Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নদীবাঁধ রক্ষাই সুন্দরবনের অস্তিত্বের প্রধান শর্ত
কান্তি গাঙ্গুলী

প্রাচীন ইতিহাসে টলেমি ও মেগাস্থিনিসের বিবরণে গঙ্গারিডি বলে যে ভূখণ্ডের উল্লেখ পাওয়া যায়, আজকের সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন নিম্নগাঙ্গেয় উপত্যকা সম্ভবত সেই ভূখণ্ডই। কলকাতার এন্টালি অঞ্চলটির নামকরণের পিছনে হেঁতাল গাছের প্রভূত উপস্থিতির কারণও হয়তো বিদ্যমান। কেওড়াতলা নামকরণের পিছনে কেওড়াগাছের বনের উপস্থিতির সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে বর্তমানে দুই চব্বিশ পরগনা নিয়ে মোট ১৯টি ব্লককেই সুন্দরবন বলে চিহ্নিত করা হয়। খ্রিস্টপূর্ব সময় থেকেই সুন্দরবন অঞ্চল বন্দর হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিল। সেন ও পাল রাজাদের হাত হয়ে বারো ভুঁইঞাদের মধ্যে ইশা খাঁ, প্রতাপাদিত্য প্রমুখের পরে মুসলিম ও ইংরেজ শাসনামলেও সুন্দরবনের গুরুত্ব কম ছিল না। ১৬৮৮ থেকে ১৭৩৪ হয়ে আজ পর্যন্ত সমুদ্র সন্নিহিত সুন্দরবন অঞ্চল তীব্র সামুদ্রিক ঝড়, সুনামী-ভূমিকম্পতে বার বার তছনছ হয়েছে। নিম্নগাঙ্গেয় উপত্যকা অঞ্চলে সমুদ্রের নিম্নচাপজনিত ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে সুন্দরবন অঞ্চল প্রকৃতির রুদ্ররূপকে প্রত্যক্ষ করেছে অসংখ্যবার। গত বিশ বছরে আয়লা, বুলবুল, উম-পুন সহ একাধিক ঝড়ে প্রভূত ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন সুন্দরবনবাসী এবং এই স্মৃতি আজও টাটকা।
এবার আলোচনার মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। ২০২১-এর এপ্রিল-মে মাসে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। অলীক কুনাট্য-রঙ্গে মজে আছে রাজ্যবাসীর একাংশ। এই অবকাশে সুন্দরবনের বর্তমান অবস্থা ও পরিণতি নিয়ে কোনও আলোচনাই তেমন করে শোনা যাচ্ছে না। নির্বাচনে শুধু গলা কাঁপিয়ে বক্তৃতা দিলেই তো হবে না। সুন্দরবনের এবং সুন্দরবনবাসীর মূল সমস্যাগুলো রাজনৈতিক দলের কাছে ইস্যু হিসাবেও উঠে আসতে হবে। গত তিরিশ বছর আমি সুন্দরবনেই বাড়ি করে বসবাস করছি। আমার অভিজ্ঞতা বলে, দীর্ঘ সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার নদীবাঁধকে উপযুক্তভাবে গড়ে তোলাই সুন্দরবনবাসীর কাছে সবচেয়ে জরুরি কাজ। কয়েকদিন আগে রাজ্য মন্ত্রিসভার মিটিং-এ সারা রাজ্যের নদী ও ড্যাম অঞ্চলে বাঁধ দেওয়ার ব্যাপারে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু সেখানে সুন্দরবনের নদীবাঁধ নিয়ে একটি কথাও নেই।
বর্তমানে যে অতিভঙ্গুর নদীবাঁধ আছে তা গড়ে উঠেছিল ইংরেজ আমলে, মূলত লাটদার জমিদারদের প্রয়োজনে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ঘি-ননী-মাখন খাওয়ার উদ্দেশ্যে লাটদাররা সাঁওতাল পরগনা থেকে আদিবাসী জনমজুরদের এখানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই পরিশ্রমী জনজাতির মানুষরা একদিকে যেমন গাছ কেটে জঙ্গল হাসিল করেছিল, কৃষি জমি বা আবাদি জমি তৈরি করার উদ্দেশ্যে তেমনি নদীতে মাটি ফেলে বাঁধও বেঁধেছিল। কারণ ভরা কোটালে তাদের বাসস্থান জলের তলায় চলে যেত। সমাজের নিম্নবর্গীয় প্রান্তিক মানুষদের এরকমই নিয়তি! চর্যাগীতিকায় যেমন বর্ণিত হয়েছে, ‘নগর