Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মেরুদণ্ড বাঁচাবার লড়াই
হারাধন চৌধুরী 

স্থানীয় বাজারে যে মুদির দোকান থেকে জিনিসপত্র কেনাকাটা করি, সেখানে সারাদিনই ক্রেতাদের উপছে পড়া ভিড়। মালিক ব্যস্ত থাকেন টাকাপয়সা গুনতে। ক্রেতাদের সামলায় তিনটি অল্প বয়সি ছেলে। দুর্গাপুজো, দীপাবলি, ভাইফোঁটা, এমনকী ছটপুজোও মিটে গিয়েছে। এমনই একদিন সকালে যে দৃশ্য দেখা গেল তাতে দোকান মালিক ভবতোষবাবু সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা পাল্টে গেল। ফোন করে একজনকে বলছেন, ‘পল্টুকে আমি কিন্তু ছুটি দিয়ে দিয়েছি। বলেছি, এখনই বাড়ি যেতে। দেখবেন, ও আজ অবশ্যই স্কুলে যায় যেন। উনিশ-কুড়ি মাস বাদে স্কুল খুলছে।’ সেদিন দেখা গেল, ভবতোষবাবুর দোকান কর্মী দু’জন। জানা গেল, ওই মুহূর্তে অনুপস্থিত জনই হল পল্টু। সে ২০২২ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। পল্টুর বাবা একটি ছোট কারখানার শ্রমিক। করোনা পরিস্থিতিতে কারখানাটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পল্টুর বাবা নতুন চাকরি পাননি দেড় বছরেও। টুকটাক ফাইফরমাশ খেটে কিছু উপায় করেন মাত্র। পল্টুর মা এক বাড়িতে রান্নার কাজ করেন। কিন্তু করোনার একটা করে ঢেউ আছড়ে পড়ে আর তাঁর চাকরি কিছুদিনের জন্য নট হয়ে যায়। শহর শান্ত হলে ফের কাজে ডাক পান। পরিবারের যৎসামান্য আয়টুকুও অনিয়মিত, অনিশ্চিত। পল্টুর দিদির কলেজ বন্ধ। সে প্রাইভেট পড়িয়ে তার পড়ার খরচ জোগাড় করে। করোনার ভয়ে ছাত্রের বাড়িতে প্রবেশাধিকার হারিয়েছে এই তরুণী। অতএব পল্টুকে কাজেকর্মে নামতেই হয়েছে। ভবতোষবাবু বললেন, ‘আমার লেখাপড়া হয়নি। সে লম্বা ইতিহাস। যাই হোক, আমি চাই, কাজের পাশাপাশি পল্টু পড়াশোনাটা চালিয়ে যাক। আমার এটুকুতে যদি ওর স্বপ্নের কিছুটা পূরণ হয়, পরিবারটার উপকার হলে ভালো লাগবে।’   
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীন স্কুলগুলি ১৬ নভেম্বর খুলেছিল। পল্টু স্কুলে গিয়েছিল। এরাজ্যে এবং সারা দেশে তার মতো ছেলেমেয়ের সংখ্যা অগুনতি। বলা হল নবম-দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা স্কুলে গিয়েই ক্লাস করবে। কারণ সামনেই তাদের বোর্ড ফাইনাল এগজাম। অফলাইন মোডে বা পুরনো স্বাভাবিক পদ্ধতিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই সরকারি ঘোষণাই বহাল রয়েছে। অতএব টেস্টও নেওয়া হল। টানা দু’বছর স্বাভাবিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। স্কুলশিক্ষায় স্বাভাবিকতা ফেরানোর দাবি ক্রমে জোরদার হচ্ছে। স্কুলশিক্ষায় গতি ফেরাতে সরকারও আন্তরিক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মতো স্কুলগুলি দ্রুত জীবণুমুক্ত এবং মেরামতও করা হয়। কিন্তু, দুর্ভাগ্য, মাঝপথে চলে এসেছে ওমিক্রনের রক্তচক্ষু এবং তৃতীয় ঢেউ। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলেও ফের তালা ঝোলাতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য। বড়দিনের টানা কয়েক দিনের ছুটির পর থেকে এখনও পর্যন্ত খোলা যায়নি। শুধু মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ফর্ম ফিলাপ করা গিয়েছে।
পরিস্থিতি বিচারে ঠিক ছিল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে অনলাইন ক্লাস হবে। কিন্তু তাতেও বাদ সাধল ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে কিছুদিনের সংক্রমণের তীব্রতা। খোদ কলকাতাতেই একের পর এক ক্যাম্পাসে শিক্ষকরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। রেহাই মেলেনি অনেক পড়ুয়ারও। ফলে সেমেস্টার পরীক্ষা এবং সিলেবাসের খামতি পূরণ নিয়েও সমস্যায় পড়ল অধিকাংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একাধিক ছাত্র সংগঠন সমস্ত পরীক্ষা আপাতত স্থগিত রাখার দাবি জানাল। মানবিক আর্জির সামনে দোটানায় কর্তৃপক্ষ। 
করোনার উপর্যুপরি ঢেউ নিয়ে ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা। কিছু পরামর্শ দিয়েছে কলকাতার একটি নামী ম্যানেজমেন্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: মোবাইলে অনলাইন শিক্ষা পড়ুয়াদের কাছে নানাভাবে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে মেশাতে হবে বিনোদনও। পাঠদানের ধরনটাকে ‘এডুটেইনমেন্ট’-এ বদলে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে স্কুল ও ক্লাসঘরের চেহারাও করে তুলতে হবে আকর্ষণীয়। যাতে স্কুলে ফেরার জন্য পড়ুয়ারা মুখিয়ে থাকে। বহু পড়ুয়ার ডেটা রিচার্জের সামর্থ্য নেই। সেক্ষেত্রে সরাসরি দেখা করতে পারলে ভালো, না-হলে শিক্ষকরা সপ্তাহে অন্তত একদিন ফোন করুন পড়ুয়াদের। পড়ুয়ারা স্কুলেরই অংশ—এই বোধটা অক্ষুণ্ণ থাকা জরুরি। কারণ, পড়াশোনা বার বার ব্যাহত হলে ছাত্রছাত্রীরা প্রতিষ্ঠান বিমুখ হতে পারে। রাজ্য স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে আইআইএম কলকাতা সম্প্রতি ১৩০০ স্কুলকে নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে স্কুলছুট রোখার উপর। মনে রাখতে হবে, করোনাকালের এটাই বড় সমস্যা।
আর একটি ন্যায্য চর্চার বিষয় হল, শহরের সম্পন্ন বাড়ির পড়ুয়াদের মতো অনলাইন ক্লাসের পরিকাঠামোগত সুবিধা সবার নেই। শহরের গরিব এবং গ্রামের বেশিরভাগ পরিবার এই বন্ধনীতে আসে। ৯ অক্টোবর প্রকাশিত কেন্দ্রীয় শিক্ষাদপ্তরের রিপোর্টে মেনে নেওয়া হয়েছে: অসম, অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, গুজরাত, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড প্রভৃতি সাত রাজ্যে ৪০-৭০ শতাংশ পরিবারের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস (স্মার্ট, টিভি ইত্যাদি) নেই! অন্যদিকে, অনেক শিক্ষক এবং পড়ুয়া ল্যাপটপ, ট্যাব, এমনকী স্মার্ট ফোনের ব্যবহারে সড়গড় নন। আর যন্ত্রের ‘মেমরি লস’ নিয়েও ভুগছেন অনেকে। সব মিলিয়ে অনলাইন ক্লাসের সীমাবদ্ধতা একটি বড় অংশের কাছে বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছে।
