Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া
স্কুল খোলা উচিত নয়
মৃন্ময় চন্দ

ভারতে স্কুল বন্ধ ১৭ মাস। লকডাউন পর্বে বেহাল শিক্ষার হালহকিকত জানতে বিহারের, ঔরাঙ্গাবাদের বিজেপি সাংসদ সুশীল কুমার সিং, শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন লিখিত আকারে পেশ করেছেন। যেমন, করোনা অতিমারীর কারণে রাজ্যভিত্তিক স্কুলছুটের সঠিক তথ্য-পরিসংখ্যান সরকারের কাছে আছে কি না? অসম্পূর্ণ বা অসমাপ্ত শিক্ষার বিপুল ক্ষতির বহর সম্পর্কে সরকার কী ভাবছে? গ্রামীণ শিক্ষাক্ষেত্রের ‘ডিজিটাল ডিভাইডের’ হতশ্রী দশার কথা জেনে সরকার কোনও বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কি না? বিপর্যস্ত শিক্ষার হাল ফেরাতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখাটি ঠিক কী বা কেমন? 
২ আগস্ট লোকসভায়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান উত্তরে জানিয়েছেন : ভারতে স্কুলছুটের হার প্রাথমিকে ১.৫ শতাংশ (ছেলে ১.৭ শতাংশ আর মেয়ে ১.২ শতাংশ), উচ্চ প্রাথমিকে ২.৬ শতাংশ (ছেলে ২.২ শতাংশ ও মেয়ে ৩ শতাংশ) এবং মাধ্যমিক স্তরে ১৬.১ শতাংশ (ছেলে ১৭.০, মেয়ে ১৫.১শতাংশ)। মন্ত্রীমশাইয়ের বয়ানে, পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিকে স্কুলছুটের হার ০.৬ শতাংশ আর মাধ্যমিকে ১৩.৮ শতাংশ (ছেলে ১৪.১ শতাংশ, মেয়ে ১৩.৬ শতাংশ)। গত ৭ জানুয়ারি, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক ৬—১৮ বছর বয়সি পড়ুয়াদের, এমনকী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদেরও স্কুল বন্ধ থাকাকালীন অবস্থায় পড়াশোনা যাতে কোনওভাবে বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা নাকি  প্রতিটা রাজ্যকে পাঠিয়েছিল। আরেক প্রস্থ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল ২০২১-র ৪ মে। গ্রাম-গঞ্জ-শহরে নোডাল গ্রুপ, হেল্প-ডেস্ক গঠন ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাসংক্রান্ত বিবিধ চাহিদাকে গুরুত্ব সহকারে সামাল দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। গাদাগুচ্ছের নির্দেশিকায় বলা অনেককিছু হলেও ছিটেফোঁটা বরাদ্দে শিক্ষাক্ষেত্রের কঙ্কালসার চেহারা ফেরানো যে অসম্ভব তা সকলেই জানেন। পরীক্ষাবিহীন মূল্যায়নে শিক্ষার কফিনে শেষ পেরেকটিও পোঁতা হয়ে গেছে। বহু নামী সংস্থা কোভিডকালে উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের বাদ রেখে পূর্ববর্তী বছরের উত্তীর্ণদের দিয়েই নিয়োগপ্রক্রিয়া সারছে। তিনটি নতুন আইনসহ আমেরিকা ‘আনফিনিশড লার্নিং’-এর রাহুগ্রাস থেকে শিক্ষাকে উদ্ধারে আপৎকালীন ভিত্তিতে ২০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। আরও ৭৫০ বিলিয়ন শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিবছর ব্যয়িত হবে।   