বাহিরে ডোমনি তোহারই কুড়িয়া’, তেমনি এই শোষিত প্রান্তিক মানুষগুলোকেও জনপদের সীমান্তে সমুদ্র-সন্নিহিত এলাকায় বসবাস করতে হতো আর বাধ্যত নিয়ম করে মাটি দিয়ে বছর বছর নদীবাঁধ বাঁধতে হতো। মূলত আলগা মাটির এই বাঁধ রক্ষার দায়িত্ব ছিল প্রান্তিক গরিব মানুষদের উপর এবং ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই বহাল ছিল। ১৯৬০ সালে ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় সরকার এই নদীবাঁধ রক্ষায় দায়িত্ব গ্রহণ করে।
বঙ্গোপসাগরে অতি গভীর নিম্নচাপ তৈরি হলে তা মূলত আমাদের সুন্দরবন, ওড়িশার পারাদ্বীপ অথবা বাংলাদেশের কক্সবাজারে ভয়ঙ্কর সাইক্লোন হিসাবে ধেয়ে আসে। একটি ঘূর্ণিঝড়ে একবার শুধুমাত্র সাগরদ্বীপেই, সম্ভবত ১৭৩৭ সালে, ষাট হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সুন্দরবন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিভিন্ন আলোচনায় এবং জাপানের কিয়োটো শহরে বিশ্ব আবহাওয়া পরিবর্তন ও উষ্ণায়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক মঞ্চে দু’বার প্রতিনিধিত্ব করার সুবাদে সুন্দরবনের সমস্যার মূলগত বিষয়ে কিছু চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ পেয়েছিলাম। কিয়োটো প্রোটোকল সিদ্ধান্ত ঘোষণার পূর্বেই পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বার বার বিশ্ব উষ্ণায়নের সতর্কতা বিষয়ে যেমন আলোচনা করতেন তেমনি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ সন্নিহিত সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ ভয়াবহ পরিণতির কথাও উল্লেখ করতেন। তাঁদের আশঙ্কা সত্য প্রমাণ করে গত দশ-বারো বছরে কয়েকটি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ে সুন্দরবন বিপদগ্রস্ত হল। তবু বাদাবন ও ম্যানগ্রোভ অরণ্যের সুবাদে প্রকৃতির ধ্বংসলীলা হয়তো কিছুটা কম হয়েছিল। ১৯৬০ সাল থেকে বাংলাদেশে যেমন বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন শুরু হয়, অনুরূপভাবে পশ্চিমবাংলার নিম্নগাঙ্গেয় উপত্যকায় সুন্দরবন নদীবাঁধ রক্ষায় আন্দোলনও গড়ে ওঠে, যার পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন তুষার কাঞ্জিলাল। তুষারবাবু বারবার সুন্দরবনের নদীবাঁধ উপযুক্তভাবে সংরক্ষণের কথা বলতেন। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, স্কুল-কলেজ, যাইহোক না কেন, নদীবাঁধ সুরক্ষার বিষয়টি সুন্দরবনের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত।
সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের বুকে আছড়ে পড়া তিনটি ঝড়—আয়লা, বুলবুল, উম-পুন। তিনটি ঝড়ের চরিত্র ও মারণ ক্ষমতা তিন রকম। আয়লা যখন হয়, অর্থাৎ ২০০৯-এর ২৫-২৬ মে, ঝড়ের গতি ১৭০ থেকে ১৮০ কিমি প্রতি ঘণ্টা, তখন ছিল অমাবস্যার ভরা কোটাল এবং একই সঙ্গে একটানা ঝমঝম করে তুমুল বৃষ্টি হয়েছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। এছাড়াও যে কোনও ঘূর্ণিঝড়ে লেজের ঝাপটাটাই হচ্ছে মারাত্মক। আয়লায় তাই প্রায় এক হাজার কিমি নদীবাঁধ ভেঙেছিল এবং কৃষিজমি ও পানীয় জলের উৎসের তীব্র বিপর্যয় ঘটেছিল। নদীর স্রোতে ভেসে যাচ্ছে গবাদি পশু, নারী-শিশু—সে এক হাড়হিম করা মর্মান্তিক