Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

১৮ লক্ষ প্রদীপ এবং কিছু বাস্তব
শান্তনু দত্তগুপ্ত

আমাদের প্রধানমন্ত্রী কি আরাধনা কশ্যপের নাম শুনেছেন? না শোনারই কথা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর ৯৮ কোটি ভোটারের প্রত্যেকের নাম জানার বা শোনার কথা নয়। এমনকী আরাধনা কশ্যপের যে ১১ বছরের একটি মেয়ে আর আড়াই বছর বয়সের একটি ছেলে রয়েছে, সেটাও জানেন না মোদিজি। এই তথ্য তাঁর ভোটের কাজে লাগবে না। প্রচারের কাজেও না। বরং উত্তরপ্রদেশে কত লোক আজ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়েছে, সেই পরিসংখ্যানটা তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংখ্যাটা যে কম না... ৯ লক্ষ! কতদিনে এই বাড়ি হয়েছে? আগের সরকারের ভূমিকা কী? এইসব প্রশ্ন অবান্তর। উড়ালপুল কার জমানায় তৈরি হয়েছিল, তাতে মোদি বা যোগী সরকারের কিছুই আসে যায় না। উদ্বোধন তিনি করছেন। এটাই সাফ কথা। তার মানে, ৯ লক্ষ মানুষকে তিনি ‘লাখপতি’ করেছেন। ৯ লক্ষ মানুষকে তিনিই থাকার জায়গা দিয়েছেন। ফলে এই সব মানুষের তো পাল্টা কিছু কর্তব্য থাকে নাকি? আছে তো! দীপাবলিতে এঁদের প্রত্যেককে দু’টি করে প্রদীপ জ্বালাতে হবে। অর্থাৎ ১৮ লক্ষ প্রদীপ জ্বলবে উত্তরপ্রদেশে। তাতেই নাকি সন্তুষ্ট হবেন শ্রীরাম। মোদিজি না বলিয়াও যে কথাটি বলে ফেললেন... বাড়ি বানিয়ে দিয়েছি, এবার ভোটটাও আমাকেই কিন্তু দিতে হবে। লখনউয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলে গেলাম... বিজেপি সরকার তোমাদের অনুগ্রহ করেছে। তার প্রতিদান চাই। ১৮ লক্ষ ‘দিয়া’ এবং আবডালের দাবি, পরিবারের সকলের ভোট। 
আরাধনা কশ্যপও এই তালিকাতেই পড়েন। তিনিও উত্তরপ্রদেশের ভোটার। কিন্তু পরিবার বলে তাঁর আজ আর কিছু নেই। স্বামী রামন কাশ্যপ পেশায় ছিলেন সাংবাদিক। তিকুনিয়ায় গিয়েছিলেন খবর করতে। একটি গাড়ি তাঁর স্বামীকে পিষে দিয়ে চলে গিয়েছে। হাসপাতাল পর্যন্তও প্রাণটুকু ছিল না তাঁর। ঠিক যেভাবে ওইদিন প্রাণটা চলে গিয়েছিল লভপ্রীত সিংয়ের। কত বয়স ছিল তাঁর? মাত্র ২০ বছর! কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রর নামে নথিভুক্ত গাড়ি, চালকের আসনে ছেলে আশিস মিশ্র... তাঁরাই তো সরকার! গাড়ি থামবে না। সামনে যে আসবে, তাকেই পিষে দিয়ে এগিয়ে চলবে বিজেপি সরকারের ডবল ইঞ্জিন বিজয় রথ। চাকায় জড়িয়ে যাচ্ছে শরীর। তাও কমছে না গতি। আর নরেন্দ্র মোদি? ঘটনাস্থল থেকে ঠিক ১২৯ কিমি দূরে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন তিনি। ৩৫ মিনিটের বক্তৃতা। তাতে একটা শব্দও নেই লখিমপুর নিয়ে... রামন কশ্যপকে নিয়ে... লভপ্রীতকে নিয়ে। তিনি ব্যস্ত ১৮ লক্ষ দিয়া জ্বালানোর টোটকা দিতে। ঠিক যেভাবে করোনা তাড়াতে থালা বাজানো, হাততালি দেওয়া... এমন অনেক কারবার প্রেসক্রিপশনে লিখেছিলেন তিনি। 
