Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

জীবনে ফিরে আসুক
কোজাগরীর অনন্ত আলো
সন্দীপন বিশ্বাস

এ এমন এক শ্বাসরুদ্ধ সময়, যখন বেঁচে থাকার শর্তগুলো এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। ক্রমাগত ভাইরাসের আক্রমণ আর আতঙ্কে হারিয়ে গিয়েছে মানুষের আত্মবিশ্বাস। পৃথিবীটা আজ যেন চির অমানিশার এক গ্রহ। এরই মধ্যে জেগে উঠেছে আরও এক কোজাগরী রাত। এই রাতে অফুরান জ্যোৎস্নার ঢেউ ওঠে চরাচর জুড়ে। মার খাওয়া এই সঙ্কুচিত জীবনে নেমে আসুক অলৌকিক এক স্বপ্নের রাত, শুভ দিন। আবার নতুন বিশ্বাসে, নতুন প্রত্যাশায় বেঁচে ওঠার আশ্বাস ছড়িয়ে পড়ুক লক্ষ্মীপুজোর এই শুভক্ষণে। দেশের বহু মানুষ এখন কর্মহীন, অর্থহীন, স্বাস্থ্যহীন এক ভাঙাচোরা প্রজাতি। তার পুনরুত্থানের কামনায় বাঙালির ঘরে ঘরে কোজাগরী পূর্ণিমায় চলছে ধনদাত্রীর আরাধনা। অনন্তকাল ধরে বাঙালি বুক নিংড়ে যে সামান্য বরটুকু চেয়েছে, সেটা হল তার সন্তানকে দুধেভাতে রাখা। 
তবে সময় বড় যন্ত্রণাময়। উৎসবের আসরে একে তো ভাইরাসের আতঙ্ক ছিলই, তার উপরে মানবঘাতী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির উস্কানি মানুষকে বড়ই পীড়িত করেছে। সেই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদকে অস্ত্র করে অশান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য চক্রান্ত জারি রয়েছে। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত নিন্দার। একশ্রেণির মৌলবাদী দস্যু সেদেশের সংখ্যালঘু মানুষের ধর্মাচরণের উপর কুৎসিতভাবে আক্রমণ করেছে। এই জঘন্য আচরণের বিরুদ্ধে নিন্দায় মুখর হয়ে উঠেছে সারা বিশ্ব। তবে এটা যে বাংলাদেশের অন্তর থেকে সম্মিলিতভাবে উঠে আসা কোনও আক্রমণ নয়, সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এর পিছনে রয়েছে এমন এক শক্তি, যারা বাংলাদেশকে বিপাকে ফেলতে চায়, ভারতের সঙ্গে হাসিনার সদ্ভাব নষ্ট করতে চায়। এর পিছনে ষড়যন্ত্র মূলত দাদা চীনের, পাকিস্তানপন্থী বাংলাদেশিদের এবং রোহিঙ্গাদের। মনে রাখা দরকার এই ধরনের কাজ ভবিষ্যতে আরও হবে। খাল কেটে কুমিরের মতো রোহিঙ্গাদের ঘরে ঢোকানোর আরও মাশুল গুনতে হবে হাসিনা সরকারকে। এই সময়ে হাসিনা সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে মৌলবাদীদের মোকাবিলা করে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে হবে। উৎসবের সময় সেখানকার বিভিন্ন মণ্ডপে, মন্দিরে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তার পিছনে একটা বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। সেই উদ্দেশ্য রাজনৈতিক। সেই রাজনৈতিক দুরভিসন্ধির আগুন জ্বলেছে কুমিল্লা, নোয়াখালি, রংপুর, রাজশাহি, সিলেট, ঢাকা, মাদারিপুর, কাশিমবাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁদপুর, কক্সবাজার, বেগমগঞ্জে। মন্দিরে হামলা হয়েছে, মণ্ডপে হামলা হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে ইসকন। যেভাবে সর্বত্র একসঙ্গে আক্রমণ হয়েছে, তাতে বোঝাই যায় এর পিছনে একটা ষড়যন্ত্র রয়েছে। তবে আশার কথা বাংলাদেশেরই শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ও শিক্ষিত সংখ্যাগুরুরাই এই তাণ্ডবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। সঙ্ঘবদ্ধভাবে তাঁরা প্রতিজ্ঞা করেছেন, বাংলাদেশকে মৌলবাদীদের হাতের পুতুল হতে দেবেন না। তাঁরাই পুজোর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়িয়ে দুর্গামণ্ডপ রক্ষা করেছেন। সারারাত দুই সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আসলে অশুভ শক্তির কোনও জাত হয় না, সম্প্রদায় হয় না, দেশও হয় না। অশুভ শক্তি হল অসুরের জাত। তারা মানব কল্যাণ বিরোধী। সমস্ত ধর্মের মধ্যেই অসুরদের উৎপাত অনুভব করা যায়। সমস্ত শুভ শক্তিকে একত্রিত হয়ে তাকে ধ্বংস করতে হবে। 