দৃশ্য। বাড়ি ঘর একেবারে ধূলিস্যাৎ। পরবর্তী সময় নদীবাঁধ বাঁচাও আন্দোলন ও তৎকালীন রাজ্য সরকারের তৎপরতায় দিল্লির সরকার যোজনা কমিশনের চেয়ারম্যান মন্টেক সিং আলুওয়ালিয়া সহ নদীবাঁধ বিশেষজ্ঞ দলকে প্রেরণ করেন সুন্দরবনে। প্রণব মুখার্জিও এক্ষেত্রে আলাদা করে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রেরিত সমীক্ষক দল মোট তিন হাজার পাঁচশো কিমি নদী বাঁধের মধ্যে ভেঙে যাওয়া এক হাজার কিমি নদী বাঁধের মধ্যে সাতশো তিয়াত্তর কিমি অঞ্চলকে চিহ্নিত করেন কংক্রিটের নদীবাঁধ তৈরি করার জন্য। কেন্দ্রীয় সরকার পাঁচ হাজার বত্রিশ কোটি টাকা এই প্রকল্পে অনুমোদন করে। এখন কংক্রিটের নদীবাঁধ তৈরি করতে গেলে রিং-বাঁধ তৈরি করতে হবে এবং সেই জন্য জনপদের দিকের কিছু কৃষিজমিও সরকারকে অধিগ্রহণ করতে হয়। জমি সংক্রান্ত জটের কারণে সাতশো তিয়াত্তর কিমি নদীবাঁধের মধ্যে মাত্র সত্তর কিমি কংক্রিট নদীবাঁধ দেওয়া সম্ভব হল। বাকি আশি শতাংশ টাকা ফেরত চলে গেল। কেননা ২০১১ সালে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া উম-পুন ঘূর্ণিঝড়ের বেগ ২৫০ কিমি প্রতিঘণ্টা ছিল, এটা যেমন ঠিক, তেমনি সেই সময় অমাবস্যার মরা কোটাল বা নদীতে ভাটা ছিল ও সেই সময়ে একটানা বৃষ্টিপাত হয়নি। আসলে সেদিন দুপুর দেড়টা থেকে পৌনে দুটোর সময় উম-পুনের ঝড় শুরু হয়েছিল। গতিবেগ ২৪০ থেকে ২৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টা। কিন্তু সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস তেমন ঘটল না, কারণ নদীতে তখন মরা কোটাল বা ভাটা চলছে। রাত প্রায় আটটার সময় যখন নদীতে ভরা কোটাল হবার সময় আসন্ন, ঠিক তখনই প্রকৃতির অকৃত্রিম আশীর্বাদে পুব-দক্ষিণের হাওয়ার দাপট স্তিমিত হয়ে এল এবং হাওয়ার গতি পশ্চিম দিকে ঘুরে গেল। সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে এই পুব-দক্ষিণের হাওয়াটাই মারাত্মক। সাংঘাতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে বেঁচে গেল সুন্দরবনের নদীবাঁধ। ভরা কোটালের সময় যদি পুব-দক্ষিণের হাওয়ার গতি স্তিমিত না হতো তাহলে ভরা কোটালের সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে প্রায় চল্লিশ ফুট পর্যন্ত ঢেউয়ে সমুদ্রের জলে প্লাবিত হতো গোটা সুন্দরবন, এমনকী বারুইপুর সংলগ্ন এলাকাও। সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের লেজের ঝাপটে তছনছ হয়ে যেত গোটা তল্লাট। মণি নদীর তটে আমার স্কুলবাড়িতে সেদিন চারশো বিপদগ্রস্ত মানুষকে নিয়ে তীব্র আতঙ্কে সময় কাটিয়েছি। উম-পুন ঝড়ের দাপট তাই আয়লা ঝড়ের থেকে অনেকটা বেশি হলেও নদীবাঁধ ভেঙে ছিল কম। নদীবাঁধ দেশের সর্বত্রই ভাঙে, প্লাবিত হয় কৃষিজমি; জমির উর্বরতাশক্তি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সুন্দরবনের নদীবাঁধ ভাঙলে লবণাক্ত জলে কৃষিজমি প্লাবিত হলে প্রায় তিন-চার বছর মাটির নোনাভাব না কাটা পর্যন্ত চাষ-আবাদ হয় না। সুন্দরবনের নদীবাঁধ সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে তাই সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্য একটি বিষয়ও এই প্রেক্ষিতে আলোচনা করব। গ্রামীণ বিভিন্ন আবাস- যোজনা, যেমন প্রধানমন্ত্রী- গীতাঞ্জলি-ইন্দিরা আবাস