সরকারি চাপানউতোরের মধ্যেই গত ৬ সেপ্টেম্বর, নিরালি বাকলা-জঁ দ্রেজ-বিপুল পাইক্রা-রীতিকা খেরা প্রণীত ‘স্কুল চিলড্রেন অনলাইন অ্যান্ড অফলাইন লার্নিং’-এর সার্ভে রিপোর্টটি সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারি তথ্য পরিসংখ্যান যে কতটা ঝুট ‘লকড আউট ইমার্জেন্সি রিপোর্ট অন স্কুল এডুকেশন’ শিরোনামে পশ্চিমবঙ্গসহ ১৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ওপর করা সমীক্ষা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল। ‘স্কুল’ রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে গ্রামাঞ্চলে ৮ শতাংশ (শহরে ২৪ শতাংশ) মাত্র পড়ুয়া অনলাইনে পড়াশোনার সুযোগ নিতে পেরেছে। টাকাপয়সা জোটাতে না পেরে ২৬ শতাংশ পড়ুয়া বেসরকারি স্কুল ছেড়ে সরকারি স্কুলের দুয়ারে হত্যে দিয়েছিল। বকেয়া ‘ফি’র অজুহাতে বেসরকারি স্কুল ‘ট্রান্সফার সার্টিফিকেট’ না দেওয়ায় সেই ২৬ শতাংশের আর সরকারি স্কুলমুখো হওয়া সম্ভব হয়নি।  
গত ১৭ মাসে, ৩৭ শতাংশ গ্রামীণ পড়ুয়া পড়াশোনার সঙ্গে একেবারেই সংস্রবহীন (শহরে সেই সংখ্যা ১৯ শতাংশ)। ৪২ শতাংশ গ্রামের পড়ুয়া একটা শব্দও ঠিকঠাক পড়তে পারছে না। ৯ শতাংশ শহুরে পড়ুয়া আর ৬ শতাংশ গ্রামীণ পড়ুয়া নেটের ডেটা জোগাড়ে একটি পয়সাও জোগাড় করতে পারেনি। ১৪ শতাংশ শহুরে আর ৪৩ শতাংশ গ্রামীণ পড়ুয়ার কাছে কোনও অনলাইন স্টাডি মেটেরিয়াল পৌঁছয়নি। কানেক্টিভিটির সমস্যায় জেরবার শহরের ৫৭ শতাংশ ও গ্রামের ৬৫ শতাংশ পড়ুয়া। ৭৮ শতাংশ শহর ও ৭৯ শতাংশ গ্রামীণ অভিভাবক মনে করেন লকডাউনের গুঁতোয় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পড়াশোনা ডকে উঠেছে। ১০-১৪ বছরে সাক্ষরতার হার শহরে ৯৮ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৭৪ শতাংশ, আর গ্রামে ৬৬ শতাংশ। দলিত আর আদিবাসীদের ক্ষেত্রে সেই মান নেমেছে ৬১ শতাংশে।  
৫ শতাংশ শহর ও ১২ শতাংশ গ্রামীণ শিক্ষক/শিক্ষিকা বাড়িতে এসে ছাত্রটির খোঁজখবর নিয়েছেন অথবা লেখাপড়ায় সাহায্য করেছেন। বহু দায়িত্বশীল শিক্ষক নিজের মোবাইল ফোনটি ছাত্রকে পড়াশোনার কাজে ধার দিয়েছেন। অতি-দরিদ্র ছাত্রটির মোবাইল রিচার্জও করে দিয়েছেন। ছোট ছোট দলে ভাগ করে খোলা জায়গায় অথবা নিজের বাড়িতে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া চালিয়ে নিয়ে গেছেন। অনলাইন পড়াশোনায় গ্রাম-শহরের গুটিকয় ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করতে পারলেও দূরদর্শনের লেখাপড়া সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে ১ শতাংশ গ্রামীণ পড়ুয়াও অংশ নেয়নি। স্কুল বন্ধ থাকায় গ্রাম বা শহরে শিশুশ্রম বাড়ছে, বাড়ছে বাল্যবিবাহ। অপেক্ষাকৃত সচ্ছল পরিবারে ছেলেমেয়েরা হয়ে উঠছে অবাধ্য-উচ্ছৃঙ্খল-দুর্বিনীত। ৯৭ শতাংশ অভিভাবক তাই চান সত্বর স্কুল চালু হোক। 
কিন্তু স্কুল চালু করব বললেই কি চুটকিতে তা সম্ভব? সবার আগে শিশু/পড়ুয়াদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা দরকার। কোভিডের তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা। সর্বজনগ্রাহ্য কোনও চিকিৎসার অভাবে কৌশলে কোভিডের সঙ্গে লড়াই চালানোই শ্রেয়। যে সময় কোভিড নিস্তরঙ্গ, সেই সময়ে স্কুল চালানো বাঞ্ছনীয়। কোভিডের তৃতীয় ঢেউ নিঃসন্দেহে হতে পারে ভ্যাকসিন বঞ্চিতদের অতিমারী। শিশু বা কমবয়সি পড়ুয়াদের ভ্যাকসিন বিনা কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কিঞ্চিৎ বেশিই। স্কুল খোলার প্রাথমিক শর্তই তাই সমস্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর বাধ্যতামূলক টিকাকরণ। ২৭ আগস্ট ২০২১, সিডিসি তার ‘এমএমডব্লিউআর’ রিপোর্টে ক্যালিফোর্নিয়ার মার্টিন কাউন্টির এক বেআক্কেলে শিক্ষকের কথা ফলাও করে প্রচার করেছে, যিনি মাস্ক পরতেন না এবং ভ্যাকসিনও নেননি। সেই শিক্ষক ২৬টি ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশুকে (প্রাথমিক পড়ুয়া) একলপ্তে সংক্রামিত করেছিলেন। 
বিজ্ঞানীরা বারবার বলছেন বদ্ধ ঘরের তুলনায় খোলামেলা বহিরাঙ্গন কোভিডে বহুগুণ বেশি নিরাপদ। তাই স্কুল চালুর সময় ক্লাসঘরের সমস্ত জানলা দরজা খোলা থাকবে, পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে। অন্যথায় ‘হেপা ফিল্টারের’ বন্দোবস্ত জরুরি। একদিন বাদে একদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক ছাত্রই কেবল স্কুলের নির্দিষ্ট ক্লাসে আসবে/বসবে, খেয়াল রাখতে হবে কারুর জ্বর রয়েছে কি না। মোবাইল ক্যামেরায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রতিদিন ছাত্রদের উপস্থিতির ছবি তুলে রাখলে পরবর্তীতে কোনও ছাত্র/ছাত্রী কোভিডে আক্রান্ত হলে ‘কন্টাক্ট ট্রেসিং’-এ সুবিধা হবে। সপ্তাহে একদিন হলেও স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-ছাত্রছাত্রীদের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থা রাখা ভালো। ছাত্রছাত্রীদের গলাগলি/ঘাড়েপড়া, বিশেষত টিফিন বা মিড ডে মিলের সময় অবশ্যই কড়া হাতে দমন করতে হবে। ক্যাম্পাসেও জারি থাকবে কোভিডবিধি, বিধিসম্মত সতর্কতা। তাতেই সংক্রমণ শৃঙ্খল ভাঙা যাবে। আশপাশের এলাকায় সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হলেই, এবং ভাইরাসটির ‘আরনট’ বাড়তে থাকলেই স্কুল বন্ধ করতে হবে। স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-পড়ুয়াদের সর্বক্ষণ মাস্ক পরে থাকতে হবে। দূরত্ববিধি যতটা সম্ভব মানতে হবে। কোভিড বায়ুবাহিত বলেই বিজ্ঞানীদের অনুমান তাই স্কুলঘর স্যানিটাইজেশনে একটু ঢিলে দেওয়া যেতে পারে। হাত ধোওয়ার অভ্যাসটি যথাপূর্বং বজায় থাকবে। 
গোটা বিশ্বেই বিধিসম্মত সতর্কতায় ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চালানো সম্ভব হয়নি। ফাইজার-মডার্নার  ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়, প্রতি ৫০০০ জনে ১ জন, ১৭-১৮ বয়সি, মায়োকার্ডাইটিস ও পেরিকার্ডাইটিসে আক্রান্ত হচ্ছে (জটিল হৃদরোগ)। কমবয়সিদের ইন্টারফেরন-গামা ও ইন্টারলিউকিন-১৭ এবং রিসেপ্টর এমডিএফাইভ-এর প্রাচুর্য নভেলকরোনাকে খাপ খুলতেই দিচ্ছে না। প্রকৃতির আশীর্বাদে কমবয়সিরা কোভিডের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন ছাড়াই যুদ্ধে জিতে যাচ্ছে এবং যাবেও। বড়দের ভ্যাকসিন, মাস্ক এবং দায়িত্বশীল আচরণেই শিশুরা স্কুল এবং স্কুলের বাইরেও নিরাপদ থাকবে।
লেখক অতিমারী বিশেষজ্ঞ,
দি ইউনিভার্সিটি অফ নর্থ ক্যারোলিনা অফ চ্যাপেল হিল।
মতামত ব্যক্তিগত
17th  October, 2021
তথ্য সুরক্ষা বিল এবং
শাসকের ‘দূরের লক্ষ্য’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

