দখলও নিয়েছে। এই আপনি পার্টিও কেন্দ্রীয় উদ্যোগের বিরোধিতায় নেমেছে। আলতাফ বুখারি বলেছেন, ‘আমরা উন্নয়নের পক্ষে, কিন্তু আবাসিক আইন ও নিজস্বতা বিলিয়ে দিয়ে নয়। জম্মু-কাশ্মীরের জমি ও চাকরির উপর মানুষের অধিকারের সঙ্গে দল কিছুতেই আপস করতে পারবে না। এমন ধরনের যেকোনও উদ্যোগের বিরোধিতায় দল প্রস্তুত।’ রুদ্ধ উপত্যকার নাগরিকদের বিরুদ্ধ-স্বর স্তব্ধ করে দিতে এবার কোন অস্ত্র ব্যবহার হবে? কেউ জানে না!
তবুও তো থমথমে কাশ্মীরে নৈসর্গ আছে। করুণ রস, বীর রস, ষড়যন্ত্র— সবই আছে। ভূস্বর্গের উত্তুঙ্গ শিখরের রং বদল দেখতে, পাইন ও দেবদারুর জঙ্গলের গান শুনতে, ডাল লেকের হাউসবোটে, টিউলিপের বাগানে আপনাকে আমন্ত্রণ জানায় উপত্যকার নাগরিকরা। সোনমার্গ, গুলমার্গ, পাটনিটপ আর পহেলগাঁও আপনারই অপেক্ষায়! তার বাইরে আপনি কিন্তু কিছুই খুঁজে পাবেন না!
শীত পেরিয়ে বসন্ত আসছে। শুরু হবে উপত্যকার চিনার আর দেবদারু গাছের সঙ্গে বসন্তের হাওয়ার ফিসফিসানি। শুরু হবে পাতা ঝরা। পাল্টে যাবে উপত্যকা আর প্রকৃতির রঙ। বদলাবে না শুধু গেরুয়া শিবিরের ‘ক্রোনোলজি’!
20th  January, 2022
চাকরির আকাল ঘোচাবে
মমতার সাইকেল শিল্প
হারাধন চৌধুরী

আমরা আশা রাখব, খড়্গপুরের প্রস্তাবিত সাইকেল পার্ক বাংলার সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারেরই এক সোনালি অধ্যায় হয়ে উঠবে। রাজ্যের বিপুল চাহিদাকে পাথেয় করে সাইকেল কারখানার সংখ্যাও বাড়বে ধীরে ধীরে। সাইকেল শিল্পের পথ ধরেই গড়ে উঠবে যন্ত্রাংশ ও টায়ার শিল্প। জোয়ার আসবে বাংলার চাকরির বাজারে।
বিশদ

চাকরির ভরসা... দায় সরকারের
শান্তনু দত্তগুপ্ত

নরেন্দ্র মোদি সরকারও আট বছরের ‘সাফল্য কাহিনি’ প্রচারের জন্য কোমর বাঁধছে। দেশজুড়ে বোঝাতে হবে, এটাই আচ্ছে দিন। আগে কিছুই ছিল না। যা করেছে, মোদি সরকার। সেই ঢক্কানিনাদে চাপা পড়ে যাবে চাকরির দাবিতে আন্দোলনরত ছেলেমেয়েদের কণ্ঠ। কেউ পাগল হয়ে যাবে, কেউ মানবতার আদর্শ হারিয়ে মরিয়া চেষ্টা চালাবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর।
বিশদ

24th  May, 2022
চাই নয়া নীতি, সাহস, স্বচ্ছতা ও গতি
পি চিদম্বরম

যেসব পরিশ্রমী পরিবার ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করার জন্য তাদের যথাসর্বস্ব ব্যয় করে দেখছে চাকরিই নেই—মোদি সরকার তাদের হতাশ করেছে। হিন্দুত্বের আবেগে ভাসিয়ে দিয়ে মোদি সরকার হয়তো সাময়িকভাবে পিঠ বাঁচাতে পারবে, কিন্তু  তরুণরা অচিরেই বুঝতে পারবেন যে হিন্দুত্ব (এবং একটি মেরুকৃত ও বিভক্ত সমাজ) কাউকে চাকরি দেবে না—তিনি নারী/পুরুষ, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, অন্যকোনও ধর্মবিশ্বাসী কিংবা নাস্তিক যেটাই হোন না কেন। বিশদ

23rd  May, 2022
ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার
ট্র্যাডিশন সমানে চলছে ...
হিমাংশু সিংহ

সব ফেলে একটা মসজিদ নিয়ে দেশ উত্তাল কেন? এতে কি রান্নার গ্যাসের দাম কমবে, না বাড়ির বেকার ছেলেটা চাকরি পাবে! না, কিছুই হবে না। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ টানার কোনও চেষ্টাই সফল হবে না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েই টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসতে ধর্মের এই আফিম বিতরণের পথে এগচ্ছেন মোদি সরকারের বাজনদাররা।
বিশদ