এতে রামচন্দ্র খুশি হবেন কি? জানা নেই। তবে এই সুযোগে মোদিজির প্রাক-ভোট প্রচারটা ভালোই সেরে নেওয়া গেল। একেবারে সরকারি কায়দায়। সরকার আর দল যে পৃথক দুই সত্তা, সে ব্যাপারে আমাদের হর্তাকর্তাবিধাতা কেয়ার করেন না। দরকার কী? ওই যে অমিতাভ বচ্চনের একটা ডায়লগ ছিল না... ‘হাম যাঁহা পে খড়ে হোতে হ্যায়, লাইন ওয়হিঁ সে শুরু হোতা হ্যায়’। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ওই আদর্শে বিশ্বাসী। তিনি যা করবেন, সেটাই স্টাইল। সেটাই নিয়ম। বাকিদের জন্য অবশ্য এসব প্রযোজ্য নয়। তখন তাঁর দলের খোল-করতাল বাজানেওয়ালারা হাঁ হাঁ করে উঠবে, চেঁচামেচি জুড়ে দেবে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারটাই আলাদা। তিনি শ্রীরামকে খুশি করার উপায় জানেন। আপনারা জানেন? মোটেও না। তা‌ই তাঁকে তো গুরুত্ব দিতেই হবে! পুরাণে আছে, সূর্যের দক্ষিণায়ন শুরু হলে দেবতাদের রাত। তখন তাঁরা নিদ্রা গিয়ে থাকেন। তাই যখন-তখন তাঁদের ডাকা যায় না। রাবণবধের জন্য প্রজাপতি ব্রহ্মা পর্যন্ত মহামায়াকে স্মরণ করে রামচন্দ্রের জন্য অনুমতি নিয়েছিলেন। বসন্তকালের জন্য অপেক্ষা নয়, অকালেই বোধন হয়েছিল মা দুর্গার। বিষ্ণুর অবতার হওয়া সত্ত্বেও জাগ্রত করতে হয়েছিল মাকে। নিজ হাতে নবপত্রিকা বেঁধেছিলেন রামচন্দ্র। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, রাবণবধ। মহাবীর রাবণ মহাদেবের আশীর্বাদে সুরাসুরের অবধ্য ছিলেন। তাই ব্রহ্মার বিধান ছিল, রামচন্দ্রের হাতে বিনাশ হবে রাবণের। তারপরও কিন্তু অঙ্ক অতটাও সহজ ছিল না। কারণ, লঙ্কাধিপতি ছিলেন মহামায়ার ভক্ত। রামসেনার দাপটে রাজপাট খোয়ানোর আশঙ্কা দেখা দিতেই মায়ের শরণে স্থান নিয়েছিলেন রাবণ। কালীরূপে মা তাঁকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন। তাই বাধ্য হয়ে অকাল বোধন। স্বয়ং রামচন্দ্র ছাড় পাননি। অথচ, মোদিজি কি না ভোটের প্রয়োজন হলেই দেবদেবীদের ডেকে তোলেন। তিনি হয়তো তেমনই মহাপুরুষ। আমরাই চিনতে পারছি না। আমাদের এ ব্যর্থতা... অপরাধ। মোদিজি নিজেই বলেন, ‘কিছু লোক আছে, যারা শুধু আমার সমালোচনা করে সময় নষ্ট করে।’ আমাদের প্রধানমন্ত্রী শুধুই শোনেন। তিনি নাকি বলেন না। কাজে উত্তর দেন। এও এক ভয়ানক কথা। মোদিজি না বললে আমরা তো বোবা! হ্যাঁ, একটা বিষয় নিশ্চিত... মোদিজি যুক্তিসঙ্গত, বাস্তবধর্মী কথা কম বলেন। যে কথাগুলো মানুষের কষ্ট, দারিদ্র লাঘব করতে পারে... তেমন কিছু তাঁর মুখে শোনা যায় না। মোদিজি তার বদলে শ্রীশ্রী রামচন্দ্রের সন্তুষ্টির উপায় খোঁজেন। দেবদেবীরা প্রতিবাদ করবেন না... সমালোচনাও করবেন না। 
হিন্দুত্ব যে বিজেপির রাজনৈতিক অন্ন! এ ছাড়া গতি কী! তাই শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে দেবী কাত্যায়নীকে ‘মেনশন’ করে টুইট লেখেন মোদিজি। বলেন, ‘মায়ের আশীর্বাদ ঝরে পড়ুক আমাদের উপর। সমাজ গড়ে উঠুক সৌভ্রাতৃত্ববোধ এবং স্নেহের ছায়ায়।’ ব্রহ্মা দেখেছিলেন, গভীর অরণ্যের শেষে বছর দশেকের এক বালিকাকে। সে খেলা করছে বেলগাছের নীচে। ব্রহ্মাদেব বুঝেছিলেন, ওই বালিকাই মহামায়া। ওখানেই হবে অকাল বোধনের পুজো। পুরাণ আমাদের দেখিয়েছে, নানা রূপে মা এসেছেন... কখনও তিনি চণ্ডী, কখনও দুর্গা, কখনও কেবল এক বছর দশেকের বালিকা। শাস্ত্র আমাদের শিখিয়েছে, মানুষের মধ্যেই আছেন ঈশ্বর। স্বামী বিবেকানন্দ বলে গিয়েছেন... ‘জীবে প্রেম করে যেই জন...’