Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

দোভাল দর্শনে ভীত
নাগরিক সমাজ!
মৃণালকান্তি দাস

ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে নরেন্দ্র মোদির প্রথম আমেরিকা সফর।
২০১৭-র ১৭ জুন। হোয়াইট হাউসের লনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি মোদি। বক্তব্য রাখার জন্য মোদি যখন তৈরি, ঠিক তখনই দমকা হাওয়ায় উড়ে যায় ডায়াসে রাখা বক্তৃতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজ। প্রথম সারিতে তখন ভারতের বিদেশ সচিব এবং ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বসেন অজিত দোভাল। চোখের পলকে দৌড়ে গিয়ে উড়ে যাওয়া সেই কাগজ তুলে এনে সযত্নে ডায়াসে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। সেদিন বক্তব্য রাখতে কোনও অসুবিধা হয়নি মোদির। এমন তুচ্ছ ঘটনাকে বেশিরভাগ সাংবাদিক কোনও পাত্তা না দিলেও, একটি ইংরেজি পত্রিকা সেদিন লিখেছিল, হোয়াইট হাউস ইভেন্টে কীভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্ধার করেছিলেন দোভাল।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনেক আগে থেকেই মোদির সঙ্গে দোভালের ঘনিষ্ঠতা। দোভাল তখন বিবেকানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রধান। সঙ্ঘ পরিবারের অনুগত। অনেকেই বলেন, গোয়েন্দা ব্যুরো থেকে অবসর নেওয়ার পরে তিনি বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদিকে পর্দার আড়ালে থেকে অনেক সাহায্য করেছেন। একসময় বিজেপির ঘনিষ্ঠ স্বামীনাথন গুরুমূর্তি টুইট করে বলেছিলেন, ‘দোভাল ছত্রপতি শিবাজি এবং ভগৎ সিংয়ের সমসাময়িক সংস্করণ।’ তাঁর বর্ণময় কেরিয়ারে মিলেছে পুলিস মেডেল, প্রেসিডেন্ট মেডেল, কীর্তিচক্র। দোভালকে ঘিরে তৈরি হয়েছে মিথের বলয়। ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ’—এই রক্ষাকবচ তাঁকে ঘিরে রাখে সব সময়। মোদি সরকারে মন্ত্রিসভা সমতুল্য পদ মর্যাদার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। ক্রমেই সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্রও হয়ে উঠেছেন অজিত দোভাল।
অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার এম জি দেবসহায়মের কথায়, ‘১৯৬৮ সালের ৩/৪ জুলাই মুসৌরির ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ভারতের সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের শপথ নিয়েছিলাম দু’জনই। সেদিন, দোভাল পুলিস পরিষেবা এবং আমি ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবাতে প্রবেশ করেছিলাম। কিন্তু কখনওই উদ্ভট মতবাদটি কল্পনা করতে পারিনি, যা বলেছেন অজিত দোভাল।’ সম্প্রতি হায়দরাবাদে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ন্যাশনাল পুলিস অ্যাকাডেমির অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, নাগরিক সমাজই এখন নতুন যুদ্ধক্ষেত্র। চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধক্ষেত্র। দেশের নাগরিক সমাজই জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় বিপদ হয়ে উঠতে পারে!