আজ কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের সামনে একটা বড় চ্যালেঞ্জ উপস্থিত। সেখানে ধর্মের নামে একটা উন্মত্ততা তৈরির প্রয়াস চলছে। অশুভ শক্তি চাইছে, হাসিনার ক্ষমতার ভিতকে ভেঙে গুঁড়িয়ে মৌলবাদী শাসকের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে। আমাদের এখানে যেমন ধর্মান্ধ মানুষ আছেন, আবার ধর্মনিরপেক্ষ মানুষও আছেন, বাংলাদেশেও সেরকম। সেখানকার ধর্মনিরপেক্ষরা হাসিনার পাশে দাঁড়িয়ে রাশ শক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন। আবেদন জানিয়ে তাঁরা বলেছেন, এই দেশটাকে অবিলম্বে ধর্মনিরপেক্ষ করে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে চরম আঘাত হানতে হবে। পাশাপাশি ভারতের চাপও রয়েছে। হয়তো অচিরেই বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিল আনবে। যে আদর্শকে একদিন শেখ মুজিবুর রহমান মেনে চলতেন, আজ সেই আদর্শের পথ ধরেই এগিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়।’ কিন্তু মৌলবাদীরা সেদিন তাঁকে খুন করে দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার বোধকে দূরে সরিয়ে দিয়ে ইসলাম ধর্মকেই রাষ্ট্র পরিচালনার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল। পরে হাসিনা সরকার এসে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার বোধকে কিছু কিছু সংযোজিত করেন। তিনি সেখানে সব ধর্মের সমানাধিকারের সুযোগ তৈরি করেছেন। সংবিধানে বলা হয়েছে, ইসলাম ধর্ম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃত হলেও হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সহ অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও সমান স্বীকৃতি ও মর্যাদা দিতে হবে।  সেই অধিকার শুধু কাগজে কলমে স্বীকৃত হলেই চলবে না। বাংলাদেশের প্রশাসনকে তা মেনে চলতেও হবে। চীন, পাকিস্তান  চাইছে বাংলাদেশ তাদের হাতে সাজানো তামাক খাক। তাদের বশংবদ হোক। তাই এই লড়াই শুধু সেদেশের সংখ্যালঘুদেরই নয়, এ লড়াই সেদেশের মানুষ এবং প্রশাসনেরও। হয় তারা রুখে দাঁড়িয়ে সংখ্যালঘুদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেবে, না হয় তারা চীনের দাসে পরিণত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। সেদেশের সচেতন, শিক্ষিত মানুষের কাছে এই ভবিতব্য অত্যন্ত পরিষ্কার। তাই তাঁরা নিজেদের দেশকে বাঁচাতে মৌলবাদীদের নির্মূল করতে চাইছেন দেশ থেকে। সেই বোধ জেগেছে হাসিনারও। তিনিও চাইছেন, রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। অশান্তির পর একেবারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই তিনি বলেছেন, ‘যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের এটাই মূলমন্ত্র।’ সুতরাং অনেকেই মনে করছেন, তিনি আবার দেশকে ধর্মনিরপেক্ষতার মন্ত্রে বাঁধতে সক্ষম হবেন। 
বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিতে এদেশের বিজেপিকূল একটা ইস্যু পাওয়ার আশায় সজাগ হয়ে উঠেছে। তারা এটাকে হাতিয়ার করে বাংলার মানুষের মনে একটু সহানুভূতির ঢেউ তুলতে চাইছে। রাজ্যের গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এখানে পর্যুদস্ত হয়েছে। সেই ক্ষততে মলম লাগিয়ে তারা নতুন করে জেগে ওঠার পরিকল্পনা করতে শুরু করেছে। কিন্তু তা সম্ভব নয়। সচেতন মানুষ সমস্ত পরিস্থিতির দিকেই নজর রেখেছেন।