। মোদিজি, হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী আরাধনা কশ্যপের ওই বছর এগারোর সন্তানের মধ্যেও যে মা লুকিয়ে আছেন! তার সঙ্গে কী ন্যায়বিচার করল আপনার সরকার? ২০ বছরের লভপ্রীত সিংয়ের মাও তো দেবীরই কোনও এক রূপ! ছেলের মৃতদেহ দেখার পর বারেবারে সংজ্ঞা হারাচ্ছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশে ১৮ লক্ষ দিয়া জ্বালিয়ে এই অবিচারের অন্ধকার দূর হবে কি? কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে, আপনার তরফ থেকে একটাও বিবৃতি জারি হয়নি। এখনও না। কেন? ওই মানুষগুলো কি এতটুকুরও যোগ্য নয়? করুণা তারা চায়নি। টাকাও নয়। তারা চেয়েছিল বিচার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্র... এই মর্মান্তিক ঘটনার পরও তিনি বহাল তবিয়তে স্বপদে! সুপ্রিম কোর্টের গুঁতোয় শেষমেশ গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর সোনার টুকরো ছেলেকে। তারপর? সময় বলবে। বিজেপি নেতাদের ভাবটা এমন... কি এবার খুশি তো? না মশাই, তাঁরা খুশি নন। কারণ, ওই পরিবারগুলো কেউ হারিয়েছে স্বামীকে, কেউ সন্তানকে, কেউ পিতাকে। গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা শিখিয়েছে লখিমপুর। নতুন উদাহরণ দিয়েছেন মোদি... লখনউয়ের মঞ্চ থেকে। আমি ভোটারদের জন্য কী কী দয়া করলাম... এটাই মোদ্দা কথা। কয়েকটা প্রাণ গাড়ির চাকার তলায় যেতেই পারে। ওটা অ্যাক্সিডেন্ট। প্রদীপ কিন্তু জ্বালাতে হবে! ওটা নির্দেশ। কারণ, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। দলের, প্রশাসনের পেটোয়ারা ঘুরবে বাড়ি বাড়ি... চলবে তদারকি... দিয়া জ্বলছে তো? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন... এটাই ফতোয়া।
আজ সপ্তমী। বৃহদ্ধর্মপুরাণ মতে এই তিথিতেই রামচন্দ্রের ধনুর্বাণে প্রবেশ করেছিলেন দেবী চণ্ডিকা। অষ্টমী-নবমীতে মহাযুদ্ধ হয়েছিল রাম-রাবণের। দশমীতে রামচন্দ্র করেছিলেন বিজয়োৎসব। রাবণবধের। মহাবীর ছিলেন রাবণ। কিন্তু তাঁর স্বৈরাচার কোনও বাধা মানেনি। আঘাত হেনেছিল বনবাসী রামচন্দ্রের সম্মানে। বাল্মিকী রামায়ণে রামচন্দ্র একজন রাজ্যচ্যুত সাধারণ মানুষ। স্বর্ণলঙ্কার অধিপতি, মহাদেবের আশীর্বাদধন্য হয়েও রাবণ পরাভূত হয়েছিলেন তাঁর হাতে। কারণ তিনি ভেবেছিলেন, আমি যা করব, সেটাই নিয়ম। আমাকে বধ করার ক্ষমতা কারও নেই। ইতিহাস পুনরাবৃত্তি ঘটায়। নতুন আঙ্গিকে ফিরে ফিরে আসে পুরাণের শিক্ষাও। স্বৈরাচার পতনের মূল... তা সে রাবণ হোক, বা হিটলার। 
অমিত শাহ অবশ্য বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারী নন। বরং তাঁর মতো গণতান্ত্রিক নেতা ভারত পায়নি। হয়তো তাই। আমরাই বুঝতে পারছি না। তবে দণ্ডমুণ্ডের কর্তাদের জন্য একটা কথা না বলে পারছি না। জটায়ুর একটা উপদেশ। বৃদ্ধ জটায়ুকে হত্যা করেছিলেন রাবণ। মৃত্যুমুখে সেই পক্ষীসম্রাট বলেছিলেন, ‘সেই ভারই বহনীয়, যা অবসন্ন করে না।’ এই উপদেশ ভারতবাসীর জন্যও এখন লাগসই হতে পারে। কেন জানেন? কারণ, দায় যে আমাদের! এমন ভার আমরা মাথায় তুলেছি, যা আর বহনযোগ্য নয়। হয় এই ভার নামাতে হবে... না হলে পিষে যেতে হবে। ঠিক লখিমপুরের মতো। আবার ভাইকে হারাবেন পবন, সন্তানসম ভাইপোকে হারাবেন কেবল সিং... স্বামীহারা হবেন আরাধনা। 
তাঁরাও যে বিজয়ার অপেক্ষায়! 
12th  October, 2021
তথ্য সুরক্ষা বিল এবং
শাসকের ‘দূরের লক্ষ্য’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