স্কিমে গরিব মানুষ অ্যাসবেসটস ছাওয়া পাকা বাড়ির জন্য আর্থিক সাহায্য পান। যদিও প্রত্যেক বছরই ঝড়ে এই টিন, অ্যাসবেসটসের শেড ধ্বংস হয়ে যায়। সরকারকেও বছর বছর ত্রিপল, বাড়ি ভাঙার ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি ব্যবস্থা করতে হয়। এক্ষেত্রে আমার প্রস্তাব—এই সমস্ত গ্রামীণ আবাস যোজনায় যাঁরা সমুদ্র উপকূলবর্তী অংশে ঘর পাবেন, তাঁদের যেন অতিরিক্ত কিছু টাকা প্রদান করা হয় কংক্রিটের ছাদ তৈরির জন্য। তাহলে সরকারকে বছর বছর ত্রিপল ও বাড়ি ভাঙার ক্ষতিপূরণের অর্থের ব্যবস্থা করার দরকার পড়বে না।
এই লেখার আর একটি প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে যে, আয়লা-বুলবুল-উমপুন—এই তিন ঝড়ের প্রকৃতিকে সামুদ্রিক ঝড়ের নির্দিষ্ট চরিত্রের মধ্যে সবসময় সংজ্ঞায়িত করা যাচ্ছে না। এটাই হচ্ছে বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলশ্রুতি। ঘূর্ণিঝড় ও তার প্রকৃতির পরিবর্তন হচ্ছে এবং চরিত্র পাল্টাচ্ছে কিন্তু উল্লেখনীয় বিষয় এই যে, কেন্দ্রীয় সরকার প্রেরিত সমীক্ষক দল যে অঞ্চলগুলোকে কংক্রিটের নদীবাঁধের জন্য চিহ্নিত করেছিল, সেখানেই উম-পুনের সময়ও নদীবাঁধগুলো ভেঙেছিল। গোসাবা, বাসন্তী, দেউলবাড়ি, রাঙাবেলিয়া, মাতলা, মৈপীঠ, ঠাকুরান নদী সংলগ্ন মৃদঙ্গভাঙা ইত্যাদি অঞ্চলে। এত কথা বলছি একটাই কারণে, নির্বাচন আসবে যাবে, সরকারের মুখগুলো পাল্টাবে কিন্তু আগামী মে-জুন মাসে আবার হয়তো সুন্দরবনে আছড়ে পড়বে নাম না জানা কোনও বিধ্বংসী ঝড়। এক সময় দাবি উঠেছিল সুন্দরবনের নদীবাঁধকে জাতীয় সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করতে হবে। তারপর মাতলা, ঠাকুরান, বিদ্যাধরী, হেড়োভাঙা, সপ্তমুখী, মণি নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। সুন্দরবনের ছেচল্লিশ লক্ষ মানুষের জীবনের মূল সমস্যা নিয়ে অর্থাৎ নদীবাঁধ রক্ষা নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক আলোচনাকে তাই আজ সামগ্রিকভাবে নির্মাণ করতে হবে। যদি আমরা তা না পারি তাহলে এক মুহূর্তের মধ্যে সুন্দরবন জলের তলায় চলে যেতে পারে। আর কে না জানে, পরিবেশের ভারসাম্যের প্রেক্ষিতে ‘নগর পুড়িলে দেবালয় রক্ষা পায় না।’
তাই আসুন, নদী বাঁধ রক্ষার ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে তিনটি নিরাপত্তাবেষ্টনী নিয়েই আমরা সচেতন হই। প্রথমটি হচ্ছে নদীর ধার বরাবর বাদাবন, ম্যানগ্রোফ অরণ্যের প্রাচীর। দ্বিতীয় নিরাপত্তাবেষ্টনী হচ্ছে উঁচু কংক্রিটের বাঁধ এবং তৃতীয় ব্যবস্থা হচ্ছে, জনপদের মধ্যে সার দিয়ে তাল, খেঁজুর, নারকোল গাছের ঘন প্রাচীরের মতো নিবিড় ও সুসংহত বনসৃজন, যে গাছগুলো ঝড়ের তীব্রতার মোকাবিলা করতে পারে। এই তিন নিরাপত্তাবেষ্টনী দ্বারা সুন্দরবনের নিরাপত্তা স্থায়ী হতে পারে। রাজনৈতিক দল সমূহের কাছে একজন অতি সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী ও সুন্দরবনবাসী হিসাবে বিনম্র অনুরোধ, আপনারা সুন্দরবনের অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিন।
 লেখক রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, মতামত ব্যক্তিগত 
04th  March, 2021
স্বাধীন ভারতে সবথেকে
কলঙ্কিত নির্বাচন
সন্দীপন বিশ্বাস