এরাজ্যে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ থেকে স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়। পড়ুয়াদের সুরক্ষার কথা ভেবে। কিন্তু অনলাইনে ক্লাসের কিছু বাস্তবিক সমস্যা থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি খোলার দাবি উঠতে থাকে ক্রমে। সেই সূত্রে পুজোর ছুটি শেষের আগেই মুখ্যমন্ত্রী স্কুল-কলেজ খোলার দিন ঘোষণা করেন। ফলে আবারও স্কুল-কলেজমুখী হয় পড়ুয়ারা। কিন্তু ততদিনে একটা দীর্ঘ অনভ্যাস, অনীহা চলে এসেছে অনেকের মধ্যে। অংশত দেখা দিয়েছে স্কুলছুটের সমস্যা।
ডিম্বেরের শেষদিকে কচিকাঁচাদের স্কুলে ফেরাতে অভিনব কিছু উদ্যোগ দেখা যায় নানা জেলায়। যেমন বীরভূমে শুরু হয় ‘দুয়ারে শিশু ভর্তি’ কর্মসূচি। শিশুদের স্কুলে ফেরানোর আর্জি নিয়ে বাড়ি বাড়ি গেলেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের কর্তা ও শিক্ষকরা। বিতরণ করা হল মাস্ক, স্যানিটাইজার এবং মিষ্টি। অভিভাবকরা বলেন, ‘বাচ্চাদের পড়াশোনায় দীর্ঘ ছেদ পড়েছিল। পড়া তো ভুলেই যাচ্ছে। স্কুলে গিয়ে বাচ্চাদের ভর্তি করাতে হতো। এবার দুয়ারে শিক্ষকদের পেয়ে সুবিধা হল।’
মাধ্যমিকের টেস্ট শুরু হওয়ার পরেও অনেকে স্কুলে যায়নি। পড়ুয়াদের ফেরাতে সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়ি-বাড়ি গিয়েছিলেন আউশগ্রামের কিছু শিক্ষক। আউশগ্রামের দেখানো পথে হেঁটে পূর্ব বর্ধমানের আরও অনেক শিক্ষক পৌঁছে গিয়েছেন পডুয়াদের বাড়ি। এভাবে অনেক পড়ুয়া স্কুলে ফিরেছে এবং পরীক্ষা দিয়েছে। এমনকী, যেসব ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গিয়েছে, শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে এনেও পরীক্ষায় বসানো হয়েছে তাদের।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝির ঘটনা। গ্রামের প্রাথমিক পড়ুয়াদের কাছে হাজির হল ‘খেলতে খেলতে লেখাপড়া, পড়তে পড়তে খেলা’ নামক এক ‘সব পেয়েছির আসর’। সৌজন্যে, বাঁকুড়ার রাধানগর বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে ফেলেন। পাঠ্যবইয়ের বিষয়গুলির অনুসরণে তৈরি হল ভিডিও। চন্দ্রগ্রহণ, সূর্যগ্রহণ থেকে লসাগু, গসাগু অনেক কিছু শেখালেন তাঁরা হাতেকলমে, মজার ছলে।
‘কেভ সিনড্রোম’ থেকে পড়ুয়াদের মুক্তি কীভাবে? তা নিয়ে আলোচনার আয়োজন করল বারাসতের একটি স্কুল। মূলত অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের অভিভাবকদের নিয়ে। এতে তাঁরা খুশি। পড়ুয়ারা অনেক দিন স্কুলে আসতে পারেনি। ফলে শিক্ষকদের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়ে গিয়েছে। পড়ুয়া, অভিভাবক, শিক্ষক দূরত্ব ঘোচাতেই এই আয়োজন। এই বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাকাউটও।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মূল্যায়নে প্রাথমিক শিক্ষায় বড় রাজ্যগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সেরার শিরোপা পেয়েছে। এই সাফল্য ধরে রাখতে এখন থেকেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে আবার স্কুল খোলার উপরে।