এ দেশের ক্ষেত্রে যদি নজরদারি চালানোটা আইনসিদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে তো আর আড়াল-আবডালের প্রয়োজনই থাকবে না। সেটাই চাইছে কেন্দ্র। আইনি সিলমোহর। সরকার বিরোধী মতামত দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে সরকারের ভাড়া করা সৈন্যরা। টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাবে গারদের ওপারে।​​​​​
বিশদ

প্রভাবশালী ধনীরা
জবাবদিহির ঊর্ধ্বে
পি চিদম্বরম

ধনীরা প্রভাবশালী হয় এবং প্রভাবশালীরা ধনী হয়। একবার প্রভাবশালী এবং ধনী হয়ে গেলে, স্পষ্টতই তারা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে চলে যাবে। এটাই হয়েছে আজেকর বিপদ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর জন শেরম্যান (প্রথম অ্যান্টিট্রাস্ট অ্যাক্ট, ১৮৯০—সাধারণভাবে যেটিকে শেরম্যান আইন হিসাবে উল্লেখ করা হয়) বিশদ

29th  November, 2021
কংগ্রেসের বিকল্প তৃণমূল
হলে আপত্তি কোথায়?
হিমাংশু সিংহ

গোটা দেশে ঝিমিয়ে পড়া বিরোধীদের শুকনো গাঙে তিনি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিপ্লবের নয়া কেতন উড়িয়ে দিয়েছেন। ত্রিপুরা থেকে গোয়া। জাতীয় রাজনীতির মঞ্চেও মমতাই আজ মোদির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য প্রতিপক্ষ।
বিশদ

28th  November, 2021
পুরভোটের সন্ত্রাসে বিপদ
বাড়ল ত্রিপুরা বিজেপির
তন্ময় মল্লিক

