Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

দোভাল দর্শনে ভীত
নাগরিক সমাজ!
মৃণালকান্তি দাস

ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে নরেন্দ্র মোদির প্রথম আমেরিকা সফর।
২০১৭-র ১৭ জুন। হোয়াইট হাউসের লনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি মোদি। বক্তব্য রাখার জন্য মোদি যখন তৈরি, ঠিক তখনই দমকা হাওয়ায় উড়ে যায় ডায়াসে রাখা বক্তৃতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজ। প্রথম সারিতে তখন ভারতের বিদেশ সচিব এবং ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বসেন অজিত দোভাল। চোখের পলকে দৌড়ে গিয়ে উড়ে যাওয়া সেই কাগজ তুলে এনে সযত্নে ডায়াসে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। সেদিন বক্তব্য রাখতে কোনও অসুবিধা হয়নি মোদির। এমন তুচ্ছ ঘটনাকে বেশিরভাগ সাংবাদিক কোনও পাত্তা না দিলেও, একটি ইংরেজি পত্রিকা সেদিন লিখেছিল, হোয়াইট হাউস ইভেন্টে কীভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্ধার করেছিলেন দোভাল।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনেক আগে থেকেই মোদির সঙ্গে দোভালের ঘনিষ্ঠতা। দোভাল তখন বিবেকানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রধান। সঙ্ঘ পরিবারের অনুগত। অনেকেই বলেন, গোয়েন্দা ব্যুরো থেকে অবসর নেওয়ার পরে তিনি বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদিকে পর্দার আড়ালে থেকে অনেক সাহায্য করেছেন। একসময় বিজেপির ঘনিষ্ঠ স্বামীনাথন গুরুমূর্তি টুইট করে বলেছিলেন, ‘দোভাল ছত্রপতি শিবাজি এবং ভগৎ সিংয়ের সমসাময়িক সংস্করণ।’ তাঁর বর্ণময় কেরিয়ারে মিলেছে পুলিস মেডেল, প্রেসিডেন্ট মেডেল, কীর্তিচক্র। দোভালকে ঘিরে তৈরি হয়েছে মিথের বলয়। ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ’—এই রক্ষাকবচ তাঁকে ঘিরে রাখে সব সময়। মোদি সরকারে মন্ত্রিসভা সমতুল্য পদ মর্যাদার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। ক্রমেই সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্রও হয়ে উঠেছেন অজিত দোভাল।
অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার এম জি দেবসহায়মের কথায়, ‘১৯৬৮ সালের ৩/৪ জুলাই মুসৌরির ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ভারতের সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের শপথ নিয়েছিলাম দু’জনই। সেদিন, দোভাল পুলিস পরিষেবা এবং আমি ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবাতে প্রবেশ করেছিলাম। কিন্তু কখনওই উদ্ভট মতবাদটি কল্পনা করতে পারিনি, যা বলেছেন অজিত দোভাল।’ সম্প্রতি হায়দরাবাদে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ন্যাশনাল পুলিস অ্যাকাডেমির অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, নাগরিক সমাজই এখন নতুন যুদ্ধক্ষেত্র। চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধক্ষেত্র। দেশের নাগরিক সমাজই জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় বিপদ হয়ে উঠতে পারে!