বিজেপির বাংলা জয়ের লক্ষ্যের পিছনে রয়েছে নিধন-বাসনা। উড়েছে বস্তা বস্তা বেহিসেবি টাকা। বিজেপির আসল লক্ষ্য বাঙালির অস্মিতা নিধন, বাঙালির ভাষা নিধন, বাঙালির সংস্কৃতি নিধন, বাঙালির ঐক্য নিধন। বাঙালিকে হিরো থেকে জিরো করে দাসানুদাসে পরিণত করা। কিন্তু তা বোধহয় সম্ভব হল না। শোনা যাচ্ছে জননির্ঘোষ, ‘ঘর সামলাও চৌ...কি...দা...র।’ বিশদ

শীতলকুচি ট্রেলার হলে পুরো সিনেমাটা কী? 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ফেলুদা সোফায় বসে বাটিটা মোড়ক থেকে খুলে টেবিলের উপর রেখে বলল, ‘এটার একটা বিশেষত্ব আছে।’
‘কী বিশেষত্ব?’
‘জীবনে এই প্রথম একটা বাটি দেখলাম যেটাকে সোনার পাথরবাটি বললে খুব ভুল বলা হয় না।’
জয়সলমিরের মানুষ বাংলা সম্পর্কে প্রথম যে শব্দবন্ধটি শেখে, সেটি একটি নাম—সত্যজিৎ রায়। ‘সোনার পাথরে’ তৈরি বাটি-ঘটি বিক্রির খুব সাধারণ দোকানে গিয়েও দেখেছি, সত্যজিৎ রায়ের ছবি টাঙানো। 
বিশদ