এ দেশের ক্ষেত্রে যদি নজরদারি চালানোটা আইনসিদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে তো আর আড়াল-আবডালের প্রয়োজনই থাকবে না। সেটাই চাইছে কেন্দ্র। আইনি সিলমোহর। সরকার বিরোধী মতামত দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে সরকারের ভাড়া করা সৈন্যরা। টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাবে গারদের ওপারে।​​​​​
বিশদ

প্রভাবশালী ধনীরা
জবাবদিহির ঊর্ধ্বে
পি চিদম্বরম

ধনীরা প্রভাবশালী হয় এবং প্রভাবশালীরা ধনী হয়। একবার প্রভাবশালী এবং ধনী হয়ে গেলে, স্পষ্টতই তারা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে চলে যাবে। এটাই হয়েছে আজেকর বিপদ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর জন শেরম্যান (প্রথম অ্যান্টিট্রাস্ট অ্যাক্ট, ১৮৯০—সাধারণভাবে যেটিকে শেরম্যান আইন হিসাবে উল্লেখ করা হয়) বিশদ

29th  November, 2021
কংগ্রেসের বিকল্প তৃণমূল
হলে আপত্তি কোথায়?
হিমাংশু সিংহ

গোটা দেশে ঝিমিয়ে পড়া বিরোধীদের শুকনো গাঙে তিনি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিপ্লবের নয়া কেতন উড়িয়ে দিয়েছেন। ত্রিপুরা থেকে গোয়া। জাতীয় রাজনীতির মঞ্চেও মমতাই আজ মোদির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য প্রতিপক্ষ।
বিশদ

28th  November, 2021
পুরভোটের সন্ত্রাসে বিপদ
বাড়ল ত্রিপুরা বিজেপির
তন্ময় মল্লিক

ত্রিপুরায় তৃণমূলকে শূন্য প্রমাণের জন্য পুরভোটে লাগামছাড়া সন্ত্রাস করে বিজেপি নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মারল। ২০২৩ সালে আর ইউনিট টেস্ট নয়, বিপ্লব দেবকে বসতে হবে বোর্ডের পরীক্ষায়। পরীক্ষকের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশদ

27th  November, 2021
কৃষকরা সকলের জন্যই
দিলেন জীবনের শিক্ষা
সমৃদ্ধ দত্ত

নরেন্দ্র মোদির বিরোধীদের কাছে একটাই সুসংবাদ যে, তিনি ইতিহাস চর্চা করেন না। যদি করতেন, তাহলে বহু পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একবার ভারতের ইতিহাসের দিকে চোখ রাখতেন। খুব বেশি পরিশ্রমও করতে হতো না। কারণ তাঁর হাতের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস রয়েছে। তাঁর নিজের রাজ্যে।
বিশদ

26th  November, 2021
মোদির পিছু হটা কীসের ইঙ্গিত!
মৃণালকান্তি দাস

কে না জানে, একটি শাসকদল পিছু হটে তখনই, যখন সে বুঝতে পারে তার পায়ের তলার মাটি সরছে। পায়ের তলার মাটি একবার সরতে শুরু করলে কী হয় তা বাংলার মানুষ জানেন। সিঙ্গুরেও পিছু হটে নজির গড়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বুদ্ধবাবু ডুবেছিলেন, সিঙ্গুরের মানুষের মতামত না নিয়েই জোরজবরদস্তি জমি অধিগ্রহণ করে। মোদির ক্ষেত্রেও তাই। দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা ছাড়া কৃষিতে সংস্কারমূলক তিনটি আইন আনতে গিয়ে তিনিও ডুবেছেন।
বিশদ

25th  November, 2021
দুঃসময়ের রাজনীতি
হারাধন চৌধুরী

একতারা হাতে এক বাউল এলেন। কোনও অনুরোধ ছাড়াই একটি প্রচলিত গান গেয়ে হাত পাতলেন। কিছু দেব কি দেব না ইতস্তত করছি। লোকটি আমার মন পড়ে নিলেন নিশ্চয়। কিছু দাবি করার পরিবর্তে প্রশ্ন রাখলেন, ‘বাবু, দুঃসময় কাকে বলে?’ বিশদ

24th  November, 2021
জনতার দাবি মানুন,
প্রায়শ্চিত্ত করুন
শান্তনু দত্তগুপ্ত

তিনি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের নামে কুৎসা করেছেন... তাও তিনি রাষ্ট্রদ্রোহী নন। কারণ, তিনি ভারতের ‘অধিনায়ক’। ভোট প্রচারে রাজ্যে রাজ্যে গিয়ে বিরোধীদের আক্রমণ করেছেন, শালীনতার সীমা ছাড়িয়েছেন। তাও তিনি বীর দাস নন। তিনি প্রধানমন্ত্রী। ভোট আসছে... পাঁচ রাজ্যের। মোদিতন্ত্রের রাজদণ্ড এখন কথা বলছে গণতন্ত্রের। ক্ষমা চাইছে দেশবাসীর কাছে।
বিশদ