দোভালের এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষত এমন একটা সময়ে এই কথাগুলো বলেছেন, যার কিছু দিন আগেই খোদ সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তার জুজু দেখিয়ে রাষ্ট্র অবাধ ছাড়পত্র পেতে পারে না। সাম্প্রতিক অতীতে বারবারই নাগরিক সমাজের বিরোধী স্বরকে দমন করার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে। বিরোধী রাজনীতিকে দুর্বল ও বিভক্ত করার জন্য শাসকদের চেষ্টার কোনও বিরাম নাই। তার জন্য অর্থের লোভ, ক্ষমতার আকর্ষণ, প্রশাসনিক তদন্ত ও হানাদারির ভয় এবং মামলার চাপ— ছল-বল-কৌশলের কোনও ঘাটতি রাখা হয়নি। জেএনইউ, জামিয়া মিলিয়া, শাহিন বাগ, দিল্লি সংঘর্ষ, কৃষক আন্দোলন থেকে হালের পেগাসাস— অসংখ্য ঘটনায় নাগরিক সমাজের গণতান্ত্রিক অধিকারের উপরে দমননীতি চাপানো হয়েছে বলে ঘরে-বাইরে সমালোচিত হয়েছে মোদি সরকার। এই অন্ধকার সময়েই নাগরিক সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে উঠে এসেছে প্রতিবাদ। কৃষক আন্দোলন এই মুহূর্তে তার সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত। আর সেই কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে টুইট করলেই তাকে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে। বিরোধীস্বরকে স্তব্ধ করতে শাসকদের মুখে ‘আরবান নকশাল’, ‘আন্দোলনজীবী’ ইত্যাদি গালিগালাজের অন্ত নেই। সমাজে বিদ্বেষ এবং বিভাজনের বীজ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটা অনেক বেশি করেছে গেরুয়া শিবিরই। এই প্রেক্ষাপটে দোভাল যে ভাবে নাগরিক সমাজকে কার্যত বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করলেন, তা চলতি বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মনে করুন, যদি এমন হয় যে, দেশের সমস্ত জটিল সমস্যার মোকাবিলা করা হয় হিংস্র গা-জোয়ারি দিয়ে? যদি অগণিত মানুষের অসহায়তাকে চাপা দেওয়া হয় ধর্মীয়-গোষ্ঠীগত নিরাপত্তার ভুয়ো আতঙ্কের তলায়? যদি ধর্ম-রাজনীতি-রাষ্ট্র-প্রশাসন মিলেমিশে বানিয়ে নেয় এক অখণ্ড নিটোল গুন্ডামি আর বুজরুকির আসর? তখনই বোঝা যায়, এসে পড়েছে সেই কুৎসিত সময়, যখন আমাদের মস্তিষ্ক ও চেতনায় কামড়ে ধরে থাকবে ক্ষমতার প্রতি এক ভীতিমাখা আকর্ষণ, এবং ক্ষমতাহীন মানুষের প্রতি লুকোনো অযৌক্তিক ঘৃণা। আমাদের দেশ সম্ভবত আজ তেমনই এক প্রবল ঢেউয়ে আক্রান্ত। এখনই তো সিভিল সোসাইটির মৌলিকতম প্রশ্নগুলো তোলার আসল সময়! সমাজের নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন। রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন। ধর্মের নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন। আমাদের সমগ্র নাগরিক অস্তিত্বের মূল শিকড়গুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন। অজিত দোভালরা আর সেই সব প্রশ্ন শুনতে নারাজ। ভয়টা সেখানেই!
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হওয়ার কয়েক মাস আগে, দোভাল এক গভীর দর্শন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমরা শত্রুকে তিনটি পদ্ধতিতে আটকানোর চেষ্টা করি। একটি হল প্রতিরক্ষামূলক। ঠিক যেমন চৌকিদাররা করেন। অপরটি আত্মরক্ষামূলক-আক্রমণাত্মক। আত্মরক্ষার জন্য, আমরা সেই জায়গায় যাই যেখান থেকে অপরাধ সংগঠিত হয়। আমরা এখন ডিফেন্সিভ মোডে...।’ ক্ষমতার খেলায় চূড়ান্ত ন্যায়বিচার তাঁর কাছেই থাকে যিনি শক্তিশালী। এটি ছিল কাশ্মীরে প্রয়োগ করা দোভালের ‘সামরিক মতবাদের’ বৈশিষ্ট্য।
যে মতবাদে বুলেট, প্যালেট গান, মানব ঢাল— লক্ষ্য একটাই, যে কোনও উপায়ে জয়লাভ করা। রক্ত বয়ে গেলে, শিশুরা মারা গেলে বা অন্ধ হয়ে গেলে, সন্তানহারা মা কেঁদে উঠলে, মানুষ যদি ভোট না দেয়— তাতেও কিছু যায় আসে না। রাষ্ট্রকে আরও বেশি করে সামরিক শক্তি দিয়ে, এমনকী তার নিজের জনগণের উপরেই সেই শক্তি প্রয়োগ করে জয়ী হতে হবে। বিশিষ্ট আইনজীবী এজি নুরানির মতে, দোভাল মতবাদের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘নৈতিকতার অপ্রাসঙ্গিকতা’। যদি প্রয়োজন হয়, নিজেকে রক্ষা করাই হবে তাঁর সর্বোচ্চ ভূমিকা। এই নৈতিকতার দৃষ্টিভঙ্গিতেই