পুজোয় বাঙালির আনন্দে কালি ছিটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। আবার অন্যদিকে বাঙালির আত্মহারা পুজোর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাঙালির স্বার্থবিরোধী একটি পদক্ষেপও চুপিসারে নিয়ে ফেলেছেন। সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার ভিতর পর্যন্ত দখলদারি বাড়ানো হয়েছে বিএসএফের। এটা আগে ছিল ১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যেই ছিল তাদের যাবতীয় অপারেশন। বিএসএফ দেশের প্রহরীর কাজ করে, এনিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু সীমান্ত এলাকায় তাদের কাজকর্ম কিন্তু বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। সীমান্ত অঞ্চলে যাঁরা থাকেন, সেই সব ভুক্তভোগী বিএসএফের একাংশের অত্যাচারের কথা জানেন। সাধারণ নিরীহ কৃষক সহ মা-বোনেরা তটস্থ হয়ে থাকেন। যেভাবে সেখানে অত্যাচার ও জোরজুলুমের ঘটনা ঘটে, তা সভ্য মানুষের পরিচয় বহন করে না। রাষ্ট্রক্ষমতা যাঁরা ভোগ করেন, তাঁরা যদি সৎ না হন, কাজের প্রতি সততা না থাকে, তবে সবকিছু বিশৃঙ্খল হতে বাধ্য। বাংলায় নির্বাচনে হারের বদলা নিতেই এটা করা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। নানাভাবে বাংলাকে ভাতে মারার চক্রান্ত চলছে তো চলছেই। তিন রাজ্যে এই নিয়ম লাগু হয়েছে। এই তিন রাজ্য হল বাংলা, অসম ও পাঞ্জাব। তার মধ্যে বাংলা এবং পাঞ্জাবে বিজেপির ভাঙাচোরা অবস্থা। 
যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় একটি রাজ্যের যে সাংবিধানিক অধিকারটুকু ছিল, সেটাকে খর্ব করতে উঠে পড়ে লেগেছেন নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ। সমস্ত সংস্থার স্বাধীনতাকে খর্ব করে তাঁরা সেগুলিকে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী ব্যবহার করে চলেছেন। ইডি, আইটি, সিবিআই, এনআইএ, এনসিবির মতো সংস্থাগুলিকে যেভাবে দাসানুদাসে পরিণত করা হয়েছে, বিএসএফকে এবার সেভাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়েছেন দুই কর্তা।  
অথচ বাঙালির কাছে মুখ্যমন্ত্রী যে স্বস্তিটুকু এনে দিতে চাইছেন, তাতে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা আনার চেষ্টা হচ্ছে। করোনাকালে এরাজ্যের মানুষের হাতে নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন মমতা। বিভিন্ন খাতে মানুষের হাতে টাকা পৌঁছে দিয়ে তাঁদের লড়াইয়ের শক্তি জোগানোর চেষ্টা করছেন। ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার গড়ে সেখানে নারীর ক্ষমতায়নের চেষ্টা করছেন। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, দুয়ারে সরকার, স্বাস্থ্যসাথী, একশো দিনের কাজ সহ বহুমুখী প্রকল্পের মাধ্যমে সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। বিপদকালে বা উৎসবের সময়ে তাঁর এই ভূমিকা দেখে অসহায় বিজেপি এখন শুধু ছিদ্রান্বেষীর ভূমিকা পালন করছে এবং কেন্দ্র বারবার চেষ্টা করছে রাজ্যকে বিপাকে ফেলার। 
তবে আজ এই শুভক্ষণে মানুষের আকুল প্রার্থনা— সব প্রতিকূলতা কেটে যাক। অনন্ত হোক এই কোজাগরী রাত। আকাশ থেকে গলানো সোনার মতো নেমে আসুক আরও আলো, আরও শান্তি। দীর্ঘায়িত হোক জীবনের কোজাগরী আলো।  
20th  October, 2021
তথ্য সুরক্ষা বিল এবং
শাসকের ‘দূরের লক্ষ্য’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