দোভালের এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষত এমন একটা সময়ে এই কথাগুলো বলেছেন, যার কিছু দিন আগেই খোদ সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তার জুজু দেখিয়ে রাষ্ট্র অবাধ ছাড়পত্র পেতে পারে না। সাম্প্রতিক অতীতে বারবারই নাগরিক সমাজের বিরোধী স্বরকে দমন করার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে। বিরোধী রাজনীতিকে দুর্বল ও বিভক্ত করার জন্য শাসকদের চেষ্টার কোনও বিরাম নাই। তার জন্য অর্থের লোভ, ক্ষমতার আকর্ষণ, প্রশাসনিক তদন্ত ও হানাদারির ভয় এবং মামলার চাপ— ছল-বল-কৌশলের কোনও ঘাটতি রাখা হয়নি। জেএনইউ, জামিয়া মিলিয়া, শাহিন বাগ, দিল্লি সংঘর্ষ, কৃষক আন্দোলন থেকে হালের পেগাসাস— অসংখ্য ঘটনায় নাগরিক সমাজের গণতান্ত্রিক অধিকারের উপরে দমননীতি চাপানো হয়েছে বলে ঘরে-বাইরে সমালোচিত হয়েছে মোদি সরকার। এই অন্ধকার সময়েই নাগরিক সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে উঠে এসেছে প্রতিবাদ। কৃষক আন্দোলন এই মুহূর্তে তার সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত। আর সেই কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে টুইট করলেই তাকে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে। বিরোধীস্বরকে স্তব্ধ করতে শাসকদের মুখে ‘আরবান নকশাল’, ‘আন্দোলনজীবী’ ইত্যাদি গালিগালাজের অন্ত নেই। সমাজে বিদ্বেষ এবং বিভাজনের বীজ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটা অনেক বেশি করেছে গেরুয়া শিবিরই। এই প্রেক্ষাপটে দোভাল যে ভাবে নাগরিক সমাজকে কার্যত বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করলেন, তা চলতি বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মনে করুন, যদি এমন হয় যে, দেশের সমস্ত জটিল সমস্যার মোকাবিলা করা হয় হিংস্র গা-জোয়ারি দিয়ে? যদি অগণিত মানুষের অসহায়তাকে চাপা দেওয়া হয় ধর্মীয়-গোষ্ঠীগত নিরাপত্তার ভুয়ো আতঙ্কের তলায়? যদি ধর্ম-রাজনীতি-রাষ্ট্র-প্রশাসন মিলেমিশে বানিয়ে নেয় এক অখণ্ড নিটোল গুন্ডামি আর বুজরুকির আসর? তখনই বোঝা যায়, এসে পড়েছে সেই কুৎসিত সময়, যখন আমাদের মস্তিষ্ক ও চেতনায় কামড়ে ধরে থাকবে ক্ষমতার প্রতি এক ভীতিমাখা আকর্ষণ, এবং ক্ষমতাহীন মানুষের প্রতি লুকোনো অযৌক্তিক ঘৃণা। আমাদের দেশ সম্ভবত আজ তেমনই এক প্রবল ঢেউয়ে আক্রান্ত। এখনই তো সিভিল সোসাইটির মৌলিকতম প্রশ্নগুলো তোলার আসল সময়! সমাজের নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন। রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন। ধর্মের নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন। আমাদের সমগ্র নাগরিক অস্তিত্বের মূল শিকড়গুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন। অজিত দোভালরা আর সেই সব প্রশ্ন শুনতে নারাজ। ভয়টা সেখানেই!
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হওয়ার কয়েক মাস আগে, দোভাল এক গভীর দর্শন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমরা শত্রুকে তিনটি পদ্ধতিতে আটকানোর চেষ্টা করি। একটি হল প্রতিরক্ষামূলক। ঠিক যেমন চৌকিদাররা করেন। অপরটি আত্মরক্ষামূলক-আক্রমণাত্মক। আত্মরক্ষার জন্য, আমরা সেই জায়গায় যাই যেখান থেকে অপরাধ সংগঠিত হয়। আমরা এখন ডিফেন্সিভ মোডে...।’ ক্ষমতার খেলায় চূড়ান্ত ন্যায়বিচার তাঁর কাছেই থাকে যিনি শক্তিশালী। এটি ছিল কাশ্মীরে প্রয়োগ করা দোভালের ‘সামরিক মতবাদের’ বৈশিষ্ট্য।
যে মতবাদে বুলেট, প্যালেট গান, মানব ঢাল— লক্ষ্য একটাই, যে কোনও উপায়ে জয়লাভ করা। রক্ত বয়ে গেলে, শিশুরা মারা গেলে বা অন্ধ হয়ে গেলে, সন্তানহারা মা কেঁদে উঠলে, মানুষ যদি ভোট না দেয়— তাতেও কিছু যায় আসে না। রাষ্ট্রকে আরও বেশি করে সামরিক শক্তি দিয়ে, এমনকী তার নিজের জনগণের উপরেই সেই শক্তি প্রয়োগ করে জয়ী হতে হবে। বিশিষ্ট আইনজীবী এজি নুরানির মতে, দোভাল মতবাদের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘নৈতিকতার অপ্রাসঙ্গিকতা’। যদি প্রয়োজন হয়, নিজেকে রক্ষা করাই হবে তাঁর সর্বোচ্চ ভূমিকা। এই