Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মোদির পিছু হটা কীসের ইঙ্গিত!
মৃণালকান্তি দাস

ভারতীয় রাজনীতিতে ‘আন্না হাজারের মুহূর্ত’ বহু বছর আগে এসেছে এবং চলেও গিয়েছে! আন্না হাজারের আন্দোলন ছিল ‘ইউপিএ ২’ সরকারের অবক্ষয় এবং পতনের অনুঘটক। এই আন্দোলন দুর্নীতির ইস্যুকে সামনে এনে নরেন্দ্র মোদির মতো নেতার জন্য রাস্তা পরিষ্কার করেছিল। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভারত’—এই স্লোগান তুলে একজোট করার যে প্রক্রিয়া চলেছিল, তা বাম-ডান সবদিকের বিশিষ্টজনদের এক মঞ্চে এনে দাঁড় করিয়েছিল। পরের পর আর্থিক কেলেঙ্কারি, টুজি থেকে শুরু করে কোল, কমনওয়েলথ— এই সবকিছুই তীব্র গণবিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছিল। ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’ হয়ে উঠেছিল লক্ষ লক্ষ হুজুগে ভারতীয়র স্লোগান। ঝড়ে উড়ে গিয়েছিল মনমোহন সিংয়ের সরকার। আর সেই একই প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে দেশের কৃষক আন্দোলনকে ঘিরে। ২০১১-তে যদি লড়াইটা হয়ে থাকে আন্নার আন্দোলন এবং মনমোহন সিং সরকারের মধ্যে, তাহলে এই লড়াইটা ‘বিরোধী শক্তি বনাম নরেন্দ্র মোদি’-র। আর সেই লড়াইয়ের নেতৃত্বে দেশের কৃষকরা।
যে লড়াই শিখিয়েছে শাসকের চোখে চোখ রাখতে। ভয়ডরহীন প্রশ্ন ছুড়তে। যে লড়াই আঙুল তুলেছে সদর্পে। চেয়েছে উত্তর। দিল্লিতে শীত নেমে এসেছে রাতে। গোটা দিনরাত জবুথবু বসে। সঙ্গে কম্বল। দু’চারটে মোটা জামা। আর ছিল ওম। মানুষের। সংগ্রামের। জেদের। কৃষক স্বার্থের পক্ষে হানিকর তিনটি কৃষি বিল সংসদে কার্যত জবরদস্তি করে পাশ করিয়ে মোদি সরকার যে অন্যায়ের সূচনা করেছিলেন, পরবর্তী প্রায় দেড় বছর তারা সেই ট্র্যাডিশন সমানে চালিয়ে গিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। কয়েকশো কৃষকের মৃত্যুও তাঁদের মনোবল ভাঙতে পারেনি। গেরুয়া শিবির স্বভাবসিদ্ধ ছল, বল ও কৌশল প্রয়োগ করতে গিয়ে ক্রমাগত পর্যুদস্ত হয়েছে, প্রতিবাদী কৃষকদের তীক্ষ্ণ ও সচেতন প্রশ্নবাণ তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র ছিন্ন করেছে। নিশ্চিত এই সমবেত প্রতিস্পর্ধা ইতিহাসের পাতায় দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঠিক তার বিপরীতে, এবং তার সমান অনুপাতে, গভীর কলঙ্কের অক্ষরে লিখিত থাকবে মোদি সরকারের ভূমিকা। কৃষক আন্দোলনের মোকাবিলায় তাঁদের দম্ভ এবং নির্বুদ্ধিতা নিজেদের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করেছে।