তাঁর নতুন নাগরিক সমাজের মতবাদ। তাঁর কাছে রাষ্ট্রই প্রধান। জনগণ নয়। দোভালের ভাষণে এটা স্পষ্ট— সংবিধান, গণতন্ত্র এবং সুশীল সমাজ সম্পর্কে তাঁর আলাদা ধারণা রয়েছে। তিনি মনে করেন, ভারত এখনও একটি ঔপনিবেশিক রাজতন্ত্র, যেখানে জনগণ প্রজা মাত্র। অথচ, আমাদের সংবিধান ‘দ্য পিপলস অব ইন্ডিয়া’ শব্দ দিয়েই শুরু এবং এমন একটি সমাজকে সংজ্ঞায়িত করা হয়, যেখানে নাগরিকরা সার্বভৌম। দোভাল কীভাবে তরুণ পুলিস অফিসারদের ‘দ্য পিপলস অব ইন্ডিয়া’-কে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বলেন তা তিনিই জানেন। মনে হয়, সমস্ত প্রতিবাদ ও প্রশ্নকে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহ বলে মনে করেন, যে কোনও বিরোধিতাকে দমন করার ব্যগ্রতায় গণতন্ত্রের ন্যূনতম শর্ত লঙ্ঘনেও তাঁর আপত্তি নেই।
এই সেই দোভাল, যাঁর ‘যো হো গয়া সো হো গয়া’— এই গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বাক্য উপদেশ হিসেবে ঝরে পড়তেই, দিল্লির দাঙ্গাদীর্ণ মানুষ বড়ই প্রশান্তি লাভ করেছিলেন। ‘যো হো গয়া সো হো গয়া’ মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে কোন কোন যন্ত্রণা দিল্লিবাসীদের ভুলতে হয়েছে? স্বজন হারানো, প্রচুর টাকার ব্যবসা ধ্বংস হয়ে রাতারাতি কপর্দকশূন্য হয়ে যাওয়া, মাথা গোঁজার আশ্রয়টুকু হারিয়ে যাওয়া, স্কুল পুড়ে যাওয়ার ফলে পঠনপাঠন অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। যে গভীর দার্শনিক বোধ, যে ললিত শান্তির বাণী এই বাক্যবন্ধটিতে সম্পৃক্ত আছে, তার দ্বিতীয় তুলনা কোথায়! ভবিষ্যতেও এই অসামান্য বাণী একইরকম ভাবে জনগণকে সমৃদ্ধ করবে। ব্যাঙ্ক লাটে উঠে সঞ্চিত সব অর্থ গায়েব হলে, স্বল্প সঞ্চয়ে সুদের হার তলানিতে ঠেকলে, জীবনদায়ী ওষুধ ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে যদি ভাবা যায় ‘যো হো গয়া...’, তবে গোটা দেশে অনাবিল শান্তি বিরাজ করবে! এর মতবাদের জন্য অজিত দোভালকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। 
নিরাপত্তা উপদেষ্টা তাঁর ভাষণের মধ্য দিয়ে যে সঙ্কেত দিতে চেয়েছেন, তা হল, পুলিস তথা নিরাপত্তা বাহিনীকে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার নামে নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ দমনে ‘তৎপর’ হওয়ার সঙ্কেত। নাগরিক সমাজকে রাষ্ট্রের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ কর্মসূচি দমন করার, অর্থাৎ শাসকের ‘অনুগত’ থাকার সঙ্কেত। স্পষ্টতই, এই সঙ্কেতের প্রথমটি দমন-পীড়নে নিরাপত্তা বাহিনীকে অবাধ ছাড়পত্র, দ্বিতীয়টি হুঁশিয়ারি। দুয়ে মিলে এক ভয়ঙ্কর আশঙ্কা জেগে ওঠে। গণতন্ত্রের শ্বাসরোধ করার আশঙ্কা।
দোভালের পূর্বসূরিদের নিজস্ব স্টাইল ছিল। তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করতেন। তাঁদের কেউই কোনও মেরুকরণ মতাদর্শের প্রতি অনুগত ছিলেন না এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করার মানসিকতাও তাঁদের ছিল না। এই শেষ পর্যায়ে দোভাল তাঁর পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করলেই ভালো। যদি তাঁর কোনও বিশেষ ‘চতুর্থ-প্রজন্মের যুদ্ধের’ দক্ষতা থাকে, তাহলে তিনি সুশীল সমাজকে টার্গেট না করে, দেশের অভ্যন্তরে বিশেষ করে গোবলয়ের বন্দুকধারীদের দখল করা এলাকাগুলিতে তা প্রয়োগ করুন।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কাজ দেশবাসীকে রক্ষা করা। গভীর পাঁকে আটকে যাওয়া গেরুয়া শিবিরকে উদ্ধার করা নয়!
02nd  December, 2021
ওমিক্রনের মতোই ছড়াচ্ছে
বঙ্গ বিজেপির বিদ্রোহ
তন্ময় মল্লিক

বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় একের পর এক জেলাকে গ্রাস করছে বিদ্রোহের আগুন। বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতেও শোনা যাচ্ছে বিদ্রোহের সুর। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন না মেটা পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত বিক্ষুব্ধদের সামনে এনে দিয়েছে ‘ফ্রি হিট’এর সুযোগ। তাই তাঁরা ব্যাট চালাচ্ছেন হাঁকিয়ে। কারণ আউটের ভয় নেই।
বিশদ

নেতাজি: বহু অসম্মান
জয় করা এক মহাপ্রাণ
সমৃদ্ধ দত্ত

বন্দেমাতরমকে কি কংগ্রেসের অধিবেশনে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত হবে? ১৯৩৭ সালে এই বিতর্ক তুঙ্গে উঠল। কারণ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম নেতা কর্মী সদস্যরা আপত্তি তুললেন যে, এখানে সরাসরি মা দুর্গার সঙ্গে দেশমাতৃকাকে তুলনা করা হয়েছে। বিশদ

21st  January, 2022
কাশ্মীর দখলের নতুন চক্রান্ত!
মৃণালকান্তি দাস

জম্মুতে জয়ধ্বনি। কাশ্মীর থমথমে। দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবল প্রকোপে যখন ভারতীয় উপমহাদেশীয় ভূখণ্ড ভেঙে দু’টুকরো হচ্ছিল, সেই সময় ‘দুই জাতি’র কাল্পনিক দ্বন্দ্বের জাঁতাকলের মাঝখানে পড়ে গিয়েছিল যে কয়েকটি অঞ্চল, তার মধ্যে কাশ্মীরের পরিস্থিতিই ছিল সবচেয়ে জটিল।
বিশদ

20th  January, 2022
মেরুদণ্ড বাঁচাবার লড়াই
হারাধন চৌধুরী 

অর্থনীতি ধুঁকছে। তির গতি নিয়েছে দারিদ্র। আর যেসব ক্ষতির পরিমাপ টাকার অঙ্কে অসম্ভব, সেটাই হয়তো সবচেয়ে বড়। ... শিক্ষা যদি মেরুদণ্ড হয়ে থাকে, তবে আমাদের আজকের সমস্যা ও লড়াইটা মেরুদণ্ড বাঁচাবার।  
বিশদ

19th  January, 2022
বিজেপির খিচুড়ি রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ঘটনাটা লকডাউন শুরুর ঠিক পরের। ২০২০ সালের এপ্রিলের ১০ তারিখ। উত্তরপ্রদেশের কুশীনগরের এক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। রান্নার লোক আসেনি বলে গ্রামপ্রধান লীলাবতী দেবী নিজেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছিলেন। ভেবেছিলেন, জনা পাঁচেকের রান্না... একাই সামলে দিতে পারব। বিশদ

18th  January, 2022
ভারতীয় অর্থনীতি নিয়ে বৃথা অহঙ্কার
পি চিদম্বরম

মানুষের কথাবার্তায় আলোচনায় অবশ্য জিডিপির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে গ্যাস, ডিজেল ও পেট্রলের দাম। বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সিএমআইই-র হিসেবে, শহুরে বেকারত্বের হার ৮.৫১ শতাংশ এবং গ্রামীণ বেকারত্বের হার ৬.৭৪ শতাংশ। তবে বাস্তবটা আরও ভয়াবহ! বিশদ

17th  January, 2022
উত্তরপ্রদেশ মোদির
ওয়াটারলু হবে না তো!
হিমাংশু সিংহ

গত এপ্রিলে যখন কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে মিরাট থেকে শাহাজাহানপুর, অযোধ্যা থেকে বারাণসী, তখন এক যুবক ক্রমাগত ছুটছেন উত্তরপ্রদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। দলিত আর পিছড়ে বর্গের মানুষের ঘরে ঘরে। কোনওকিছুতেই যেন ভ্রুক্ষেপ নেই তাঁর। বয়স ৪৮।
বিশদ