শিক্ষাক্ষেত্রে করোনার প্রভাবের উপর নজর রাখছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক। স্কুল খোলার কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধির কোনও তথ্য-প্রমাণ তারা পায়নি। ভারতে পড়ুয়াদের (১৫-১৮ বছর) টিকাকরণ সপ্তাহ দুই আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে। তাতে মিলেছে উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া। ১২-১৫ বর্ষীয়দের টিকাকরণ মার্চের গোড়ায় শুরু হতে চলেছে। যদিও টিকাকরণের আগে স্কুল না-খোলার পক্ষে কোনও যুক্তি খুঁজে পায়নি বিশ্ব ব্যাঙ্ক। তাদের বক্তব্য, স্কুল বন্ধের ফলে যে ক্ষতিটা পড়ুয়াদের হচ্ছে তা করোনায় শারীরিক ক্ষতির অধিক। ভারতের পড়ুয়াদের লার্নিং পভার্টি ৫৫ থেকে বেড়ে ৭০ শতাংশ হওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক। এর সার্বিক প্রভাব পড়বে আয় বা বৃদ্ধির উপর। অর্থাঙ্কে এই ক্ষতির পরিমাণ কত? বিশ্ব ব্যাঙ্কের ২০২০ সালের হিসেবে ছিল ৪০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার! ২০২২ সালে ক্রমপুঞ্জিত ক্ষতির পরিমাণ কত দাঁড়াবে? এটাই পণ্ডিতদের মাথাব্যথার কারণ হতে চলেছে নিঃসন্দেহে।    
তৃতীয় ঢেউ দুর্বল হচ্ছে। ওমিক্রনের মারণ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। অর্থনীতি ধুঁকছে। তির গতি নিয়েছে দারিদ্র। আর যেসব ক্ষতির পরিমাপ টাকার অঙ্কে অসম্ভব, সেটাই হয়তো সবচেয়ে বড়। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এই পরিস্থিতিতে, সবচেয়ে বেশি দরকার বোধহয় সাহস, ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি। করোনাকে যম ভাবা বন্ধ করে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চোখে চোখ রেখে লড়াইটা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। তাতে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও শামিল করা বুদ্ধিমানের কাজ নয় কি? সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে সারা বাংলা সেভ এডুকেশন কমিটি। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পক্ষে তারা। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকে। শিক্ষা যদি মেরুদণ্ড হয়ে থাকে, তবে আমাদের আজকের সমস্যা ও লড়াইটা মেরুদণ্ড বাঁচাবার।  
দু’দিন আগে রাতে একটি ক্যাবে বাড়ি ফিরছিলাম। চালকের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের কোডারমা। বিশ বছর যাবৎ কলকাতার বাসিন্দা তিনি। বললেন, ‘দেশে সুন্দর চাষ হয়। সারা বছরের খাবার কিনতে হয় না।’ তাহলে কলকাতায় কীসের টানে? —‘ভেবেছিলাম একমাত্র মেয়েকে কলকাতার কলেজ থেকে বিএ/এমএ পাশ করাব।’ তারপর থেমে বলেন, ‘ইদানীং আয়পত্তর প্রায় নেই। তেলের দামই ওঠে না কোনও কোনও দিন। ভাবছি দেশেই ফিরে যাব।’ তাহলে মেয়ের পড়ার কী হবে? জবাবে ক্যাব চালক একটি মোক্ষম প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে চুপ করে গেলেন—‘ক্লাসই তো হচ্ছে না। ঘরে বসে পড়ার পর যে সার্টিফিকেট মিলবে, তা দিয়ে কোন চাকরি হবে?’  
19th  January, 2022
মতাদর্শ শিকেয় তুলে রেখেছেন মোদি-শাহ
মৃণালকান্তি দাস

দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন লালকৃষ্ণ আদবানি। আর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আমেদাবাদ পূর্ব লোকসভা আসনে সাত-সাতবার ভোটে জেতা সাংসদ, আদবানি ঘনিষ্ঠ হারিন পাঠক।
বিশদ

চাকরির আকাল ঘোচাবে
মমতার সাইকেল শিল্প
হারাধন চৌধুরী

আমরা আশা রাখব, খড়্গপুরের প্রস্তাবিত সাইকেল পার্ক বাংলার সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারেরই এক সোনালি অধ্যায় হয়ে উঠবে। রাজ্যের বিপুল চাহিদাকে পাথেয় করে সাইকেল কারখানার সংখ্যাও বাড়বে ধীরে ধীরে। সাইকেল শিল্পের পথ ধরেই গড়ে উঠবে যন্ত্রাংশ ও টায়ার শিল্প। জোয়ার আসবে বাংলার চাকরির বাজারে।
বিশদ

25th  May, 2022
চাকরির ভরসা... দায় সরকারের
শান্তনু দত্তগুপ্ত

নরেন্দ্র মোদি সরকারও আট বছরের ‘সাফল্য কাহিনি’ প্রচারের জন্য কোমর বাঁধছে। দেশজুড়ে বোঝাতে হবে, এটাই আচ্ছে দিন। আগে কিছুই ছিল না। যা করেছে, মোদি সরকার। সেই ঢক্কানিনাদে চাপা পড়ে যাবে চাকরির দাবিতে আন্দোলনরত ছেলেমেয়েদের কণ্ঠ। কেউ পাগল হয়ে যাবে, কেউ মানবতার আদর্শ হারিয়ে মরিয়া চেষ্টা চালাবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর।
বিশদ

24th  May, 2022
চাই নয়া নীতি, সাহস, স্বচ্ছতা ও গতি
পি চিদম্বরম

যেসব পরিশ্রমী পরিবার ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করার জন্য তাদের যথাসর্বস্ব ব্যয় করে দেখছে চাকরিই নেই—মোদি সরকার তাদের হতাশ করেছে। হিন্দুত্বের আবেগে ভাসিয়ে দিয়ে মোদি সরকার হয়তো সাময়িকভাবে পিঠ বাঁচাতে পারবে, কিন্তু  তরুণরা অচিরেই বুঝতে পারবেন যে হিন্দুত্ব (এবং একটি মেরুকৃত ও বিভক্ত সমাজ) কাউকে চাকরি দেবে না—তিনি নারী/পুরুষ, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, অন্যকোনও ধর্মবিশ্বাসী কিংবা নাস্তিক যেটাই হোন না কেন। বিশদ

23rd  May, 2022
ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার
ট্র্যাডিশন সমানে চলছে ...
হিমাংশু সিংহ

সব ফেলে একটা মসজিদ নিয়ে দেশ উত্তাল কেন? এতে কি রান্নার গ্যাসের দাম কমবে, না বাড়ির বেকার ছেলেটা চাকরি পাবে! না, কিছুই হবে না। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ টানার কোনও চেষ্টাই সফল হবে না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েই টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসতে ধর্মের এই আফিম বিতরণের পথে এগচ্ছেন মোদি সরকারের বাজনদাররা।
বিশদ

22nd  May, 2022
অনলাইন পরীক্ষায় ফিরতে
পারে নকশাল আমলের লজ্জা
তন্ময় মল্লিক

‘ভারতরত্ন’ এপিজে আব্দুল কালামের কথায়, ‘ফেল (FAIL) মানে ফার্স্ট অ্যাটেম্পট ইন লার্নিং। অর্থাৎ শেখার প্রথম ধাপ। বিফলতাই সফল হওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দেবে।’ অনলাইনে বই দেখে লিখে পাশ করলে সেই রাস্তাটা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই অনলাইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দায়িত্ব শুধু শিক্ষক, অধ্যাপকদের ঘাড়ে চাপালেই চলবে না, সন্তানদের অন্যায় আবদারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে অভিভাবকদেরও। বিশদ