22nd  May, 2022
অনলাইন পরীক্ষায় ফিরতে
পারে নকশাল আমলের লজ্জা
তন্ময় মল্লিক

‘ভারতরত্ন’ এপিজে আব্দুল কালামের কথায়, ‘ফেল (FAIL) মানে ফার্স্ট অ্যাটেম্পট ইন লার্নিং। অর্থাৎ শেখার প্রথম ধাপ। বিফলতাই সফল হওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দেবে।’ অনলাইনে বই দেখে লিখে পাশ করলে সেই রাস্তাটা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই অনলাইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দায়িত্ব শুধু শিক্ষক, অধ্যাপকদের ঘাড়ে চাপালেই চলবে না, সন্তানদের অন্যায় আবদারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে অভিভাবকদেরও। বিশদ

21st  May, 2022
উচ্চশিক্ষা কি গরিবের
হাতের বাইরে যাচ্ছে?
সমৃদ্ধ দত্ত

পুরসভা পরিচালিত স্কুলগুলি একে একে বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রছাত্রী পাওয়া যায় না। কলকাতা অথবা জেলার ব্র্যান্ডেড নামজাদা সরকারি অথবা স্পনসর্ড স্কুল বাদ দিলে বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলির চিত্রটি খুব উজ্জ্বল নয়।
বিশদ

20th  May, 2022
তাজমহলের নিয়তি!
মৃণালকান্তি দাস

রামমন্দির আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের থেকেও বড়! বলেছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন। তাঁর দাবি, এই পথেই রামরাজ্যের দিকে দেশ যাত্রা শুরু করেছে।
বিশদ

19th  May, 2022
বিদ্বেষের এই পাশাখেলা...
সন্দীপন বিশ্বাস

মিথ্যা প্রচার কিংবা বিদ্বেষ যে কোনও সরকারের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে, মোদি অ্যান্ড কোম্পানিকে না দেখলে বিশ্বাসই করা যেত না। সরকার এই দু’টো ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রতিদিন ভারতের গণতন্ত্রকে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে।
বিশদ

18th  May, 2022
কানে ‘কান্ট্রি অব অনার’-এর মর্যাদা পেল ভারত
অনুরাগ সিং ঠাকুর

ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার নিস্তব্ধ উপকূলে এখন কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৫ তম সংস্করণ আয়োজনের ব্যস্ততা। এবছর ‘মার্শে ডু ফিল্মস’-এর উদ্বোধনী সন্ধ্যার মূল ভাবনার দেশ হিসেবে ভারত বিশ্বের দর্শকদের সামনে দেশীয় চলচ্চিত্রের উৎকর্ষ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং গল্প বলার অসামান্য ঐতিহ্য তুলে ধরতে চায়।
বিশদ

18th  May, 2022
কামরাজ প্ল্যানেই বাজিমাতের লক্ষ্যে মোদি?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন কিছুতেই বিরোধী শক্তির সামনের সারিতে আসতে না পারেন—এটাই লক্ষ্য বিজেপির। বরং এলেবেলের স্তরে পৌঁছে যাওয়া কংগ্রেস যত খুশি গুরুত্ব পাক, ক্ষতি নেই। কিছুতেই যেন জোটের জমি শক্ত না হয়। তাহলেই মানুষ বিকল্প না খুঁজে মোদিজিতে ফের আস্থা রাখবেন। চব্বিশেও পদ্ম ফুটবে সংসদে। বিশদ

17th  May, 2022
ভালো, খারাপ ও সন্দেহজনক
পি চিদম্বরম

যদি মহিলাদের একটি বড় অংশ রক্তাল্পতায় ভোগেন এবং শিশুদের মধ্যে একটি বিরাট অংশ কম ওজনের কিংবা রক্তাল্পতার শিকার হয়, পাশাপাশি অনেক শিশু স্টান্টেড অথবা ওয়েস্টেড হয়, তবে তার কারণ পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব। আমার মনে হয় যে খাদ্যের অভাব হল, দারিদ্র্যের একটি নির্ধারক সূচক। একজন খুদে ভগবানের সন্তান হিসেবে ওই গরিব মানুষগুলিকে এই সরকার ভুলিয়ে দিতে চাইছে। বিশদ

16th  May, 2022
মোদির শাসনে শিক্ষা
ক্রমেই ধনীর পণ্য!
হিমাংশু সিংহ

কোভিডে কত পড়ুয়া অভিভাবক হারিয়েছে, তার হিসেব কে রাখে। তাদের এখন স্কুলে পাঠাবে কে? এই ব্যাপক ড্রপ আউট সমাজের পক্ষে নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। অথচ আর পাঁচটা ব্যর্থতা নিয়ে নির্লিপ্ত থাকার মতোই কেন্দ্রীয় সরকারের মুখে কুলুপ। সরকার বাহাদুর এখন পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের হিসেব নিকেশে ব্যস্ত। গরিবের ঘরে পড়াশোনার আলো জ্বেলে তো আর চব্বিশে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতা দখল নিশ্চিত হবে না। তাই সেই দিকে নজর নেই কারও। বিশদ

15th  May, 2022
একনজরে
২৪ বছর অপেক্ষার পরেও বকেয়া পেনশন না পেয়ে তিনি মারা যান। তাঁর স্ত্রী আরও চারবছর অপেক্ষার পরেও তা না পেয়ে মারা গিয়েছিলেন। ছেলে সঞ্জীব দাশ অগত্যা আসেন হাইকোর্টে। তিনমাসের মধ্যে সেই পাওনা বহরমপুর পুরসভাকে মিটিয়ে দিতে বলেছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। ...