16th  January, 2022
বিজেপির গেম প্ল্যানে জল
ঢেলে দিল সুপ্রিম কোর্ট
তন্ময় মল্লিক

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা এবং কার গাফিলতিতে ফিরোজপুরের ঘটনা তার যথাযথ তদন্ত চায় সুপ্রিম কোর্ট। দেশের মানুষের সামনে সত্যিটা তুলে ধরতে চায়। তাই গঠন করেছে তদন্ত কমিটি। এই কমিটি যেমন বিজেপির তোলা প্রধানমন্ত্রীকে খুনের চক্রান্তের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে, তেমনি তদন্তের আতসকাচের নীচে যাচাই হবে এসপিজির সেদিনের ভূমিকাও। সুপ্রিম কোর্ট বুঝিয়ে দিল, তদন্তের অজুহাতে রাজনীতি আর চলবে না।
বিশদ

15th  January, 2022
সার্বিক টিকাকরণ ও কোভিড
স্বাস্থ্যবিধিতেই বাগ মানবে ওমিক্রন
মৃন্ময় চন্দ

গোটা পৃথিবীর রাতের ঘুম কেড়েছে ওমিক্রন। সংক্রমণ লাগামছাড়া, ডেল্টার তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। মানবশরীরে ডেল্টার তুলনায় পাঁচগুণ দ্রুতগতিতে বংশবিস্তার শুরু করে ওমিক্রন। ওমিক্রনের ‘আরনট’ বর্তমানে ১০-এর (ল্যানসেট রেসপিরেটরি মেডিসিন, ১৭ ডিসেম্বর ২০২১) বেশি। হাম বা মিজলস-এর মতোই ছোঁয়াচে ওমিক্রন। বিশদ

15th  January, 2022
দেশের যে সমস্যাগুলি
আড়ালে থেকে যাচ্ছে
সমৃদ্ধ দত্ত

লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের এডিটোরিয়াল পেজ এডিটর সিউয়েল চ্যান বলেছিলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে, কেবল নিউজের মাধ্যমে জন্ম হচ্ছে নন স্টপ ওপিনিয়ন মেশিনের।
বিশদ

14th  January, 2022
স্বামীজি ধর্মের নামে কারবার ঘৃণা করতেন
মৃণালকান্তি দাস

 

ছেলেবেলায় বাবার বৈঠকখানায় সব গড়গড়ার নল মুখে নিয়ে জাত যায় কী করে, পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন।
বাবা বিশ্বনাথ দত্তের রসুইখানার বাবুর্চিও ছিলেন মুসলিম।
বিশদ

13th  January, 2022
নেমে আসুক সেই
উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের আলো
সন্দীপন বিশ্বাস

যে ভারত গড়ার স্বপ্ন স্বামীজি দেখেছিলেন, সেই ভারতকে আজ খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই মহামানব নরেন্দ্রর বাণীকে জীবনে ও কর্মে আত্মস্থ করতে পারেননি। বারবার তাঁর কথায় স্বামীজির প্রতি ভক্তির প্রকাশ দেখা যায় বটে, কিন্তু কর্মে তাঁর অবস্থান একেবারে বিপরীত মেরুতে। বিগত কয়েক বছরে তাঁর শাসন দক্ষতার নিদর্শন বুঝিয়ে দিয়েছে, যে ভরসা মানুষ তাঁর উপর করেছিলেন, সেখানে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ।
বিশদ

12th  January, 2022
একনজরে
জেলা ও মহাকুমা আদালতগুলিতে ভার্চুয়ালের  পাশাপাশি সশরীরে হাজির থেকে মামলার শুনানি শুরুর জন্য জোরালো দাবি জানাল রাজ্য বার কাউন্সিল। শুক্রবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে ওই দাবি জানান কাউন্সিলের কর্তারা। ...

অবিলম্বে স্কুল-কলেজ খোলার দাবিতে এসইউসি’র ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও’র পক্ষ থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে শুক্রবার অবরোধের কর্মসূচি নেওয়া হয়। ...

সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে বিস্ফোরক উদ্ধার হল পাঞ্জাবে। গুরুদাসপুর থানার দীনানগর এলাকা থেকে দু’কিলোগ্রাম আরডিএক্স উদ্ধার করেছে পুলিস। স্থানীয় এক পুলিসকর্তা জানান, শুক্রবার গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। ...