নির্মম নিষ্ঠুরতার নিদর্শন, অথচ...
মোদি বাহিনী একটা বিষয়ে কৃষক আন্দোলনের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ। তাঁরা কৃষকদের প্রতিবাদের ক্ষমতাকে বুঝতে পারেননি। কৃষকদের মনোবল, আন্দোলনের প্রতি তাঁদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মানসিকতা, আত্মনিবেদনের দুর্মর আকাঙ্ক্ষা বোঝার ক্ষমতা মোদি সরকারের নেই। নিজেদের অহমিকা ও আত্মম্ভরিতা, দর্প ও আত্মবিশ্বাস এমন পর্যায়ে যে, তাঁরা ভাবতেই পারেন না যে তাঁদের শক্তির কাছে মাথা নোয়াতে অস্বীকার করার সমান আত্মবিশ্বাস কৃষকদেরও আছে। সরকারের উচিত ছিল, আন্দোলনকারী কৃষকদের ‘প্রতিপক্ষ’ হিসেবে না দেখে তাঁদের কথা শোনা। এটা তো জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, গণতান্ত্রিক মানসিকতার পরীক্ষা। গত সাত বছরে মোদি সরকারের চালকরা সেই পরীক্ষায় ডাহা ফেল। নিখাদ নিরঙ্কুশ অহমিকা মোদি সরকারের স্বধর্ম হয়ে উঠেছে।
আন্দোলন যখন শুরু হয়েছিল, তখন বলা হয়েছিল এই কৃষকরা ‘সন্ত্রাসবাদী’, এঁরা পাঞ্জাবের ধনী চাষি, জোতদার। বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজাররা দেখিয়েছিলেন, এই চাষিদের শিবিরে এসি মেশিন লাগানো, মার্সিডিজ ও বিএমডব্লিউ গাড়ি আসছে, ট্রাক্টরে করে বহু পাঞ্জাবি পরিবার দিল্লি সীমান্তে এসে পিকনিক করছে, অনেকে তো আরও একধাপ এগিয়ে বলেছিলেন— কানাডা থেকে খলিস্তানিরা টাকা পাঠাচ্ছে। মোদি দেখলেন, ধনী-জোতদার জাতীয় তকমা দিয়েও কৃষক আন্দোলন ভাঙা যায়নি। উল্টে পাঞ্জাব-হরিয়ানার ধনী কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন গোটা দেশের ভাগচাষি, প্রান্তিক চাষিরা। দলের নেতা-মন্ত্রীরা যখন দেশের অন্নদাতাদের অপমানকর আখ্যা দিয়েছেন, তখন রাজধর্ম পালন করে তাঁদের শাসন না করে মোদিজি স্বয়ং ‘আন্দোলনজীবী’ বলে কৃষকদের ব্যঙ্গ করেছেন।
শুধু তাই-ই নয়, তাঁর সরকার প্রথম থেকেই শান্তিপূর্ণ কৃষকদের মিছিল, প্রতিবাদ সভা ও ধর্নাস্থলগুলির উপর প্রকাশ্যে ও গোপনে অন্তর্ঘাতমূলক দমন-পীড়ন চালিয়ে গিয়েছে। প্রথমে দিল্লিমুখী কৃষক মিছিলগুলিতে লাঠিচার্জ, প্রচণ্ড ঠান্ডায় অমানবিকভাবে যথেচ্ছ জলকামানের ব্যবহার। প্রধান জাতীয় ও রাজ্য সড়কগুলিতে সরকারি লোক নিযুক্ত করে আড়াআড়ি ভাবে দশ ফুট গভীর ও পাঁচ ফুট চওড়া পরিখার মতো গর্ত খুঁড়ে রাখা। এর পাশাপাশি দিল্লির চারটি সীমানা আটকে দেওয়া হয়েছে নৃশংস কাঁটাতারে। ভারী ভারী কংক্রিটের আড়াল। ৮ থেকে ১০ সারির লোহার খাঁচার ঝালাই করা দেওয়াল। এমনকী, সামনের রাস্তায় অজস্র প্রাণঘাতী ছুঁচলো লোহার শলাকা পুঁতে দেওয়া, যাতে কৃষকরা এগতে না পারে। সঙ্গে পানীয় জলের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মতো নির্মম নিষ্ঠুরতা। সর্বশেষ সংযোজন, লখিমপুরে আট চাষিকে হত্যা। সরকার ভেবেছিল ভয় দেখিয়ে জমায়েত ভাঙবে। না, ভাঙা যায়নি। যাকে ইংরেজিতে বলে ‘পয়েন্টস অব নো রিটার্নস’। কৃষক আন্দোলনকে সেই অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছে মোদি সরকারই।
ভারতের ইতিহাসের পাতায় জয়ী হতে চাওয়ার এমন শান্ত সুদৃঢ় প্রত্যয় আর কখনও কি এভাবে দেখেছে দেশবাসী? কৃষকজনতা বিস্ময়কর এক শান্ত জনসমুদ্র, সমস্ত উত্তাপকে ভিতরে সংহত করে বাইরে কী অদ্ভুত রকমের নিস্তরঙ্গ। যে পুলিস একটু আগেই তাদের উপর নির্মম লাঠিচার্জ করেছে, তাদেরই রাজপথে পাত পেড়ে খাইয়েছে হাসিমুখে। অহিংস কৃষকসংগ্রামের চেতনায় রাজপথে জন্ম নিয়েছে সভ্যতার নতুন ব্যাকরণ।

