Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

উত্তরপ্রদেশ মোদির
ওয়াটারলু হবে না তো!
হিমাংশু সিংহ

গত এপ্রিলে যখন কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে মিরাট থেকে শাহাজাহানপুর, অযোধ্যা থেকে বারাণসী, তখন এক যুবক ক্রমাগত ছুটছেন উত্তরপ্রদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। দলিত আর পিছড়ে বর্গের মানুষের ঘরে ঘরে। কোনওকিছুতেই যেন ভ্রুক্ষেপ নেই তাঁর। বয়স ৪৮। প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন দশ বছর আগে। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে। ২০১২ সালে। এক দশক পর আবার কি সেই সমাপতনের মুখে দাঁড়িয়ে জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে নির্ণায়ক রাজ্য। বাবা যাদব কুলপতি মুলায়ম সিংয়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করুক। তাই ভর্তিও হয়েছিলেন মহীশূরের এক বেসরকারি কলেজে। কিন্তু পেশাদার রাজনীতি যাঁর গন্তব্য তিনি যন্ত্র লোহালক্কড় প্রযুক্তি বিজ্ঞানের সাতকাহন নিয়ে কী করবেন! তাঁর মন যে পড়ে জটিল জাতপাতের অঙ্ক কষায়, ওই যাকে বলে স্যোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। ক্ষমতা হারানো ইস্তক তাই সেই হারানো দলিত, যাদব-অযাদব, ব্রাহ্মণদের সমর্থন ফিরে পেতে নিরন্তর প্রয়াস চালাচ্ছেন তিনি, অখিলেশ যাদব। সঙ্গে দখলের চেষ্টা করছেন মায়াবতী-কাঁসিরামের অবহেলিত ভোটব্যাঙ্কটাকেও। ওই অঙ্কেই ১৪ এপ্রিল সংবিধান প্রণেতা ভীমরাও আম্বেদকরের জন্মদিন পালন করছেন ‘দলিত দেওয়ালি’ হিসেবে। আম্বেদকর জয়ন্তীর নতুন নাম দিয়েছেন তাঁদের মনের আরও কাছাকাছি হতে। গড়ে তুলছেন বাবা সাহেব বাহিনী। প্রত্যেক মাসের ৩০ তারিখ পালিত হচ্ছে  ‘হাতরাস কি বেটি স্মৃতি দিবস’। রাজ্যের প্রতিটি জেলায়। রাজপুত সমাজের বিরুদ্ধে জমে থাকা প্রান্তিক মানুষের অসন্তোষকে এভাবেই টেনে বের করে আনছেন তিনি। চরকি পাকের মতো ঘুরছেন। একই মঞ্চে ডেকে নিচ্ছেন কাঁসিরামের বোন স্বর্ণ কাউর আর আম্বেদকরের দুই নাতি প্রকাশ ও যশবন্ত রাওকে। নীরবে দলিত মন জয়ের সলতে পাকানোর এই কাজ চলছে গত এক দেড়বছর ধরে। যখন মোদি ও তাঁর বশংবদ অনুগামীরা বাংলার আপন সংস্কৃতিকে ছত্রখান করার নেশায় মত্ত তখন থেকেই। ধীরে ধীরে। আজ ভোটের আগে ফল ফলতে শুরু করেছে। পদ্ম ছেড়ে দলিতরা দলে দলে সাইকেলে সওয়ার! বাংলায় প্রায় নিশ্চিহ্ন গেরুয়া মর্যাদা এবার কি ধরাশায়ী হবে হিন্দি বলয়েও? রিপ্লে কিন্তু চলছে!