21st  May, 2022
উচ্চশিক্ষা কি গরিবের
হাতের বাইরে যাচ্ছে?
সমৃদ্ধ দত্ত

পুরসভা পরিচালিত স্কুলগুলি একে একে বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রছাত্রী পাওয়া যায় না। কলকাতা অথবা জেলার ব্র্যান্ডেড নামজাদা সরকারি অথবা স্পনসর্ড স্কুল বাদ দিলে বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলির চিত্রটি খুব উজ্জ্বল নয়।
বিশদ

20th  May, 2022
তাজমহলের নিয়তি!
মৃণালকান্তি দাস

রামমন্দির আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের থেকেও বড়! বলেছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন। তাঁর দাবি, এই পথেই রামরাজ্যের দিকে দেশ যাত্রা শুরু করেছে।
বিশদ

19th  May, 2022
বিদ্বেষের এই পাশাখেলা...
সন্দীপন বিশ্বাস

মিথ্যা প্রচার কিংবা বিদ্বেষ যে কোনও সরকারের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে, মোদি অ্যান্ড কোম্পানিকে না দেখলে বিশ্বাসই করা যেত না। সরকার এই দু’টো ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রতিদিন ভারতের গণতন্ত্রকে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে।
বিশদ

18th  May, 2022
কানে ‘কান্ট্রি অব অনার’-এর মর্যাদা পেল ভারত
অনুরাগ সিং ঠাকুর

ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার নিস্তব্ধ উপকূলে এখন কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৫ তম সংস্করণ আয়োজনের ব্যস্ততা। এবছর ‘মার্শে ডু ফিল্মস’-এর উদ্বোধনী সন্ধ্যার মূল ভাবনার দেশ হিসেবে ভারত বিশ্বের দর্শকদের সামনে দেশীয় চলচ্চিত্রের উৎকর্ষ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং গল্প বলার অসামান্য ঐতিহ্য তুলে ধরতে চায়।
বিশদ

18th  May, 2022
কামরাজ প্ল্যানেই বাজিমাতের লক্ষ্যে মোদি?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন কিছুতেই বিরোধী শক্তির সামনের সারিতে আসতে না পারেন—এটাই লক্ষ্য বিজেপির। বরং এলেবেলের স্তরে পৌঁছে যাওয়া কংগ্রেস যত খুশি গুরুত্ব পাক, ক্ষতি নেই। কিছুতেই যেন জোটের জমি শক্ত না হয়। তাহলেই মানুষ বিকল্প না খুঁজে মোদিজিতে ফের আস্থা রাখবেন। চব্বিশেও পদ্ম ফুটবে সংসদে। বিশদ

17th  May, 2022
ভালো, খারাপ ও সন্দেহজনক
পি চিদম্বরম

যদি মহিলাদের একটি বড় অংশ রক্তাল্পতায় ভোগেন এবং শিশুদের মধ্যে একটি বিরাট অংশ কম ওজনের কিংবা রক্তাল্পতার শিকার হয়, পাশাপাশি অনেক শিশু স্টান্টেড অথবা ওয়েস্টেড হয়, তবে তার কারণ পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব। আমার মনে হয় যে খাদ্যের অভাব হল, দারিদ্র্যের একটি নির্ধারক সূচক। একজন খুদে ভগবানের সন্তান হিসেবে ওই গরিব মানুষগুলিকে এই সরকার ভুলিয়ে দিতে চাইছে। বিশদ

16th  May, 2022
একনজরে
ভোরের আলো ফোটার আগেই ঝুড়ি, গাঁইতি নিয়ে কয়লা কাটতে যাওয়াই নিয়তি হয়ে গিয়েছিল ঩শিল্পাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের। অবৈধভাবে কয়লা কেটে রোজগার ভালো থাকলেও যে কোনও সময় ...

কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিক। দিল্লির বিশেষ এনআইএ আদালতে তখন তাঁর সাজা ঘোষণা চলছে। আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা বলয়ে কোর্ট চত্বর। ঠিক একই সময়ে শ্রীনগরের প্রাণকেন্দ্র লালচক থেকে কিছু দূরে মইসুমায় ইয়াসিনের বাড়ির সামনেও মোতায়েন বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনী। ...