13th  April, 2021
ফিরে এল রাফালের ভূত
পি চিদম্বরম 

স্মৃতি ক্ষণস্থায়ী। সাধারণ মানুষের পক্ষে রোজকার বেঁচে থাকা একটা চ্যালেঞ্জ। দেশ এবং দেশের প্রশাসনের বৃহত্তর চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তারা সচেতন। কিন্তু তারা সেসব নিয়ে দীর্ঘকাল ভাবতে পারে না। 
বিশদ

12th  April, 2021
বাংলার মহিলাদের জীবনে
এই ভোট কেন গুরুত্বপূর্ণ
হিমাংশু সিংহ

ইতিমধ্যেই যে ক’দফা ভোট হয়েছে তাতে অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উঠে এসেছে মহিলাদের লম্বা লাইন। যা আশা জাগিয়েই শুধু ক্ষান্ত হয়নি, প্রমাণ করেছে প্রত্যয়ী মুখে বর্গীর হানাদারি রুখতে বঙ্গ নারী কতটা অকুতোভয়। আসলে এই শক্তি তাঁরা পাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে দেখেই।
  বিশদ

11th  April, 2021
আক্রান্ত প্রার্থীরা: বঙ্গ
রাজনীতিতে ‘অশনি সঙ্কেত’
তন্ময় মল্লিক

ভোটের দফা যত গড়াচ্ছে রাজনৈতিক মারামারি, প্রার্থীদের উপর হামলা ততই বাড়ছে। নেতাদের ‘জয়লাভে’র দাবিকে সত্যি ধরে নিয়ে অনেকেই ‘বদলা’ নেওয়ার মহড়া শুরু করে দিয়েছে। নন্দীগ্রাম কার্যত বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আছে। রাজ্যের জন্য এ-এক ‘অশনি সঙ্কেত’।
  বিশদ

10th  April, 2021
মতুয়াদের সামনে ‘গাজর’
ঝুলিয়ে লাভ নেই! 
মৃণালকান্তি দাস

অসমের গল্পটা নিশ্চিত এতদিনে বাংলার মতুয়া সম্প্রদায়ের কাছে জলের মতো পরিষ্কার। কী সেই গল্প? নাগরিকত্ব আইন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৬ সালে অসম দখল করেছিল বিজেপি। আর পাঁচ বছর পর, বিধানসভা ভোটের মুখে জানা গেল, টাকা শেষ। অতএব ঝাঁপ বন্ধ এনআরসি দপ্তরের।  
বিশদ

09th  April, 2021
সোনার বাংলা গড়বে না
বেচে দেবে, প্রশ্ন সেটাই
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

যে সরকার নিজেই তার সমস্ত সংস্থা বিক্রি করে দিতে উঠে পরে লেগেছে সেই সরকার ভবিষ্যতে চাকরিবাকরি বা পরিষেবা দেবে কী দিয়ে? মানুষকেই তার নিজের যোগ্যতায় রোজগার করার পথ খুঁজে নিতে হবে। সরকার কিছু দেবে না, উল্টে সরকারের সব সম্পদ বেচে দেবে। এটাই হল মোদি সরকার বা বিজেপির সরকার চালানোর আসল দর্শন! বিশদ

08th  April, 2021
পুরনো হিসেব পরে, এখন
শুধুই বাংলা ও বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

এই ভোটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টক্কর নিতে পারেন একজনই। তিনি আর কেউ নন বাংলার বাঘিনী। তাই আমরা ঠিক করেছি, তাঁর উপর আর রাগ পুষে রাখা নয়। পুরনো হিসেব পরে হবে। আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করার পক্ষে আমরা। বিশদ