এমন কিছু হতে চলেছে আন্দাজই মেলেনি! সিরিজ হারের যন্ত্রণা ছিল শিবিরে। ড্রেসিং-রুম থেকে হোটেলে ফেরার পথেও হতাশার চাদরে নিজেদের মুড়ে রেখেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অযথা ঝামেলা ঝঞ্ঝাটে যাবেন না, ফেঁসে যেতে পারেন। কর্ম ও ব্যবসায় গতিমন্থরতা। খেলাধূলায় সাফল্য ও ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৬৬৬: মুঘল সম্রাট শাহজাহানের মৃত্যু
১৮৯৭ - কবি, লেখক সঙ্গীতশিল্পী তথা সুরকার দিলীপকুমার রায়ের জন্ম
১৯০০ - টেলিপ্রিন্টার ও মাইক্রোফেনের উদ্ভাবক ডেভিট এ্যাডওয়ার্ড হিউজ।
১৯০১- রানি ভিক্টোরিয়ার মৃত্যু
১৯২৭ - প্রথমবারের মতো বেতারে ফুটবল খেলার ধারাবিবরণী প্রচার।
১৯৭২: অভিনেত্রী নম্রতা শিরোদকরের জন্ম



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৩.৭১ টাকা ৭৫.৪৩ টাকা
পাউন্ড ৯৯.৬৬ টাকা ১০৩.১৫ টাকা
ইউরো ৮২.৯২ টাকা ৮৬.০৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৯,২০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৬,৭০০ টাকা
হলমার্ক গহনা(২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৭,৪০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৫,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৫,৪০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৮ মাঘ, ১৪২৮, শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২। চতুর্থী ৭/১১ দিবা ৯/১৫। পূর্ব্বফল্গুনী নক্ষত্র ১০/৩৯ দিবা ১০/৩৮। সূর্যোদয় ৬/২২/৩৬, সূর্যাস্ত ৫/১৩/১৫। অমৃতযোগ দিবা ১০/০ গতে ১২/৫২ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫০ গতে ১০/২৯ মধ্যে পুনঃ ১২/১৪ গতে ২/০ মধ্যে পুনঃ ২/৫২ গতে ৪/৩৭। বারবেলা ৭/৪৪ মধ্যে পুনঃ ১/৯ গতে ২/৩১ মধ্যে। পুনঃ ৩/২ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৬/৫২ মধ্যে পুনঃ ৪/৪৪ গতে উদয়াবধি।  
৮ মাঘ, ১৪২৮, শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২। চতুর্থী দিবা ৭/৪১। পূর্ব্বফল্গুনী নক্ষত্র দিবা ৯/৩৯। সূর্যোদয় ৬/২৬, সূর্যাস্ত ৫/১২। অমৃতযোগ দিবা ৯/৫৮ গতে ১২/৫৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫৮ গতে ১০/৩৩ মধ্যে ও ১২/১৬ গতে ১/৫৮ মধ্যে ও ২/৫০ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। কালবেলা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১/১০ গতে ২/৩০ মধ্যে ও ৩/৫১ গতে ৫/১২ মধ্যে। কালরাত্রি ৬/৫১ মধ্যে ও ৪/৪৭ গতে ৬/২৬ মধ্যে। 
১৮ জমাদিয়স সানি।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত ৯ হাজারের বেশি
রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৯ ...বিশদ

08:28:33 PM

বিয়ের মণ্ডপে কনেকে চড় মারল বর, পাল্টা চড় কনেরও
অভিনব ঘটনার সাক্ষী থাকল তামিলনাড়ুর পানরুতি। সম্প্রতি এখানে একটি বিয়ের ...বিশদ

06:04:12 PM

ভয়াবহ আগুনে ভস্মীভূত ডোমজুড়ের থার্মোকল কারখানা
হাওড়া: ভরদুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হাওড়ায়। আজ, শনিবার দুপুর ১টা নাগাদ ...বিশদ

05:06:00 PM

রাজ্যকে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ দিল বিশ্বব্যাঙ্ক
রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সহযোগিতায় এবার এগিয়ে এল বিশ্বব্যাঙ্ক। মমতা ...বিশদ

04:23:16 PM

বঙ্গোপসাগরে ভূমিকম্প
ওড়িশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে ভূমিকম্প। শনিবার দুপুরে অনুভূত হয় এই ...বিশদ

03:34:22 PM

মুম্বইয়ের অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করল কেন্দ্র সরকার

03:02:33 PM