নৈতিকতার দৃষ্টিভঙ্গিতেই তাঁর নতুন নাগরিক সমাজের মতবাদ। তাঁর কাছে রাষ্ট্রই প্রধান। জনগণ নয়। দোভালের ভাষণে এটা স্পষ্ট— সংবিধান, গণতন্ত্র এবং সুশীল সমাজ সম্পর্কে তাঁর আলাদা ধারণা রয়েছে। তিনি মনে করেন, ভারত এখনও একটি ঔপনিবেশিক রাজতন্ত্র, যেখানে জনগণ প্রজা মাত্র। অথচ, আমাদের সংবিধান ‘দ্য পিপলস অব ইন্ডিয়া’ শব্দ দিয়েই শুরু এবং এমন একটি সমাজকে সংজ্ঞায়িত করা হয়, যেখানে নাগরিকরা সার্বভৌম। দোভাল কীভাবে তরুণ পুলিস অফিসারদের ‘দ্য পিপলস অব ইন্ডিয়া’-কে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বলেন তা তিনিই জানেন। মনে হয়, সমস্ত প্রতিবাদ ও প্রশ্নকে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহ বলে মনে করেন, যে কোনও বিরোধিতাকে দমন করার ব্যগ্রতায় গণতন্ত্রের ন্যূনতম শর্ত লঙ্ঘনেও তাঁর আপত্তি নেই।
এই সেই দোভাল, যাঁর ‘যো হো গয়া সো হো গয়া’— এই গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বাক্য উপদেশ হিসেবে ঝরে পড়তেই, দিল্লির দাঙ্গাদীর্ণ মানুষ বড়ই প্রশান্তি লাভ করেছিলেন। ‘যো হো গয়া সো হো গয়া’ মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে কোন কোন যন্ত্রণা দিল্লিবাসীদের ভুলতে হয়েছে? স্বজন হারানো, প্রচুর টাকার ব্যবসা ধ্বংস হয়ে রাতারাতি কপর্দকশূন্য হয়ে যাওয়া, মাথা গোঁজার আশ্রয়টুকু হারিয়ে যাওয়া, স্কুল পুড়ে যাওয়ার ফলে পঠনপাঠন অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। যে গভীর দার্শনিক বোধ, যে ললিত শান্তির বাণী এই বাক্যবন্ধটিতে সম্পৃক্ত আছে, তার দ্বিতীয় তুলনা কোথায়! ভবিষ্যতেও এই অসামান্য বাণী একইরকম ভাবে জনগণকে সমৃদ্ধ করবে। ব্যাঙ্ক লাটে উঠে সঞ্চিত সব অর্থ গায়েব হলে, স্বল্প সঞ্চয়ে সুদের হার তলানিতে ঠেকলে, জীবনদায়ী ওষুধ ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে যদি ভাবা যায় ‘যো হো গয়া...’, তবে গোটা দেশে অনাবিল শান্তি বিরাজ করবে! এর মতবাদের জন্য অজিত দোভালকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। 
নিরাপত্তা উপদেষ্টা তাঁর ভাষণের মধ্য দিয়ে যে সঙ্কেত দিতে চেয়েছেন, তা হল, পুলিস তথা নিরাপত্তা বাহিনীকে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার নামে নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ দমনে ‘তৎপর’ হওয়ার সঙ্কেত। নাগরিক সমাজকে রাষ্ট্রের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ কর্মসূচি দমন করার, অর্থাৎ শাসকের ‘অনুগত’ থাকার সঙ্কেত। স্পষ্টতই, এই সঙ্কেতের প্রথমটি দমন-পীড়নে নিরাপত্তা বাহিনীকে অবাধ ছাড়পত্র, দ্বিতীয়টি হুঁশিয়ারি। দুয়ে মিলে এক ভয়ঙ্কর আশঙ্কা জেগে ওঠে। গণতন্ত্রের শ্বাসরোধ করার আশঙ্কা।
দোভালের পূর্বসূরিদের নিজস্ব স্টাইল ছিল। তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করতেন। তাঁদের কেউই কোনও মেরুকরণ মতাদর্শের প্রতি অনুগত ছিলেন না এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করার মানসিকতাও তাঁদের ছিল না। এই শেষ পর্যায়ে দোভাল তাঁর পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করলেই ভালো। যদি তাঁর কোনও বিশেষ ‘চতুর্থ-প্রজন্মের যুদ্ধের’ দক্ষতা থাকে, তাহলে তিনি সুশীল সমাজকে টার্গেট না করে, দেশের অভ্যন্তরে বিশেষ করে গোবলয়ের বন্দুকধারীদের দখল করা এলাকাগুলিতে তা প্রয়োগ করুন।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কাজ দেশবাসীকে রক্ষা করা। গভীর পাঁকে আটকে যাওয়া গেরুয়া শিবিরকে উদ্ধার করা নয়!
02nd  December, 2021
লক্ষ্য যখন আজ্ঞা পালন
তন্ময় মল্লিক