শুরুতে কেউই গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বে আইপিএলে আবির্ভাবেই চমকে দিয়েছে গুজরাত টাইটান্স। স্বপ্নপূরণের থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে তারা। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে ইডেনে শেষ ওভারে নাটকীয় জয়ে পৌঁছে গিয়েছে ফাইনালে। নিজেদের শহর আমেদাবাদেই খেতাবি লড়াইয়ে নামবেন ...

৫৫তম নকশালবাড়ি দিবস উপলক্ষে জঙ্গলমহলে সতর্কতা জারি করল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি)। মঙ্গলবার জারি করা ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিককালে জঙ্গলমহলে হিংসাত্মক ঘটনার নজির নেই। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

স্ত্রীর সূত্রে বিত্তলাভ যোগ আছে। ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতেও মনোমতো ফলের অভাব। মনে অস্থিরতা থাকবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১২৯৩: জাপানে বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় ৩০ হাজার মানুষের
১৮৯৭: ব্রাম স্টোকারের উপন্যাস ড্রাকুলা প্রকাশিত হয়
১৯৪৫: মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিলাসরাও দেশমুখের জন্ম
১৯৪৯: মার্কিন কম্পিউটার প্রোগামিং বিশেষজ্ঞ ওয়ার্ড কানিংহামের জন্ম, তিনিই উইকিপিডিয়ার প্রথম সংস্করণ বের করেছিলেন
১৯৭৭: ইতালির ফুটবলার লুকা তোনির জন্ম



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৬.৭০ টাকা ৭৮.৪৪ টাকা
পাউন্ড ৯৫.৪৯ টাকা ৯৮.৮৭ টাকা
ইউরো ৮১.৫৭ টাকা ৮৪.৬০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫১,৮৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৯,২০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৯,৯৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬২,০৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬২,১৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২। একাদশী ১৪/৫৫ দিবা ১০/৫৫। রেবতী নক্ষত্র ৪৯/১৫ রাত্রি ১২/৩৯। সূর্যোদয় ৪/৫৬/৪০, সূর্যাস্ত ৬/১০/২৬। অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫৩ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ২/৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৩০ গতে উদয়াবধি। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৫/৪৯ মধ্যে পুনঃ ৯/২১ গতে ১১/৭ মধ্যে। বারবেলা ২/৫১ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৩৩ গতে ১২/৫৪ মধ্যে।
১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২। একাদশী দিবা ১/৫। রেবতী নক্ষত্র রাত্রি ২/৩২। সূর্যোদয় ৪/৫৭, সূর্যাস্ত ৬/১২। অমৃতযোগ দিবা ৩/৪০ গতে ৬/১২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২ গতে ৯/১০ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৬ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৫/৪৮ মধ্যে ও ৯/২২ গতে ১১/১০ মধ্যে। কালবেলা ২/৫৩ গতে ৬/১২ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৩৪ গতে ১২/৫৫ মধ্যে। 
২৪ শওয়াল।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আইপিএল: ১৪ রানে জিতল আরসিবি
 

25-05-2022 - 12:23:11 AM

আইপিএল: লখনউ ১৫৩-৩ (১৬ ওভার)
 

25-05-2022 - 11:51:43 PM

আইপিএল: লখনউ ৮৯-২ (১০ ওভার)
 

25-05-2022 - 11:17:05 PM

আইপিএল: লখনউ ৪৫-২ (৫ ওভার)
 

25-05-2022 - 10:48:59 PM

আইপিএল: লখনউকে ২০৮ রানের টার্গেট দিল আরসিবি
 

25-05-2022 - 10:07:23 PM

আইপিএল: আরসিবি ১২৩-৪ (১৫ ওভার)

 

25-05-2022 - 09:37:03 PM