উত্তরপ্রদেশ জুড়ে আজ একটাই প্রতিধ্বনি, চুপচাপ অখিলেশের সাইকেলে ছাপ। দলিত ও ওবিসি, যাদব-অযাদব ভোটারদের মধ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে এই একটাই ‘মন্ত্র’। হ্যাঁ মন্ত্রই বটে। গত পাঁচ বছর জুড়ে এক রাজপুত মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর অনুগামীদের একাধিপত্য ও অনাচারের ভাঙতে মুসলিম, যাদব-অযাদব, দলিত, ব্রাহ্মণ সবাই দ্রুত সঙ্ঘবদ্ধ হচ্ছে। যোগী ক্ষমতায় আসার পর থেকে একে একে উন্নাও, হাতরাস থেকে শুরু করে লখিমপুর খেরি, বারবার রাজ্যের প্রান্তিক মানুষই আক্রান্ত হয়েছেন। জোটেনি সুবিচার। সেই থেকেই সবার মনে যে চোট পৌঁছেছে, তা ভোটের যন্ত্রে যোগী সরকারকে গদিচ্যুত করতে প্রায় টর্নেডোর আকার নিচ্ছে। সেই অভিঘাতে ভেসে যাচ্ছে ঝাঁ চকচকে জ্যাকেট আর রংবাহারি দশ লাখি পোশাকে প্রধানমন্ত্রীর হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের ফিরিস্তি। কোথাও রাস্তা তো কোথাও মন্দির সংস্কারের সদর্প ঘোষণা। এখনও সব প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়নি, তবু বিপদ বুঝে সব ফেলে গোরক্ষপুরের মঠে রাত কাটাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ। ছুটছেন দলিতের ঘরে খিচুড়ি খেতে। এও তো বাংলার পর্ণকুটিরে অমিত শাহের পঞ্চব্যঞ্জন ভোজনেরই ব্যর্থ পুনরাবৃত্তি ছাড়া আর কিছু নয়। 
শোনা যাচ্ছে, শুধু মায়াবতীর দলিত আর ওবিসি ভোটই নয়, বিভিন্ন মঠ মন্দিরের প্রধানরা পর্যন্ত সরকারটার উপর হঠাৎ ক্ষিপ্ত। মায় ব্রাহ্মণরাও। শাসক দলের মাটি ক্রমেই আলগা হচ্ছে বুঝে প্রকাশ্যে তাঁরা সেই অসন্তোষ জানাতেও শুরু করেছেন। বিপদটা এখানেই। শক্তিশালী সবলের বিরুদ্ধে সচরাচর লোকে মুখ খোলে না। কিন্তু যেই জনগণ বুঝে যায় সর্বশক্তিমানের পায়ের তলার মাটি সরছে, অমনি বেরিয়ে আসে ভিতরের চাপা ক্ষোভ আর অসন্তোষ। আঁধি হয়ে সেই ঝড় ওলটপালট করে দেয় সবকিছু। রাজনীতির পরতে পরতে তারই উদাহরণ ছড়িয়ে। উত্তরপ্রদেশেও এক দেড় বছর আগেও যে লড়াইটাকে একপেশে সহজ মনে হচ্ছিল, সেই অঙ্কটাই ক্রমে যেন কঠিন হয়ে যাচ্ছে শাসকের ক্রমাগত দল ভাঙা আর আচমকা দলিত বিদ্বেষের জোড়া ফলায়। মাত্র তিনদিনে তিন মন্ত্রী সহ আটজন বিধায়ক দল ছেড়েছেন। এখানেই শেষ নয়। তালিকাটা দীর্ঘ এবং এই ভাঙন চলতেই থাকবে, এমনই বলছেন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়া নেতারা। সদ্য মন্ত্রিসভা ছাড়া ধরম সিং সাইনি তো বলেই দিয়েছেন, গত দেড় বছর ধরেই সম্পর্কটা  ঠিক ‘সাপে নেউলের’ হয়ে গিয়েছিল। সেই থেকে শুধু সময় খুঁজছিলেন ভোট ঘোষণার। চলতি মাস জুড়েই নাকি এমনটা চলবে। 
বিজেপির বিপদ কিন্তু শুধু দলিত আর ওবিসি ভোট হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সুকৌশলে অখিলেশ তুলে এনেছেন প্রায় বিস্মৃত মণ্ডল রাজনীতিকেও। যোগী-মোদির হিন্দুত্বের তাসের বিরুদ্ধে হঠাৎ সামনে আসা প্রয়াত বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংয়ের মণ্ডল রাজনীতির ভূতও ভয় দেখাচ্ছে গেরুয়া শক্তিকে। তার মানে ভয় এবং ভক্তি দুটোই আর বিশেষ অবশিষ্ট নেই যোগী সরকারের উপর। আরও পরিষ্কার করে বললে নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিত্বের