এ দেশের ক্ষেত্রে যদি নজরদারি চালানোটা আইনসিদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে তো আর আড়াল-আবডালের প্রয়োজনই থাকবে না। সেটাই চাইছে কেন্দ্র। আইনি সিলমোহর। সরকার বিরোধী মতামত দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে সরকারের ভাড়া করা সৈন্যরা। টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাবে গারদের ওপারে।​​​​​
বিশদ

প্রভাবশালী ধনীরা
জবাবদিহির ঊর্ধ্বে
পি চিদম্বরম

ধনীরা প্রভাবশালী হয় এবং প্রভাবশালীরা ধনী হয়। একবার প্রভাবশালী এবং ধনী হয়ে গেলে, স্পষ্টতই তারা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে চলে যাবে। এটাই হয়েছে আজেকর বিপদ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর জন শেরম্যান (প্রথম অ্যান্টিট্রাস্ট অ্যাক্ট, ১৮৯০—সাধারণভাবে যেটিকে শেরম্যান আইন হিসাবে উল্লেখ করা হয়) বিশদ

29th  November, 2021
কংগ্রেসের বিকল্প তৃণমূল
হলে আপত্তি কোথায়?
হিমাংশু সিংহ

গোটা দেশে ঝিমিয়ে পড়া বিরোধীদের শুকনো গাঙে তিনি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিপ্লবের নয়া কেতন উড়িয়ে দিয়েছেন। ত্রিপুরা থেকে গোয়া। জাতীয় রাজনীতির মঞ্চেও মমতাই আজ মোদির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য প্রতিপক্ষ।
বিশদ

28th  November, 2021
পুরভোটের সন্ত্রাসে বিপদ
বাড়ল ত্রিপুরা বিজেপির
তন্ময় মল্লিক

ত্রিপুরায় তৃণমূলকে শূন্য প্রমাণের জন্য পুরভোটে লাগামছাড়া সন্ত্রাস করে বিজেপি নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মারল। ২০২৩ সালে আর ইউনিট টেস্ট নয়, বিপ্লব দেবকে বসতে হবে বোর্ডের পরীক্ষায়। পরীক্ষকের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশদ

27th  November, 2021
কৃষকরা সকলের জন্যই
দিলেন জীবনের শিক্ষা
সমৃদ্ধ দত্ত

নরেন্দ্র মোদির বিরোধীদের কাছে একটাই সুসংবাদ যে, তিনি ইতিহাস চর্চা করেন না। যদি করতেন, তাহলে বহু পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একবার ভারতের ইতিহাসের দিকে চোখ রাখতেন। খুব বেশি পরিশ্রমও করতে হতো না। কারণ তাঁর হাতের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস রয়েছে। তাঁর নিজের রাজ্যে।
বিশদ

26th  November, 2021
মোদির পিছু হটা কীসের ইঙ্গিত!
মৃণালকান্তি দাস

কে না জানে, একটি শাসকদল পিছু হটে তখনই, যখন সে বুঝতে পারে তার পায়ের তলার মাটি সরছে। পায়ের তলার মাটি একবার সরতে শুরু করলে কী হয় তা বাংলার মানুষ জানেন। সিঙ্গুরেও পিছু হটে নজির গড়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বুদ্ধবাবু ডুবেছিলেন, সিঙ্গুরের মানুষের মতামত না নিয়েই জোরজবরদস্তি জমি অধিগ্রহণ করে। মোদির ক্ষেত্রেও তাই। দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা ছাড়া কৃষিতে সংস্কারমূলক তিনটি আইন আনতে গিয়ে তিনিও ডুবেছেন।
বিশদ

25th  November, 2021
দুঃসময়ের রাজনীতি
হারাধন চৌধুরী

একতারা হাতে এক বাউল এলেন। কোনও অনুরোধ ছাড়াই একটি প্রচলিত গান গেয়ে হাত পাতলেন। কিছু দেব কি দেব না ইতস্তত করছি। লোকটি আমার মন পড়ে নিলেন নিশ্চয়। কিছু দাবি করার পরিবর্তে প্রশ্ন রাখলেন, ‘বাবু, দুঃসময় কাকে বলে?’ বিশদ

24th  November, 2021
জনতার দাবি মানুন,
প্রায়শ্চিত্ত করুন
শান্তনু দত্তগুপ্ত

তিনি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের নামে কুৎসা করেছেন... তাও তিনি রাষ্ট্রদ্রোহী নন। কারণ, তিনি ভারতের ‘অধিনায়ক’। ভোট প্রচারে রাজ্যে রাজ্যে গিয়ে বিরোধীদের আক্রমণ করেছেন, শালীনতার সীমা ছাড়িয়েছেন। তাও তিনি বীর দাস নন। তিনি প্রধানমন্ত্রী। ভোট আসছে... পাঁচ রাজ্যের। মোদিতন্ত্রের রাজদণ্ড এখন কথা বলছে গণতন্ত্রের। ক্ষমা চাইছে দেশবাসীর কাছে।
বিশদ