23rd  November, 2021
আমার হিন্দুধর্ম নিয়ে খুশি
পি চিদম্বরম

হিন্দুধর্মে একটি চার্চ, একটি পোপ, একজন প্রফেট বা নবী, একটি পবিত্র গ্রন্থ বা একটিমাত্র পালনীয় আচার নেই। প্রত্যেকটিই আছে অনেকগুলি করে। একজন হিন্দুর এই বহুর মধ্যে যেকোনও একটিকে বেছে নেওয়ার অথবা সবগুলিকেই প্রত্যাখ্যান করার স্বাধীনতা আছে। কিছু পণ্ডিত যুক্তি দিয়েছেন যে হিন্দু হয়েও একজন আস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী অথবা নাস্তিক হতে পারেন!
বিশদ

22nd  November, 2021
নির্মম ইতিহাসের
সামনে ৫৬ ইঞ্চি ছাতি
হিমাংশু সিংহ

প্রধানমন্ত্রীর এই পিছু হটা যে কৃষকদের প্রতি সমবেদনা থেকে নয়, সম্পূর্ণ ভোট পাটিগণিতের প্রয়োজনে তা আজ সূর্যের আলোর মতোই পরিষ্কার। এখানেই তিনি সম্পূর্ণ ‘এক্সপোজড’। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসেও অন্নদাতা কৃষকরা আজ ভরসা রাখতে পারছেন না। এটা মোটেই সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার পক্ষে ভালো বিজ্ঞাপন নয়। বিশদ

21st  November, 2021
দুয়ারে রেশন: দীর্ঘ
দুর্ভোগের অবসান
তন্ময় মল্লিক

রেশন তোলার দিন হলেই অযোধ্যা পাহাড়ের বাঁধঘুট গ্রামের ববিতা মুর্মু, লক্ষ্মীমণি মুর্মুদের গায়ে জ্বর আসে। সাতসকালে উঠে একমুঠো পান্তা নাকেমুখে গুঁজেই বেরিয়ে পড়া। তাড়াতাড়ি পা চালায়। পাহাড়ি পথ ভেঙে যেতে হবে সেই পাথরডিহি। পাক্কা ১১কিলোমিটার। বিশদ

20th  November, 2021
নেহরুকে অপমান ও
এক প্রচারসর্বস্ব সরকার
সমৃদ্ধ দত্ত

তিনি কোনও কৃতিত্বই অন্য কেউ নিয়ে নিক, এটা পছন্দ করেন না। তাই লক্ষ্য করা যায়, সরকারের যে কোনও বৃহৎ প্রকল্প কিংবা সাফল্যের ঘোষণা সর্বদাই প্রধানমন্ত্রী মোদি করে থাকেন টিভিতে এসে অথবা কোনও মঞ্চে। অন্য কোনও মন্ত্রীকে কোনও বড়সড় ঘোষণাই করতে দেখি না। আর সমালোচকদের তিনি কখনও গুরুত্ব দেন না। মনে করেন শত্রু।
বিশদ

19th  November, 2021
একনজরে
রাজ্যের শস্যভাণ্ডার পূর্ব বর্ধমান জেলায় কৃষি যন্ত্রপাতি কেনা নিয়ে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খোদ জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ জেলা কৃষিদপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছে। ...

গঙ্গার তীরের এই শহরকে বলা হয় ‘পূর্বের ম্যাঞ্চেস্টার’। বস্ত্রশিল্পে উন্নতির জন্যই এহেন নামকরণ। যদিও এখন টেক্সটাইল শিল্পে আগের রমরমা নেই। ঠিক যেমন ধার কমেছে গ্রিন ...

বিজেপি ছাড়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সোমবার তৃণমূলের এক অনুষ্ঠান মঞ্চে অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতি সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিল। ...