উপর। আট ন’মাস আগে বাংলার মানুষ করে দেখিয়েছে। এবার ভারতীয় রাজনীতির নির্ণায়ক অন্যতম বৃহৎ প্রদেশের পালা। সাত দফার ভোট শুরুর ২৪ দিন আগে এই লেখা যখন লিখছি তখন লখনউতে নিজের সরকারের মধ্যেকার অপ্রত্যাশিত বিদ্রোহের জেরে মোদি-যোগী সহ তামাম গেরুয়া শিবির দিশাহারা। কিন্তু এই দলিত বিদ্রোহ একদিনে হয়নি। এবং এমনটা যে অচিরেই ঘটতে চলেছে সেই খবরও লখনউ থেকে দিল্লিতে বিজেপির সাততারা সদর দপ্তরের অন্দরে খুব একটা অজানা ছিল না। 
ভারতবর্ষে ভোট শুধুই কাজের মাপকাঠিতে হয় না, জাতপাতের জটিল সামাজিক কলাকৈবল্যে হয়, তা চিরদিনই ঘোর বিতর্কের বিষয়। কোনও ছোট্ট পরিসরে সেই তর্কের মীমাংসা অসম্ভব। উত্তরপ্রদেশের ভোটে বিচিত্র এই জাতপাতের অঙ্কটা চিরদিনই খুব গোলমেলে। সর্বশেষ জনগণনা অনুযায়ী, ডবল ইঞ্জিন যোগীর রাজ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাঙ্ক হচ্ছে দলিত ও ওবিসিরা। সেখানে দলিত রয়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। আর ওবিসিরা সংখ্যায় মোট জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ। মুসলিম জনসংখ্যা ২০ শতাংশ। এতদিন দলিত ভোটের সিংহভাগ থাকত মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু মোদি জমানায় দলিত ও ওবিসি ভোটের দখল অনেকটাই বিজেপির হাতে যাওয়ার দরুন ২০১৭ সালের বিধানসভা ভোটে রাজ্যের ৪০৩টি আসনের মধ্যে ৩২৫টি দখল করে তাক লাগিয়ে দেয় গেরুয়া শক্তি।  কিন্তু এবার সেই অঙ্কের পরিবর্তন হচ্ছে। একদা কাঁসিরাম মায়াবতীর একচ্ছত্র অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের আস্থা জমা হচ্ছে অখিলেশের প্রতি। সঙ্গে যে ওবিসি ও যাদব ভোট মোদি জমানায় গেরুয়ামুখী হয়েছিল তাও এবার পথ বদলে সাইকেলে সওয়ার। এই জটিল জাতপাতের রসায়ন চিরদিনই উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিকে ভারতের ভোট মানচিত্রে অনন্য স্থান দিয়েছে। এবারও আগামী ১০ মার্চ যখন পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী ফল বেরবে, তখন সেই ভোট রসায়নের অদ্ভুত গতিপ্রকৃতির দিকেই নজর থাকবে সবার। 
সেদিন সবিস্তারে লিখতে হবে মুলায়ম পুত্রের দলিত ও ওবিসি ভোট জয়ের বিশদ বিবরণ। সঙ্গে যাদব ও অযাদবদের আস্থা ফিরে পাওয়ার রসায়ন। যেমন বাংলায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে নেতা কিনেও ভোটারের মনের তল খুঁজে পাননি অমিত শাহরা, তেমনি একই জিনিস ঘটছে লখনউ, মিরাট, গোরক্ষপুর থেকে শুরু করে মোদির যত্নের বারাণসীতেও। ঘটা করে এক্সপ্রেসওয়ে’র উদ্বোধন কিংবা নবরূপে কাশীর পবিত্র মন্দিরে প্রবেশের পথের আমূল সংস্কার সত্ত্বেও আচমকা এমনটা যে ঘটবে তা কে জানত। উচ্চবর্ণের জনসমর্থনও যে খুব একটা ভালো জায়গায় নেই সেই খবরও দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছে গিয়েছে। ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টাও চলছে জোরকদমে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে কেউ বলতে পারে না। বাকি মাত্র তিন সপ্তাহের কিছু বেশি। তারপরই উত্তরপ্রদেশের সাত দফার নির্বাচন পর্ব শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ২০১৪, ২০১৭ এবং অবশ্যই ২০১৯ সালের মোদি ম্যাজিক কি সব মুছে ফেলে আবার ভেল্কি দেখাতে পারবে? সম্ভাবনাটা কিন্তু ফিকে হচ্ছে ক্রমশ। 
কোনও অস্ত্রই, বছরের পর বছর ধার ও ভার বজায় রেখে মুশকিল আসান করতে পারে না। নরেন্দ্র মোদিরও সেই দশা হতে চলেছে। একজন প্রধানমন্ত্রী সব কাজ ভুলে সপ্তাহে পাঁচদিন গিয়ে পড়ে রয়েছেন এক অঙ্গরাজ্যের ভোট জিততে। বিজ্ঞাপনটা মোটেই সুখদায়ক নয়। তারপরও ৭২ ঘণ্টায় তিন মন্ত্রী সহ আটজন বিধায়ক শাসক দলের ছত্রছায়া ছেড়ে সাইকেলে সওয়ার। এর থেকে শিক্ষাটা কী? পশ্চিমবঙ্গে মোদি অমিত শাহের অনৈতিক কর্মকাণ্ডেরই কি জবাব মিলছে সুদূর লখনউয়ের ভুলভুলাইয়ার অন্দরে।
১৮ জুন, ১৮১৫ তারিখটা আমাদের সবার জানা। আজ থেকে দু’শো বছর আগে ওয়াটারলুর যুদ্ধে নেপোলিয়ন পরাজিত হয়েছিলেন। আগামী ১০ মার্চ উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফল ঘোষণা। লখনউয়ে যোগীরাজ খতম হলে নরেন্দ্র মোদির দিল্লির তখতও যে নড়বড়ে হয়ে যাবে তা বলাই বাহুল্য। উত্তরপ্রদেশের গাঁ থেকে শহরে ঝড় তুলে দিয়েছেন মুলায়ম পুত্র। গোরক্ষপুর থেকে হিন্দুত্বের পোস্টার বয়কে দাঁড় করিয়ে আর নরেন্দ্র মোদি বারাণসীতে ঘাঁটি গেড়ে কি বাঁধের ভাঙন রুখে দিতে পারবেন? অযোধ্যার মন্দির কি বাঁচাতে পারবে গেরুয়া শাসনকে? একবার অখিলেশ সফল হলে দেশের প্রতিটি রাজ্যে মোদি বিরোধী জোটও রাতারাতি সঙ্ঘবদ্ধ হবে। মুষলপর্ব ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছবে বিজেপির অন্দরেও। যাঁদের চুপ করিয়ে গুজরাত থেকে নেতা ও অফিসার আমদানি করে এতদিন রাজ্যপাট সামলেছেন প্রধানমন্ত্রী, তাঁরাও কি ছেড়ে দেবেন? শোনা যায়, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও নাকি একটা ঠান্ডা দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করেছে তাঁর। বনিবনা বিশেষ হচ্ছে না। তাই অপেক্ষা এখন শুধু ১০ মার্চের ফলের। উত্তরপ্রদেশে যোগীরাজ পুনরায় প্রতিষ্ঠা না হলে তখনই বোঝা যাবে বুকের ছাতিটা আসলে ৫৬ না ১৭ ইঞ্চির। ২০২২ সালে নতুন ভারতের আত্মপ্রকাশ হবে, কথা দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু কোনও প্রতিশ্রুতিই তিনি রাখেননি। দ্বিগুণ হয়নি কৃষকের আয়ও। কিন্তু লখনউয়ে অখিলেশ সরকার ক্ষমতায় এলে নিশ্চিতভাবে সম্পূর্ণ হবে ক্ষমতার বৃত্তটা। গেরুয়ামুক্ত উত্তরপ্রদেশ! সেই সঙ্গে দৌড় চব্বিশের মহাযুদ্ধের। সেই নতুন জাগ্রত ভারতের জন্যই অপেক্ষা আপাতত।
16th  January, 2022
মতাদর্শ শিকেয় তুলে রেখেছেন মোদি-শাহ
মৃণালকান্তি দাস

দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন লালকৃষ্ণ আদবানি। আর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আমেদাবাদ পূর্ব লোকসভা আসনে সাত-সাতবার ভোটে জেতা সাংসদ, আদবানি ঘনিষ্ঠ হারিন পাঠক।
বিশদ

চাকরির আকাল ঘোচাবে
মমতার সাইকেল শিল্প
হারাধন চৌধুরী

আমরা আশা রাখব, খড়্গপুরের প্রস্তাবিত সাইকেল পার্ক বাংলার সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারেরই এক সোনালি অধ্যায় হয়ে উঠবে। রাজ্যের বিপুল চাহিদাকে পাথেয় করে সাইকেল কারখানার সংখ্যাও বাড়বে ধীরে ধীরে। সাইকেল শিল্পের পথ ধরেই গড়ে উঠবে যন্ত্রাংশ ও টায়ার শিল্প। জোয়ার আসবে বাংলার চাকরির বাজারে।
বিশদ

25th  May, 2022
চাকরির ভরসা... দায় সরকারের
শান্তনু দত্তগুপ্ত

নরেন্দ্র মোদি সরকারও আট বছরের ‘সাফল্য কাহিনি’ প্রচারের জন্য কোমর বাঁধছে। দেশজুড়ে বোঝাতে হবে, এটাই আচ্ছে দিন। আগে কিছুই ছিল না। যা করেছে, মোদি সরকার। সেই ঢক্কানিনাদে চাপা পড়ে যাবে চাকরির দাবিতে আন্দোলনরত ছেলেমেয়েদের কণ্ঠ। কেউ পাগল হয়ে যাবে, কেউ মানবতার আদর্শ হারিয়ে মরিয়া চেষ্টা চালাবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর।
বিশদ

24th  May, 2022
চাই নয়া নীতি, সাহস, স্বচ্ছতা ও গতি
পি চিদম্বরম

যেসব পরিশ্রমী পরিবার ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করার জন্য তাদের যথাসর্বস্ব ব্যয় করে দেখছে চাকরিই নেই—মোদি সরকার তাদের হতাশ করেছে। হিন্দুত্বের আবেগে ভাসিয়ে দিয়ে মোদি সরকার হয়তো সাময়িকভাবে পিঠ বাঁচাতে পারবে, কিন্তু  তরুণরা অচিরেই বুঝতে পারবেন যে হিন্দুত্ব (এবং একটি মেরুকৃত ও বিভক্ত সমাজ) কাউকে চাকরি দেবে না—তিনি নারী/পুরুষ, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, অন্যকোনও ধর্মবিশ্বাসী কিংবা নাস্তিক যেটাই হোন না কেন। বিশদ

23rd  May, 2022
ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার
ট্র্যাডিশন সমানে চলছে ...
হিমাংশু সিংহ

সব ফেলে একটা মসজিদ নিয়ে দেশ উত্তাল কেন? এতে কি রান্নার গ্যাসের দাম কমবে, না বাড়ির বেকার ছেলেটা চাকরি পাবে! না, কিছুই হবে না। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ টানার কোনও চেষ্টাই সফল হবে না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েই টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসতে ধর্মের এই আফিম বিতরণের পথে এগচ্ছেন মোদি সরকারের বাজনদাররা।
বিশদ

22nd  May, 2022
অনলাইন পরীক্ষায় ফিরতে
পারে নকশাল আমলের লজ্জা
তন্ময় মল্লিক

‘ভারতরত্ন’ এপিজে আব্দুল কালামের কথায়, ‘ফেল (FAIL) মানে ফার্স্ট অ্যাটেম্পট ইন লার্নিং। অর্থাৎ শেখার প্রথম ধাপ। বিফলতাই সফল হওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দেবে।’ অনলাইনে বই দেখে লিখে পাশ করলে সেই রাস্তাটা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই অনলাইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দায়িত্ব শুধু শিক্ষক, অধ্যাপকদের ঘাড়ে চাপালেই চলবে না, সন্তানদের অন্যায় আবদারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে অভিভাবকদেরও। বিশদ