ভোট, বুঝলেন ভোট...
৫৬ ইঞ্চি ছাতি মোদির এইভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা যে গত সাত বছরে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেনি, তা বলাই বাহুল্য। কৃষি আন্দোলন মোকাবিলায় গোড়া থেকেই যেরকম রণং দেহি মূর্তিতে সরকার ছিল, তাতে এইভাবে পিছু হটা যে দেশবাসীর কাছে বড় চমক, সে ব্যাপারেও কোনও সন্দেহ নেই। কেন সাত বছরে এই প্রথমবার মোদিকে পিছু হটতে হল, তার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর মতো খবরের কাগজ লিখেছে, হিন্দুত্ব-নির্ভর জাতীয়তাবাদের প্রভাব যে শিথিল হয়ে গিয়েছে, তা মোদির এই পিছু হটা থেকে স্পষ্ট। রাজনীতিতে যখন এইরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়, অর্থাৎ কোনও দলের প্রধান মতাদর্শটি ভোঁতা হয়ে যায়, তখন তা মেরামত করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।
পশ্চিমবঙ্গ, কেরল ও তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে হিন্দুত্বের কার্ড খেলেও বিজেপি সুবিধা করতে পারেনি। সম্প্রতি রাজস্থান, হিমাচলপ্রদেশের উপনির্বাচনেও হিন্দুত্ব-নির্ভর প্রচার কোনও কাজই দেয়নি। ফলে ২০২২-এর গোড়ায় বিজেপির কাছে মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ উত্তরপ্রদেশে জয়। নিন্দুকেরা বলছেন, মানুষ যে মোদি সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তা মাত্র ছ’মাস আগের উত্তরপ্রদেশের পঞ্চায়েত ভোটের ফল থেকেই স্পষ্ট। গ্রামীণ উত্তর প্রদেশের তিন হাজার আসনের মধ্যে মোদির দল পেয়েছে কোনওরকমে হাজারের কাছাকাছি আসন। বিরোধীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট আছে, কৃষক আন্দোলনের জেরে উত্তরপ্রদেশে আর ক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না।  
তাই দেশবাসীর উদ্দেশে নত মস্তকে ক্ষমা চেয়ে তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করার ঘোষণা করেছেন। এটা ভোট-রাজনীতির দাওয়াই। পিছু হঠার রাজনৈতিক রণকৌশল। কে না জানে, একটি শাসকদল পিছু হটে তখনই, যখন সে বুঝতে পারে তার পায়ের তলার মাটি সরছে। পায়ের তলার মাটি একবার সরতে শুরু করলে কী হয় তা বাংলার মানুষ জানেন। সিঙ্গুরেও পিছু হটে নজির গড়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, বুদ্ধবাবুর ওই পিছু হটা বামফ্রন্টের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতেছিল। বুদ্ধবাবু ডুবেছিলেন, সিঙ্গুরের মানুষের মতামত না নিয়েই জোরজবরদস্তি জমি অধিগ্রহণ করে। মোদির ক্ষেত্রেও তাই। দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা ছাড়া কৃষিতে সংস্কারমূলক তিনটি আইন আনতে গিয়ে তিনিও ডুবেছেন।