ত্রিপুরায় তৃণমূলকে শূন্য প্রমাণের জন্য পুরভোটে লাগামছাড়া সন্ত্রাস করে বিজেপি নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মারল। ২০২৩ সালে আর ইউনিট টেস্ট নয়, বিপ্লব দেবকে বসতে হবে বোর্ডের পরীক্ষায়। পরীক্ষকের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশদ

27th  November, 2021
কৃষকরা সকলের জন্যই
দিলেন জীবনের শিক্ষা
সমৃদ্ধ দত্ত

নরেন্দ্র মোদির বিরোধীদের কাছে একটাই সুসংবাদ যে, তিনি ইতিহাস চর্চা করেন না। যদি করতেন, তাহলে বহু পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একবার ভারতের ইতিহাসের দিকে চোখ রাখতেন। খুব বেশি পরিশ্রমও করতে হতো না। কারণ তাঁর হাতের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস রয়েছে। তাঁর নিজের রাজ্যে।
বিশদ

26th  November, 2021
মোদির পিছু হটা কীসের ইঙ্গিত!
মৃণালকান্তি দাস

কে না জানে, একটি শাসকদল পিছু হটে তখনই, যখন সে বুঝতে পারে তার পায়ের তলার মাটি সরছে। পায়ের তলার মাটি একবার সরতে শুরু করলে কী হয় তা বাংলার মানুষ জানেন। সিঙ্গুরেও পিছু হটে নজির গড়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বুদ্ধবাবু ডুবেছিলেন, সিঙ্গুরের মানুষের মতামত না নিয়েই জোরজবরদস্তি জমি অধিগ্রহণ করে। মোদির ক্ষেত্রেও তাই। দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা ছাড়া কৃষিতে সংস্কারমূলক তিনটি আইন আনতে গিয়ে তিনিও ডুবেছেন।
বিশদ

25th  November, 2021
দুঃসময়ের রাজনীতি
হারাধন চৌধুরী

একতারা হাতে এক বাউল এলেন। কোনও অনুরোধ ছাড়াই একটি প্রচলিত গান গেয়ে হাত পাতলেন। কিছু দেব কি দেব না ইতস্তত করছি। লোকটি আমার মন পড়ে নিলেন নিশ্চয়। কিছু দাবি করার পরিবর্তে প্রশ্ন রাখলেন, ‘বাবু, দুঃসময় কাকে বলে?’ বিশদ

24th  November, 2021
জনতার দাবি মানুন,
প্রায়শ্চিত্ত করুন
শান্তনু দত্তগুপ্ত

তিনি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের নামে কুৎসা করেছেন... তাও তিনি রাষ্ট্রদ্রোহী নন। কারণ, তিনি ভারতের ‘অধিনায়ক’। ভোট প্রচারে রাজ্যে রাজ্যে গিয়ে বিরোধীদের আক্রমণ করেছেন, শালীনতার সীমা ছাড়িয়েছেন। তাও তিনি বীর দাস নন। তিনি প্রধানমন্ত্রী। ভোট আসছে... পাঁচ রাজ্যের। মোদিতন্ত্রের রাজদণ্ড এখন কথা বলছে গণতন্ত্রের। ক্ষমা চাইছে দেশবাসীর কাছে।
বিশদ

23rd  November, 2021
আমার হিন্দুধর্ম নিয়ে খুশি
পি চিদম্বরম

হিন্দুধর্মে একটি চার্চ, একটি পোপ, একজন প্রফেট বা নবী, একটি পবিত্র গ্রন্থ বা একটিমাত্র পালনীয় আচার নেই। প্রত্যেকটিই আছে অনেকগুলি করে। একজন হিন্দুর এই বহুর মধ্যে যেকোনও একটিকে বেছে নেওয়ার অথবা সবগুলিকেই প্রত্যাখ্যান করার স্বাধীনতা আছে। কিছু পণ্ডিত যুক্তি দিয়েছেন যে হিন্দু হয়েও একজন আস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী অথবা নাস্তিক হতে পারেন!
বিশদ