23rd  November, 2021
আমার হিন্দুধর্ম নিয়ে খুশি
পি চিদম্বরম

হিন্দুধর্মে একটি চার্চ, একটি পোপ, একজন প্রফেট বা নবী, একটি পবিত্র গ্রন্থ বা একটিমাত্র পালনীয় আচার নেই। প্রত্যেকটিই আছে অনেকগুলি করে। একজন হিন্দুর এই বহুর মধ্যে যেকোনও একটিকে বেছে নেওয়ার অথবা সবগুলিকেই প্রত্যাখ্যান করার স্বাধীনতা আছে। কিছু পণ্ডিত যুক্তি দিয়েছেন যে হিন্দু হয়েও একজন আস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী অথবা নাস্তিক হতে পারেন!
বিশদ

22nd  November, 2021
নির্মম ইতিহাসের
সামনে ৫৬ ইঞ্চি ছাতি
হিমাংশু সিংহ

প্রধানমন্ত্রীর এই পিছু হটা যে কৃষকদের প্রতি সমবেদনা থেকে নয়, সম্পূর্ণ ভোট পাটিগণিতের প্রয়োজনে তা আজ সূর্যের আলোর মতোই পরিষ্কার। এখানেই তিনি সম্পূর্ণ ‘এক্সপোজড’। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসেও অন্নদাতা কৃষকরা আজ ভরসা রাখতে পারছেন না। এটা মোটেই সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার পক্ষে ভালো বিজ্ঞাপন নয়। বিশদ

21st  November, 2021
দুয়ারে রেশন: দীর্ঘ
দুর্ভোগের অবসান
তন্ময় মল্লিক

রেশন তোলার দিন হলেই অযোধ্যা পাহাড়ের বাঁধঘুট গ্রামের ববিতা মুর্মু, লক্ষ্মীমণি মুর্মুদের গায়ে জ্বর আসে। সাতসকালে উঠে একমুঠো পান্তা নাকেমুখে গুঁজেই বেরিয়ে পড়া। তাড়াতাড়ি পা চালায়। পাহাড়ি পথ ভেঙে যেতে হবে সেই পাথরডিহি। পাক্কা ১১কিলোমিটার। বিশদ

20th  November, 2021
নেহরুকে অপমান ও
এক প্রচারসর্বস্ব সরকার
সমৃদ্ধ দত্ত

তিনি কোনও কৃতিত্বই অন্য কেউ নিয়ে নিক, এটা পছন্দ করেন না। তাই লক্ষ্য করা যায়, সরকারের যে কোনও বৃহৎ প্রকল্প কিংবা সাফল্যের ঘোষণা সর্বদাই প্রধানমন্ত্রী মোদি করে থাকেন টিভিতে এসে অথবা কোনও মঞ্চে। অন্য কোনও মন্ত্রীকে কোনও বড়সড় ঘোষণাই করতে দেখি না। আর সমালোচকদের তিনি কখনও গুরুত্ব দেন না। মনে করেন শত্রু।
বিশদ

19th  November, 2021
একনজরে
হিমঘর খোলা রাখার সরকার নির্ধারিত সময়সীমা আজ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে। কিন্তু এখনও হিমঘরে ১০ লক্ষ টনের বেশি আলু মজুত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সময়সীমা বৃদ্ধি করার ...

গঙ্গার তীরের এই শহরকে বলা হয় ‘পূর্বের ম্যাঞ্চেস্টার’। বস্ত্রশিল্পে উন্নতির জন্যই এহেন নামকরণ। যদিও এখন টেক্সটাইল শিল্পে আগের রমরমা নেই। ঠিক যেমন ধার কমেছে গ্রিন ...

দক্ষিণ আফ্রিকা, বৎসোয়ানায় হদিশ মেলার পরেই গত সপ্তাহে ওমিক্রন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। সোমবার করোনা ভাইরাসের নয়া রূপকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপ্রবণ’ আখ্যা ...