বাংলা প্রবাদ বলে, ‘ভাগের মা গঙ্গা পায় না’। জিটি রোড থেকে বেনারস রোড সংযোগকারী চকপাড়া রোড যেন সেই ‘অভাগা’ মা। দুই পুরসভা, দুই বিধানসভা, এক পঞ্চায়েত এবং এক লোকসভার মধ্যে থেকেও রাস্তাটিতে পিচের প্রলেপ পড়েনি চার বছরেরও বেশি সময়। ...

মাস দু’য়েক আগেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তা ভেস্তে যায়। পুতিনের স্বাস্থ্য ঘিরে জল্পনার মধ্যে এমনই স্বীকারোক্তি ইউক্রেনের এক সামরিক কর্তার। তাঁর দাবি, ইউক্রেনে মস্কোর অভিযান শুরুর কিছুদিন পরই এই চেষ্টা হয়েছিল। ...

অনলাইন নাকি অফলাইন? গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের একাধিক পরীক্ষা কোন পদ্ধতিতে নেওয়া হবে তা চলতি মাসেই ঘোষণা করবে কর্তৃপক্ষ। ছাত্র সংগঠনগুলির তরফে অনলাইন পরীক্ষা নেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদেরও একই দাবি।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

দীর্ঘকাল ধরে চলা সম্পত্তি মামলায় বিজয়। যাচাই না করে সম্পত্তি ক্রয় বা আর্থিক লেনদেনে ক্ষতির ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস
১৮৮৬: বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর জন্ম
১৮৮৯: হেলিকপ্টারের উদ্ভাবক রুশ-মার্কিন বিজ্ঞানী ইগর সিকোরস্কির জন্ম
১৮৯৯: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম
১৯০৬: বিখ্যাত ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজের জন্ম
১৯২৪: শিক্ষাবিদ, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর ভাইস-চ্যান্সেলর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯৪১: ব্রতচারী আন্দোলনের পথিকৃৎ ও সমাজকর্মী গুরুসদয় দত্তের মৃত্যু
১৯৭২: পরিচালক করণ জোহরের জন্ম
২০০৫: অভিনেতা সুনীল দত্তের মৃত্যু
২০০৯: পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আইলা আঘাত করল
২০১৮: শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৬.৭৩ টাকা ৭৮.৪৭ টাকা
পাউন্ড ৯৫.৯৯ টাকা ৯৯.৩৮ টাকা
ইউরো ৮১.৬৪ টাকা ৮৪.৬৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫২,০০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৯,৩৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫০,১০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬১,৯৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬২,০৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯, বুধবার, ২৫ মে ২০২২। দশমী ১৪/০ দিবা ১০/৩৩। উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্র ৪৫/৫৭ রাত্রি ১১/২০। সূর্যোদয় ৪/৫৬/৫৪, সূর্যাস্ত ৬/৯/৫৬। অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৫ গতে ১১/৭ মধ্যে পুনঃ ১/৪৫ গতে ৫/১৬ মধ্যে। রাত্রি ৯/৪৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ১/২১ মধ্যে। বারবেলা ৮/১৫ গতে ৯/৫৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৩৩ গতে ১/১২ মধ্যে। কালরাত্রি ২/১৫ গতে ৩/৩৬ মধ্যে। 
১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯, বুধবার, ২৫ মে ২০২২। দশমী দিবা ১/৩৮। উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্র রাত্রি ২/৬। সূর্যোদয় ৪/৫৭, সূর্যাস্ত ৬/১২। অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৫ গতে ১১/১০ মধ্যে ও ১/৫০ গতে ৫/২৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৫০ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ১/২৪ মধ্যে। কালবেলা ৮/১৫ গতে ৯/৫৫ মধ্যে ও ১১/৩৪ গতে ১/১৪ মধ্যে। কালরাত্রি ২/১৫ গতে ৩/৩৬ মধ্যে। 
২৩ শওয়াল।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আইপিএল: ১৪ রানে জিতল আরসিবি
 

12:23:11 AM

আইপিএল: লখনউ ১৫৩-৩ (১৬ ওভার)
 

11:51:43 PM

আইপিএল: লখনউ ৮৯-২ (১০ ওভার)
 

11:17:05 PM

আইপিএল: লখনউ ৪৫-২ (৫ ওভার)
 

10:48:59 PM

আইপিএল: লখনউকে ২০৮ রানের টার্গেট দিল আরসিবি
 

10:07:23 PM

আইপিএল: আরসিবি ১২৩-৪ (১৫ ওভার)

 

09:37:03 PM