হিমঘর খোলা রাখার সরকার নির্ধারিত সময়সীমা আজ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে। কিন্তু এখনও হিমঘরে ১০ লক্ষ টনের বেশি আলু মজুত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সময়সীমা বৃদ্ধি করার ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

গৃহসুখে মনে আনন্দ। শত্রুকে দুর্বল না ভেবে সতর্ক থাকুন। কর্মে বাধার মধ্যেই অগ্রগতির যোগ। অর্থকড়ি ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫৯: নিজ মন্ত্রীর হাতেই নিহত হন মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীর
১৮৫৮: বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর জন্ম
১৮৬৬: জলের নিচে শিকাগোতে প্রথম হাইওয়ে টানেল তৈরির কাজ শুরু হয়
১৮৭৪ - ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক উইন্স্টন  চার্চিলের জন্ম
১৯০৩ - কবি রাধারানী দেবীর জন্ম
১৯০৮: কবি বুদ্ধদেব বসুর জন্ম
১৯০৯: ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র দত্তের মৃত্যু
১৯১৭: জগদীশচন্দ্র বসুর ৬০তম জন্মদিবসে কলকাতায়  বসু বিজ্ঞান মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন
১৯৩৩: নারীশিক্ষার পথপ্রদর্শক শিক্ষাবিদ মুরলীধর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯৮৪: অভিনেত্রী ও সঙ্গীতশিল্পী ইন্দুবালা দেবীর মৃত্যু
১৯৮৪: বিশিষ্ট তবলা শিল্পী রাধাকান্ত নন্দীর মৃত্যু
২০১২ - প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরালের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.০৯ টাকা ৭৫.৮১ টাকা
পাউন্ড ৯৮.২৪ টাকা ১০১.৬৬ টাকা
ইউরো ৮৩.০২ টাকা ৮৬.০৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৮,৮০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৬,৩০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৭,০০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৩,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৩,৮০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮, মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১। একাদশী ৫০/২৭ রাত্রি ২/১৪। হস্তা নক্ষত্র ৩৬/১৭ রাত্রি ৮/৩৪। সূর্যোদয় ৬/৩/১১, সূর্যাস্ত ৪/৪৭/১৫। অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৫ মধ্যে পুনঃ ৭/২৮ গতে ১১/৩ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৬ গতে ৮/১৯ মধ্যে পুনঃ ৯/১২ গতে ১১/৫১ মধ্যে। পুনঃ ১/৩৭ গতে ৩/২৪ মধ্যে পুনঃ ৫/৯ গতে উদয়াবধি। মাহেন্দ্রযোগ রাত্রি ৭/২৬ মধ্যে। বারবেলা ৭/২৪ গতে ৮/৪৪ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৬ গতে ২/৬ মধ্যে। কালরাত্রি ৬/২৭ গতে ৮/৬ মধ্যে। 
১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮, মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১। একাদশী  রাত্রি ৯/৫৩। হস্তা নক্ষত্র সন্ধ্যা ৫/৯। সূর্যোদয় ৬/৫, সূর্যাস্ত ৪/৪৭। অমৃতযোগ দিবা ৭/০ মধ্যে ও ৭/৪২ গতে ১১/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩২ গতে ৮/২৬ মধ্যে ও ৯/২০ গতে ১২/১ মধ্যে ও ১/৪৯ গতে ৩/৩৬ মধ্যে ও ৫/২৪ গতে ৬/৫ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ রাত্রি ৭/৩২ মধ্যে। বারবেলা ৭/২৫ গতে ৮/৪৫ মধ্যে ও ১২/৪৬ গতে ২/৭ মধ্যে। কালরাত্রি ৬/২৭ গতে ৮/৭ মধ্যে। 
২৪ রবিয়স সানি।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ইতিহাসে আজকের দিনে
১৭৫৯: নিজ মন্ত্রীর হাতেই নিহত হন মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীর ১৮৫৮: ...বিশদ

07:55:00 AM

আপনার আজকের দিনটি
মেষ: অর্থকড়ি উপার্জনের শুভ যোগ। বৃষ: সামাজিক কর্মে সাফল্য ও সুনাম ...বিশদ

07:50:00 AM

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত ৫১১
গতকালের তুলনায় রাজ্যে বেশ কিছুটা কমল দৈনিক সংক্রমণ। গত ২৪ ...বিশদ

29-11-2021 - 08:39:29 PM

কানপুর টেস্ট ড্র
কম আলোর জন্য খেলা বন্ধ। কানপুর টেস্ট ড্র হিসেবে ঘোষণা ...বিশদ

29-11-2021 - 04:36:16 PM

তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ানের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট

29-11-2021 - 03:12:45 PM

ডিসেম্বর থেকে অন্যান্য দেশে কোভ্যাক্সিন রপ্তানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত বায়োটেক

29-11-2021 - 03:10:06 PM