07th  April, 2021
প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তব:
সুদের হার কিন্তু কমবেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার হলে ‘ডবল বেনিফিট’ আদৌ হবে কি না জানা নেই। কিন্তু হ্যাঁ, সাঁড়াশির ডবল চাপে মানুষ ব্যতিব্যস্ত হবে—সেটা নিশ্চিত। যেমন হচ্ছে ত্রিপুরায়। যেমন হচ্ছে অসমে। প্রতিশ্রুতি আমরা আজ শুনছি... তখন স্মৃতি রোমন্থন করব। বিশদ

06th  April, 2021
মোদি-ভাবনা ও তার পরিণাম
পি চিদম্বরম 

আগামিকাল, মঙ্গলবার শেষ হবে অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির ভোটগ্রহণ। পশ্চিমবঙ্গের আংশিক ভোটগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। বাংলায় বাকি থাকছে আর পাঁচ দফার ভোটগ্রহণ। অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভালো প্রভাব রয়েছে। বাকি তিনটি জায়গাতেও পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে গেরুয়া শিবির। 
বিশদ

05th  April, 2021
নন্দীগ্রামে জিতবে বাংলাই
হিমাংশু সিংহ

আচ্ছা, নন্দীগ্রামে কে জিতবে বলুন তো? বাজারের মাছওয়ালা থেকে ধোপদুরস্ত বহুতলের বাবু, গত বৃহস্পতিবার টানটান উত্তেজনার মধ্যে ভোট যত এগিয়েছে এই একটা প্রশ্নেই ঘুরপাক খেয়েছে বাঙালি সমাজ। যত উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাঙালির রক্তচাপ ততই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশদ

04th  April, 2021
বিজেপির ‘হাওয়া’ আর রুদালির
‘কান্না’ আজ একাকার
তন্ময় মল্লিক

বিজেপি বঙ্গ দখলে আগ্রাসী না হলে বাঙালির কত কিছুই অজানা থেকে যেত! টাকা দিয়ে হাসি, উচ্ছ্বাস, এমনকী চোখের জলও কেনা যায়। কিন্তু আন্তরিকতা কেনা যায় না। ভাবনায় ও চেতনায়, রুদালির ‘কান্না’ আর বিজেপির ‘হাওয়া’ কেমন করে যেন একবিন্দুতে লীন হয়ে যাচ্ছে। বিশদ

03rd  April, 2021
একনজরে
ভোটের একেবারে মুখে আচমকা বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি বদল করা হল। এতে দলের অভ্যন্তরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে কেন তাঁকে বদল করা হল, এবিষয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এতে দলের কর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভও ছড়িয়েছে।  ...

‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ’- এর তালিকায় পাকিস্তানের নাম যুক্ত করল ব্রিটেন। আর্থিক তছরুপ ও সন্ত্রাসে আর্থিক মদত দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করেছে তারা। উল্লেখ্য, এতে পাকিস্তান ছাড়াও আলবেনিয়া, বার্বাডোজ, ঘানা, ইরান, জিম্বাবোয়ে, মরিশাস, মরক্কো, মায়ানমার সহ ২১টি দেশ রয়েছে।  ...

দেশের নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হলেন সুশীল চন্দ্র। মঙ্গলবার ২৪তম সিইসি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সোমবারই ছিল সুনীল অরোরার শেষ দিন। আর এদিন অফিস ছাড়ার পর তাঁর পদে বসলেন উত্তরসূরি সুশীল। ...