22nd  November, 2021
নির্মম ইতিহাসের
সামনে ৫৬ ইঞ্চি ছাতি
হিমাংশু সিংহ

প্রধানমন্ত্রীর এই পিছু হটা যে কৃষকদের প্রতি সমবেদনা থেকে নয়, সম্পূর্ণ ভোট পাটিগণিতের প্রয়োজনে তা আজ সূর্যের আলোর মতোই পরিষ্কার। এখানেই তিনি সম্পূর্ণ ‘এক্সপোজড’। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসেও অন্নদাতা কৃষকরা আজ ভরসা রাখতে পারছেন না। এটা মোটেই সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার পক্ষে ভালো বিজ্ঞাপন নয়। বিশদ

21st  November, 2021
দুয়ারে রেশন: দীর্ঘ
দুর্ভোগের অবসান
তন্ময় মল্লিক

রেশন তোলার দিন হলেই অযোধ্যা পাহাড়ের বাঁধঘুট গ্রামের ববিতা মুর্মু, লক্ষ্মীমণি মুর্মুদের গায়ে জ্বর আসে। সাতসকালে উঠে একমুঠো পান্তা নাকেমুখে গুঁজেই বেরিয়ে পড়া। তাড়াতাড়ি পা চালায়। পাহাড়ি পথ ভেঙে যেতে হবে সেই পাথরডিহি। পাক্কা ১১কিলোমিটার। বিশদ

20th  November, 2021
নেহরুকে অপমান ও
এক প্রচারসর্বস্ব সরকার
সমৃদ্ধ দত্ত

তিনি কোনও কৃতিত্বই অন্য কেউ নিয়ে নিক, এটা পছন্দ করেন না। তাই লক্ষ্য করা যায়, সরকারের যে কোনও বৃহৎ প্রকল্প কিংবা সাফল্যের ঘোষণা সর্বদাই প্রধানমন্ত্রী মোদি করে থাকেন টিভিতে এসে অথবা কোনও মঞ্চে। অন্য কোনও মন্ত্রীকে কোনও বড়সড় ঘোষণাই করতে দেখি না। আর সমালোচকদের তিনি কখনও গুরুত্ব দেন না। মনে করেন শত্রু।
বিশদ

19th  November, 2021
একনজরে
হিমঘর খোলা রাখার সরকার নির্ধারিত সময়সীমা আজ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে। কিন্তু এখনও হিমঘরে ১০ লক্ষ টনের বেশি আলু মজুত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সময়সীমা বৃদ্ধি করার ...

গঙ্গার তীরের এই শহরকে বলা হয় ‘পূর্বের ম্যাঞ্চেস্টার’। বস্ত্রশিল্পে উন্নতির জন্যই এহেন নামকরণ। যদিও এখন টেক্সটাইল শিল্পে আগের রমরমা নেই। ঠিক যেমন ধার কমেছে গ্রিন ...

আরও কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমের প্রবেশাধিকার। করোনা সংক্রমণের পর থেকে লোকসভা ও রাজ্যসভায় সংসদীয় কাজকর্ম কভার করার জন্য প্রেস গ্যালারিতে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। এবার করোনার প্রকোপ স্তিমিত হয়ে যাচ্ছে এবং ক্রমেই সব স্বাভাবিক হওয়ার উপর কেন্দ্র যখন জোর ...

উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থেকে ডালখোলা পর্যন্ত ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে জোরকদমে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