না আঁচালে বিশ্বাস নেই...
এ দেশের মানুষ বিলক্ষণ জানেন, সব রত্নাকর বাল্মীকি হন না! মোদি তো নন-ই। কৃষি আইন প্রত্যাহারে মোদির নাটকে অভ্যস্ত পোড়খাওয়া কৃষক আন্দোলনের সচেতন নেতারা তাই স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, সংসদের দুই কক্ষে এই তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার না করলে তাঁরা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না। দাবি তো শুধু নয়া কৃষি আইন প্রত্যাহার নয়, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের গ্যারান্টি কোথায়? নয়া বিদ্যুৎ বিলের কী হবে? চার লক্ষ কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। তা নয়া কৃষি আইনের জন্য নয়, ফসলের দাম না পেয়ে। স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য না পেলে কৃষক বাঁচবে না, সেইসঙ্গে অপঘাতে মৃত্যু হবে ভারতীয় কৃষিরও। তাই আন্দোলন চলবে। কৃষকরা প্রধানমন্ত্রী কথার ওপর ন্যূনতম আস্থা রাখতে নারাজ।
কেউ কেউ বলছেন, এটাই মোদির শেষের শুরু! ২০২০-র করোনা সংক্রামিত দুনিয়ায় মৃত্যুযাত্রার পাশাপাশি ভারত এক আশ্চর্য রকমের বাঁচার, বাঁচতে চাওয়ার ছবিও দেখছে, ছবিটা ২০২৪-এ আরও উজ্জ্বল হবে। নিশ্চিত। সেই ছবি জুড়ে কাস্তে। ট্র্যাক্টর। লাঙল। স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। কাঁধে কাঁধ। ব্যারিকেড। লড়াই। বিদ্রোহ। দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ। শাশ্বত। ঐতিহাসিক...।
ওরা জিতবে, জয়ী হয়েই ফিরবে কৃষকভারত।
25th  November, 2021
চোপ! গণতন্ত্র নয়,
স্বৈরতন্ত্র চলছে
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের দেশের মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন, মোদিজি কীভাবে দিনের পর দিন মুখে গণতন্ত্রের মুখোশ এঁটে একের পর এক স্বৈরতান্ত্রিক কাজের মধ্য দিয়ে দেশটাকে রসাতলে পাঠাচ্ছেন। একটা অস্থির, দুর্বল ভারত গড়ে তুলছেন। ক্রমশ স্লো পয়জনিংয়ের মতো দেশের মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন সমস্যা, অভাব, দারিদ্র, হিংসা, ঘৃণা, পাপাচার।
বিশদ

জ্যোতি নিভবে, ইতিহাসের
রং গেরুয়া হবে না
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 

মোদিজি, ভারতের ঐতিহ্য বা সম্মান এত ঠুনকো নয়, যা ধর্মের নামে দালালি করা কিছু অশিক্ষিতের জন্য ধসে যাবে। এই ভারতকে মহান করেছেন স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এ পি জে আব্দুল কালাম বা এই দেশের মাটিতে জন্ম নেওয়া সৈনিকরা। সেই কৃতিত্ব তাঁদেরই। আপনি, আপনার দল বা সরকার... তাঁদের কৃতিত্ব কেড়ে নিতে পারবেন না। মুছে দিতে পারবেন না ৭০ বছরের ইতিহাসও।
বিশদ

25th  January, 2022
এখনও রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হয়নি
পি চিদম্বরম

ভিন্ন সুরের গানের কণ্ঠ শুনতে পেলে ভালো লাগে। একসময়ের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা, ডঃ অরবিন্দ সুব্রামনিয়ান বর্তমানে ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র ফেলো।
বিশদ