বিজেপি ছাড়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সোমবার তৃণমূলের এক অনুষ্ঠান মঞ্চে অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতি সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

গৃহসুখে মনে আনন্দ। শত্রুকে দুর্বল না ভেবে সতর্ক থাকুন। কর্মে বাধার মধ্যেই অগ্রগতির যোগ। অর্থকড়ি ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫৯: নিজ মন্ত্রীর হাতেই নিহত হন মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীর
১৮৫৮: বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর জন্ম
১৮৬৬: জলের নিচে শিকাগোতে প্রথম হাইওয়ে টানেল তৈরির কাজ শুরু হয়
১৮৭৪ - ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক উইন্স্টন  চার্চিলের জন্ম
১৯০৩ - কবি রাধারানী দেবীর জন্ম
১৯০৮: কবি বুদ্ধদেব বসুর জন্ম
১৯০৯: ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র দত্তের মৃত্যু
১৯১৭: জগদীশচন্দ্র বসুর ৬০তম জন্মদিবসে কলকাতায়  বসু বিজ্ঞান মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন
১৯৩৩: নারীশিক্ষার পথপ্রদর্শক শিক্ষাবিদ মুরলীধর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯৮৪: অভিনেত্রী ও সঙ্গীতশিল্পী ইন্দুবালা দেবীর মৃত্যু
১৯৮৪: বিশিষ্ট তবলা শিল্পী রাধাকান্ত নন্দীর মৃত্যু
২০১২ - প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরালের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.০৯ টাকা ৭৫.৮১ টাকা
পাউন্ড ৯৮.২৪ টাকা ১০১.৬৬ টাকা
ইউরো ৮৩.০২ টাকা ৮৬.০৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৮,৮০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৬,৩০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৭,০০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৩,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৩,৮০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮, মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১। একাদশী ৫০/২৭ রাত্রি ২/১৪। হস্তা নক্ষত্র ৩৬/১৭ রাত্রি ৮/৩৪। সূর্যোদয় ৬/৩/১১, সূর্যাস্ত ৪/৪৭/১৫। অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৫ মধ্যে পুনঃ ৭/২৮ গতে ১১/৩ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৬ গতে ৮/১৯ মধ্যে পুনঃ ৯/১২ গতে ১১/৫১ মধ্যে। পুনঃ ১/৩৭ গতে ৩/২৪ মধ্যে পুনঃ ৫/৯ গতে উদয়াবধি। মাহেন্দ্রযোগ রাত্রি ৭/২৬ মধ্যে। বারবেলা ৭/২৪ গতে ৮/৪৪ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৬ গতে ২/৬ মধ্যে। কালরাত্রি ৬/২৭ গতে ৮/৬ মধ্যে। 
১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮, মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১। একাদশী  রাত্রি ৯/৫৩। হস্তা নক্ষত্র সন্ধ্যা ৫/৯। সূর্যোদয় ৬/৫, সূর্যাস্ত ৪/৪৭। অমৃতযোগ দিবা ৭/০ মধ্যে ও ৭/৪২ গতে ১১/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩২ গতে ৮/২৬ মধ্যে ও ৯/২০ গতে ১২/১ মধ্যে ও ১/৪৯ গতে ৩/৩৬ মধ্যে ও ৫/২৪ গতে ৬/৫ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ রাত্রি ৭/৩২ মধ্যে। বারবেলা ৭/২৫ গতে ৮/৪৫ মধ্যে ও ১২/৪৬ গতে ২/৭ মধ্যে। কালরাত্রি ৬/২৭ গতে ৮/৭ মধ্যে। 
২৪ রবিয়স সানি।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পার্কিং ফি দ্বিগুণ হচ্ছে শহরে
শহরের রাস্তায় পার্কিং ফি দ্বিগুণ হচ্ছে। প্রায় ১০ বছর পর ...বিশদ

08:29:12 AM

ছেলের অত্যাচারে আড়াই কোটির সম্পত্তি সরকারকে
ছেলের অত্যাচারে নাজেহাল হয়ে রাজ্য সরকারকে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ...বিশদ

08:22:00 AM

আইসিএসই: পরীক্ষার প্রথম দিনেই সার্ভার বিভ্রাট
প্রশ্নপত্রে বিরাট জুজু না থাকলেও মসৃণভাবে শুরু হল না আইসিএসই ...বিশদ

08:15:00 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে
১৭৫৯: নিজ মন্ত্রীর হাতেই নিহত হন মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীর ১৮৫৮: ...বিশদ

08:14:28 AM

শীঘ্রই শুরু হতে পারে করোনার বুস্টার ডোজ
আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে আসতে পারে কোভিডের  বুস্টার ডোজ। সোমবার ...বিশদ

08:12:00 AM

আপনার আজকের দিনটি
মেষ: অর্থকড়ি উপার্জনের শুভ যোগ। বৃষ: সামাজিক কর্মে সাফল্য ও সুনাম ...বিশদ

08:05:49 AM