21st  May, 2022
উচ্চশিক্ষা কি গরিবের
হাতের বাইরে যাচ্ছে?
সমৃদ্ধ দত্ত

পুরসভা পরিচালিত স্কুলগুলি একে একে বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রছাত্রী পাওয়া যায় না। কলকাতা অথবা জেলার ব্র্যান্ডেড নামজাদা সরকারি অথবা স্পনসর্ড স্কুল বাদ দিলে বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলির চিত্রটি খুব উজ্জ্বল নয়।
বিশদ

20th  May, 2022
তাজমহলের নিয়তি!
মৃণালকান্তি দাস

রামমন্দির আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের থেকেও বড়! বলেছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন। তাঁর দাবি, এই পথেই রামরাজ্যের দিকে দেশ যাত্রা শুরু করেছে।
বিশদ

19th  May, 2022
বিদ্বেষের এই পাশাখেলা...
সন্দীপন বিশ্বাস

মিথ্যা প্রচার কিংবা বিদ্বেষ যে কোনও সরকারের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে, মোদি অ্যান্ড কোম্পানিকে না দেখলে বিশ্বাসই করা যেত না। সরকার এই দু’টো ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রতিদিন ভারতের গণতন্ত্রকে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে।
বিশদ

18th  May, 2022
কানে ‘কান্ট্রি অব অনার’-এর মর্যাদা পেল ভারত
অনুরাগ সিং ঠাকুর

ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার নিস্তব্ধ উপকূলে এখন কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৫ তম সংস্করণ আয়োজনের ব্যস্ততা। এবছর ‘মার্শে ডু ফিল্মস’-এর উদ্বোধনী সন্ধ্যার মূল ভাবনার দেশ হিসেবে ভারত বিশ্বের দর্শকদের সামনে দেশীয় চলচ্চিত্রের উৎকর্ষ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং গল্প বলার অসামান্য ঐতিহ্য তুলে ধরতে চায়।
বিশদ

18th  May, 2022
কামরাজ প্ল্যানেই বাজিমাতের লক্ষ্যে মোদি?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন কিছুতেই বিরোধী শক্তির সামনের সারিতে আসতে না পারেন—এটাই লক্ষ্য বিজেপির। বরং এলেবেলের স্তরে পৌঁছে যাওয়া কংগ্রেস যত খুশি গুরুত্ব পাক, ক্ষতি নেই। কিছুতেই যেন জোটের জমি শক্ত না হয়। তাহলেই মানুষ বিকল্প না খুঁজে মোদিজিতে ফের আস্থা রাখবেন। চব্বিশেও পদ্ম ফুটবে সংসদে। বিশদ

17th  May, 2022
ভালো, খারাপ ও সন্দেহজনক
পি চিদম্বরম

যদি মহিলাদের একটি বড় অংশ রক্তাল্পতায় ভোগেন এবং শিশুদের মধ্যে একটি বিরাট অংশ কম ওজনের কিংবা রক্তাল্পতার শিকার হয়, পাশাপাশি অনেক শিশু স্টান্টেড অথবা ওয়েস্টেড হয়, তবে তার কারণ পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব। আমার মনে হয় যে খাদ্যের অভাব হল, দারিদ্র্যের একটি নির্ধারক সূচক। একজন খুদে ভগবানের সন্তান হিসেবে ওই গরিব মানুষগুলিকে এই সরকার ভুলিয়ে দিতে চাইছে। বিশদ

16th  May, 2022
একনজরে
কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিক। দিল্লির বিশেষ এনআইএ আদালতে তখন তাঁর সাজা ঘোষণা চলছে। আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা বলয়ে কোর্ট চত্বর। ঠিক একই সময়ে শ্রীনগরের প্রাণকেন্দ্র লালচক থেকে কিছু দূরে মইসুমায় ইয়াসিনের বাড়ির সামনেও মোতায়েন বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনী। ...