সাপ্লাই লাইন কাটলেই বন্ধ হবে গোরু ও কয়লা পাচার। কিন্তু কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি সেটা করছে না। উল্টে গোমুখের সন্ধান না করে ঘুরপাক খাচ্ছে গাঙ্গেয় বঙ্গে। কারণ সমস্যার সমাধান নয়, ইস্যুটাকে জিইয়ে রেখে বিরোধীদের টাইট দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। কারণ মিশন-২০২৪ গেরুয়া শিবিরের কাছে দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বিশদ

প্রতিশ্রুতির অন্তহীন পতাকা উড়ছে
সমৃদ্ধ দত্ত

হর ঘর তিরঙ্গা। গত ৭৫ বছরের মধ্যে এটাই সম্ভবত সেরা স্লোগান। এরকম একটি স্লোগানের অন্তর্নিহিত অর্থ হল, ভারতের সকলের কাছে ঘর আছে। তাহলেই তো সম্ভব হর ঘর তিরঙ্গা লাগানো! হর ঘর তিরঙ্গা যে সফল হবে, এটা রাষ্ট্র কখন ভাববে?  বিশদ

19th  August, 2022
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সাতকাহন
মৃণালকান্তি দাস

গেরুয়া শিবির জানে, ভক্তির সামনে যুক্তি টেকে না, যুক্তি দিয়ে ভক্তি খণ্ডনও করা যায় না। অতএব, ‘মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ দেশ যন্ত্রণাবিদ্ধ হয়েও তাঁর মনের কথা শুনে বিগলিত হয়। ‘নমো নমো’ ধ্বনিতে গোপন রয়ে যায় আসল চেহারা। কেউ বলার সাহস পায় না, কংগ্রেসের দুর্নীতির সঙ্গে বিজেপির দুর্নীতির তফাৎ একটাই: কংগ্রেস দুর্নীতি করে আইন ভেঙে, আর বিজেপি দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা দিতে আইনটাকেই বদলে নেয়। বিশদ

18th  August, 2022
শঠতার কারাগার থেকে রাজনীতির মুক্তি
হারাধন চৌধুরী

স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্নপূরণ সেদিনই সম্ভব হবে যেদিন শঠতার কারাগার থেকে মুক্তি ঘটবে ভারতীয় রাজনীতির। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতাই দেশকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পথ দেখাবে। নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দল বা একজনমাত্র রাজনীতিকের পক্ষে এই হিমালয়তুল্য ভার সরানো সম্ভব হবে না। দায়িত্ব গোটা জাতির। বিশদ

17th  August, 2022
এই ভারত কতটা সার্বভৌম, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক? 
পি চিদম্বরম

ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় উল্লিখিত সার্বভৌম, ধর্মনিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক এই শব্দ তিনটি পাঠকরা স্মরণ করবেন। একটি আধুনিক সাধারণতন্ত্রের সংজ্ঞা এই গুণাবলির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
বিশদ

15th  August, 2022
স্বাধীনতার মহোৎসব ও মানুষের প্রাপ্তি
হিমাংশু সিংহ

শুধু পতাকার পবিত্র রঙে ঘরবাড়ি সৌধকে সাজিয়ে তুলেই কি দায়িত্ব শেষ? আমাদের সংবিধান প্রণেতারা যে দুর্নীতিমুক্ত, সব সম্প্রদায় ও বিশ্বাসের মানুষের আস্থা জিতে মিলনতীর্থ ভারতবর্ষ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা কি বাস্তবায়িত হচ্ছে?  বিশদ

14th  August, 2022
জাতীয় স্বার্থই প্রাধান্য পাওয়া উচিত
মোহনরাও ভাগবত

‘স্বাধীনতার  অমৃত মহোৎসব’ উদযাপনের এই শুভক্ষণ আমরা অনেক ত্যাগ ও কষ্টের বিনিময়ে অর্জন করেছি। ভারতকে তার গৌরবের শিখরে প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের একইভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে। এই শুভক্ষণে আমাদের আত্মসমীক্ষা করা উচিত যে, স্বাধীনতার উদ্দেশ্য যদি স্বনির্ভরতা অর্জন করা হয়, তবে আজ ৭৫ বছর পর, ভারত কি সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর হতে পেরেছে!  
বিশদ