গৃহসুখে মনে আনন্দ। শত্রুকে দুর্বল না ভেবে সতর্ক থাকুন। কর্মে বাধার মধ্যেই অগ্রগতির যোগ। অর্থকড়ি ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫৯: নিজ মন্ত্রীর হাতেই নিহত হন মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীর
১৮৫৮: বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর জন্ম
১৮৬৬: জলের নিচে শিকাগোতে প্রথম হাইওয়ে টানেল তৈরির কাজ শুরু হয়
১৮৭৪ - ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক উইন্স্টন  চার্চিলের জন্ম
১৯০৩ - কবি রাধারানী দেবীর জন্ম
১৯০৮: কবি বুদ্ধদেব বসুর জন্ম
১৯০৯: ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র দত্তের মৃত্যু
১৯১৭: জগদীশচন্দ্র বসুর ৬০তম জন্মদিবসে কলকাতায়  বসু বিজ্ঞান মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন
১৯৩৩: নারীশিক্ষার পথপ্রদর্শক শিক্ষাবিদ মুরলীধর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯৮৪: অভিনেত্রী ও সঙ্গীতশিল্পী ইন্দুবালা দেবীর মৃত্যু
১৯৮৪: বিশিষ্ট তবলা শিল্পী রাধাকান্ত নন্দীর মৃত্যু
২০১২ - প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরালের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.০৯ টাকা ৭৫.৮১ টাকা
পাউন্ড ৯৮.২৪ টাকা ১০১.৬৬ টাকা
ইউরো ৮৩.০২ টাকা ৮৬.০৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৮,৮০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৬,৩০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৭,০০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৩,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৩,৮০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮, মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১। একাদশী ৫০/২৭ রাত্রি ২/১৪। হস্তা নক্ষত্র ৩৬/১৭ রাত্রি ৮/৩৪। সূর্যোদয় ৬/৩/১১, সূর্যাস্ত ৪/৪৭/১৫। অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৫ মধ্যে পুনঃ ৭/২৮ গতে ১১/৩ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৬ গতে ৮/১৯ মধ্যে পুনঃ ৯/১২ গতে ১১/৫১ মধ্যে। পুনঃ ১/৩৭ গতে ৩/২৪ মধ্যে পুনঃ ৫/৯ গতে উদয়াবধি। মাহেন্দ্রযোগ রাত্রি ৭/২৬ মধ্যে। বারবেলা ৭/২৪ গতে ৮/৪৪ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৬ গতে ২/৬ মধ্যে। কালরাত্রি ৬/২৭ গতে ৮/৬ মধ্যে। 
১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮, মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১। একাদশী  রাত্রি ৯/৫৩। হস্তা নক্ষত্র সন্ধ্যা ৫/৯। সূর্যোদয় ৬/৫, সূর্যাস্ত ৪/৪৭। অমৃতযোগ দিবা ৭/০ মধ্যে ও ৭/৪২ গতে ১১/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩২ গতে ৮/২৬ মধ্যে ও ৯/২০ গতে ১২/১ মধ্যে ও ১/৪৯ গতে ৩/৩৬ মধ্যে ও ৫/২৪ গতে ৬/৫ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ রাত্রি ৭/৩২ মধ্যে। বারবেলা ৭/২৫ গতে ৮/৪৫ মধ্যে ও ১২/৪৬ গতে ২/৭ মধ্যে। কালরাত্রি ৬/২৭ গতে ৮/৭ মধ্যে। 
২৪ রবিয়স সানি।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ছেলের অত্যাচারে আড়াই কোটির সম্পত্তি সরকারকে
ছেলের অত্যাচারে নাজেহাল হয়ে রাজ্য সরকারকে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ...বিশদ

08:42:43 AM

টুইটারের নয়া সিইও পরাগ আগরওয়াল 
 ইস্তফা দিলেন টুইটারের সিইও জ্যাক ডরসে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ভারতীয় ...বিশদ

08:38:14 AM

পার্কিং ফি দ্বিগুণ হচ্ছে শহরে
শহরের রাস্তায় পার্কিং ফি দ্বিগুণ হচ্ছে। প্রায় ১০ বছর পর ...বিশদ

08:29:12 AM

আইসিএসই: পরীক্ষার প্রথম দিনেই সার্ভার বিভ্রাট
প্রশ্নপত্রে বিরাট জুজু না থাকলেও মসৃণভাবে শুরু হল না আইসিএসই ...বিশদ

08:15:00 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে
১৭৫৯: নিজ মন্ত্রীর হাতেই নিহত হন মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীর ১৮৫৮: ...বিশদ

08:14:28 AM

শীঘ্রই শুরু হতে পারে করোনার বুস্টার ডোজ
আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে আসতে পারে কোভিডের  বুস্টার ডোজ। সোমবার ...বিশদ

08:12:00 AM