শুরুতে কেউই গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বে আইপিএলে আবির্ভাবেই চমকে দিয়েছে গুজরাত টাইটান্স। স্বপ্নপূরণের থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে তারা। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে ইডেনে শেষ ওভারে নাটকীয় জয়ে পৌঁছে গিয়েছে ফাইনালে। নিজেদের শহর আমেদাবাদেই খেতাবি লড়াইয়ে নামবেন ...

৫৫তম নকশালবাড়ি দিবস উপলক্ষে জঙ্গলমহলে সতর্কতা জারি করল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি)। মঙ্গলবার জারি করা ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিককালে জঙ্গলমহলে হিংসাত্মক ঘটনার নজির নেই। ...

বুধবার ভোরে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিসের জালে ধরা পড়েছে দুই মাদক পাচারকারী। গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে, দিনবাজার চত্বর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতদের নাম অনিল বাসফোর ও গোপাল দে। কোতোয়ালি থানার আইসি অর্ঘ্য সরকার বলেন, ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

স্ত্রীর সূত্রে বিত্তলাভ যোগ আছে। ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতেও মনোমতো ফলের অভাব। মনে অস্থিরতা থাকবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১২৯৩: জাপানে বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় ৩০ হাজার মানুষের
১৮৯৭: ব্রাম স্টোকারের উপন্যাস ড্রাকুলা প্রকাশিত হয়
১৯৪৫: মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিলাসরাও দেশমুখের জন্ম
১৯৪৯: মার্কিন কম্পিউটার প্রোগামিং বিশেষজ্ঞ ওয়ার্ড কানিংহামের জন্ম, তিনিই উইকিপিডিয়ার প্রথম সংস্করণ বের করেছিলেন
১৯৭৭: ইতালির ফুটবলার লুকা তোনির জন্ম



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৬.৭০ টাকা ৭৮.৪৪ টাকা
পাউন্ড ৯৫.৪৯ টাকা ৯৮.৮৭ টাকা
ইউরো ৮১.৫৭ টাকা ৮৪.৬০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫১,৮৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৯,২০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৯,৯৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬২,০৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬২,১৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২। একাদশী ১৪/৫৫ দিবা ১০/৫৫। রেবতী নক্ষত্র ৪৯/১৫ রাত্রি ১২/৩৯। সূর্যোদয় ৪/৫৬/৪০, সূর্যাস্ত ৬/১০/২৬। অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫৩ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ২/৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৩০ গতে উদয়াবধি। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৫/৪৯ মধ্যে পুনঃ ৯/২১ গতে ১১/৭ মধ্যে। বারবেলা ২/৫১ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৩৩ গতে ১২/৫৪ মধ্যে।
১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২। একাদশী দিবা ১/৫। রেবতী নক্ষত্র রাত্রি ২/৩২। সূর্যোদয় ৪/৫৭, সূর্যাস্ত ৬/১২। অমৃতযোগ দিবা ৩/৪০ গতে ৬/১২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২ গতে ৯/১০ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৬ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৫/৪৮ মধ্যে ও ৯/২২ গতে ১১/১০ মধ্যে। কালবেলা ২/৫৩ গতে ৬/১২ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৩৪ গতে ১২/৫৫ মধ্যে। 
২৪ শওয়াল।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আইপিএল: ১৪ রানে জিতল আরসিবি
 

25-05-2022 - 12:23:11 AM

আইপিএল: লখনউ ১৫৩-৩ (১৬ ওভার)
 

25-05-2022 - 11:51:43 PM

আইপিএল: লখনউ ৮৯-২ (১০ ওভার)
 

25-05-2022 - 11:17:05 PM

আইপিএল: লখনউ ৪৫-২ (৫ ওভার)
 

25-05-2022 - 10:48:59 PM

আইপিএল: লখনউকে ২০৮ রানের টার্গেট দিল আরসিবি
 

25-05-2022 - 10:07:23 PM

আইপিএল: আরসিবি ১২৩-৪ (১৫ ওভার)

 

25-05-2022 - 09:37:03 PM