14th  August, 2022
বিহারে পালাবদলে
আসল নায়ক তেজস্বীই
তন্ময় মল্লিক

এই নিয়ে আট আটবার মুখ্যমন্ত্রিত্বের কুর্সিতে। তারজন্য কখনও কংগ্রেসের, কখনও আরজেডির, কখনও আবার বিজেপির কাঁধে ভর করেছেন। গদির জন্য নীতি বিসর্জন দিয়েছেন বারবার। ডিগবাজি পলিটিক্সে তাঁর সমগোত্রীয় বলতে একমাত্র মুলায়ম সিং যাদব। বিশদ

13th  August, 2022
ভারতবর্ষের গণতন্ত্র এবং
সরকারি সাম্প্রদায়িকতা
হুমায়ুন কবীর

গত জুলাইতে লন্ডনের কিংস কলেজে ভারতীয় ছাত্র এবং অ্যালামনি ইউনিয়নের উদ্যোগে ‘ইন্ডিয়া অ্যাট ৭৫’ নামে এক লেকচার সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ‘গণতন্ত্র এবং উন্নয়নে’র উপর ভাষণ প্রসঙ্গে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন উন্নয়নের লক্ষ্যে শক্তিশালী নেতা, আরও প্রগতিশীল সরকার এবং উন্মুক্ত গণতন্ত্রের নিদান দেন। বিশদ

13th  August, 2022
গরিষ্ঠতা নিয়ে নার্ভাস
বরং নরেন্দ্র মোদিই

সমৃদ্ধ দত্ত

শুধু কংগ্রেসমুক্ত ভারত নির্মাণ করাই যে যথেষ্ট নয়, সেটা মোদি এবং অমিত শাহ বুঝেছেন। কারণ, রাজ্যে রাজ্যে একঝাঁক আঞ্চলিক দল রয়েছে, যাঁদের শক্তি অনেক বেশিই রয়ে যাচ্ছে। তাই আঞ্চলিক দলগুলিকে ধ্বংস করতে উদ্যত বিজেপি। ফর্মুলাটি হল, প্রথমে তাদের সঙ্গে জোট করে বন্ধুত্ব পাতানো। তারপর ধীরে ধীরে তাদের ভোটব্যাঙ্কে  ভাগ বসানো। বিশদ

12th  August, 2022
তাইওয়ান নিয়ে সংঘাতের পিছনে চিপযুদ্ধ
মৃণালকান্তি দাস

ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে বেজিংয়ের লড়াই সেই ১৯৮৯ সাল থেকেই। পেলোসি যেমন বরাবরই চীনের ঘোর সমালোচক, তেমনই আমেরিকার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকারকে ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিপূর্ণ তথ্যে ভরপুর’ বলে মনে করে বেজিংও।
বিশদ

11th  August, 2022
পূর্বসূরিদের কলঙ্ক মুছতে প্রয়াসী বিজেপি
সন্দীপন বিশ্বাস

বেলাগাম হয়ে ছুটছে মূল্যবৃদ্ধির অশ্বমেধের ঘোড়া। মানুষকে দলিত করে, আহত করে সে ছুটছে আপন খেয়ালে। তাকে রোখার ক্ষমতা নেই রাজাধিরাজের।
বিশদ

10th  August, 2022
একনজরে
চলতি খরিফ মরশুমে ইতিমধ্যেই ২০ লক্ষ কৃষক নাম নথিভুক্ত করেছেন। আরও বেশি কৃষক যাতে বাংলা শস্যবিমা প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেন, তার জন্য সক্রিয় হয়েছে রাজ্য সরকার। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যদি ফসল কম হয়, তাহলে বিমা করা থাকলে ক্ষতিপূরণ পান কৃষকরা। ...

সমাজসেবার আড়ালে নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে গোরু মাফিয়ারা। বীরভূম, মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় তারা প্রচুর দানধ্যান করত। ...

মায়ানমারে অশান্তি অব্যাহত। ক্ষমতা দখলকারী জুন্টা প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় প্রতিরোধ বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে নানা প্রান্তে। বিশেষ করে তার প্রভাব পড়েছে ভারত সীমান্তে। ...