24th  January, 2022
ওমিক্রনের মতোই ছড়াচ্ছে
বঙ্গ বিজেপির বিদ্রোহ
তন্ময় মল্লিক

বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় একের পর এক জেলাকে গ্রাস করছে বিদ্রোহের আগুন। বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতেও শোনা যাচ্ছে বিদ্রোহের সুর। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন না মেটা পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত বিক্ষুব্ধদের সামনে এনে দিয়েছে ‘ফ্রি হিট’এর সুযোগ। তাই তাঁরা ব্যাট চালাচ্ছেন হাঁকিয়ে। কারণ আউটের ভয় নেই।
বিশদ

22nd  January, 2022
নেতাজি: বহু অসম্মান
জয় করা এক মহাপ্রাণ
সমৃদ্ধ দত্ত

বন্দেমাতরমকে কি কংগ্রেসের অধিবেশনে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত হবে? ১৯৩৭ সালে এই বিতর্ক তুঙ্গে উঠল। কারণ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম নেতা কর্মী সদস্যরা আপত্তি তুললেন যে, এখানে সরাসরি মা দুর্গার সঙ্গে দেশমাতৃকাকে তুলনা করা হয়েছে। বিশদ

21st  January, 2022
কাশ্মীর দখলের নতুন চক্রান্ত!
মৃণালকান্তি দাস

জম্মুতে জয়ধ্বনি। কাশ্মীর থমথমে। দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবল প্রকোপে যখন ভারতীয় উপমহাদেশীয় ভূখণ্ড ভেঙে দু’টুকরো হচ্ছিল, সেই সময় ‘দুই জাতি’র কাল্পনিক দ্বন্দ্বের জাঁতাকলের মাঝখানে পড়ে গিয়েছিল যে কয়েকটি অঞ্চল, তার মধ্যে কাশ্মীরের পরিস্থিতিই ছিল সবচেয়ে জটিল।
বিশদ

20th  January, 2022
মেরুদণ্ড বাঁচাবার লড়াই
হারাধন চৌধুরী 

অর্থনীতি ধুঁকছে। তির গতি নিয়েছে দারিদ্র। আর যেসব ক্ষতির পরিমাপ টাকার অঙ্কে অসম্ভব, সেটাই হয়তো সবচেয়ে বড়। ... শিক্ষা যদি মেরুদণ্ড হয়ে থাকে, তবে আমাদের আজকের সমস্যা ও লড়াইটা মেরুদণ্ড বাঁচাবার।  
বিশদ

19th  January, 2022
বিজেপির খিচুড়ি রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ঘটনাটা লকডাউন শুরুর ঠিক পরের। ২০২০ সালের এপ্রিলের ১০ তারিখ। উত্তরপ্রদেশের কুশীনগরের এক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। রান্নার লোক আসেনি বলে গ্রামপ্রধান লীলাবতী দেবী নিজেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছিলেন। ভেবেছিলেন, জনা পাঁচেকের রান্না... একাই সামলে দিতে পারব। বিশদ

18th  January, 2022
ভারতীয় অর্থনীতি নিয়ে বৃথা অহঙ্কার
পি চিদম্বরম

মানুষের কথাবার্তায় আলোচনায় অবশ্য জিডিপির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে গ্যাস, ডিজেল ও পেট্রলের দাম। বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সিএমআইই-র হিসেবে, শহুরে বেকারত্বের হার ৮.৫১ শতাংশ এবং গ্রামীণ বেকারত্বের হার ৬.৭৪ শতাংশ। তবে বাস্তবটা আরও ভয়াবহ! বিশদ

17th  January, 2022
উত্তরপ্রদেশ মোদির
ওয়াটারলু হবে না তো!
হিমাংশু সিংহ

গত এপ্রিলে যখন কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে মিরাট থেকে শাহাজাহানপুর, অযোধ্যা থেকে বারাণসী, তখন এক যুবক ক্রমাগত ছুটছেন উত্তরপ্রদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। দলিত আর পিছড়ে বর্গের মানুষের ঘরে ঘরে। কোনওকিছুতেই যেন ভ্রুক্ষেপ নেই তাঁর। বয়স ৪৮।
বিশদ