বাঙালির রক্তে নিজেদের লালসা পূরণ করতে চাইছে বিজেপি। ওদের জবাব মানুষ ২মে দেবেন। মঙ্গলবার রায়নার জনসভা থেকে শীতলকুচির ঘটনা নিয়ে এভাবেই বিজেপিকে তোপ দাগলেন তৃণমূল ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর ঈর্ষার কারণে সম্মানহানি হবে। ব্যবসায়ীদের আশানুরূপ লাভ না হলেও মন্দ হবে না। দীর্ঘদিনের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৯১: দলিত আন্দোলনের পথিকৃত ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের জন্ম
১৯১৯: গায়িকা সামসাদ বেগমের জন্ম
১৯২২: বিশিষ্ট সরোদ শিল্পী আলি আকবর খানের জন্ম
১৯৬৩: পণ্ডিত ও লেখক রাহুল সাংকৃত্যায়নের মৃত্যু 
১৯৮৬ - বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক নীতীন বসুর মৃত্যু।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.১১ টাকা ৭৫.৮৩ টাকা
পাউন্ড ১০০.৯০ টাকা ১০৪.৩৮ টাকা
ইউরো ৮৭.৫৬ টাকা ৯০.৭৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
13th  April, 2021
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৭,১৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৪,৭৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৫,৪০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৭,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৭,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩১ চৈত্র ১৪২৭, বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১। দ্বিতীয়া ১৮/৩৭ দিবা ১২/৪৮। ভরণী নক্ষত্র ৩০/৩ অপরাহ্ন ৫/২৩। সূর্যোদয় ৫/২১/২০, সূর্যাস্ত ৫/৫২/৪০। অমৃতযোগ দিবা ৭/১ মধ্যে পুনঃ ৯/৩২ গতে ১১/১২ মধ্যে পুনঃ ৩/২৩ গতে ৫/৩ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩৯ গতে ৮/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১/৩১ গতে উদয়াবধি। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ১/৪২ গতে ৩/২৩ মধ্যে। রাত্রি ৮/৫৬ গতে ১০/২৮ মধ্যে। বারবেলা ৮/২৯ গতে ১০/৩ মধ্যে পুনঃ ১১/৩৭ গতে ১/১১ মধ্যে। কালরাত্রি ২/২৯ গতে ৩/৫৫ মধ্যে। 
৩১ চৈত্র ১৪২৭, বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১। দ্বিতীয়া দিবা ১১/০। ভরণী নক্ষত্র দিবা ৩/৫১। সূর্যোদয় ৫/২২, সূর্যাস্ত ৫/৫৪। অমৃতযোগ দিবা ৭/১২ মধ্যে ও ৯/৩২ গতে ১১/১২ মধ্যে ও ৩/২১ গতে ৫/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/২৭ গতে ৮/৫৫ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৫/২২ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ১/৪১ গতে ৩/২১ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/৫৫ গতে ১০/২৭ মধ্যে। কালবেলা ৮/৩০ গতে ১০/৪ মধ্যে ও ১১/৩৮ গতে ১/১২ মধ্যে। কালরাত্রি ২/৩০ গতে ৩/৫৬ মধ্যে।
১ রমজান।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
করোনা আক্রান্ত সপা প্রধান অখিলেশ যাদব, রয়েছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে 

11:00:38 AM

ওড়িশার ময়ূরভঞ্জে ৪০ লক্ষ টাকার নিষিদ্ধ মাদক সহ গ্রেপ্তার ১ 

10:56:13 AM

দেশে একদিনে করোনা আক্রান্ত ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৩৭২ জন
 

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ...বিশদ

10:09:47 AM

আইকোর মামলায় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে তলব ইডির 

10:06:00 AM

বাড়িতে বসে ভ্যাকসিন নিলেন বিহারের বিজেপি বিধায়ক, বিতর্ক
করোনার ভ্যাকসিন পেতে বিভিন্ন হাসপাতালে হত্যে দিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। ...বিশদ

09:10:49 AM

২৫ এপ্রিল বীরভূমে তিনটি সভা মমতার 
আগামী ২৫ এপ্রিল বীরভূমে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে আসছেন তৃণমূল ...বিশদ

09:00:00 AM