প্রথা মেনেই মহা সমরোহে বেলুড় মঠে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান পালিত হল। বৃহস্পতিবার মঠের অস্থায়ী বেদিতে পুজোপাঠ সহ বক্তৃতা ও গানের মধ্যে দিয়ে জন্মাষ্টমী পালিত হয়। একই সঙ্গে শুক্রবার হয়ে গেলে দেবীদুর্গার আরাধনার জন্য প্রস্তুতি। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সংসারে অশান্তি, মনে চাঞ্চল্য। ভুল সিদ্ধান্তে কর্মে বাধা। অর্থকড়ি উপার্জন মনোমতো হবে না।   ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মশা দিবস
১৮২৮: ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করলেন রাজা রামমোহন রায়
১৮৬৪: লেখক রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদির জন্ম
১৮৯৬: ফুটবলার গোষ্ঠ পালের জন্ম
১৮৯৭: চিকিৎসক রোনাল্ড রস অ্যানোফিলিস মশা বাহিত ম্যালেরিয়া রোগের কারণ আবিষ্কার করেছিলেন
১৯০৬: প্রথম ভারতীয় র‌্যাংলার আনন্দমোহন বসুর মৃত্যু
১৯৪৪: ভারতের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর জন্ম
১৯৭৬- বলিউড অভিনেতা রণদীপ হুডার জন্মদিন
১৯৮৬: গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের মৃত্যু 
 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৮.৯৩ টাকা ৮০.৬৭ টাকা
পাউন্ড ৯৩.৪৯ টাকা ৯৬.৭৬ টাকা
ইউরো ৭৮.৯৭ টাকা ৮১.৯৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম)  
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম)  
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম)  
রূপার বাট (প্রতি কেজি)  
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি)  
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ ভাদ্র, ১৪২৯, শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২। নবমী ৪৯/৩৭ রাত্রি ১/৯। রোহিণী নক্ষত্র ৫৮/২২ রাত্রি ৪/৪০। সূর্যোদয় ৫/১৮/৪৭, সূর্যাস্ত ৬/১/২৭। অমৃতযোগ দিবা ৯/৩৩ গতে ১২/৫৭ মধ্যে। রাত্রি ৮/১৬ গতে ১০/৩২ মধ্যে। পুনঃ ১২/২ গতে ১/৩৩ মধ্যে, পুনঃ ২/১৮ গতে ৩/৪৮ মধ্যে। বারবেলা ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ১/১৫ গতে ২/৫১ মধ্যে পুনঃ ৪/২৬ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৭/২৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৪ গতে উদয়াবধি। 
 
৩ ভাদ্র, ১৪২৯, শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২। নবমী রাত্রি ২/৪২। রোহিণী নক্ষত্র অহোরাত্র। সূর্যোদয় ৫/১৮, সূর্যাস্ত ৬/৪। অমৃতযোগ দিবা ৯/৩১ গতে ১২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/১৪ গতে ১০/৩০ মধ্যে ও ১১/৫৭ গতে ১/৩১ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৩/৫১ মধ্যে। কালবেলা ৬/৫৪ মধ্যে ও ১/১৭ গতে ২/৫৩ মধ্যে  ও ৪/২৯ গতে ৬/৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/২৯ মধ্যে ও ৩/৫৪ গতে৫/১৮ মধ্যে। 
 
২১ মহরম।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
সাগরে তিনটি ট্রলার ডুবি
খারাপ আবহাওয়ার জেরে সাগরে মোট তিনটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। ...বিশদ

19-08-2022 - 04:16:33 PM

নিউ ইয়র্কে ফের ভাঙা হল মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি
নিউ ইয়র্কে ফের মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ভাঙা হল। এক মন্দিরের ...বিশদ

19-08-2022 - 04:02:51 PM

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গুলিতে শহিদ জওয়ান
ত্রিপুরায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফকে লক্ষ্য করে গুলি। ঘটনায় শহিদ হয়েছেন ...বিশদ

19-08-2022 - 03:56:58 PM

মানিকতলায় নাবালিকার রহস্যমৃত্যু
মানিকতলায় এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যু। মৃতার নাম সুই দাস (১৬)। কলকাতা ...বিশদ

19-08-2022 - 03:01:51 PM

নাগরাকাটায় খাদে পড়ল মারুতি, মৃত ২
জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় দুর্ঘটনা। আজ, শুক্রবার বেলা ১১ টা নাগরাকাটার চম্পাগুড়ি ...বিশদ

19-08-2022 - 02:46:33 PM

সাগরে ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ১৮ জন মৎস্যজীবী
সাগরে দুর্যোগের মাঝে বিপত্তি। কেঁদো দ্বীপে ট্রলার ডুবি। চরে ধাক্কা ...বিশদ

19-08-2022 - 12:50:24 PM