16th  January, 2022
বিজেপির গেম প্ল্যানে জল
ঢেলে দিল সুপ্রিম কোর্ট
তন্ময় মল্লিক

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা এবং কার গাফিলতিতে ফিরোজপুরের ঘটনা তার যথাযথ তদন্ত চায় সুপ্রিম কোর্ট। দেশের মানুষের সামনে সত্যিটা তুলে ধরতে চায়। তাই গঠন করেছে তদন্ত কমিটি। এই কমিটি যেমন বিজেপির তোলা প্রধানমন্ত্রীকে খুনের চক্রান্তের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে, তেমনি তদন্তের আতসকাচের নীচে যাচাই হবে এসপিজির সেদিনের ভূমিকাও। সুপ্রিম কোর্ট বুঝিয়ে দিল, তদন্তের অজুহাতে রাজনীতি আর চলবে না।
বিশদ

15th  January, 2022
সার্বিক টিকাকরণ ও কোভিড
স্বাস্থ্যবিধিতেই বাগ মানবে ওমিক্রন
মৃন্ময় চন্দ

গোটা পৃথিবীর রাতের ঘুম কেড়েছে ওমিক্রন। সংক্রমণ লাগামছাড়া, ডেল্টার তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। মানবশরীরে ডেল্টার তুলনায় পাঁচগুণ দ্রুতগতিতে বংশবিস্তার শুরু করে ওমিক্রন। ওমিক্রনের ‘আরনট’ বর্তমানে ১০-এর (ল্যানসেট রেসপিরেটরি মেডিসিন, ১৭ ডিসেম্বর ২০২১) বেশি। হাম বা মিজলস-এর মতোই ছোঁয়াচে ওমিক্রন। বিশদ

15th  January, 2022
একনজরে
নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দূরে রেখে ক্রমশ ক্রিকেট ফিরছে পাকিস্তানে। দীর্ঘ ২৪ বছর পর ফের পাক সফরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ...

নিরাপত্তায় জোর দিতে নালাগোলা রাজ্য সড়কের হবিবপুর ব্লকের আইহো সদরে পুলিসবুথ তৈরি করা হচ্ছে। ...

তাঁর সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সাপে-নেউলে সম্পর্ক। যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশেই তাঁর চাকরি গিয়েছিল। বিতর্কিত সেই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ কাফিল খান এবার যোগীর বিরুদ্ধে গোরক্ষপুর থেকে ভোটে দাঁড়ানোর জল্পনা উস্কে দিলেন। ...

মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি অসীম দাস খুনে ধৃত শ্যুটার আজিজুল শেখকে নিজেদের হেফাজতে নিল সিআইডি। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

আর্থিক বিবাদে আইনি বিজয় এবং আটকে থাকা অর্থ প্রাপ্তি। পরিবারের কোনও সদস্যের অনৈতিক কর্মে গৃহে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

সাধারণতন্ত্র দিবস
১৮৪১: আনুষ্ঠানিকভাবে হংকং দখল করল ব্রিটিশরা
১৯৩০: পরাধীন ভারতে এই দিনটিকে ‘পূর্ণ স্বরাজ দিবস’ বা ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করল জাতীয় কংগ্রেস
১৯৫০: লাগু হল ভারতের সংবিধান। রাষ্ট্রপতি পদে রাজেন্দ্র প্রসাদ দায়িত্ব গ্রহণ করে সূচনা করলেন গণতন্ত্রের।
১৯৫৪: রাজনীতিবিদ মানবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যু
১৯৬৫- হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিল কেন্দ্র
১৯৬৯ - বাঙালি ধর্মসংস্কারক অনুকূলচন্দ্র ঠাকুরের মৃত্যু
১৯৯২: পরমাণু অস্ত্রের মাধ্যমে আমেরিকার বিভিন্ন শহরকে নিশানা করা থেকে রাশিয়া বিরত হবে বলে জানালেন বরিস ইয়েলৎসেন
২০০১: গুজরাতের ভুজে বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মৃত্যু হল প্রায় ২০ হাজার মানুষের
২০০৪: আফগানিস্তানের নয়া সংবিধানে স্বাক্ষর করলেন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই
২০১৮ - অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর মৃত্যু।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৯১ টাকা ৭৬.২০ টাকা
পাউন্ড ৯৮.১৬ টাকা ১০২.৮৯ টাকা
ইউরো ৮২.৪১ টাকা ৮৬.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৯,৪০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৬,৮৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৭,৫৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৪,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৪,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১২ মাঘ, ১৪২৮, বুধবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২২। অষ্টমী ০/১০ প্রাতঃ ৬/২৬ পরে নবমী ৫৫/৩২ রাত্রি ৪/৩৫। স্বাতী নক্ষত্র ৯/২২ দিবা ১০/৬। সূর্যোদয় ৬/২১/৪৭, সূর্যাস্ত ৫/১৬/৩৩। অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৮ মধ্যে পুনঃ ১০/০ গতে ১১/২৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৫ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। রাত্রি ৬/৯ গতে ৮/৪৬ মধ্যে পুনঃ ২/০ গতে উদয়াবধি। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ১/৩৮ গতে ৩/৫ মধ্যে। রাত্রি ৮/৪৬ গতে ১০/৩০ মধ্যে। বারবেলা ৯/৫ গতে ১০/২৭ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৮ গতে ১/১০ মধ্যে। কালরাত্রি ৩/৬ গতে ৪/৪৪ মধ্যে।
১২ মাঘ, ১৪২৮, বুধবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২২। নবমী রাত্রি ১২/৫৮। স্বাতী নক্ষত্র দিবা ৭/১৮ পরে বিশাখা নক্ষত্র শেষরাত্রি ৫/৫৬। সূর্যোদয় ৬/২৫, সূর্যাস্ত ৫/১৫। অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১০/০ গতে ১১/২৯ মধ্যে ও ৩/১০ গতে ৪/৩৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১৫ গতে ৮/৫০ মধ্যে ও ২/০ গতে ৬/২৫ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ১/৪২ গতে ৩/১০ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/৫০ গতে ১০/৩৩ মধ্যে। কালবেলা ৯/৮ গতে ১০/২৯ মধ্যে ও ১১/৫০ গতে ১/১১ মধ্যে। কালরাত্রি ৩/৮ গতে ৪/৪৬ মধ্যে। 
২২ জমাদিয়স সানি।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
শুভেচ্ছা ও ছুটি
আজ, বুধবার ২৬ জানুয়ারি দেশের ৭৩তম সাধারণতন্ত্র দিবস। এই ঐতিহাসিক ...বিশদ

04:00:00 AM

পদ্মভূষণ ফেরাচ্ছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও
গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও তবলিয়া অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের পর রাজ্যের প্রাক্তন ...বিশদ

25-01-2022 - 09:30:00 PM

এবার পদ্মশ্রী ফিরিয়ে দিলেন তবলিয়া অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়
গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের পর এবার আরও এক শিল্পী। এবার পদ্মশ্রী ...বিশদ

25-01-2022 - 09:09:43 PM

পদ্মশ্রী পুরস্কার ফেরালেন গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়
কেন্দ্রীয় সরকারের পদ্মশ্রী সম্মান ফিরিয়ে দিলেন প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী গীতশ্রী সন্ধ্যা ...বিশদ

25-01-2022 - 07:49:15 PM

কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরপিএন সিং

25-01-2022 - 03:59:00 PM

দুর্ঘটনার কবলে জাকির হোসেনের কনভয়ের পাইলট গাড়ি
দুর্ঘটনার কবলে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেনের ...বিশদ

25-01-2022 - 03:35:12 PM